জাতীয়

সেনাবাহিনীর চাকরি পেতে যেসব যোগ্যতা আপনাকে এগিয়ে রাখবে

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
সেনাবাহিনীর চাকরি পেতে যেসব যোগ্যতা আপনাকে এগিয়ে রাখবে
সেনাবাহিনীর চাকরি পেতে যেসব যোগ্যতা আপনাকে এগিয়ে রাখবে

সময় যতই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশে চাকরির বাজার ততই কঠিন হচ্ছে। আর সরকারি চাকরি হলে তো কথাই নেই। তবে শারীরিক ফিটনেস এবং কিছু যোগ্যতা থাকলেই আপনি পেতে পারেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে চাকরির সুযোগ। এখানে শারীরিক ফিটনেস, যোগ্যতা, সেনাবাহিনীতে চাকরির সুযোগ-সুবিধাগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

সেনাবাহিনীর কাজ কী?

সেনাবাহিনী হলো একটি দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সেই প্রধান শাখা, যা মূলত ভূমিতে যুদ্ধ অথবা দেশ রক্ষা করার জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং সুসজ্জিত থাকে। সেনাবাহিনীর প্রধান কাজ হলো যে কোনো বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা করা।

সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো দেওয়া হলো:

দেশ রক্ষা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা

প্রতিরক্ষা: দেশের বিরুদ্ধে যে কোনো অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ষড়যন্ত্র বা আক্রমণ প্রতিহত করা।
সিভিল প্রশাসনকে সহায়তা: দেশের সংকটময় মুহূর্তে বা জরুরি পরিস্থিতিতে অসামরিক প্রশাসনকে (সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) সাহায্য করা।

দুর্যোগ মোকাবিলা ও মানবসেবা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা: বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প বা বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের মতো প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা।

জাতি গঠন ও আন্তর্জাতিক অবদান

অবকাঠামো উন্নয়ন: সরকারের নির্দেশনায় দেশের রাস্তাঘাট, সেতু, ফ্লাইওভার ইত্যাদি নির্মাণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে ভূমিকা রাখা।
জাতিগঠনমূলক কাজ: জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরি অথবা ভোটার তালিকা প্রস্তুতের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কাজে সহযোগিতা করা।
আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষা: জাতিসংঘের (ইউএন) শান্তি রক্ষা মিশনে অংশ নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করা।

আরও পড়ুন

নার্স হিসেবে ক্যারিয়ার গড়বেন যেভাবে

সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে চাকরির প্রধান যোগ্যতাগুলো দেওয়া হলো:

শিক্ষাগত যোগ্যতা

সাধারণ ট্রেড: এসএসসি বা সমমান (মাদরাসা, কারিগরি, উন্মুক্ত) পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ৩ পেয়ে উত্তীর্ণ।

টেকনিক্যাল ট্রেড: এসএসসি ভোকেশনাল অথবা সংশ্লিষ্ট কারিগরি বিষয়ে ন্যূনতম জিপিএ ৩ অথবা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৩ সহ পাস থাকতে হবে।

বয়সসীমা

সাধারণ ট্রেড: ১৭ থেকে ২২ বছর।
টেকনিক্যাল ট্রেড: ১৭ থেকে ২৩ বছর (এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য নয়)।

শারীরিক যোগ্যতা (পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্য)

উচ্চতা: পুরুষ প্রার্থীর জন্য ন্যূনতম ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি (ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি)।
নারী প্রার্থীর জন্য সাধারণত ন্যূনতম ৫ ফুট ১ ইঞ্চি বা সার্কুলার অনুযায়ী নির্ধারিত।

ওজন: পুরুষ প্রার্থীর জন্য কমপক্ষে ৪৯.৯০ কেজি এবং নারী প্রার্থীর জন্য উপযুক্ত অনুপাতে।

বুকের মাপ: পুরুষ প্রার্থীর ক্ষেত্রে স্বাভাবিক অবস্থায় ৩০ ইঞ্চি এবং প্রসারণে অবস্থায় ৩২ ইঞ্চি।
নারী প্রার্থীদের বুকের মাপ সাধারণত স্বাভাবিক অবস্থায় ২৮ ইঞ্চি এবং প্রসারণে ৩০ ইঞ্চি অথবা বিজ্ঞপ্তির ধরন অনুযায়ী হয়ে থাকে।

 

অন্যান্য যোগ্যতা

বৈবাহিক অবস্থা: প্রার্থীকে অবশ্যই অবিবাহিত হতে হবে (তালাকপ্রাপ্ত গ্রহণযোগ্য নয়)।
নাগরিকত্ব: বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে।
সাঁতার: সেনাবাহিনীতে চাকরি করতে হলে সাঁতার জানা বাধ্যতামূলক।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে নিয়োগ জন্য শারীরিক ও প্রাথমিক পরীক্ষা

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে ভর্তির মাঠে প্রাথমিক শারীরিক, মেডিকেল ও লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। আবেদন করার কিছুদিন আগেই আপনার ফিটনেস নিয়ে কাজ করুন। তাহলে সহজেই এই ধাপগুলো অতিক্রম করতে পারবেন। প্রাথমিক শারীরিক ও ফিটনেস পরীক্ষায় সাধারণত নিচের বিষয়গুলো যাচাই করা হয়।

শারীরিক সক্ষমতা পরীক্ষার প্রস্তুতি

দৌড়: সৈনিক পদে ভর্তির প্রাথমিক শারীরিক পরীক্ষায় সাধারণত ১৬০০ মিটার (প্রায় ১ মাইল) দৌড়াতে হয়।

লং জাম্প: শারীরিক সক্ষমতা পরীক্ষার অংশ হিসেবে লং জাম্প বা দীর্ঘ লাফে সাধারণত ৯ থেকে ১০ ফুট দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়। লং জাম্পের জন্য পায়ের পেশির জোর ও গতির প্রয়োজন হয়। প্রতিদিন দৌড়ঝাঁপ এবং নির্দিষ্ট মাপে লাফানোর অনুশীলন করলেই এইধাপ অতিক্রম করা যাবে।

পুশ-আপ ও সিট-আপ: চাকরি প্রার্থীর স্ট্যামিনা ও শক্তি যাচাইয়ের জন্য পুশ-আপ, সিট-আপ অথবা চিন-আপ বা পুল-আপ করানো হয়।

পুশ-আপ দেওয়ার নিয়ম

বুক মাটিতে সমান্তরাল রেখে হাত কাঁধের সমান দূরত্বে মাটিতে রাখতে হবে।
শরীর সম্পূর্ণ সোজা রেখে বুক নিচে নামাতে হবে যেন মাটি থেকে সামান্য দূরত্ব থাকে।
এরপর হাত সোজা করে শরীর আবার আগের অবস্থানে তুলতে হবে।
পিঠ উঁচু বা নিচু করা যাবে না।

সিট-আপ দেওয়ার নিয়ম

পিঠ মাটিতে লাগিয়ে শুয়ে হাঁটু ভাঁজ করতে হবে।
হাত মাথার পেছনে বা ক্রশ করে বুকে রাখতে হবে।
পেট ও কোমরের পেশির জোরে শরীর ওপরের দিকে তুলে হাঁটুর কাছাকাছি নিয়ে যেতে হবে।
এরপর আবার আস্তে করে শুয়ে পড়ার অবস্থানে ফিরে আসতে হবে।

প্রাথমিক স্বাস্থ্য ও মেডিকেল পরীক্ষা

ডাক্তার দ্বারা শরীরের বাহ্যিক কোনো ত্রুটি, হাত বা আঙ্গুলের সমস্যা এবং শারীরিক গঠন ঠিক আছে কিনা তা দেখা হয়। প্রাথমিক ধাপ পেরোলে চোখ, কান, নাক, দাঁত, গলা (ইএনটি), রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা এবং এক্স-রেসহ বিস্তারিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। উচ্চ রক্তচাপ অথবা বাহ্যিক কোনো বড় শারীরিক ত্রুটি আছে কিনা তাও দেখা হয়।

আরও পড়ুন

আয়কর আইনজীবী হিসেবে ক্যারিয়ার গড়বেন যেভাবে

লিখিত পরীক্ষা ও মৌখিক পরীক্ষা

লিখিত পরীক্ষার বিষয়সমূহ

লিখিত পরীক্ষায় সাধারণত ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হয়। যেখানে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন থাকে।

বাংলা: ব্যাকরণ ও সাহিত্য অংশ থেকে প্রশ্ন থাকে। যেমন: সংজ্ঞা, বানান শুদ্ধি, এককথায় প্রকাশ, সমার্থক শব্দ ও ভাবসম্প্রসারণ।
ইংরেজি: অনুবাদ, গ্রামার (টেন্স, প্রিপজিশন) ও ফিল ইন দ্য ব্ল্যাংকস।
গণিত: সাধারণ পাটিগণিত ও বীজগণিত থেকে প্রশ্ন করা হয়। যেমন: ঐকিক নিয়ম, শতকরা, লাভ-ক্ষতি, বীজগণিতীয় সূত্র ও মান নির্ণয়।
সাধারণ জ্ঞান: বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস, ভূগোল এবং সমসাময়িক বিভিন্ন সাধারণ জ্ঞান।

মৌখিক ও ভাইভা পরীক্ষার প্রশ্ন

লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ভাইভা পরীক্ষা নেওয়া হয়। মৌখিক পরীক্ষায় প্রার্থীর আত্মবিশ্বাস, মানসিক দ্রুততা এবং সাধারণ জ্ঞান যাচাই করা হয়। ভাইভা পরীক্ষায় নিন্মের বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা থাকলে পরীক্ষা সহজ হবে।

ব্যক্তিগত তথ্য: নিজের নাম, বাবার নাম, স্থায়ী ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং পরিবার সম্পর্কে সাধারণ জিজ্ঞাসা।
সেনাবাহিনী সম্পর্কিত: কেন সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে চান, সেনাবাহিনীর কাজ কী এবং সেনাপ্রধান বা বাহিনী সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা।
ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার, ৭ই মার্চের ভাষণ এবং জাতীয় ইতিহাস সম্পর্কিত প্রশ্ন।
সাধারণ জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা বা আইকিউ: সাম্প্রতিক ঘটনা, বিভিন্ন জাতীয় প্রতীক, নদী, জেলা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান সম্পর্কে প্রশ্ন।

সেনাবাহিনীর চাকরিতে কী কী কাগজ লাগে?

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক বা অন্যান্য পদে আবেদন ও পরীক্ষার সময় যেসব কাগজপত্র এবং জিনিসপত্র সঙ্গে রাখতে হয়; তার একটি তালিকা দেওয়া হলো:

শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ

সকল পরীক্ষার (এসএসসি ও সমমান) মূল অথবা প্রভিশনাল সার্টিফিকেট এবং নম্বরপত্র (মার্কশিট)। ফটোকপি হলে প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা দ্বারা সত্যায়িত হতে হবে।

প্রশংসাপত্র ও চারিত্রিক সনদ

প্রধান শিক্ষক বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্তৃক প্রদত্ত মূল প্রশংসাপত্র (যাতে জন্মতারিখ ও স্থায়ী ঠিকানা উল্লেখ থাকে)।অভিভাবকের সম্মতিপত্র (যা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌরসভা চেয়ারম্যান অথবা ওয়ার্ড কমিশনার কর্তৃক সত্যায়িত করতে হবে)।

ছবি ও অন্যান্য কাগজপত্র

সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি (গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত)।
নাগরিকত্ব ও অবিবাহিত সনদ (স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা থেকে ইস্যুকৃত)।
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা জন্ম নিবন্ধন সনদ।
কারিগরি পদের জন্য সরকার অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত কারিগরি বা টেকনিক্যাল সার্টিফিকেট।

সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে পরীক্ষার মাঠে যা সঙ্গে নিতে হবে

  • পরীক্ষার প্রবেশপত্র (অ্যাডমিন কার্ড)
  • কলম, পেন্সিল, স্কেল ও ক্লিপবোর্ড।
  • সাঁতার কাটার উপযোগী পোশাক।

সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে পরীক্ষার স্থান

আপনার পরীক্ষার নির্দিষ্ট স্থান এবং তারিখ আপনার মোবাইলে আসা এসএমএস অথবা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অফিসিয়াল ওয়েবসাইট-এর মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়। সাধারণত নিজ নিজ জেলার জন্য নির্ধারিত নিকটস্থ সেনানিবাসে বা জোনে এই মাঠ পরীক্ষা নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

তরুণ বয়সেই গড়ে উঠুক ভবিষ্যতের ভিত্তি

সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে চাকরির সুযোগ-সুবিধা

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আকর্ষণীয় বেতন-ভাতা ছাড়াও বিনামূল্যে রেশন, বাসস্থান এবং চিকিৎসা সুবিধাসহ নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়।

প্রধান সুযোগ-সুবিধাসমূহ

  • বেতন ও ভাতা: সরকার নির্ধারিত সৈনিক পদের মূল বেতন স্কেল অনুযায়ী প্রতি মাসে নিয়মিত বেতন এবং বিভিন্ন ভাতা (যেমন: পোশাক ভাতা, ঝুঁকি ভাতা ইত্যাদি) দেওয়া হয়।
  • বাসস্থান: কর্মকালীন সময়ে বিনামূল্যে নিরাপদ ও মানসম্মত বাসস্থান অথবা কোয়ার্টারের ব্যবস্থা থাকে।
  • রেশন: সেনা সদরের নিয়ম অনুযায়ী সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পুষ্টিকর খাদ্য অথবা রেশন সরবরাহ করা হয়।
  • চিকিৎসা সুবিধা: সৈনিক ও তাদের পরিবার সামরিক হাসপাতালে বিনামূল্যে উচ্চমানের চিকিৎসা ও ওষুধ সুবিধা পান।
  • পেনশন ও অবসর সুবিধা: চাকরি শেষে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী পেনশন, গ্রাচ্যুইটি এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
  • উচ্চ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ: দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন পেশাগত প্রশিক্ষণ এবং উচ্চতর শিক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়।
  • ক্যান্টিন সুবিধা: সৈনিকরা কম মূল্যে সেনা ক্যান্টিন থেকে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার সুবিধা পান।
  • জাতিসংঘ মিশনে যাওয়ার সুযোগ: পেশাগত দক্ষতা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নিয়ে সম্মানজনক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ থাকে।

 

সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে কী কী সমস্যা থাকলে চাকরি হয় না?

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে শারীরিক বা অন্যান্য কিছু নির্দিষ্ট সমস্যা থাকলে প্রাথমিক বা মেডিকেল স্ক্রিনিংয়ে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। সেনাবাহিনীতে চাকরির ক্ষেত্রে ছোটোখাটো বিষয়ও বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। কিছু সমস্যা থাকলেই প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়।

  • শারীরিক মাপ ও যোগ্যতার সমস্যা
  • শারীরিক ও স্বাস্থ্যগত ত্রুটি
  • চোখের দৃষ্টি কম থাকলে অথবা নির্দিষ্ট মাত্রার বেশি সমস্যা থাকলে
  • পা দুটি যদি জোড়া লাগার সমস্যা (নক-নি) থাকে কিংবা পায়ের তলা সম্পূর্ণ সমান (ফ্ল্যাট ফুট) হয়; তবে মেডিকেল টেস্টে বাদ পড়তে হয়।
  • কনুইয়ের অতিরিক্ত বাঁকা ভাব (ক্যারিং অ্যাঙ্গেল সমস্যা), হাত বা আঙুল কাটা কিংবা জন্মগত শারীরিক বিকৃতি।
  • অতিরিক্ত উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস অথবা জটিল হৃদরোগ থাকলে চাকরি হয় না।
    পোকা খাওয়া, ফিলিং বা সিল করা, ফাঁকা কিংবা এলোমেলো ও অস্বাস্থ্যকর দাঁত থাকলে।
  • নাকে পলিপাস বা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা থাকলে।
  • ভেরিকোজ ভেইন (শিরা ফুলে যাওয়া), চর্মরোগ বা শরীরে বড় ধরনের পোড়া বা কাটা-ছেঁড়ার দৃশ্যমান স্থায়ী দাগ।
  • অতিরিক্ত ঘামা, তোতলামি, কানের লতিতে ইনফেকশন/নখকুনি জাতীয় জটিলতা।
  • ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড বা পুলিশ ভেরিফিকেশনে নেতিবাচক তথ্য থাকলে।

সেনাবাহিনীর সৈনিকদের ট্রেনিং

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সাধারণ ট্রেডসহ অন্যান্য সৈনিক পদে নির্বাচিত প্রার্থীদের মৌলিক প্রশিক্ষণ সাধারণত ১ বছর বা ১২ মাস মেয়াদী হয়ে থাকে। বিভিন্ন আর্মস ও সার্ভিসেস এর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এই মৌলিক ও ট্রেড প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়।

প্রশিক্ষণের বিবরণ

সময়কাল: এক বছর মেয়াদি মৌলিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ।
কার্যক্রম: এই এক বছরে শারীরিক ফিটনেস, অস্ত্র চালনা, ট্যাকটিক্যাল বা যুদ্ধ কৌশল এবং সংশ্লিষ্ট ট্রেডের ওপর বিশেষ কারিগরি বা পেশাগত জ্ঞান দেওয়া হয়।
নিয়োগ: সফলভাবে এই এক বছরের প্রশিক্ষণ শেষ করার পর রিক্রুটদের আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সৈনিক’ পদে স্থায়ীভাবে অন্তর্ভুক্তি বা এনরোলমেন্ট দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

শিক্ষার্থী বা পেশাজীবীর গবেষণার ১০টি মৌলিক ধাপ

সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে আবেদন করার নিয়ম

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগ দিতে প্রথমে টেলিটক প্রি-পেইড সংযোগের মাধ্যমে এসএমএস করে নিবন্ধন করতে হয় এবং এরপর টেলিটক সৈনিক পোর্টাল থেকে অনলাইনে আবেদন করতে হয়।

আবেদন করার নিয়ম

এসএমএস এর মাধ্যমে নিবন্ধন: টেলিটক প্রি-পেইড সিম ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ফরম্যাটে এসএমএস পাঠিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন ও ফি (সাধারণত ৩০০ টাকা) জমা দিতে হয়। ফি জমা দেওয়ার পর একটি ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড পাওয়া যায়।
অনলাইন আবেদন ফরম পূরণ: প্রাপ্ত ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে টেলিটক সৈনিক পোর্টাল বা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অফিসিয়াল ওয়েবসাইট প্রবেশ করে ব্যক্তিগত ও শিক্ষাগত তথ্য দিয়ে ফরম পূরণ করতে হবে।
ছবি আপলোড: ৩০০*৩০০ পিক্সেলের রঙিন ছবি (সর্বোচ্চ ১০০ কেবি) আপলোড করতে হবে।
প্রবেশপত্র প্রিন্ট: আবেদন সফল হওয়ার পর অবশ্যই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রবেশপত্র প্রিন্ট করে নিতে হবে। যা পরীক্ষার দিন সঙ্গে রাখতে হয়।

আপডেট হালনাগাদ তথ্যের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অথবা নিয়মিত প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখতে হবে।

এমআইএইচ

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
কোথাও খানাখন্দ, কোথাও চলছে নির্মাণকাজ, সড়কে চলাই দায়
কোথাও খানাখন্দ, কোথাও চলছে নির্মাণকাজ, সড়কে চলাই দায়

ঢাকার সাভারের বাইপাইল থেকে আশুলিয়া বাজার পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ খানাখন্দ ও ভাঙাচোরার কারণে বেহাল হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ঢাকা–আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের চলমান নির্মাণকাজের কারণে কোথাও কোথাও সড়কটি সংকুচিত হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও চলছে কার্পেটিং ও ড্রেনের কাজ। এ কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন নিয়মিত চলাচল করা মানুষ। পণ্য পরিবহন থেকে রোগী বহন—সব ক্ষেত্রেই ভোগান্তির কথা বলছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভাঙাচোরা এ সড়কে হেলেদুলে চলায় প্রায়ই নষ্ট হচ্ছে যানবাহনের যন্ত্রাংশ, ঝাঁকুনিতে যানবাহন থেকে পড়ে যাচ্ছে কাঁচামাল, ভেঙে যাচ্ছে পণ্য। শিল্পকারখানার পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ দুটিই বেড়েছে। এ ছাড়া রোগীরাও সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়ে বিকল্প দীর্ঘ পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। বাইপাইল–আশুলিয়া সড়কটি মূলত সাভার–আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের স্থানীয় বাসিন্দা ও শ্রমজীবী মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি এটি ঢাকার সঙ্গে আশুলিয়া এবং উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক।এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বলছে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আশুলিয়া থেকে বাইপাইল ও ইপিজেড পর্যন্ত সড়কের এক পাশের দুই লেনের কাজ শেষ হলে ভোগান্তি থাকবে না।সড়ক বেহাল দশাগত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাইপাইল বাসস্ট্যান্ড থেকে আশুলিয়া বাজার এলাকা পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজের জন্য বাইপাইল মোড়ের কিছু অংশে খোঁড়াখুঁড়ি করা হয়েছে। পাশেই সড়কে জমেছে কাদা। স্থানটিতে সড়ক সংকীর্ণ হওয়ায় কিছুক্ষণ পরপরই যানজট তৈরি হচ্ছে। বাইপাইল মোড় থেকে বগাবাড়ী এলাকা পর্যন্ত রাস্তাটি ইটের সলিং করা। এই অংশের জায়গায় জায়গায় ইট উঠে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ইউনিক বাসস্ট্যান্ডের ফয়সাল মার্কেট থেকে শিমুলতলা এলাকা পর্যন্ত দুই পাশের নতুন সড়কের কাজ করা হয়েছে। সরকার মার্কেট থেকে নরসিংহপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কার্পেটিংয়ের কাজ চলছে। নরসিংহপুর এলাকায় নির্মাণকাজের কারণে সড়ক সংকুচিত হয়েছে।এ ছাড়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলার ঘেঁষে সড়কে উঁচু করে ফেলে রাখা বালুর স্তূপের ওপর দিয়ে চলছে যানবাহন। ড্রেনের কাজ চলমান থাকায় সড়কের নিশ্চিন্তপুর অংশটিও সংকুচিত হয়ে গেছে। নিশ্চিন্তপুরে আল মুসলিম অ্যাপারেলস লিমিটেড থেকে ঘোষবাগের বোরাক পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট পর্যন্ত আশুলিয়ামুখী লেনের কাজ করা হয়েছে। বোরাক পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে জিরাব বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে উঁচু–নিচু ও ছোট ছোট গর্ত তৈরি হয়েছে। আবার কিছু অংশে কার্পেটিংয়ের কাজ চলছে।নষ্ট হচ্ছে যানবাহন, পণ্য পরিবহনে ভোগান্তিবাইপাইল থেকে আশুলিয়া বাজার এলাকা পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে খানাখন্দের কারণে যানবাহনগুলো হেলেদুলে চলে। খানাখন্দের কারণে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ক্ষতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চালকেরা।সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী আলিফ পরিবহনের চালক মো. কামরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাস্তা ভাঙাচোরার কারণে মালিকেরা ড্যামারেজ দিয়া গাড়ি চালাইতেছে। রাস্তার কারণে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়। পাতি ভাঙার খরচটা একটু বেশি। ব্রেক নষ্ট হয় প্রায়ই। চাকার ভেতরে ইটের টুকরা ঢুইকা চাকা বাস্ট হয় (ফেটে যায়)।’এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলার ঘেঁষে সড়কে ফেলে রাখা বালুর স্তুপের ওপর দিয়ে চলছে যানবাহন। গত সোমবার দুপুরে নরসিংহপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায়কাভার্ড ভ্যানে করে গাজীপুর থেকে সিরামিকের পণ্য আশুলিয়ার বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যান চালক মো. মামুন মিয়া। ভাঙাচোরা সড়কে ঝাঁকির কারণে মাঝেমধ্যেই গাড়িতে থাকা সিরামিকের দামি দামি বাসনপত্র ভেঙে যায় বলে জানান তিনি। মামুন মিয়া বলেন, ‘এক দিন ভাঙা না পাইলেও অন্য দিন ভাঙেই। দুই-তিন বছর ধইরা চলতাছি, দেখতাছি রাস্তার কাজ চলতেছে।’বাইপাইল আড়ত থেকে খুচরা ব্যবসায়ীরা কাঁচাবাজারসহ অন্যান্য পণ্য নিয়ে আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করেন। ভাঙাচোরা সড়কে ঝাঁকুনিতে অনেক সময় পণ্য সড়কে পড়ে যায় বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এই সড়কে পণ্য পরিবহনে তাঁদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। জামগড়া চৌরাস্তায় কাজী মার্কেটের সবজি বিক্রেতা মো. আকাশ বলেন, ‘যে ঝাঁকি খায়, মানুষই পইড়া যায়। আর মাল তো পড়বোই। আগে যে জিনিস ১৫০ টাকা ভাড়া দিয়া আনতাম, এখন লাগে ২৫০ টাকা।’শিল্পকারখানাগুলোও পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছে। বাইপাইল–সংলগ্ন ফাউন্টেন গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ) আশিকুল ইসলাম বলেন, বাইপাইল থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত সড়কটি দিয়ে পণ্য পরিবহন করা যাচ্ছে না। বিকল্প পথ হিসেবে নবীনগর ও সাভারের সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে খরচ বেড়েছে।ভাঙাচোরা সড়কে সাবধানে চলছে যানবাহন। সোমবার দুপুরে সাভারের আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় শিল্পকারখানাসমৃদ্ধ এলাকা হওয়ায় বাইপাইল থেকে আশুলিয়া বাজার পর্যন্ত সড়কের আশপাশে কয়েক লাখ শ্রমিক বসবাস করেন। সাধারণত এসব মানুষ সড়কের পাশে গড়ে ওঠা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। সড়ক বেহালের কারণে বাধ্য হয়ে বিকল্প পথ দিয়ে অনেকটা ঘুরে সাভারের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।আশুলিয়ার দুর্গাপুর এলাকার বাসিন্দা মারুফ হোসেন বলেন, বাচ্চাদের অসুখ হলে আগে আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যেতেন। এখন ওই রাস্তা ভালো না। ধুলাবালু ও ভাঙাচোরা। তাই এখন অসুস্থ হলে সাভারে নিয়ে যান।স্বস্তি এসেছে কিছু অংশে২ সেপ্টেম্বর ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটারের পৃথক দুটি সার্ভিস সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এর ফলে ওই সেতুসংলগ্ন এলাকার শিল্পকারখানাগুলো পণ্য পরিবহনে সুবিধা পাচ্ছে। তবে ওই সেতুর দূরবর্তী স্থান থেকে সড়কের ভাঙাচোরা অংশ পেরিয়ে যথাসময়ে কারখানায় পৌঁছানোসহ নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে কারখানার কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকদের।আশুলিয়ার জিরাবোর ঘোষবাগ এলাকায় সড়কের কাজ চলছে। সোমবার দুপুরে সেতুসংলগ্ন পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ন্যাচারাল গ্রুপের উপমহাব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ ও কমপ্লায়েন্স) মো. রাকিবুল আহসান বলেন, ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত অংশটি খুলে দেওয়ায় কারখানা থেকে পণ্য পরিবহন এখন অনেক সহজ হয়েছে। তবে কারখানার কর্মচারী ও শ্রমিকেরা অন্য এলাকায় বসবাস করায় তাঁরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।বর্তমানে সড়কের যেসব স্থানে গর্ত বা খানাখন্দ রয়েছে, সেগুলো ঠিক করা হলেও বৃষ্টির কারণে আবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আশুলিয়া থেকে বাইপাইল এবং ইপিজেড পর্যন্ত এক পাশ অর্থাৎ দুই লেন পুরোটার কাজ শেষ হবে। এ ছাড়া যেসব জায়গায় ইতিমধ্যে সড়কের কাজ শেষ হয়েছে, সেগুলো যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

News সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ 0
মেটায় ফেলোশিপ, দুই বছর পূর্ণ অর্থায়নসহ বিস্তারিত জেনে নিন

মেটায় ফেলোশিপ, দুই বছর পূর্ণ অর্থায়নসহ বিস্তারিত জেনে নিন

চেলোপাড়ায় বাদ্যযন্ত্র তৈরির ব্যস্ততা

চেলোপাড়ায় বাদ্যযন্ত্র তৈরির ব্যস্ততা

ফাইনালে উঠতে পারলেন না মিরাজ, বৃথা গেল হেটমায়ারের সেঞ্চুরি

ফাইনালে উঠতে পারলেন না মিরাজ, বৃথা গেল হেটমায়ারের সেঞ্চুরি

আমি আকাশ হতে চাই
আমি আকাশ হতে চাই

আমি আকাশ হতে চাই,যেখানে মানুষেরা আসে মেঘ হয়ে—অতিথির মতো, থাকে ক্ষণিক,তবু আকাশ তো থাকে!একান্ত নীল,অচঞ্চল এক অস্তিত্বের রেখায় গাঁথা।আমি আকাশ হতে চাই,যেখানে প্রেম আসে ধূসর ধোঁয়ায়,তবু হারায় না হৃদয়ের স্বচ্ছতা।কারও আসা বা যাওয়ায়আকাশ কি কখনো নিজের রং বদলায়?না, সে থাকে স্থির, শান্ত, সর্বত্র বিস্তৃত।আমি আকাশ হতে চাই,কারণ রাতের নিস্তব্ধতায়একটা চাঁদ জ্বলে, নিঃশব্দে ভালোবাসে,অন্ধকারের বুকে আশার মতোআলোকছায়া ছড়িয়ে দেয় নিরবধি।আমি আকাশ হতে চাই,যখন আমি কাঁদি—সে কান্না হয় বৃষ্টির মতো,যার সুরে মানুষ খুঁজে পায় পরিত্রাণ,শোকের জলেও ভিজে ওঠে প্রাণের ঘ্রাণ।আমি আকাশ হতে চাই,কারণ আকাশের মতো বিস্তৃত মন চাই আমার,যেখানে ক্ষুদ্রতা নেই, নেই হিংসা বা দ্বিধা,যেখানে প্রতিটি হৃদয়ের ব্যথাএক আশ্রয় পায়—বিশ্বাসের ছায়ায়।আমি আকাশ হতে চাই,কারণ আমি পরিবর্তনের সাক্ষী হতে চাই,যেখানে সময় বদলায়, রং বদলায়,তবু আমি থেকে যাই—এক অদৃশ্য গভীরতায়স্থির, কিন্তু সীমাহীন।আমি আকাশ হতে চাই—কারণ আকাশ কখনো কারও হয় না,তবু সে সবার।তেমনি আমি—নির্বাক ভালোবাসা হয়েসব কষ্টের ছায়া হই,তবু নিজেই রয়ে যাই আকাশ হয়ে।

News সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ 0
দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারানো শাফি এখন  চাকরি করেন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে, তাঁকে দেখা যায় স্ট্যান্ড-আপ কমেডির মঞ্চেও

দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারানো শাফি এখন চাকরি করেন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে, তাঁকে দেখা যায় স্ট্যান্ড-আপ কমেডির মঞ্চেও

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব কে, তৃতীয় দফা ভোটেও কাটেনি ধোঁয়াশা

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব কে, তৃতীয় দফা ভোটেও কাটেনি ধোঁয়াশা

ভিড় দেখে অনেকের ভয় বা অস্বস্তি হয় কেন

ভিড় দেখে অনেকের ভয় বা অস্বস্তি হয় কেন

ফিনল্যান্ডে পাওয়া গেছে ভাইকিং যুগের গুপ্তধন
ফিনল্যান্ডে পাওয়া গেছে ভাইকিং যুগের গুপ্তধন

বনের ভেতর সুনসান নীরবতা। হঠাৎ বিপ বিপ করে বেজে উঠল মেটাল ডিটেক্টর। শব্দটা শুনে কান খাড়া করলেন কালে লাপ্পিনেন। জায়গাটা ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকি থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার উত্তরে, সিসমা শহরের কাছের এক জঙ্গল। কালে হয়তো ভেবেছিলেন, মাটির নিচে পুরোনো কোনো টিনের কৌটা বা লোহালক্কড় মিলবে। কিন্তু ৩ সেপ্টেম্বর মাটি খুঁড়তেই তাঁর চোখ ছানাবড়া! জঙ্গলের পাথুরে মাটির নিচে লুকিয়ে আছে হাজার বছর পুরোনো রুপার বিশাল এক গুপ্তধন!ফিনল্যান্ডের ইতিহাসে এর আগে ভাইকিং যুগের এত বড় রুপার গুপ্তধন আর কখনো পাওয়া যায়নি। চলো, জেনে নিই সেই জঙ্গলের গুপ্তধনে কী কী পাওয়া গেল।১০ পাউন্ডের রুপার খনিএই গুপ্তধনে কী আছে শুনলে তুমিও চমকে যাবে। প্রায় সাড়ে চার কেজি ওজনের রুপার কয়েন আর গয়না পাওয়া গেছে! লাহাটি হিস্টোরিক্যাল মিউজিয়ামের প্রত্নতত্ত্ববিদ এসকো তিক্কালা এই গুপ্তধন খনন করেছেন। তিনি জানান, ‘গুপ্তধনগুলো মূলত দুটি ভাগে ভাগ করে বার্চগাছের ছালের পাত্রে ভরে মাটির নিচে রাখা হয়েছিল। পাত্র দুটি একে অপরের থেকে প্রায় ৩৯ ফুট দূরে এবং মাটির ১৮ ইঞ্চি গভীরে দুটি পাথরের মাঝখানে লুকানো ছিল।’যদিও এগুলো এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার করে গোনা হয়নি, তবে এর মধ্যে কয়েক হাজার কয়েন ও টুকরা আছে। তিক্কালার ভাষায়, ‘কয়েন এত বেশি যে আমি এখনো সব কটি নেড়েচেড়ে দেখার সময় পাইনি!’আবার ফিরছে সিডি ও ক্যাসেট, কারণ কীকোথা থেকে এল এত সম্পদপ্রত্নতত্ত্ববিদদের ধারণা, এই গয়না ও কয়েনগুলো ১০০০ থেকে ১০৫০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যকার। এতে বর্তমান জার্মানি, সুইডেন আর গ্রেট ব্রিটেন এলাকার কয়েন রয়েছে। সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হলো, এখানে বেশ কিছু দিরহামও মিলেছে। এগুলো ৮০০ থেকে ১০৫০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে ফিনল্যান্ডে আসত।এর পাশাপাশি মিলেছে রুপার ব্রেসলেট এবং হ্যাক সিলভার। হ্যাক সিলভার হলো রুপার এমন টুকরা, যা সেকালে ওজনের ওপর ভিত্তি করে কেটে কেটে দাম মেটানোর কাজে ব্যবহৃত হতো। শুধু এই রুপার ওজন হিসাব করলেই আজকের বাজারে এর দাম দাঁড়াবে প্রায় ১০ হাজার ডলার!ভাইকিং যুগের, কিন্তু ভাইকিংদের নয়!তুমি হয়তো ভাবছ, গুপ্তধন যখন ভাইকিং যুগের, তখন নিশ্চয়ই এটা কোনো দুর্ধর্ষ ভাইকিং জলদস্যুর কাজ! কিন্তু এসকো তিক্কালা বলছেন অন্য কথা। সেকালে ফিনল্যান্ড রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিকভাবে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান ভাইকিংদের অংশ ছিল না। ফিনল্যান্ডের ইতিহাসবিদরা শুধু ওই সময়কাল বোঝাতে ‘ভাইকিং যুগ’ শব্দটা ব্যবহার করেন। তাই এই গুপ্তধন কোনো ভাইকিংয়ের না-ও হতে পারে।ভাইকিংদের গুপ্তধন খুঁজে পেয়েছে ১৩ বছরের কিশোরকেন লুকানো হয়েছিল এই সম্পদমানুষ কেন এভাবে মাটির নিচে সম্পদ লুকিয়ে রাখত, তার সঠিক উত্তর দেওয়া মুশকিল। আশপাশে কোনো কবরের চিহ্নও মেলেনি। তবে রোমান আমলের ১৫ হাজারেরও বেশি গুপ্তধন নিয়ে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, সেকালে মানুষ মূলত কর বা ট্যাক্স ফাঁকি দিতে, দেবতাদের উদ্দেশে উৎসর্গ করতে কিংবা যুদ্ধের মতো অনিশ্চিত সময়ে সম্পদ নিরাপদে রাখতে মাটির নিচে ধন লুকিয়ে রাখত।একের পর এক গুপ্তধনফিনল্যান্ডে এর আগে ভাইকিং যুগের সবচেয়ে বড় গুপ্তধনটি মিলেছিল ১৮৯৫ সালে নৌসিয়ানেন এলাকায়। তাতে ১ হাজার ৭০০ রুপার কয়েন থাকলেও তার ওজন ছিল এই নতুন গুপ্তধনের ঠিক অর্ধেক। শুধু ফিনল্যান্ড নয়, সম্প্রতি নরওয়েতেও ৪ হাজার ৭০০ কয়েনের এক বিশাল গুপ্তধন মিলেছে। আর ডেনমার্কে তো এক লোক নিজের বাড়ির পেছনের উঠান খুঁড়তে গিয়েই সাড়ে ১৮ কেজি ওজনের ৭০০ রুপার বস্তুর এক বিশাল ভান্ডার পেয়ে গেছেন!সূত্র: লাইভ সায়েন্সআর্লিং হলান্ড কেন নরওয়ের হয়ে খেলেন

News সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ 0
বুন্দেসলিগায় দ্রুততম ১০০ গোলের রেকর্ড কেইনের

বুন্দেসলিগায় দ্রুততম ১০০ গোলের রেকর্ড কেইনের

কেউ চায় চিকিৎসক হতে, কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে, সবার চিন্তা পড়ার খরচ

কেউ চায় চিকিৎসক হতে, কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে, সবার চিন্তা পড়ার খরচ

সবচেয়ে বেশি গোল্ডেন ডাক শিকার, এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সোনা জয় ও আরও ৮ প্রশ্ন

সবচেয়ে বেশি গোল্ডেন ডাক শিকার, এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সোনা জয় ও আরও ৮ প্রশ্ন

0 Comments