জাতীয়

শব্দ কীভাবে ভাষা ও জগৎকে নির্মাণ করে

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
শব্দ কীভাবে ভাষা ও জগৎকে নির্মাণ করে
শব্দ কীভাবে ভাষা ও জগৎকে নির্মাণ করে

আমরা যে জগতে বাস করি, সেটা শব্দের জগৎ। শব্দ বলতে যদি আপনি আওয়াজ বুঝে থাকেন, তবে সমস্যা নেই। পৃথিবীতে বায়ু আছে বলেই শব্দ বা আওয়াজ তৈরি হয়। কিন্তু সব শব্দ বা আওয়াজই ভাষার উপাদান নয়। ভাষার উপাদান হিসেবে যে শব্দের কথা বলা হয়, তা বাক্যের একক এবং আপাতভাবে ধরে নেওয়া হয় সেই শব্দের অর্থ আছে। এ লেখায় শব্দকে বাক্যের উপাদান হিসেবে ধরতে হবে।

বক্তা ও শ্রোতার কিংবা লেখক ও পাঠকের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি করে যে মাধ্যম, তাকে ভাষা বলা যায়। এই বিবেচনায় শব্দের উচ্চারিত রূপ যেমন আছে, অনুচ্চারিত রূপও আছে। আবার যোগাযোগ যে কেবল ভাষিক উপাদানের মাধ্যমে হয় তা নয়, অভাষিক উপাদান, যেমন প্রতীক বা চিহ্ন, অঙ্গভঙ্গি, মুখের অভিব্যক্তি, ইশারা-ইঙ্গিত, দৃষ্টি, স্পর্শ, এমনকি নীরবতার মাধ্যমেও হতে পারে। শিরোনামের ‘ভাষা’ শব্দ দিয়ে মূলত ভাষিক যোগাযোগ বোঝানো হয়েছে।

আর ‘জগৎ’ বলতে মানুষের বাস্তব ও অবাস্তব—ভাষা ব্যবহারের এই দুই ক্ষেত্র বুঝতে হবে। এর একটি প্রত্যক্ষ জগৎ, যেখানে মানুষ অপর মানুষের সঙ্গে সরাসরি ভাষা ব্যবহার করে। আরেকটি জগৎ কল্পনার, যেখানে মানুষ নিজের মতো চিন্তা করে। এই দুই জগতে ভাষা একই কাঠামো নিয়ে থাকে না।

মানুষ কি ভাষা দিয়ে চিন্তা করে

এই প্রশ্নের উত্তর হলো না, মানুষ ভাষা দিয়ে চিন্তা করে না। মানুষ যদি ভাষা দিয়ে চিন্তা করত, তবে মানবসভ্যতার আদি থেকেই ভাষা ছিল বলতে হয়। ভাষার উৎপত্তি ও বিবর্তনের ধারণা এটা বলে যে ধ্বনিগুচ্ছের সমবায়ে শব্দ তৈরির ক্ষমতা মানুষ একদিনে অর্জন করেনি।

মানুষের চিন্তাভাবনা বরং প্রাক্-ভাষিক, অর্থাৎ ভাষাকাঠামোর আগের রূপ। এর মধ্যে আছে মনের ছবি, ধারণা ও আবেগীয় অনুভূতি। তবে ভাষা চিন্তার স্তরকে প্রভাবিত করে। ব্যক্তি শুধু অপরের সঙ্গে নয়, নিজের সঙ্গেও কথা বলার সময় প্রায়ই শব্দ ব্যবহার করে। এখান থেকে ভাষা সম্পর্কে নতুন ধারণা পাওয়া যায়—ভাষা কেবল পরস্পরের যোগাযোগের মাধ্যম নয়, ব্যক্তির নিজের প্রকাশ ও উপলব্ধিরও ধরন।

শব্দের কি আদৌ কোনো অর্থ আছে

প্রথাগত ব্যাকরণ শব্দকে চিহ্নিত করে তার অর্থসংশ্লিষ্টতা দিয়ে। তবে বাক্যের অন্তর্গত না হওয়া পর্যন্ত শব্দের অর্থ নির্ধারণ করা কঠিনই বটে! যেমন কামানের গোলা এসে পড়ল তার ধানের গোলার ওপর। এখানে দুই গোলার অর্থ আলাদা; বাক্যে ব্যবহারের আগপর্যন্ত তা আলাদা করা যায় না।

তবে শব্দের অর্থের ব্যাপারটা একেবারেই ধারণাগত। অর্থাৎ আমরা গরুকে ‘গরু’ বলে ডাকি বলেই তার নাম গরু। গরুর নাম ‘গোলাপ’ রাখা হলে আমরা গরুকে গোলাপ বলে ডাকতাম। বাস্তব জগতের বস্তু বা উপাদান প্রাথমিকভাবে কোনো নাম দ্বারা চিহ্নিত হয়। এর সঙ্গে সরাসরি কোনো অর্থ খুঁজে পাওয়া যায় না। রিচার্ডস ও অগডেন ব্যাপারটিকে অর্থ–ত্রিভুজের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেন। এই ত্রিভুজের এক প্রান্তে থাকে শব্দ, এক প্রান্তে থাকে নির্দেশিত বস্তু এবং এ দুইয়ের মাঝখানে শীর্ষ প্রান্তে থাকে শব্দের ধারণাগত অর্থ।

ধারণাগত অর্থই কি চূড়ান্ত কথা

জিওফ্রে লিচ বলেন, প্রতিটি শব্দ কিছু অর্থ–বৈশিষ্ট্যের সমষ্টি। যেমন ‘বাঘ’ বলতে বোঝায়: এটি প্রাণী, এটি হিংস্র, এটি মাংসাশী, এটি চতুষ্পদী, এটি স্তন্যপায়ী, এটি লেজযুক্ত, এর চামড়া ডোরাকাটা ইত্যাদি। এই বৈশিষ্ট্য যত বাড়ানো যায়, শব্দটির দ্বারা নির্দেশিত বস্তু বা উপাদান তত নির্দিষ্ট ও স্পষ্ট হয়। এ ধরনের সাধারণ অর্থকে ধারণাগত অর্থ বলা যায়।

তবে বাঘ শব্দটি আরও বহু ব্যঞ্জনায় ভাষায় ব্যবহৃত হতে পারে। কোনো ব্যক্তিকে ‘বাঘ’ বলার মাধ্যমে তার ব্যক্তিত্বের এমন দিক উন্মোচিত হয়, যা তাকে বাঘের সদৃশ করে তোলে। আবার যদি বলা হয় ‘সুন্দরবনে একসময় আর বাঘ থাকবে না’ কিংবা ‘হাসমত ভাইকে বাঘে খেয়েছে’, তবে সেখানে বাঘের ধারণাগত অর্থ ঠিকই থাকে, আর দুই বাক্যে বাঘের প্রতি দুই ধরনের প্রবল অনুভূতিও যুক্ত হয়ে যায়।

ধ্বনির সঙ্গে শব্দের কী সম্পর্ক

ধ্বনিবাদীরা ধ্বনির সঙ্গে শব্দের অর্থের যোগ খুঁজে পান। রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী বলেন, প ও ট ধ্বনির আলাদা রূপ ও অন্তর্গত অর্থ আছে। এই দুয়ের সম্মিলনে পট শব্দ তৈরি হয়, যেখানে প ও ট ধ্বনির অন্তর্গত অর্থ একসঙ্গে বিদ্যমান আছে। আবার ‘পটকা’ পট করে ফাটে বলেই তার নাম পটকা। বারবার পট পট করে ফাটার আওয়াজ থেকে পাওয়া যায় নতুন শব্দ ‘পটপট’। পটপট আওয়াজ খই ভাজার সময়ে যেমন হয়, তেমনি মানুষের মুখ দিয়েও খইয়ের মতো পটপট করে শব্দ বের হতে পারে।

ধ্বনির সঙ্গে অর্থের যোগ ধ্বন্যাত্মক শব্দ দিয়েও বোঝা যায়। টকটকে, চকচকে—এসব শব্দের মধ্যেও ধ্বনি বা আওয়াজ লুকিয়ে আছে। কাঠের মধ্যে আঙুল দিয়ে বারবার টোকা দিলে টকটক শব্দ হয়। এই শব্দ কানের, এটাই যখন চোখে তীব্র অনুভূতি তৈরি করে, তখন তা হয় ‘টকটকে লাল’। আবার পিতলের তেল মাখানো কলসি চকচক করে, সেটা চোখের অনুভূতি। সেই কলসির গায়ে আঙুল দিয়ে ঘষা দিলে কানে চঅক্ শব্দ শোনা যাবে।

শব্দের অর্থ কি নির্দিষ্ট

শব্দের অর্থ যে নির্দিষ্ট নয়, তা ভাষা ব্যবহারকারী দ্রুত বুঝতে শুরু করে। যেমন ‘আমার হাতে অনেক বই’ কিংবা ‘আমার হাতে অনেক কাজ’ বললে এক রকম অর্থ বোঝাবে না। নোয়াম চমস্কি এ ধরনের ধারণাকে ভাষার ব্যবহার ও ভাষাবোধের উপরিতল ও গভীরতলের সঙ্গে সম্পর্কিত করেছেন।

আবার একটি শব্দ একই গঠন নিয়ে নানা রকম অর্থ প্রকাশ করতে পারে। আগেই দেখানো হয়েছে, ‘গোলা’ বলতে ধানের গোলা, কামানের গোলা—দুইই বোঝাতে পারে। আবার ভিন্ন ভিন্ন অর্থের সঙ্গে লুকিয়ে থাকতে পারে এদের কোনো সূত্র বা আদি সম্পর্ক। যেমন ‘পাতা’ শব্দটি গাছের পত্রফলক এবং বইয়ের পৃষ্ঠা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। আপাতভাবে এ দুইয়ের মধ্যে সম্পর্ক নেই মনে হতে পারে। কিন্তু গাছের পাতাতেই একসময়ে লেখা হতো। সেসব পাতা সুতা দিয়ে একত্রে গাঁথা বা গ্রন্থিত হওয়ার পর তার নাম হয়েছে গ্রন্থ। এখন গ্রন্থের কাগজের পৃষ্ঠা বা ডিজিটাল বইয়ের পৃষ্ঠাকেও বলা হচ্ছে পাতা।

ভাষায় কি সমার্থক শব্দ আছে

সমার্থক শব্দ কখনোই পুরোপুরি সম-অর্থক হয় না। যেমন সূর্য শব্দের সমার্থক হিসেবে সবিতা, অরুণ, মার্তণ্ড ইত্যাদি নির্দেশ করা যায়। সবগুলোই সূর্য, তবে এক রকম সূর্য নয়। অতিপ্রত্যুষের সূর্য—যেটা এখনো পুরোপুরি ওঠেনি, কেবল উঠি উঠি করছে, তাকে বলা হয় সবিতা। ওঠার পর প্রথম সকালে যখন ডিমের কুসুমের মতো গোল লাল রং ধারণ করে, তখন তার নাম হয় অরুণ। তাই কবি বলতে পারেন—‘অরুণ প্রাতের তরুণ দল’। দুপুর বা বিকেলের আকাশে অরুণ পাওয়া যাবে না। আবার মধ্যদুপুরের গনগনে সূর্যকে বলে মার্তণ্ড।

জন লায়ন্স বলেন, ভাষায় পূর্ণ সমার্থক শব্দ পাওয়ার ব্যাপারটি প্রায় অসম্ভব। এমনকি সমার্থ শব্দকোষে একটি শব্দের পাশে একগুচ্ছ শব্দের তালিকা থাকলেও সেগুলো পুরোপুরি সম-অর্থবোধক হয় না। ‘নারী’ শব্দের প্রতিশব্দ হিসেবে ব্যবহৃত ললনা, রমণী, কামিনী, রামা ইত্যাদি শব্দেরও যে কারণে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রা রয়েছে। মানুষের চিন্তা ও ভাষা ব্যবহারের জগতে সেগুলো এক মনে হয় মাত্র।

বিপরীত শব্দ কি সব সময়ই বিপরীত

বিপরীত শব্দগুলো তারতম্য ধারণার সাহায্যে ব্যাখ্যা করতে চান এডওয়ার্ড স্যাপির। যেমন একটা বস্তা ভারী, আরেকটা বস্তা তার চেয়েও ভারী। তাদের তারতম্য কম হলে দুটিই ভারী হিসেবে চিহ্নিত হবে। কিন্তু তাদের তারতম্য বেশি হলে বলা যাবে, একটা হালকা, একটা ভারী। বিপরীত শব্দ অনেক সময় একটি অন্যটির পরিপূরক হয়। যেমন জীবিত শব্দের বিপরীত মৃত। যখন কাউকে জীবিত বলা হয়, তার মানে সে মৃত নয়। কিংবা কাউকে মৃত বলা মানে, সে জীবিত নয়। এই দুই শব্দের সংযোগে তৈরি ‘জীবন্মৃত’ শব্দ নতুন ব্যঞ্জনা লাভ করে।

আবার ‘ছোট-বড়’, ‘লম্বা-খাটো’—এ ধরনের বিপরীতার্থক শব্দগুলো সাধারণভাবে আপেক্ষিক অর্থে ব্যবহৃত হয়। একজন ব্যক্তি ছোট বা বড় হতে পারে, কিন্তু সেটা অন্য কারও সাপেক্ষে। আবার ছোট সব সময় ছোট নয়, কিংবা বড় সব সময় বড় নয়। ধরা যাক বলা হলো, ছোট একটা হাতির পিঠে বড় একটা পিঁপড়া বসে আছে। এই বাক্যে ছোট ও বড় শব্দ দুটি স্বাভাবিক বিপরীত শব্দের মতো আচরণ করছে না।

শব্দ কি সব শব্দের সঙ্গে বসে

উত্তর হলো, না। একটি শব্দ সব শব্দের সঙ্গে মিলতে পারে না বা বসতে পারে না। জন ফার্থ বলেন, কোনো শব্দকে বুঝতে হলে তার সাথের শব্দগুলোকে দেখতে হবে। এ কারণে মিষ্টি হাওয়া, মিষ্টি কথা, মিষ্টি মেয়ে—এগুলো বলা গেলেও সাধারণ প্রয়োগে মিষ্টি আকাশ বা মিষ্টি হাত বলা যায় না। আবার ‘মিষ্টি চোর’ বললে শব্দের অর্থ ও প্রয়োগগত ধরন বদলে যায়। তখন মিষ্টি গুণবাচক শব্দ না হয়ে নামবাচক শব্দে পরিণত হয়।

শব্দের আরেকটি গুণ হলো গুচ্ছাকারে থাকা। বাক্যে শব্দ ব্যবহৃত হয় গুচ্ছাকারে। যেমন একদল সাদা হাতি গভীর জঙ্গল থেকে গ্রামে এসে পড়েছে। এই বাক্যে চারটি শব্দগুচ্ছ আছে: (১) একদল সাদা হাতি, (২) গভীর জঙ্গল থেকে, (৩) গ্রামে এবং (৪) এসে পড়েছে। প্রতিটি গুচ্ছ বা একক আলাদাভাবে অর্থের এককও তৈরি করে।

উচ্চারিত শব্দগুচ্ছই কি ভাষা

তা হতে পারে, না–ও পারে। যেমন ‘একেবারে রাজকুমারের মতো দেখতে’—এই বাক্যের সাধারণ একটা অর্থ আছে। কিন্তু উচ্চারণের বা কণ্ঠস্বরের ভিন্নতার কারণে এর অর্থ সম্পূর্ণ পাল্টে যেতে পারে। স্বর বাঁকিয়ে যদি বলা হয়, ‘হ্যাঁহ্, একেবারে রাজকুমারের মতো দেখতে!’, তাহলে নিশ্চয় আগের মতো অর্থ বোঝাবে না।

আবার যা বলা হয়, অনেক ক্ষেত্রে বক্তা তার অতিরিক্ত কিছু বোঝাতে চান। যেমন ঘরে অতিথি ঢুকে যদি বলেন, ‘আজ খুব গরম পড়েছে’, তবে তিনি বন্ধ থাকা ফ্যানটি প্রকারান্তরে চালিয়ে দিতে বলেন, কিংবা এক গ্লাস শরবত দেওয়ার ইঙ্গিত করেন। শ্রোতাও এ ক্ষেত্রে শুধু শব্দের ধারণাগত কিংবা বিশেষ অর্থ দিয়ে তাঁর বাস্তব জগৎ বা চিন্তার জগৎ নির্মাণ করেন না।

ভবিষ্যতের ভাষায় কি শব্দ থাকবে

সহজ করে এর উত্তর দেওয়া কঠিন। কারণ, অতীতের ভাষা যদি রূপান্তরিত হয়ে এ পর্যায়ে এসে থাকে, তবে বর্তমানের ভাষাও দূর ভবিষ্যতে বদলে যাবে। সে ক্ষেত্রে ভাষার শব্দ এভাবে না–ও থাকতে পারে, কিংবা শব্দ নতুন আচরণ করতে পারে। প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন নতুন নতুন শব্দের জন্ম দেবে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে ভবিষ্যতের ভাষাও গতিশীল হবে; সে ক্ষেত্রে সংক্ষেপণের কারণেও শব্দের রূপের বদল ঘটবে।

শব্দের অবাধ আদান–প্রদানের কারণে ভাষার ব্যাকরণ অনিয়মিত হয়ে পড়বে, ভাষাগত ব্যবধানও কমে যেতে পারে। বর্তমানে মানুষের অন্তর্জগতের বোধ ও চিন্তা মূলত প্রাক্-ভাষিক উপাদান দিয়ে পরিচালিত হয়; ভাষিক উপাদান, যেমন শব্দ, বাক্য সেখানে গৌণ হয়ে থাকে। ভবিষ্যতে এই অন্তর্জগতের ভাষাই বহির্জগতের ভাষা হয়ে উঠতে পারে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
বন্ধ চার পাটকল চুক্তিতে চালু করল আবুল খায়ের গ্রুপ 
বন্ধ চার পাটকল চুক্তিতে চালু করল আবুল খায়ের গ্রুপ 

ফরিদপুর ও মাদারীপুরের বন্ধ চার পাটকল চুক্তিতে চালু করেছে দেশের এই শিল্পগ্রুপ। এসব পাটকলে কর্মসংস্থান হয়েছে ১৫ হাজার শ্রমিকের।ফরিদপুরের রাজ্জাক জুট ইন্ডাস্ট্রিজ নানা সমস্যায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে পাটকলটির অনেক শ্রমিক বেকার হন। বন্ধ সেই কারখানা চলতি বছর চালু করেছে আবুল খায়ের গ্রুপ। এখন পাটকলটির উৎপাদিত পণ্য রপ্তানিও হচ্ছে। রাজ্জাক জুট ইন্ডাস্ট্রিজের পাশাপাশি আরও তিনটি বন্ধ পাটকল সম্প্রতি চালু হয়েছে আবুল খায়ের গ্রুপের হাত ধরে। অন্য তিনটি পাটকল হচ্ছে ফরিদপুরের ফরিদপুর জুট ফাইবার্স ও দাহমাশী জুট ইন্ডাস্ট্রিজ এবং মাগুরার এআর জুট মিলস। বন্ধ এই চার পাটকল চালুর ফলে নতুন করে কারখানাগুলোতে কর্মসংস্থান হয়েছে ১৫ হাজার শ্রমিকের। বন্ধ ও রুগ্​ণ এই চার পাটকল নতুন করে চালু করে পাটপণ্য উৎপাদন করছে আবুল খায়ের গ্রুপের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান শাহ অ্যাগ্রো লিমিটেড।আবুল খায়ের গ্রুপের কর্মকর্তারা জানান, গত বছর পাট কেনাবেচার ব্যবসা শুরু করে এই শিল্পগোষ্ঠী। একপর্যায়ে পাটপণ্যের ব্যবসায় নামার অংশ হিসেবে বেসরকারি খাতের চারটি বন্ধ পাটকলের সঙ্গে চুক্তি করা হয়। তারপর চলতি বছরের বিভিন্ন সময় এই পাটগুলো চালু করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নতুন করে চালু করা চার পাটকল থেকে বছরে ৮০ হাজার মেট্রিক টন পাটের সুতা ও পাটজাত পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে আবুল খায়ের গ্রুপ। এখন পর্যন্ত এসব পাটকলে উৎপাদিত ১২০ কোটি মার্কিন ডলারের পাটের সুতা রপ্তানি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তুরস্ক ও চীনে এসব পাটপণ্য রপ্তানি করা হয়।► নতুন করে চালু করা চার পাটকল থেকে বছরে ৮০ হাজার মেট্রিক টন পাটের সুতা ও পাটজাত পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে আবুল খায়ের গ্রুপ। জানতে চাইলে আবুল খায়ের গ্রুপের হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড লিগ্যাল শেখ শাবাব আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘পাটপণ্যের ব্যবসা অনেক বেশি মূলধননির্ভর। দেশের বেসরকারি খাতে অনেক পাটকল বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। তাই নতুন কারখানা না করে আমরা বন্ধ কারখানার মালিকদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে সেগুলো চালু করেছি। আমরা পাট কিনে কারখানায় দিচ্ছি। কারখানার কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের ব্যবস্থাপনা করে পণ্য উৎপাদন করে। সেই পণ্য আমরা বিদেশে রপ্তানি করি।’শেখ শাবাব আহমেদ জানান, বন্ধ চার পাটকল চালুর পর আরও ২-৩টি বন্ধ পাটকল চালুর বিষয়ে এসব পাটকলের মালিকপক্ষের সঙ্গে চুক্তির আলোচনা চলছে। সেগুলো চূড়ান্ত হলে সেখানেও পাটপণ্য উৎপাদন করা হবে। এ ছাড়া সরকারি বন্ধ ৩-৪টি পাটকল ইজারায় নেওয়ার আবেদনও করেছে আবুল খায়ের গ্রুপ।শেখ শাবাব আহমেদ, করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড লিগ্যাল বিভাগের প্রধান, আবুল খায়ের গ্রুপ বেসরকারি খাতে অনেক পাটকল বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। তাই নতুন কারখানা না করে আমরা বন্ধ কারখানার মালিকদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে সেগুলো চালু করেছি। শেখ শাবাব আহমেদ আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে বেশি মূল্যের (ভ্যালু অ্যাডেড পণ্য) পাটপণ্য উৎপাদনের জন্য আমরা চেষ্টা করছি। তখন আমরা বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করব। তখন নতুন কারখানাও করতে হবে। বাংলাদেশের পাটের মান উন্নত। পরিবেশবান্ধব এই পণ্যের বৈশ্বিক বাজারও রয়েছে। সে জন্য আমাদের প্রতিষ্ঠান পাটপণ্যে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে পরোক্ষভাবে হলেও পাটচাষিদের ভাগ্যের উন্নয়ন হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’পাটপণ্য রপ্তানিতে আবুল খায়ের গ্রুপের বিনিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান তাপস প্রামাণিক প্রথম আলোকে বলেন, গতানুগতিক ধারার বাইরে কিছুটা ভিন্নভাবেই পাটপণ্যের ব্যবসায় এসেছে আবুল খায়ের গ্রুপ। বন্ধ কারখানার মালিকদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে সেসব কারখানা চালুর নতুন ব্যবসায়িক মডেলটি মন্দ নয়। আবুল খায়ের মতো বড় শিল্পগ্রুপ যদি পাটপণ্যের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা ও বহুমুখী পাটপণ্যের বাজার ধরার জন্য মনোযোগী হয়, তাহলে দেশ খাতটি থেকে অনেক বেশি উপকৃত হবে।

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
তিন বছর পর থ্রেডসের প্রতিদ্বন্দ্বী এক্স ব্যবহারের কারণ জানালেন মার্ক জাকারবার্গ

তিন বছর পর থ্রেডসের প্রতিদ্বন্দ্বী এক্স ব্যবহারের কারণ জানালেন মার্ক জাকারবার্গ

প্রসববেদনার সময় কি নামাজ আদায় করতে হবে

প্রসববেদনার সময় কি নামাজ আদায় করতে হবে

একাধিক বালিশে ঘুমালে কি ঘাড়ে সমস্যা হতে পারে 

একাধিক বালিশে ঘুমালে কি ঘাড়ে সমস্যা হতে পারে 

একাদশে ক্লাস শুরুর তারিখ পেছাল
একাদশে ক্লাস শুরুর তারিখ পেছাল

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরুর তারিখ এক দিন পিছিয়েছে। ক্লাস শুরু হবে ২৪ সেপ্টেম্বর। পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে ২৩ সেপ্টেম্বর দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক দিনের ছুটি থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।অস্ট্রেলিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবার আনার সুযোগ বন্ধের প্রস্তাববিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে অনলাইনের মাধ্যমে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরুর তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত ছিল। তবে পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে ওই দিন দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক দিনের ছুটি থাকবে। এই পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরুর তারিখ আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর পুনর্নির্ধারণ করা হলো। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।হার্ভার্ডের একাডেমি স্কলারস প্রোগ্রাম, মাসে ৬৬৬৬ ডলার স্টাইপেন্ড, করুন আবেদনএদিকে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে অনলাইনে আবেদন করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে নির্বাচিত হয়েছে ৯ লাখ ৮০ হাজার ৮১৫ শিক্ষার্থী। আবেদন করেও আসন পায়নি ১৪ হাজার ৪১৫ জন। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পাওয়া ২ হাজার ২০৫ শিক্ষার্থী আবেদন করেও নির্বাচিত হয়নি। বুধবার রাতে প্রথম ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়। দেশে একাদশ শ্রেণিতে কলেজ ও মাদ্রাসা মিলিয়ে ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। ফলে এবার বিপুলসংখ্যক আসন খালি থাকবে।ব্রিটিশ কাউন্সিলের অনলাইন কোর্স, ফ্রি ডিজিটাল আপগ্রেডের সুযোগ

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
বিপিএলে ফিক্সিং: এবার শাস্তি পেলেন দলের মালিক ও ম্যানেজার

বিপিএলে ফিক্সিং: এবার শাস্তি পেলেন দলের মালিক ও ম্যানেজার

নারায়ণগঞ্জে ৭ কোটি টাকার ভবন করেছে সওজ, তবে অফিস চলে ঢাকায়

নারায়ণগঞ্জে ৭ কোটি টাকার ভবন করেছে সওজ, তবে অফিস চলে ঢাকায়

অদৃশ্য জীবাণু, দৃশ্যমান অবদান: মাইক্রোবায়োলজিস্টদের গল্প

অদৃশ্য জীবাণু, দৃশ্যমান অবদান: মাইক্রোবায়োলজিস্টদের গল্প

আঙিনায় বনভোজন
আঙিনায় বনভোজন

ছোটবেলায় আমার বেড়ে ওঠা শহরে। নানু মারা যাওয়ার পর আমার নানা ঢাকা শহরেই ছিলেন, সুতরাং গ্রামের স্মৃতি তেমন একটা মনে নেই আমার। খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলের বাংলোয় চুলা আর ওভেন ছিল ইলেকট্রিক। মাটির চুলায় রান্না করার একটা গোপন শখ ছিল আমার। খুব ছোটবেলায় বাসা থেকে আলু আর চাল নিয়ে মাঠে আমি আর সুজন ম্যাচ নিয়ে বহু চেষ্টা করেছি আগুন জ্বালিয়ে রাঁধতে। পারিনি আর শাস্তিস্বরূপ ছোটখাটো হাঁড়িপাতিল থাকলেও ছোট্ট মাটির চুলা কেউ আমাকে বানিয়ে দেয়নি।স্কুলে থাকতে বছরে এক দিন পিকনিক হতো সিনিয়র কলোনিতে। ক্লাবের পেছনে মাটির চুলা বানিয়ে রান্না হতো। কেমন স্বপ্নিল একটা ব্যাপার। তবু রান্নার আশপাশে আমি ঘেঁষতে পারিনি। স্কুলে থাকতে একবার বান্ধবীদের সঙ্গে পিকনিক করার অনুমতি পেয়েছিলাম বহু কান্নাকাটির পর, তা–ও আব্বুর কারণে। আম্মি দেবে তো না–ই, তা–ও আবার জাম কালারের শাড়ি পরে পিকনিক।বাংলোয় ফায়ারপ্লেস থাকলেও দেশে এতটা শীত কোনো দিন ছিল না যে সেটা জ্বালানো হবে। সুইডেন বা যুক্তরাষ্ট্রে সব গ্যাসের। কাছের লগ পাওয়া যায়, তবে এত দিনে পাঠকের মৃত্যু হয়েছে। এখন ঝামেলা কম করে যত থাকা যায়, এই মানসিকতা। এর মধ্যে মাস কয়েক আগে বন্ধুরা বসে গল্প করছিল একজনের কাব্যিক ব্যাকইয়ার্ডে। কাব্যিক বলার কারণ, এর বাসাটা পুরোনো ইংরেজি সিনেমার মতো। সামনে–পেছনে বাগান। চমৎকার পাথরের সারি যে জায়গায়, সেখানে থেরাপিউটিক কোনো সুবিধা আছে কি না, জানতে খালি পায়ে হাঁটতে চেষ্টা করে পায়ে কাঁটা ফুটিয়ে ফেলেছিলাম প্রায়। যাক, সেদিন অল্প আলোয় বন্ধুরা বলল, কাঠের চুলায় রান্না করে পিকনিক করি চল। ক্রিয়েটিভ ফারহাত আপু বললেন, বেশ।তারপর এই শনিবারে ছিল সেই দিন। ইট বসিয়ে চুলা বানিয়ে সব ফায়ার সেফটি মেনে পিকনিকটা আসলেই হবে, সেটা আমার কল্পনায় ছিল না। প্রস্তুতির ছবিগুলো দেখছিলাম। এক প্যাচে শাড়ি, মাথায় খোঁপা করবে সবাই। মনে হচ্ছিল, সেই কোন ছোটবেলায় ফিরে গেছি আমি। আব্বুর পেছন–পেছন ঘুরছি, আব্বু, আমি পিকনিকে যেতে চাই। আম্মি শাড়ি দেবে না, একটু বলে দেন।কাজের উইকেন্ড ছিল সেটা। দ্রুত কাজ শেষ করে শাড়ি পরে খোঁপাজাতীয় কিছু মাথায় বেঁধে হুড়োহুড়ি করতে গিয়ে হাতে ব্যথা পেয়ে কোনোরকমে পৌঁছালাম আপুর বাসায়। গিয়ে দেখি, পরিরা হাঁটছে। ব্যাকইয়ার্ডে ইটের চুলায় ডাল আর গরুর মাংস রান্না হচ্ছে। জিলাপি আর বেগুন ভাজা হচ্ছে। এক পাশে আমভর্তা, জামভর্তা, চানাচুরমাখা, পেঁয়াজু। আলো আর ফুলে ভরা একটা বিকেল। ধীরে ধীরে সন্ধ্যা নামছে। বন্ধুদের সঙ্গে অনেক ছবি তুললাম। খুন্তি নিয়ে রান্নার ভান করলাম। সন্ধ্যার পর আমরা //////////////আন্কসরি//////////// খেলেছি। কোনো দল হারার পাত্র নয়। মা–মেয়ে নাচল গানের সঙ্গে। কী অপূর্ব কিছু সময়! আপু আমাকে গাইতে বলেছিল ‘লীলাবালি’। গাইলাম। চুলায় রান্না করা খাবার খেলাম। পরদিন কাজ না থাকলে আরও অনেকক্ষণ হয়তো বসে থাকতাম। আপুর ফাল্গুন অনুষ্ঠান বা যেকোনো কিছু এত মন ছোঁয়া হয়! আর্কিটেক্ট বলেই হয়তো। ব্যস্ত জীবনে এমন আনন্দের ছোঁয়া ঘুরে ঘুরে আসুক সবার।দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: dp@prothomalo.com

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
হার্ভার্ডের একাডেমি স্কলারস প্রোগ্রাম, মাসে ৬৬৬৬ ডলার স্টাইপেন্ড, করুন আবেদন

হার্ভার্ডের একাডেমি স্কলারস প্রোগ্রাম, মাসে ৬৬৬৬ ডলার স্টাইপেন্ড, করুন আবেদন

চাঁদের পাশে শুক্র গ্রহ কেন দেখা গেল

চাঁদের পাশে শুক্র গ্রহ কেন দেখা গেল

সিটি করপোরেশন থেকে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে বসাতে হবে সৌর প্যানেল

সিটি করপোরেশন থেকে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে বসাতে হবে সৌর প্যানেল

0 Comments