নানা কাজে ঢাকায় এসেছিলেন ফেনীর সুলতানুল উলুম আবেদীয়া মাদরাসার শিক্ষক বিএম শরিফুল ইসলাম। বায়তুল মোকাররমে মাসব্যাপী ইসলামি বইমেলা শুরু হয়েছে, খবরটি পেয়েই আর অপেক্ষা করেননি। ব্যস্ততার মধ্যেও সময় বের করে ছুটে আসেন মেলায়। এক স্টল থেকে আরেক স্টলে ঘুরে দেখেন পছন্দের বই, জানতে চান দাম। শেষ পর্যন্ত কয়েক হাজার টাকার বই কিনে ফেরেন তিনি।
শরিফুল ইসলামের মতো এমন অনেক পাঠকই সারা বছর অপেক্ষায় থাকেন বায়তুল মোকাররমের ইসলামি বইমেলার জন্য।
কারণ, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক ইসলামি বইয়ের সমাহার, নানা বিষয়ের বৈচিত্র্য আর বিশেষ ছাড়ের সুযোগ অন্য সাধারণ বইমেলায় সহজে মেলে না।
তবে পাঠকের আগ্রহ থাকলেও প্রকাশকদের আক্ষেপ, মেলার খবরটি সেভাবে পৌঁছাচ্ছে না সাধারণ মানুষের কাছে। তাদের মতে, প্রচার বাড়ানো গেলে আরও জমে উঠতে পারে দেশের অন্যতম বড় এই ইসলামি বইমেলা।
শনিবার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব ও দক্ষিণ চত্বরে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক ইসলামি বইমেলা। প্রথম দিন থেকেই মেলা ঘিরে পাঠক-ক্রেতাদের আনাগোনা দেখা গেছে। কেউ এক স্টল থেকে আরেক স্টলে ঘুরছেন, কেউ বইয়ের পাতা উল্টে দেখছেন, কেউ প্রকাশকের কাছে বইয়ের দাম জানতে চাইছেন। পছন্দ হলে সঙ্গে সঙ্গেই সংগ্রহ করে নিচ্ছেন।
মেলা প্রাঙ্গণে শুধু বই কেনাবেচার ব্যস্ততাই নয়, ছিল বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থাও। বিভিন্ন প্রবেশপথ ও মেলা এলাকায় নিরাপত্তাকর্মীদের তৎপরতা দেখা গেছে। পরিবার নিয়ে আসা পাঠক থেকে শুরু করে একা বই কিনতে আসা তরুণ থেকে সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে ধীরে ধীরে প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে মেলার পরিবেশ।
অনেকের হাতে দেখা গেছে একাধিক বইয়ের ব্যাগ। কেউ কোরআন-হাদিসের বই খুঁজছেন, কেউ সিরাত, কেউ ইসলামি ইতিহাস ও গবেষণার বই। শিশুদের জন্য বই খুঁজছেন অভিভাবকেরাও।
মেলায় ঘুরতে আসা সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান জাগো নিউজকে জানান, ইসলামি বইমেলা সম্পর্কে তিনি আগে থেকেই জানতেন। কারণ, রবিউল আউয়াল মাসে এ ধরনের মেলা হবে, এটা অনেক পাঠকেরই জানা থাকে।
প্রথম দিন মেলায় এসে বেশ কিছু বই পছন্দ হলেও সঙ্গে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় সেগুলো কিনতে পারেননি তিনি। তবে আবার আসবেন বলে জানিয়েছেন।
মিজানুর রহমানের কাছে এ মেলার বড় সুবিধা হলো, নির্দিষ্ট একটি ক্যাটাগরির বিপুল বই এক জায়গায় পাওয়া। সিরাতে রাসুল (সা.) থেকে ইসলামি মূল্যবোধ ও জীবনঘনিষ্ঠ নানা বিষয়ে বই রয়েছে। তার মতে, একজন পাঠক এখানে এলে অন্তত একটি বই তার পছন্দ হবেই। এমনকি কোনো কোনো বই একজন মানুষের জীবনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে মেলার শুরুর কয়েকদিনেও কিছু স্টল পুরোপুরি প্রস্তুত না থাকায় সেটিকে অসুবিধা হিসেবে দেখছেন তিনি। তার মতে, সব স্টল একসঙ্গে পুরোপুরি প্রস্তুত থাকলে আরও ভালো ছাড় কিংবা উপহারের সুযোগ পাওয়া যেত।
বায়তুল মোকাররমের ৪৫/৪৬ নম্বর স্টলের এমদাদিয়া লাইব্রেরির স্বত্বাধিকারী মো. দ্বীন ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, মেলায় কোরআন, হাদিস, ইসলামি সাহিত্য, আত্মিক পরিচর্যা, ইহকালীন ও পরকালীন শান্তি-মুক্তি, কোরআন-সুন্নাহর বিশ্লেষণ, তাফসিরসহ ইসলামি জ্ঞানচর্চার নানা বিষয়ের বই পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রতি বছর রবিউল আউয়াল উপলক্ষে বইমেলাটি শুরু হলেও এবার কিছুটা দেরিতে শুরু হয়েছে। তারপরও পাঠকদের উপস্থিতি নিয়ে তারা আশাবাদী।
তার হিসাবে, ভালো দিনে একটি স্টলে দৈনিক ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বই বিক্রি হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দৈনিক বিক্রি এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্তও পৌঁছায়।

মেলার আরেকটি বড় আকর্ষণ বিশেষ ছাড়। সন্ধান পাবলিকেশনের স্বত্বাধিকারী আব্দুল কাদের খান জাগো নিউজকে বলেন, সাধারণ বইয়ের দোকান বা স্টোরে যেখানে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন পাওয়া যায়, সেখানে মেলায় সর্বনিম্ন ৫০ শতাংশ এবং ক্ষেত্রবিশেষে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে।
ফলে সিরাত, কোরআন, হাদিস কিংবা ইসলামি জ্ঞানভিত্তিক বই কিনতে আগ্রহী পাঠকদের জন্য এ মেলা বাড়তি সুবিধা তৈরি করছে বলে মনে করছেন প্রকাশকেরা।
তবে মেলার বড় একটি সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে প্রচারের ঘাটতির বিষয়টি। সন্ধান পাবলিকেশনের স্বত্বাধিকারী আব্দুল কাদের খান বলেন, আগে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সময় মেলাটিও হতো। গত দুই-তিন বছর সেই সময়ের সঙ্গে মেলার আয়োজন না হওয়ায় অনেক মানুষ মেলার বিষয়ে জানতে পারছেন না।
তার মতে, স্টল ও বইয়ের প্রস্তুতি প্রকাশকদের পক্ষ থেকে আগেই সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন গণমাধ্যমে প্রচার। দেশের অন্যতম বড় ইসলামি বইমেলা হলেও সাধারণ মানুষের কাছে খবরটি পৌঁছানো না গেলে মেলার সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হবে না।
আয়োজক ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতি তার দাবি, শুধু মেলার আয়োজন করলেই হবে না; প্রতিদিন মেলার তথ্য, কর্মসূচি ও অন্যান্য বিষয় গণমাধ্যমের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
ফেনীর শিক্ষক বিএম শরিফুল ইসলামের কাছে মেলার আলাদা গুরুত্বের কারণও এই বইয়ের বৈচিত্র্য। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, সাধারণ বইমেলায় ইসলামি ক্যাটাগরির বই তুলনামূলক কম পাওয়া যায়। কিন্তু বায়তুল মোকাররমের এই মেলায় ইসলামি বইয়ের বিশাল সংগ্রহ রয়েছে।
কোরআন, হাদিস, সীরাতসহ ইসলামি জ্ঞানের নানা শাখার বই এক জায়গায় পাওয়ায় প্রতিবছরই তিনি এখানে আসেন।
মেলায় ঘুরে তার চোখে পড়েছে বিভিন্ন বিশেষ কর্নারও। ফিমেল কর্নার, শাপলা কর্নারসহ বিভিন্ন আয়োজন তার কাছে ভালো লেগেছে। সব মিলিয়ে মেলাটি ‘অসাধারণ’ লেগেছে বলে জানান তিনি।
ইসলামি সংগীতশিল্পী হারুনুর রশীদ মনে করেন, বইমেলার পাশাপাশি ইসলামি সাংস্কৃতিক আয়োজনও বাড়ানো প্রয়োজন।
বইমেলায় ঘুরতে এসে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, তরুণ সমাজের একটি অংশ নেশাসহ নানা নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় সরকারিভাবে ইসলামি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও জ্ঞানচর্চার আয়োজন বাড়ানো গেলে তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব।

বইমেলা থেকেও অনেক তরুণ বই কিনে পড়ছেন এবং নিজেদের জীবনকে ইসলামি মূল্যবোধের আলোকে সাজানোর চেষ্টা করছেন বলে মনে করেন তিনি। তাই এ ধরনের আয়োজন আরও বেশি হওয়া দরকার বলে তার মত।
মেলার প্রচারের পাশাপাশি এর সময় ও মেয়াদ বাড়ানোর দাবিও এসেছে পাঠক ও দর্শনার্থীদের কাছ থেকে।
হারুনুর রশীদ বলেন, এক মাসের পরিবর্তে মেলা আরও কিছুদিন চললে ভালো হয়। কারণ অনেকে শুরুতে মেলার খবর জানেন না, আবার কেউ কর্মব্যস্ততার কারণে শেষ দিকে এসে জানতে পারেন।
তার মতে, সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রচার বাড়ানো গেলে মেলায় আরও বেশি মানুষ আসবেন। এতে ক্রেতা যেমন উপকৃত হবেন, তেমনি প্রকাশক ও স্টল মালিকদের বিক্রিও বাড়বে।
বর্তমানে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকে। অফিসসহ বিভিন্ন পেশায় কর্মরত মানুষের কথা বিবেচনা করে সময় আরও আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা বাড়ানোরও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
এবারের মেলায় দেশি-বিদেশি মিলিয়ে মোট ২০৬টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। মেলা বাস্তবায়ন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, থাকছে ১৪৪টি স্টল। এসব স্টলে শতাধিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের বই প্রদর্শন ও বিক্রি হচ্ছে।
বাংলাদেশের পাশাপাশি মিসর, লেবানন, পাকিস্তান ও ভারত থেকে সাতটি আন্তর্জাতিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। ফলে বায়তুল মোকাররমের এ আয়োজন ইসলামি সাহিত্য ও প্রকাশনার বড় সমাবেশে পরিণত হয়েছে।
মেলায় কোরআনের অনুবাদ, তাফসির, হাদিস, সিরাত, ইসলামি দর্শন, ইতিহাস, গবেষণা ও ধর্মীয় সাহিত্যসহ নানা বিষয়ের বই রয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত গ্রন্থের অনুবাদের পাশাপাশি মৌলিক ও গবেষণাধর্মী বইও পাওয়া যাচ্ছে। শিশু-কিশোরদের জন্য রয়েছে ধর্মীয়, নৈতিক ও ইসলামি শিক্ষামূলক বই।
মাসব্যাপী এ আয়োজনে বই কেনাবেচার পাশাপাশি লেখক, পাঠক ও প্রকাশকদের অংশগ্রহণে ইসলামি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা হবে। নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচনেরও আয়োজন রয়েছে।
শিশুদের জন্য আলাদা শিশু চত্বর, গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য মিডিয়া কর্নার ও তথ্যকেন্দ্র এবং নারীদের জন্য পৃথক বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে এক জায়গায় বিপুলসংখ্যক ইসলামি বই দেখার ও সংগ্রহের সুযোগ পাবেন পাঠকেরা। এতে মেলায় বড় ধরনের জনসমাগম হবে।
শনিবার বিকেলে মেলার উদ্বোধন করেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে ইসলামি জ্ঞানচর্চা, পাঠাভ্যাস ও নৈতিক মূল্যবোধের প্রসারে এ মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সব বয়সী মানুষ যেন ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও মানবিক গুণে গড়ে ওঠে এবং মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ ও ইসলামের প্রকৃত বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছায়, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে মেলা সহায়ক হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ধর্মমন্ত্রী ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে কোরআন-হাদিস প্রচারের প্রকৃত কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কথাও বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাত, হজ ব্যবস্থাপনা এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতাসহ বিভিন্ন বিষয়েও কথা বলেন।

তিনি জানান, ২০২৬ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারী ৪ হাজার ৩৪১ জনের অব্যয়িত ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা সরাসরি ব্যাংক হিসাবে ফেরত দেওয়া হয়েছে। এ বছর হজের বিমানভাড়া ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এছাড়া ১৩ হাজার ৯৪৯ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও সেবাইতকে ভাতা দেওয়ার তথ্য তুলে ধরেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ এইচ এম কামরুজ্জামান ইসলামি জ্ঞানচর্চাকে গবেষণাভিত্তিক ও সময়োপযোগী করার আহ্বান জানান।
ডিজিটাল যুগে বিভ্রান্তি রোধে নির্ভরযোগ্য প্রকাশনা, ই-বুক ও ডিজিটাল আর্কাইভের মাধ্যমে বিশুদ্ধ জ্ঞান সহজলভ্য করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। শিশু-কিশোরদের উপযোগী নৈতিক মূল্যবোধভিত্তিক বই প্রকাশের জন্য লেখক ও প্রকাশকদের প্রতিও আহ্বান জানান।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকীর স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, ধর্ম মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
বায়তুল মোকাররমের চত্বরে এখন বইয়ের খোঁজে মানুষের আনাগোনা। কেউ কোরআন-হাদিসের বই খুঁজছেন, কেউ সিরাত, কেউ ইতিহাস-গবেষণা কিংবা ইসলামি সাহিত্য। কেউ শুধু দেখছেন, কেউ দাম জানতে চাইছেন, আবার পছন্দ হলেই ব্যাগে তুলে নিচ্ছেন বই।
মেলায় ঘুরতে আসা রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তোফায়েল আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, শিশুদের জন্য আলাদা চত্বর, নারীদের জন্য পৃথক বসার ব্যবস্থা, বিশেষ ছাড় এবং দেশি-বিদেশি প্রকাশকদের বিপুল সংগ্রহ; সব মিলিয়ে আয়োজনের পরিসরও বড়। তবু প্রকাশকদের চোখে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই, এই মেলার খবর কতটা মানুষের কাছে পৌঁছাবে।
তিনি বলেন, বইয়ের সংগ্রহ আছে, পাঠকের আগ্রহ আছে, ছাড়ও আছে। সারা বছর অপেক্ষা করে থাকা পাঠকেরাও মেলা শুরুর পর ছুটে আসছেন। এখন প্রচারটা বাড়ানো গেলে বায়তুল মোকাররমের এই মাসব্যাপী আয়োজন শুধু ইসলামি বই কেনাবেচার জায়গা নয়। পাঠাভ্যাস, জ্ঞানচর্চা, সংস্কৃতি ও নৈতিক মূল্যবোধের একটি বড় মিলনস্থলে পরিণত হতে পারে।
এমডিএএ/এমআইএইচএস/
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ভারতের তরুণ নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি শুক্রবার দেশজুড়ে নতুন করে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেছে। লাখ লাখ নাগরিকের ভোটাধিকার অন্যায়ভাবে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে—এমন ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যেই মুম্বাইতে হাজার হাজার মানুষ এই আন্দোলনে শামিল হয়েছেন বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।
পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গাজীপুরে শ্রমিক সমাবেশ করা হয়েছে। আগামী ১ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে সারা দেশে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা গেছেন। রাইজিংবিডিকে এ তথ্য জানিয়েছেন বিডিনিউজের লেখক ও সিনিয়র সাংবাদিক আমীন আল রশীদ।