জাতীয়

কিছু সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত চলছে: চিফ প্রসিকিউটর

D HASAN সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
কিছু সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত চলছে: চিফ প্রসিকিউটর
কিছু সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত চলছে: চিফ প্রসিকিউটর

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে কিছু সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে একটি তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো.আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে কতিপয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে একটা অভিযোগ আছে। কতিপয় সাংবাদিক তৎকালীন সরকারের সময় বিভিন্ন অপকর্মকে সহায়তা করেছে।’

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আজ বৃহস্পতিবার এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর এ কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শতাধিক ব্যক্তিকে গুম করে হত্যার ঘটনায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ মেজর (অব.) মো.সাব্বির রহমান ওসমানী ১৩তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে সাব্বির রহমান কী বলেছেন, তা গণমাধ্যমকে জানাতে চিফ প্রসিকিউটর এই ব্রিফিংয়ে আসেন।

জবানবন্দিতে সাংবাদিকদের প্রসঙ্গ টেনেছেন মেজর (অব.) সাব্বির রহমান ওসমানী। এ প্রসঙ্গে ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমাদের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে একটা ইনভেস্টিগেশন (তদন্ত) চলছে এবং পরবর্তীকালে আজকের এই সাক্ষীর সাক্ষ্য হয়তো সহায়ক হিসেবে কাজ করতে পারে।’

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিক গ্রেপ্তার আছেন। তাঁরা হলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত; একাত্তর টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ও উপস্থাপক ফারজানা রুপা।

এ মামলার বিষয়ে গত ১৭ আগস্ট প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে কয়েকজন সাংবাদিক প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন। যে বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকার’, ‘রাজাকারের বাচ্চা’, ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ বলেছিলেন।

এ ছাড়া রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে আসামি করা হয়েছে।

‘ট্রাইব্যুনালে কিছু বিতর্কিত সাংবাদিকের বিচার হওয়া উচিত’

গুম–খুনের ঘটনায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মামলার সাক্ষী মেজর (অব.) সাব্বির রহমান ওসমানী আজ জবানবন্দিতে বলেছেন, ২০১২ সালের মার্চ মাসে জিয়াউল আহসানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় সুন্দরবনের ভোলা নদী–সংলগ্ন মরা ভোলা এলাকায় একটি ত্রিমাত্রিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। সেই অভিযান পরিচালনার আগের রাতে র‍্যাব গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের একটি দল আগেই মরা ভোলার উদ্দেশে রওনা দেয়। অভিযানস্থল চিহ্নিত করে এলাকা ঘিরে ফেলার সময় বনের ভেতর থেকে ২ থেকে ৩টি গুলির শব্দ শোনা যায়। এই শব্দ শোনার সঙ্গে সঙ্গে জিয়াউল আহসানের নির্দেশে মূল আভিযানিক দল বন লক্ষ্য করে গুলি শুরু করে। প্রায় ৩০ মিনিট পর গুলি থামে। স্থানীয় থানা–পুলিশের মাধ্যমে বন তল্লাশি করে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অস্ত্র, গোলাবারুদ ও পাঁচটি মৃতদেহ উদ্ধার দেখানো হয়।

সাক্ষী মেজর (অব.) সাব্বির রহমান ওসমানী জবানবন্দিতে আরও বলেন, এই অভিযানে র‍্যাব সদর দপ্তরের তৎকালীন এডিজি (অপস) কর্নেল মুজিব, আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মোহাম্মদ সোহায়েল এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকেরা অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকেরা সোহায়েলের আমন্ত্রণে বরিশালে র‍্যাব-৮–এ এসে উপস্থিত হতেন।

সাংবাদিকদের বুলেট প্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে পৃথক ট্রলারে করে মূল আভিযানিক দলের একদম শেষের দিকে রাখা হতো উল্লেখ করে সাব্বির রহমান ওসমানী বলেন, ফায়ারিং শেষে তল্লাশি অভিযান পরিচালনার সময় জিয়াউল ও সোহায়েল সাংবাদিকদের নিয়ে ঘটনাস্থল ঘুরে দেখতেন।

জিয়াউলের তিনটি ‘এনকাউন্টার’ বা বন্দুকযুদ্ধ অভিযান দেখে সাব্বির রহমান ওসমানীর মনে হয়েছে সব সাজানো ছিল। তিনি এ বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, কারণ প্রতিটি অভিযান পরিচালনার আগেই র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার একটি দল অভিযানস্থলে চলে যেত। বনের ভেতর থেকে বনদস্যুদের গুলি এলে সেটি আসার কথা একনলা বা দোনলা বন্দুক থেকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অটোমেটিক (স্বয়ংক্রিয়) অস্ত্র দিয়ে গুলির শব্দ পেয়েছেন তিনি। এ ধরনের অস্ত্র কোনো অবস্থাতেই দস্যু বাহিনীর কাছে ছিল না। ঘটনার সময় ধারণকৃত বিভিন্ন সাংবাদিকের আলোকচিত্র ও ভিডিও ফুটেজ (নিশানখালী, কটকা ও মরা ভোলা) দেখার পর তাঁর মনে হয়েছে, মূল আভিযানিক দল যখন অভিযানস্থলে গোলাগুলিতে ব্যস্ত তখন র‍্যাব সদর দপ্তর থেকে আসা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও তাঁদের সঙ্গের সদস্যরা কোনো ধরনের অস্ত্র, বুলেট প্রুফ জ্যাকেট, বুলেট প্রুফ হেলমেট ছাড়াই চলাফেরা করতেন; যা ‘স্টেইজড অপারেশন’ (সাজানো অভিযান)। কোনোভাবেই নিরাপত্তার ঝুঁকিকে ছাড় দিয়ে অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব নয়।

এই সাক্ষীর জবানবন্দির পরই চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে ব্রিফিং করেন। সাক্ষী মেজর (অব.) সাব্বির রহমান ওসমানীর জবানবন্দির এই অংশকে ইঙ্গিত করে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, এখানে সাংবাদিকদেরও একধরনের ভূমিকার কথা সাক্ষী বলেছেন। সাংবাদিকদের নিয়ে যাওয়া হতো। পরে সোহায়েল তাদের ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই ঘটনাগুলো দেখাতেন। সাংবাদিকেরা কি প্রত্যক্ষভাবে এ ধরনের কাজগুলোর বয়ান তৈরিতে সহায়তা করেছে?

এর জবাবে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, র‍্যাবের গণমাধ্যম শাখার প্রধান ছিলেন সোহায়েল। তিনি পছন্দের কিছু সাংবাদিককে বা সংবাদমাধ্যমকে আমন্ত্রণ করতেন। তাঁদের নিয়ে অভিযানস্থল পর্যন্ত যেতেন। সাংবাদিকদের লাইফ জ্যাকেট দিতেন। সাংবাদিকদের যেভাবে ব্রিফ করা হতো, সেভাবে তাঁরা বা সেই গণমাধ্যমগুলো প্রচার করতেন। এই কর্মকাণ্ডের পেছনে তৎকালীন সময়ের কিছু বিতর্কিত গণমাধ্যম অথবা কিছু বিতর্কিত সাংবাদিক; যাঁরা এই কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করেছেন, অ্যাবেটমেন্ট (সহায়তা) করেছেন, তাঁরাও কিন্তু সমভাবে অপরাধী। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাঁদেরও বিচার হওয়া উচিত। এটাও মানবতাবিরোধী অপরাধ।

আরেক প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই সাক্ষী কোনো গণমাধ্যমের নাম উল্লেখ করেননি। কোনো সাংবাদিকের নাম উল্লেখ করেননি। তবে তৎকালীন সময়ে যেসব সাংবাদিক অথবা যাঁরা অভিযানস্থল পর্যন্ত গিয়েছেন, তাঁদের ফুটেজ সাংবাদিকদের কাছে আছে। সাংবাদিকদের কাছ থেকেই এই ফুটেজ সংগ্রহ করে পরবর্তী তদন্তে সহায়তা পাওয়া যাবে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

পোশাকের ট্যাবু ভেঙে ‘সংস্কৃতির সমতার’ বার্তায় যবিপ্রবিতে ‘লুঙ্গি প্যারেড’

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।

জাতীয়

View more
কালিয়াকৈরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, বিজিবি সদস্য ও সাংবাদিকসহ আহত ৩০
কালিয়াকৈরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, বিজিবি সদস্য ও সাংবাদিকসহ আহত ৩০

ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভ একপর্যায়ে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ভাঙচুরে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য, সাংবাদিক ও বিএনপির নেতা-কর্মীসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

D HASAN নভেম্বর ২, ২০২৬ 0
ডিএসসিসিতে ই-রিকশার নিবন্ধন শুরু

ডিএসসিসিতে ই-রিকশার নিবন্ধন শুরু

সরেজমিন সাভার-আশুলিয়া: শ্রমিক আন্দোলনে দিনভর যা যা ঘটল

সরেজমিন সাভার-আশুলিয়া: শ্রমিক আন্দোলনে দিনভর যা যা ঘটল

অভিনয়শিল্পীদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও: ক্ষুব্ধ অভিনেত্রী রেশমা, ভীত মিঠু

অভিনয়শিল্পীদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও: ক্ষুব্ধ অভিনেত্রী রেশমা, ভীত মিঠু

গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে হামলা-ভাঙচুর, ৩ মামলায় আসামি ৪ হাজার
গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে হামলা-ভাঙচুর, ৩ মামলায় আসামি ৪ হাজার

ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মাসিক মজুরির দাবিতে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে চলমান শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক তিনটি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় প্রায় ৪ হাজার মানুষকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকে দুটি এবং গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

D HASAN নভেম্বর ২, ২০২৬ 0
পদ্মায় ধরা পড়া ২ কাতল ও ১ বাঘাইড় ১ লাখ ৬০ হাজারে বিক্রি

পদ্মায় ধরা পড়া ২ কাতল ও ১ বাঘাইড় ১ লাখ ৬০ হাজারে বিক্রি

রজনীকান্তের দাপট: ১৮ দিনে আয় ১ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে

রজনীকান্তের দাপট: ১৮ দিনে আয় ১ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে

২২৩ টাকা বেড়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২০৬০ টাকা 

২২৩ টাকা বেড়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২০৬০ টাকা 

0 Comments