জাতীয়

রাবির প্লাজমা প্রযুক্তিতে ধান-আলু-বেগুনে জিংক বাড়েছে ৫৯-২০৪ শতাংশ

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
রাবির প্লাজমা প্রযুক্তিতে ধান-আলু-বেগুনে জিংক বাড়েছে ৫৯-২০৪ শতাংশ
রাবির প্লাজমা প্রযুক্তিতে ধান-আলু-বেগুনে জিংক বাড়েছে ৫৯-২০৪ শতাংশ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গবেষণায় প্লাজমা প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ধান, গম, আলু, বেগুন ও পালংশাকসহ বিভিন্ন ফসলের বীজের অঙ্কুরোদ্গম হার ও উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদন সময় কমানো এবং রোগবালাই দমনে সাফল্য পাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। একই সঙ্গে প্লাজমা প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে ফসলে প্রয়োজনীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ক্ষুদ্র পুষ্টি উপাদানের পরিমাণও বাড়ানো সম্ভব হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের প্লাজমা সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ল্যাবের গবেষণায় এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

গবেষকদের দাবি, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পুষ্টিঘাটতিজনিত ‘লুকানো ক্ষুধা’ মোকাবিলায় এ প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

‘গবেষণার ফলাফল কৃষক পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে পারলেই এটি সার্থক হবে। ল্যাবরেটরিতে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা প্রমাণের পর এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন মাঠপর্যায়ে এর প্রয়োগ এবং কৃষকদের কাছে প্রযুক্তিটি সহজলভ্য করা।’

পদার্থ সাধারণত কঠিন, তরল ও গ্যাসীয়- এই তিন অবস্থায় থাকে। প্লাজমাকে পদার্থের চতুর্থ অবস্থা বলা হয়। এ অবস্থায় সাধারণত প্রায় সমানসংখ্যক ধনাত্মক চার্জযুক্ত আয়ন ও ঋণাত্মক চার্জযুক্ত ইলেকট্রন থাকে। শিল্প, চিকিৎসা ও বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে কৃষি ক্ষেত্রেও প্লাজমা প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। বীজ ও শস্যে প্লাজমা প্রয়োগের মাধ্যমে অঙ্কুরোদ্গম বৃদ্ধি, গাছের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, ফলন বাড়ানো এবং রোগজীবাণু নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন দেশে গবেষণা চলছে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ প্রযুক্তির সম্ভাবনা আরও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন গবেষকরা। দেশের অধিকাংশ মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যে শরীরের প্রয়োজনীয় সব ধরনের পুষ্টি পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে না। ফলে খাদ্য গ্রহণের পরও প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি থেকে যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এ ধরনের পুষ্টিঘাটতি ‘লুকানো ক্ষুধা’ বা হিডেন হাঙ্গারের সৃষ্টি করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা ও অপুষ্টির কারণে নারী ও শিশুরা তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

আরও পড়ুন

সঙ্গী হারালে একাকী জীবন, বংশবৃদ্ধি থমকে হারিয়ে যাচ্ছে শকুন

গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স (জিএইচআই) ২০২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের জনসংখ্যার ১১ দশমিক ৯ শতাংশ অপুষ্টির শিকার। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ১১ শতাংশ মৃত্যুঝুঁকিতে রয়েছে এবং ২৩ দশমিক ৬ শতাংশ শিশুর শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি বয়সের তুলনায় যথেষ্ট কম। ফলে শুধু খাদ্যের পরিমাণ বাড়ানো নয়, উৎপাদিত খাদ্যের পুষ্টিমান নিশ্চিত করাও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কৃষি উৎপাদনের পাশাপাশি খাদ্যে প্রয়োজনীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বাড়ানোর প্রযুক্তি নিয়ে রাবির গবেষকদের গবেষণা নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছে।

‘এ টেকনোলজি কৃষক পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে যে বাজেট প্রয়োজন, তা আমরা পাচ্ছি না। হিট প্রজেক্ট নিয়ে আমরা আশাবাদী ছিলাম, যদিও আমরা তা পাইনি। যদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, ইউজিসি অথবা সরকার আমার প্রস্তাবিত প্রযুক্তি কৃষক পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে যে ধরনের সরঞ্জাম ও বাজেট প্রয়োজন, তা অনুমোদন করেন, তাহলে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে খাদ্যনিরাপত্তা এবং পুষ্টির মান উন্নয়নে এ প্রযুক্তি একটি টেকসই সমাধান হতে পারে।’

রাবির ইইই বিভাগের প্লাজমা সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ল্যাবের গবেষণায় শস্যে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ক্ষুদ্র পুষ্টি উপাদান যোগ করার একটি পদ্ধতি নিয়ে কাজ করা হয়েছে। ‘প্লাজমা প্রক্রিয়াকরণ’ বা ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে বীজ ও শস্যকে নির্দিষ্ট ধরনের প্লাজমা এবং মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের সংস্পর্শে আনা হয়।

গবেষকদের মতে, এ প্রক্রিয়ায় শস্যের মধ্যে প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানের পরিমাণ বৃদ্ধি করার পাশাপাশি বীজের অঙ্কুরোদ্গম ও ফসলের উৎপাদনও বাড়ানো সম্ভব।

এ গবেষণায় গবেষক হিসেবে ছিলেন রাবির ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেসের পিএইচডি গবেষক মো. মামুনুর রশিদ। গবেষণার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মামুনুর রশিদ তালুকদার। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্লাজমা সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ল্যাবে কৃষি ক্ষেত্রে প্লাজমা প্রযুক্তির প্রয়োগ নিয়ে গবেষণা করা হচ্ছে।

‘একক তত্ত্বাবধানে ল্যাব থেকে প্লাজমা টেকনোলজি কৃষি গবেষণায় প্রয়োগের প্রথম সফলতা আসে ২০১৫ সালে। এবার প্রথমবারের মতো খাদ্যে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ফোর্টিফিকেশনে প্লাজমার প্রয়োগ ও ফসলের উৎপাদন বাড়ানো নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে। মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ফোর্টিফিকেশনে প্লাজমা প্রয়োগের ফলে ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি নিউট্রিয়েন্টের পরিমাণও বেড়েছে।’

গবেষণায় দেখা গেছে, প্লাজমা প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে ধানে স্বাভাবিকের তুলনায় জিংকের পরিমাণ ৫৯ শতাংশ বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে। একইভাবে আলুতে জিংকের পরিমাণ ২০৪ শতাংশ এবং বেগুনে ৮৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। অর্থাৎ প্লাজমা প্রযুক্তি শুধু ফসলের উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রেই নয়, উৎপাদিত খাদ্যের পুষ্টিমান উন্নত করার ক্ষেত্রেও কার্যকর হতে পারে বলে গবেষণায় প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এ প্রযুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য পাওয়া গেছে বীজের অঙ্কুরোদ্গমের ক্ষেত্রে। গবেষণায় দেখা যায়, প্রচলিত পদ্ধতিতে ধান বীজের অঙ্কুরোদ্গমের হার যেখানে ৭৫ শতাংশ, সেখানে প্লাজমা প্রযুক্তি প্রয়োগের পর তা বেড়ে ৯৬ শতাংশ হয়েছে। অর্থাৎ অঙ্কুরোদ্গমের হার ২১ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। গমের ক্ষেত্রে প্রচলিত ৭৫ শতাংশ থেকে অঙ্কুরোদ্গমের হার বেড়ে ৯৫ শতাংশ হয়েছে। বেগুনের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮০ শতাংশ এবং পালংশাকের ক্ষেত্রে ৭০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯২ শতাংশ পর্যন্ত হয়েছে।

গবেষকদের মতে, বীজের অঙ্কুরোদ্গমের হার বাড়ার ফলে একই পরিমাণ জমিতে চাষের জন্য তুলনামূলকভাবে কম বীজ প্রয়োজন হতে পারে। পাশাপাশি দ্রুত ও সমানভাবে বীজের অঙ্কুরোদ্গম হলে ফসলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়। এর ফলে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি ফসল উৎপাদনে সময়ও কমানো সম্ভব। গবেষণায় প্লাজমা প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন সময় প্রায় ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর সম্ভাবনা পাওয়া গেছে। ধানের ক্ষেত্রে উৎপাদন সময় প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত কমতে পারে বলে গবেষকরা জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন

ম্যানগ্রোভ বন ঘেঁষে রেস্তোরাঁ নির্মাণ, হুমকিতে গঙ্গামতির জীববৈচিত্র্য

বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদনে এ প্রযুক্তির সম্ভাব্য প্রভাব বোঝাতে গবেষণায় বীজের প্রয়োজনীয়তা ও উৎপাদনের তুলনামূলক হিসাবও করা হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২১ সালের তথ্যের ভিত্তিতে গবেষকদের হিসাবে, প্রচলিত পদ্ধতিতে দেশে ধান বীজের প্রয়োজন হয় প্রায় ২ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ টন। প্লাজমা প্রযুক্তি প্রয়োগ করে অঙ্কুরোদ্গমের হার বাড়ানো গেলে প্রয়োজনীয় বীজের পরিমাণ কমে প্রায় ২ লাখ ৪১ হাজার ৫০০ টনে নেমে আসতে পারে। অর্থাৎ প্রায় ৪৬ হাজার টন ধান বীজ সাশ্রয় করা সম্ভব হতে পারে।

একইভাবে গমের ক্ষেত্রে প্রচলিত পদ্ধতিতে যেখানে প্রায় ১ লাখ টন বীজ প্রয়োজন হয়, প্লাজমা প্রযুক্তি প্রয়োগের ফলে তা কমে প্রায় ৮৫ হাজার টনে নামতে পারে। বেগুনের ক্ষেত্রে প্রচলিত ২৫ হাজার কেজি বীজের পরিবর্তে প্রায় ২২ হাজার কেজি বীজ প্রয়োজন হতে পারে। ফলে বীজের ব্যবহার কমানোর মাধ্যমে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানোরও সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

শুধু বীজ সাশ্রয় নয়, ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও প্রযুক্তিটির সম্ভাবনা রয়েছে। গবেষকদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২১ সালের তথ্যের ভিত্তিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে ১১৫ লাখ হেক্টর জমিতে ধানের উৎপাদন ছিল ৩৭ লাখ ৬০ হাজার ৮০০ টন। প্লাজমা প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে একই ধরনের উৎপাদন ব্যবস্থায় তা বেড়ে প্রায় ৪৩ লাখ ৮৭ হাজার ৮০০ টনে উন্নীত করার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ৬ লাখ ২৭ হাজার টন ধান উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হতে পারে।

গবেষণার হিসাবে গম উৎপাদনের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। প্রচলিত পদ্ধতিতে যেখানে গমের উৎপাদন প্রায় ১০ লাখ ৯৯ হাজার টন, প্লাজমা প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে তা প্রায় ১২ লাখ ৩৪ হাজার টনে উন্নীত করা সম্ভব হতে পারে। বেগুনের উৎপাদন ৫ লাখ ৭ হাজার টন থেকে বেড়ে প্রায় ৬ লাখ ১৮ হাজার টন, পালংশাকের উৎপাদন ৫৮ হাজার টন থেকে বেড়ে প্রায় ৮৯ হাজার টন এবং আলুর উৎপাদন ৯৮ লাখ ৮৭ হাজার টন থেকে বেড়ে প্রায় ১ কোটি ১২ লাখ ৮৭ হাজার টনে উন্নীত করার সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে গবেষণায়।

গবেষকরা বলছেন, ধান, গম, আলু, বেগুন ও পালংশাকের পাশাপাশি ভুট্টা এবং অন্যান্য সবজিতেও প্লাজমা প্রযুক্তি প্রয়োগ করা যেতে পারে। বিশেষ করে বীজ ট্রিটমেন্ট এবং প্লাজমা-সক্রিয় পানি ব্যবহারের মাধ্যমে ফসলের বৃদ্ধি ও উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। এ ছাড়া বিভিন্ন রোগজীবাণু ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণেও প্লাজমার কার্যকারিতা পাওয়া গেছে। ফলে কৃষিতে রাসায়নিক ব্যবহারের ওপর নির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রেও ভবিষ্যতে প্রযুক্তিটি ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করছেন গবেষকরা।

এ বিষয়ে গবেষক মো. মামুনুর রশিদ বলেন, গবেষণাগারে কৃষি ক্ষেত্রে প্লাজমা টেকনোলজি প্রয়োগের জন্য বিভিন্ন ধরনের প্লাজমা সোর্স যেমন গ্লাইডিং আর্ক ডিসচার্জ প্লাজমা, ডাইইলেকট্রিক ব্যারিয়ার ডিসচার্জ প্লাজমা ও গ্লো ডিসচার্জ প্লাজমা তৈরি করা হয়। এসব সোর্স ব্যবহার করে শস্যের বীজ ট্রিটমেন্ট ও প্লাজমা-সক্রিয় পানি প্রয়োগের মাধ্যমে বীজের অঙ্কুরোদ্গম হার, ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি, উৎপাদন সময় হ্রাস এবং রোগবালাই দমন করা গেছে।

তিনি আরও বলেন, ধান, গমসহ বিভিন্ন ফসলের বীজে প্লাজমা ট্রিটমেন্টের ফলে অঙ্কুরোদ্গমের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ফলে কম বীজ ব্যবহার করে অধিক উৎপাদন পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে উৎপাদন সময়ও কমানো সম্ভব হয়েছে।

এদিকে রাবির গবেষকদের এ গবেষণার ফলাফল ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক গবেষণা জার্নাল, জার্নাল অব প্ল্যান্ট গ্রোথ রেগুলেশন (স্প্রিঙ্গার), হেলিয়ন (এলসেভিয়ার), প্লাজমা মেডিসিনে প্রকাশিত হয়েছে। ফলে কৃষিতে প্লাজমা প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে রাবির গবেষণার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিরও সুযোগ তৈরি হয়েছে। গবেষকদের আশা, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, সরঞ্জাম ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা পাওয়া গেলে ল্যাব পর্যায়ের এ প্রযুক্তিকে মাঠপর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

প্লাজমা প্রযুক্তির কৃষি ক্ষেত্রে প্রয়োগের গবেষণার ধারাবাহিকতা সম্পর্কে অধ্যাপক ড. মো. মামুনুর রশিদ তালুকদার বলেন, একক তত্ত্বাবধানে ল্যাব থেকে প্লাজমা টেকনোলজি কৃষি গবেষণায় প্রয়োগের প্রথম সফলতা আসে ২০১৫ সালে। এবার প্রথমবারের মতো খাদ্যে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ফোর্টিফিকেশনে প্লাজমার প্রয়োগ ও ফসলের উৎপাদন বাড়ানো নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে। মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ফোর্টিফিকেশনে প্লাজমা প্রয়োগের ফলে ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি নিউট্রিয়েন্টের পরিমাণও বেড়েছে।

তিনি বলেন, গবেষণার ফলাফল কৃষক পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে পারলেই এটি সার্থক হবে। ল্যাবরেটরিতে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা প্রমাণের পর এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন মাঠপর্যায়ে এর প্রয়োগ এবং কৃষকদের কাছে প্রযুক্তিটি সহজলভ্য করা।

আরও পড়ুন

বিদেশি বিনিয়োগের কারখানায় শুল্ক জটিলতা, উৎপাদন বন্ধ ১৬ মাস

তবে প্রযুক্তিটি কৃষক পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে প্রয়োজনীয় অর্থ ও সরঞ্জাম না পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অধ্যাপক তালুকদার।

তিনি বলেন, এ টেকনোলজি কৃষক পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে যে বাজেট প্রয়োজন, তা আমরা পাচ্ছি না। হিট প্রজেক্ট নিয়ে আমরা আশাবাদী ছিলাম, যদিও আমরা তা পাইনি। যদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, ইউজিসি অথবা সরকার আমার প্রস্তাবিত প্রযুক্তি কৃষক পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে যে ধরনের সরঞ্জাম ও বাজেট প্রয়োজন, তা অনুমোদন করেন, তাহলে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে খাদ্যনিরাপত্তা এবং পুষ্টির মান উন্নয়নে এ প্রযুক্তি একটি টেকসই সমাধান হতে পারে।

তার দাবি, কৃষিতে প্লাজমা প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করা গেলে একদিকে যেমন ফসলের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে, অন্যদিকে খাদ্যে জিংকসহ প্রয়োজনীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের পরিমাণ বৃদ্ধির মাধ্যমে মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে পুষ্টিঘাটতি ও ‘লুকানো ক্ষুধা’ মোকাবিলায় উৎপাদনের পাশাপাশি খাদ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ প্রযুক্তি বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে বলে জানান এ অধ্যাপক।

এনএইচআর/এএসএম

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
দিনু বিল্লাহকে স্মরণ: আলোচনায় গণসংগীতের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ
দিনু বিল্লাহকে স্মরণ: আলোচনায় গণসংগীতের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ

গণসংগীতের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের নানা তথ্য সংরক্ষণ করে গেছেন মুক্তিযোদ্ধা, লেখক ও গবেষক দিনু বিল্লাহ। তাঁর লেখা গণসংগীতের ইতিহাসবিষয়ক গ্রন্থ ‘মিলিত প্রাণের কলরব’ নিয়ে আলোচনা ও তাঁকে স্মরণ করে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি স্মরণ অনুষ্ঠান। আলোচনায় বক্তারা বলেন, বইটি শুধু গণসংগীতের ইতিহাস নয়, একটি সময়ের সাংস্কৃতিক আন্দোলন ও মানুষের অংশগ্রহণেরও গুরুত্বপূর্ণ দলিল।শুক্রবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে ঢাকা থিয়েটার ও অনন্যা প্রকাশনীর যৌথ আয়োজনে এ স্মরণ অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অনন্যা প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী মনিরুল হক। আলোচনায় অংশ নেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মফিদুল হক, নাট্যকার ও নির্দেশক মামুনুর রশীদ, গণসংগীত–গবেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সাইম রানা এবং দিনু বিল্লাহর জীবনসঙ্গী মাহবুবা খানম। সঞ্চালনা করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ।নাট্যকার ও নির্দেশক মামুনুর রশীদ বলেন, ‘মিলিত প্রাণের কলরব শুধু গণসংগীতের ইতিহাস নয়, একটি সময়ের সাংস্কৃতিক পরিবেশেরও গুরুত্বপূর্ণ দলিল। কোন গান কখন, কোথায় ও কীভাবে তৈরি ও পরিবেশিত হয়েছে, তার পাশাপাশি দিনু নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও যুক্ত করেছেন। ফলে হারিয়ে যাওয়া অনেক শিল্পী, সুরকার ও গানের তথ্য বইটিতে উঠে এসেছে।’নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে মামুনুর রশীদ বলেন, ‘দিনু বিল্লাহকে আর ফিরে পাওয়া যাবে না, অনেককেই পাওয়া যাবে না। তবে সেই সময় ও সাংস্কৃতিক চর্চায় ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখা দরকার। এ বইকে কেন্দ্র করে নতুন প্রজন্মের জন্য আরও গবেষণার সুযোগ রয়েছে। সেই গবেষণার মধ্য দিয়ে তৎকালীন মূল্যবোধ, সাংস্কৃতিক আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।’দিনু বিল্লাহকে স্মরণ করে মফিদুল হক বলেন, ষাটের দশকের দ্বিতীয়ার্ধে যে সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে উঠেছিল, দিনু বিল্লাহ তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন। তাঁর কথায়, ‘দিনু ছিলেন স্নিগ্ধ ব্যক্তিত্বের মানুষ। হাসিখুশি, সদালাপী দিনু খুব সহজেই মানুষের সঙ্গে মিশে যেতে পারতেন। দিনু ছিলেন সংগীত অন্তপ্রাণ। একুশে ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পৃক্ততা ছিল। অনেক গুণী মানুষের সান্নিধ্যে বেড়ে ওঠার ফলে তাঁর অভিজ্ঞতার পরিসরও ছিল বিস্তৃত। সেই সময়ের সাংস্কৃতিক পরিবেশ ও মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক দিনুর জীবন ও লেখায় নানাভাবে ছাপ ফেলেছে।’দিনু বিল্লাহর স্ত্রী মাহবুবা খানম যখন কথা বলছিলেন, তখন চারপাশে শোকের আবহ তৈরি হয়। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি স্মরণ করেন স্বামীর সঙ্গে কাটানো নানা সময়ের কথা। তিনি বলেন, ‘শিশু থেকে বৃদ্ধ—যেকোনো বয়সের মানুষের সঙ্গে সহজেই মিশে যেতে পারতেন দিনু।’ মুক্তিযুদ্ধ দিনু বিল্লাহর অন্যতম চিন্তার কেন্দ্র ছিল উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের কথা পৌঁছে দেওয়ার তাগিদ তাঁর মধ্যে গভীরভাবে গেঁথে ছিল।পরিবারের অন্যান্য সদস্যের মধ্যে এদিন আরও উপস্থিত ছিলেন দিনু বিল্লাহর বোন, অভিনেত্রী ও সংগীতশিল্পী শিমূল ইউসুফ। ভাইয়ের সঙ্গে স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, ‘আমার জন্য মিষ্টি (দিনু বিল্লাহকে এ নামেই ডাকতেন শিমূল) যা করেছে, এই জীবনে সেই ঋণ আমি শোধ করতে পারব না। ছোটবেলায় তাঁর সাইকেলে চড়ে ছায়ানট, টেলিভিশন সেন্টার, রেডিওসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যেতাম। তাঁর হাত ধরেই বহু গুণী মানুষের সান্নিধ্যে আসার সুযোগ হয়েছিল আমার।’২০২৩ সালের ২৩ আগস্ট কানাডায় মৃত্যু হয় দিনু বিল্লাহর। মৃত্যুর আগে দেহদান করে যান তিনি। ভাইয়ের এ দেহদান প্রসঙ্গে শিমূল ইউসুফ বলেন, ‘আমার ভাইয়ের শরীরের বিভিন্ন অংশ নিয়ে যারা হাঁটছেন, তাদের সঙ্গে একটু বুক মেলাতে ইচ্ছা করে। আমার ভাই তো তাদের অংশ হয়ে আছে।’গণসংগীত–গবেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সাইম রানা গণসংগীতের বিকাশ ও ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় দিনু বিল্লাহর গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর গবেষণাকর্ম গণসংগীতের বিভিন্ন পর্যায়, গান ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে আলোচনায় উঠে আসে।দিনু বিল্লাহ ঢাকা থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন। নাট্যচর্চার পাশাপাশি তিনি লেখালেখি ও গবেষণায় যুক্ত ছিলেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘কাকা বাবুর টয় হাউজ’, ‘টয় হাউজ থেকে ১৯৭১: মৃত্যু ছায়াসঙ্গী’। এ ছাড়া শহীদ আলতাফ মাহমুদকে নিয়ে তিনি লিখেছেন ‘সুরের বরপুত্র’।আলোচনা শেষে অনুষ্ঠানে গণসংগীত পরিবেশন করে ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী।

News সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ 0
সার্ককে সক্রিয় করতে ভুটানের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ

সার্ককে সক্রিয় করতে ভুটানের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ

সৌদি-হুতি সংঘাত বাড়ছে, জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি

সৌদি-হুতি সংঘাত বাড়ছে, জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করায় ৬৪ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করায় ৬৪ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি

রাতে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার কথা জানিয়েছিলেন মাকে, সকালে খাটের নিচে মিলল লাশ
রাতে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার কথা জানিয়েছিলেন মাকে, সকালে খাটের নিচে মিলল লাশ

রাজধানীর কদমতলীতে একটি বাসা থেকে ইয়ানূর বেগম (২৫) নামের এক নারীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে তালাবদ্ধ কক্ষের খাটের নিচ থেকে তাঁর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকেই ইয়ানূরের স্বামী জুয়েল পলাতক।নিহত ইয়ানূর পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গোয়াবাড়িয়া গ্রামের হানিফ হাওলাদারের মেয়ে। তিনি কদমতলীর ৬১ নম্বর ওয়ার্ডের একটি পাঁচতলা ভবনের ফ্ল্যাটে সাবলেট হিসেবে স্বামীর সঙ্গে থাকতেন।পরিবারের বরাত দিয়ে কদমতলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুন নাহার জানান, প্রায় তিন মাস আগে নিজেদের পছন্দে পালিয়ে বিয়ে করেন জুয়েল ও ইয়ানূর। জুয়েল পেশায় বাসের সুপারভাইজার। বিয়ের পর থেকেই তাঁদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। বৃহস্পতিবার রাতেও দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। বিষয়টি রাতেই মুঠোফোনে নিজের মাকে জানিয়েছিলেন ইয়ানূর।শুক্রবার সকালে ইয়ানূরকে একাধিকবার ফোন দিয়েও না পেয়ে তাঁর বাসায় যান ছোট ভাই ইমাম হোসেন। সেখানে গিয়ে তিনি কক্ষটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। একপর্যায়ে সন্দেহ হলে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মেঝেতে রক্তের দাগ দেখতে পান তিনি। পরে খোঁজাখুঁজির পর খাটের নিচে বোনের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।কামরুন নাহার বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে ইয়ানূরকে হত্যা করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিকেলে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ইয়ানূরের আগে বিয়ে হয়েছিল। আগের স্বামীর সঙ্গে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ হয়। ওই সংসারে তাঁর পাঁচ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। ছেলেটি নানা-নানির কাছে থাকে।

News সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ 0
সফটওয়্যার প্রকৌশলীদের চাকরির বাজারে এআইয়ের প্রভাব, নতুন গন্তব্য সেমিকন্ডাক্টর শিল্প

সফটওয়্যার প্রকৌশলীদের চাকরির বাজারে এআইয়ের প্রভাব, নতুন গন্তব্য সেমিকন্ডাক্টর শিল্প

শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেন গুরুতর অসুস্থ

শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেন গুরুতর অসুস্থ

মেট্রোরেল প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি, বিকল্প পরিবহন উপেক্ষিত: আইপিডি

মেট্রোরেল প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি, বিকল্প পরিবহন উপেক্ষিত: আইপিডি

বলিভিয়ার জঙ্গলে নতুন প্রজাতির বন্য বিড়াল, জীবিত সদস্য একটিই
বলিভিয়ার জঙ্গলে নতুন প্রজাতির বন্য বিড়াল, জীবিত সদস্য একটিই

লাতিন আমেরিকার দেশ বলিভিয়ার জঙ্গলে একটি বাচ্চা বিড়াল খুঁজে পেয়েছিলেন স্থানীয় এক বাসিন্দা। শরীরে ছোপ ছোপ দাগ। আকৃতি পোষা বিড়ালের মতোই। ওই ব্যক্তি ভেবেছিলেন, এটি হয়তো পোষা বিড়াল। কিন্তু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি বুঝতে পারেন, এটির আচরণ বাসাবাড়ির সাধারণ বিড়ালের মতো নয়। পরে সেটির স্থান হয় প্রাণীদের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে। ওই আশ্রয়কেন্দ্রে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ছিলেন বলিভিয়ার বিজ্ঞানী নোগালেস-আসারুনস। তাঁর চোখে পড়ে বিড়ালটি। বুঝতে পারেন, এটি একটি বন্য বিড়াল। শুরু করেন সেটি নিয়ে পরীক্ষা। যোগ দেন অন্য গবেষকেরাও। শেষ পর্যন্ত দেখা যায়, এটি নতুন এক প্রজাতির বন্য বিড়াল। আর আশ্রয়কেন্দ্রে ওই বিড়ালের বাইরে এ প্রজাতির অন্য কোনো বিড়াল কখনো দেখা যায়নি।বিড়ালটি নিয়ে গবেষণা গত বৃহস্পতিবার বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী কারেন্ট বায়োলজিতে প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞানী নোগালেস এই গবেষণাপত্রের একজন সহলেখক। গবেষণাপত্রে বন্য বিড়ালের নতুন প্রজাতিটির বৈজ্ঞানিক নাম উল্লেখ করা হয়েছে লেপার্ডাস টিলকায়ো। আর বন্য বিড়ালটিকে ডাকা হচ্ছে ‘টাইগ্রিনো’ নামে। সেটির বয়স ১০ বছর। এখন সেটি লম্বায় ১৮ ইঞ্চি, ওজন প্রায় দেড় কেজি।গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, বলিভিয়ার ইউঙ্গাস অঞ্চল থেকে বন্য বিড়ালটি উদ্ধার করা হয়। এটি ঘন বনে ঢাকা একটি পাহাড়ি অঞ্চল। এই বনভূমি মেঘে ঢাকা থাকে এবং বাতাসের আর্দ্রতা বেশি থাকে। বিজ্ঞানী নোগালেস বলেন, বন্য বিড়ালের এই প্রজাতি রাতে বেশি সক্রিয় থাকে বলে মনে হচ্ছে। আর বিড়ালটির মল থেকে ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর দেহাবশেষ পাওয়া গেছে। সেগুলো হয়তো এটির খাবার।বন্য বিড়াল ও পোষা বিড়াল—দুটোই ফেলিডাই নামের জৈবিক পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। এই পরিবারে রয়েছে বাঘ, সিংহ, চিতা থেকে শুরু করে সব ধরনের বিড়ালজাতীয় প্রাণী। এত দিন ফেলিডাই পরিবারে ৪১ প্রজাতির বিড়ালজাতীয় প্রাণী ছিল। বন্য বিড়ালের নতুন প্রজাতিসহ এখন হলো ৪২টি। তবে বিজ্ঞানীদের ধারণা, সব মিলিয়ে বিড়ালের ৪৪টি বা তার বেশি প্রজাতি থাকতে পারে।

News সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ 0
তপু বর্মণকে ছাড়াই আসিয়ান কাপের দল ঘোষণা বাফুফের

তপু বর্মণকে ছাড়াই আসিয়ান কাপের দল ঘোষণা বাফুফের

ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের মধ্যে কাফরুলে বাসে আগুন

ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের মধ্যে কাফরুলে বাসে আগুন

রাকিবুলের অডিও: তদন্ত, তবে তিনি কোথায়?

রাকিবুলের অডিও: তদন্ত, তবে তিনি কোথায়?

0 Comments