আমাদের দেশের গণমাধ্যমগুলো নিজেদের সমালোচনা পত্রিকায় ছাপাতে বা প্রকাশ করতে অনীহা প্রকাশ করে। সাংবাদিকেরা প্রতিদিন অন্যের অধিকার, অন্যায়, দুর্নীতির খবর তুলে আনেন, অথচ নিজেদের বেতন-ভাতা, চাকরির নিরাপত্তা আর পেশাগত সম্মান নিয়ে প্রশ্ন তুললে তা ছাপানোর মতো কেউ থাকে না।
তবে সুস্থ সাংবাদিকতা চর্চার জন্য এই নীরবতা ভাঙা বড্ড জরুরি হয়ে পড়েছে, বিশেষ করে এই পেশার ভেতরে চলতে থাকা বৈষম্য আর মানসিক চাপ নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা ছাড়া উপায় নেই।
আর্থিক ও চাকরির টানাপোড়েনের বিষয়টি তুলে ধরে বছরখানেক আগে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকার। যৌবনের শুরুতে যে মানুষটি সাংবাদিকতাকে পেশা ও নেশা হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন, তিনি মধ্যাহ্ন বয়সে উপলব্ধি করেন, সাংবাদিকতায় তিনি আর জায়গা পাচ্ছেন না।
পাঁচ দশক সাংবাদিকতা করার পর এই শেষ বয়সে সাংবাদিকতা ছেড়ে নতুন পেশায় নিজেকে প্রস্তুত করার মতো পরিস্থিতিও ছিল না। যে কারণে আমাদের সমাজে সাংবাদিকতার দগদগে ঘাগুলোকে সামনে এনে তাঁর খোলাচিঠিতে বলে গিয়েছিলেন, ‘আমি লিখেছি সত্যের পক্ষে, মানুষের পক্ষে, দেশের পক্ষে; কিন্তু আজ যখন নিজের জীবনকে দেখি, অনুভব করি সত্য লিখে বাঁচা সহজ নয়।’
ঠিক বছর ঘুরতে আরেক সাংবাদিক আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। বরিশালের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জি শুক্রবার পত্রিকার কার্যালয়ে বেশ কয়েকটি চিরকুট রেখে গেছেন, যা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় সাংবাদিকতার আড়ালে যুগের পর যুগ ধরে চলতে থাকা এক বাস্তবতাকে।
দেড় যুগ ধরে যে পত্রিকায় তিনি কাজ করেছেন এবং নিজের যৌবনের সবচেয়ে কর্মক্ষম সময়টা দিয়েছেন, সেই পত্রিকা থেকে প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে ‘চাকরিচ্যুত’ হন পুলক চ্যাটার্জি। চাকরি না থাকলেও নিজ হাতে গড়া পত্রিকাটির বরিশাল কার্যালয়ের মায়া সম্ভবত তিনি ছাড়তে পারেননি। সমকালের এই সাংবাদিক তাই নিয়মিতই অফিসটিতে যেতেন, পত্রিকা পড়তেন। কাজ না থাকলেও নিয়মিত অফিসে যাওয়ার যে অভ্যাস ১৮ বছর ধরে গড়েছিলেন, তা হয়তো তিনি এড়াতে পারেননি।
তাঁর রেখে যাওয়া চিরকুটে অসুস্থতার কথা যেমন ছিল, তেমনি ছিল সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা আর ক্ষমা প্রার্থনার সুর, এবং পত্রিকা থেকে তাঁর বকেয়া পাওনা পরিবারকে বুঝিয়ে দেওয়ার অনুরোধও। তাঁর স্ত্রী গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছেন, চাকরি হারানোর পর থেকে তিনি হতাশায় ভুগছিলেন, যদিও পরিবারের কেউ কল্পনাও করেননি বিষয়টি এত দূর গড়াবে (প্রথম আলো, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬)।
সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়নের বিষয়টি সব সরকার যেমন এড়িয়ে গেছে, তেমনি মালিকপক্ষও। ফলে কম বেতনে বেশি পরিশ্রমের এই পেশাটির ভেতর জমে ক্ষোভের শিকার হচ্ছেন পুলক চ্যাটার্জিরা। চাকরি শেষে বেতন না পাওয়া কিংবা গ্র্যাচুইটি না দেওয়া কিংবা দীর্ঘসূত্রতা পেশাদার সাংবাদিকদের ভোগাচ্ছে।
ঠিক কী কারণে এই জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের চাকরি গিয়েছিল তা স্পষ্ট নয়, তবে পরবর্তী সময়ে সমকালের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, তাঁর পাওনার হিসাব চূড়ান্ত করা নিয়ে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে দীর্ঘ জটিলতা চলছিল।
বিভুরঞ্জন সরকার কিংবা পুলক চ্যাটার্জির ঘটনা কেবলই দুটি উদাহরণ, তবে প্রতিদিনই দেশের নানা প্রান্তে থাকা মফস্সল সাংবাদিকেরা এ রকম ঘটনার মধ্যে দিয়ে দিন পার করছে। এককালে সমাজে ‘মহান’ পেশা হিসেবে পরিচিত থাকলেও ধীরে ধীরে সাংবাদিকতার অবনতি পেশাটির মধ্যে যেমন ঝুঁকি তৈরি করছে, তেমনি মেধাবী ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকদের জন্য অনুকূল পরিবেশও তৈরি করতে পারছে না। ফলে সাংবাদিকদের ভেতর আর্থিক ও চাকরির নিরাপত্তাহীনতা আমাদের এই শিল্পটিকে মৌলিক বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। হাতে গোনা কয়েকটি গণমাধ্যম ব্যতীত অন্য গণমাধ্যমগুলো পেশাদার সাংবাদিকদের জন্য ‘সাংবাদিকতাকে’ আকর্ষণীয় করতে পারছে না।

বাংলাদেশের সংবাদপত্রশিল্পে ওয়েজ বোর্ড থাকলেও তার বাস্তবায়ন অধিকাংশ গণমাধ্যমের নেই। ফলে দীর্ঘদিন কাজ করার পরও চাকরিচ্যুতির ক্ষেত্রে যথাযথ ক্ষতিপূরণ বা প্রভিডেন্ট ফান্ডের ব্যবস্থা অনেক প্রতিষ্ঠানে থাকছে না। যত্রতত্র সাংবাদিকদের জন্য সংগঠন গড়ে উঠলেও, তারাও সাংবাদিকদের পক্ষে জোরালো ভূমিকা রাখতে পারছে না। ফলে বাতির নিচে অন্ধকার নিয়ে যুগের পর যুগ ধরে চলছে সাংবাদিকতা।
রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষে ও মালিকপক্ষের তাঁবেদারিমূলক সাংবাদিকতা করতে গিয়ে এই পেশাটি তা মহত্ত্বই হারাতে বসেছে। বেতন-ভাতার আদর্শিক কাঠামোর বাস্তব রূপ না মেলায় সাংবাদিকদেরও অনৈতিক পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। আবার কখনো কখনো হাউসগুলোর নীতিনির্ধারকদের পছন্দ-অপছন্দের শিকার হচ্ছেন আমাদের স্থানীয় সাংবাদিকেরা। চাকরিচ্যুতের মতো ঘটনা অহরহ ঘটছে। ফলে এই পেশার অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকায় অনেক ভালো ও পেশাদার সাংবাদিক এই পেশাটিকে বিদায় জানাচ্ছে। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ থেকে পাস করে, তুলনামূলক কম ফলাফলকারীদের অন্যান্য পেশায় যখন আর্থিক স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা থাকে, তখন এই পেশায় থেকে মাস শেষে বেতন পাবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকছে।
সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়নের বিষয়টি সব সরকার যেমন এড়িয়ে গেছে, তেমনি মালিকপক্ষও। ফলে কম বেতনে বেশি পরিশ্রমের এই পেশাটির ভেতর জমে ক্ষোভের শিকার হচ্ছেন পুলক চ্যাটার্জিরা। চাকরি শেষে বেতন না পাওয়া কিংবা গ্র্যাচুইটি না দেওয়া কিংবা দীর্ঘসূত্রতা পেশাদার সাংবাদিকদের ভোগাচ্ছে।
পত্রপত্রিকা, অনলাইন ও টিভি মিলিয়ে যত সংবাদমাধ্যম বাংলাদেশে আছে, এতগুলোর প্রয়োজন আছে কি না, সেই প্রশ্ন আমি আগেও তুলেছিলাম। মানসম্মত ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ফিরলে পাঠকদের প্রতিদিন ১০-১২টি গণমাধ্যমের খবর পড়ার প্রয়োজন হতো না। বিশ্বের অনেক দেশেই ৪-৫টি পত্রিকা থাকলেই সেই দেশের তথ্যের খোরাক মিটে যায়। কিন্তু আমাদের দেশে হচ্ছে না, ফলে অপতথ্য ও অপসাংবাদিকতা ঘিরে ধরছে পেশাদার সাংবাদিকতাকে।
পুলক চ্যাটার্জির মতো মানুষেরা সারা জীবন অন্যের কথা লিখে গেছেন। তাঁদের নিজেদের গল্প যেন হারিয়ে না যায়, সেই দায়িত্ব এখন আমাদের সবার। পুলক চাট্যার্জিদের বাঁচাতে হলে সবার আগে সংবাদমাধ্যমের জন্য বাস্তবসম্মত একটি বেতনকাঠামোর প্রয়োজন, যা বাস্তবায়নে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি করতে হবে। আর্থিক টানাপোড়েনে আমরা আর কোনো সাংবাদিকদের এই রকম মৃত্যু দেখতে চাই না। আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্র পুলক চ্যাটার্জিদের কাছ থেকে কেবল একপক্ষীয়ভাবে নিয়েই যাচ্ছে; কিন্তু প্রতিদানে দিচ্ছে না কিছু।
ড. নাদিম মাহমুদ গবেষক, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। ই-মেইল: nadim.ru@gmail.com
মতামত লেখকের নিজস্ব
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দল-মতনির্বিশেষে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ সংগঠনটি গঠন করেছেন। সংবাদমাধ্যমে এই পরিবারের দুর্দশার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে এবং তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন। তাঁর পক্ষ থেকে সহমর্মিতা ও সহযোগিতার বার্তা নিয়ে আমরা আজ এখানে এসেছি।
মাদকদ্রব্যসহ আটক খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের তিন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
করোনা মহামারির সেই দিনগুলোর কথা মনে হলে এখনো টিটু মিয়ার চোখে ভেসে ওঠে অনিশ্চয়তার ছবি। কাজ না থাকায় সংসার চালানোর মতো টাকাও ছিল না তার কাছে।