জাতীয়

পোশাক কারখানায় ‘ভূত’ আতঙ্কের নেপথ্যে কী

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
পোশাক কারখানায় ‘ভূত’ আতঙ্কের নেপথ্যে কী
পোশাক কারখানায় ‘ভূত’ আতঙ্কের নেপথ্যে কী

দুপুরের খাবারের বিরতির পর ইউনিভার্সেল ম্যানসওয়্যার নামের রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানায় স্বাভাবিকভাবে কাজ চলছিল। হঠাৎ তৃতীয় তলার একজন নারী শ্রমিক ‘ভূত’ বলে চিৎকার দিয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। তারপর কারখানাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তৃতীয় তলার পাশাপাশি দ্বিতীয় তলায়ও একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন অর্ধশত শ্রমিক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারখানা ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। পরদিন সকালেও একই ঘটনা ঘটলে ওই দিনও ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয় কারখানা কর্তৃপক্ষ।

গত ২২ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের আদমজী ইপিজেডের অনন্ত গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সেল ম্যানসওয়্যারে এ ঘটনা ঘটে। তবে পোশাক খাতে এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। গত এক দশকে এ ধরনের অন্তত ১১টি ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ২০০৮ সালে একই ধরনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল একাধিক কারখানায়, যা অন্য যেকোনো বছরের তুলনায় বেশি।

ঘটনাগুলো বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত এক দশকে তৈরি পোশাকশিল্পে যতগুলো কারখানায় ভূত বা ‘জিন’ আতঙ্ক ছড়িয়েছে, সেগুলো তুলনামূলক বড় কারখানা।

শিল্পসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কোথাও বাথরুমে ভূত দেখার গুজব ছড়িয়েছে। কোথাও ‘জিনে ধরেছে’ বলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আবার কোথাও একজন শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার পর একে একে অসুস্থ হয়েছেন আরও কয়েকজন শ্রমিক। ফলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, সত্যিই কি পোশাক কারখানায় ভূত দেখা যাচ্ছে। নাকি এর পেছনে অন্য কোনো বাস্তবসম্মত কারণ রয়েছে?

ঘটনাগুলো বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত এক দশকে তৈরি পোশাকশিল্পে যতগুলো কারখানায় ভূত বা ‘জিন’ আতঙ্ক ছড়িয়েছে, সেগুলো তুলনামূলক বড় কারখানা। সেখানকার কর্মপরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয় বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা নিয়মিত তদারকি করে থাকেন।

এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি নাজমা আক্তার বলেন, নারী পোশাকশ্রমিকেরা শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভোগেন। কম মজুরির কারণে মাসের অধিকাংশ দিন পুষ্টিকর খাবার খেতে পারেন না তাঁরা। আবার পারিবারিক সংকটের কারণে অনেকে মানসিক চাপে থাকেন। অনেক সময় অসুস্থ শরীর নিয়েও কাজ করেন। ফলে কাজের চাপে অনেক সময় তাঁরা কারখানায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। আর সেই সুযোগে সুযোগসন্ধানী এক বা একাধিক পক্ষ আতঙ্ক ছড়িয়ে থাকতে পারে।

ভূত বা জিন আতঙ্কে শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার ঘটনার অনেকগুলোর সূচনা বাথরুম থেকে। এ ধরনের ঘটনায় শুরুতে কোনো একজন শ্রমিক অসুস্থ বা অচেতন হয়ে পড়েন। তারপর ছড়িয়ে পড়ে ভূত বা ‘জিনে ধরার’ গুজব। তারপর একে একে অসুস্থ হতে থাকেন অন্য আরও কিছু শ্রমিক। তবে চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসায় সেরে যায় এসব অসুস্থতা।

এক দশকে যত ঘটনা

২০১৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সাভারের রাজফুলবাড়িয়া এলাকায় একেএইচ ডায়িং অ্যান্ড নিটিং কারখানার সম্প্রসারিত ভবনটি শ্মশানের জায়গার ওপর নির্মিত হয়েছে—এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে অর্ধশত নারী শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁরা মাথাব্যথা, বুকব্যথা ও বমি ভাব নিয়ে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসাও নেন। এই ঘটনায় সেদিন কারখানা কর্তৃপক্ষ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে।

এরপর ২০১৬ সালের আগস্টে ঢাকার আশুলিয়ার নরসিংহপুরের ডেকো ডিজাইন নামের কারখানায় দুপুরের খাবারের পর কয়েকজন শ্রমিক বাথরুমে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ খবর জানাজানির পর কারখানার ছয়তলা ভবনের বিভিন্ন তলার শ্রমিকদের মধ্যে ভূত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাতে আরও বেশ কিছু শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের মধ্যে ৪৯ জন শ্রমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসাও নেন। পরদিনও কারখানাটিতে ভূত আতঙ্কে কয়েকজন শ্রমিকের অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটে।

ওই বছরের ২৪ ডিসেম্বর দুপুরে গাজীপুরের ইউটাহ নিটিং অ্যান্ড ডায়িং কারখানার একজন শ্রমিক অসুস্থ হন। এরপর তাঁকে ‘জিনে’ ধরেছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়লে আরও কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের উপসর্গ ছিল পেটে ব্যথা, বমি ও মুখ দিয়ে লালা ঝরা। কারখানার ২৫ জন অসুস্থ শ্রমিককে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ আশপাশের ক্লিনিকে চিকিৎসাও দেওয়া হয়।

এ ছাড়া গত বছরের ১৩ মার্চ সকালে গাজীপুরের এসপি গার্মেন্টস অ্যান্ড ওয়াশিং কারখানার বাথরুমে ভূত রয়েছে—এমন আতঙ্কে ১০-১৫ শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে বেলা ১১টায় সেদিনের মতো কারখানা ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনার চার দিন পর জিন আতঙ্কে আবার ১৩ জন শ্রমিক অসুস্থ হন। তাঁদের স্থানীয় একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা দিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ।

গত বছরের ১৯ মার্চ গাজীপুরের গোল্ডেন রিফিট গার্মেন্টস কারখানায় জিন আতঙ্কে অর্ধশত শ্রমিকের অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুরের নর্থ হেয়ার প্রোডাক্ট কারখানায় ভূত আতঙ্কে ৯ জন শ্রমিক অসুস্থ হলে তাঁদের দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। টঙ্গীর গাজীপুরা এলাকার হপলুন অ্যাপারেলস কারখানায় গত জুলাইয়ে একই ধরনের ঘটনায় ৬০ জনের মতো শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় কারখানাজুড়ে ভূত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কারখানায় মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় দুই দিন কারখানাও বন্ধ ছিল।

এদিকে গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে নিউএইজ গ্রুপের একটি কারখানার বাথরুমে দুজন নারী শ্রমিক অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তারপর জিন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাতে আরও কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হন। কয়েক দিন একই সমস্যা চলে। এক দিন জিন তাড়াতে কারখানায় মিলাদ দেয় কর্তৃপক্ষ। সেই মিলাদের পর আরও বেশ কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হন। পরে আরেক দিন তান্ত্রিক এনে কারখানা ঝাড়ফুঁকও করানো হয়। সব মিলিয়ে কারখানাটির ১৭২ জন শ্রমিক শরীর দুর্বলতা, চোখে ঝাপসা দেখা ও মাথা ঘোরানোর সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। তাঁদের কয়েক দিন ছুটিতে রাখে কর্তৃপক্ষ। কারখানাও দুই দিন বন্ধ রাখা হয়। তারপর কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নতি হতে থাকে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে নিউ এইজ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম প্রথম আলোকে বলেন, গত মে মাসে তাঁদের গ্রুপের কারখানাটির উৎপাদন সব মিলিয়ে ৬-৭ দিন ব্যাহত হয়েছে।

বাংলাদেশে পোশাকশিল্পের গোড়াপত্তন হয় আশির দশকের শুরুতে। পরের দশকে শ্রমঘন এই শিল্পের দ্রুত বিকাশ ঘটে। সেই সময় থেকেই পোশাক কারখানায় ভূত আতঙ্কের ঘটনা ঘটছে বলে জানান বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার।

ভূত কি শুধু বাথরুমে

ভূত বা জিন আতঙ্কে শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার ঘটনার অনেকগুলোর সূচনা বাথরুম থেকে। এ ধরনের ঘটনায় শুরুতে কোনো একজন শ্রমিক অসুস্থ বা অচেতন হয়ে পড়েন। তারপর ছড়িয়ে পড়ে ভূত বা ‘জিনে ধরার’ গুজব। তারপর একে একে অসুস্থ হতে থাকেন অন্য আরও কিছু শ্রমিক। তবে চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসায় সেরে যায় এসব অসুস্থতা।

নিউ এইজ গ্রুপের কারখানায় জিন আতঙ্কের ঘটনার সূত্রপাতও বাথরুম থেকে হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রথম যে দুজন নারী শ্রমিক বাথরুমে গিয়ে অসুস্থ হয়েছিলেন, তাঁদের একজনকে হাসপাতালে চিকিৎসক পরীক্ষা করে দেখেন, তাঁর রক্তে সুগারের পরিমাণ অনেক বেশি। সে কারণে তিনি অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন। আরেকজন নারী শ্রমিক আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন।

এদিকে গত মাসে ইউনিভার্সেল ম্যানসওয়্যারের কারখানায় ভূত দেখার যে ঘটনা ঘটে, সেটি বাথরুম থেকে নয়। এ বিষয়ে কারখানার মহাব্যবস্থাপক বিল্লাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের কারখানায় অসুস্থ হয়েছিলেন এমন ৮-৯ জনকে আমরা বেপজার হাসপাতালে নিয়েছিলাম। সেখানে তাঁরা আধা ঘণ্টার মধ্যেই সুস্থ হয়ে যান।’

ভূতের আড়ালে কী

বাংলাদেশে পোশাকশিল্পের গোড়াপত্তন হয় আশির দশকের শুরুতে। পরের দশকে শ্রমঘন এই শিল্পের দ্রুত বিকাশ ঘটে। সেই সময় থেকেই পোশাক কারখানায় ভূত আতঙ্কের ঘটনা ঘটছে বলে জানান বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার।

বাবুল আখতার বললেন, মূলত ৩-৪টি কারণে এমন ঘটনা ঘটছে। শ্রমিকদের মধ্যে হতাশা থাকে। অনেকে পুষ্টিহীনতায় ভোগেন। আবার শারীরিক দুর্বলতার কারণেও অনেক সময় শ্রমিকেরা মাথা ঘুরে বাথরুমে পড়ে যান। এ ছাড়া শ্রমিকদের মধ্যে কুসংস্কার ও গুজব বিশ্বাস করার প্রবণতাও রয়েছে। আবার একটি স্বার্থান্বেষী মহলও কারও কারও অসুস্থতার সুযোগকে নানাভাবে কাজে লাগান।

এই শ্রমিকনেতা আরও বলেন, শ্রমিকদের কাউন্সেলিং দরকার। এ ছাড়া কারখানায় রেস্টরুম থাকা দরকার; কেউ অসুস্থ হলে যাতে বিশ্রাম নিতে পারেন। আবার শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ানোও জরুরি। একই সঙ্গে শ্রমিকের মানসম্মত জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় মজুরি দিতে হবে।

পোশাকশিল্পে বর্তমানে ন্যূনতম মজুরি সাড়ে ১২ হাজার টাকা। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে এই মজুরিকাঠামো কার্যকরের আগে ন্যূনতম মজুরি ছিল ৮ হাজার টাকা। মজুরি কম হওয়ায় বাড়তি আয়ের জন্য শ্রমিকদের মধ্যে ওভারটাইম বা অতিরিক্ত কাজ করার প্রবণতাও রয়েছে। এতে অতিরিক্ত কাজের চাপে শ্রমিকদের মানসিক ও শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়।

কম মজুরির কারণে শ্রমিকেরা প্রতিদিন প্রয়োজনীয় ক্যালরি গ্রহণ করতে পারছেন কি না, এমন প্রশ্নে নিট পোশাক শিল্পমালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, পোশাক কারখানার হেলপাররা মাসে ওভারটাইমসহ ১৪-১৫ হাজার টাকা আয় করেন। অপারেটররা আয় করেন ১৭-১৮ হাজার টাকা। ফলে তাঁদের প্রয়োজনীয় ক্যালরি গ্রহণে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তিনি বলেন, ভূত বা জিন আতঙ্কের বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। এটি পুরোপুরি শ্রমিকদের মনস্তাত্ত্বিক বিষয়।

পোশাকশিল্প মালিকদের অনেকের ধারণা, কারখানায় ভূত বা জিন আতঙ্কের পেছনে একটি চক্র রয়েছে। তারা ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন কারখানাকে টার্গেট করে। আতঙ্ক ছড়িয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। মালিকপক্ষের কয়েকজনের অভিযোগ, এর পেছনে পরিকল্পিতভাবে আতঙ্ক ছড়িয়ে কারখানার উৎপাদন ব্যাহত করার চেষ্টা থাকতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে তথ্য–প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ভয় ছড়ায়, উপসর্গও ছড়ায়

গত ১৮ জুন গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় ড্রেসম্যান লিমিটেড নামের কারখানায় শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। সকালে কাজে যোগ দেওয়ার পর কারখানার সরবরাহ করা পানি পান করেন শ্রমিকেরা। কিছুক্ষণ পর তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের বমি, পেটব্যথা, মাথা ঘোরানো, দুর্বলতা ও শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। একপর্যায়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অসুস্থ শ্রমিকের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ অসুস্থ শ্রমিকদের কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও আশপাশের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে পাঠায়।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মাশেদ রুম্মান আবদুল্লাহ বলেন, ‘কারখানার পানি আমরা ছাড়াও আমাদের ক্রেতা প্রতিষ্ঠান আলাদাভাবে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করিয়েছে। পানিতে কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। একজন শ্রমিক কোনো কারণে অসুস্থ হওয়ার পর তা অন্যদের মধ্যেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া অতীতে অনেক কারখানার বাথরুম থেকে “ভূত” আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। সে জন্য আমরা আমাদের বাথরুমে প্রবেশের আগে দেয়ালে আরবি ও বাংলায় দোয়া লিখে রেখেছি।’

পোশাকশিল্প মালিকদের অনেকের ধারণা, কারখানায় ভূত বা জিন আতঙ্কের পেছনে একটি চক্র রয়েছে। তারা ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন কারখানাকে টার্গেট করে। আতঙ্ক ছড়িয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। মালিকপক্ষের কয়েকজনের অভিযোগ, এর পেছনে পরিকল্পিতভাবে আতঙ্ক ছড়িয়ে কারখানার উৎপাদন ব্যাহত করার চেষ্টা থাকতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে তথ্য–প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘কেউ না কেউ এসব ঘটনার পেছনে রয়েছে। তবে কারা, সেটি আমরা খুঁজে বের করতে পারিনি। যেসব কারখানায় এসব ঘটনা ঘটে, সেগুলো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে।’ তিনি আরও বলেন, কারখানায় ভূত বলে কিছু নেই। এসব ঘটনা বন্ধে ব্যাপক সচেতনতা দরকার।

সমাধান কী

জানতে চাইলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের সাইকিয়াট্রি বিভাগের অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, কোনো মানুষের মাথা ঘোরানো, বমি ভাব, পেটব্যথার উপসর্গগুলোকে মনোরোগ চিকিৎসার ভাষায় কনভারশন ডিজঅর্ডার বলা হয়। যখন এই উপসর্গ একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়ায়, সেটিকে মাস সাইকোজেনিক ইলনেস বা গণমনস্তাত্ত্বিক রোগ বলা হয়। এ ধরনের ঘটনা স্কুল, হোস্টেল, কারখানায় ঘটে থাকে।

হেলাল উদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, মানুষ ইচ্ছা করে এসব করে না। মানসিক চাপ, পারিবারিক ও সামাজিক দ্বন্দ্বের কারণে কনভারশন ডিজঅর্ডার হয়। এমন লক্ষণ দেখা দিলে মানসিক চিকিৎসাসেবা দিতে হবে। এ ধরনের সমস্যা প্রতিরোধের উপায় হচ্ছে কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। একমাত্র মানসিক যত্নই এ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে পারে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
বন্ধ চার পাটকল চুক্তিতে চালু করল আবুল খায়ের গ্রুপ 
বন্ধ চার পাটকল চুক্তিতে চালু করল আবুল খায়ের গ্রুপ 

ফরিদপুর ও মাদারীপুরের বন্ধ চার পাটকল চুক্তিতে চালু করেছে দেশের এই শিল্পগ্রুপ। এসব পাটকলে কর্মসংস্থান হয়েছে ১৫ হাজার শ্রমিকের।ফরিদপুরের রাজ্জাক জুট ইন্ডাস্ট্রিজ নানা সমস্যায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে পাটকলটির অনেক শ্রমিক বেকার হন। বন্ধ সেই কারখানা চলতি বছর চালু করেছে আবুল খায়ের গ্রুপ। এখন পাটকলটির উৎপাদিত পণ্য রপ্তানিও হচ্ছে। রাজ্জাক জুট ইন্ডাস্ট্রিজের পাশাপাশি আরও তিনটি বন্ধ পাটকল সম্প্রতি চালু হয়েছে আবুল খায়ের গ্রুপের হাত ধরে। অন্য তিনটি পাটকল হচ্ছে ফরিদপুরের ফরিদপুর জুট ফাইবার্স ও দাহমাশী জুট ইন্ডাস্ট্রিজ এবং মাগুরার এআর জুট মিলস। বন্ধ এই চার পাটকল চালুর ফলে নতুন করে কারখানাগুলোতে কর্মসংস্থান হয়েছে ১৫ হাজার শ্রমিকের। বন্ধ ও রুগ্​ণ এই চার পাটকল নতুন করে চালু করে পাটপণ্য উৎপাদন করছে আবুল খায়ের গ্রুপের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান শাহ অ্যাগ্রো লিমিটেড।আবুল খায়ের গ্রুপের কর্মকর্তারা জানান, গত বছর পাট কেনাবেচার ব্যবসা শুরু করে এই শিল্পগোষ্ঠী। একপর্যায়ে পাটপণ্যের ব্যবসায় নামার অংশ হিসেবে বেসরকারি খাতের চারটি বন্ধ পাটকলের সঙ্গে চুক্তি করা হয়। তারপর চলতি বছরের বিভিন্ন সময় এই পাটগুলো চালু করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নতুন করে চালু করা চার পাটকল থেকে বছরে ৮০ হাজার মেট্রিক টন পাটের সুতা ও পাটজাত পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে আবুল খায়ের গ্রুপ। এখন পর্যন্ত এসব পাটকলে উৎপাদিত ১২০ কোটি মার্কিন ডলারের পাটের সুতা রপ্তানি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তুরস্ক ও চীনে এসব পাটপণ্য রপ্তানি করা হয়।► নতুন করে চালু করা চার পাটকল থেকে বছরে ৮০ হাজার মেট্রিক টন পাটের সুতা ও পাটজাত পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে আবুল খায়ের গ্রুপ। জানতে চাইলে আবুল খায়ের গ্রুপের হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড লিগ্যাল শেখ শাবাব আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘পাটপণ্যের ব্যবসা অনেক বেশি মূলধননির্ভর। দেশের বেসরকারি খাতে অনেক পাটকল বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। তাই নতুন কারখানা না করে আমরা বন্ধ কারখানার মালিকদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে সেগুলো চালু করেছি। আমরা পাট কিনে কারখানায় দিচ্ছি। কারখানার কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের ব্যবস্থাপনা করে পণ্য উৎপাদন করে। সেই পণ্য আমরা বিদেশে রপ্তানি করি।’শেখ শাবাব আহমেদ জানান, বন্ধ চার পাটকল চালুর পর আরও ২-৩টি বন্ধ পাটকল চালুর বিষয়ে এসব পাটকলের মালিকপক্ষের সঙ্গে চুক্তির আলোচনা চলছে। সেগুলো চূড়ান্ত হলে সেখানেও পাটপণ্য উৎপাদন করা হবে। এ ছাড়া সরকারি বন্ধ ৩-৪টি পাটকল ইজারায় নেওয়ার আবেদনও করেছে আবুল খায়ের গ্রুপ।শেখ শাবাব আহমেদ, করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড লিগ্যাল বিভাগের প্রধান, আবুল খায়ের গ্রুপ বেসরকারি খাতে অনেক পাটকল বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। তাই নতুন কারখানা না করে আমরা বন্ধ কারখানার মালিকদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে সেগুলো চালু করেছি। শেখ শাবাব আহমেদ আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে বেশি মূল্যের (ভ্যালু অ্যাডেড পণ্য) পাটপণ্য উৎপাদনের জন্য আমরা চেষ্টা করছি। তখন আমরা বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করব। তখন নতুন কারখানাও করতে হবে। বাংলাদেশের পাটের মান উন্নত। পরিবেশবান্ধব এই পণ্যের বৈশ্বিক বাজারও রয়েছে। সে জন্য আমাদের প্রতিষ্ঠান পাটপণ্যে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে পরোক্ষভাবে হলেও পাটচাষিদের ভাগ্যের উন্নয়ন হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’পাটপণ্য রপ্তানিতে আবুল খায়ের গ্রুপের বিনিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান তাপস প্রামাণিক প্রথম আলোকে বলেন, গতানুগতিক ধারার বাইরে কিছুটা ভিন্নভাবেই পাটপণ্যের ব্যবসায় এসেছে আবুল খায়ের গ্রুপ। বন্ধ কারখানার মালিকদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে সেসব কারখানা চালুর নতুন ব্যবসায়িক মডেলটি মন্দ নয়। আবুল খায়ের মতো বড় শিল্পগ্রুপ যদি পাটপণ্যের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা ও বহুমুখী পাটপণ্যের বাজার ধরার জন্য মনোযোগী হয়, তাহলে দেশ খাতটি থেকে অনেক বেশি উপকৃত হবে।

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
তিন বছর পর থ্রেডসের প্রতিদ্বন্দ্বী এক্স ব্যবহারের কারণ জানালেন মার্ক জাকারবার্গ

তিন বছর পর থ্রেডসের প্রতিদ্বন্দ্বী এক্স ব্যবহারের কারণ জানালেন মার্ক জাকারবার্গ

প্রসববেদনার সময় কি নামাজ আদায় করতে হবে

প্রসববেদনার সময় কি নামাজ আদায় করতে হবে

একাধিক বালিশে ঘুমালে কি ঘাড়ে সমস্যা হতে পারে 

একাধিক বালিশে ঘুমালে কি ঘাড়ে সমস্যা হতে পারে 

একাদশে ক্লাস শুরুর তারিখ পেছাল
একাদশে ক্লাস শুরুর তারিখ পেছাল

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরুর তারিখ এক দিন পিছিয়েছে। ক্লাস শুরু হবে ২৪ সেপ্টেম্বর। পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে ২৩ সেপ্টেম্বর দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক দিনের ছুটি থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।অস্ট্রেলিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবার আনার সুযোগ বন্ধের প্রস্তাববিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে অনলাইনের মাধ্যমে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরুর তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত ছিল। তবে পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে ওই দিন দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক দিনের ছুটি থাকবে। এই পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরুর তারিখ আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর পুনর্নির্ধারণ করা হলো। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।হার্ভার্ডের একাডেমি স্কলারস প্রোগ্রাম, মাসে ৬৬৬৬ ডলার স্টাইপেন্ড, করুন আবেদনএদিকে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে অনলাইনে আবেদন করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে নির্বাচিত হয়েছে ৯ লাখ ৮০ হাজার ৮১৫ শিক্ষার্থী। আবেদন করেও আসন পায়নি ১৪ হাজার ৪১৫ জন। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পাওয়া ২ হাজার ২০৫ শিক্ষার্থী আবেদন করেও নির্বাচিত হয়নি। বুধবার রাতে প্রথম ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়। দেশে একাদশ শ্রেণিতে কলেজ ও মাদ্রাসা মিলিয়ে ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। ফলে এবার বিপুলসংখ্যক আসন খালি থাকবে।ব্রিটিশ কাউন্সিলের অনলাইন কোর্স, ফ্রি ডিজিটাল আপগ্রেডের সুযোগ

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
বিপিএলে ফিক্সিং: এবার শাস্তি পেলেন দলের মালিক ও ম্যানেজার

বিপিএলে ফিক্সিং: এবার শাস্তি পেলেন দলের মালিক ও ম্যানেজার

নারায়ণগঞ্জে ৭ কোটি টাকার ভবন করেছে সওজ, তবে অফিস চলে ঢাকায়

নারায়ণগঞ্জে ৭ কোটি টাকার ভবন করেছে সওজ, তবে অফিস চলে ঢাকায়

অদৃশ্য জীবাণু, দৃশ্যমান অবদান: মাইক্রোবায়োলজিস্টদের গল্প

অদৃশ্য জীবাণু, দৃশ্যমান অবদান: মাইক্রোবায়োলজিস্টদের গল্প

আঙিনায় বনভোজন
আঙিনায় বনভোজন

ছোটবেলায় আমার বেড়ে ওঠা শহরে। নানু মারা যাওয়ার পর আমার নানা ঢাকা শহরেই ছিলেন, সুতরাং গ্রামের স্মৃতি তেমন একটা মনে নেই আমার। খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলের বাংলোয় চুলা আর ওভেন ছিল ইলেকট্রিক। মাটির চুলায় রান্না করার একটা গোপন শখ ছিল আমার। খুব ছোটবেলায় বাসা থেকে আলু আর চাল নিয়ে মাঠে আমি আর সুজন ম্যাচ নিয়ে বহু চেষ্টা করেছি আগুন জ্বালিয়ে রাঁধতে। পারিনি আর শাস্তিস্বরূপ ছোটখাটো হাঁড়িপাতিল থাকলেও ছোট্ট মাটির চুলা কেউ আমাকে বানিয়ে দেয়নি।স্কুলে থাকতে বছরে এক দিন পিকনিক হতো সিনিয়র কলোনিতে। ক্লাবের পেছনে মাটির চুলা বানিয়ে রান্না হতো। কেমন স্বপ্নিল একটা ব্যাপার। তবু রান্নার আশপাশে আমি ঘেঁষতে পারিনি। স্কুলে থাকতে একবার বান্ধবীদের সঙ্গে পিকনিক করার অনুমতি পেয়েছিলাম বহু কান্নাকাটির পর, তা–ও আব্বুর কারণে। আম্মি দেবে তো না–ই, তা–ও আবার জাম কালারের শাড়ি পরে পিকনিক।বাংলোয় ফায়ারপ্লেস থাকলেও দেশে এতটা শীত কোনো দিন ছিল না যে সেটা জ্বালানো হবে। সুইডেন বা যুক্তরাষ্ট্রে সব গ্যাসের। কাছের লগ পাওয়া যায়, তবে এত দিনে পাঠকের মৃত্যু হয়েছে। এখন ঝামেলা কম করে যত থাকা যায়, এই মানসিকতা। এর মধ্যে মাস কয়েক আগে বন্ধুরা বসে গল্প করছিল একজনের কাব্যিক ব্যাকইয়ার্ডে। কাব্যিক বলার কারণ, এর বাসাটা পুরোনো ইংরেজি সিনেমার মতো। সামনে–পেছনে বাগান। চমৎকার পাথরের সারি যে জায়গায়, সেখানে থেরাপিউটিক কোনো সুবিধা আছে কি না, জানতে খালি পায়ে হাঁটতে চেষ্টা করে পায়ে কাঁটা ফুটিয়ে ফেলেছিলাম প্রায়। যাক, সেদিন অল্প আলোয় বন্ধুরা বলল, কাঠের চুলায় রান্না করে পিকনিক করি চল। ক্রিয়েটিভ ফারহাত আপু বললেন, বেশ।তারপর এই শনিবারে ছিল সেই দিন। ইট বসিয়ে চুলা বানিয়ে সব ফায়ার সেফটি মেনে পিকনিকটা আসলেই হবে, সেটা আমার কল্পনায় ছিল না। প্রস্তুতির ছবিগুলো দেখছিলাম। এক প্যাচে শাড়ি, মাথায় খোঁপা করবে সবাই। মনে হচ্ছিল, সেই কোন ছোটবেলায় ফিরে গেছি আমি। আব্বুর পেছন–পেছন ঘুরছি, আব্বু, আমি পিকনিকে যেতে চাই। আম্মি শাড়ি দেবে না, একটু বলে দেন।কাজের উইকেন্ড ছিল সেটা। দ্রুত কাজ শেষ করে শাড়ি পরে খোঁপাজাতীয় কিছু মাথায় বেঁধে হুড়োহুড়ি করতে গিয়ে হাতে ব্যথা পেয়ে কোনোরকমে পৌঁছালাম আপুর বাসায়। গিয়ে দেখি, পরিরা হাঁটছে। ব্যাকইয়ার্ডে ইটের চুলায় ডাল আর গরুর মাংস রান্না হচ্ছে। জিলাপি আর বেগুন ভাজা হচ্ছে। এক পাশে আমভর্তা, জামভর্তা, চানাচুরমাখা, পেঁয়াজু। আলো আর ফুলে ভরা একটা বিকেল। ধীরে ধীরে সন্ধ্যা নামছে। বন্ধুদের সঙ্গে অনেক ছবি তুললাম। খুন্তি নিয়ে রান্নার ভান করলাম। সন্ধ্যার পর আমরা //////////////আন্কসরি//////////// খেলেছি। কোনো দল হারার পাত্র নয়। মা–মেয়ে নাচল গানের সঙ্গে। কী অপূর্ব কিছু সময়! আপু আমাকে গাইতে বলেছিল ‘লীলাবালি’। গাইলাম। চুলায় রান্না করা খাবার খেলাম। পরদিন কাজ না থাকলে আরও অনেকক্ষণ হয়তো বসে থাকতাম। আপুর ফাল্গুন অনুষ্ঠান বা যেকোনো কিছু এত মন ছোঁয়া হয়! আর্কিটেক্ট বলেই হয়তো। ব্যস্ত জীবনে এমন আনন্দের ছোঁয়া ঘুরে ঘুরে আসুক সবার।দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: dp@prothomalo.com

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
হার্ভার্ডের একাডেমি স্কলারস প্রোগ্রাম, মাসে ৬৬৬৬ ডলার স্টাইপেন্ড, করুন আবেদন

হার্ভার্ডের একাডেমি স্কলারস প্রোগ্রাম, মাসে ৬৬৬৬ ডলার স্টাইপেন্ড, করুন আবেদন

চাঁদের পাশে শুক্র গ্রহ কেন দেখা গেল

চাঁদের পাশে শুক্র গ্রহ কেন দেখা গেল

সিটি করপোরেশন থেকে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে বসাতে হবে সৌর প্যানেল

সিটি করপোরেশন থেকে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে বসাতে হবে সৌর প্যানেল

0 Comments