জাতীয়

অভাবকে জয় করে এসএসসিতে সফল শিহাব আলী

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
অভাবকে জয় করে এসএসসিতে সফল শিহাব আলী
অভাবকে জয় করে এসএসসিতে সফল শিহাব আলী

অভাব-অনটন আর নানা প্রতিকূলতায় যেখানে পড়াশোনা করাই অনিশ্চিত সেখানে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে শিহাব আলী মনি। প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত রাজশাহী আলোর পাঠশালার এই শিক্ষার্থী এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মানবিক বিভাগে জিপিএ- ৩.০৬ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। আর্থিক অনিশ্চয়তাকে জয় করে এখন কলেজে পড়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সে। ভবিষ্যতে দেশ ও মানুষের সেবা করার পাশাপাশি পরিবারের দীর্ঘদিনের দারিদ্র্য দূর করাই তার মূল লক্ষ্য।

মনির পরিবারে রয়েছে এক ভাই ও এক বোন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তার বাবা, যিনি অটো চালিয়ে কোনোমতে সংসারের চাকা সচল রাখেন। স্বল্প আয়ের এই সংসারে দুই সন্তানের লেখাপড়ার খরচ চালানো ছিল মারাত্মক কঠিন। নিত্যদিনের টানাটানির মধ্যেও মনির প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ তাকে কখনো থামতে দেয়নি। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে রাজশাহী আলোর পাঠশালায় পড়ালেখা করা মনি শত বাধা সত্ত্বেও নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে এই সাফল্য অর্জন করেছে।

নিজের অনুভূতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানিয়ে মনি বলে, ‘একটি ভালো চাকরি করে দেশ ও মানুষের সেবা করতে চাই। আমাদের পরিবারের যে অভাব-অনটন রয়েছে, তা দূর করে বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটানোই আমার মূল স্বপ্ন।’

মনির মতো সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্নআয়ের পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার আলো ছড়াতে কাজ করে যাচ্ছে রাজশাহী আলোর পাঠশালা। সমাজের প্রান্তিক শিশুদের জন্য শিক্ষার দুয়ার খুলে দেওয়ার পাশাপাশি তাদের নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শেখাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

উল্লেখ্য, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার পথ সুগম করতে এই মানবিক উদ্যোগ পরিচালনা করছে প্রথম আলো ট্রাস্ট। দারিদ্র্য যেন কোনো শিশুর শিক্ষার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়—সেই লক্ষ্যে ট্রাস্টের এই ধারাবাহিক প্রয়াস মনিদের মতো অসংখ্য শিক্ষার্থীর জীবন বদলে দিচ্ছে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
ইরানের হাতে আরও এক ‘ট্রাম্প কার্ড’, দিশেহারা সৌদি আরব
ইরানের হাতে আরও এক ‘ট্রাম্প কার্ড’, দিশেহারা সৌদি আরব

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবার নতুন করে ইয়েমেনকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের দ্রুত অগ্রগতি এবং সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় হামলার ঘটনায় আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। একই সময়ে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশে হুথিদের অবস্থান শক্তিশালী হওয়ায় সৌদি আরবের বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বেশ কিছু এলাকা দখলের দাবি করেছে হুথিরা। গত সপ্তাহে কৌশলগত বন্দরনগরী মোচা এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির পেরিম দ্বীপ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করে তারা। এ প্রণালি লোহিত সাগর ও সুয়েজ খালের মাধ্যমে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের দক্ষিণ প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। হুথিদের এই অগ্রগতিতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে সৌদি আরব। কারণ, হুথিরা আগেই সৌদি জাহাজকে লক্ষ্য করে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালির মতো বাব-আল মান্দেব হয়ে উঠছে ইরানের আরেক ‘ট্রাম্প কার্ড’। মক্কা-জেদ্দায় সতর্কতা সৌদি আরবের অভিযোগ, পবিত্র মক্কা নগরীর দক্ষিণে হুথিদের একটি ড্রোন হামলার চেষ্টা প্রতিহত করেছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ড্রোনটি শনাক্ত করা হয়। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানান, মক্কার নির্ধারিত আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়েছে। আরও পড়ুন সৌদি আরবে একের পর এক হামলা, মক্কা চুক্তি কি এবার কার্যকর হবে? সৌদি কর্তৃপক্ষ বলেছে, মক্কা ও মুসল্লিদের নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পবিত্র নগরীর দিকে কোনো ধরনের হামলা মেনে নেওয়া হবে না। তবে হুথিদের মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, সৌদি আরব প্রচারের উদ্দেশ্যে এমন অভিযোগ তুলছে। মঙ্গলবার সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার বিষয়ে নিরাপত্তা সতর্কতাও জারি করা হয়। এর মধ্যে মক্কা ও দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর জেদ্দাও ছিল। সৌদি আরবে থাকা মার্কিন দূতাবাসও নাগরিকদের ভ্রমণ পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছে। দূতাবাসের সতর্কতায় বলা হয়েছে, হুথিদের হামলায় শহর, অবকাঠামো, বিমানবন্দর, সামরিক ঘাঁটি, কূটনৈতিক স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। সৌদির তেল সরবরাহে নতুন চাপ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার পর সৌদি আরব উপসাগরীয় এলাকা থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল পাঠাতে তাদের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। কিন্তু সাম্প্রতিক এক হামলায় পাইপলাইনটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেটি বন্ধ করতে হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি আরব। এই হামলার জন্য ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়াদের দায়ী করেছে রিয়াদ। কয়েকজন বিশেষজ্ঞের মতে, পাইপলাইনটি পুরোপুরি মেরামত করতে এক মাসেরও বেশি সময় লাগতে পারে। তবে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেছেন, কয়েক দিনের মধ্যেই পাইপলাইন দিয়ে আবার তেল সরবরাহ শুরু হতে পারে। পাইপলাইনটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। ফলে ইয়েমেনে সংঘাতের বিস্তার শুধু সৌদি আরবের নিরাপত্তার জন্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হুথিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চাইছে রিয়াদ হুথিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি যুবরাজ ও দেশটির কার্যত শাসক মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তবে এখন পর্যন্ত সরাসরি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে এই সংঘাতে যুক্ত করার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন সম্মতি দেয়নি। বরং গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্য শনাক্তকরণে সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। হুথিদের মোকাবিলায় ইসরায়েলের কাছেও সহযোগিতা চেয়েছে সৌদি আরব, এমন খবরও প্রকাশিত হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে গোয়েন্দা সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে সৌদি আরব বা ইসরায়েল সরকারিভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। সৌদি যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের দাবি এর মধ্যেই ইয়েমেনের মারিব গভর্নরেটের আকাশসীমায় সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে হুথিরা। আরও পড়ুন সৌদি আরবকে ঘিরে ফেলছে ইরান, নতুন সংকটে মধ্যপ্রাচ্য বুধবার হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, ইয়েমেনের বিরুদ্ধে ‘শত্রুতামূলক অভিযান’ চালানোর সময় সৌদি যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত করা হয়। স্থানীয়ভাবে তৈরি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে বিমানটি ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এই দাবির পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষও তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি। এর আগে হুথিরা দাবি করেছিল, তারা সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর কাছ থেকে বেশ কিছু সাঁজোয়া যান দখল করেছে। প্রকাশিত ভিডিওতে যুদ্ধবিমান ও বিস্ফোরণের দৃশ্যও দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ইরানের জন্য নতুন কৌশলগত সুবিধা? মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাতে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব এরই মধ্যে স্পষ্ট। ইরান ওই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার দাবি করছে। এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল পরিবহন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চাপ তৈরি হয়েছে। এখন ইয়েমেনে হুথিদের অগ্রযাত্রার কারণে বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিরাপত্তাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে একই সময়ে অস্থিরতা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। ইয়েমেনে হুথিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি ইরানের আঞ্চলিক প্রভাবের আলোচনাকে নতুন করে সামনে এনেছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ও নৌপথের ওপর চাপ বাড়লে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। একদিকে হুথিদের ঠেকাতে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সহযোগিতা চাইছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিকভাবে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ফলে ইয়েমেনের যুদ্ধ এখন শুধু সৌদি-হুথি সংঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে হরমুজ, বাব আল-মান্দেব, তেল সরবরাহ এবং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের হিসাব। সব মিলিয়ে ইয়েমেনে হুথিদের অগ্রগতি সৌদি আরবের ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দুই নৌপথ ঘিরে অস্থিরতা বাড়তে থাকলে এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের গণ্ডি পেরিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্য ব্যবস্থাতেও পড়তে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স, বিবিসি এমএসএম

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
চাকরির বাজারে নিজেকে যোগ্য করে তুলতে যেসব দক্ষতা প্রয়োজন

চাকরির বাজারে নিজেকে যোগ্য করে তুলতে যেসব দক্ষতা প্রয়োজন

যে কারণে আমেরিকা থেকে হঠাৎ ভিডিও বার্তা দিলেন মৌসুমী

যে কারণে আমেরিকা থেকে হঠাৎ ভিডিও বার্তা দিলেন মৌসুমী

রং-ফ্লেভারের ফাঁদে তরুণদের টানছে নিকোটিন পণ্য, নিষিদ্ধের দাবি

রং-ফ্লেভারের ফাঁদে তরুণদের টানছে নিকোটিন পণ্য, নিষিদ্ধের দাবি

আবুল বারকাতের ৪৯ লাখ টাকার সম্পদ ক্রোক, গাড়ি-ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ
আবুল বারকাতের ৪৯ লাখ টাকার সম্পদ ক্রোক, গাড়ি-ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধানের মধ্যে জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল বারকাতের নামে থাকা দুটি ফ্ল্যাটসহ ৪৯ লাখ ৬১ হাজার ৩৮৪ টাকার স্থাবর সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তার ২৯ লাখ টাকা মূল্যের গাড়ি ও ব্যাংক হিসাবের অর্থ অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করা হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। দুদকের সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ আদালতে সম্পদ ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন কোম্পানিকে অবৈধভাবে ঋণ দেওয়ার মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অধ্যাপক আবুল বারকাতের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধানে তার নামে ৪৯ লাখ ৬১ হাজার ৩৮৪ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং তিন কোটি ৫০ লাখ ৩১ হাজার টাকা ও ১০ হাজার ২৫০ মার্কিন ডলারের অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক আবাসন প্রকল্পে বিনিয়োগ করা আড়াই লাখ টাকা এবং রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও ধানমণ্ডিতে থাকা দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়া তার নামে থাকা ২৯ লাখ টাকা মূল্যের একটি গাড়ি এবং ব্যাংক হিসাবে থাকা অর্থও অবরুদ্ধ করার আবেদন করা হয়। দুদকের আবেদনে আরও বলা হয়, বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তার নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ বিক্রি কিংবা অন্যত্র স্থানান্তরের চেষ্টা করছেন। অভিযোগের নিষ্পত্তির আগে এসব সম্পদ হস্তান্তর, স্থানান্তর, রূপান্তর বা বিক্রি হয়ে গেলে রাষ্ট্র আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণে সম্পদগুলো সুরক্ষিত রাখতে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ১৪ ধারা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭-এর বিধি ১৮ অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে ক্রোক ও ফ্রিজ করা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। এর আগে ২০২৫ সালের ১০ জুলাই রাজধানীর ধানমণ্ডির বাসা থেকে দুদকের একটি মামলায় আবুল বারকাতকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ওই মামলায় জামিন পাওয়ার পর জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক ব্যবসায়ী ওয়াদুদ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। ওই মামলায়ও জামিন পাওয়ার পর তিনি কারাগার থেকে মুক্ত হন। এমডিএএ/এমআইএইচএস

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশ-রাশিয়া বিজনেস কাউন্সিল গঠনের আহ্বান

বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশ-রাশিয়া বিজনেস কাউন্সিল গঠনের আহ্বান

হাটহাজারীতে এক ঘণ্টার আগুনে পুড়ল ৬ ঘর, ক্ষতি প্রায় ২৫ লাখ টাকা

হাটহাজারীতে এক ঘণ্টার আগুনে পুড়ল ৬ ঘর, ক্ষতি প্রায় ২৫ লাখ টাকা

পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়কে সরকারিকরণে উদ্যোগ নেওয়া হবে: এনামুল হক

পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়কে সরকারিকরণে উদ্যোগ নেওয়া হবে: এনামুল হক

পাহাড়, সমুদ্র আর মেঘলা চিতার উপাখ্যান: ইনানীর বনে প্রাণের স্পন্দন
পাহাড়, সমুদ্র আর মেঘলা চিতার উপাখ্যান: ইনানীর বনে প্রাণের স্পন্দন

​মো. সাব্বির হোসাইন ​একদিকে বিশাল বঙ্গোপসাগরের গর্জন, অন্যদিকে সবুজ পাহাড়ের স্তব্ধতা এই দুইয়ের মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা কক্সবাজারের ইনানী জাতীয় উদ্যান কেবল পর্যটকদের চোখ জুড়ানোর জায়গা নয়, এটি দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্যের এক গোপন প্রসূতিঘর। সম্প্রতি এই বনাঞ্চল নিয়ে হওয়া এক গবেষণা যেন প্রকৃতির এক গোপন সিন্দুকের চাবি খুলে দিয়েছে। গবেষক বিপুল কৃষ্ণ দাসের অনুসন্ধানে উন্মোচিত হয়েছে ইনানীর বনের এক নতুন রূপ। ক্যামেরা ট্র্যাপের নিরব নজরদারি, লাইন ট্রানসেক্ট পদ্ধতি এবং বনের গহীনে পড়ে থাকা পরোক্ষ চিহ্নের সূত্র ধরে পাওয়া গেছে ২৩ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণীর পদচিহ্ন। আর এই তালিকার সবচেয়ে চমকপ্রদ নাম মেঘলা চিতা এবং উল্লুক। বিশ্বজুড়ে চরম সংকটাপন্ন হিসেবে চিহ্নিত এই দুই প্রজাতির উপস্থিতি প্রমাণ করে, মানুষের অসচেতনতার মাঝেই ইনানী এখনো ধরে রেখেছে তার বুনো প্রাণ। আরও পড়ুন সুসং দুর্গাপুরের গহিন অরণ্যে একদিন তবে এই অর্জন আনন্দের হলেও, এর আড়ালে লুকিয়ে আছে গভীর উদ্বেগের ছায়া। গবেষণায় কেবল প্রাণীদের সংখ্যাই উঠে আসেনি, উঠে এসেছে গাছপালা এবং বনের ওপর মানুষের অনিয়ন্ত্রিত আগ্রাসনের চিত্রও। দিন দিন মানুষের নানা কর্মকাণ্ডে বনের প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে, ছোট হয়ে আসছে বন্যপ্রাণীর বিচরণের জায়গা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ফিরোজ জামান এই বাস্তবতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলে ধরেছেন। তার মতে, আমাদের বন্যপ্রাণী ও বনাঞ্চল সংরক্ষণে এখনো রয়ে গেছে বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা। পর্যাপ্ত বরাদ্দের অভাব, জনবল সংকট এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনার ঘাটতির কারণে প্রতিনিয়তই ঝুঁকিতে পড়ছে দেশের নানা প্রান্তের বন্যপ্রাণী। আরও পড়ুন একগাদা ট্যুরিস্ট স্পট নয়, একটি জায়গাকে ধীরে চেনাই নতুন ট্রেন্ড ​ইনানী জাতীয় উদ্যান আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, প্রকৃতি এখনো হারিয়ে যায়নি; কিন্তু তাকে রক্ষা করার সময় এখনই। পাহাড়ি বন আর বিরল বন্যপ্রাণীদের এই মেলবন্ধন যদি আমরা রক্ষা করতে না পারি, তবে ভবিষ্যতের কাছে কেবল ইতিহাসই জমা থাকবে, কোনো জীবন্ত বন নয়। উপকূলীয় এই সবুজ দেয়াল আর তার অধিবাসীদের বাঁচাতে অবিলম্বে প্রয়োজন সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও স্থায়ী সংরক্ষণ নীতি। লেখক: শিক্ষার্থী ,তা'মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা টঙ্গী কেএসকে

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
যুদ্ধাপরাধের দায়ে কসোভোর সাবেক প্রেসিডেন্টের ২৫ বছরের কারাদণ্ড

যুদ্ধাপরাধের দায়ে কসোভোর সাবেক প্রেসিডেন্টের ২৫ বছরের কারাদণ্ড

ভুয়া কাগজে ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ: ৪ ব্যাংক কর্মকর্তার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা

ভুয়া কাগজে ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ: ৪ ব্যাংক কর্মকর্তার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা

রাতে বিছানার পাশে ওষুধ রাখেন, এই অভ্যাস বিপজ্জনক হতে পারে

রাতে বিছানার পাশে ওষুধ রাখেন, এই অভ্যাস বিপজ্জনক হতে পারে

0 Comments