
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবারের মতো সিলেট যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে বিমানযোগে তার সিলেটে পৌঁছানোর কথা। রাষ্ট্রপতিকে বরণ ও সংবর্ধনার জন্য সিলেটজুড়ে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। কয়েকদিন ধরেই চলছে নগরের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। সব মিলিয়ে নগরজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। সফরসূচি অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানযোগে সিলেটের উদ্দেশে রওনা হবেন রাষ্ট্রপতি। বেলা সোয়া ১১টায় তাকে বহনকারী বিমানটি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। সেখান থেকে মোটর শোভাযাত্রাসহ বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে সিলেট সার্কিট হাউজে পৌঁছাবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানে গার্ড অব অনার গ্রহণের পর দুপুর সাড়ে ১২টায় হযরত শাহজালাল (রহ.) ও দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন রাষ্ট্রপতি। এরপর বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নগর ভবনে সিলেট সিটি করপোরেশন আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠান শেষে সার্কিট হাউজেই অবস্থান করবেন তিনি। রাত ৮টায় বিমানযোগে ঢাকার উদ্দেশে সিলেট ত্যাগ করার কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতির। সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জানান, রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে সিলেট মহানগর পুলিশের পর্যাপ্তসংখ্যক কর্মকর্তা ও ফোর্স মোতায়েন থাকবে। সফরের দিন এক হাজার পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি আরও ২০০ সদস্য অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন। এর বাইরে নিরাপত্তার অংশ হিসেবে কাজ করবে পুলিশের বিশেষ ইউনিটগুলো। পুলিশ কমিশনার আরও জানান, রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় সিলেট মহানগর পুলিশের পাশাপাশি র্যাব, বিজিবি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। বিভিন্ন ভেন্যুতে পোশাকি পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে নগরের সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়েছে। নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর ডিভাইডার, কিন ব্রিজ, সার্কিট হাউজসহ বিভিন্ন এলাকায় রং করা হয়। এছাড়া সিটি করপোরেশন এবং হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধণের কাজ করা হয়। সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান ও বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সিলেটের মানুষের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। বিএনপির মহাসচিব হিসেবে তিনি বহুবার সিলেটে এসেছেন, দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন, বিভিন্ন সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এবার তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে সিলেটে আসছেন এটি নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য গর্ব ও আনন্দের বিষয়।’ তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির এই সফর সিলেটবাসীর কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। আমরা আশা করি, রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার এই সফরের মধ্য দিয়ে সিলেটের মানুষের প্রত্যাশা ও দাবিগুলো আরও গুরুত্বের সঙ্গে রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছাবে। সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সিলেট একটি পর্যটননগরী। রাষ্ট্রপতি যাতে সিলেটের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন এবং তার সফরকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতিতে কোনো ধরনের ঘাটতি না থাকে সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। আমরা রাষ্ট্রপতিকে বরণ করতে প্রস্তুত। তার সফর উপলক্ষে সিলেট সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নাগরিক সংবর্ধনার মধ্য দিয়ে আমরা রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে চাই। আহমেদ জামিল/এফএ
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কাটাসুর এলাকার বাসিন্দা মো. আলমগীর পেশায় রিকশাচালক। সকাল-বিকেল মিলিয়ে দিনে ১০-১২ ঘণ্টা পায়ে টানা রিকশা চালান তিনি। কষ্টের এই কাজের ফাঁকে দিনে তিন-চারবার টুকটাক নাশতা খেতে হয় তাঁকে। প্রতিবার অন্তত একটি বনরুটি ও এক কাপ চা খান তিনি। এত দিন প্রতিবার নাশতায় আলমগীরের খরচ হতো ২০ টাকা। এর মধ্যে বনরুটি ১০ টাকা ও দুধ চা ১০ টাকা। কিন্তু গত রোববার থেকে সেই খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ টাকায়। কারণ, বাজারে বনরুটির দাম পিসপ্রতি ৫ টাকা বেড়েছে। রাজধানীর বেশির ভাগ এলাকাতেই এখন বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে বেকারির তৈরি খোলা পাউরুটি (বনরুটি নামে পরিচিত) ও কেক। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকার বাইরেও বেশ কিছু অঞ্চলে রুটি-কেকের দাম বেড়েছে। কোনো কোনো এলাকায় দাম না বাড়লেও রুটি ও কেকের আকার ও ওজন (পরিমাণ) কামানো হয়েছে।বেকারি মালিকেরা জানিয়েছেন, গত দেড়-দুই বছরে ময়দা, চিনি, ডালডা, সয়াবিন তেল, গ্যাসসহ অন্যান্য উপকরণের দাম বেড়েছে। এ কারণে তাঁরাও ব্যবসা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে দাম বাড়িয়েছেন।বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুসারে, গত আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয় ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। এমনিতে বাজারে মাছ, মাংস, সবজি, তেল, চিনি প্রভৃতি নিত্যসামগ্রীর দাম আগের তুলনায় বেশি। সেখানে রুটি, কেকের মতো বেকারি পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচের পাল্লা আরও কিছুটা ভারী হয়েছে নিম্নবিত্ত ও খেটে খাওয়া মানুষের।রিকশাচালক আলমগীর প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুইডা খেপ (ভাড়া) মাইরা একটা রুটি, একটা চা খাওনই লাগে। না হয় শরীরে বল (শক্তি) পাই না। কিন্তু এহন খরচ ৫ টেয়া বাড়ছে।’দাম বেড়েছে ২০ শতাংশ কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে গত শনিবার থেকে রুটির দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্রেড বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি। সংগঠনটি জানিয়েছে রুটি, বিস্কুটসহ বিভিন্ন বেকারি পণ্যের দাম এবং ওজন সমন্বয় করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ২০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে।ব্যবসায়ীরা জানান, হাতে তৈরি বেকারি বিস্কুটের দাম কেজিতে গড়ে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আগে সাধারণ মানের যেসব বিস্কুট ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতো, তা বর্তমানে ১৫০ টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে, বনরুটি ও অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি ওজনেও পরিবর্তন এনে সমন্বয় করা হয়েছে। আগে যেসব বনরুটি ও মাফিন কেকের ওজন ৪০ গ্রাম ছিল, সেগুলোর দাম একই রেখে ওজন কমিয়ে ৩৫ গ্রাম করা হয়েছে। আবার ১০ বা ১২ টাকা দামের প্রতি পিছ বনরুটির দাম বাড়িয়ে ১৫ টাকা করা হয়েছে। অবশ্য এ ক্ষেত্রে বনরুটির আকার সামান্য বড় করা হয়েছে।এর আগে দাম বাড়ানোর দাবিতে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার রাজধানীর বেকারি কারখানাগুলোতে উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছিল। দুই দিন বন্ধ থাকার পর নতুন নির্ধারিত মূল্যে শনিবার সকাল থেকে বাজারে বেকারি পণ্য সরবরাহ করেছে বেকারিগুলো।রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মিরপুর, তেজগাঁও, কারওয়ান বাজার, মগবাজার, খিলগাঁও এলাকায় খোঁজ নিয়ে খুচরা পর্যায়ে বাড়তি দামে রুটি, কেক বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে।অবশ্য ঢাকার বাইরের সব এলাকায় এখনো দাম বাড়েনি। যেমন প্রথম আলোর খুলনা, চট্টগ্রাম ও সাভারের নিজস্ব প্রতিবেদক এবং রাজশাহীর প্রতিনিধি জানান, এসব এলাকায় রোববার পর্যন্ত আগের দামেই বনরুটি, কেক বিক্রি হয়েছে।রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আওরঙ্গজেব সড়কের চা বিক্রেতা জব্বার শেখ বলেন, ‘গত এক মাসে চা পাতার দাম কেজিতে ৫০ টাকা বেড়েছে। চিনির দামও আগের তুলনায় কেজিতে ৫-১০ টাকা বেড়েছে। এখন বাড়ল রুটি, কেকের দাম। এমনিতে চায়ের দাম তো আমরা বাড়াতে পারিনি। রুটি, কেকের দাম বৃদ্ধিতে উল্টো আমার বেচাকেনা কিছুটা কমে যেতে পারে।’বেকারি মালিকেরা যা বলছেন বাংলাদেশ ব্রেড বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির তথ্য অনুসারে, সারা দেশে ক্ষুদ্র বেকারির সংখ্যা প্রায় ৭ হাজার। এর মধ্যে ঢাকায় রয়েছে ৭০০টির বেশি বেকারি।রুটি ও বেকারি পণ্য তৈরির অন্যতম প্রধান কাঁচামাল হচ্ছে ময়দা, ভোজ্যতেল, ডালডা ও চিনি। পণ্য তৈরিতে লাগে গ্যাসও।ব্যবসায়ীরা জানান, গত ছয় মাসে প্রতিটি কাঁচামালের দাম বেড়েছে। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুসারে, ছয় মাস আগের তুলনায় খুচরায় প্রতি কেজি খোলা ময়দার দাম প্রায় ৩০ শতাংশ, খোলা সয়াবিন ৫ শতাংশ ও চিনির দাম গড়ে ১১ শতাংশ বেড়েছে।ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন জানান, গত এক বছরের মধ্যে বিভিন্ন কাঁচামাল ও জ্বালানির দাম বাড়ায় বেকারি পণ্য উৎপাদনের খরচ বেড়েছে ২০-২৫ শতাংশ। বিপরীতে পণ্য উৎপাদন ১০-১৫ শতাংশ কমেছে। সব মিলিয়ে বড় ধরনের চাপে রয়েছেন দেশের ছোট ও মাঝারি আকারের বেকারি ব্যবসায়ীরা।বাংলাদেশ ব্রেড বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন বলেন, ‘রুটি ও কেক তৈরির কাঁচামালের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে খরচ সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই বাধ্য হয়েই আমরা এই মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আজমের জুতাপেটার ছবি টানানোর বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা অর্ক বড়ুয়া। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক ভিডিও বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘উনাদের ইচ্ছা হয়েছে, তাই উনারা জিন্নাহর ছবি লাগিয়েছিলেন। আমাদেরও ইচ্ছা হয়েছে, তাই আমরা এটা লাগিয়ে দিয়ে এসেছি।’ অর্ক বড়ুয়া বলেন, সমস্যা শুধু ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি লাগানো নিয়ে নয়। ১৯৪৮ সালে জিন্নাহর ‘একমাত্র উর্দুই হবে রাষ্ট্রভাষা’ বক্তব্যের ছবি রাখা হলেও ওই বক্তব্যের প্রতিবাদে সভায় যারা ‘না, না’ বলে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন, ভাষা মতিনসহ অন্যদের সেই প্রতিবাদের আর্কাইভ না রাখাই মূল সমস্যা বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘সমস্যাটা তখন, যখন আপনি ইতিহাসকে কেবল ৪৭ থেকেই গণনা করা শুরু করবেন। আমাদের এই অঞ্চলের ইতিহাস তো হাজার বছরের ইতিহাস। সাঁওতাল বিদ্রোহ, ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, মাস্টারদা সূর্যসেন, প্রীতিলতা এবং নাম না জানা দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা সকল গণমানুষের গল্পই তো আমাদের ঐতিহাসিক সম্পদ।’ ডাকসু সংগ্রহশালায় ইতিহাসের একপেশে উপস্থাপনের সমালোচনা করে অর্ক বলেন, ১৯৪৭ সাল থেকে সংরক্ষিত ইতিহাসের ‘একপেশে উপস্থাপন’ না করে জনগণের নিজস্ব সংগ্রামের একটি পূর্ণাঙ্গ আর্কাইভ তৈরি করা প্রয়োজন। তার ভাষ্য, ‘এম্নেতেই আমাদের এই অঞ্চলে যারা যখন ক্ষমতায় গেছে, তারা তাদের মতো করে ইতিহাসে দখলবাজি করে গেছে। আমাদের জনগণের নিজস্ব সংগ্রামের একটা প্রকৃত ও পরিপূর্ণ আর্কাইভ নাই। ডাকসু সংগ্রহশালা সেই আর্কাইভটা হতে পারতো।’ ইতিহাসে বিভিন্ন ব্যক্তির ভূমিকা যথাযথভাবে উপস্থাপনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘বরফকে বরফ ও পানিকে পানি বলার সততা না থাকলে সেটা ইতিহাস না। কাউকে অতিমানব করলে আসলে সত্যির লগে বেইমানি করা হয়।’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে সংগ্রহশালায় থাকা কিছু উপকরণের বিষয়েও মন্তব্য করেন অর্ক। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ছবি আছে ৭২-৭৫ সালের, তাও তার ছেলের বিয়ের পেপার কাটিং এবং হেনতেন। কাউকে অতিমানব করলে আসলে সত্যির লগে বেইমানি করা হয়।’ আরও পড়ুন চবি উপাচার্য / বৈশ্বিক র্যাংকিংয়ে যেতে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে হবে ইতিহাসের খণ্ডিত বা একপেশে উপস্থাপনকে ‘ন্যারেটিভ’ হিসেবে উল্লেখ করে অর্ক বলেন, ‘আপনি যখন ইতিহাসের খণ্ড, অর্ধ বা একপেশে উপস্থাপন করবেন, তখন এটারে আর ইতিহাস বলে না, এটারে বলে ন্যারেটিভ।’ ডাকসু সংগ্রহশালা কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ডাকসু সংগ্রহশালা কোনো দল, গোষ্ঠী, পক্ষের বাপের সম্পদ না যে সেখানে আপনি যা ইচ্ছা তা রাখতে পারেন, সরাতে পারেন, আপনার ইচ্ছামতো ন্যারেটিভ পুশ করতে পারেন।’ গোলাম আজমের প্রসঙ্গে অর্ক বলেন, ‘গোলাম আজম ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিলেন। কিন্তু দেশের জনগণের সঙ্গে বেইমানি করায় ৮১ সালে তাকে জুতাপেটা করাটা গণমানুষের গণপ্রতিরোধ।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই—আপনি যে-ই হোন না কেন, দেশের মা-মাটির সঙ্গে বেইমানি করলে আপনার জন্য গণপ্রতিরোধ আসন্ন।’ সংগ্রহশালায় ছবিটি টানানোর বিষয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অর্ক বড়ুয়া। তিনি বলেন, এসব কাজ প্রশাসনের করার কথা ছিল এবং প্রশাসন দায়িত্ব পালন করলে তাদের এ ধরনের উদ্যোগ নিতে হতো না। তিনি বলেন, ‘প্রশাসন তার কাজের কাজটা করলে আমাদের এই কাজ করতে হতো না। ডাকসুর সভাপতি হিসেবে ভিসি স্যারও এর দায় এড়াতে পারেন না।’ শেষে অর্ক বলেন, ‘আমরা খালি অতোটুকুই করেছি, যতটুকু আমাদের জায়গায় আপনারা থাকলেও করতেন, যে কোনো শিরদাঁড়াসম্পন্ন মানুষ করতো।’ ডাকসু প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে দেশের নিজস্ব ইতিহাস ও গণমানুষের সংগ্রামকে সর্বোচ্চ মর্যাদার সঙ্গে সংরক্ষণ ও উপস্থাপনের উদ্যোগ প্রশাসনের নেওয়া উচিত। এমআরএম