স্বাস্থ্য

নতুন ভাইরাসের আতঙ্ক: কীভাবে বাঁচবেন আপনি ও আপনার পরিবার?

আয়ান তাহরিম জুন ২৮, ২০২৫ 0
নতুন ভাইরাসের আতঙ্ক: কীভাবে বাঁচবেন আপনি ও আপনার পরিবার?
নতুন ভাইরাসের আতঙ্ক: কীভাবে বাঁচবেন আপনি ও আপনার পরিবার?

বিশ্ব এখন আবার এক অজানা ভাইরাসের আতঙ্কে। কোভিড-১৯ এর দুঃসহ অভিজ্ঞতা এখনও সবার মনে তাজা। সেই রকমই আরেকটি ভাইরাসের সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে। যদিও এর নাম, প্রকৃতি ও বিস্তার এখনও সম্পূর্ণভাবে জানা যায়নি, তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন এটি সংক্রমণযোগ্য এবং মানুষের জীবনধারায় নতুন করে প্রভাব ফেলতে পারে।

এই নতুন ভাইরাস মূলত সর্দি, জ্বর, গলা ব্যথা ও ক্লান্তি দিয়ে শুরু হয়। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট, বমি, কিংবা দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসকরা এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলতে না পারলেও এ নিয়ে চলছে গবেষণা। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে—আবার কি লকডাউন আসছে? আবার কি স্কুল-কলেজ বন্ধ হয়ে যাবে? মাস্ক, স্যানিটাইজার, দূরত্ব—সব আবার শুরু?

এমন আতঙ্কের সময় সবচেয়ে প্রয়োজন সচেতনতা ও প্রস্তুতি। আতঙ্কিত না হয়ে আমাদের উচিত তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং পরিবারকে সুরক্ষিত রাখার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস গড়ে তোলা।

প্রথমেই আসি ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে। ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, বিশেষ করে বাইরে থেকে এসে, খাবার খাওয়ার আগে ও পরে। অ্যালকোহল-ভিত্তিক হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারও উপকারী। চোখ, মুখ ও নাক বারবার স্পর্শ না করাই ভালো, কারণ এখান থেকেই ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

মাস্ক পরার অভ্যাস আবার গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে জনসমাগমপূর্ণ জায়গায় গেলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। এতে শুধু নিজেকে নয়, অন্যদেরও রক্ষা করা যায়। মনে রাখা দরকার, ভাইরাস বাহক ব্যক্তি নিজে অসুস্থ না হলেও অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে।

পর্যাপ্ত পানি পান করা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম—এই সবগুলোই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ঘরে যদি ছোট বাচ্চা বা বৃদ্ধ কেউ থাকে, তাদের আরও বেশি যত্ন নেওয়া প্রয়োজন, কারণ এদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে দুর্বল।

যাদের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিচ্ছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ না নেওয়াই ভালো। অনেক সময় গুজব বা সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো ভুল তথ্য মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কিংবা স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুসরণ করাই সর্বোত্তম।

এছাড়া অফিস বা স্কুল-কলেজ কর্তৃপক্ষেরও উচিত প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণে কঠোরতা আরোপ করা। যদি ভাইরাসটির প্রকোপ বাড়ে, তবে সরকার কর্তৃক নির্দেশিত নির্দেশিকা মানা জরুরি হবে। সবাই মিলে যদি সচেতনভাবে এগিয়ে আসে, তবে ভয় নয়, বরং দায়িত্ব নিয়েই এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।

সবশেষে বলা যায়—নতুন ভাইরাসের আতঙ্ক সত্য, কিন্তু আতঙ্কিত হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া আরও ভয়াবহ হতে পারে। স্বাস্থ্যবিধি মানা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক দায়িত্ব পালন—এই তিনটি পথই আমাদের রক্ষা করতে পারে।

আপনার সচেতনতা মানেই আপনার পরিবারের নিরাপত্তা। আমরা যদি সবাই সচেতন থাকি, তবে একসঙ্গে এই সংকটও অতিক্রম করা সম্ভব।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

স্বাস্থ্য

View more
সাপের কামড়ের চিকিৎসায় নতুন অ্যান্টিভেনম, হতে পারে যুগান্তকারী
সাপের কামড়ের চিকিৎসায় নতুন অ্যান্টিভেনম, হতে পারে যুগান্তকারী

সাপের বিষে আক্রান্ত মানুষকে বাঁচাতে চিকিৎসকদের হাতে এত দিন ছিল সীমিত কিছু উপায়। বিষধর সাপের প্রজাতিভেদে বিষের ধরনও আলাদা। তাই একটি অ্যান্টিভেনম দিয়ে সব ধরনের বিষ মোকাবিলা করা কঠিন। এবার সে সমস্যার সমাধানে নতুন আশার কথা জানিয়েছেন ভারত ও ডেনমার্কের বিজ্ঞানীরা। তারা এমন একটি অ্যান্টিভেনম তৈরি করেছেন, যা ভারতের বিভিন্ন প্রজাতির কোবরার বিষের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে। গবেষকদের ধারণা, এ চিকিৎসা পদ্ধতি সফল হলে বিশ্বজুড়ে সাপের কামড়ে মৃত্যুর সংখ্যা ব্যাপক হারে কমানো সম্ভব হবে। গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িকী ‘সায়েন্স ট্রান্সলেশনাল মেডিসিন’-এ গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নতুন অ্যান্টিভেনমটি পাঁচ ধরনের ক্ষুদ্র অ্যান্টিবডি খণ্ড বা ন্যানোবডি দিয়ে তৈরি। পরীক্ষায় চশমা কোবরা, মনোকলড কোবরা ও ভারতের দুই প্রজাতির কিং কোবরার বিষ ঠেকাতে এটি খুবই কার্যকর হয়েছে। শুধু ভারতেই প্রতি বছর সাপের কামড়ে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হয়। এ সংখ্যা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি। সাপের প্রজাতিভেদে বিষের ধরনও আলাদা। কোনো বিষ স্নায়ুতন্ত্রে আঘাত করে, আবার কোনোটি রক্ত বা শরীরের বিভিন্ন টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই সব ধরনের বিষের বিরুদ্ধে একই অ্যান্টিভেনম তৈরি করা কঠিন। আরও পড়ুন অভিনয় করছে সাপ, চরিত্র পেতে দিতে হলো অডিশনও! হাসপাতালে ব্যবহৃত অ্যান্টিভেনমেরও বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে তৈরি করা অ্যান্টিভেনমের কার্যকারিতায় পার্থক্য থাকতে পারে। এছাড়া এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। পাশাপাশি সব প্রজাতির সাপের বিষের বিরুদ্ধে এটি সমানভাবে কাজও করে না। প্রচলিত পদ্ধতিতে অ্যান্টিভেনম তৈরির জন্য ঘোড়ার মতো প্রাণীকে বারবার বিষপ্রয়োগ করা হয়। এতে প্রাণীর শরীরে বিষের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। পরে প্রাণীর রক্ত থেকে সেই অ্যান্টিবডি সংগ্রহ করে অ্যান্টিভেনম তৈরি করা হয়। এ পদ্ধতিতে খরচ যেমন বেশি, তেমনি প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডিও তুলনামূলক কম পাওয়া যায়। তবে, নতুন পদ্ধতিতে অ্যান্টিবডি তৈরির প্রক্রিয়াটি কিছুটা ভিন্ন। গবেষকরা বিভিন্ন প্রজাতির কোবরার বিষ লামা ও আলপাকার মতো উটজাতীয় প্রাণীর শরীরে প্রয়োগ করেন। এরপর এসব প্রাণীর রক্তে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করে দেখা হয়, কোন অ্যান্টিবডি বিষের ক্ষতিকর উপাদান নিষ্ক্রিয় করতে পারে। পরে, সেই অ্যান্টিবডিগুলো শনাক্ত করে পরীক্ষাগারে অণুজীবের মাধ্যমে তৈরি করার সম্ভাবনা দেখেছেন বিজ্ঞানীরা। আরও পড়ুন সাপের শরীরে কেমোথেরাপি, ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন ইতিহাস এভাবে পাওয়া অ্যান্টিবডিগুলো থেকে গবেষকরা পাঁচটি ন্যানোবডি বেছে নেন। পরে এগুলো মিলিয়ে তৈরি করেন অ্যান্টিবডির একটি মিশ্রণ বা ককটেল। এ অ্যান্টিবডিগুলো কোবরার বিষের ক্ষতিকর উপাদানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিষকে শরীরের নির্দিষ্ট কোষ বা টিস্যুতে পৌঁছাতে বাধা দেয়। পরীক্ষায় এ অ্যান্টিবডি ককটেল বিষের কার্যকারিতা ঠেকাতে সফল হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে বিষপ্রয়োগের ৩০ মিনিট পরও এটি ইঁদুরকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়েছে। এমনকি বিষের কারণে যেসব ইঁদুর পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল বা স্নায়ুতন্ত্রে বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দিয়েছিল, তারাও পরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। তাদের শরীরে বিষক্রিয়ার কোনো উপসর্গও দেখা যায়নি। আরও পড়ুন সাপ ধরার কৌশল প্রদর্শনীতে কর্মকর্তার মৃত্যু গবেষণার অন্যতম লেখক কার্তিক সুনাগর বলেন, অ্যান্টিভেনম চিকিৎসায় প্রায় ১০০ বছর ধরে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। নতুন এ পদ্ধতি ভারতের সাপের কামড়ের সমস্যা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন তিনি। অন্যদিকে, ডেনমার্কের টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী ও গবেষণার আরেক লেখক আন্দ্রেয়াস লাউটসেন বলেন, এ গবেষণা নতুন ধরনের অ্যান্টিভেনম তৈরির একটি পথ দেখিয়েছে। স্থানীয় সাপের বিষে যেসব উপাদান মানুষের শরীরে বেশি ক্ষতি করে, সেগুলো লক্ষ্য করে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য আলাদা অ্যান্টিভেনম তৈরি করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি। পাশাপাশি, নতুন অ্যান্টিবডিতে আরও উপাদান যুক্ত করে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষধর সাপের বিরুদ্ধেও এর কার্যকারিতা বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। তবে, মানুষের চিকিৎসায় এটি ব্যবহারের আগে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন বলে মনে করছেন গবেষকরা। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট এমডিআরএইচ/

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
হামের লক্ষণ ও প্রতিকার কী 

হামের লক্ষণ ও প্রতিকার কী 

সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে: ডা. জুবাইদা রহমান

সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে: ডা. জুবাইদা রহমান

‘নোংরা’ থাকাই কি স্বাস্থ্যকর জীবনের নতুন সংজ্ঞা? গবেষণায় মিলেছে চমকপ্রদ তথ্য

‘নোংরা’ থাকাই কি স্বাস্থ্যকর জীবনের নতুন সংজ্ঞা? গবেষণায় মিলেছে চমকপ্রদ তথ্য

পিসিওএস কেন হয়, এর লক্ষণ ও চিকিৎসা কী | পর্ব–০৩ | নুভিস্তা ফার্মা
পিসিওএস কেন হয়, এর লক্ষণ ও চিকিৎসা কী | পর্ব–০৩ | নুভিস্তা ফার্মা

নুভিস্তা ফার্মার আয়োজনে ‘পিসিওএস (PCOS) সচেতনতা মাস’ উপলক্ষে বিশেষ আলোচনা। সহযোগিতায় এলিসা ও লিয়ানা।এ পর্বের আলোচনায় বিষয়—পিসিওএস (PCOS) কী, কেন হয়, এর লক্ষণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে কী জানা জরুরি এবং পিসিওএস (PCOS) নিয়ে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা।আলোচকপ্রফেসর শাহানারা চৌধুরীসাবেক প্রেসিডেন্ট, ওজিএসবি চট্টগ্রামভাইস প্রেসিডেন্ট, এফএসএসবিপ্রফেসর মলয় কান্তি চক্রবর্তীসাবেক অধ্যক্ষ ও বিভাগীয় প্রধান (গাইনী), নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ, নোয়াখালীসাবেক সভাপতি, ওজিএসবি, নোয়াখালী শাখাসঞ্চালকডা. সালমা আক্তার শিমুসহযোগী অধ্যাপকচট্টগ্রাম মা-ও-শিশু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় পুতুলের নিয়োগই দুঃখজনক, তিনি যোগ্য ছিলেন না

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় পুতুলের নিয়োগই দুঃখজনক, তিনি যোগ্য ছিলেন না

ডেঙ্গুতে প্রাণহানি বাড়ছেই, সেপ্টেম্বরের ১৩ দিনে মৃত্যু অর্ধশত ছাড়ালো

ডেঙ্গুতে প্রাণহানি বাড়ছেই, সেপ্টেম্বরের ১৩ দিনে মৃত্যু অর্ধশত ছাড়ালো

কুমারখালীতে ২২ বছর ধরে চলছে বিনামূল্যের চক্ষু সেবা ক্যাম্প

কুমারখালীতে ২২ বছর ধরে চলছে বিনামূল্যের চক্ষু সেবা ক্যাম্প

পিৎজা খেয়েও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখবেন যেভাবে
পিৎজা খেয়েও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখবেন যেভাবে

পিৎজার নাম শুনলেই অনেকের জিভে পানি চলে আসে। আট থেকে আশি-এই ইতালিয়ান খাবারের জনপ্রিয়তা এখন আর শুধু বিদেশের গণ্ডিতে আটকে নেই। চিকেন পিৎজা, বারবিকিউ পিৎজা কিংবা চিজি পিৎজা-স্বাদে নতুনত্ব আনতে নানা ধরনের পিৎজা এখন পাওয়া যায়। কিন্তু ওজন কমানোর চেষ্টা করলে পিৎজার নাম শুনেই অনেকেই দূরে সরে যান। কারণ পিৎজায় সাধারণত পরিমাণমতো ময়দার বেস, চিজ ও বিভিন্ন টপিং থাকে। সঙ্গে যদি সফট ড্রিংক কিংবা অতিরিক্ত চিজ যোগ হয়, ক্যালোরির পরিমাণ বেশ বেড়ে যায়। তবে তার মানে এই নয় যে ডায়েট করলে পছন্দের খাবার একেবারেই খাওয়া যাবে না। বরং পরিমাণ ও খাবারের সঙ্গে কী খাচ্ছেন-সেদিকে একটু নজর রাখলেই মাঝে মাঝে পিৎজা কেতে পারেন। পিৎজার সঙ্গে সফট ড্রিংক নয় পিৎজা খাওয়ার সময় সঙ্গে ঠান্ডা পানীয় রাখার অভ্যাস অনেকেরই। কিন্তু ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে এই অভ্যাসটি পরিবর্তন করতে হবে। কারণ চিনিযুক্ত সফট ড্রিংক থেকে খুব সহজেই অতিরিক্ত ক্যালরি যোগ হতে পারে।  তাই পিৎজার সঙ্গে সফট ড্রিংকের বদলে পানি, সোডা ওয়াটার বা চিনি ছাড়া কোনো পানীয় বেছে নিতে পারেন। এতে পিৎজার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণের সম্ভাবনা কমবে। সঙ্গে রাখুন প্রোটিন ও ফাইবার শুধু পিৎজা খেলে অনেকেরই একের পর এক স্লাইস খেতে ইচ্ছা করতে পারে। এই অভ্যাস এড়াতে পিৎজার সঙ্গে ফাইবার ও প্রোটিনসমৃদ্ধ সালাদ রাখতে পারেন। শসা, টমেটো, লেটুস, গাজরের মতো সবজি দিয়ে সালাদ বানাতে পারেন। চাইলে সঙ্গে গ্রিলড চিকেন, ডিম কিংবা অন্য কোনো পছন্দের প্রোটিন যোগ করা যায়। ফাইবার ও প্রোটিনযুক্ত খাবার তুলনামূলক বেশি সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করতে পারে। ফলে পিৎজা খাওয়ার সময় অতিরিক্ত খেয়ে ফেলার প্রবণতাও কিছুটা কমতে পারে। তবে সালাদের সঙ্গে অতিরিক্ত মেয়োনিজ, ক্রিমি ড্রেসিং বা চিজ যোগ করলে উল্টো ক্যালরি বেড়ে যেতে পারে। তাই ড্রেসিংয়ের পরিমাণেও নজর রাখা জরুরি। অতিরিক্ত চিজ এড়িয়ে চলুন পিৎজাতে অনেকেই বেশি চিজ খেতে পছন্দ করেন। অর্ডার করার সময় বাড়তি চিজ যোগ করাও কারো কারো অভ্যাস। কিন্তু ওজন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে অতিরিক্ত চিজ এড়িয়ে চলাই ভালো। পিৎজায় আগে থেকেই চিজ থাকে। তাই বাড়তি চিজ না চেয়ে স্বাভাবিক পরিমাণেই খেতে পারেন। চাইলে বেশি সবজি ও তুলনামূলক হালকা টপিং বেছে নিতে পারেন। চিকেন বা অন্য প্রোটিন টপিং নিলে সেটি কীভাবে রান্না করা হয়েছে, সেটিও খেয়াল করুন। অতিরিক্ত তেল বা ভাজা টপিংয়ের বদলে গ্রিলড বা রোস্টেড অপশন তুলনামূলক ভালো হতে পারে। স্লাইসের সংখ্যাতেও নজর দিন ডায়েটের মধ্যে পিৎজা খেলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো পরিমাণ। ‘আজ পিৎজা খাব’ ভেবে একসঙ্গে অনেকটা খেয়ে ফেলার বদলে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমাণ ঠিক করুন। ধীরে ধীরে খেলে কখন পেট ভরে যাচ্ছে, সেটিও বুঝতে সুবিধা হয়। আরও পড়ুন নারিকেল তেল কি সত্যিই সুপারফুড? চুল-ত্বকের যত্নেও কতটা কাজে দেয় আর একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি-কোনো একটি খাবার একা ওজন বাড়ায় বা কমায় না। দিনের মোট খাবার, মোট ক্যালোরি, শারীরিক পরিশ্রম, ঘুম ও সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস মিলিয়েই ওজনের ওপর প্রভাব পড়ে। আরও পড়ুন কত কেজির ইলিশ কিনলে স্বাদে ভালো হয় জানেন? তাই ডায়েট মানেই পিৎজা চিরতরে বাদ নয়। মাঝে মাঝে পিৎজা খেতে পারেন, তবে পরিমাণ বুঝে এবং সঙ্গে কী খাচ্ছেন, সেটি মাথায় রেখে। পছন্দের খাবারকে পুরোপুরি নিষেধ না করে সচেতনভাবে খাওয়ার অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যাভ্যাস ধরে রাখতে বেশি বাস্তবসম্মত। সূত্র: মায়ো ক্লিনিক, এনডিটিভি এসএকেওয়াই

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
চোখের সামনে কালো, গোল ছায়া দেখতে পাওয়া কি কোনো রোগ

চোখের সামনে কালো, গোল ছায়া দেখতে পাওয়া কি কোনো রোগ

১ আগস্ট থেকে দেওয়া হবে টাইফয়েডের টিকা, পাবে যারা

১ আগস্ট থেকে দেওয়া হবে টাইফয়েডের টিকা, পাবে যারা

দেশের ১৯২ নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে সেবা সম্প্রসারণ হবে: মন্ত্রী

দেশের ১৯২ নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে সেবা সম্প্রসারণ হবে: মন্ত্রী

0 Comments