জাতীয়

নকল ও নিম্নমানের লুব্রিকেন্ট অয়েল: ঝুঁকিতে ইঞ্জিন, অর্থনীতি ও পরিবেশ

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
নকল ও নিম্নমানের লুব্রিকেন্ট অয়েল: ঝুঁকিতে ইঞ্জিন, অর্থনীতি ও পরিবেশ
নকল ও নিম্নমানের লুব্রিকেন্ট অয়েল: ঝুঁকিতে ইঞ্জিন, অর্থনীতি ও পরিবেশ

গত মঙ্গলবার প্রথম আলো ও মোবিলের (এমজেএল বাংলাদেশ পিএলসি) যৌথ উদ্যোগে ‘নিম্নমানের ইঞ্জিন অয়েলের প্রভাব, ঝুঁকিতে ইঞ্জিন অর্থনীতি পরিবেশ’ শীর্ষক বিশেষ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। সংলাপে উপস্থাপিত তথ্য ও নীতিনির্ধারক, বিশেষজ্ঞ এবং ব্যবসায়ীদের বক্তব্যে দেশে ৩০ শতাংশ অনুমোদনহীন, নকল ও নিম্নমানের ভেজাল লুব্রিকেন্ট অয়েলের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। পাশাপাশি তাঁরা সমাধানের জন্য একগুচ্ছ সুপারিশ করেন। প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক ফিরোজ চৌধুরীর সঞ্চালনায় সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রথম আলোর বিজনেস সাপ্লিমেন্ট প্রধান শামসুল হক মো. মিরাজ

যন্ত্র ও অর্থনীতি রক্ষায় লুব্রিকেন্ট খাতে সমন্বয় প্রয়োজন

ড. সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া

সদস্য, পেট্রোলিয়াম বিভাগ, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)

ড. সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া

বাজারে নিম্নমানের ও ভেজাল ইঞ্জিন অয়েলের অনিয়ন্ত্রিত উপস্থিতির কারণে সবচেয়ে বড় ক্ষতির শিকার হচ্ছেন সাধারণ ভোক্তারা। মানহীন লুব্রিকেন্ট ব্যবহারের ফলে যানবাহন এবং শিল্পকারখানার দামি ও স্পর্শকাতর মেকানিক্যাল যন্ত্রপাতি খুব দ্রুত বিকল হয়ে পড়ে। এতে ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকদের যেমন বড় অঙ্কের মেরামত খরচ গুনতে হচ্ছে, তেমনি শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়ে পুরো জাতীয় অর্থনীতিতেই নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

নিম্নমানের তেল ইঞ্জিনের ঘর্ষণ বাড়ায় এবং তাপীয় ভারসাম্য নষ্ট করে। ফলে ইঞ্জিনের মূল কার্যক্ষমতা কমে যায় এবং অতিরিক্ত জ্বালানি অপচয় হয়। জ্বালানি দক্ষতা কমে যাওয়ায় একদিকে যেমন ব্যবহারকারীর পকেটের টাকা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষতিকর ধোঁয়া নির্গমনের মাধ্যমে পরিবেশকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

এই সংকট কাটিয়ে উঠতে রেগুলেটরি কাঠামোর দুর্বলতা দূর করতে হবে। পেট্রোলিয়াম ও লুব্রিকেন্ট খাতে পূর্ণ শৃঙ্খলা ফেরাতে বিইআরসিসহ সরকারের অন্যান্য তদারকি সংস্থার মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় ঘটাতে হবে। সমন্বিত নজরদারি, আধুনিক মানদণ্ড নির্ধারণ এবং কঠোর নীতিমালা নিশ্চিত করতে না পারলে এই ভেজাল চক্র নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।

যথাযথ মান প্রণয়ন ও মোবাইল কোর্ট জোরদার করা হচ্ছে

কাজী ইমদাদুল হক

মহাপরিচালক, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।

কাজী ইমদাদুল হক

আশির দশকের পুরোনো মান বাতিল করে বিএসটিআই ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আধুনিক ‘বিডিএস ২০২৯’ মানদণ্ড প্রণয়ন করছে। এই মান অনুযায়ী স্থানীয় পর্যায়ের ৬৩টি কোম্পানির মান আমরা পরীক্ষা করছি। এ ছাড়া গত এক বছরে ১ হাজার ৩৪৩টি আমদানি চালন পরীক্ষা করা হয়েছে।

বিএসটিআইয়ের মাঠপর্যায়ের অভিযান অব্যাহত আছে। সম্প্রতি ঢাকার বিভিন্ন এলাকার আটটি স্পটে ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করেছিল বিএসটিআইয়ের টিম। দুর্ভাগ্যবশত আটটি স্পটের প্রতিটি স্থানেই নকল ও ভেজাল তেলের উপস্থিতি পাওয়া গেছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক মামলা করা হয়েছে। এতে প্রমাণিত হয় বাজারে ভেজালের মাত্রা কতটা ভয়াবহ।

অসাধু ভেজালকারীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে বিএসটিআই মোবাইল কোর্ট আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে, যাতে জরিমানা ও কারাদণ্ডের মাত্রা আরও বাড়ানো যায়। পাশাপাশি বায়ুদূষণ কমাতে দেশের ব্যবহৃত জ্বালানি তেলে সালফারের মাত্রা ১০ পিপিএমে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে বিএসটিআই। আগামী দিনে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে লুব্রিকেন্ট খাতকে ভেজালমুক্ত করার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

সরবরাহ শৃঙ্খলে নজরদারি ও যৌথ অভিযান হবে

মো. জহিরুল ইসলাম

মহাপরিচালক, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর (ডিএনসিআরপি)

মো. জহিরুল ইসলাম

ভেজাল ও নকল লুব্রিকেন্ট অয়েলের বিরুদ্ধে পুরো সরবরাহব্যবস্থায় কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভেজাল তেলের কারবারিরা দেশের সাধারণ ভোক্তাদের সরাসরি প্রতারিত করছে এবং অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, যা ভোক্তা অধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

অধিদপ্তর শুধু সাধারণ খুচরা দোকানে অভিযান চালিয়ে ক্ষান্ত হবে না। লুব্রিকেন্টের আমদানি পর্যায় থেকে শুরু করে উৎপাদনকারী কারখানা, ডিস্ট্রিবিউটর বা পাইকারি বাজার এবং সর্বশেষ খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত পুরো ‘সাপ্লাই চেইন’ কঠোর নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে। খুচরা দোকানে আসল তেলের চেয়ে নকল তেলে কেন ২০০ টাকা অতিরিক্ত লাভ থাকে—সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অসাধু লাভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আগামী দিনে বিএসটিআই, পুলিশ ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে সঙ্গে নিয়ে যৌথ অভিযান জোরদার করা হবে। যারা নকল বোতলে নামী ব্র্যান্ডের স্টিকার লাগিয়ে ভেজাল তেল বিক্রি করছে, সেই অসাধু সিন্ডিকেটের মূল উৎসে আঘাত হানা হবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে সচেতনতা বৃদ্ধি ও বৈধ লুব্রিকেন্ট খাতকে সুরক্ষিত করার চেষ্টা থাকবে।

আশির দশকের মানদণ্ড বাতিল করে উৎসে অভিযান চালাতে হবে

মো. মুকুল হোসেন

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), এমজেএল বাংলাদেশ পিএলসি

মো. মুকুল হোসেন

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ও দেশের সড়কেও আধুনিক প্রযুক্তির ইঞ্জিন ব্যবহৃত হচ্ছে। অথচ আমাদের দেশে মান নিয়ন্ত্রণের নীতিমালায় এখনো আশির দশকের পুরোনো মানের লুব্রিকেন্টের অনুমোদন রয়ে গেছে, যা বিশ্ববাজার থেকে অনেক আগেই বাতিল হয়ে গেছে।

এখন বাজারের লুব্রিকেন্টের ৫২ থেকে ৬০ শতাংশই পুরোনো মানদণ্ডের। এর সুযোগ নিয়ে অসাধু চক্র বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভেজাল ইঞ্জিন অয়েল তৈরি করছে। কেবল রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশেই ৩০ থেকে ৪০টি অবৈধ কারখানা সক্রিয় রয়েছে। এসব কারখানায় বিভিন্ন স্থান থেকে সংগৃহীত পোড়া তেল কেমিক্যাল ও ডাই মিশিয়ে পরিষ্কার করে নামীদামি ব্র্যান্ডের নকল বোতলে ভরে বাজারজাত করা হচ্ছে।

বাজারে আসল তেলের চেয়ে নকল তেলে খুচরা বিক্রেতাদের লাভের পরিমাণ ২০০ টাকা পর্যন্ত বেশি হওয়ায় অসাধু দোকানদারেরা এটি বিক্রি করতে উৎসাহিত হচ্ছে। এতে আসল ও বৈধ ব্র্যান্ডগুলো চরম অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে। খুচরা দোকানে ছোটখাটো অভিযান চালানোর চেয়ে অবৈধ উৎপাদনের মূল উৎসে অভিযান চালিয়ে কারখানাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।

যানবাহনের বিষাক্ত ধোঁয়ায় অকালমৃত্যু বাড়ছে

মুহাম্মদ সোলাইমান হায়দার

অতিরিক্ত মহাপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর

মুহাম্মদ সোলাইমান হায়দার

ভেজাল ও নিম্নমানের ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহারে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি ও বায়ুদূষণ বাড়ছে। বায়ুদূষণের কারণে বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ১ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বায়ুদূষণের অন্তত ৩০ শতাংশ সরাসরি আসে যানবাহনের ত্রুটিপূর্ণ নির্গমন বা বিষাক্ত ধোঁয়া থেকে।

ইঞ্জিনে মানহীন লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করলে তা পূর্ণাঙ্গভাবে দাহ্য হয় না এবং ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এর ফলে নির্গত ধোঁয়ার সঙ্গে বাতাসে মারাত্মক ক্ষতিকর ফাইন পার্টিকুলেট ম্যাটার (পিএম ২.৫), অত্যন্ত বিষাক্ত নাইট্রোজেন অক্সাইড এবং সালফার অক্সাইড ছড়িয়ে পড়ে। এসব ক্ষুদ্র কণা মানুষের শ্বাসনালি দিয়ে সহজেই ফুসফুস ও রক্তে প্রবেশ করে দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসকষ্ট, ক্যানসার ও হৃদ্‌রোগের কারণ হচ্ছে।

পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় যানবাহনের ধোঁয়া নির্গমন নিয়ন্ত্রণ করা অপরিহার্য। কেবল ফিটনেস সনদ দিয়ে এটি বন্ধ করা যাবে না, ইঞ্জিনে কী মানের তেল ব্যবহার করা হচ্ছে, তা–ও নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তর, বিআরটিএ এবং বিএসটিআইয়ের যৌথ উদ্যোগে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার পাশাপাশি ও কঠোর মনিটরিং নিশ্চিত করা দরকার।

পোড়া তেলে ধ্বংস হচ্ছে মাটির প্রাণ ও জলজ জীবন

ড. রাওশন মমতাজ

অধ্যাপক, পুরকৌশল বিভাগ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)

ড. রাওশন মমতাজ

লুব্রিকেন্টের অপব্যবহার ও অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্য প্রাকৃতিক পরিবেশকে ধ্বংস করছে। মানহীন লুব্রিকেন্টের ব্যবহার শুধু ইঞ্জিন নষ্ট বা বায়ুদূষণেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি মাটি ও পানি ইকোসিস্টেমের জন্য এক মহাবিপর্যয় ডেকে আনছে।

দেশে বাস-ট্রাক, মোটরসাইকেলের পাশাপাশি কৃষি খাতে সেচপাম্প ও ট্রাক্টরে প্রচুর লুব্রিকেন্ট ব্যবহৃত হয়; কিন্তু কাজ শেষে গ্যারেজ, ওয়ার্কশপ ও কৃষিজমি থেকে এই ব্যবহৃত পোড়া তেল সরাসরি মাটিতে ও ড্রেন-নালায় ফেলে দেওয়া হয়। বিষাক্ত কেমিক্যালসমৃদ্ধ এই তেল মাটিতে মিশে মাটির প্রাকৃতিকভাবে উর্বর রাখা কেঁচো এবং উপকারী অণুজীবগুলোকে মেরে ফেলে, যার ফলে মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা শক্তি চিরতরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

একই সঙ্গে বৃষ্টির পানিতে ধোয়ে এই পোড়া তেল যখন নদীনালা ও জলাশয়ে গিয়ে পড়ে, তখন পানির উপরিভাগে তেলের একটি পাতলা আস্তরণ তৈরি হয়। এই আস্তরণ বায়ুমণ্ডল থেকে পানিতে অক্সিজেন প্রবেশের পথ বন্ধ করে দেয়, ফলে জলজ প্রাণী ও মাছ অক্সিজেনের অভাবে মারা যায়। উৎসে কেমিক্যালের মান নিয়ন্ত্রণ, ব্যবহৃত পোড়া তেল যত্রতত্র ফেলা নিষিদ্ধ করা এবং তা পুনর্ব্যবহারের পরিবেশবান্ধব নীতিমালা করা উচিত।

বন্দরে কড়াকড়ি ও দ্রুত টাস্কফোর্স অভিযান প্রয়োজন

এ এইচ এম সফিকুল জামান

সভাপতি, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)

এ এইচ এম সফিকুল জামান

দেশের কোটি কোটি সাধারণ ভোক্তা না বুঝে নিম্নমানের ও নকল ইঞ্জিন অয়েল কিনে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন। এতে তাঁদের কষ্টের উপার্জিত অর্থ যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি বাহন বিকল হয়ে নিরাপত্তার ঝুঁকিতে পড়ছেন।

দুবাইসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বাতিলকৃত বা অত্যন্ত নিম্নমানের রিফাইন্ড তেল কম দামে বাংলাদেশে আমদানি বা ডাম্পিং করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ডাম্প হওয়া এই তেল কাস্টমসে মিথ্যা তথ্য দিয়ে দেশে ঢোকানো হয়। তাই এই অনিয়ম বন্ধ করতে কাস্টমস এবং চট্টগ্রাম বন্দরে পরীক্ষার ব্যবস্থা জোরদার ও কড়াকড়ি আরোপ করতে হবে।

এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে তিনটি মূল প্রস্তাব দিচ্ছি। প্রথমত, দেশে কিউআর কোড স্ক্যানিং আইন দ্রুত প্রয়োগ করা, যাতে গ্রাহকেরা কোনটা আসল তেল তা যাচাই করতে পারেন। দ্বিতীয়ত, ভোক্তা অধিকার, বিএসটিআই ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্সের মাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অসাধু প্রস্তুতকারকদের ডেরায় সরাসরি ঝটিকা যৌথ অভিযান চালানো। এবং তৃতীয়ত, সস্তা তেলের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করা।

মানহীন তেলে নষ্ট হচ্ছে লাখ লাখ টাকার গাড়ি

আবদুল হক

সভাপতি, বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ট্র্যাকার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)

আবদুল হক

আমদানীকৃত লাখ লাখ টাকা মূল্যের পুনঃবায়নকৃত (রিকন্ডিশন) যানবাহনগুলো ভেজাল ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহারের কারণে অকালেই বিকল হয়ে পড়ছে। একজন গ্রাহক ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা বা তারও বেশি ব্যয় করে একটি গাড়ি কেনেন। কিন্তু সামান্য কিছু টাকা বাঁচাতে গিয়ে বা না বুঝে বাজার থেকে নকল ও সস্তা লুব্রিকেন্ট কিনে ব্যবহার করার ফলে মাত্র কয়েক দিন বা কয়েক মাসের মধ্যেই সেই নতুন গাড়ির ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

যানবাহন যদি সঠিকভাবে মেইনটেন্যান্স করা যায় এবং সঠিক মানের তেল ব্যবহার করা হয়, তবে একটি গাড়ি দীর্ঘদিন সচল থাকে, যা সামগ্রিকভাবে দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করে। কিন্তু ভেজাল তেলের কারণে গাড়ি অকেজো হয়ে নতুন যন্ত্রাংশ বারবার আমদানি করতে হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কঠোর প্রশাসনিক কাঠামো জোরদার করা উচিত। লুব্রিকেন্ট বিক্রির খুচরা দোকান এবং অটোমোবাইল মেকানিকদের নিবন্ধনের আওতায় আনতে হবে। কে কোত্থেকে তেল কিনছে এবং গাড়িতে কী তেল ঢালছে—তার নজরদারি ব্যবস্থা না থাকলে দেশের বৈধ ও আসল তেলের ব্যবসা টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।

৫১ লাখ বাইকার নকল লুব্রিকেন্টের শিকার

শুভ্র সেন

প্রতিষ্ঠাতা, বাইকবিডি

শুভ্র সেন

দেশে মোটরসাইকেলচালকদের নিরাপত্তা ও আর্থিক সুরক্ষায় নকল ইঞ্জিন অয়েল একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মিলিয়ে প্রায় ৫১ লাখ মোটরসাইকেল চলাচল করে। মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের অধিকাংশই মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ, যাঁরা প্রতিদিনের যাতায়াত বা রাইড শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু বাজারে ছড়িয়ে থাকা সস্তা ও নকল তেলের প্রধান শিকারে পরিণত হচ্ছেন এই চালকেরাই।

সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণে একটি মোটরসাইকেল ১৫ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত সচল ও নিরাপদ থাকে। ভেজাল ইঞ্জিন অয়েলের কারণে মাত্র ৭ থেকে ৮ বছরের মধ্যেই সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। চালকদের বারবার মেকানিকের সেবা এবং নতুন ইঞ্জিন বা যন্ত্রাংশ কিনতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে।

এই সংকট সমাধানে সঠিক তথ্য ও রক্ষণাবেক্ষণ নজরদারিতে আনতে কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ গঠন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি পুরোনো ও ব্যবহৃত খালি লুব্রিকেন্টের বোতল যাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা কুড়িয়ে নিয়ে আবার ভেজাল তেল ভরে বিক্রি করতে না পারে, সে জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে পোড়া তেল প্রক্রিয়া করার স্পষ্ট রূপান্তর নীতিমালা প্রণয়ন করা জরুরি।

মানহীন তেলে ওভারহিটিং ও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি

মো. ছালেহ উদ্দিন

উপপরিচালক, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স

মো. ছালেহ উদ্দিন

ভেজাল ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহারের ভয়াবহ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে সড়ক ও শিল্পকারখানার অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি রয়েছে। নিম্নমানের ইঞ্জিন অয়েলের পিচ্ছিল করার (লুব্রিকেশন) ক্ষমতা অত্যন্ত কম থাকে। ফলে চলমান ইঞ্জিনের ভেতরে ধাতব যন্ত্রাংশগুলোর মধ্যে চরম ঘর্ষণ ও অতিরিক্ত তাপ বা ‘ওভারহিটিং’ তৈরি হয়।

চলন্ত অবস্থায় বা কারখানা চালু থাকা অবস্থায় এই ওভারহিটিং থেকে ইঞ্জিনে হঠাৎ করে আগুন ধরে যেতে পারে। সম্প্রতি সড়ক ও বিভিন্ন শিল্পকারখানায় যেসব অনাকাঙ্ক্ষিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে, তার একটি অন্যতম পরোক্ষ কারণ হতে পারে এই ভেজাল ও সস্তা তেলের ব্যবহার।

প্রতিটি শিল্পকারখানা ও পরিবহনমালিকের উচিত ব্যবসার নিরাপত্তার স্বার্থেই ফায়ার সেফটি ও আন্তর্জাতিক মানের লুব্রিকেন্ট নিশ্চিত করা। শুধু সস্তা বা কম দামের কথা চিন্তা করে তেল কেনা বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে মেকানিক ও ওয়ার্কশপগুলোকে সেফটি লাইসেন্সিংয়ের আওতায় আনতে হবে। মানসম্মত পণ্য ব্যবহারের এই সচেতনতামূলক বার্তাটি গ্রাহক পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে দিতে স্বমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

তৈরি হচ্ছে জাতীয় লুব্রিকেন্ট নীতিমালা

মেহেদী হাসান

উপপরিচালক, হাইড্রোকার্বন ইউনিট, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ

মেহেদী হাসান

দেশের জ্বালানি খাতের সার্বিক সুরক্ষায় সরকার শিগগিরই একটি সমন্বিত জাতীয় লুব্রিকেন্ট নীতিমালা তৈরি করতে যাচ্ছে। জাতীয় পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দেশে ব্যবহৃত মোট জ্বালানির ৬১.৮৭ শতাংশই খরচ হয় পরিবহন খাতে। এই খাতে দুর্ঘটনাও বেশি হচ্ছে।

এই পরিবহন খাতে যদি ভেজাল বা নিম্নমানের ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করা হয়, তবে ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা ও কম্বিনেশন দক্ষতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়। ফলে ইঞ্জিনে ১৫ শতাংশের বেশি অতিরিক্ত জ্বালানি প্রয়োজন হয়। এত বিপুল পরিমাণ জ্বালানির অপচয় দেশের জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তাকে হুমকিতে ফেলে এবং এতে সরকারের বড় রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে।

এই সংকট নিরসনে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ইতিমধ্যে একটি আধুনিক ও সময়োপযোগী ‘জাতীয় লুব্রিকেন্ট নীতিমালা’ প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে। এই নতুন নীতিমালায় লুব্রিকেন্ট আমদানি, স্থানীয় প্রস্তুতপ্রণালি, বিএসটিআই স্ট্যান্ডার্ড এবং ব্যবহৃত পোড়া তেলের রিসাইক্লিং সম্পর্কিত কঠোর নিয়মাবলি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। নীতিমালাটি বাস্তবায়িত হলে বাজারে ভেজাল তেলের উপস্থিতি অনেকাংশে কমে আসবে। অবৈধ ব্যবসা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
নিজেদের জ্বালানি স্থাপনায় আর হামলা চালাবে না রাশিয়া-ইউক্রেন: ট্রাম্প
নিজেদের জ্বালানি স্থাপনায় আর হামলা চালাবে না রাশিয়া-ইউক্রেন: ট্রাম্প

রাশিয়া ও ইউক্রেন চলমান যুদ্ধে নিজেদের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা স্থগিত করেছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে নিজের অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে ট্রাম্প এ তথ্য জানান। খবর দ্য টেলিগ্রাফের। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ যুদ্ধে রাশিয়া নিয়মিতই ইউক্রেনের শহরগুলোতে ও বিভিন্ন সেনাঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে আসছে। ইউক্রেনও রাশিয়ার বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে সফলভাবেই আঘাত করছে। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা না চালাতে ইউক্রেন সম্মত হয়েছে। রাশিয়াও একই সম্মতি দিয়েছে। বিশ্বের জ্বালানি তেলের দাম বেশি প্রভাবিত হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে, ইরানের কারণে নয়। এর আগে, রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) আয়ারল্যান্ড সফরের সময় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, জেলেনস্কিকে একটি কাজ করতে হবে। তাকে রাশিয়ায় জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে হবে। আরও পড়ুন রাশিয়ার জ্বালানিতে নয়, অন্য কিছুতে হামলা চালাও: ইউক্রেনকে ট্রাম্প এ বিষয়ে জেলেনস্কির সঙ্গে তার কথা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ায় হামলার জন্য আরও অনেক লক্ষ্যবস্তু রয়েছে। তবে, জ্বালানি স্থাপনায় হামলা করা উচিত নয়। তার মতে, এসব হামলার কারণে সারা বিশ্বের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এএমএ

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
রাজধানীতে নারীসহ ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীতে নারীসহ ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার

২৫২ কোটি টাকা দেনা, আদালতের রায়ে দেউলিয়া চালকল ব্যবসায়ী

২৫২ কোটি টাকা দেনা, আদালতের রায়ে দেউলিয়া চালকল ব্যবসায়ী

রায় ঘোষণা মঙ্গলবার, কাদের-সাদ্দাম-ইনানসহ ৭ আসামির কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ

রায় ঘোষণা মঙ্গলবার, কাদের-সাদ্দাম-ইনানসহ ৭ আসামির কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ

পল্লবীতে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আহত যুবকের মৃত্যু, গ্রেপ্তার ২
পল্লবীতে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আহত যুবকের মৃত্যু, গ্রেপ্তার ২

রাজধানীর পল্লবীতে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আহত সজীব হোসাইন (২২) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার ভোরে কাইল্লার বস্তি এলাকায় তিনি হামলার শিকার হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জুয়েল ও জয় নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।নিহত সজীব পেশায় গেঞ্জি বিক্রেতা ছিলেন। তিনি মিরপুরের ওয়াপদা বিল্ডিং বেনারসিপল্লি এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। তাঁর বাবার নাম মৃত সেলিম হোসাইন। দুই ভাইয়ের মধ্যে সজীব ছিলেন বড়। সজীবের এক ছেলে রয়েছে।পল্লবী থানার উপপরিদর্শক রাশেদ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে সজীব আহত হন। পরে স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে বাসায় নিয়ে আসা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে গত বৃহস্পতিবার তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।সজীবের মামাতো বোন শারমিন বলেন, ছিনতাইকারীরা সজীবের পিঠের ডান পাশে ও বুকে ছুরিকাঘাত করে তাঁর মুঠোফোন নিয়ে যায়।

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
জিন্নাহর ছবি টানানোয় প্রতিবাদ, ব্যবস্থা
নেবে প্রশাসন

জিন্নাহর ছবি টানানোয় প্রতিবাদ, ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন

ফ্ল্যাট প্রতারণার মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে হরিদাস তরণী

ফ্ল্যাট প্রতারণার মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে হরিদাস তরণী

সাদিক কায়েমকে পাটওয়ারী ‘আসুন প্রতিযোগিতা হোক’

সাদিক কায়েমকে পাটওয়ারী ‘আসুন প্রতিযোগিতা হোক’

জ্বালানির দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে সিরিয়াজুড়ে বিক্ষোভ
জ্বালানির দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে সিরিয়াজুড়ে বিক্ষোভ

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোয় সিরিয়ার বেশ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভের মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ধরে একটি প্রধান মহাসড়ক অবরুদ্ধ করে রাখেন বিক্ষোভকারীরা।সিরিয়া সরকার রোববার ডিজেলের দাম ৪০ শতাংশ এবং পেট্রলের দাম ২৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ায়। সরকারের দাবি, বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি সংগ্রহের খরচ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার কারণেই এই সাময়িক মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে।দাম বাড়ানোর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ বানিয়াস শোধনাগার সংস্কারের কথাও উল্লেখ করেছে সিরিয়া সরকার। তারা জানিয়েছে, এর ফলে শোধনাগারটির উৎপাদনক্ষমতা প্রতিদিন ৮০ হাজার ব্যারেল থেকে বেড়ে ১ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল হবে।জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সিরিয়ার হামা, খান শেইখুন ও মারাত আল-নুমান শহরে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। আল–জাজিরার প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তায় জড়ো হওয়া মানুষ টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন। দাম বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।শনিবার সিরিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-বশির বলেন, দেশটিতে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ২০০০ ব্যারেল তেল উৎপাদিত হচ্ছে; কিন্তু দেশের ভেতরে ব্যবহারের জন্য প্রতিদিন প্রয়োজন প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার ব্যারেল। এই ঘাটতি পূরণের জন্য তারা আমদানির ওপর নির্ভর করছেন।রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা সিরিয়ান আরব নিউজ এজেন্সির (সানা) তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিশ্ববাজারের পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তারা দাম সমন্বয়ের কাজ চালিয়ে যাবে। এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে তেল শোধন ও মজুত করার ক্ষমতা বাড়াতেও কাজ করবে তারা।দীর্ঘ ১৪ বছরের যুদ্ধের পর সিরিয়া এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। তাই দেশটির অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য জ্বালানির সরবরাহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
কিমের কি গোপন কোনো ছেলে আছে, খুঁজছেন দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দারা

কিমের কি গোপন কোনো ছেলে আছে, খুঁজছেন দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দারা

ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুনের পর চার মৃত্যু, পদদলিত হওয়ার তথ্য নাকচ প্রশাসনের

ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুনের পর চার মৃত্যু, পদদলিত হওয়ার তথ্য নাকচ প্রশাসনের

ভুয়া ওয়ারেন্টে গ্রেফতার ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ যাচাইয়ের নির্দেশ

ভুয়া ওয়ারেন্টে গ্রেফতার ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ যাচাইয়ের নির্দেশ

0 Comments