নব্বইয়ের দশক মানেই একরাশ নস্টালজিয়া। সেই সময় বিনোদনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল সিনেমা, রেডিও আর ক্যাসেট। বিকেল হলেই পাড়া-মহল্লায় বাজত প্রিয় সিনেমার গান। রেডিওর ‘অনুরোধের আসর’ কিংবা ক্যাসেট প্লেয়ারে বারবার শোনা গানগুলো হয়ে উঠেছিল মানুষের জীবনেরই অংশ। তাই নব্বইয়ের দশকের সিনেমার গান এখনো অনেকের স্মৃতিতে আলাদা জায়গা দখল করে আছে।
এই দশকেই ঢাকাই চলচ্চিত্রে জনপ্রিয়তার নতুন সংজ্ঞা তৈরি করেন সালমান শাহ, শাবনূর, মৌসুমী, মান্না, রিয়াজসহ একঝাঁক তারকা। তাদের পর্দার জনপ্রিয়তার সঙ্গে সমানতালে শ্রোতাদের মাতিয়েছেন এন্ড্রু কিশোর, খালিদ হাসান মিলু, সাবিনা ইয়াসমিন, কনকচাঁপা, আগুন, আইয়ুব বাচ্চু, সুবীর নন্দীসহ অনেক জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী।
নব্বইয়ের দশকে চলচ্চিত্রে অসংখ্য গান জনপ্রিয় হয়েছিল। সেসব গান থেকে বাছাই করে ১৫টি গান তুলে ধরা হলো। তবে এটিকে নব্বইয়ের দশকের সেরা ১৫ গানের তালিকা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্য থেকে এলোমেলোভাবে বেছে নেওয়া হয়েছে এগুলো।
ভালো আছি ভালো থেকো: ১৯৯৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘তোমাকে চাই’ ছিল সালমান শাহ ও শাবনূর অভিনীত আলোচিত সিনেমা। তবে সিনেমাটিকে আলাদা করে মনে রাখার অন্যতম কারণ ‘ভালো আছি ভালো থেকো’ গানটি। রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর লেখা গানটি এন্ড্রু কিশোর ও কনকচাঁপার কণ্ঠে জনপ্রিয়তা পায়। গানটির কথা ও সুরের আবেগ আজও নব্বইয়ের প্রেম-বিরহের স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
এখন তো সময় ভালোবাসার: ১৯৯৩ সালের ২০ মার্চ মুক্তি পায় ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’। এই সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় সালমান শাহ ও মৌসুমীর। সিনেমাটির গানগুলো সে সময় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এর মধ্যে রুনা লায়লা ও আগুনের কণ্ঠে ‘এখন তো সময় ভালোবাসার’ গানটি শ্রোতাদের কাছে বিশেষ পরিচিতি লাভ করে।
এখানে দুজনে নিরজনে: ১৯৯৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অন্তরে অন্তরে’ সিনেমায় অভিনয় করেন সালমান শাহ, মৌসুমী ও রাজীব। আলম খানের সংগীত পরিচালনায় সিনেমাটির ‘এখানে দুজনে নিরজনে’সহ বেশ কয়েকটি গান জনপ্রিয় হয়। রুনা লায়লা ও এন্ড্রু কিশোরের কণ্ঠে গানটি নব্বইয়ের দশকের শ্রোতাদের মনে জায়গা করে নেয়।
যে প্রেম স্বর্গ থেকে এসে: মোহাম্মদ হান্নান পরিচালিত ‘প্রাণের চেয়ে প্রিয়’ মুক্তি পায় ১৯৯৭ সালে। রিয়াজ ও ভারতের রবীনা ট্যান্ডন অভিনীত সিনেমাটির ‘যে প্রেম স্বর্গ থেকে এসে’ গানটি সে সময় মানুষের মুখে মুখে ফিরত। আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের কথা ও সুরে খালিদ হাসান মিলু ও কনকচাঁপার কণ্ঠে গানটি জনপ্রিয়তা পায়।
পড়ে না চোখের পলক:‘প্রাণের চেয়ে প্রিয়’ সিনেমার আরেকটি জনপ্রিয় গান ‘পড়ে না চোখের পলক’। এন্ড্রু কিশোরের কণ্ঠে গাওয়া এই গানে ঠোঁট মিলিয়েছিলেন রিয়াজ। নব্বইয়ের দশকের রোমান্টিক গানগুলোর তালিকায় গানটি এখনো শ্রোতাদের কাছে স্মরণীয়।
‘শুধু একবার’: ১৯৯৫ সালের ৩ মার্চ মুক্তি পাওয়া ‘দেনমোহর’ সিনেমায় জুটি বাঁধেন সালমান শাহ ও মৌসুমী। সিনেমাটির ‘শুধু একবার’ গানটি তাদের পর্দার রসায়নের সঙ্গে দর্শকের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠে। খালিদ হাসান মিলু ও সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠে গানটি সে সময় বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল।
‘এই দিন সেই দিন’: সালমান শাহ ও শাবনূর অভিনীত ‘স্বপ্নের ঠিকানা’ মুক্তি পায় ১৯৯৫ সালের ১১ মে। আলম খানের সংগীত পরিচালনায় সিনেমাটির গানগুলো সে সময় তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। সাবিনা ইয়াসমিন ও এন্ড্রু কিশোরের কণ্ঠে ‘এই দিন সেই দিন’ গানটিও রেডিও ও ক্যাসেটের কল্যাণে শ্রোতাদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠে।
‘সাথী তুমি আমার জীবনে’: ১৯৯৬ সালের ২০ ডিসেম্বর মুক্তি পায় সালমান শাহ ও শাবনূর অভিনীত ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’। সিনেমাটির অন্যতম পরিচিত গান ‘সাথী তুমি আমার জীবনে’। গানটি ও সিনেমা-দুটিই সালমান-শাবনূর জুটির জনপ্রিয় সময়কে স্মরণ করিয়ে দেয়।
‘অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে’: নব্বইয়ের দশকের চলচ্চিত্রের গানে ব্যান্ডশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর অংশগ্রহণও ছিল উল্লেখযোগ্য। ১৯৯৭ সালের ৭ নভেম্বর মুক্তি পাওয়া ‘লুটতরাজ’ সিনেমার ‘অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে’ গানটির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেন আইয়ুব বাচ্চু। তার সঙ্গে কণ্ঠ দেন কনকচাঁপা। গানটি সে সময় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।
‘আম্মাজান’: কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘আম্মাজান’ মুক্তি পায় ১৯৯৯ সালের ২৫ জুন। শবনম, মান্না, মৌসুমী, আমিন খান, ডিপজল ও মিজু আহমেদ অভিনীত সিনেমাটির টাইটেল গান ‘আম্মাজান’ আলাদাভাবে জায়গা করে নেয়। আইয়ুব বাচ্চুর কণ্ঠে গানটি তুমুল জনপ্রিয় হয়। আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের কথা ও সংগীতে তৈরি এই গানটি আজও বাংলা চলচ্চিত্রের স্মরণীয় গানগুলোর একটি।
‘আমার মতো এত সুখী’: নায়করাজ রাজ্জাক পরিচালিত ও অভিনীত ‘বাবা কেন চাকর’ মুক্তি পায় ১৯৯৭ সালে। সিনেমাটির গল্পের পাশাপাশি ‘আমার মতো এত সুখী নয় তো কারো জীবন’ গানটিও দর্শক-শ্রোতাদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। খালিদ হাসান মিলুর কণ্ঠে গাওয়া গানটির কথা লিখেছেন মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান এবং সুর করেছেন আলাউদ্দিন আলী।
‘পাগল মন’: দিলরুবা খানের কণ্ঠে জনপ্রিয় ‘পাগল মন’ গানটি নব্বইয়ের দশকের শুরুতেই মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে। পরে এই গানকে কেন্দ্র করে একই নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন ‘বেদের মেয়ে জোছনা’খ্যাত পরিচালক তোজাম্মেল হক বকুল। সিনেমায় নতুন জুটি মেহেদী ও অন্তরাকে দেখা যায়। দিলরুবা খান ও আগুনের কণ্ঠে গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।
‘প্রেমের সমাধি ভেঙে’: ১৯৯৬ সালে মুক্তি পায় বাপ্পারাজ ও শাবনাজ অভিনীত ‘প্রেমের সমাধি’। সিনেমাটির ‘প্রেমের সমাধি ভেঙে’ গানটি ব্যাপক শ্রোতাপ্রিয়তা পায়। এন্ড্রু কিশোরের কণ্ঠে গাওয়া গানটি নব্বইয়ের দশকের আবেগঘন চলচ্চিত্রের গানের তালিকায় এখনো স্মরণীয়।
‘কী ছিলে আমার বলো না তুমি’:‘কী ছিলে আমার বলো না তুমি’ মূলত মনি কিশোরের অ্যালবামের গান। পরে ১৯৯৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘কে অপরাধী’ সিনেমায় গানটি ব্যবহৃত হয়। সিনেমায় ব্যবহারের পর গানটি আরও ব্যাপকভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। মনি কিশোরের কণ্ঠে গাওয়া গানটিতে পর্দায় ঠোঁট মিলিয়েছিলেন ওমর সানী। সঙ্গে ছিলেন শাবনূর।
‘তুমি মোর জীবনের ভাবনা’: ১৯৯৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘আনন্দ অশ্রু’ সিনেমার ‘তুমি মোর জীবনের ভাবনা’ গানটি নব্বইয়ের দশকের অন্যতম জনপ্রিয় গান। রেডিওর অনুরোধের আসরে এই গানের চাহিদা ছিল তুঙ্গে। সালমান শাহ ও শাবনূর অভিনীত সিনেমাটির এই গানে সালমানের জন্য কণ্ঠ দেন এন্ড্রু কিশোর।
গানটির আরেকটি সংস্করণে শাবনূরের জন্য কণ্ঠ দেন সালমা জাহান। কনকচাঁপার কণ্ঠে কাঞ্চির জন্যও ছিল একটি সংস্করণ। গানটির কথা, সুর ও সংগীত পরিচালনা করেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল।
নব্বইয়ের দশক পেরিয়ে গেছে বহু বছর। বদলে গেছে গান শোনার মাধ্যম, বদলে গেছে সিনেমা দেখার ধরনও। কিন্তু সেই সময়ের গানগুলো এখনো শ্রোতাদের ফিরিয়ে নেয় পুরোনো দিনগুলোর কাছে। তাই নব্বইয়ের দশকের সিনেমার গান শুধু গান নয়, অনেকের কাছেই তা এক টুকরো শৈশব, কৈশোর ও হারিয়ে যাওয়া সময়ের স্মৃতি।
এমএমএফ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (২১তম আবর্তন) নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শাখা ছাত্রদল। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ মাঠে দিনব্যাপী এ নবীনবরণ অনুষ্ঠান হবে। আরও পড়ুন জবি ক্যাম্পাসে বোরকা পরা যুবক, সঙ্গে আবাসিক হোটেলের কার্ড ‘আজ নবীন, আগামী দিনের নেতৃত্ব’ স্লোগানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ, উপহার ও খাবার বিতরণের পাশাপাশি থাকবে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আয়োজকদের প্রকাশিত কর্মসূচি অনুযায়ী, বেলা ১১টায় নবীন শিক্ষার্থীদের বরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হবে। দুপুর ১২টায় উপহারসামগ্রী বিতরণ এবং দুপুর ১টায় নবীন শিক্ষার্থীদের অনুভূতি প্রকাশ ও আমন্ত্রিত অতিথিদের বক্তব্য হবে। এরপর দুপুর ২টায় মধ্যাহ্নভোজ ও খাবারসামগ্রী বিতরণের কথা রয়েছে। বিকেল ৪টায় শুরু হবে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব। এসময় অতিথিদের বরণ ও আসন গ্রহণের পর বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যান্ডের পরিবেশনা থাকবে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হবে আমন্ত্রিত শিল্পীদের পরিবেশনা। আয়োজকেরা জানান, সাংস্কৃতিক পর্বে দেশের জনপ্রিয় রক ব্যান্ড শিরোনামহীন ও ওয়ারফেজ সংগীত পরিবেশন করবে। এছাড়া কণ্ঠশিল্পী জেফার ও মৌসুমী চৌধুরীরও সংগীত পরিবেশনের কথা রয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল জানান, শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়, শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ক্যাম্পাসকে নিরাপদ ও শিক্ষার্থীবান্ধব রাখতে তারা কাজ করছেন। নবীন শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা ও মুক্তচিন্তার বিকাশে উৎসাহ দেওয়ার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে। টিএইচকিউ/এমআইএইচএস
প্রেমে ব্যর্থ হয়ে মদে ডুবে যাওয়া, পার্বতীকে হারিয়ে নিজের জীবন শেষের দিকে ঠেলে দেওয়া—‘দেবদাসের’ এই চেনা ছবি বহুবার সিনেমায় এসেছে। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘দেবদাস’ বাংলা সাহিত্যের এমন এক প্রেমিক চরিত্র, যার ব্যর্থতা, আত্মবিনাশ আর বিরহ পপ কালচারে প্রায় মিথে পরিণত হয়েছে। কিন্তু তামিল নির্মাতা অরুণ মাথেশ্বরনের ‘ডিসি’ সেই চেনা দেবদাসকে একেবারে অন্য জগতে নিয়ে যায়। এখানে দেবদাস মদে ডুবে নিঃশেষ হন না, বরং হতাশা সহিংস হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। প্রেমের ব্যর্থতা তাকে আত্মবিনাশী না করে করে তোলে প্রতিশোধপরায়ণ। আজ ১৫ সেপ্টেম্বর শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মদিন, এ উপলক্ষে দেখতেই পারেন দেবদাসের সহিংস রূপ।একনজরেসিনেমা: ‘ডিসি’ধরন: রোমান্টিক অ্যাকশনপরিচালনা: অরুণ মাথেশ্বরনঅভিনয়: লোকেশ কঙ্গরাজ, ওয়ামিকা গাব্বি, সানজানা কৃষ্ণমূর্তি, অবিনাশ রঘুদেবন ও কৃষ্ণ দয়ালস্ট্রিমিং: সান নেক্সটদৈর্ঘ্য: ২ ঘণ্টা ২০ মিনিটছবির নামের ‘ডি’ এসেছে দেবদাসের নতুন রূপ দাস থেকে; আর ‘সি’ মূলত চন্দ্রাকে ঘিরে। ছবির সবচেয়ে বড় চমক লোকেশ কঙ্গগরাজ। এ সময়ের আলোচিত এই দক্ষিণি নির্মাতা অভিনয় করেছেন সিনেমাটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে! তাঁর দাস চরিত্রটি এক পলাতক গ্যাংস্টার। যুক্ত সশস্ত্র ডাকাত দলের সঙ্গে। পুলিশের অস্ত্রের চালান লুট, এক পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যা—এসবের পর পুলিশ তার পেছনে নামে। কর্মকর্তা ভোগরাজকে (কৃষ্ণ দয়াল) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ, ‘নিষ্ঠুর হও’। ফলে মরিয়া ভোগরাজ দাস ও তার দলের পিছু নেয়। যার পরিণতি অনিবার্য সংঘর্ষ।উপন্যাসে ‘দেবদাস’-এ নায়ক ধীরে ধীরে নিজের জীবন নষ্ট করে। ‘ডিসি’ সেই জায়গাটাই উল্টে দেয়। দাসের ভেতরের যন্ত্রণা তাকে নিষ্ক্রিয় করে না, বরং সহিংস করে তোলে। সে মানুষ হত্যা করে, পুলিশের সঙ্গে লড়াই করে, আবার একই সঙ্গে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায়। এই দ্বৈততাই তাকে প্রচলিত নায়ক নয়, অ্যান্টিহিরো হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।শরৎচন্দ্রের গল্পের পার্বতী এখানে পার্বতীই—চরিত্রটিতে অভিনয় করেছেন সানজানা কৃষ্ণমূর্তি। তবে এই পার্বতী সেই জমিদারবাড়ির মেয়ে নন। তিনি একজন ক্লাব গায়িকা। দাসের সঙ্গে তাঁর পরিচয়ও হয় খুব সংক্ষিপ্ত এক সময়ে। দুজন ঠিক করেন, তাঁরা একে অপরের কাছে অপরিচিতই থাকবেন। অথচ সেই অপরিচয়ই তাঁদের কাছে স্বীকারোক্তির নিরাপদ জায়গা হয়ে ওঠে। পার্বতী দাসের মায়ের প্রিয় গান গাওয়ায় তার প্রতি দাসের টান তৈরি হয়। দুজনের মধ্যে অল্প সময়ের জন্য তৈরি হয় একধরনের আশ্রয়।এই সম্পর্ককে দীর্ঘ সময় দেওয়ার সুযোগ পায় না ছবি। পুলিশের হামলায় পার্বতী আহত হয়, আর দাস আবার পালাতে বাধ্য হয়। কিন্তু সম্পর্কটির স্বল্পস্থায়িত্বই যেন ছবির নতুন দেবদাসের চরিত্রটি বোঝানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সে ভালোবাসতে চায়, কিন্তু তার জীবন এমন এক সহিংস বাস্তবতায় আটকে আছে, যেখানে ভালোবাসার জন্য সময়ই নেই।এরপর গল্পে আসে চন্দ্রা—মূল ‘দেবদাস’-এর চন্দ্রমুখীর নতুন রূপ। ওয়ামিকা গাব্বির অভিনয়ে চন্দ্রা একজন যৌনকর্মী, যাকে শৈশব থেকেই একটি যৌনপল্লিতে আটকে রাখা হয়েছে। প্রায় ১৮ বছর ধরে সে বন্দী। প্রতিদিন অসংখ্য পুরুষের যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া এই নারী যখন দাসের সামনে আসে, তখন তার গল্প দাসকে নাড়া দেয়। সে চন্দ্রাকে সেই বন্দিদশা থেকে বের করে আনে। চন্দ্রাও স্বেচ্ছায় তার সঙ্গে চলে আসে।‘ডিসি’ সিনেমার দৃশ্য। আইএমডিবি‘ডিসি’র অ্যাডাপ্টেশন সবচেয়ে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে এই অংশে। মূল ‘দেবদাস’-এ পার্বতী ও চন্দ্রমুখী নায়কের জীবনে দুই ভিন্ন আবেগের প্রতীক। ‘ডিসি’ তাঁদের চরিত্রকে নতুন সামাজিক বাস্তবতায় বসিয়েছে। পার্বতী এখানে ক্ষণস্থায়ী ভালোবাসা, আর চন্দ্রা হয়ে উঠেছে বন্দিত্ব থেকে মুক্তির প্রতীক। দাস ও চন্দ্রার সম্পর্ক শুধু প্রেম নয়; দুজন বিধ্বস্ত মানুষ একে অপরের মধ্যে নিজেদের ক্ষত চিনে নেওয়া। চন্দ্রার সঙ্গে দাসের সম্পর্ককে ‘বনি অ্যান্ড ক্লাইড’-এর সঙ্গে তুলনা করা যায়। যৌনপল্লির দেয়ালে থাকা আর্থার পেনের ছবির পোস্টারও সে ইঙ্গিতই দিয়েছে। তবে ‘ডিসি’ শেষ পর্যন্ত শুধু সেই সিনেমার বিখ্যাত অপরাধী-জুটির অনুকরণে আটকে থাকে না। বরং দাস ও চন্দ্রাকে নিয়ে নিজের নতুন দুনিয়া তৈরি করতে চায়—যেখানে প্রেমের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বেঁচে থাকা।এ সম্পর্কের সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্যগুলোর একটি চন্দ্রার প্রথম সমুদ্র দেখা। জীবনের এতটা সময় চার দেয়ালের মধ্যে কাটানোর পর বিশাল সমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে তার বিস্ময় দর্শককে চরিত্রটির অতীত বুঝতে সাহায্য করে। কোনো বড় সংলাপ ছাড়াই মুকেশ জির ক্যামেরা সেই মুহূর্তকে বড় করে তোলে। আরেকটি মুহূর্তে দাস চন্দ্রার আঙুল খুঁজে নেয়—ঘনিষ্ঠতার জন্য নয়, শুধু নিশ্চিত হওয়ার জন্য যে সে এখনো তার পাশে আছে। এমন ছোট দৃশ্যগুলোই ‘ডিসি’কে নিছক গ্যাংস্টার ছবি হয়ে উঠতে দেয় না।অরুণ মাথেশ্বরনের সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর দৃশ্য নির্মাণ। ‘সানি কায়িধাম’ ও ‘ক্যাপ্টেন মিলার’-এর মতো ছবিতে যে স্টাইলাইজড সহিংসতার ভাষা তিনি তৈরি করেছেন, ‘ডিসি’তেও তার ব্যবহার করেছেন। অ্যাকশন দৃশ্যগুলোর কোরিওগ্রাফি, রক্তপাতকে নান্দনিকভাবে ফ্রেমবন্দী, আর ক্যামেরা ও সম্পাদনা মিলে সহিংসতাকে প্রায় কবিতার মতো উপস্থাপন করেছে।‘ডিসি’ সিনেমার পোস্ট। আইএমডিবিবিশেষ করে দাস ও চন্দ্রার সাক্ষাতের পরের দীর্ঘ করিডর-অ্যাকশন দৃশ্যটি ছবির অন্যতম সেরা অংশ। অনিরুদ্ধ রবিচন্দ্রনের ‘রাগা অব রিভেঞ্জ’ বাজতে শুরু করলে রক্তাক্ত সংঘর্ষটি শুধু অ্যাকশন থাকে না, যেন দুই চরিত্রের পুরোনো জীবন শেষ হয়ে নতুন জীবনের শুরু হয়।আরেকটি দুর্দান্ত মুহূর্ত তৈরি হয়েছে ‘বাম বা দিগা’ গানে। একদিকে দেখা যায় দাসের ওপরে পুলিশের নির্যাতন, অন্যদিকে চন্দ্রার ওপর চলা যৌন নিপীড়ন। গানটি প্রাণবন্ত, প্রায় আনন্দময়; অথচ পর্দায় চলছে ভয়াবহ সহিংসতা। এই অদ্ভুত বৈপরীত্য দুই চরিত্রের আলাদা বন্দিত্বকে এক জায়গায় নিয়ে আসে। তাঁদের শরীর ভিন্ন জায়গায় বন্দী, কিন্তু যন্ত্রণার অভিজ্ঞতা একই।‘ডিসি’র সংগীত তাই শুধু দৃশ্যের পেছনে বাজে না, অনেক সময় দৃশ্যের আবেগ তৈরি করে। অনিরুদ্ধের আবহসংগীত ছবির অন্যতম বড় শক্তি। কোথাও কোথাও মনে হয়, চিত্রনাট্য যে আবেগ পুরোপুরি তৈরি করতে পারেনি, সংগীত সেটিকে পূরণ করছে। ফলে ‘ডিসি’ দেখার অভিজ্ঞতা অনেকটাই নির্ভর করে অনিরুদ্ধ সংগীতের ওপর।মুকেশ জির ক্যামেরায় মাটির কাছাকাছি থাকা রঙের সঙ্গে রক্তের লালকে বারবার আলাদা করে তোলা হয়েছে। চন্দ্রার যৌনপল্লির ঘরকে প্রায় পরাবাস্তব এক ক্যানভাসের মতো সাজানো হয়েছে। দেয়ালে ভ্যান গঘ ও দালির ছবি, বড় বড় দেয়ালচিত্র, উজ্জ্বল রং—সবকিছু চরিত্রটির বন্দিত্বের ভেতরকার অদ্ভুত জগৎকে তুলে ধরে।চন্দ্রার সাজেও রয়েছে আরেকটি সিনেম্যাটিক ইঙ্গিত। শাড়ি, টকটকে লাল লিপস্টিক, চুলে লাল গোলাপ—সব মিলিয়ে সিল্ক স্মিতার স্মৃতি উসকে দেয়। এক দৃশ্যে তাকে ‘সিল্ক’ বলেও ডাকা হয়। দাসের হাতে রুপালি কড়া আবার বিজয়ের ‘মাস্টার’ ছবির কথা মনে করিয়ে দেয়।‘ডিসি’ সিনেমার দৃশ্য। আইএমডিবিতবে এত সব নান্দনিকতা সত্ত্বেও ‘ডিসি’র সবচেয়ে বড় সমস্যা চিত্রনাট্যে। ছবির গল্পের কাঠামো যতটা চমকপ্রদ, চরিত্র নির্মাণ ততটা গভীর নয়। পুলিশি দুর্নীতি, অপরাধীদের প্রতি রাষ্ট্রীয় সহিংসতা, নারী নির্যাতন—এতগুলো বিষয় ছবিতে এসেছে, কিন্তু সব কটিকে সমান গভীরতায় অনুসন্ধান করা হয়নি।ফলে কোনো কোনো জায়গায় মনে হয়, গল্পের ফাঁকা জায়গা পূরণ করতে অ্যাকশন ব্যবহার করা হয়েছে। ১৪২ মিনিটের দৈর্ঘ্যও তখন কিছুটা বেশি মনে হয়। একের পর এক বন্দুকযুদ্ধ, ছুরিকাঘাত ও হত্যাকাণ্ড দর্শককে রোমাঞ্চ দিলেও সব সময় আবেগগতভাবে নাড়া দিতে পারে না।দাস চরিত্রটিও একই সমস্যায় ভোগে। লোকেশের অভিনয়ে সংযম আছে, চোখে রাগ আছে, শরীরী ভাষায় যন্ত্রণা আছে। তিনি চিৎকার করে আবেগ প্রকাশ করেন না; নীরবতাতেই চরিত্রটিকে বহন করেন। প্রথমবার অভিনেতা হিসেবে তাঁর স্বচ্ছন্দ উপস্থিতি নিঃসন্দেহে চমকপ্রদ। কিন্তু চিত্রনাট্য চরিত্রটির ভেতরের দ্বন্দ্বকে যতটা গভীরভাবে অনুসন্ধান করা দরকার ছিল, তা করেনি। ফলে কোথাও কোথাও দাস রহস্যময় না হয়ে অস্বচ্ছ মনে হয়—সে কেন এতটা সহিংস, তার নৈতিক সীমা কোথায়, সেই প্রশ্নের সব উত্তর মেলে না।ওয়ামিকা গাব্বিও চন্দ্রাকে আকর্ষণীয় করে তুলেছেন। তাঁর অভিনয়ে একদিকে শিশুসুলভ বিস্ময়, অন্যদিকে পৃথিবীর কাছে বহুবার পরাজিত এক নারীর কঠোরতা। বন্দিত্ব থেকে বেরিয়ে এসে ক্ষমতার স্বাদ পাওয়ার পর চন্দ্রার আচরণে যে পরিবর্তন আসে, সেটি বিশ্বাসযোগ্য। তবে চন্দ্রাকে স্বাধীন নারীর চরিত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলেও ছবিটি পুরোপুরি পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বের হতে পারে না। একজন পুরুষ তাকে উদ্ধার করবে, তারপর সে নিজের শক্তি আবিষ্কার করবে—এই পরিচিত কাঠামোই শেষ পর্যন্ত থেকে যায়।নির্বাক সিনেমা থেকে ওটিটি: দেবদাস–ললিতারা বদলেছেন, শরৎচন্দ্র থেকে গেছেনসানজানা পার্বতীর চরিত্রে সংযত অভিনয় করেছেন। চন্দ্রার বিপরীতে তাঁর চরিত্রের কোমলতা দাসের জীবনে দুই নারীর আলাদা অবস্থান স্পষ্ট করে। অন্যদিকে কিটি চরিত্রে অবিনাশ রঘুদেবন ও ভোগরাজের চরিত্রে কৃষ্ণ দয়ালও উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে নিষ্ঠুর পুলিশ কর্মকর্তা ভোগরাজ ছবির ক্ষমতার কাঠামোকে প্রতিনিধিত্ব করে।ছবির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন নৈতিকতা। দাস ও তার দল অপরাধী, কিন্তু তাদের পেছনে ছুটতে থাকা পুলিশও যখন ‘নিষ্ঠুর হও’ নির্দেশ পায়, তখন প্রশ্ন ওঠে—আইনের নামে সংঘটিত সহিংসতা কি অপরাধীদের সহিংসতার চেয়ে আলাদা? দাসের গ্যাংয়ের নামের সঙ্গেও এখানে একধরনের ব্যঙ্গ আছে। তাদের নেতা আরাসু—তামিল ভাষায় যার অর্থ ‘সরকার’। রাষ্ট্র যে পরিবেশ তৈরি করে, সেই পরিবেশই যখন অপরাধী তৈরি করে, তখন অপরাধী ও রাষ্ট্রের সহিংসতার সীমারেখা কোথায়—ছবিটি এই প্রশ্ন তোলে।‘ডিসি’ সিনেমা হিসেবে আরও শক্তিশালী হতে পারত। কারণ, তার ভিজ্যুয়াল ভাষায় যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা, চিত্রনাট্য সব সময় সেই উচ্চতায় পৌঁছায় না।তবু ছবিটিকে একেবারে ব্যর্থ বলা যায় না। কারণ, শরৎচন্দ্রের ‘দেবদাস’-এর মতো বহুল ব্যবহৃত একটি গল্পকে তামিল গ্যাংস্টার জগতের মধ্যে বসানো সহজ কাজ নয়। অরুণ মাথেশ্বরন সেই ঝুঁকি নিয়েছেন এবং অন্তত দৃশ্যগতভাবে একটি স্বতন্ত্র জগৎ তৈরি করেছেন। মূল গল্পের প্রেম, বিরহকে তিনি রূপান্তর করেছেন সহিংসতা, মুক্তি, বেঁচে থাকা ও প্রতিশোধের গল্পে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হওয়ায় শূন্য হওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে তিনজন ফরম সংগ্রহ করেছেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে তারা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানান। মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারীদের একজন জেলা বিএনপির নেতা ওবায়দুল্লাহ মাসুদ। ফরম সংগ্রহের পর তিনি বলেন, ৪৩ বছর বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আছি। ১৯৮৯ সালে ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের জিএস এবং ১৯৯০ সালে ভিপি ছিলাম। বিগত ১৭ বছর অনেক হামলা-মামলার শিকার হয়েছি। দল ও প্রধানমন্ত্রী আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি মনে করি, দলকে এই আসন উপহার দিতে পারবো। আরও পড়ুন ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির মনোনয়নপত্র নিলেন মির্জা ফয়সাল আমিন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিনের পক্ষেও মঙ্গলবার মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়েছে। তার পক্ষে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী নয়াপল্টন থেকে ফরম নেন। এ আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা অন্যজন হলেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরী। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিক্রি করা হয়। পূরণ করা ফরম আগামীকাল বুধবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে জমা দিতে হবে। এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় বিএনপি চেয়ারম্যানের গুলশান কার্যালয়ে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হবে। আরও পড়ুন গণতন্ত্র রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ: রাষ্ট্রপতি গত ২১ আগস্ট রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংবিধানের ৫০(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকেই তার সংসদীয় আসনটি শূন্য হয়। পরে সংসদ সচিবালয় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আসনটি শূন্য হওয়ার পর সেখানে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। ২৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র বাছাই, ৭ অক্টোবর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ৮ অক্টোবর প্রতীক বরাদ্দ হবে। ভোটগ্রহণ হবে ২৯ অক্টোবর। কেএইচ/কেএসআর