জাতীয়

নাম রাজাউল্লাহ, রাজত্ব যাঁকে ডাকে

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
নাম রাজাউল্লাহ, রাজত্ব যাঁকে ডাকে
নাম রাজাউল্লাহ, রাজত্ব যাঁকে ডাকে

ক্রিকেটের এক খুশবু আছে। কখনো কখনো এর খোসা ছাড়ানোর আগেই নাকে এসে লাগে। মানে অপেক্ষা করতে হয় না। দেখা যায়, টেস্টের প্রথম বল থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুগন্ধে নাক ভুরভুর করে, জাদুর কাজল লাগে চোখে। সেটি দর্শকের প্রশান্তি।

এজবাস্টন টেস্টে প্রথম দিনে রাজাউল্লাহ বোলিং হাতে নেওয়ার আগ পর্যন্ত সেই প্রশান্তি ছিল না। অন্তত পাকিস্তানি ও নিরপেক্ষ দর্শকের জায়গা থেকে কথাটা বলাই যায়। প্রশান্তি নয়, সিরিজে শুরু থেকে জন্মেছিল অশান্তি। প্রথম দুই টেস্টে পাকিস্তানের নিঃশর্ত হারের একপেশে লড়াই, ৭ খেলোয়াড়কে দেশে পাঠানো, জিজ্ঞাসাবাদ, তদন্তের হুমকি মিলিয়ে ভারসাম্যহীন লড়াইয়ের ‘হরর শো’তে কালশিটে পড়েছিল চোখে।

কিন্তু ২১ বছরের ছেলেটি বোলিং শুরু করতেই ছড়িয়ে পড়ল খুশবু। ব্যাটিংয়ে নামতেই গ্যালারিতে চোখে চোখে জাদুর কাজল। সেই ‘কাজলে’র পুরো নাম রাজাউল্লাহ মাসওয়ানি। মাইকেল আথারটনের ভাষায় ‘রাজবল’।

এজবাস্টনে সেই ‘রাজবল’ দর্শকের চোখের কাজল হয়ে ওঠার পথে কী কী করেছেন, তা এতক্ষণে আপনার জানা। সেই প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে চলুন এক জায়গা থেকে ঘুরে আসি।

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ার আপার দির জেলার শহর নেহাগ দারা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এ শহরেই জন্ম রাজাউল্লাহর। সেখান থেকে দুই বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে চলে যেতে হয় মারদানে। রাজাউল্লাহর পেটানো মুখ ও শরীরের মতোই রুক্ষ পাহাড়ি জায়গা; কিন্তু বিপুলা সম্ভারের, যেমনটা ছেলেটির প্রতিভা।

সেই প্রতিভার শিকড় প্যাঁচানো টেপ ও টেনিসে। বাংলাদেশেও অনেকের গল্পও তা–ই। আট ভাই–বোনের সংসারে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই যেটা হয়, ভবিষ্যতের কথা ভেবে বাবা ক্রিকেট খেলতে দেন না। বড় ভাইকে দেখে রাজাউল্লাহকেও সেই বারণের গরাদ ডিঙিয়ে টেপ টেনিস খেলতে হয় চুপিসারে; কিন্তু গায়ে ও কবজিতে জোর থাকলে টেপ টেনিসে নিজেকে বেশি দিন লুকিয়ে রাখা যায় না।

রাজাউল্লাহ নিজের সামর্থ দেখিয়েছেন অভিষেক টেস্টেই

মারদানের আকমল খান ক্রিকেট একাডেমির প্রধান ও পাকিস্তানের প্রথম শ্রেণির সাবেক ক্রিকেটার আকমল খানের চোখে পড়েন। ক্রিকেট বলে দীক্ষাও নিতে শুরু করেন সেখানে। শেখার সে পথে ২০২৩ সালে নেমে পড়েন আন্তজেলা অনুর্ধ্ব–১৯ ক্রিকেটে। তারপর অ্যাবোটাবাদ আঞ্চলিক অনূর্ধ্ব–১৯ দলে। কৈশোরের সেই রাজাউল্লাহকে নিয়ে আকমল খানের স্মৃতিচারণা, ‘অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে নিজের প্রথম ম্যাচেই সে দলের সেরা পারফরমারদের একজন ছিল।’

কুঁড়িতেই সুবাস ছড়ানোয় মারদান জেলা দলে জায়গা করে নিতে রাজাউল্লাহর সময় লাগেনি। তখন হাতের চোটে কিছুদিন মাঠের বাইরে থাকতে হয়; কিন্তু মারদান থেকে রাজাউল্লাহর এজবাস্টন পর্যন্ত গিয়ে ‘রাজবল’ হয়ে ওঠার পুরো গল্প শুনলে বুঝবেন, এই ছেলেকে আসলে কোনোকিছুই ঠেকিয়ে রাখতে পারত না। কথায় আছে না, কপালের লিখন না যায় খণ্ডন!

টেস্ট অভিষেকে রাজাউল্লাহর প্রথম বলের গতি ছিল ঘণ্টায় ৮৯ মাইল/১৪৩ কিমি। সিরিজে পাকিস্তানি কোনো পেসারের দ্রুততম ডেলিভারি।

ঘরোয়ায় সুনাম বাড়ছিল রাজাউল্লাহর। তাতে অ্যাবোটাবাদ ৩০ জনের দলে থাকলেও ফার্স্ট ক্লাসের জার্সিটা সেখানে তাঁর গায়ে ওঠেনি। ঠিক তখনই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় নিয়তি।

পেশোয়ার আঞ্চলিক দলের কোচ রাফাতুল্লাহ অতিথি খেলোয়াড় হিসেবে নিজেদের দলে নেন তাঁকে। এজবাস্টনে তৃতীয় দিনে রাজাউল্লাহ ৯টি ছক্কা মারার যে যৌথ বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন, তার সুলুক সন্ধানে ফিরতে হয় এ দলের হয়েই ২০২৫–২৬ মৌসুমে কায়েদে–ই–আজম ট্রফির এক ম্যাচে। ঠিক তার আগের ম্যাচে পেশোয়ার অল্প রানে অলআউট হওয়ার পথে দশে নেমে সর্বোচ্চ রান করেছিলেন রাজাউল্লাহ। পরের ম্যাচেই রাজাউল্লাহ ওপেনার এবং সেঞ্চুরি, আরেক ইনিংসে ফিফটি।

পিএসএলে রাওয়ালপিন্ডিজের হয়ে গত মৌসুমে সেভাবে আলো ছড়াতে না পারলেও ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমিতে (এনসিএ) অনুশীলনে রাজাউল্লাহর গতি মনে ধরে এইচপি পরিচালক আকিব জাভেদের। গত আগস্টে এনসিএতে পিসিবি আয়োজিত ১২ জনের বোলিং ক্যাম্পের ‘প্লেয়ার অব দ্য ক্যাম্প’ও হন রাজাউল্লাহ। তারপর ঠিক এখান থেকেই তাঁর জীবনটা পাল্টে গেল।

সেই পাল্টে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় পটভূমিটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ইংল্যান্ডে তখন পাকিস্তান দলের অবস্থা তথৈবচ। দলে ১৪০ কিমি গতিতে বোলিংয়ের পেসারও নেই। সেই দুর্বলতা আগেই ঢাকতে এই সিরিজের আগে পাকিস্তানের তৎকালীন কোচ সরফরাজ খান বলে দেন, তাঁর দেশে নাকি গতিময় পেসারের বেশ অভাব। বটে!

মাত্র ৮টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচের অভিজ্ঞতা নিয়ে এজবাস্টনে খেলতে নেমেছিলেন রাজাউল্লাহ

প্রথম দুই টেস্টে হারের পর পাকিস্তান যে সাত খেলোয়াড়কে দলে ডাকে, রাজাউল্লাহ তাদেরই একজন। মাত্র ৮টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলা এ বোলার এনসিএ থেকে কিছুদিনের জন্য বাড়িতে গিয়েছিলেন। ওদিকে ইংল্যান্ডে পাকিস্তান দল হাস্যরস ও তির্যক কটূক্তিতে জেরবার। সরফরাজের জায়গা নেওয়া কোচ মাইক হেসন সম্ভবত ডেকে পাঠান রাজাউল্লাহকে। সে ডাকে রাজাউল্লাহর সাড়া দেওয়ার ঘটনাও বেশ নাটকীয়। শুনুন তাঁর মুখে, ‘একদিন সকালে ফজরের নামাজ পড়ার পরপরই (এনসিএর) নাবিল ভাই আমাকে ফোন করে দ্রুত এনসিএতে যেতে বলেন। যখন সেখানে পৌঁছাই, আমার জানাও ছিল না যে ইংল্যান্ডে পাঠানোর জন্য ডাকা হয়েছে।’

বাকিটা আপনার জানা। তবু ফিরে তাকাতে হয় ক্রিকেটীয় সেই খুশবু ছড়ানোর শিকড়সন্ধানে। টেস্ট অভিষেকে মাঠে নেমেই রাজাউল্লাহ আর দেরি করেননি। মহামতি প্লেটোর ‘রিপাবলিক’ বইয়ে পলিমার্কাসের সেই কথার মতো, ‘যার যা প্রাপ্য তা দিতে’ শুরু করেন।

টেস্ট অভিষেকে রাজাউল্লাহর প্রথম বলের গতি ছিল ঘণ্টায় ৮৯ মাইল/১৪৩ কিমি। সিরিজে পাকিস্তানি কোনো পেসারের দ্রুততম ডেলিভারি। বোলিংয়ে পাকিস্তান যে এই গতির অভাবেই ভুগেছে, সেটা বোঝা গেল চতুর্থ বলে। আবারও ৮৯ মাইল গতিতে বল, বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান জো রুট এলবিডব্লু। একপেশে লড়াইয়ে গোটা সিরিজে নাক কুঁচকানো ইংরেজ দর্শকও ততক্ষণে এজবাস্টনের গ্যালারিতে বসে সেই খুশবুটা পেতে শুরু করেছেন—যাকে বলে ‘র ট্যালেন্টের’ সুবাস।

টেস্টে রাজাউল্লাহর সেই প্রথম ওভার মনে রাখবেন অনেকেই। পাকিস্তান কোনো পেসারকে নিকট অতীতে এতটা ভয়ংকর লাগেনি। ভয়ংকর সেই গতিময় সৌন্দর্যের সুবাসেই পরে ঝুলিতে জমা পড়ল আরও ৩ উইকেট। বিশ্লেষকেরা ততক্ষণে হামলে পড়েছেন। স্লিঙ্গিং অ্যাকশন, গতি এবং সুইংয়ে ওয়াকার ইউনিসকে মনে পড়েছে সবার।

‘বুরেওয়ালা এক্সপ্রেসে’র সম্মান এতটুকু হানি না করে বলা যায়, রাজাউল্লাহর শুরুটা অন্তত সুইংয়ে ওয়াকারকেও ছাপিয়ে গেছে। শুধু বড় বড় ইনসুইং ছিল ওয়াকারের শুরুতে, রাজাউল্লাহর দুটোই আছে। সরাসরি বলেছেনও বোলিংয়ে তাঁর ব্লু–প্রিন্ট ওয়াকারকে দেখেই, ‘শুরু থেকেই ওয়াকার ভাইকে অনুসরণ করি। তার মতো হওয়ার চেষ্টা করি।’

বোলিং তো পারেনই, ব্যাটিংয়েও কম যান না রাজাউল্লাহ

মজার বিষয়, ক্যামেরার সামনে রাজাউল্লাহকে দেখে মনে হয় গাঁয়ের সেই ছেলেটি, যে লেন্সে তাকিয়ে এমনিতেই হেসে ফেলে। মাঠেও ১৪৫ কিমি গতি তুলে স্ক্রিন দেখে ভেবেছিলেন ১৩৫ কিমি! এই সারল্যটুকু বুঝে এবং ব্যাটিং দেখে আন্দাজ করে নেওয়া যায়, তাঁর উইলোবাজির ‘ব্লুপ্রিন্ট’ কোত্থেকে নেওয়া?

টেপ টেনিস!

পেছনের পায়ে ভর করে একে একে মেরেছেন জফরা আর্চার এবং গাস অ্যাটকিনসনদের। বড় বড় ছক্কা। সামনের পা লেগ সাইডে একটু সরিয়ে লং অন ও মিড উইকেটের ওপর দিয়ে ‘হিটিং থ্রু দ্য লাইনে’ টেপ টেনিসের ব্যাটসম্যানরা ওভাবে মারেন; কিন্তু এ ব্লুপ্রিন্টের ভেতরকার ব্লুপ্রিন্ট আবার অন্যকিছু। তারুণ্যের ভয়ডরহীন সাহস!

তা না হলে পাকিস্তান ইনিংস হার এড়ানো থেকে মাত্র ২ রান দূরে থাকতে নয়ে নামা একজন ব্যাটসম্যান ছক্কা মারার সাহস পান কীভাবে! তার ওপর অ্যাটকিনসনকে এক ওভারেই মেরেছেন তিন ছক্কা। আর শটগুলোর কী ‘সাউন্ড’! সাধারণত হার্ড–হিটার ব্যাটসম্যানদের ব্যাটের ‘সু্ইট স্পটে’ বল লাগলেও সংঘর্ষের শব্দ একটু মিষ্টি হয়; কিন্তু রাজাউল্লাহর ব্যাট যখন ছক্কা মারতে বলে লেগেছে, সেটা অনেকটা কাঠ ভাঙার মতো ‘কড়াৎ’ কিংবা ‘মড়াৎ’ শব্দের মতো। আর্চারকে তো লেংথের বলে ছক্কা মেরেছেন শুধু ব্যাট চালানোর স্পিডে ভর করে, যেটা টেপ টেনিসে দেখা যায়।

পাকিস্তানের ড্রেসিংরুমে রাজাউল্লাহর ছক্কা মারার শব্দ যত পৌঁছেছে, বাবরদের মুখের হাসিও ধীরে ধীরে তত চওড়া হয়েছে। সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত সম্ভবত রাজাউল্লাহ আউট হওয়ার আগে রিভিউ নিয়ে এলবিডব্লু থেকে বেঁচে যাওয়ার সময়। পাকিস্তানের ড্রেসিংরুম যেভাবে হাততালিটা দিয়েছে, দেখে মনে হতে পারে এজবাস্টন টেস্টই জিতে নিয়েছে!

৯ ছক্কায় ৮১ রানের ইনিংস খেলে এবজাস্টনে পাকিস্তানের ইনিংস হার এড়িয়েছেন রাজাউল্লাহ

না, শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। পাকিস্তান এজবাস্টনেও হেরেছে; কিন্তু তৃতীয় দিনে রাজাউল্লাহর ৬৩ বলে সেই ৮১ রানের ইনিংস শেষ হওয়ার পর এজবাস্টনের গ্যালারি উঠে দাঁড়িয়ে তাঁকে অভিবাদন জানিয়েছে। যেটা গোটা পাকিস্তান দলও পায়নি। আজ তাঁর ৫ ওভার বোলিংয়ের সময়ও বৃষ্টি ঝরেছে করতালির। সেই তালির আওয়াজে একটি বিষয় বোঝা গেল পরিষ্কার।

পাকিস্তান এই সিরিজে ধবলধোলাই হলেও সেই ‘পরিষ্কার’ হওয়ার মাঝেই জন্ম হলো একটি তারকার। নাম তাঁর ‘রাজবল’ কিংবা রাজাউল্লাহ নামে এক জাদুর কাজল।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
ফ্লাইদুবাই হামলাকারী ‘ইসলামপন্থী উগ্র মতাদর্শে দীক্ষিত’, দাবি নেতানিয়াহুর
ফ্লাইদুবাই হামলাকারী ‘ইসলামপন্থী উগ্র মতাদর্শে দীক্ষিত’, দাবি নেতানিয়াহুর

ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানের পাইলটকে ছুরিকাঘাত করে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা ব্যক্তি ‘ইসলামপন্থী উগ্র মতাদর্শে দীক্ষিত’ ছিলেন বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

News অক্টোবর ২, ২০২৬ 0
ট্রলার নিয়ে সাগরে যাওয়া ১১ জেলের সন্ধান নেই ৯ মাস

ট্রলার নিয়ে সাগরে যাওয়া ১১ জেলের সন্ধান নেই ৯ মাস

ভারতের নতুন ‘জাতীয় ক্রাশকে’ কতটা জানেন

ভারতের নতুন ‘জাতীয় ক্রাশকে’ কতটা জানেন

তিন মাসে নির্যাতন-হয়রানির শিকার ১৬২ সাংবাদিক

তিন মাসে নির্যাতন-হয়রানির শিকার ১৬২ সাংবাদিক

0 Comments