বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী লুৎফর রহমান অরুণের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে তাঁর কবর জিয়ারত করেছেন সিরাজগঞ্জ বন্ধুসভার বন্ধুরা। এ সময় কবরের সামনে দাঁড়িয়ে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
গাজী লুৎফর রহমান অরুণ ১৯৪৭ সালের ১৫ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি পলাশডাঙ্গা যুবশিবিরে প্রধান অস্ত্র প্রশিক্ষক ও ব্যাটালিয়ন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের পরও তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৮১ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত সিরাজগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর গাজী লুৎফর রহমান অরুণ মৃত্যুবরণ করেন। এরপর সিরাজগঞ্জ পৌরসভার মালশাপাড়া কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
কবর জিয়ারত শেষে বন্ধুসভার সদস্যরা বলেন, ‘যে জাতি বীরদের সম্মান করে না, সে জাতির উন্নতি অনিশ্চিত। মুক্তিযুদ্ধের বীরদের স্মরণ করা এবং তাঁদের অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা সবার দায়িত্ব। তাঁদের আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেম নতুন প্রজন্মকে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করতে অনুপ্রেরণা জোগাবে।’
কবর জিয়ারত ও দোয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা প্রদীপ সাহা, সাধারণ সম্পাদক হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুনায়েদ বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল শেখ, কার্যনির্বাহী সদস্য কাউসার আহমেদ ও বন্ধু মনজুর আলম।
দোয়া শেষে মহান মুক্তিযুদ্ধের সব শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়।
সাধারণ সম্পাদক, সিরাজগঞ্জ বন্ধুসভা
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
সরকার, পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনী নিয়ে বক্তব্যের অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনায় আসা পুলিশ পরিদর্শক মো. রাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তবে রাকিবুল হাসান এখন কোথায় আছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ডিএমপির দুটি নির্ভরযোগ্য সূত্র প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাকিবুল হাসানকে রাজধানীর মিন্টো রোডের গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রাত ১২টার সময়েও ডিবি কার্যালয়ে ছিলেন তিনি। এরপর তাঁর অবস্থান কোথায়, সেটি জানা যায়নি। রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসির দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার হওয়ার পর রাকিবুল হাসান এখন কোথায় আছেন, তা জানতে আজ পুলিশ সদর দপ্তর ও ডিএমপির বিভিন্ন পর্যায়ের আট পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। তবে তাঁদের কেউ রাকিবুলের বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। রাকিবুলকে ডিবিতে নেওয়াই হয়নি বলে উল্লেখ করেছেন একজন। রাকিবুল হাসানের ব্যবহৃত ব্যক্তিগত মুঠোফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে এ বিষয়ে রাকিবুলের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ছড়িয়ে পড়া অডিওর বিষয়ে চলমান অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে রাকিবুল হাসানকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি এখনো সেখানে আছেন, নাকি অন্য কোথাও গেছেন বা তাঁকে কোথাও নিয়ে যাওয়া হয়েছে কি না, এ বিষয়ে আজ কোনো কর্মকর্তা নিশ্চিত তথ্য দেননি।রাকিবুল হাসানকে ক্যান্টনমেন্ট থানা থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর তিনি এখন কোথায় আছেন, এ বিষয়ে জানতে আজ শুক্রবার ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। রাকিবুলকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, রাকিবুল কোথায় আছেন তিনি জানেন না। গতকাল তিনি রাকিবুলকে ডিএমপি সদর দপ্তরে দেখেছেন। এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন।পরে কমিটির এক সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও রাকিবুলের অবস্থান সম্পর্কে জানেন না বলে জানিয়েছেন। ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী প্রথম আলোকে বলেন, রাকিবুল কোথায় আছেন, তাঁরও জানা নেই।কাজ শুরু করেছে তদন্ত কমিটি রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি থাকা অবস্থায় গত বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাকিবুল হাসানের কথোপকথনের একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে। এতে তাঁকে সরকার, প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনী নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করতে শোনা যায়। পুলিশের একাধিক সূত্র প্রথম আলোকে জানিয়েছে, অডিওটি রাকিবুল হাসানের বলে প্রাথমিকভাবে তারা নিশ্চিত হয়েছেন।অডিওতে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা ও পুলিশের সক্ষমতা নিয়ে রাকিবুল হাসানকে মন্তব্য করতে শোনা যায়। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও কথা বলেন তিনি। পাশাপাশি পুলিশে বিভিন্ন পদে পদায়নের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ করেন।অডিওটি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে গতকাল রাকিবুল হাসানকে ক্যান্টনমেন্ট থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। তাঁকে ‘প্রশাসনিক কারণ’ দেখিয়ে ডিএমপির সদর দপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। এরপর রাকিবুলের বিরুদ্ধে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয় ঢাকা মহানগর পুলিশ।ক্যান্টনমেন্ট থানার সেই ওসিকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছেঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সরকার, পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনী নিয়ে রাকিবুল হাসানের বক্তব্যের ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির তিন সদস্যই ডিএমপির উপকমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তা।নাম প্রকাশ না করার শর্তে তদন্ত কমিটির একজন সদস্য আজ প্রথম আলোকে বলেন, কমিটি ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। তিন কর্মদিবসের মধ্যে ডিএমপি কমিশনারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।কী বলেছিলেন রাকিবুল হাসান অডিওতে পুলিশ পরিদর্শক রাকিবুল হাসানকে বলতে শোনা যায়, ‘জানি যে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে আসতেছে। কিচ্ছু হবে না আসলে, কিচ্ছু হবে না। আপনারা তো চিন্তা করতে পারছেন, রাস্তার পুলিশ কত দুর্বল। ভয়ানক দুর্বল। আসা উচিত। ডিসেম্বর দেরি হয়ে গেছে। এই মাসে আসা উচিত ছিল। চলে আসলি এই পুলিশ কিচ্ছু করতে পারবে না।’ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘সিনিয়র অফিসার সব বিএনপি করতেছে। আমরা তো বিএনপি করতেছি না। সব সিনিয়ররা বিএনপি করতেছে, আমরা বিএনপি করতেছি না। এই করার জন্য তো আমরা ডিপার্টমেন্টে আসি নাই। তোমরা খাবাদাবা,…নিয়ে থাকবা আর আমরা এখানে বসে বসে কাজ করব, তা তো হবে না।’অডিওতে রাকিবুল হাসান পুলিশের ওসি পদায়নে অর্থ লেনদেন এবং যোগ্য কর্মকর্তাদের বঞ্চিত করে অযোগ্যদের পদায়ন দেওয়ার অভিযোগ করেন।মনির নামে পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার গাড়িচালক থানার ওসি পদায়ন করছেন বলেও বলা হয় ওই অডিওতে। অডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘এগুলো সহ্য করা যায়? আর কী বলব? যারা পোস্টিং পাইতেছে, তার (মনির) কাছে টাকা দিচ্ছে, সকালবেলা পোস্টিং হইতেছে।’‘চলে আসলি এই পুলিশ কিচ্ছু করতে পারবে না’, অডিও ছড়ানোর পর ওসি প্রত্যাহার
পাবনা সদরে ১০ বছর বয়সী এক শিশুশিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার প্রধান আসামির বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত বাড়িটিতে ভাঙচুর চলে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। স্থানীয় লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ জুমার নামাজের পর স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে বাড়িতে হামলা চালায়। দুই তলা বাড়িটির মালামাল ভাঙচুর করে। তাঁরা বাড়িটির দরজা ও জানালা খুলে ফেলে। বড় হাতুড়ি দিয়ে ছাদ ভাঙতে দেখা যায়। একপর্যায়ে বাড়িটির অবকাঠামোর অনেকাংশই গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। তরিকুল ইসলাম, ওসি, পাবনা সদর থানাঘটনাস্থলে আগে থেকে পুলিশ মোতায়েন ছিল, তবে গ্রামবাসীর তুলনায় পুলিশের সংখ্যা কম থাকায় সে সময় বাধা দেওয়া যায়নি। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। পরিস্থিতি এখন শান্ত।সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে প্রথম আলোকে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে আগে থেকে পুলিশ মোতায়েন ছিল, তবে গ্রামবাসীর তুলনায় পুলিশের সংখ্যা কম থাকায় সে সময় বাধা দেওয়া যায়নি। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। পরিস্থিতি এখন শান্ত।নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি প্রথম আলোকে বলেন, জুমার নামাজ শেষে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন ওই বাড়ির সামনে আসতে শুরু করেন। এরপর তাঁরা একত্র হয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় বাড়িতে থাকা লোকজন পুলিশের সহযোগিতায় পালিয়ে যান। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা বাড়িটিতে ভাঙচুর শুরু করেন। তাঁরা বাড়ির আসবাব থেকে শুরু করে দেয়াল পর্যন্ত ভেঙে ফেলেছেন। এখন দোতলা বাড়িটি কঙ্কাল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েশিশুটি নিখোঁজ হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর বাড়ির পাশের ডোবা থেকে তার খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দুজন হলেন প্রধান আসামি মোস্তফা প্রামাণিক (৫৫) ও তাঁর বাড়ির ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলী (২১)।এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার প্রধান আসামির বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে স্থানীয় জনতাশিশুটির পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে শিশুটি তার বাবার সঙ্গে স্থানীয় একটি বাজারে যায়। বাজার শেষে বাবার সঙ্গে বাড়ি ফিরে বাজারের ব্যাগ মায়ের হাতে দিয়ে সে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। একপর্যায়ে বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে শিশুটির স্যান্ডেল পাওয়া যায়। এ ঘটনার পরদিন শিশুটির বাবা পাবনা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।১৫ সেপ্টেম্বর শিশুটির সন্ধান চেয়ে জেলা শহরে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন শিশুটির স্বজন, সহপাঠী ও পাড়া–প্রতিবেশীরা। এদিন শিশুটির বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে অপহরণের মামলা করেন। পরের দিন সকালে বাড়ির পাশের ডোবা থেকে বস্তায় ভরা শিশুটির খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। এদিন বিকেলেই দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর শিশুটির বাবার করা মামলায় হত্যা ও ধর্ষণের ধারা যুক্ত করা হয়। আসামি দুজন বর্তমানে কারাগারে।গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ। আসামিদের পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, গ্রেপ্তার মোস্তফা প্রামাণিক মুদিদোকানি। তিনি ও তাঁর বাড়ির ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলী শিশুটিকে হত্যার আগে মুদিদোকানের পেছনে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ সময় শিশুটি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঘটনা আড়াল করতে মোস্তফা ও ইয়াছিন শিশুটিকে খুঁজতে বের হওয়ার নাটকও করেন। পরে মোস্তফা লাশটি নিয়ে বাড়ির খাটের নিচে রেখে দেন। এরপর লাশটি খণ্ড করে বস্তায় ভরে দুটি ইট বেঁধে বাড়ির পাশের ডোবায় ফেলে দেন। পরে অবস্থা বেগতিক দেখে ডোবা থেকে তাঁরা লাশটি তুলে সেপটিক ট্যাংকে ফেলারও চেষ্টা করেন। তবে দুর্গন্ধে কুকুরের দল এগিয়ে আসায় তাঁরা ব্যর্থ হন। এরপর লাশটি ডোবাতেই পড়ে ছিল। পরে স্থানীয় লোকজন থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তে শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তারের পর দুজনই হত্যা ও ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন।শিশুটিকে এভাবে হত্যা মেনে নিতে পারছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা আজ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। প্রধান আসামি মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়।ভাঙচুরে অংশ নেওয়া কয়েকজনের ভাষ্য—শিশুকে যাঁরা ধর্ষণ করে হত্যা করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা দেখতে চান এলাকাবাসী। দেশে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হওয়া দরকার; কিন্তু শাস্তি হয় না। কোনো ধর্ষণেরই দৃশ্যমান বিচার হয় না। তাই ধর্ষণে জড়িত আসামির কোনো চিহ্ন তাঁরা রাখতে চান না।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে থানার প্রধান ফটকের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এর কিছুক্ষণের মধ্যে কাছের এলাকা যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে আরও তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ককটেল বিস্ফোরণে একজন অটোরিকশাচালক আহত হয়েছেন। কে বা কারা এ বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি পুলিশ।ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে যাত্রাবাড়ী থানায় কর্তব্যরত উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হাসানুর প্রথম আলোকে বলেন, থানার প্রধান ফটকের সামনে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। কোথা থেকে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নন তাঁরা। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আছেন। তাঁরা তদন্ত করে দেখছেন প্রকৃত ঘটনা কী।এ ঘটনার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভ্যন্তরীণ একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথমে সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটের দিকে যাত্রাবাড়ী থানার প্রধান ফটকসংলগ্ন এলাকায় একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। তারপর সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে পরপর আরও তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ হয়। ফ্লাইওভার থেকে এসব ককটেল নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।এ বিষয়ে যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাজু প্রথম আলোকে বলেন, ককটেল বিস্ফোরণে একজন অটোরিকশা চালক আহত হয়েছেন। তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।রাজধানীর তিন জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণএর আগে দুপুর থেকে রাজধানীর আরও তিনটি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে দুপুরে জুমার নামাজের পর মালিবাগের সোহাগ বাস কাউন্টারের সামনে ২টি, সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে আগারগাঁওয়ে বেতার ভবনের সামনে ১টি এবং সাড়ে ৬টার দিকে মহাখালী এলাকায় একটি ককটেল বিস্ফোরণ হয়। মালিবাগ ও মহাখালী এলাকায় ফ্লাইওভারের ওপর থেকে নিচে ককটেল ছোড়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।গত মঙ্গলবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে রায় দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এর কয়েক ঘণ্টা পর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে ওই দিন রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পরপর তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।