মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ তলানিতে এসে ঠেকেছে। এ অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহের আরেক গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বাব আল–মানদেব প্রণালিও কার্যত এখন ইয়েমেনের ইরান–সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির নিয়ন্ত্রণে। এই প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে তারা। এরই মধ্যে হামলার শিকার হওয়ার পর সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল দিয়ে জ্বালানি রপ্তানি আরও হুমকির মুখে পড়েছে।
ইস্ট–ওয়েস্ট পাইপলাইন নামের সৌদি আরবের ওই সরবরাহ পথে ড্রোন হামলা হয় গত বৃহস্পতিবার। এদিন স্যাটেলাইট থেকে ধারণ করা ছবিতে সৌদি আরবের মদিনা অঞ্চলের দক্ষিণে ওই পাইপলাইন থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। এরপর শুক্রবার সৌদি সরকার জানায়, ইরাক থেকে এ হামলা চালানো হয়েছে। দেশটির যে অঞ্চল থেকে হামলা হয়েছে, সেটি ইরান–সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে। হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন।
ইস্ট–ওয়েস্ট পাইপলাইন সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে শিল্পনগরী আবকাইককে পশ্চিমে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এর দৈর্ঘ্য ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার। ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় এই পাইপলাইনের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়িয়েছিল রিয়াদ। গত কয়েক মাসে এই পাইপলাইন দিয়ে দিনে ৪০ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ করা হয়েছে, যা বিশ্বের মোট সরবরাহ করা জ্বালানি তেলের ৪ থেকে ৫ শতাংশ।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যায় ইরান যুদ্ধ শুরুর পরপরই। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট জ্বালানির প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ হতো এ জলপথ দিয়ে। দিনে চলাচল করত শতাধিক পণ্যবাহী জাহাজ। এখন দিন গড়ে ১৪টি করে জাহাজ চলাচল করছে। এতে যুদ্ধ শুরুর পরপরই রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছে যায় জ্বালানি তেলের দাম। প্রভাব পড়ে বাংলাদেশেও। সম্প্রতি দাম কিছুটা কমলেও লোহিত সাগরে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ ঘিরে উত্তেজনায় তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি আবার ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রেও ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গ্যালনপ্রতি ৬ ডলার ছাড়িয়ে যায় ডিজেলের দাম।
এখন সৌদি পাইপলাইন বন্ধে তেলের দাম আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। সৌদি বিশ্লেষক খালেদ বারতাফি আল–জাজিরাকে বলেন, এই পাইপলাইন বন্ধের প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে। এটি বন্ধের কারণে বাজার থেকে প্রতিদিন ৫০ লাখ ব্যারেল তেল সরে যাবে। এটি পুরো বিশ্বের সমস্যা। ইরান যদি হরমুজ প্রণালির মতো বাব আল-মানদেব প্রণালিও বন্ধ করে দিতে পারে, তাহলে এর মূল্য পুরো বিশ্বকে দিতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এখন কিছু করা প্রয়োজন।
অভিযোগের আঙুল ইরানের দিকে
ইস্ট–ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার দায় কোনো পক্ষ স্বীকার করেনি। রিয়াদ জানিয়েছে, হামলার পেছনে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করতে বড় পরিসরে তৎপরতা চালানো হচ্ছে। বাগদাদের অনুরোধে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, পাল্টা হামলা চালাবে না। এর বদলে সৌদি আরব ও প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরাক থেকে চালানো হামলা ঠেকাতে বাগদাদের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করা হবে।
যেহেতু হামলাটি ইরাকে ইরান–সমর্থিত গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চল থেকে হয়েছে, তাই অভিযোগের আঙুল তেহরানের দিকেই উঠছে। হামলার পর ইরানের সঙ্গে শালামচেহ সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করে দিয়েছে বাগদাদ। এ ছাড়া গতকাল আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন, পাইপলাইনে হামলার পেছনে ইরানের হাত থাকতে পারে।
ইরানের যুক্ত থাকার পেছনে যৌক্তিক কারণ দেখছেন বিশেষজ্ঞরাও। নিরাপত্তা বিশ্লেষক ভলফগ্যাং পুস্তাই আল-জাজিরাকে বলেন, ইরানের হয়ে কাজ করা ইরাকি গোষ্ঠীগুলো পাইপলাইনে হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর নির্দেশ সম্ভবত তেহরান থেকে দেওয়া হয়েছে। এ হামলা চালিয়ে তারা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে লড়াই করা হুতিদের সহায়তা করেছে। তেহরান-সমর্থিত হুতিদের লক্ষ্য হলো ইয়েমেন থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনী বিতাড়িত করা।
হুতিদের ওপর হামলা
ইয়েমেনের হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের বিরোধ পুরোনো। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর দুই পক্ষ নতুন করে দ্বন্দ্বে জড়ায়। গত জুলাইয়ে সৌদি বন্দরগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে সৌদি জাহাজ চলাচলেও বাধা দিচ্ছে তারা। এর জেরে তিন দশকের মধ্যে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি এখন সবচেয়ে কম।

সম্প্রতি সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে। তবে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি সবচেয়ে বড় অগ্রগতি পায় শুক্রবার। এদিন ইয়েমেন সরকার জানায়, বাব আল–মানদেব প্রণালিতে গুরুত্বপূর্ণ পেরিম দ্বীপ দখল করে নিয়েছে হুতিরা। এ ছাড়া ইয়েমেনের মোখা শহরও তাদের দখলে এসেছে। এতে বাব আল–মানদেব প্রণালি–সংলগ্ন পুরো ইয়েমেন উপকূল এখন হুতিদের দখলে রয়েছে।
দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, প্রণালিটিতে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি পাওয়ার পর গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে লড়াই করতে সম্প্রতি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ফোন করে ট্রাম্পের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছিলেন। তবে ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছিলেন, এ সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়াবে না; বরং গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করবে। গতকাল ডাবলিনের সংবাদ সম্মেলনেও ট্রাম্প বলেছেন, হুতিদের পক্ষ থেকে তাঁকে ফোন করা হয়েছিল। তারা এই সংঘাতে না জড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে খালি হাতে ফেরার পর গতকাল সৌদি–সমর্থিত ইয়েমেন সরকার হুতিদের ওপর হামলার খবর জানিয়েছে। ইয়েমেন সরকার পরিচালিত বার্তা সংস্থা সাবার খবর অনুযায়ী, ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র মাজেদ আবদুল্লাহ আল–নাজিলি বলেছেন, বন্দর শহর মোখার কাছে হুতিদের যানবাহন ও অস্ত্র ধ্বংস করেছে সরকারি বাহিনী। এ সময় হুতি যোদ্ধারা নিহত হয়েছেন।
৭৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত
লোহিত সাগর ঘিরে নতুন করে উত্তেজনার আগে ইয়েমেনে প্রায় ৫২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় ছিলেন। এর পর থেকে নতুন করে প্রায় ৭৬ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। তাঁদের প্রায় ৫০০ জন বাব আল–মানদেব প্রণালি পেরিয়ে জিবুতিতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা আইওএম।
ইয়েমেন ও জিবুতির দূরত্ব সাগরপথে ২৫ কিলোমিটার। জিবুতির অর্থমন্ত্রী ইলিয়াস দাওয়ালেহ গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, আশ্রয় নেওয়া ইয়েমেনিদের জিবুতির ওবক শহরের উপকূল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁরা লোহিত সাগরে নৌকায় ভাসমান অবস্থায় ছিলেন। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছেন।
ইয়েমেনেও নতুন করে বাস্তচ্যুত হওয়া মানুষ বড় সংকটের মধ্যে রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন তাইজ এলাকায়। সেখানে খোলা আকাশের নিচে তাঁবু খাটিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন তাঁরা। আল–জাজিরাকে বাস্তুচ্যুত এক ইয়েমেনি বলেন, ‘বড় দুর্দশার মধ্যে রয়েছি। বেঁচে থাকার জন্য আমাদের ত্রিপল, মাদুর, খাবার, পানি—সবকিছু দরকার।’
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) এর সিএসই-৫০ সূচকের কোম্পানিগুলো সমন্বয় করা হয়েছে। এতে নতুন ৭টি কোম্পানি যোগ হয়েছে। আগের ৭টি কোম্পানি এই সূচক থেকে বাদ পড়েছে। নতুন সমন্বয় হওয়ার বিষয়টি আগামী ১১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর পারফরমেন্স পর্যালোচনার ভিত্তিতে সিএসই-৫০ সূচক চূড়ান্ত করা হয়েছে।
জবাবে প্রশাসক রুকুনোজ্জামান বলেন, যানজট কমানো এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় তারা নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। তবে অসচেতনভাবে বহুতল ভবন থেকে নিচে বর্জ্য ফেলার মতো মানসিকতার কারণে শতভাগ সফলতা পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর নগরবাসীর মনে শহরের প্রতি মমত্ববোধ তৈরি করতে না পারাকে তিনি নিজের বড় ব্যর্থতা বলে উল্লেখ করেন।
টম ক্রুজকে এবার চেনাই কঠিন! ধূসর-সাদা চুল, বড় ভুঁড়ি, বলিরেখায় ভরা মুখ আর সম্পূর্ণ বদলে যাওয়া শরীরী ভাষায় পর্দায় আসছেন হলিউডের এই তারকা।