জাতীয়

মাদকের ‘অঘোষিত হাট’ শেরপুর সীমান্ত

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
মাদকের ‘অঘোষিত হাট’ শেরপুর সীমান্ত
মাদকের ‘অঘোষিত হাট’ শেরপুর সীমান্ত

শেরপুর যেন মাদকের এক অঘোষিত হাট। ভারতঘেঁষা জেলার তিনটি উপজেলার সীমান্ত দিয়ে সুযোগ নিচ্ছেন কারবারিরা। কর্মহীন মানুষদের ব্যবহার করা হচ্ছে মাদক বহনের কাজে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় অপ্রতিরোধ্য এসব সিন্ডিকেট। শহর থেকে গ্রাম, এমনকি দুর্গম চর এলাকাগুলোতেও হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক।

অনুসন্ধানে জানা যায়, শেরপুরের শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার বিলপাড়, নকশি, রাংটিয়া, লোহার ব্রিজ, গোমড়া, সন্ধ্যাকুড়া, হালচাটি, তাওয়াকুচা, বালিজুড়ি, কর্ণজোড়া, রাবার বাগান, বারোমারি, খলচান্দা, নাকুগাঁও, বরুয়াজানী, রাধার বাঁধ, পানিহাটা, শালবাগানসহ অন্তত ১৫টি পয়েন্ট দিয়ে ঢুকছে মাদক, কসমেটিকস, গরুসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্য।

আরও পড়ুন

ইয়াবার চালান মিললো অটোরিকশার সিটের নিচে, মাদক কারবারি আটক

বিজিবি সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসে ময়মনসিংহ সেক্টর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা মূল্যের চোরাচালান পণ্য ও মাদক জব্দ এবং ১১৪ জন কারবারিকে আটক করা হয়েছে।

সূত্র বলছে, সীমান্তের ওপার থেকে মাদক এনে পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে মজুত করা হয়। এরপর ট্রাক, বাস, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেলে করে তা জেলা সদরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়।

স্থানীয় সমাজকর্মী ছাইফুল ইসলাম মানিক জাগো নিউজকে বলেন, ‘এখন এমন একটা অবস্থা হয়েছে যে হাত বাড়ালেই মাদক পাওয়া যায়। স্কুলের শিক্ষার্থী থেকে বৃদ্ধ, বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ রাখতে এখনই সময় মাদকের লাগাম টেনে ধরার।’

ঝিনাইগাতীর বাসিন্দা রবিউল ইসলাম রোমান। তিনিও একজন সমাজকর্মী। রোমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঝিনাইগাতীর বাকাকুড়া এলাকায় চালের মতো মাদক মেলে। এখানকার যারা প্রভাবশালী তাদের ছত্রচ্ছায়ায় কারবারিরা ব্যবসা করছে। কারবারিদের সিন্ডিকেট খুবই শক্তিশালী।’

মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় হামলার শিকার হয়েছেন রোমান। তিনি বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় আমার ওপর মাদক কারবারিরা অতর্কিত হামলা করে। আমার সঙ্গে থাকা মোটরসাইকেলটিও ছিনিয়ে নিয়ে নেয়। পরবর্তী সময়ে পর্যাপ্ত সাক্ষী-প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও কারবারিদের পক্ষে প্রভাবশালী মহলের পৃষ্ঠপোষকতা থাকায় আমার মামলাটি আলোর মুখ দেখেনি।’

স্থানীয় শামীম আহমেদ বলেন, ‘কর্মহীন মানুষরা মাদক বহনে জড়িয়ে পড়ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে মাদকের ভয়াবহতা ও কুফল সমাজে ব্যাপকভাবে আলোচনা করতে হবে।’

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ভূঁইয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘মাদকের ব্যাপারে জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স। সীমান্তে মাদক চোরাচালান ঠেকাতে ও নির্মূলে বিজিবির সঙ্গে পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে।’

আরও পড়ুন

শাহজালালে এক ফ্লাইটের ৭ যাত্রীর ব্যাগে ৩৮.৫ লিটার বিদেশি মদ

এ বিষয়ে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল জাগো নিউজকে বলেন, ‘সীমান্তবর্তী এ অঞ্চলের লোকজনের কর্মসংস্থানের অভাব। তাই বেশিরভাগ লোকজন দারিদ্র্যতার মধ্যে বাস করছে। এই শ্রেণির লোকদের মাদক পরিবহনে ব্যবহার করছে কারবারিরা। এরসঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।’

জানতে চাইলে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়নের (৩৯ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল নুরুল আজিম বায়েজীদ জানান, সীমান্ত দিয়ে মাদকসহ যেকোনো ধরনের চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবি সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কঠোর নজরদারি ও দায়িত্ব পালন অব্যাহত থাকবে।’

মো. নাঈম ইসলাম/এসআর/এএসএম

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে দ্রুত ৪৬৩১ কোটি টাকা চায় বিদ্যুৎ বিভাগ
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে দ্রুত ৪৬৩১ কোটি টাকা চায় বিদ্যুৎ বিভাগ

দুটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ ক্রয়-বিক্রয়জনিত ঘাটতি মেটাতে ৪ হাজার ৬৩১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বকেয়া ভর্তুকি চেয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। পটুয়াখালীর আরএনপিএল বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং কক্সবাজারের মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিপরীতে এ অর্থ প্রয়োজন। জাতীয় স্বার্থে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে এ অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে অর্থ বিভাগকে অনুরোধ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের উন্নয়ন-১ শাখা থেকে গত ৯ সেপ্টেম্বর অর্থ বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ অনুরোধ জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পাবলিক কোম্পানি এবং ভারত ও নেপাল থেকে তুলনামূলক বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে বৃহৎ গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। এতে সংস্থাটির যে আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, তা পূরণে সরকারের রাজস্ব বাজেট থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সরকারের এই আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র, ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং আমদানি করা বিদ্যুতের বিল নিয়মিত পরিশোধের পাশাপাশি জ্বালানি তেল ও কয়লা আমদানি করে বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। পটুয়াখালীর কেন্দ্রের বকেয়া ভর্তুকি চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ৭ মে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় যৌথ উদ্যোগের বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং আদানি পাওয়ার ঝাড়খন্ডসহ ভারত ও নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানিকে ভর্তুকির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। পটুয়াখালীর আরএনপিএল বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের বাণিজ্যিক উৎপাদনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫। আর দুটি ইউনিটের একত্রে বাণিজ্যিক উৎপাদনের তারিখ ২৮ মে ২০২৬ নির্ধারণ করা হয়। আরও পড়ুন বিদ্যুৎ-গ্যাস নিয়ে ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী স্বাক্ষরিত বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম ইউনিট চালুর তারিখ থেকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড একটি ইউনিটের সক্ষমতা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন বাবদ অর্থ পরিশোধ করছে। আর দুটি ইউনিট একত্রে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার পর থেকে দুই ইউনিটের সক্ষমতা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন বাবদ অর্থ দেওয়া হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের আলোকে প্রথম ইউনিটের বাণিজ্যিক উৎপাদনের তারিখকে ভিত্তি ধরে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে মে ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের বকেয়া ভর্তুকি দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড অনুরোধ জানিয়েছে। এ বিষয়ে গত ২৭ এপ্রিল অর্থ বিভাগকে চিঠিও দিয়েছিল বিদ্যুৎ বিভাগ। মাতারবাড়ীর দুই ইউনিটের বকেয়াও অন্যদিকে মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের বাণিজ্যিক উৎপাদনের তারিখ ২৯ আগস্ট ২০২৪ নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত সময়ে দ্বিতীয় কিস্তির আসল ও সুদ পরিশোধে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া সার্বভৌম নিশ্চয়তার ক্ষেত্রে ঋণখেলাপের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।—বলছে আরএনপিএল   সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির অনুমোদনের ভিত্তিতে কেন্দ্রটির উভয় ইউনিটের বাণিজ্যিক উৎপাদনের তারিখ থেকে অস্থায়ী বিদ্যুৎমূল্য অনুমোদন করা হয়। পরে অনুমোদিত মূল্য চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করে ২৯ আগস্ট ২০২৪ থেকে কেন্দ্রটির দুটি ইউনিটের সক্ষমতা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন বাবদ অর্থ পরিশোধ করছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। তবে ওই সময় থেকে মে ২০২৬ পর্যন্ত বিদ্যুৎ ক্রয়-বিক্রয়জনিত ঘাটতির বিপরীতে প্রাপ্য ভর্তুকি এখনো বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে দেওয়া হয়নি। আরও পড়ুন জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় বাড়তে পারে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিভাগের হিসাবে, পটুয়াখালীর আরএনপিএল বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের বকেয়া ভর্তুকি মিলিয়ে মোট ৪ হাজার ৬৩১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা প্রয়োজন। ঋণের কিস্তি পরিশোধেও অর্থ দরকার পটুয়াখালীর বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বকেয়া ভর্তুকি দ্রুত পরিশোধের পক্ষে আরও একটি কারণ দেখিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। কেন্দ্রটি নির্মাণে নেওয়া বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধ এবং কয়লার মজুত নিশ্চিত করতে অর্থের প্রয়োজন। জানা গেছে, ২০১১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও আরএনপিএলের মধ্যে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ২০১৯ সালের ৮ এপ্রিল বাস্তবায়ন চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চীনের এক্সিম ব্যাংকের নেতৃত্বাধীন একটি ঋণদাতা গোষ্ঠী থেকে নেওয়া ঋণের ৫০ শতাংশের জন্য বাংলাদেশ সরকার সার্বভৌম নিশ্চয়তা দিয়েছে। এই নিশ্চয়তার আওতায় গত ২৫ মার্চ ঋণের প্রথম কিস্তির আসল ও সুদ বাবদ ১৩৯ দশমিক ৯৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৭২২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, পরিশোধ করা হয়েছে। আরও পড়ুন কারিগরি ত্রুটিতে আদানির এক ইউনিট বন্ধ, বাড়ছে লোডশেডিং আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দ্বিতীয় কিস্তি পরিশোধ করতে হবে। এ কিস্তির আসল ও সুদ বাবদ ১৩৬ দশমিক ১৩১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ১ হাজার ৬৮৮ কোটি ৩ লাখ টাকা পরিশোধের কথা রয়েছে। আরএনপিএল বিদ্যুৎ বিভাগকে জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ে দ্বিতীয় কিস্তির আসল ও সুদ পরিশোধে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া সার্বভৌম নিশ্চয়তার ক্ষেত্রে ঋণখেলাপের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। দুই বিদ্যুৎকেন্দ্রের বকেয়া ভর্তুকি বাবদ অর্থ বিভাগের কাছে টাকা চাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে এখনো অর্থ বিভাগ থেকে আমরা কোনো জবাব পাইনি।—মোহাম্মদ সোলায়মান বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, আরএনপিএলের মাসিক বিদ্যুৎ বিলের বিপরীতে সময়মতো প্রাপ্য ভর্তুকি দেওয়া হলে দ্বিতীয় কিস্তির ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কয়লার মজুত সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে জরুরি অর্থ বিদ্যুৎ বিভাগ মনে করছে, বর্তমান সংকটকালীন পরিস্থিতিতে দুই বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন বজায় রাখা জরুরি। এ কারণে বকেয়া ভর্তুকির অর্থ দ্রুত পরিশোধ করা প্রয়োজন। চিঠিতে জাতীয় স্বার্থে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আরএনপিএলের প্রথম ইউনিটের ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে মে ২০২৬ পর্যন্ত এবং মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের উভয় ইউনিটের ২৯ আগস্ট ২০২৪ থেকে মে ২০২৬ পর্যন্ত প্রাপ্য বকেয়া ঘাটতির বিপরীতে মোট ৪ হাজার ৬৩১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে ভর্তুকি হিসেবে দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অর্থ বিভাগকে অনুরোধ করা হয়েছে। যোগাযোগ করা হলে বিদ্যুৎ বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ সোলায়মান জাগো নিউজকে বলেন, দুই বিদ্যুৎকেন্দ্রের বকেয়া ভর্তুকি বাবদ অর্থ বিভাগের কাছে টাকা চাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে এখনো অর্থ বিভাগ থেকে আমরা কোনো জবাব পাইনি। আরও পড়ুন বাব আল-মান্দেবও অনিরাপদ, জ্বালানি-বাণিজ্যে বাড়ছে ঝুঁকি তিনি বলেন, চিঠিতে যে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি মূলত ভর্তুকির অর্থ। সরকার ভর্তুকি দেয় বলেই আমরা এই অর্থ চেয়েছি। ভর্তুকির অর্থ পাওয়া গেলে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কার্যক্রমে এর প্রভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই টাকা পেলে আমাদের দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র আরএনপিএল বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালনা করা সম্ভব হবে। লোডশেডিং কমাতে এর প্রভাব পড়বে কি না—এমন প্রশ্নে মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, অবশ্যই লোডশেডিং কমবে। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চললে লোডশেডিং কমবেই। এমএএস/এমকেআর/ এমএফএ

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
সিলেটের পথে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সিলেটের পথে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যে সতর্কতা হার্ভার্ডের

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যে সতর্কতা হার্ভার্ডের

খোলাবাজারে সার বিক্রি করায় ডিলারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

খোলাবাজারে সার বিক্রি করায় ডিলারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

জামায়াত শিবিরকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তাদের রাজনৈতিক পিতা কে?
জামায়াত শিবিরকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তাদের রাজনৈতিক পিতা কে?

মওদুদী নাকি জিন্নাহ—জামায়াত-শিবিরের রাজনৈতিক আদর্শের মূল জায়গায় কে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন রাশেদ খাঁন। তার দাবি, পরস্পরবিরোধী চিন্তার দুই ব্যক্তিকে একই সঙ্গে আদর্শ মানতে গিয়ে বর্তমান জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থানে অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘জামায়াত শিবিরকে সিদ্ধান্ত নিয়ে যে কোন একজনকে তাদের রাজনৈতিক পিতা মানা উচিত। জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা মওদুদী জামায়াত-শিবিরের রাজনৈতিক পিতা। আর মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তানের জাতির পিতা। কিন্তু দু'জন পরস্পরবিরোধী চিন্তা ও আদর্শের অধিকারী।’ ‘মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর আদর্শ অনুসরণ করলে মওদুদীর আদর্শ অনুসরণ করা যায় না। কারণ মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ছিলেন মধ্যপন্থী ও পশ্চিমা ভাবধারার জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী মানুষ। আর মওদুদী ছিলেন ইসলামিক ভাবধারায় বিশ্বাসী মানুষ, যেখানে ভৌগোলিক জাতীয়তাবাদ গুরুত্বপূর্ণ নয়। অর্থাৎ দ্বিজাতিতত্ত্বের বিরোধী চিন্তার মানুষ ছিলেন জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা মওদুদী।’ আরও পড়ুন সমালোচনা করেন, ন্যায়বিচারের বিপক্ষে অবস্থান নয়: রাশেদ খাঁন তিনি আরও লেখেন, ‘কিন্তু বর্তমান জামায়াত পরস্পরবিরোধী দু'জনকেই তাদের রাজনৈতিক পিতা বা আদর্শ হিসেবে মানতে চায়। কিন্তু যারা প্রকৃতপক্ষে মুওদুদীবাদী, তারা জিন্নাহবাদী হওয়ার চেষ্টা করা মানে মওদুদীবাদী আদর্শ বিচ্যুত হওয়া নয় কি? তাহলে কি বর্তমান জামায়াত মূলধারা থেকে আদর্শচ্যুত?’ ‘অর্থাৎ ইসলামিক বা শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠার চিন্তা থেকে দূরে সরে গিয়ে পাকিস্তানের জাতির পিতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহকেই তাদের আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়? এ বিষয়ে জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার থাকা জরুরি।’ রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘অন্যথায় জামায়াতের বর্তমান নেতাকর্মীরা আধা ইসলামিক, আধা মধ্যপন্থী আদর্শ অনুসরণ করতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলে বেপরোয়া ও হঠকারী হয়ে উঠছে। এটা নেতাকর্মীদের সমস্যা না। এটা নীতি নির্ধারকদের সমস্যা। ক্ষমতার মোহে জামায়াতের নীতিনির্ধারকরা তাদের নেতাকর্মীদের সঠিক আদর্শের দীক্ষা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।’ ‘আর তাই বর্তমান জামায়াতের এই অধঃপতন। যা নিয়ে জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের সন্তান ব্রিগেডিয়ার আমান আযমী আফসোস করে বলেছে, আমার বাবা যে জামায়াত করেছে, আর বর্তমান এই জামায়াত এক নয়!’ এমআরএম

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
পাকিস্তানকে আইসিসির জরিমানা

পাকিস্তানকে আইসিসির জরিমানা

বিপদ বাড়াচ্ছে ‘কালো সোনা’

বিপদ বাড়াচ্ছে ‘কালো সোনা’

ঢাকায় ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৫০৮, কোন এলাকা থেকে কতজন

ঢাকায় ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৫০৮, কোন এলাকা থেকে কতজন

আজও ইসলামী ব্যাংকের সামনে গ্রাহক ফোরামের অবস্থান
আজও ইসলামী ব্যাংকের সামনে গ্রাহক ফোরামের অবস্থান

আজও ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান নিয়েছেন সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা। তবে দেখা যায়নি ব্যাংকটির চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের। এর আগে টানা দুই দিন রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির প্রধান কার্যালয়ের সামনে মুখোমুখি অবস্থান নেন সচেতন গ্রাহক ফোরাম ও চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তবে সোমবার অবস্থানের দ্বিতীয় দিন গ্রাহক ফোরামের ওপর হামলা চালান চাকরিচ্যুত ব্যাংক কর্মকর্তারা। এতে পাঁচজন গুরুতরসহ গ্রাহক ফোরামের মোট ৩০ জন সদস্য আহত হন। অন্যদিকে চাকরিচ্যুত ব্যাংক কর্মকর্তাদেরও ২৫ জন আহত হন বলে দাবি করা হয়। আরও পড়ুন মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের সামনে দুই পক্ষের সংঘর্ষ প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই মতিঝিল দিলকুশা এলাকায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের আশপাশে অবস্থান নেন সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা। পরে মিছিল সহকারে সকাল ১০টায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান নেন তারা। তবে মতিঝিল দিলকুশা এলাকায় দেখা যায়নি চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের। এদিকে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশসহ গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য এবং ইসলামী ব্যাংকের নিজস্ব সিকিউরিটির সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন। সচেতন গ্রাহক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক বলেন, ইসলামী ব্যাংককে অস্থিতিশীল করার যে কোনো অশুভ তৎপরতা ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে গ্রাহকরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। আরও পড়ুন ইসলামী ব্যাংকের সামনে থেকে সরে গেলো দুই পক্ষ, সোমবার ফের অবস্থান তিনি বলেন, ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ও গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে এস আলম গ্রুপের বিদেশে পাচার করা সম্পদ উদ্ধার ও ব্যাংকের স্বার্থে তা বাজেয়াপ্ত করতে হবে। অবৈধভাবে নেওয়া ঋণ সুবিধার সমন্বয় এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। নুরুন্নবী মানিক আরও বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৪(খ) ধারা অনুযায়ী এস আলম গ্রুপের অবৈধভাবে ধারণ করা শেয়ার বাজেয়াপ্ত করে তা বাজারে বিক্রি অথবা প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করতে হবে। এসব দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। ইএআর/ইএ

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
হাতকড়াসহ পালানো আ’লীগ নেতা ৮ ঘণ্টা পর আটক

হাতকড়াসহ পালানো আ’লীগ নেতা ৮ ঘণ্টা পর আটক

শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশ নিশ্চিত করতে হবে

শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশ নিশ্চিত করতে হবে

সমাজসেবায় ১৪৮৫ পদে নিয়োগ: আবেদনকারী কত, পরীক্ষার তারিখ কবে

সমাজসেবায় ১৪৮৫ পদে নিয়োগ: আবেদনকারী কত, পরীক্ষার তারিখ কবে

0 Comments