বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে স্বাভাবিক এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানি। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদনে। এতে দৈনিক আড়াই হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (পিডিবি)।
দেশের চাহিদা মেটাতে সরকার বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে তরল জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর দিকে ঝুঁকছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বাড়তি চাহিদা জোগান দিতে পূর্বপরিকল্পনার অতিরিক্ত ফার্নেস অয়েল আমদানি করছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
পিডিবি ও বিপিসি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি (সেপ্টেম্বর) মাসের শুরুতে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে (আইপিপি) পুরোনো পাওনা পরিশোধের জন্য ছয় হাজার কোটি টাকা দিয়েছে সরকার। এতে নিজস্ব উদ্যোগে ফার্নেস অয়েল আমদানির জন্য ঋণপত্র খুলছে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো। পিডিবির চাহিদা অনুযায়ী বিপিসি ৩৫ দিনে ফার্নেস অয়েলের সাতটি পার্সেল আমদানি করছে।
তরল জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ফার্নেস অয়েল ও ডিজেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আইপিপিগুলো আমদানি করে নিজেরা। অনেকে পিডিবির মাধ্যমে বিপিসি থেকে তেল নিয়ে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখে। বিপিসি আমদানির মাধ্যমে চাহিদামাফিক পিডিবিকে তরল জ্বালানি সরবরাহ করে। তবে বিগত বছরগুলোতে চাহিদা দিয়েও পিডিবি ফার্নেস অয়েল না নেওয়ায় বিপাকে পড়তে হয় বিপিসিকে।
২০২৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পিডিবি এক চিঠিতে ২০২৬ সালের জন্য মাসওয়ারি ফার্নেস অয়েলের চাহিদা দিয়ে চিঠি দেয় বিপিসিকে। ওই চিঠিতে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য আট লাখ ২৬ হাজার ২শ টন ফার্নেস অয়েলের চাহিদা দেওয়া হয়।
এর মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসের জন্য চাহিদা রয়েছে ৮৮ হাজার ২৯৮ টনের। কিন্তু চলতি বছরের ৩১ আগস্ট পিডিবির সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আফরোজা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সেপ্টেম্বর মাসের জন্য দুই লাখ চার হাজার টনের ফার্নেস অয়েলের সংশোধিত চাহিদা দেয়। এতে সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে ফার্নেস অয়েলের সরবরাহ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে বিপিসি।
এর আগে গত ২১ আগস্ট বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে ফার্নেস অয়েলনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে দৈনিক গড়ে চার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে জ্বালানি তেল সরবরাহ বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
পিডিবির ৭-৯ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আগের তিনদিনে রাত ৯টায় পিক আওয়ারে ১৭শ ৭১ থেকে ২৫শ ৬১ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হয়েছে। এর মধ্যে ৯ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন বলছে, ৮ সেপ্টেম্বর পিক আওয়ার রাত ৯টায় ডিমান্ড ছিল ১৭ হাজার ৮৫৫ মেগাওয়াট। ওই সময়ে পিডিবির ৯ জোনে লোডশেডিং হয়েছে ১৭৭১ মেগাওয়াট।
এর মধ্যে ঢাকা জোনে সর্বোচ্চ ৪৪৭ মেগাওয়াট, ময়মনসিংহ জোনে ৩৭৬ মেগাওয়াট, খুলনা জোনে ৩০৭ মেগাওয়াট, কুমিল্লা জোনে ২৯০ মেগাওয়াট, সিলেট জোনে ১৪২ মেগাওয়াট, রাজশাহী জোনে ১১৮ মেগাওয়াট, রংপুরে ৭৬ মেগাওয়াট, বরিশালে ১২ মেগাওয়াট এবং চট্টগ্রামে সর্বনিম্ন ৩ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে।
৮ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন বলছে, আগের দিন ৭ সেপ্টেম্বর সারাদেশে দুই হাজার ৫৬১ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়। ওইদিন ঢাকায় লোডশেডিং হয় সর্বোচ্চ ৬৯৬ মেগাওয়াট। ৬ সেপ্টেম্বর সারাদেশে ২১শ ১০ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের কথা বলেছে পিডিবি। এর মধ্যে ঢাকায় সর্বোচ্চ ৮১৪ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়।
৯ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৮ সেপ্টেম্বর পিডিবির গ্রিড লাইনে সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে ৩৫২ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন কিলোওয়াট/ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ কয়লা থেকে ১২৩ দশমিক শূন্য ৩ মিলিয়ন কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়।

পাশাপাশি গ্যাসে ১১৫ দশমিক ৮১ মিলিয়ন কিলোওয়াট, আমদানি থেকে ৫৩ দশমিক শূন্য ৪ মিলিয়ন কিলোওয়াট, ফার্নেস অয়েলে ৪৫ দশমিক ৬৪ মিলিয়ন কিলোওয়াট, ডিজেল থেকে ৫ দশমিক ৭২ মিলিয়ন কিলোওয়াট, পানি থেকে ৫ দশমিক ৩৫ মিলিয়ন কিলোওয়াট, সোলার থেকে ৩ দশমিক ৭৬ মিলিয়ন কিলোওয়াট এবং বায়ু থেকে দশমিক ১১ মিলিয়ন কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়।
৮ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭ সেপ্টেম্বর পিডিবির গ্রিড লাইনে সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে ৩৪৫ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন কিলোওয়াট/ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে সর্বোচ্চ গ্যাস থেকে ১১৯ দশমিক ২৮ মিলিয়ন কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। পাশাপাশি কয়লায় ১১৫ দশমিক ১৯ মিলিয়ন কিলোওয়াট, আমদানি থেকে ৫২ দশমিক ৩৩ মিলিয়ন কিলোওয়াট, ফার্নেস অয়েলে ৪২ দশমিক ১৮ মিলিয়ন কিলোওয়াট, ডিজেল থেকে ৬ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন কিলোওয়াট, পানি থেকে ৫ দশমিক ৩১ মিলিয়ন কিলোওয়াট, সোলার থেকে ৪ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন কিলোওয়াট এবং বায়ু থেকে দশমিক শূন্য ৭ মিলিয়ন কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়।
পেট্রোবাংলার প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, দেশে গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ এক-তৃতীয়াংশে নেমেছে। দেশের ১৪৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ গ্যাসনির্ভর। এর মধ্যে সারাদেশে গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা রয়েছে দুই হাজার ৫২৫ মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু তথ্য বলছে, পেট্রোবাংলার ছয় বিতরণ প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গত ৮ সেপ্টেম্বর ৮৫৩ দশমিক ১ মিলিয়ন ঘনফুট এবং ৯ সেপ্টেম্বর ৮৬১ দশমিক ১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করেছে।
৯ সেপ্টেম্বর বিপিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী ফার্নেস অয়েলের মজুত একেবারে তলানিতে ঠেকেছে। বিগত বছরের হিসাবে মাত্র পাঁচদিনের মতো ফার্নেস অয়েল মজুত রয়েছে বিপিসির হাতে। তথ্য বলছে, ৯ সেপ্টেম্বর বিপিসিতে সমাপনী মজুত ছিল ৯ হাজার ৩৪৩ মেট্রিক টন। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে তিন মাসে বিপিসির বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলো দৈনিক গড়ে ২১শ ৮৮ টন ফার্নেস অয়েল বিক্রি করেছিল। এতে বর্তমান মজুতে মাত্র পাঁচদিনের কম সরবরাহ দিতে সমর্থ হবে বিপিসি।
এমনিতে পিডিবি আগে চাহিদামাফিক ফার্নেস অয়েল নিতো না। এখন সংকটকালীন সেপ্টেম্বর মাসের জন্য দুই লাখ টনের চাহিদা দিয়েছে পিডিবি। তাদের চাহিদা পাওয়ার পর থেকে আমরা দ্রুত অতিরিক্ত ফার্নেস অয়েল আমদানির পদক্ষেপ নিয়েছি। পরিকল্পনার বাইরেও এ মাসে ফার্নেস অয়েলের দুটি পার্সেল বেশি আনা হয়েছে।-বিপিসির পরিচালক (বিতরণ) আসাদুল হক
বিপিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আমদানি সূচি অনুযায়ী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত সাতটি পার্সেলে দুই লাখ টনের মতো ফার্নেস অয়েল আনবে বিপিসি। এর মধ্যে ১২ সেপ্টেম্বর প্রথম পার্সেল, ১৬-১৮ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয়, ২০-২২ সেপ্টেম্বর তৃতীয়, ২৫-২৭ সেপ্টেম্বর চতুর্থ, ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবরের মধ্যে পঞ্চম, ৬-৮ অক্টোবর ষষ্ঠ এবং ১৫-১৭ অক্টোবর আসবে সপ্তম পার্সেল। পাশাপাশি বেসরকারি আইপিপিগুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ফার্নেস অয়েল আমদানির ঋণপত্র খুলেছে।

এ বিষয়ে কথা হলে ফার্নেস অয়েল নিয়ে আশার কথা জানিয়েছেন বিপিসির পরিচালক (বিতরণ) আসাদুল হক। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘এমনিতে পিডিবি আগে চাহিদামাফিক ফার্নেস অয়েল নিতো না। এখন সংকটকালীন সেপ্টেম্বর মাসের জন্য দুই লাখ টনের চাহিদা দিয়েছে পিডিবি। তাদের চাহিদা পাওয়ার পর থেকে আমরা দ্রুত অতিরিক্ত ফার্নেস অয়েল আমদানির পদক্ষেপ নিয়েছি। পরিকল্পনার বাইরেও এ মাসে ফার্নেস অয়েলের দুটি পার্সেল বেশি আনা হয়েছে। আশা করছি পাওয়ার প্ল্যান্টগুলোতে ফার্নেস অয়েল সরবরাহে কোনো সমস্যা হবে না।’
আমরা সেপ্টেম্বর মাসের জন্য দুই লাখের কিছু বেশি ফার্নেস অয়েল সরবরাহের জন্য চাহিদা দিয়েছি। আমরা যে পরিমাণ চেয়েছি, তাৎক্ষণিক সে পরিমাণ সরবরাহ দেওয়ার মতো সক্ষমতা বিপিসিরও নেই। তারাও বাড়তি ফার্নেস অয়েল আমদানির পদক্ষেপ নিয়েছেন। সবাই মিলে আমরা চেষ্টা করছি। আশা করছি, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে।-পিডিবির উপ-সচিব (উৎপাদন) হেলালুর রহমান
পিডিবির উপ-সচিব (উৎপাদন) হেলালুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘ফার্নেস অয়েল বেশিরভাগ আমদানি করতে হয়। আমরা চলতি মাসের ৩ তারিখ সরকার থেকে ছয় হাজার কোটি টাকা পেয়েছি। ইতোমধ্যে গত এক সপ্তাহে আইপিপিগুলোকে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করেছি। তারাও ফার্নেস অয়েল আমদানির এলসি (ঋণপত্র) খুলছে। তাদের এলসি খোলার অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে চলতি মাসে আরও এক হাজার কোটি টাকার মতো আনুপাতিকভাবে পরিশোধ করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা সেপ্টেম্বর মাসের জন্য দুই লাখের কিছু বেশি ফার্নেস অয়েল সরবরাহের জন্য চাহিদা দিয়েছি। আমরা যে পরিমাণ চেয়েছি, তাৎক্ষণিক সে পরিমাণ সরবরাহ দেওয়ার মতো সক্ষমতা বিপিসিরও নেই। তারাও বাড়তি ফার্নেস অয়েল আমদানির পদক্ষেপ নিয়েছেন। সবাই মিলে চেষ্টা করছি। আশা করছি, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’
পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাগো নিউজকে বলেন, ‘২১ আগস্ট থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কোন কোন প্ল্যান্টের কী পরিমাণ ফার্নেস সরবরাহ করা দরকার, তার একটি তালিকা আমরা বিপিসিকে দিয়েছি। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে সেপ্টেম্বরে লোড বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফার্নেস অয়েল আমদানির চালানগুলো শিগগির আসা শুরু হবে। এরপর থেকে ধীরে ধীরে লোড বাড়বে। সবমিলিয়ে বিদ্যুতের সংকট সমাধানে আমরা সবাই মিলে এগোচ্ছি।
এমডিআইএইচ/এএসএ/ এমএফএ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ফরিদপুর ও মাদারীপুরের বন্ধ চার পাটকল চুক্তিতে চালু করেছে দেশের এই শিল্পগ্রুপ। এসব পাটকলে কর্মসংস্থান হয়েছে ১৫ হাজার শ্রমিকের।ফরিদপুরের রাজ্জাক জুট ইন্ডাস্ট্রিজ নানা সমস্যায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে পাটকলটির অনেক শ্রমিক বেকার হন। বন্ধ সেই কারখানা চলতি বছর চালু করেছে আবুল খায়ের গ্রুপ। এখন পাটকলটির উৎপাদিত পণ্য রপ্তানিও হচ্ছে। রাজ্জাক জুট ইন্ডাস্ট্রিজের পাশাপাশি আরও তিনটি বন্ধ পাটকল সম্প্রতি চালু হয়েছে আবুল খায়ের গ্রুপের হাত ধরে। অন্য তিনটি পাটকল হচ্ছে ফরিদপুরের ফরিদপুর জুট ফাইবার্স ও দাহমাশী জুট ইন্ডাস্ট্রিজ এবং মাগুরার এআর জুট মিলস। বন্ধ এই চার পাটকল চালুর ফলে নতুন করে কারখানাগুলোতে কর্মসংস্থান হয়েছে ১৫ হাজার শ্রমিকের। বন্ধ ও রুগ্ণ এই চার পাটকল নতুন করে চালু করে পাটপণ্য উৎপাদন করছে আবুল খায়ের গ্রুপের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান শাহ অ্যাগ্রো লিমিটেড।আবুল খায়ের গ্রুপের কর্মকর্তারা জানান, গত বছর পাট কেনাবেচার ব্যবসা শুরু করে এই শিল্পগোষ্ঠী। একপর্যায়ে পাটপণ্যের ব্যবসায় নামার অংশ হিসেবে বেসরকারি খাতের চারটি বন্ধ পাটকলের সঙ্গে চুক্তি করা হয়। তারপর চলতি বছরের বিভিন্ন সময় এই পাটগুলো চালু করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নতুন করে চালু করা চার পাটকল থেকে বছরে ৮০ হাজার মেট্রিক টন পাটের সুতা ও পাটজাত পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে আবুল খায়ের গ্রুপ। এখন পর্যন্ত এসব পাটকলে উৎপাদিত ১২০ কোটি মার্কিন ডলারের পাটের সুতা রপ্তানি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তুরস্ক ও চীনে এসব পাটপণ্য রপ্তানি করা হয়।► নতুন করে চালু করা চার পাটকল থেকে বছরে ৮০ হাজার মেট্রিক টন পাটের সুতা ও পাটজাত পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে আবুল খায়ের গ্রুপ। জানতে চাইলে আবুল খায়ের গ্রুপের হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড লিগ্যাল শেখ শাবাব আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘পাটপণ্যের ব্যবসা অনেক বেশি মূলধননির্ভর। দেশের বেসরকারি খাতে অনেক পাটকল বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। তাই নতুন কারখানা না করে আমরা বন্ধ কারখানার মালিকদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে সেগুলো চালু করেছি। আমরা পাট কিনে কারখানায় দিচ্ছি। কারখানার কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের ব্যবস্থাপনা করে পণ্য উৎপাদন করে। সেই পণ্য আমরা বিদেশে রপ্তানি করি।’শেখ শাবাব আহমেদ জানান, বন্ধ চার পাটকল চালুর পর আরও ২-৩টি বন্ধ পাটকল চালুর বিষয়ে এসব পাটকলের মালিকপক্ষের সঙ্গে চুক্তির আলোচনা চলছে। সেগুলো চূড়ান্ত হলে সেখানেও পাটপণ্য উৎপাদন করা হবে। এ ছাড়া সরকারি বন্ধ ৩-৪টি পাটকল ইজারায় নেওয়ার আবেদনও করেছে আবুল খায়ের গ্রুপ।শেখ শাবাব আহমেদ, করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড লিগ্যাল বিভাগের প্রধান, আবুল খায়ের গ্রুপ বেসরকারি খাতে অনেক পাটকল বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। তাই নতুন কারখানা না করে আমরা বন্ধ কারখানার মালিকদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে সেগুলো চালু করেছি। শেখ শাবাব আহমেদ আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে বেশি মূল্যের (ভ্যালু অ্যাডেড পণ্য) পাটপণ্য উৎপাদনের জন্য আমরা চেষ্টা করছি। তখন আমরা বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করব। তখন নতুন কারখানাও করতে হবে। বাংলাদেশের পাটের মান উন্নত। পরিবেশবান্ধব এই পণ্যের বৈশ্বিক বাজারও রয়েছে। সে জন্য আমাদের প্রতিষ্ঠান পাটপণ্যে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে পরোক্ষভাবে হলেও পাটচাষিদের ভাগ্যের উন্নয়ন হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’পাটপণ্য রপ্তানিতে আবুল খায়ের গ্রুপের বিনিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান তাপস প্রামাণিক প্রথম আলোকে বলেন, গতানুগতিক ধারার বাইরে কিছুটা ভিন্নভাবেই পাটপণ্যের ব্যবসায় এসেছে আবুল খায়ের গ্রুপ। বন্ধ কারখানার মালিকদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে সেসব কারখানা চালুর নতুন ব্যবসায়িক মডেলটি মন্দ নয়। আবুল খায়ের মতো বড় শিল্পগ্রুপ যদি পাটপণ্যের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা ও বহুমুখী পাটপণ্যের বাজার ধরার জন্য মনোযোগী হয়, তাহলে দেশ খাতটি থেকে অনেক বেশি উপকৃত হবে।
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরুর তারিখ এক দিন পিছিয়েছে। ক্লাস শুরু হবে ২৪ সেপ্টেম্বর। পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে ২৩ সেপ্টেম্বর দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক দিনের ছুটি থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।অস্ট্রেলিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবার আনার সুযোগ বন্ধের প্রস্তাববিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে অনলাইনের মাধ্যমে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরুর তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত ছিল। তবে পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে ওই দিন দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক দিনের ছুটি থাকবে। এই পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরুর তারিখ আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর পুনর্নির্ধারণ করা হলো। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।হার্ভার্ডের একাডেমি স্কলারস প্রোগ্রাম, মাসে ৬৬৬৬ ডলার স্টাইপেন্ড, করুন আবেদনএদিকে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে অনলাইনে আবেদন করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে নির্বাচিত হয়েছে ৯ লাখ ৮০ হাজার ৮১৫ শিক্ষার্থী। আবেদন করেও আসন পায়নি ১৪ হাজার ৪১৫ জন। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পাওয়া ২ হাজার ২০৫ শিক্ষার্থী আবেদন করেও নির্বাচিত হয়নি। বুধবার রাতে প্রথম ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়। দেশে একাদশ শ্রেণিতে কলেজ ও মাদ্রাসা মিলিয়ে ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। ফলে এবার বিপুলসংখ্যক আসন খালি থাকবে।ব্রিটিশ কাউন্সিলের অনলাইন কোর্স, ফ্রি ডিজিটাল আপগ্রেডের সুযোগ
ছোটবেলায় আমার বেড়ে ওঠা শহরে। নানু মারা যাওয়ার পর আমার নানা ঢাকা শহরেই ছিলেন, সুতরাং গ্রামের স্মৃতি তেমন একটা মনে নেই আমার। খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলের বাংলোয় চুলা আর ওভেন ছিল ইলেকট্রিক। মাটির চুলায় রান্না করার একটা গোপন শখ ছিল আমার। খুব ছোটবেলায় বাসা থেকে আলু আর চাল নিয়ে মাঠে আমি আর সুজন ম্যাচ নিয়ে বহু চেষ্টা করেছি আগুন জ্বালিয়ে রাঁধতে। পারিনি আর শাস্তিস্বরূপ ছোটখাটো হাঁড়িপাতিল থাকলেও ছোট্ট মাটির চুলা কেউ আমাকে বানিয়ে দেয়নি।স্কুলে থাকতে বছরে এক দিন পিকনিক হতো সিনিয়র কলোনিতে। ক্লাবের পেছনে মাটির চুলা বানিয়ে রান্না হতো। কেমন স্বপ্নিল একটা ব্যাপার। তবু রান্নার আশপাশে আমি ঘেঁষতে পারিনি। স্কুলে থাকতে একবার বান্ধবীদের সঙ্গে পিকনিক করার অনুমতি পেয়েছিলাম বহু কান্নাকাটির পর, তা–ও আব্বুর কারণে। আম্মি দেবে তো না–ই, তা–ও আবার জাম কালারের শাড়ি পরে পিকনিক।বাংলোয় ফায়ারপ্লেস থাকলেও দেশে এতটা শীত কোনো দিন ছিল না যে সেটা জ্বালানো হবে। সুইডেন বা যুক্তরাষ্ট্রে সব গ্যাসের। কাছের লগ পাওয়া যায়, তবে এত দিনে পাঠকের মৃত্যু হয়েছে। এখন ঝামেলা কম করে যত থাকা যায়, এই মানসিকতা। এর মধ্যে মাস কয়েক আগে বন্ধুরা বসে গল্প করছিল একজনের কাব্যিক ব্যাকইয়ার্ডে। কাব্যিক বলার কারণ, এর বাসাটা পুরোনো ইংরেজি সিনেমার মতো। সামনে–পেছনে বাগান। চমৎকার পাথরের সারি যে জায়গায়, সেখানে থেরাপিউটিক কোনো সুবিধা আছে কি না, জানতে খালি পায়ে হাঁটতে চেষ্টা করে পায়ে কাঁটা ফুটিয়ে ফেলেছিলাম প্রায়। যাক, সেদিন অল্প আলোয় বন্ধুরা বলল, কাঠের চুলায় রান্না করে পিকনিক করি চল। ক্রিয়েটিভ ফারহাত আপু বললেন, বেশ।তারপর এই শনিবারে ছিল সেই দিন। ইট বসিয়ে চুলা বানিয়ে সব ফায়ার সেফটি মেনে পিকনিকটা আসলেই হবে, সেটা আমার কল্পনায় ছিল না। প্রস্তুতির ছবিগুলো দেখছিলাম। এক প্যাচে শাড়ি, মাথায় খোঁপা করবে সবাই। মনে হচ্ছিল, সেই কোন ছোটবেলায় ফিরে গেছি আমি। আব্বুর পেছন–পেছন ঘুরছি, আব্বু, আমি পিকনিকে যেতে চাই। আম্মি শাড়ি দেবে না, একটু বলে দেন।কাজের উইকেন্ড ছিল সেটা। দ্রুত কাজ শেষ করে শাড়ি পরে খোঁপাজাতীয় কিছু মাথায় বেঁধে হুড়োহুড়ি করতে গিয়ে হাতে ব্যথা পেয়ে কোনোরকমে পৌঁছালাম আপুর বাসায়। গিয়ে দেখি, পরিরা হাঁটছে। ব্যাকইয়ার্ডে ইটের চুলায় ডাল আর গরুর মাংস রান্না হচ্ছে। জিলাপি আর বেগুন ভাজা হচ্ছে। এক পাশে আমভর্তা, জামভর্তা, চানাচুরমাখা, পেঁয়াজু। আলো আর ফুলে ভরা একটা বিকেল। ধীরে ধীরে সন্ধ্যা নামছে। বন্ধুদের সঙ্গে অনেক ছবি তুললাম। খুন্তি নিয়ে রান্নার ভান করলাম। সন্ধ্যার পর আমরা //////////////আন্কসরি//////////// খেলেছি। কোনো দল হারার পাত্র নয়। মা–মেয়ে নাচল গানের সঙ্গে। কী অপূর্ব কিছু সময়! আপু আমাকে গাইতে বলেছিল ‘লীলাবালি’। গাইলাম। চুলায় রান্না করা খাবার খেলাম। পরদিন কাজ না থাকলে আরও অনেকক্ষণ হয়তো বসে থাকতাম। আপুর ফাল্গুন অনুষ্ঠান বা যেকোনো কিছু এত মন ছোঁয়া হয়! আর্কিটেক্ট বলেই হয়তো। ব্যস্ত জীবনে এমন আনন্দের ছোঁয়া ঘুরে ঘুরে আসুক সবার।দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: dp@prothomalo.com