‘হ্যালো, এটা কি সারের কন্ট্রোল রুম? আচ্ছা, আসলে আমার কোনো সমস্যা নেই; লাইনটা সত্যিই চালু আছে কি না তা একটু পরীক্ষা করে দেখলাম!’
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এমন একটি কল আসে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা কন্ট্রোল রুমে। ওপার থেকে নিজের ঠিকানা না দিয়ে পরিচয় তাপস মন্ডল জানিয়ে ফোন কেটে দেওয়া হয়।
তার এমন অদ্ভুত কথা শুনে কিছুটা বিব্রত কন্ট্রোল রুমে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা। ঠিক ওই ঘটনা যখন ঘটে, জাগো নিউজের প্রতিবেদক সেখানে নিউজের তথ্যের জন্য নিজেই উপস্থিত ছিলেন।
এরপর ওই শিফটে কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বরত কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব (পরিকল্পনা) আব্দুল আওয়াল জাগো নিউজকে বলেন, কন্ট্রোল রুম ১১ সেপ্টেম্বর চালু হলো। এরপর এখন পর্যন্ত অসংখ্য কল আসে। কিন্তু যে কারণে এটি খোলা হয়েছে, সে ধরনের প্রয়োজনে কল আসে এখন পর্যন্ত ৩০টি। বাঁকি বেশিরভাগ অপ্রয়োজনীয়।
অর্থাৎ মাঠপর্যায়ে সার নিয়ে কোনো অনিয়ম, কৃত্রিম সংকট বা অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগে ফোন করা মানুষের সংখ্যা অপ্রয়োজনীয় ফোনের চেয়ে কম।
মূলত, দেশের নানা এলাকার সার সরবরাহ, মজুত ও বিতরণ পরিস্থিতি তদারকিতে এ ‘সার ব্যবস্থাপনা কন্ট্রোল রুম’ চালু করে কৃষি মন্ত্রণালয়।
কিন্তু সরকারের দেওয়া এই বিশেষ সেবাটি কৃষক ও প্রান্তিক পর্যায়ের কতটা পৌঁছাতে পেরেছে, কতটা কার্যকর সেটার একটি বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে এবার।

দেখা গেছে, কন্ট্রোল রুমে ফোন দিয়ে অনেকে ভুয়া অভিযোগও দিচ্ছেন। ওইদিন সকালে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলা থেকে হাবিবুর রহমান মহসিন পরিচয়ে একজন অভিযোগ করেছিলেন। তার অভিযোগ নথিভুক্তও হয়।
ফোনে অভিযোগ করা হয়েছিল, তার এলাকার ডিলার নজরুল কৃষকদের সার দিচ্ছেন না। এরপর কন্ট্রোল রুম থেকে ওই এলাকার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল ফয়সালকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে জানা যায়, অভিযোগকারী মিথ্যা বলেছেন, তার অভিযোগ সত্য নয়।
কন্ট্রোল রুম থেকে প্রতিটি অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে সেটি সমাধানের জন্য সবাই সচেষ্ট। তবে কিছু অপ্রয়োজনীয় ফোন আসছে এটাও সত্য- কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ এনামুল হক।
এরপর জাগো নিউজের সঙ্গে কথা হয় কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ফয়সালের সঙ্গে। তিনি ফোনে জানান, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সেখানে যান। এরপর অভিযোগকারীকে সার নিতে আসতে বললে, তিনি আসেননি। তিনি কৃষক কি না সেটাও জানা যায়নি।
আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল বলেন, সেখানে নজরুল ডিলার বলতে মেসার্স আওয়াল অ্যান্ড ব্রাদার্সের কথা বলা হয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার নজরুল। অভিযোগকারী বলেছিলেন, সেখানে সকাল থেকে ৪০-৫০ জন কৃষক সার না পেয়ে ফিরে গেছেন, সেটাও সত্য নয়। আমরা অন্যান্য কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেছি। সকাল থেকে বিতরণের তালিকাও যাচাই করেছি।
সারের কন্ট্রোল রুমে দায়িত্ব পালন করেছেন এমন একাধিক কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সার সরবরাহ, মজুত ও বিতরণ পরিস্থিতির তথ্য জানতে চাওয়া কিংবা কোন অভিযোগ না দিয়ে কন্ট্রোল রুমে অনেকেই কীভাবে ডিলার হবেন, অন্য এলাকার বরাদ্দ, সার্বিক মজুতসহ নানা তথ্য চাচ্ছেন। অনেকে নিজের পরিচয় গোপন করে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে মিথ্যা তথ্য দিচ্ছেন।
তাহলে এ সারের কন্ট্রোল রুমে কোনো উপকার মিলছে না? এমনটাও নয়। সেখানে উপস্থিত থাকতে নাম প্রকাশ না করে রাজশাহী গোদাগাড়ী এলাকা থেকে একজন বলেন, তিনি সার নিতে গিয়ে পাননি। শোভন ট্রেডার্সের কর্মকর্তারা তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে। পরে কন্ট্রোল রুম থেকে অভিযোগ তদন্তে গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে বলা হয়।
এরপর ফোনে উপজেলা কৃষি অফিসার মরিয়ম আহমেদের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, ওই ডিলার প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে কৃষকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করবেন না বলে তিনি অঙ্গীকার করেছেন। তবে অভিযোগকারী নিজের পরিচয় গোপন করায় তিনি সার পেয়েছেন কিনা সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গত ১১ সেপ্টেম্বর থেকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের ৫২৮ নম্বর কক্ষে কন্ট্রোল রুমের কার্যক্রম চলছে। এজন্য ২৭টি দল গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি দলে একজন কর্মকর্তা, একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও একজন অফিস সহায়ক রয়েছেন। কন্ট্রোল রুমের কার্যক্রম ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই শিফটে চলবে। প্রথম শিফট সকাল ৮টা থেকে বেলা ৩টা এবং দ্বিতীয় শিফট বেলা ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে।
কন্ট্রোল রুমের কার্যক্রম নিয়ে মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ এনামুল হক জাগো নিউজকে বলেন, কন্ট্রোল রুম থেকে প্রতিটি অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে সেটি সমাধানের জন্য সবাই সচেষ্ট। তবে কিছু অপ্রয়োজনীয় ফোন আসছে এটাও সত্য।
তিনি বলেন, গত একমাসের মধ্যে সার নিয়ে কিছু জায়গায় বিশৃঙ্খলা হয়েছে। এমন একটা ঘটনা কিন্তু সম্প্রতি এ কন্ট্রোল রুম থেকে সমাধান হয়েছে। গাইবান্ধা ফুলছড়িতে সম্প্রতি ডিলারের দোকান খোলার নির্ধারিত সময়ের আগেই ৪০-৫০ জন স্থানীয় লোক ও কৃষক জড়ো হয়ে হট্টগোল করে। পরে ফোনের মাধ্যমে কৃষি কর্মকর্তাসহ প্রশাসন দিয়ে সেটি নিয়ন্ত্রণ করা গেছে।

এছাড়া ফোনে সার পরিবহনে অনিয়ম, কৃত্রিম সংকট, অবৈধ মজুত, কালোবাজারি বা অতিরিক্ত দামে বিক্রির কিছু তথ্য পাওয়া যাচ্ছে- যেটা সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ।
মন্ত্রণালয় বলছে, কোনো জেলা বা উপজেলায় সার সংকটের আশঙ্কা দেখা দিলে তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করছে কন্ট্রোল রুম। মাঠপর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করে প্রতিটি অভিযোগের প্রতিকার ও প্রাপ্ত তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে প্রতিবেদন আকারে। প্রতিদিনের সার পরিস্থিতি, পাওয়া অভিযোগ, গৃহীত ব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি রেজিস্টারে সংরক্ষণ করা হয়।

এবার সার ব্যবস্থাপনা কন্ট্রোল রুমের যোগাযোগের জন্য ০৫০৩৫১ ফোন নম্বর দেওয়া হয়েছে।
এনএইচ/এমআইএইচএস
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
‘যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সুরক্ষা: সমন্বিত আইনের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে ব্লাস্ট ও প্রথম আলো।যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও প্রতিকারে এমন একটি পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর আইন প্রয়োজন, যা সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে—এমন অভিমত বিশেষজ্ঞদের। আইনে অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত ও নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে জবাবদিহিমূলক ও ভুক্তভোগীবান্ধব কাঠামো রাখার প্রস্তাবও করেছেন তাঁরা।গতকাল বুধবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে ‘যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সুরক্ষা: সমন্বিত আইনের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক গোলটেবিলে এসব কথা উঠে আসে। ইউএন উইমেনের সহযোগিতায় যৌথভাবে গোলটেবিলের আয়োজন করে ব্লাস্ট ও প্রথম আলো। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আইনজীবী, অধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।গোলটেবিল বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শাহনাজ হুদা বলেন, যৌন হয়রানি প্রতিরোধে যে আইনটি নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ হয়েছে, সেটি সংসদে পাস হওয়া প্রয়োজন। তবে শুধু আইন করলেই হবে না, আইনকে কার্যকর করার ব্যবস্থাও থাকতে হবে। তাঁর মতে, কোনো কাজকে অপরাধ হিসেবে গণ্য না করা হলে মানুষ সেটিকে প্রতিরোধমূলকভাবে দেখে না।প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি কমিয়ে আনতে আর্থিক শাস্তির পরামর্শ দেন অধ্যাপক শাহনাজ হুদা। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের মামলা করার সুযোগ থাকলেও সেটি কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে।বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্লাস্টের লিগ্যাল স্পেশালিস্ট আয়েশা আক্তার। প্রবন্ধে বলা হয়, ২০০৯ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুগান্তকারী নির্দেশনা প্রদান করেন। এ নির্দেশনাগুলো একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো হিসেবে কার্যকর থাকলেও এর বাস্তবায়ন সর্বত্র নিশ্চিত হয়নি।তাই যৌন হয়রানি প্রতিরোধে এমন একটি পূর্ণাঙ্গ আইন প্রয়োজন, যা কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য কার্যকর হবে।চাপ তৈরি করতে হবেঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, নতুন আইন যেমন প্রয়োজন, তেমনি আইন বাস্তবায়নের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা ও জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে। বিভিন্ন শ্রমজীবী নারী, শিক্ষার্থী, আইনজীবী, অধিকারকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে নিয়ে এ বিষয়ে সরকারের ওপর সমন্বিতভাবে চাপ তৈরি করা প্রয়োজন।অধ্যাপক সামিনা লুৎফার মতে, নতুন আইনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দ্বিমতের সুযোগ নেই। তবে বর্তমান ব্যবস্থাতেও কিছু কাজ করা সম্ভব। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে বিদ্যমান হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোকেও এই আলোচনার মধ্যে আনতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।শাহনাজ হুদা, অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যৌন হয়রানি প্রতিরোধে যে আইনটি নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ হয়েছে, সেটি সংসদে পাস হওয়া প্রয়োজন। তবে শুধু আইন করলেই হবে না, আইনকে কার্যকর করার ব্যবস্থাও থাকতে হবে।সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফওজিয়া করিম ফিরোজ বলেন, যৌন হয়রানি প্রতিরোধে আইন ও নীতিমালা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ হলেও বাস্তবে তা কার্যকর করা কঠিন হয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশনার পরও অনেক ক্ষেত্রে এর বাস্তবায়ন হয়নি।ফওজিয়া করিম ফিরোজ বলেন, শুধু আইন তৈরি করলেই হবে না, আইন সম্পর্কে বিচারক, আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যথাযথ ধারণা থাকতে হবে। একইভাবে নারী ও শিশু নির্যাতন এবং পারিবারিক সহিংসতা-সংক্রান্ত আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবেঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসলিমা ইয়াসমিন বলেন, যৌন হয়রানি প্রতিরোধের আইন নিয়ে ২০১৮ সাল থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও একটি খসড়া আইন অনেক দূর এগিয়েছিল। কিন্তু গেজেট প্রকাশের আগেই নির্বাচন হয়ে যাওয়ায় সেটি অধ্যাদেশ হিসেবে কার্যকর হয়নি।এই সহযোগী অধ্যাপক বলেন, আইনটি এমন হতে হবে, যাতে পোশাকশিল্প, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে তা কার্যকর করা যায়।সামিনা লুৎফা, অধ্যাপক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন শ্রমজীবী নারী, শিক্ষার্থী, আইনজীবী, অধিকারকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে নিয়ে এ বিষয়ে সরকারের ওপর সমন্বিতভাবে চাপ তৈরি করা প্রয়োজন। ইউএন উইমেনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার শ্রবণা দত্ত বলেন, যৌন হয়রানি প্রতিরোধে শুধু একটি নীতিমালা বা কমিটি যথেষ্ট নয়। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। এর সঙ্গে সক্ষমতা বৃদ্ধি, আইন ও নীতিমালা এবং প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ও যুক্ত।প্রযুক্তির মাধ্যমে যৌন হয়রানির ঘটনা মোকাবিলায় ডিজিটাল ফরেনসিক সক্ষমতাও বাড়ানো দরকার বলেও মনে করেন শ্রবণা দত্ত।সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কারিশমা জাহান বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় সমস্যা হলো প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা ও জবাবদিহির ঘাটতি। নির্দেশনায় কমিটি গঠনের কথা বলা হলেও কমিটি গঠনের পর সেটি কীভাবে কার্যকরভাবে কাজ করবে, সে বিষয়ে বাস্তব কাঠামোর ঘাটতি রয়েছে।কারিশমা জাহান বলেন, সাইবার নিরাপত্তা-সংক্রান্ত আইনেও যৌন হয়রানির সব ধরনের ঘটনা মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট বিস্তৃত কাঠামো নেই। ফলে বিদ্যমান আইনগুলো দিয়ে সব ধরনের যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন।অনানুষ্ঠানিক খাতের নারীরাও ভুক্তভোগীঅনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত নারীরা যৌন হয়রানির শিকার হলেও তাঁদের সুরক্ষার জন্য বিদ্যমান আইন বা পরিপত্রে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই বলে বৈঠকে উল্লেখ করেন নারী শ্রমিক কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম। তিনি বলেন, অনানুষ্ঠানিক খাতের নারীরা পরিবার ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও হয়রানির শিকার হলে অনেক সময় বিচার বা প্রতিকার পান না।উইমেন উইথ ডিজঅ্যাবিলিটিজ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আশরাফুন নাহার মিষ্টি বলেন, যৌন হয়রানি প্রতিরোধে একটি আইন প্রয়োজন। তবে আইন না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের নির্দেশনা ও বিদ্যমান বিভিন্ন আইনি কাঠামো ব্যবহার করতে হবে।প্রতিকার পাওয়া যায় নাবিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যৌন হয়রানি নিয়ে একধরনের হতাশা তৈরি হয়েছে বলে বৈঠকে মন্তব্য করেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য হেমা চাকমা। তিনি বলেন, ভুক্তভোগীরা মনে করেন, হয়রানির শিকার হলেও প্রতিকার পাওয়া যাবে না। ফলে অনেকেই অভিযোগ করতে আগ্রহী হন না।হেমা চাকমা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল ও কলেজে শিক্ষার্থীদের জন্য এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার আয়োজন করা দরকার। হয়রানির শিকার হলে কোথায় অভিযোগ করতে হবে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কী—এসব বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন।বৈঠকে স্বাগত বক্তব্য দেন ব্লাস্টের পরিচালক (অ্যাডভোকেসি ও কমিউনিকেশন) মাহবুবা আক্তার। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিবেদক মানসুরা হোসাইন। বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক ফিরোজ চৌধুরী এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক সুমনা শারমীন।
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে ভিসা দিতে আবারও অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আসছে সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে আব্বাসের নিউইয়র্কে যাওয়ার কথা। কিন্তু ভিসা জটিলতায় তাঁর সেই পরিকল্পনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিষয়টির সঙ্গে জানাশোনা রয়েছে—এমন একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর প্রকাশ করেছে। এর আগে গত বছর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যোগ দেওয়ার সময়ও আব্বাসকে ভিসা দেয়নি ওয়াশিংটন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের অধিবেশনে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট ভিডিওতে বক্তব্য দিয়েছিলেন।ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) কর্মকর্তা এবং ফিলিস্তিন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও) সদস্যদের ওপর আগে থেকেই ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। এখন আব্বাসকে ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এই ভিসা বিধিনিষেধ বর্ধিত করা হয়েছে।ওয়াশিংটনের অভিযোগ, পিএ কর্মকর্তা এবং পিএলও সদস্যরা সংস্কারপ্রক্রিয়া বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁরা শান্তির সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। সেই সঙ্গে ওয়াশিংটনকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে দুটি সংগঠনই ব্যর্থ হয়েছে। এসব কারণে তাঁদের ওপর ভিসা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় গড়ে ওঠা পিএলওর নিয়ন্ত্রণ আসলে কার হাতেএক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, পিএ আর পিএলও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে। আলোচনার বাইরেও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টা করেছে। ফিলিস্তিনি বন্দী ও তাঁদের পরিবারের জন্য অর্থ দেওয়া অব্যাহত রেখেছে। এ ছাড়া তারা ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে গৌরবান্বিত’ করেছে।এসব কারণে ২০০২ সালের ‘মিডল ইস্ট পিস কমিটমেন্টস’ আইনের আওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউই যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাবেন না বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। তবে কোন কোন কর্মকর্তার ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি।ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস কেন এখন উত্তরসূরি বেছে নিলেনমার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানায়, জাতিসংঘে পিএলওর পর্যবেক্ষক মিশনে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তাদের জন্য আগে থেকে থাকা ভিসা ছাড়ের সুবিধা বহাল থাকবে।পিএ হলো ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরে সীমিত স্বায়ত্তশাসন থাকা একটি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। আর পিএলও হলো ফিলিস্তিনিদের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি সংগঠন। উভয় সংগঠনই ফিলিস্তিনিদের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তারা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির জন্য চাপ প্রয়োগের কাজে যুক্ত।প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসসহ ফিলিস্তিনের ৮০ কর্মকর্তাকে ভিসা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র
সরকার যায় সরকার আসে, কিন্তু আমাদের আমলাতন্ত্রের গাড়িবিলাস বন্ধ হয় না। নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্পের গাড়ি অন্য কাজে ব্যবহারের সুযোগ নেই। অথচ প্রকল্পের গাড়ি মানেই যেন হয়ে উঠেছে নাগরিকদের করের অর্থ সবাই মিলে অনিয়ম করে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার। প্রশাসনযন্ত্রের শীর্ষ স্তরের কর্মকর্তাদের এই যোগসাজশমূলক গাড়িবিলাস শুধু অনৈতিক নয়, দুর্নীতি বিস্তারের ক্ষেত্রেও সহায়ক।প্রথম আলোর খবর থেকে জানা যাচ্ছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বিভিন্ন প্রকল্পের নামে গাড়ি কিনে তা সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্য দেয়। এ তালিকায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, এমনকি দুদকও রয়েছে। বাংলাদেশে সাধারণত প্রকল্পে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি গাড়ি কেনা হয়। এলজিইডি বিভিন্ন প্রকল্পে শত শত গাড়ি কিনেছে। অধিদপ্তরটি ঠিক কতটি গাড়ি কিনেছে, এ সম্পর্কে কেউই প্রকৃত তথ্য দিতে রাজি হননি। তবে প্রথম আলো ২৬১টি গাড়ির একটি তালিকা পেয়েছে। এর মধ্যে ২১১টি গাড়ি এলজিইডির কর্মকর্তারা চালান। বাকি ৫৯টি গাড়ি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে দেওয়া হয়েছে।প্রকল্প শেষ হলে যেখানে গাড়িগুলো পরিবহন পুলে জমা দেওয়ার কথা, সেখানে এলজিইডির কর্মকর্তারা নিজেরাই গাড়ি নিয়েছেন এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে গাড়ি দিয়েছেন। এলজিইডির বিরুদ্ধে যেখানে দুর্নীতির অভিযোগ অত্যন্ত ব্যাপক, সেখানে অন্য সংস্থার কর্মকর্তাদের গাড়ি দেওয়ার বিষয়টি পরিষ্কারভাবে স্বার্থের সংঘাত। আমরা মনে করি, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক যথার্থই বলেছেন যে সংস্থার কর্মকর্তারা নিজেদের সুরক্ষার জন্য অন্য সংস্থাকে গাড়ি ব্যবহার করতে দিচ্ছেন কি না, এটা ভাবা অমূলক নয়।সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, প্রথম আলোর অনুসন্ধানে এমন ৩৫ জন কর্মকর্তার নাম পাওয়া গেছে, যাঁরা সরকারের বিনা সুদের ঋণ নিয়ে গাড়ি কিনেছেন, সেসব গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাসে মাসে ৫০ হাজার করে টাকা পাচ্ছেন আবার এলজিইডির দেওয়া গাড়িও ব্যবহার করছেন। এ বিষয়ে কয়েকজন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তাঁরা যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তা চূড়ান্তভাবে অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য। না হলে প্রশাসনের শীর্ষ পদের কর্মকর্তা কীভাবে বলতে পারেন, ‘এর চেয়ে বড় অকাম-কুকাম আছে, সেগুলো নিয়ে লেখেন।’অথচ কর্মকর্তাদের এই গাড়িবিলাস জনপ্রশাসনে বিশৃঙ্খলা আর অপচয়ের বড় কারণ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশের মাথাভারী প্রশাসনের কারণে সরকারের পরিচালন ব্যয় অনেক বেশি। ফলে উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে বাজেট কাটছাঁট করতে হয়। সম্প্রতি সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর কারণে সরকারের ওপর আরও বড় চাপ তৈরি হবে। রাজস্ব বাড়ানোর সুযোগ সীমিত থাকায় দুর্নীতি, অপচয় ও পরিচালন ব্যয় কমানো সরকারের জন্য বড় একটা চ্যালেঞ্জ।অতীতে দেখা গেছে, আনুগত্যের পুরস্কারস্বরূপ প্রকল্প পরিচালক থেকে শুরু করে সুদমুক্ত গাড়ি কেনার সুবিধাসহ নানা সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন জনপ্রশাসনের একটি অংশ। এ ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়েই আমলাতন্ত্রকে রাজনীতিকরণ করা হয়। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর জনপ্রশাসন সংস্কারের দাবি জোরালোভাবে উঠলেও বাস্তবে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে জনপ্রশাসনে জবাবদিহি নিশ্চিত করা যায়নি।প্রকল্পের গাড়ি ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও তাঁরা সেটা আমলে নেননি। আমরা মনে করি, প্রকল্পের নামে এলজিইডির গাড়ি কেনা এবং সেই গাড়ি মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মকর্তাদের দেওয়ার এই অনিয়ম বন্ধ হতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারকে অবশ্যই শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।