চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের সময় উত্তরপত্রের নম্বরের সঙ্গে প্রকাশিত ফলাফলের অসংগতি ধরা পড়েছে। এক শিক্ষার্থীর পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের খাতায় সৃজনশীল অংশে নম্বর ছিল শূন্য। অথচ প্রকাশিত ফলাফলে ওই অংশে ৪৫ নম্বর দেখানো হয়েছে। পরে ওই শিক্ষার্থীর আরও কয়েকটি বিষয়ের উত্তরপত্র যাচাই করে একই ধরনের অমিল পাওয়া যায়।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ধরা পড়ে এসএসসি পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের সময়। ওই শিক্ষার্থী তিনটি বিষয়ের ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছিল। তবে ওই তিন বিষয়ের উত্তরপত্র পরীক্ষা করতে গিয়ে নম্বরের অসংগতি পাওয়ার পর তার অন্য বিষয়গুলোর খাতাও তলব করা হয়। সেগুলোতেও খাতায় পাওয়া নম্বর এবং প্রকাশিত ফলাফলের মধ্যে পার্থক্য শনাক্ত হয়েছে।
ঘটনার কারণ ও এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখতে ২৫ আগস্ট তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে শিক্ষা বোর্ড। কমিটির আহ্বায়ক করা হয় বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপনকে। কমিটিতে সদস্য হিসেবে আছেন উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (উচ্চমাধ্যমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ দিদারুল আলম এবং সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) মোহাম্মদ আবদুল আজিজ।
এবার এসএসসিতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন পাস করেছে। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন। ফলাফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছে ৩৯ হাজার ৭৯৮ জন শিক্ষার্থী।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, নগরের একটি বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের সময় খাতায় পাওয়া নম্বরের সঙ্গে প্রকাশিত ফলাফলের বড় ধরনের অমিল ধরা পড়ে। পুনর্নিরীক্ষণের সময় একজন পরীক্ষক পদার্থবিজ্ঞানের উত্তরপত্রে বিষয়টি শনাক্ত করেন। খাতায় নম্বর ছিল শূন্য, অথচ প্রকাশিত ফলাফলে ওই অংশে ৪৫ নম্বর দেখানো হয়। পরে বিষয়টি যাচাই করে কম্পিউটার সেন্টারে সংরক্ষিত তথ্যের সঙ্গেও উত্তরপত্রের নম্বরের অমিল পাওয়া যায়।
ওই শিক্ষার্থী শিক্ষার্থী পদার্থবিজ্ঞান, উচ্চতর গণিত এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়—এই তিন বিষয়ের পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছিল। তিনটি বিষয়েই খাতায় পাওয়া নম্বরের সঙ্গে প্রকাশিত ফলাফলের পার্থক্য শনাক্ত হয়। বোর্ড সূত্র জানায়, তিনটি বিষয়ের উত্তরপত্রে অমিল পাওয়ার পর শিক্ষার্থীর অন্যান্য বিষয়ের খাতাও তলব করে যাচাই করা হয়। সেগুলোতেও খাতায় পাওয়া নম্বরের সঙ্গে প্রকাশিত ফলাফলের পার্থক্য পাওয়া গেছে।
বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা চেয়ারম্যানকে লিখিতভাবে অবহিত করেন। পরে ঘটনা অনুসন্ধানে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর নির্বাচনী পরীক্ষার ফলাফলও সংগ্রহ করেছে কমিটি। বোর্ড সূত্র জানায়, এ বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীর নির্বাচনী পরীক্ষার ফলাফলের পূর্ণাঙ্গ কপি বোর্ডে জমা দেয়।
এ বিষয়ে বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরীর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তদন্ত কমিটির বাকি দুই সদস্যও প্রতিবেদন প্রকাশ করার আগে কোনো ধরনের মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে তদন্ত কমিটির প্রধান ও বোর্ডের সচিব জানিয়েছেন, ‘তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে’। তবে বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত প্রতিবেদন চেয়ারম্যানের কাছে হস্তান্তরের অপেক্ষায় আছে।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ফলাফল জালিয়াতির অভিযোগ এবারই প্রথম নয়। গত বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের পুনর্নিরীক্ষণের সময় ৩৪টি খাতার নম্বরপত্র বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সে সময় পুনর্নিরীক্ষণের ফল জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অভিযোগের তদন্তে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে অভিযান পরিচালনা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বোর্ডও তদন্ত কমিটি করেছিল তবে শেষ পর্যন্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এর আগে ২০২৩ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সাবেক সচিব অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র নাথের ছেলের ফলাফলে ১১টি পত্রের নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে মামলাও হয় এবং মামলায় চার্জশিটও দাখিল হয় গত মাসে। যদিও এ ঘটনায় তাঁকে এবং তাঁর ছেলেকে ফাঁসানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক সচিব নারায়ণ চন্দ্র নাথ।
বোর্ডের সাবেক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পরীক্ষার হল থেকে উত্তরপত্রের প্রথম অংশ আগেই কম্পিউটার সেন্টারে পাঠানো হয়। সেগুলো স্ক্যান করে আগেই সার্ভারে সংরক্ষণ করা হয়। পরে প্রধান পরীক্ষকদের কাছ থেকে নম্বর পাওয়ার পর সেগুলো স্ক্যান করে সার্ভারে যুক্ত করা হয়। ফলাফল প্রকাশের কয়েক দিন আগে নম্বর মিলিয়ে শিক্ষার্থীর ফলাফল নির্ধারণ করা হয়। এ পর্যায়েই শিক্ষার্থীর পরিচয় জানা সম্ভব হয়। এরপরই নম্বর পরিবর্তন করার সুযোগ থাকে।
বোর্ডের তিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আগের জালিয়াতিগুলোতে কম্পিউটার শাখা এবং পরীক্ষা শাখার একটি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল। এবারও কম্পিউটার শাখার বিষয়ে কিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত প্রতিবেদন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জমা হয়নি। সুতরাং বিস্তারিত কিছু বলা যাবে না এখনই। বোর্ডের কর্মকর্তাদেরও বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করা বারণ।
বক্তব্য জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্তাধীন বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করা যাবে না। আমাদের তদন্তের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তদন্ত প্রতিবেদন আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেব। এরপর বিস্তারিত জানানো হবে।’
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
হাঁচি মানবদেহের একটি স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফূর্ত শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে হাঁচির মাধ্যমে শ্বাসনালির ক্ষতিকর ধূলিকণা ও জীবাণু দ্রুত বাইরে নিষ্ক্রান্ত হয়, যা মানবদেহের জন্য এক বিরাট স্বস্তির বিষয়।হাঁচি অনিচ্ছাকৃতভাবে এলেও তার প্রকাশভঙ্গিকে শালীন ও নিয়ন্ত্রিত রাখা ইসলামের সুন্নত। হাঁচির সময় মুখ খোলা রাখলে জীবাণু ও লালার কণা অন্যের গায়ে ছিটকে পড়তে পারে এবং বিকট শব্দ আশপাশের মানুষের অস্বস্তির কারণ হতে পারে।নবীজি (সা.) যখন হাঁচি দিতেন, তখন তিনি নিজের হাত অথবা পরিধেয় কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে নিতেন এবং হাঁচির শব্দ নিচু ও সংযত রাখতেন।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৭৪৫)ইসলামে হাঁচিকে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ ও ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে; বিপরীতে অলসতাপ্রসূত হাই তোলাকে শয়তানের প্রভাব বলে সতর্ক করা হয়েছে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬২২৩)হাঁচির পরে নবীজি দোয়া পাঠ করতেন এবং কেউ দোয়া বললে তার উত্তরেও তিনি বলতেন। সাহাবিদের এই দোয়া পড়ার কয়েকটি আদব তিনি শিখিয়েছেন। আলোচনা করা হলো।১. আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশহাঁচি আসার প্রক্রিয়াটি মানুষের ইচ্ছাধীন নয়, কিন্তু হাঁচির পর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা সম্পূর্ণ মানুষের ইচ্ছাধীন আমল।রাসুল (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তোমাদের কেউ যখন হাঁচি দেয়, সে যেন বলে, আলহামদুলিল্লাহ (সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য)।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬২২৪)হাঁচি দেওয়ার মাধ্যমে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র যে ক্ষতিকর চাপমুক্ত হয় এবং ফুসফুস স্বস্তি পায়, মুমিন সেই পার্থিব নিয়ামতের তাৎক্ষণিক শুকরিয়াস্বরূপ ‘আলহামদুলিল্লাহ’ উচ্চারণ করে নিজের এই অজান্তিক ক্রিয়াটিকেও এক অনন্য ইবাদতে রূপান্তর করে।২. উপস্থিত জবাব বলাহাঁচিদাতা ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বললে তা শুনে উপস্থিত ভাই বা সঙ্গীর ওপর তার জবাব দেওয়া ওয়াজিব বা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। হাদিস শরিফে বলা হয়েছে, ‘অতঃপর তার ভাই বা সঙ্গী যেন তার জবাবে বলে, ইয়ারহামুকাল্লাহ (আল্লাহ তোমার ওপর রহম করুন)।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬২২৪)ইসলামে এই জবাবকে কোনো সাধারণ সামাজিক সৌজন্য হিসেবে রাখা হয়নি; বরং একে মুসলিম ভ্রাতৃত্বের এক অবিচ্ছেদ্য অধিকার ঘোষণা করা হয়েছে।রাসুল (সা.) বলেন, ‘এক মুসলমানের ওপর অপর মুসলমানের পাঁচটি সুনির্দিষ্ট হক বা অধিকার রয়েছে; তার মধ্যে একটি হলো, হাঁচির জবাব দেওয়া (তাশমিতুল আতিস)।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১২৪০)নবীজি (সা.) একজনের হাঁচির জবাবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বললেন, কিন্তু অপরজনের কোনো জবাব দিলেন না। বাদ পড়া ব্যক্তি জানতে চাইলেন, কেন তার হাঁচির জবাব দিলেন না।দোয়া কি ভাগ্য পরিবর্তন করে৩. উত্তরে কল্যাণের দোয়া করাইসলামি শিষ্টাচারের সৌন্দর্য হলো, দোয়ার জবাবেও আবার কল্যাণের প্রত্যুত্তর দিতে হয়। শ্রোতা যখন হাঁচিদাতাকে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলে রহমতের দোয়া করবে, তখন হাঁচিদাতা এর জবাবে বলবে, ‘ইয়াহদিকুমুল্লাহু ওয়া ইউসলিহু বালাকুম’। (অর্থ: ‘আল্লাহ তোমাদের হেদায়েত দান করুন এবং তোমাদের সার্বিক অবস্থা সংশোধন করে দিন।’ সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬২২৪)এভাবে হাঁচি থেকে শুরু হওয়া একটি জৈবিক প্রক্রিয়া পারস্পরিক তিনটি দোয়ার এক অনন্য শৃঙ্খলে রূপ নেয়—প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা (হামদ), এরপর রহমতের দোয়া এবং শেষে হেদায়েত ও সংশোধন কামনার দোয়া।৪. শুধু শুধু জবাব না দেওয়াহাঁচি শুনলেই অন্ধভাবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলা শ্রোতার দায়িত্ব নয়; বরং হাঁচিদাতা যদি মুখে আল্লাহর প্রশংসা উচ্চারণ করে, তবেই শুধু তার জবাব দিতে হবে।একবার রাসুলের মজলিসে উপস্থিত দুজনের একজন হাঁচি দিলেন, অতঃপর অপরজনও হাঁচি দিলেন। নবীজি (সা.) একজনের হাঁচির জবাবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বললেন, কিন্তু অপরজনের কোনো জবাব দিলেন না।বাদ পড়া ব্যক্তি জানতে চাইলেন, কেন তার হাঁচির জবাব দিলেন না। তখন নবীজি বললেন, ‘এই ব্যক্তি হাঁচি দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বলেছে, কিন্তু তুমি বলোনি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬২২১)অর্থাৎ যে ব্যক্তি নিজেই আল্লাহর দেওয়া স্বস্তির শুকরিয়া আদায় করতে গাফেল থাকে, সে অন্যের রহমতের দোয়ারও হকদার হয় না।৫. ক্রমাগত হাঁচি হলেকারও যদি ঠান্ডা বা অ্যালার্জির কারণে উপর্যুপরি হাঁচি আসতে থাকে, তবে প্রতিবারই কি জবাব দেওয়া আবশ্যক? হাদিস শরিফে এ বিষয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সীমারেখা দেওয়া হয়েছে।নবীজি বললেন, ‘হাঁচিদাতাকে তিনবার পর্যন্ত জবাব দেওয়া হবে। যদি সে এর চেয়ে বেশি হাঁচি দেয়, তবে তা সাধারণ সর্দি; সুতরাং এরপর তুমি চাইলে জবাব দিতে পারো, চাইলে বিরতও থাকতে পারো।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৭৪৪)তিনবারের পর নিয়মিত জবাব দেওয়া আবশ্যক নয়; বরং তাকে অসুস্থ বিবেচনা করে তার আরোগ্যের দোয়া করা যেতে পারে।আল্লাহর সঙ্গে ১০ আদব: মুমিনের সুন্দর ইবাদতের রহস্যঅর্থাৎ তিনবারের পর নিয়মিত জবাব দেওয়া আবশ্যক নয়; বরং তাকে অসুস্থ বিবেচনা করে তার আরোগ্যের দোয়া করা যেতে পারে।৬. অমুসলিম ব্যক্তি হাঁচি দিলেইসলাম অমুসলিমদের সঙ্গে মানবিক সদাচরণ ও তাদের হেদায়েত কামনার এক অনুপম শিক্ষা দেয়। মদিনার ইহুদিরা নবীজির সামনে এসে ইচ্ছা করে হাঁচি দিত, যেন তিনি তাদের জবাবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলেন। কিন্তু নবীজি তাদের জবাবে বলতেন, ‘ইয়াহদিকুমুল্লাহু ওয়া ইউসলিহু বালাকুম’ (আল্লাহ তোমাদের সুপথ দেখান এবং তোমাদের অন্তরের অবস্থা শুধরে দিন)। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৫০৩৮)এই হাদিস প্রমাণ করে যে অমুসলিমদের প্রতি কোনো বিদ্বেষ নয়; বরং তাদের আন্তরিকভাবে হেদায়েতের পথে ডাকার দোয়াই হলো ইসলামের শিক্ষা।৭. নামাজ অবস্থায় হাঁচি দিলেনামাজের বাইরের আদব এবং নামাজের ভেতরের বিধান সম্পূর্ণ ভিন্ন। নামাজ হলো রবের সঙ্গে একান্তে কথোপকথন। তাই নামাজরত অবস্থায় কোনো মুসল্লি অন্য কোনো হাঁচিদাতার জবাবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলতে পারবে না।হাদিসে এসেছে, সাহাবি মুয়াবিয়া ইবনুল হাকাম আস–সুলামি (রা.) একবার নামাজের মধ্যে এক ব্যক্তির হাঁচির জবাবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলে ফেলেছিলেন। নামাজ শেষে নবীজি অত্যন্ত স্নেহশীল ভাষায় তাঁকে বুঝিয়ে বললেন, ‘এই নামাজে মানুষের স্বাভাবিক কোনো কথাবার্তা বলা বৈধ নয়; নামাজ তো শুধু তাসবিহ, তাকবির এবং কোরআন পাঠ।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৩৭)ফিকহের মূলনীতি অনুযায়ী, নামাজের ভেতর কোনো মুসল্লির হাঁচির জবাবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বললে নামাজ ভেঙে যাবে। (ইবনে আবিদিন শামি, রদ্দুল মুহতার আলাদ–দুররিল মুখতার, ২/৩৭৮, দারু আলামিল কুতুব, রিয়াদ, ১৪২৩ হি.)তবে নামাজরত অবস্থায় নিজের হাঁচি এলে স্বাভাবিকভাবে হাত বা কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে নেবে। মুখ দিয়ে যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ শব্দ বের হয়েও যায়, তবে শুধু এর কারণে নামাজ নষ্ট হবে না।নাহিদা সুলতানা: আলেমা ও প্রাবন্ধিকnahidasultana753375@gmail.comখাওয়ার আদব ও দোয়া
দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে (সার্ক) আবার সক্রিয় করতে ভুটানের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।শুক্রবার ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগের হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বল্প সময়ের যাত্রাবিরতিকালে এ অঞ্চল ও এর জনগণের যৌথ কল্যাণে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে দেশটির সমর্থন চেয়েছে বাংলাদেশ।ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর এই সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতিকালে বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।এ সময় মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রী একটি সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার জন্য শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।সংক্ষিপ্ত আলাপকালে বাংলাদেশের মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রী ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান।মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রী ভুটানের ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’ (জিএমসি) উন্নয়নে বিশেষ করে পেশাজীবী এবং দক্ষ ও আধা দক্ষ জনশক্তি জোগান দিয়ে অবদান রাখার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ প্রকাশ করেন। তাঁরা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে প্রথম দেশ হিসেবে ভুটান স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকে গড়ে ওঠা দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের সম্পর্কের ভূয়সী প্রশংসাও করেন তাঁরা।বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে জার্মানির উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে ভিভিআইপি লাউঞ্জে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করেন।
এআইয়ের নেতিবাচক প্রভাবের কারণে বদলে যাচ্ছে সফটওয়্যার প্রকৌশলীদের চাকরির বাজারও। যুক্তরাষ্ট্রে সফটওয়্যার প্রকৌশলীদের চাকরির অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ–শিল্পের উপযোগী করে গড়ে তুলতে নতুন শিক্ষাক্রম ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করছে দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে চিপ উৎপাদনের জন্য একের পর এক নতুন কারখানা তৈরি হলেও প্রয়োজনীয় দক্ষ প্রকৌশলী ও কারিগরি কর্মীর ঘাটতি দেখা দিয়েছে। আর তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের চিপ–শিল্পে নতুন ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ দিতে এ উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট মাইকেল ক্রো বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে ইন্টেলের জন্য সবচেয়ে বেশি বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক তৈরি করি আমরা। এখন টিএসএমসির জন্যও একই অবস্থানে যেতে চাই।’ তবে দক্ষ কর্মী নিয়োগ ও ধরে রাখার ক্ষেত্রে বেতন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেমিফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে চিপ–শিল্পের কর্মীদের বার্ষিক বেতন সাধারণত ১ লাখ ২৭ হাজার থেকে ১ লাখ ৮৭ হাজার ডলারের মধ্যে হয়ে থাকে। উচ্চ পদে বেতন ২ লাখ ৩৮ হাজার ডলারের বেশি হয়। দক্ষ কর্মীর চাহিদা বেশি থাকায় দক্ষিণ কোরিয়ায় চিপ–শিল্পের কর্মীদের বেতন ও বোনাসও বেড়েছে। সেখানে মাইক্রন, স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্সের কর্মীদের ধর্মঘটের হুমকির মধ্যে বোনাসের পরিমাণ ৫ লাখ ডলারের বেশি হয়েছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের দিনে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়।ম্যাককিনসি ও সেমিফাউন্ডেশনের সাম্প্রতিক তথ্যমতে, ২০৩০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে ১ লাখ ২৭ হাজার থেকে ১ লাখ ৫৭ হাজার কর্মীর ঘাটতি হতে পারে। একই সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য প্রয়োজনীয় চিপের চাহিদা মেটাতে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন সক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হচ্ছে। ফলে নতুন কারখানার পাশাপাশি এসব কারখানা পরিচালনার জন্য দক্ষ কর্মী তৈরির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। টেক্সাসের অস্টিনে স্যামসাংয়ের সেমিকন্ডাক্টর বিভাগের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট জন টেলর বলেন, ‘আমি উদ্বিগ্ন। কারণ, আমাদের কর্মী তৈরির পাইপলাইনে পর্যাপ্ত কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন মানুষ নেই।’কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন ব্যবস্থা পরিচালনায় উন্নত মেমোরি ও লজিক চিপের প্রয়োজন হয়। সেই চাহিদা পূরণে যুক্তরাষ্ট্রে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন বাড়াতে বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি (টিএসএমসি) ও ইন্টেল এরই মধ্যে অ্যারিজোনায় নতুন কারখানায় উন্নত প্রযুক্তির লজিক চিপ উৎপাদন করছে। স্যামসাংও যুক্তরাষ্ট্রে উন্নত লজিক চিপ উৎপাদনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। টেক্সাসের টেলরে নির্মাণাধীন দুটি কারখানার প্রথমটিতে চলতি বছরের শেষ দিকে উৎপাদন শুরুর কথা রয়েছে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া