কেতকী কুশারী ডাইসন চলে গেলেন। মৃত্যুর খবরটি শোনার পর বারবার সেই অদ্ভুত অনুভূতির কাছে ফিরে যাচ্ছিলাম, যখন তাঁর বই পড়তে পড়তে আমার ভেতরটা ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছিল। তাঁর বই পড়ে দেশ, ভাষা, অভিবাসন, নারী, প্রেম, ইতিহাস, আত্মপরিচয়—সবকিছু নিয়ে নতুন করে ভাবতে শিখেছিলাম।
কেতকী কুশারী ডাইসনের সাহিত্যজীবনের সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপারটি সম্ভবত বহুমুখিতা নয়, বহুমুখিতার মধ্যে গভীর অন্তঃসম্পর্ক। তিনি কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক, গবেষক ও নাট্যকার।
কিন্তু আলাদা আলাদা শেলফে তাঁকে রাখা যায় না। তাঁর গবেষণার ভেতর কবির কৌতূহল, উপন্যাসের ভেতর গবেষকের অনুসন্ধান, অনুবাদের ভেতর নিজের ভাষাকে নতুন করে আবিষ্কার করার তাগিদ, প্রবন্ধের ভেতর ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা—সব সময় একসঙ্গে কাজ করেছে।
নিজের লেখক-পরিচয় সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন, বৈচিত্র্যময় সাহিত্যিক রূপ আর প্রবল দ্বিসাংস্কৃতিক ও দ্বিভাষিকতা তাঁর লেখার প্রধান বৈশিষ্ট্য। সৃষ্টিশীল ও গবেষণামূলক লেখার মাঝের দেয়াল ভেঙে দেওয়াও ছিল তাঁর দীর্ঘদিনের লক্ষ্য।
এ জায়গা থেকেই কেতকীকে পড়তে হয়। তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি ছিল বোধ হয়, একজন মানুষ একসঙ্গে কতগুলো পৃথিবীর অধিবাসী হতে পারে?
কলকাতায় জন্ম, যাদবপুরে ইংরেজি সাহিত্য পড়া, অক্সফোর্ডে উচ্চশিক্ষা, তারপর ইংল্যান্ডে দীর্ঘজীবন—এই ঘটনাগুলোকে স্রেফ জীবনী হিসেবে পড়লে কেতকীর আসল গল্পটি ধরা পড়ে না। যদিও ভৌগোলিক পরিবর্তন ধীরে ধীরে তাঁর জীবনে সাহিত্যিক বিষয় হয়ে উঠেছিল। কিন্তু তিনি প্রবাসকে কখনো নস্টালজিয়ার বিষয় করেননি। দেশ আর বিদেশ—সরল দুই মেরুর মাঝখানে মানুষের যে অসংখ্য মানসিক অবস্থান থাকে, কেতকী সেই জায়গা আবিষ্কার করেছিলেন।
তাঁর প্রথম পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস ‘নোটন নোটন পায়রাগুলি’ এক অর্থে বাংলা সাহিত্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বই। ১৯৮১-৮২ সালে দেশ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। ১৯৮৩ সালে বই আকারে বেরোয় উপন্যাসটি। এর কেন্দ্রীয় চরিত্র নোটন দাস ইংল্যান্ডের নর্টন হিলে স্বামী ও দুই সন্তান নিয়ে বসবাসকারী একজন বাঙালি নারী। কিন্তু উপন্যাসটির অভিনবত্ব কাহিনিতে যতটা, তার চেয়ে বেশি নির্মাণশৈলীতে। চিঠি ও দিনলিপি আকারে লেখা এই উপন্যাসে একজন নারী একটি অপরিচিত সমাজব্যবস্থা দেখতে দেখতে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করেন।
এই উপন্যাসে কেতকীর নিজের জীবনের সঙ্গে সাহিত্যের দূরত্ব খুব কম। তবে আত্মজীবনীমূলক বলেই ‘নোটন নোটন পায়রাগুলি’ গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ কারণ, কেতকী প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতাকে ‘বিদেশের মাটিতে বাঙালির দুঃখ’–জাতীয় সহজ আবেগে নামিয়ে আনেননি।
নর্টন হিলও তাঁর কাছে কুয়াশাচ্ছন্ন বিদেশবিভুঁই নয়, মানুষে ভরা একটি শহর। সেখানে ইংরেজ আছে, আইরিশ আছে, আলজেরীয় আছে। আছে প্রতিবেশী, পরিবার, সন্তান, প্রকৃতি, দৈনন্দিনতার ছোটখাটো ঝামেলা, সামাজিক সম্পর্ক, সাংস্কৃতিক অস্বস্তি।
নোটনের পৃথিবী তাই একরঙা নয়। গবেষণাভিত্তিক এক আলোচনাতেও উপন্যাসটির এই বহু সাংস্কৃতিক চরিত্র সমাবেশকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
কেতকীর দ্বিতীয় উপন্যাস ‘রবীন্দ্রনাথ ও ভিকতোরিয়া ওকাম্পোর সন্ধানে’ তাঁকে বাংলা সাহিত্যে আরও স্বতন্ত্র জায়গা করে দেয়। বইটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, আনন্দ পুরস্কার পায় ১৯৮৬ সালে। বইটির বিশেষত্ব পুরস্কারে নয়, অন্য জায়গায়। বাংলা সাহিত্যে উপন্যাস কেমন হতে পারে, গবেষণা কোথায় শেষ হয়, আর কল্পনা কোথা থেকে শুরু হয়—এই পুরোনো সীমারেখা বইটিতে নেই।
রবীন্দ্রনাথ ও ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর সম্পর্ক নিয়ে লেখা এই উপন্যাসে কেতকী ইতিহাস খুঁজেছেন। চিঠিপত্র ও নথি ঘেঁটেছেন। অনুবাদ করেছেন। আবার সেই উপাদান উপন্যাসের শরীরে বসিয়েছেন। তাঁর নিজের ভাষ্য থেকেই জানা যায়, প্রথমে তাঁকে রবীন্দ্রনাথ ও ওকাম্পোকে নিয়ে একটি ছোট বই লিখতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তাঁর ভেতরে তখন উপন্যাস তৈরি হচ্ছিল। তথ্যকে প্রচলিত গবেষণাগ্রন্থের কাঠামোয় সাজাতে তাঁর মন সায় দেয়নি। একসময় তিনি এমন একটি রচনাকৌশল আবিষ্কার করেন, যেখানে গবেষণা ও উপন্যাস পরস্পরের সঙ্গে মিশে যায়।
কেতকীর সাহিত্যবোধ বোঝার জন্য এই নির্মাণশৈলীও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি তথ্যকে কল্পনার শত্রু ভাবেননি। আবার কল্পনাকেও তথ্যের বিকল্প করেননি। সত্যকে বোঝার জন্য কখনো কখনো কল্পনা ও তথ্য—দুটিই প্রয়োজন, এটা কেতকী আবিষ্কার করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ও ওকাম্পোর সম্পর্ক তাঁর কাছে কোনো চটুল প্রেমকাহিনি ছিল না। দুটি ভিন্নসংস্কৃতির দুজন অসাধারণ মানুষের মধ্যে একটি বৌদ্ধিক বোঝাপড়া। আর সেই বোঝাপড়া পোক্ত করতে কেতকী নিজের অভিজ্ঞতার প্রতিফলনও কাজে লাগিয়েছেন। একজন বাঙালি নারী, যিনি নিজেও দুই সংস্কৃতির মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছেন, তিনি দুটি মহাদেশের দুজন মানুষের পারস্পরিক আকর্ষণ ও বোঝাপড়াকে ঠিক কীভাবে দেখবেন?
এই উপন্যাসের সবচেয়ে সুন্দর দিকগুলোর একটি এখানেই। রবীন্দ্রনাথকে তিনি কোনো পবিত্র মূর্তি হিসেবে দেখেন না, ওকাম্পোকেও তাঁর জীবনের একটি অধ্যায় হিসেবে দেখেন না। দুজনকেই মানুষ হিসেবে দেখেন। তাঁদের সময়, সমাজ, আকাঙ্ক্ষা, বুদ্ধি ও সীমাবদ্ধতার ভেতর দিয়ে দেখেন। আর এই দেখার মধ্যেই কেতকীর নারীদৃষ্টি প্রবল হয়ে ওঠে।
রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে কেতকীর সম্পর্ক অবশ্য আরও দীর্ঘ। ছোটবেলায় তাঁর পাঠের শুরুই হয়েছিল রবীন্দ্রনাথের শিশু দিয়ে, পরে কথা ও কাহিনি। রবীন্দ্রনাথ আর বুদ্ধদেব বসু তাঁর কবিজীবনের প্রথম দিকে গভীর প্রভাববলয় তৈরি করেছিল। কেতকী রবীন্দ্রনাথকে উত্তরাধিকার হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তবে অন্ধভক্তির মাধ্যমে নয়, অনুসন্ধানের মাধ্যমে। তাঁর রবীন্দ্রনাথচর্চার মধ্যে একধরনের স্বাধীনতা ছিল, যে স্বাধীনতা রবীন্দ্রনাথকেই আবার প্রশ্ন করতে পারে।
‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’ সেই ধারাবাহিকতার একটি দুর্দান্ত উদাহরণ। সুশোভন অধিকারীর সঙ্গে লেখা এই বৃহৎ গবেষণাগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের বর্ণদৃষ্টি, সাহিত্য ও চিত্রকলার সম্পর্ক নিয়ে অনুসন্ধান করা হয়েছে। বইটি ১৯৯৭ সালে আনন্দ পুরস্কার পায়। কেতকীর নিজের পুরস্কারের তালিকাতেও কাজটির উল্লেখ আছে।

রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে এত লেখালেখি হয়েছে যে নতুন করে তাঁকে দেখার জায়গা খুঁজে পাওয়া কঠিন। কেতকী সেই জায়গা খুঁজেছিলেন রঙের মধ্যে। একজন কবির ভাষায় রং কীভাবে কাজ করে? একজন শিল্পীর চোখ তাঁর লেখার ভাষাকে কীভাবে প্রভাবিত করতে পারে? দেখা ও লেখা কি সম্পূর্ণ আলাদা দুটি ক্রিয়া? রবীন্দ্রনাথের চিত্রকলাকে তাঁর সাহিত্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখলে কী হারিয়ে যায়?
এই প্রশ্নগুলো শুধু রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে নয়, কেতকীর নিজের সাহিত্যবোধেরও প্রশ্ন। তিনি কোনো মানুষকে একটিমাত্র পরিচয়ে শেষ করতে চাননি। কবিকে শুধু কবিতা দিয়ে, নারীকে শুধু নারীত্ব দিয়ে, প্রবাসীকে শুধু দেশত্যাগ দিয়ে কিংবা একজন লেখককে শুধু তাঁর সাহিত্য দিয়ে বোঝা কেতকীর স্বভাবে ছিল না।
কেতকীর প্রবণতার আরও একটি বিস্ময়কর দৃষ্টান্ত তাঁর গবেষণাগ্রন্থ ‘আ ভ্যারিয়াস ইউনিভার্স’ (A Various Universe)। অক্সফোর্ডে তাঁর ডক্টরাল গবেষণার ভিত্তিতে তৈরি এই বইয়ে ১৭৬৫ থেকে ১৮৫৬ সালের মধ্যে ভারতীয় উপমহাদেশে বসবাসকারী ব্রিটিশ পুরুষ ও নারীদের জার্নাল ও স্মৃতিকথা নিয়ে তিনি কাজ করেন। প্রথম দেখায় মনে হতে পারে, এটা তাঁর উপন্যাস বা কবিতার পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। আসলে তা নয়।
এখানেও কেতকী দেখছেন একটি সংস্কৃতি অন্য সংস্কৃতিকে কীভাবে দেখে।
তবে এখানে দৃষ্টির দিকটি বদলে গেছে। ‘নোটন নোটন পায়রাগুলি’তে একজন বাঙালি নারী ব্রিটেনকে দেখছেন। ‘আ ভ্যারিয়াস ইউনিভার্স’–এ কেতকী অনুসন্ধান করছেন, ব্রিটিশরা ঔপনিবেশিক ভারতে এসে ভারতকে কীভাবে দেখেছিল। এ জন্য কেতকীর সাহিত্যিকর্মে একটি বৌদ্ধিক আয়না তৈরি হয়। একদিকে ভারত থেকে যাওয়া মানুষ ইংল্যান্ডকে দেখছে, অন্যদিকে ইংল্যান্ড থেকে আসা মানুষ ভারতকে দেখছে। আর মাঝখানে দাঁড়িয়ে কেতকী প্রশ্ন করছেন, আমরা যখন অন্যকে দেখি, তখন আসলে কতটা অন্যকে দেখি, আর কতটা নিজেদের পূর্ব ধারণাকেই অন্যের ওপর প্রতিফলিত করি?
প্রশ্নটি হয়তো তাঁর সাহিত্যিক জীবনের সবচেয়ে গভীর প্রশ্ন।
কেতকীর প্রবন্ধসংগ্রহ ভাবনার ভাস্কর্যের দিকে তাকালেও তাঁর বিস্তৃত চিন্তার জগৎটি স্পষ্ট হয়। ১৯৭৭ থেকে ১৯৮৫ সালের মধ্যে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রবন্ধ ও গ্রন্থসমালোচনা সেখানে সংকলিত হয়েছিল, বিষয়ও ছিল বিচিত্র। সাহিত্য, নাটক, চিন্তা, ব্যক্তি, শিল্প; অর্থাৎ কেতকীর বৌদ্ধিক কৌতূহল কোনো একটি বিষয়ের মধ্যে স্থির থাকেনি। তাঁর কাছে সাহিত্য মানে ছিল পৃথিবীকে বোঝার একটি পদ্ধতি।
আর সেই পৃথিবীতে নারীরা কখনো প্রান্তিক ছিল না।
কেতকীর লেখায় নারী কোনো ‘সিম্বল’ নয়, একজন সম্পূর্ণ মানুষ। যার নিজস্ব বুদ্ধি আছে, ইচ্ছা আছে, যৌনতা আছে, একাকিত্ব আছে, সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্ব আছে, নিজের সঙ্গে নিজের কথোপকথন আছে। বিশেষত প্রবাসী নারীর অভিজ্ঞতাকে তিনি এমন এক জায়গা থেকে দেখেছেন, যেখানে নারীকে একই সঙ্গে নিজের পুরোনো সমাজের স্মৃতি আর নতুন সমাজের বাস্তবতার মধ্যে বাস করতে হয়। তার ওপর থাকে পরিবার, মাতৃত্ব, সম্পর্ক এবং নিজের স্বাধীন সত্তাকে টিকিয়ে রাখার প্রশ্ন।
আজকের পৃথিবীতে মানুষ আরও বেশি ভ্রমণ করছে। দেশ বদলাচ্ছে, ভাষা বদলাচ্ছে, একাধিক সংস্কৃতির মধ্যে বড় হচ্ছে। কিন্তু সেই সঙ্গে পরিচয়ের সংকটও বাড়ছে। আমি কোথাকার? আমার ভাষা কোনটি? আমি কি আমার জন্মভূমির, নাকি যে দেশে বাস করি সেখানকার? একটি ভাষায় লিখলে কি অন্য ভাষাটি আমার ভেতর থেকে সরে যায়? দুটি সংস্কৃতির মধ্যে বাস করলে কি মানুষ কোনোটিরই পুরোপুরি হয় না, নাকি দুটিরই হয়ে ওঠে?
যদিও কেতকী এই প্রশ্নগুলোর সহজ উত্তর দেননি। তাঁর সাহিত্য শিখিয়েছে, সব বিষয়ের সরলীকরণ হয় না।
তাঁর কবিতার ক্ষেত্রেও বহুবাসের অনুভূতি ফিরে ফিরে এসেছে। ‘স্পেসিস আই ইনহেবিট’ (Spaces I Inhabit) নামটিই তাঁর সাহিত্যিক আত্মপরিচয়ের সংক্ষিপ্ত সূত্র।
কেতকীর দীর্ঘ কর্মজীবনে স্বীকৃতিও এসেছে। ১৯৮৬ ও ১৯৯৭ সালে আনন্দ পুরস্কার, সমকালীন বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য ভুবনমোহিনী দাসী পদক, ২০০৯ সালে বাংলা সাহিত্যে স্টার আনন্দের পুরস্কার, পরে ২০১৬ সালে বুদ্ধদেব বসু স্মারক পুরস্কার এবং ২০২৩ সালে ভাষানগর লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড। কিন্তু পুরস্কারের তালিকা দিয়ে তাঁর গুরুত্ব মাপা যায় না।
কেতকীর গুরুত্ব অন্য জায়গায়। তিনি বাংলা সাহিত্যে এমন এক নারীকণ্ঠ তৈরি করেছিলেন, যে কণ্ঠ একই সঙ্গে অন্তরঙ্গ ও বৌদ্ধিক। একই সঙ্গে বাঙালি ও বিশ্বনাগরিক। একই সঙ্গে স্মৃতিময় ও অনুসন্ধিৎসু। তিনি দেখিয়েছিলেন, নিজের শিকড়ের প্রতি বিশ্বস্ত থাকার অর্থ পৃথিবী থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া নয়। আবার পৃথিবীর নাগরিক হওয়ার অর্থ নিজের ভাষা ও স্মৃতিকে বিসর্জন দেওয়া নয়।
পাঠক হিসেবে কেতকীর কাছে আমার আজন্মঋণ। তিনি শিখিয়েছেন, একজন মানুষকে একটা পরিচয়ে আবদ্ধ থাকতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। আমরা একাধিক পৃথিবী, একাধিক সংস্কৃতি, একাধিক ভাষা ও জীবনদর্শন নিয়ে বাঁচতে পারি। আর কখনো কখনো দুই পৃথিবীর মাঝখানের যে জায়গাটাকে আমরা এত দিন ‘মাঝখান’ বলে ভেবেছি, সেটাই হয়ে উঠতে পারে আমাদের নিজের জায়গা।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
রাশিয়া ও ইউক্রেন চলমান যুদ্ধে নিজেদের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা স্থগিত করেছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে নিজের অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে ট্রাম্প এ তথ্য জানান। খবর দ্য টেলিগ্রাফের। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ যুদ্ধে রাশিয়া নিয়মিতই ইউক্রেনের শহরগুলোতে ও বিভিন্ন সেনাঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে আসছে। ইউক্রেনও রাশিয়ার বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে সফলভাবেই আঘাত করছে। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা না চালাতে ইউক্রেন সম্মত হয়েছে। রাশিয়াও একই সম্মতি দিয়েছে। বিশ্বের জ্বালানি তেলের দাম বেশি প্রভাবিত হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে, ইরানের কারণে নয়। এর আগে, রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) আয়ারল্যান্ড সফরের সময় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, জেলেনস্কিকে একটি কাজ করতে হবে। তাকে রাশিয়ায় জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে হবে। আরও পড়ুন রাশিয়ার জ্বালানিতে নয়, অন্য কিছুতে হামলা চালাও: ইউক্রেনকে ট্রাম্প এ বিষয়ে জেলেনস্কির সঙ্গে তার কথা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ায় হামলার জন্য আরও অনেক লক্ষ্যবস্তু রয়েছে। তবে, জ্বালানি স্থাপনায় হামলা করা উচিত নয়। তার মতে, এসব হামলার কারণে সারা বিশ্বের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এএমএ
রাজধানীর পল্লবীতে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আহত সজীব হোসাইন (২২) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার ভোরে কাইল্লার বস্তি এলাকায় তিনি হামলার শিকার হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জুয়েল ও জয় নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।নিহত সজীব পেশায় গেঞ্জি বিক্রেতা ছিলেন। তিনি মিরপুরের ওয়াপদা বিল্ডিং বেনারসিপল্লি এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। তাঁর বাবার নাম মৃত সেলিম হোসাইন। দুই ভাইয়ের মধ্যে সজীব ছিলেন বড়। সজীবের এক ছেলে রয়েছে।পল্লবী থানার উপপরিদর্শক রাশেদ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে সজীব আহত হন। পরে স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে বাসায় নিয়ে আসা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে গত বৃহস্পতিবার তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।সজীবের মামাতো বোন শারমিন বলেন, ছিনতাইকারীরা সজীবের পিঠের ডান পাশে ও বুকে ছুরিকাঘাত করে তাঁর মুঠোফোন নিয়ে যায়।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোয় সিরিয়ার বেশ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভের মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ধরে একটি প্রধান মহাসড়ক অবরুদ্ধ করে রাখেন বিক্ষোভকারীরা।সিরিয়া সরকার রোববার ডিজেলের দাম ৪০ শতাংশ এবং পেট্রলের দাম ২৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ায়। সরকারের দাবি, বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি সংগ্রহের খরচ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার কারণেই এই সাময়িক মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে।দাম বাড়ানোর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ বানিয়াস শোধনাগার সংস্কারের কথাও উল্লেখ করেছে সিরিয়া সরকার। তারা জানিয়েছে, এর ফলে শোধনাগারটির উৎপাদনক্ষমতা প্রতিদিন ৮০ হাজার ব্যারেল থেকে বেড়ে ১ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল হবে।জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সিরিয়ার হামা, খান শেইখুন ও মারাত আল-নুমান শহরে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। আল–জাজিরার প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তায় জড়ো হওয়া মানুষ টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন। দাম বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।শনিবার সিরিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-বশির বলেন, দেশটিতে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ২০০০ ব্যারেল তেল উৎপাদিত হচ্ছে; কিন্তু দেশের ভেতরে ব্যবহারের জন্য প্রতিদিন প্রয়োজন প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার ব্যারেল। এই ঘাটতি পূরণের জন্য তারা আমদানির ওপর নির্ভর করছেন।রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা সিরিয়ান আরব নিউজ এজেন্সির (সানা) তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিশ্ববাজারের পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তারা দাম সমন্বয়ের কাজ চালিয়ে যাবে। এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে তেল শোধন ও মজুত করার ক্ষমতা বাড়াতেও কাজ করবে তারা।দীর্ঘ ১৪ বছরের যুদ্ধের পর সিরিয়া এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। তাই দেশটির অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য জ্বালানির সরবরাহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।