জাতীয়

কারো সঙ্গে দেখা হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই নাম ভুলে যাচ্ছেন?

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
কারো সঙ্গে দেখা হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই নাম ভুলে যাচ্ছেন?
কারো সঙ্গে দেখা হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই নাম ভুলে যাচ্ছেন?

কাউকে প্রথমবার দেখলেন। বেশ কিছুক্ষণ কথা হলো। মানুষটির মুখ মনে আছে, কী কাজ করেন সেটাও মনে আছে, কোথায় দেখা হয়েছিল সেটাও মনে আছে। এমনকি কথার মাঝখানে তিনি যে মজার গল্পটি বলেছিলেন, সেটিও মনে আছে। অথচ কিছুক্ষণ পর হঠাৎ মনে হয় মানুষটার নাম কী যেন?

মাথার ভেতর তখন যেন অদৃশ্য একটা সার্চ ইঞ্জিন চালু হয়ে যায়। নামের প্রথম অক্ষর মনে করার চেষ্টা, কথোপকথনের দৃশ্যটা মনে করার চেষ্টা-কিছুতেই কাজ হয় না। শেষে পরিচিত কাউকে দেখলে নাম ধরে ডাকতে যে স্বস্তি পাওয়া যায়, সেই মানুষটির সামনে দাঁড়িয়ে বলতে হয়, ‘আপনার নামটা আরেকবার বলবেন?’

এমন ঘটনায় বিব্রত হওয়ার কিছু নেই। বরং মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, নতুন পরিচিত মানুষের নাম ভুলে যাওয়া মানুষের স্মৃতির খুব পরিচিত একটি সীমাবদ্ধতা। মুখ মনে থাকে, নাম থাকে না কেন? এর পেছনে বড় একটি কারণ হলো-নাম এবং অর্থপূর্ণ তথ্য মস্তিষ্কে একইভাবে কাজ করে না।

কথাগুলোও মনে আছে,শুধু নামটাই মনে পড়ছে নাকথাগুলো মনে আছে, শুধু নামটাই মনে পড়ছে না

নাম মনে রাখা এত কঠিন কেন?

এর অন্যতম কারণ নামের অর্থের সঙ্গে ব্যক্তির তথ্যের সম্পর্ক খুব দুর্বল। ধরা যাক, নতুন একজন বললেন, তিনি একজন স্থপতি। ‘স্থপতি’ শব্দটি শুনলেই আপনার মস্তিষ্কে একটি ধারণা তৈরি হবে। ভবন, নকশা, অফিস কিংবা নির্মাণকাজ-এ ধরনের আরও কিছু তথ্যের সঙ্গে শব্দটি যুক্ত হতে পারে। আবার তিনি যদি বলেন, তিনি মিরপুরে থাকেন, তাহলে আপনার পরিচিত কোনো জায়গা বা নিজের অভিজ্ঞতার সঙ্গে তথ্যটি মিলিয়ে নেওয়ার সুযোগ আছে।

কিন্তু তিনি যদি বলেন, ‘আমার নাম ‘রাফি’, শব্দটি নিজে থেকে তার চেহারা, পেশা, স্বভাব কিংবা ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে আপনাকে তেমন কোনো তথ্য দেয় না। মনোবিজ্ঞানে নতুন তথ্যকে আগের জ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত করে মনে রাখার এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘এনকোড’ বা স্মৃতিতে তথ্য সংরক্ষণের প্রক্রিয়া। কোনো তথ্য যত বেশি অর্থপূর্ণভাবে অন্য তথ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়, পরে সেটি মনে করার পথও তত সহজ হতে পারে। এই কারণেই নামের সঙ্গে অর্থপূর্ণ তথ্যের সংযোগ তৈরি করা তুলনামূলক কঠিন।

অ্যাসোসিয়েশন ফর সাইকোলজিক্যাল সায়েন্স মনোবিজ্ঞানী লিস আব্রামস ও ড্যানিয়েল কে. ডেভিসের গবেষণা তুলে ধরে জানিয়েছে, অন্যান্য অনেক শব্দের তুলনায় মানুষের নাম শেখা ও মনে রাখা বেশি কঠিন হতে পারে। গবেষকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির নামের সঙ্গে তার বৈশিষ্ট্য বা অর্থের সরাসরি সম্পর্ক তুলনামূলক দুর্বল হওয়ায় নাম মনে রাখার ক্ষেত্রে বাড়তি সমস্যা তৈরি হয়।

২০১৭ সালের নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড বায়োবিহেভিয়রাল রিভিউসে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনায়ও একই ধরনের প্রবণতার কথা উঠে এসেছে-সাধারণ বিশেষ্যের তুলনায় ব্যক্তির নাম মনে রাখা মানুষের জন্য বেশি কঠিন।

মুখ মনে থাকে, নাম হারিয়ে যায় কেন?

প্রথমবার কারও সঙ্গে দেখা হলে আমরা শুধু তার নাম শুনি না। একই সময়ে মস্তিষ্ককে অনেক কিছু সামলাতে হয়। সামনের মানুষটির মুখ কেমন, তিনি কী বলছেন, তার কণ্ঠস্বর কেমন, কী পোশাক পরেছেন, কোথায় দেখা হয়েছে-এসবের পাশাপাশি নিজের কী বলা উচিত, সেটিও আমরা ভাবতে থাকি। এই পুরো প্রক্রিয়ার মধ্যে নামটি হয়তো খুব অল্প সময়ের জন্য আপনার মনোযোগ পেয়েছে। ফলে নাম শোনার মুহূর্তে আমাদের মন পুরোপুরি নামটির দিকে নাও থাকতে পারে।

মনোবিজ্ঞানের একটি সহজ ব্যাখ্যা হলো, ‘মনে রাখা’ শুরু হওয়ার আগেই অনেক সময় ‘মনোযোগ’ প্রয়োজন। কোনো তথ্য প্রথম মুহূর্তে যথেষ্ট মনোযোগ না পেলে পরে সেটি মনে করতে গিয়ে সমস্যা হওয়াটা স্বাভাবিক। তাই কারও নাম ভুলে যাওয়া মানেই আপনি তার কথায় মন দেননি-এমনটিও ঠিক নয়। 

অর্থাৎ অনেক ক্ষেত্রে সমস্যাটি স্মৃতি হারিয়ে যাওয়ার নয়, বরং নামটি প্রথমবার ঠিকভাবে স্মৃতিতে গেঁথে না যাওয়ার।

বেশি তথ্য জানলে কি নাম মনে রাখা কঠিন হয়?

গবেষণায় স্মৃতির ক্ষেত্রে ‘ফ্যান এফেক্ট’ নামে একটি ধারণা রয়েছে। সহজ করে বললে, একজন মানুষের সঙ্গে যখন অনেক ধরনের তথ্য যুক্ত হয়, তখন সেই তথ্যগুলোর মধ্য থেকে কোনো একটি নির্দিষ্ট তথ্য মনে করতে মস্তিষ্ককে কখনো একটু বেশি কাজ করতে হয়।

তবে এর মানে এই নয় যে, কারও সম্পর্কে বেশি তথ্য জানা স্মৃতির জন্য খারাপ। বরং  কোনো নামের সঙ্গে অর্থপূর্ণ তথ্য বা পরিচিত কোনো বিষয় যুক্ত করে রাখলে সেটি মনে রাখা সহজ হতে পারে।

অ্যাপ্লাইড কগনিটিভ সাইকোলজি' জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায়ও দেখা গেছে, নাম মনে করার অনুশীলন করা এবং নামের সঙ্গে অর্থপূর্ণ কোনো তথ্যের যোগসূত্র তৈরি করা হলে সঠিক নাম মনে রাখার ক্ষমতা বাড়তে পারে।

নাম মনে রাখবেন যেভাবে

নতুন কারও নাম শোনার পর সেটি মনে মনে একবার পুনরাবৃত্তি করতে পারেন। কথার মাঝেও স্বাভাবিকভাবে তার নাম ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন, কেউ বললেন, ‘আমি সাদিয়া।’ আপনি বলতে পারেন, ‘সাদিয়া, আপনার সঙ্গে পরিচিত হয়ে ভালো লাগল।’ এতে নামটি শুধু একবার শোনা হয় না, আপনার মস্তিষ্ক সেটিকে কথোপকথনের সঙ্গে আরও একবার যুক্ত করার সুযোগ পায়।

আরও পড়ুন

কেমন ছিল আশির দশকের ফ্যাশন

 

আরও ভালো ফল পেতে নামের সঙ্গে কোনো অর্থপূর্ণ তথ্য জুড়ে দিতে পারেন। এভাবে নামের সঙ্গে একটি মুখ, একটি তথ্য এবং একটি পরিস্থিতির যোগ তৈরি হয়।

ভুলে গেলে কী করবেন?

ভুলে গেলে আবার জিজ্ঞেস করুন। অনেকেই নাম ভুলে গেলে এমনভাবে ঘুরিয়ে কথা বলেন, যেন নাম ধরে ডাকতেই না হয়। এতে অস্বস্তি আরও বাড়ে। অথচ স্বাভাবিকভাবে বলা যায়, ‘দুঃখিত, আপনার নামটা আরেকবার বলবেন?’ এতে লজ্জার কিছু নেই।

আরও পড়ুন

শিশুদের মতো রং করুন, কমবে মানসিক চাপ

কারণ মানুষের স্মৃতি কোনো নিখুঁত রেকর্ডিং মেশিন নয়। আমরা সবকিছু সমানভাবে সংরক্ষণ করি না। কোন তথ্য গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে, কোনটির সঙ্গে পুরোনো অভিজ্ঞতার যোগ তৈরি হচ্ছে এবং কোন মুহূর্তে আমাদের মনোযোগ কোথায় আছে-এসবের ওপর স্মৃতি অনেকটাই নির্ভর করে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, মিডিয়াম

এসএকেওয়াই

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিল, ওসির পর সরানো হলো ডিসিকেও
গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিল, ওসির পর সরানো হলো ডিসিকেও

এবার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এম তানভীর আহমেদকে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পরবর্তী জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে দায়িত্ব অর্পণ করে তাকে ডিএমপি সদর দপ্তরে রিপোর্ট করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের সই করা এক অফিস আদেশে এ সিধান্তের কথা জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এম তানভীর আহমেদকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক কারণে ঢাকা মেট্রোপলিটন সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হলো। এর আগে, গুলশান মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দাউদ হোসেনকে ক্লোজড করা হয়। আদেশে বলা হয়, প্রশাসনিক কারণে ১৬ সেপ্টেম্বর পূর্বাহ্নে ডিএমপি সদর দপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে দাউদ হোসেনকে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হলো। গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর গুলশান থানাধীন ৩ নম্বর সড়কের কেএফসি-সংলগ্ন সড়কে মিছিল করে কার্যক্রমে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে গেলে মিছিলকারীরা পুলিশের দিকে ককটেল নিক্ষেপ করে। এসময় হাতেনাতে দুজনকে গ্রেফতার ও পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার পর এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৫ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য ছিল। তবে শুক্রবার পুলিশ হয়তো আন্দাজ করতে পারেনি যে ওই সময় ওই এলাকায় জুমার নামাজ পড়তে এসে তারা এরকম একটা কিছু করতে পারে। গুলশানে মিছিলের বিষয়ে তিনি বলেন, বেলা ১১টার দিকে জুমার নামাজ আদায়ের কথা বলে সেখানে কিছু লোক জড়ো হয়েছিল। পরে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। টিটি/এমকেআর

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
এনসিএলে বাড়ল মর্যাদা, ব্যাগি ক্যাপ পেয়ে অধিনায়কদের উচ্ছ্বাস

এনসিএলে বাড়ল মর্যাদা, ব্যাগি ক্যাপ পেয়ে অধিনায়কদের উচ্ছ্বাস

দুর্ঘটনার কবলে বহনকারী মাইক্রোবাস, অক্ষত মহিবুল্লাহ বাবুনগরী

দুর্ঘটনার কবলে বহনকারী মাইক্রোবাস, অক্ষত মহিবুল্লাহ বাবুনগরী

ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির স্থানীয় বিল ২৭০ দিন পর ওভারডিউ

ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির স্থানীয় বিল ২৭০ দিন পর ওভারডিউ

জামিন নামঞ্জুর, এজলাসে আসামির হামলায় ৩ পুলিশ সদস্য আহত
জামিন নামঞ্জুর, এজলাসে আসামির হামলায় ৩ পুলিশ সদস্য আহত

বরগুনায় আদালতের এজলাসে এক আসামির হামলায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। জামিন না পেয়ে ওই আসামি উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। হাতকড়া পরাতে গেলে তিনি পুলিশের ওপর হামলা করেন। আজ বুধবার দুপুরে বরগুনায় অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাস কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।এ ঘটনার পর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম ওই আসামিকে এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। পরে তাঁকে বরগুনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। আদালতের বেঞ্চ সহকারী নাদিরা বেগম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।দণ্ড পাওয়া আসামি মো. বশির ( ৪৫) বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের ছোট গৌরীচন্না এলাকার বাসিন্দা।আদালত সূত্রে জানা যায়, একটি মামলায় আসামি মো. বশির অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। আজ মামলার শুনানি চলাকালে বিচারক তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মো. বশির এজলাসেই বিচারকের উদ্দেশে কটু ও অশ্লীল মন্তব্য করেন। আইনজীবীরা তাঁকে থামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে পুলিশ তাঁকে হাতকড়া পরাতে যায়। বিচারকের উপস্থিতিতেই তিনি পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা করেন। এতে পুলিশ সদস্য মো. সিদ্দিক, মো. শাহজাহান ও হনুফা বেগম আহত হন।অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এপিপি কামরুল ইসলাম ফরাজি বলেন, এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম একটি সিআর মামলা আমলে নিয়ে উপস্থিত সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করে বশিরকে এক বছরের কারাদণ্ড দেন। এ ছাড়া এক হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা ও স্বেচ্ছায় আঘাত করার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
রবীন্দ্রনাথের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় পাওয়া যায় ‘মাল্যদান’ গল্পে

রবীন্দ্রনাথের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় পাওয়া যায় ‘মাল্যদান’ গল্পে

হ্যাঁচকা টানে শিক্ষিকা নিহতের ঘটনায় র‍্যাবের গ্রেপ্তার করা তিনজন জড়িত নন, দাবি ডিবির

হ্যাঁচকা টানে শিক্ষিকা নিহতের ঘটনায় র‍্যাবের গ্রেপ্তার করা তিনজন জড়িত নন, দাবি ডিবির

এমবাপ্পে–ভিনিদের বিশেষ জার্সি না পরা নিয়ে সমালোচনার মুখে রিয়াল

এমবাপ্পে–ভিনিদের বিশেষ জার্সি না পরা নিয়ে সমালোচনার মুখে রিয়াল

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়ে নৃত্যশিল্পীদের ধর্ষণ: প্রধান আসামি সিলেট থেকে গ্রেপ্তার
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়ে নৃত্যশিল্পীদের ধর্ষণ: প্রধান আসামি সিলেট থেকে গ্রেপ্তার

নাচের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে দুই নারী নৃত্যশিল্পীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদীর মাঝখানে নৌকায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলার প্রধান আসামি মুজাহিদ ওরফে রাকিব মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় রাকিবের নানার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে রাকিব মিয়াকে গ্রেপ্তার করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৯।রাকিব মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বুড্ডা এলাকার বাসিন্দা। আজ বুধবার দুপুরে এসআরবি-৯–এর গণমাধ্যম শাখা থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।এসআরবি জানিয়েছে, ৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার চান্দিনার একটি পেশাদার নৃত্যশিল্পী দলকে সরাইলে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান রাকিব। এ জন্য ৯ হাজার টাকায় চুক্তি হয়। ২ হাজার টাকা অগ্রিম দেন তিনি। প্রস্তাবের পর চান্দিনা থেকে সরাইলে যান দুই নারী নৃত্যশিল্পী। তাঁদের সঙ্গে একজন তরুণ ছিলেন। কিন্তু অনুষ্ঠানের মঞ্চের বদলে তাঁদের নেওয়া হয় তিতাস নদীর মাঝখানে। সেখানে নৌকার ইঞ্জিন বন্ধ করে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তরুণকে জিম্মি করে দুই শিল্পীকে ছয় যুবক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ। সেদিন বিকেল পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত নৌকার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে এসআরবি।মামলার বরাত দিয়ে এসআরবি জানায়, ঘটনার পর রাত আটটার দিকে ওই তিনজনকে নাসিরনগর উপজেলার ভূঁইয়ার ঘাট এলাকায় কাদাপানির মধ্যে ফেলে রেখে নৌকা নিয়ে চলে যান অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। পরে ভুক্তভোগীদের একজন বাদী হয়ে সরাইল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার পর সরাইল থানার পুলিশ শান্ত বিশ্বাস (১৯) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাকিব মিয়ার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পায় এসআরবি-৯। এরপর গতকাল রাতে সিলেটের বিয়ানীবাজারে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।এসআরবি-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম কর্মকর্তা) কে এম শহিদুল ইসলাম বলেন, রাকিব মিয়াকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদেরও শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।বিয়ের অনুষ্ঠানের কথা বলে ডেকে নিয়ে দুই নৃত্যশিল্পীকে মাঝনদে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
ইরানের হাতে আরও এক ‘ট্রাম্প কার্ড’, দিশেহারা সৌদি আরব

ইরানের হাতে আরও এক ‘ট্রাম্প কার্ড’, দিশেহারা সৌদি আরব

চাকরির বাজারে নিজেকে যোগ্য করে তুলতে যেসব দক্ষতা প্রয়োজন

চাকরির বাজারে নিজেকে যোগ্য করে তুলতে যেসব দক্ষতা প্রয়োজন

যে কারণে আমেরিকা থেকে হঠাৎ ভিডিও বার্তা দিলেন মৌসুমী

যে কারণে আমেরিকা থেকে হঠাৎ ভিডিও বার্তা দিলেন মৌসুমী

0 Comments