ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে অ্যালেক্স গিবনির প্রায় চার ঘণ্টার তথ্যচিত্র ‘মাস্ক’ প্রদর্শনের পর তুমুল আলোচনা। টেসলা ও স্পেসএক্সের কর্ণধারকে নির্মাতা দেখিয়েছেন ক্ষমতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও রাজনৈতিক প্রভাবের এক অস্বস্তিকর প্রতিচ্ছবি হিসেবে। মাস্কের দাবি, ছবিটি মিথ্যা ও বিরক্তিকর; সমালোচকদের বড় অংশের চোখে আবার এটি তাঁর জীবনের সবচেয়ে নির্মম সিনেমাটিক পাঠ।
একজন মানুষ। টেসলা, স্পেসএক্স, এক্স; একাধিক প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ তাঁর হাতে। মহাকাশ থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে রাজনীতি; একুশ শতকের প্রযুক্তি ও ক্ষমতার প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাতেই কোনো না কোনোভাবে চলে আসে ইলন মাস্কের নাম।
ইলন মাস্ককে কেউ দেখেন ভবিষ্যতের স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে। কেউ মনে করেন, তিনি প্রচলিত নিয়ম ভেঙে অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। আবার সমালোচকদের চোখে মাস্ক এমন এক ধনকুবের, যার হাতে ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার অস্বাভাবিক কেন্দ্রীভবন গণতন্ত্রের জন্যই ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এই দুই বিপরীত ছবির মধ্যখানে দাঁড়িয়েই নির্মিত হয়েছে অস্কারজয়ী তথ্যচিত্র নির্মাতা অ্যালেক্স গিবনির ‘মাস্ক’। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটির প্রদর্শনের পর থেকেই শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। প্রায় চার ঘণ্টার এই তথ্যচিত্রে শুধু মাস্কের ব্যবসায়িক সাফল্য নয়, তাঁর ব্যক্তিজীবন, রাজনৈতিক প্রভাব, ক্ষমতার ব্যবহার এবং নিজের তৈরি জন-ইমেজ; সবকিছুকে খতিয়ে দেখা হয়েছে।
চার ঘণ্টায় কোন ‘মাস্ক’?
ছবিটির শুরু মাস্কের প্রযুক্তি উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার দিনগুলো থেকে। ডটকম যুগে তাঁর উত্থান, জিপ২ ও পেপালে সাফল্য, এরপর টেসলা ও স্পেসএক্স—ক্রমে কীভাবে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাবান ব্যবসায়ীদের একজন হয়ে উঠলেন, তারই দীর্ঘ যাত্রা তুলে ধরেছেন গিবনি।
কিন্তু প্রচলিত জীবনীচিত্রের মতো ‘সংগ্রাম থেকে সাফল্য’ দেখিয়ে থেমে যাননি নির্মাতা। বরং প্রশ্ন তুলেছেন, এত ক্ষমতা একজন মানুষের হাতে চলে গেলে তার পরিণতি কী হতে পারে?
মাস্কের টুইটার কেনা, সেটির নাম বদলে এক্স করা, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা, মার্কিন রাজনীতিতে তাঁর ক্রমবর্ধমান প্রভাব, সবই এসেছে ছবিতে। গিবনির দৃষ্টিতে মাস্কের গল্প তাই আর শুধু প্রযুক্তি উদ্যোক্তার গল্প নয়; এটি ক্ষমতা কীভাবে একজন ব্যক্তির হাতে জমা হতে পারে, সেই গল্পও।
রয়টার্সকে গিবনি বলেছেন, ছবিটি বানানোর সময় তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, মাস্কের প্রভাব নিয়ে অনেক মানুষ প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পান। এমনকি তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের মানুষদের মধ্যেও ছিল ভয়। ফলে ছবিটি যত এগিয়েছে, ততই গিবনির কাছে মাস্কের গল্প হয়ে উঠেছে ক্ষমতা ও তাঁর জবাবদিহির গল্প।
সামনে নেই মাস্ক, আছে তাঁর ‘ডিজিটাল রূপ’
তথ্যচিত্রটির সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্তগুলোর একটি হলো, মাস্ক নিজে ছবিতে সাক্ষাৎকার দেননি। ফলে তাঁর অনুপস্থিতি ঢাকতে গিবনি ব্যবহার করেছেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কম্পিউটারনির্মিত চেহারা।
স্ক্রিনে দেখা যায়, মাস্কের মতো দেখতে একটি ডিজিটাল চরিত্র। তার কণ্ঠও তৈরি করা হয়েছে মাস্কের আগের সাক্ষাৎকার ও প্রকাশ্য বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে। অর্থাৎ নির্মাতা নতুন কোনো বক্তব্য মাস্কের মুখে বসাননি; বরং তাঁরই পুরোনো কথাগুলো নতুন প্রেক্ষাপটে হাজির করেছেন।

এই কৌশলকে কেউ বলেছেন সৃজনশীলভাবে অসাধারণ। দ্য হলিউড রিপোর্টারের ডেভিড রুনি এটিকে প্রশংসা করেছেন। কারণ, মাস্ক সাক্ষাৎকার দিতে অস্বীকার করলেও তাঁর নিজের কথাকেই তাঁর বিরুদ্ধে একধরনের আয়না হিসেবে ব্যবহার করেছেন নির্মাতা।
অন্যদিকে এই পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একটি তথ্যচিত্রে জীবিত ব্যক্তির কৃত্রিম অবতার ও কৃত্রিম কণ্ঠ ব্যবহার কতটা নৈতিক, সেই বিতর্কও তৈরি হয়েছে।
ব্যক্তিজীবনের অন্ধকার অধ্যায়
গিবনির ছবিতে মাস্কের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের পাশাপাশি উঠে এসেছে তাঁর ব্যক্তিজীবনও। প্রথম স্ত্রী জাস্টিন মাস্ক কথা বলেছেন তাঁদের সম্পর্ক, সন্তান এবং তাঁদের এক সন্তানের মৃত্যুকে ঘিরে অভিজ্ঞতা নিয়ে। ছবিতে তাঁর বয়ানের সঙ্গে মাস্কের নিজের বলা কথার পার্থক্যও তুলে ধরা হয়েছে।
মাস্কের সাবেক সঙ্গী অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ারও ছবিতে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন। তাঁর দাবি, মাস্ক একসময় গৃহযুদ্ধের আগে ‘অনেক সন্তান’ নেওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথা বলেছিলেন। সেন্ট ক্লেয়ার আরও জানিয়েছেন, নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে চুপ থাকার বিনিময়ে তাঁকে ৪ কোটি ডলারের একটি গোপনীয়তা চুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।
ছবিটি মাস্কের সন্তানদের নিয়েও আলোচনা করে। তাঁর ব্যক্তিজীবনে একাধিক সম্পর্ক ও সন্তান জন্মের বিষয়টি কীভাবে তাঁর ব্যক্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর ধারণার সঙ্গে যুক্ত, সেটিও অনুসন্ধান করেছেন গিবনি।

‘বিশ্বাসযোগ্যতার ব্যবসায়ী?’
গিবনির সবচেয়ে কঠোর পর্যবেক্ষণ সম্ভবত এখানেই। তিনি মাস্ককে শুধু ‘প্রতিভাবান প্রযুক্তিবিদ’ হিসেবে দেখেননি। তাঁর চোখে মাস্ক এমন একজন, যিনি মানুষের বিশ্বাস, প্রত্যাশা ও নিজের তৈরি গল্পকে ব্যবহার করে ক্ষমতা বাড়িয়েছেন।
ভেনিসে ছবিটির প্রদর্শনের পর ভ্যারাইটি অভিহিত করেছে প্রযুক্তিনির্ভর মেধা, ক্ষমতার লালসা ও উদ্ভট বিভ্রমের এক তীক্ষ্ণ প্রতিকৃতি হিসেবে। আরেকটি গণমাধ্যম ডেডলাইন আরও কঠোর ভাষায় বলেছে, ছবিটি বিশ্বের অন্যতম ধনী মানুষকে নির্মমভাবে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।
ভালচারের রিভিউতেও ছবিটিকে অস্বস্তিকর ও ভীতিকর অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ছবিটি মাস্কের নিজের তৈরি জন-চরিত্রের সঙ্গে তাঁর ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক প্রভাব ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা বয়ানকে পাশাপাশি রেখে এক ভিন্ন ছবি তৈরি করেছে।
তবে ছবিটির প্রশংসা করলেও সব সমালোচক যে একমত, তা নয়। প্রায় চার ঘণ্টার দৈর্ঘ্য, বিপুল তথ্যের ভার এবং মাস্ককে নিয়ে ইতিমধ্যে পরিচিত বিতর্কগুলো আবার সামনে আনার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ফলে কারও কাছে এটি অনুসন্ধানী ও জরুরি দলিল, কারও কাছে আবার দীর্ঘ এক অভিযোগপত্র।
ক্ষুব্ধ মাস্ক, আইনি ব্যবস্থার হুমকি
ছবিটি ভেনিসে প্রদর্শনের আগেই এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন মাস্ক। তিনি ছবিটিকে মিথ্যা ও একপেশে বলে আক্রমণ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর মন্তব্যের সারকথা—ছবিটি শুধু সত্য থেকে দূরে নয়, চার ঘণ্টা ধরে বিরক্তিকরও।
এতেই শেষ নয়। মাস্কের আইনজীবীরা নির্মাতা ও ছবিটির পরিবেশকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, তথ্যচিত্রে তাঁর সম্পর্কে মানহানিকর ও মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
গিবনি অবশ্য পিছু হটেননি। তাঁর বক্তব্য, ছবিটির প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই করা হয়েছে এবং মুক্তির আগে আইনজীবীরাও ছবিটি খুঁটিয়ে দেখেছেন।
মজার ব্যাপার হলো, গিবনি যখন ছবির কাজ শুরু করেন, তখন তিনি নিজেও মাস্কের প্রতি একধরনের মুগ্ধতা অনুভব করতেন। কিন্তু কাজ এগোতে থাকলে সেই মুগ্ধতা বদলে যায়। বিশেষ করে মাস্কের ব্যবসা থেকে রাজনীতিতে প্রবেশ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা নির্মাতাকে ছবিটির পরিধি বাড়াতে বাধ্য করে। প্রথমে প্রায় দুই ঘণ্টার ছবি ভাবা হলেও শেষ পর্যন্ত তা প্রায় চার ঘণ্টায় পৌঁছায়।
‘মাস্ক’ আসলে মাস্কের চেয়েও বড় গল্প
গিবনির ছবির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হয়তো ইলন মাস্ক কী ধরনের মানুষ, তা নয়। বরং প্রশ্নটি হলো, একজন ব্যক্তির হাতে এত ক্ষমতা থাকা উচিত কি না।
একদিকে ইলন মাস্কের হাতে মহাকাশে পৌঁছানোর প্রযুক্তি, বৈদ্যুতিক গাড়ি, স্যাটেলাইট যোগাযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ। অন্যদিকে রয়েছে বিপুল সম্পদ এবং রাজনীতিতে সরাসরি প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা।
গিবনির আশঙ্কা, এমন ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন গণতান্ত্রিক জবাবদিহিকে দুর্বল করতে পারে। ভেনিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি মাস্কের এই অবারিত প্রভাবকে বিশ্ব গণতন্ত্রের জন্য ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ বলেও মন্তব্য করেছেন।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
রাজধানীর পল্লবীতে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আহত সজীব হোসাইন (২২) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার ভোরে কাইল্লার বস্তি এলাকায় তিনি হামলার শিকার হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জুয়েল ও জয় নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।নিহত সজীব পেশায় গেঞ্জি বিক্রেতা ছিলেন। তিনি মিরপুরের ওয়াপদা বিল্ডিং বেনারসিপল্লি এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। তাঁর বাবার নাম মৃত সেলিম হোসাইন। দুই ভাইয়ের মধ্যে সজীব ছিলেন বড়। সজীবের এক ছেলে রয়েছে।পল্লবী থানার উপপরিদর্শক রাশেদ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে সজীব আহত হন। পরে স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে বাসায় নিয়ে আসা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে গত বৃহস্পতিবার তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।সজীবের মামাতো বোন শারমিন বলেন, ছিনতাইকারীরা সজীবের পিঠের ডান পাশে ও বুকে ছুরিকাঘাত করে তাঁর মুঠোফোন নিয়ে যায়।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোয় সিরিয়ার বেশ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভের মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ধরে একটি প্রধান মহাসড়ক অবরুদ্ধ করে রাখেন বিক্ষোভকারীরা।সিরিয়া সরকার রোববার ডিজেলের দাম ৪০ শতাংশ এবং পেট্রলের দাম ২৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ায়। সরকারের দাবি, বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি সংগ্রহের খরচ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার কারণেই এই সাময়িক মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে।দাম বাড়ানোর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ বানিয়াস শোধনাগার সংস্কারের কথাও উল্লেখ করেছে সিরিয়া সরকার। তারা জানিয়েছে, এর ফলে শোধনাগারটির উৎপাদনক্ষমতা প্রতিদিন ৮০ হাজার ব্যারেল থেকে বেড়ে ১ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল হবে।জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সিরিয়ার হামা, খান শেইখুন ও মারাত আল-নুমান শহরে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। আল–জাজিরার প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তায় জড়ো হওয়া মানুষ টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন। দাম বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।শনিবার সিরিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-বশির বলেন, দেশটিতে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ২০০০ ব্যারেল তেল উৎপাদিত হচ্ছে; কিন্তু দেশের ভেতরে ব্যবহারের জন্য প্রতিদিন প্রয়োজন প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার ব্যারেল। এই ঘাটতি পূরণের জন্য তারা আমদানির ওপর নির্ভর করছেন।রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা সিরিয়ান আরব নিউজ এজেন্সির (সানা) তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিশ্ববাজারের পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তারা দাম সমন্বয়ের কাজ চালিয়ে যাবে। এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে তেল শোধন ও মজুত করার ক্ষমতা বাড়াতেও কাজ করবে তারা।দীর্ঘ ১৪ বছরের যুদ্ধের পর সিরিয়া এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। তাই দেশটির অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য জ্বালানির সরবরাহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন এবং তাঁকে ‘বীরত্বপূর্ণভাবে’ উপস্থাপনের সমালোচনা করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। সংগঠনটির অভিযোগ, এর মাধ্যমে পাকিস্তানপন্থী রাজনীতিকে আবার প্রাসঙ্গিক করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।সোমবার রাত আটটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে নির্মাণাধীন ‘জুলাই নির্ভীক’ স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশক্তির নেতারা এ কথাগুলো বলেন।সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক তাহমিদ আল মুদাসসির চৌধুরী বলেন, ‘শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক কিংবা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, যোগেন মণ্ডল, মাওলানা ভাসানী কিংবা আবুল হাশিম—তাঁদের যখন জন্মদিন, মৃত্যুবার্ষিকী যায়, তখন কি আপনাদের (ডাকসুর) মনে থাকে না তাঁদের ছবি টাঙানো কিংবা তাঁদের স্মরণ করার কথা? কিন্তু ঠিকই ডাকসুতে জিন্নাহর ছবি টানিয়ে উদ্যাপন করা হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘যাঁরা এই মাটির জন্য, এই মানুষের জন্য, এই বাংলা ভূখণ্ডের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন, তাঁদের নিয়ে ডাকসুকে কখনো কোনো আলোচনা সভা করতে আমরা দেখিনি।’সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হাসিব আল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্ব একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর স্বার্থ বাস্তবায়নে কাজ করছে। ডাকসু শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কিছু কাজ করলেও সামগ্রিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির রাজনৈতিক মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করেছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ টেনে হাসিব আল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক সময় বিভিন্ন দল-গোষ্ঠী মধুর ক্যানটিনকে অস্বীকার করতে চায়, ’৭১-এর শহীদকে অস্বীকার করতে চায়, আবার সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের নাম শুনলে অনেকের গা জ্বলে ওঠে। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, মধুদাও আমাদের, রাজু ভাস্কর্যও আমাদের। পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতিটি নিদর্শন, প্রতিটি ঐতিহ্যকে আমরা ধারণ করতে চাই।’সংবাদ সম্মেলন শুরুর আগে জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মৃতিস্তম্ভে মোমবাতি প্রজ্বালন করেন ছাত্রশক্তির নেতা–কর্মীরা। এ সময় তাঁরা ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’, ‘তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দিব রে’ এবং ‘মুক্তির মন্দির সোপান তলে’ গান তিনটি পরিবেশন করেন।কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি আবু বাকের মজুমদার, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তৌহিদ মো. সিয়াম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক রাইয়ান ফেরদৌসসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা–কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।