জাতীয়

ইলিশের উৎপাদন কমছে চার কারণে, ভরা মৌসুমেও দাম চড়া

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
ইলিশের উৎপাদন কমছে চার কারণে, ভরা মৌসুমেও দাম চড়া
ইলিশের উৎপাদন কমছে চার কারণে, ভরা মৌসুমেও দাম চড়া

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটের নিচতলার মাছের বাজার। বাজারের পাঁচটি দোকানে বিক্রেতারা ইলিশ নিয়ে বসে ছিলেন ক্রেতার অপেক্ষায়। ইলিশ কিনতে দরদাম করছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী আলতাফ হোসেন। তিনি বলছিলেন, ‘এ বছর দ্বিতীয়বারের জন্য ইলিশ কিনতে আসছি। ভাবছিলাম এক কেজি ওজনের কিনব। ২৪০০ টাকা করে চাইতেছে। গতবার ১৮০০ টাকা দরে কিনছি। কী হইলো এবার!’

মাছ ব্যবসায়ী শুক্কুর আলীর দোকান থেকে দুটি ৭৫০ গ্রাম ওজনের মাছ নিলেন আলতাফ হোসেন। এক কেজির ইলিশ কিনতে পারলেন না, কারণ ‘বাজেট নেই’। শুক্কুর আলীর দোকানে দুটি ঝাঁকায় আড়াই শ গ্রামের ইলিশ। তিনি বলেন, ‘এইবার এ ধরনের ইলিশের চাহিদা বেশি। ইলিশের দাম আর কুনুদিন কমত না। সব ধরনের ইলিশ এবার চাইর শ থাইক্যা পাঁচ শ ট্যাকা বেশি গেলবারের চাইতে।’ তিনি মাছের ব্যবসা করছেন ২০ বছর ধরে। ইলিশের এমন দাম আগে দেখেননি।

এবার তিনি ১ কেজির ইলিশ ২ হাজার ২০০–এর নিচে বেচেননি। গতকাল ২ হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন বলে জানান।

ইলিশের এমন চড়া দামের কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা গেল, দুই বছর ধরে ইলিশের উৎপাদন বা আহরণ কমছে। এ পরিস্থিতি গবেষকদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে। এত কম উৎপাদনের কারণ অনুসন্ধানের তাগিদ দিয়েছেন খ্যাতনামা ইলিশ–গবেষক মো. আনিছুর রহমান। তাঁর কথা, ‘দুই বছর ধরে যা দেখছি, তা বিপজ্জনক। মানুষ এবং প্রকৃতি, দুই–ই এর জন্য দায়ী।’

সাগরে অতিসূক্ষ্ম ক্ষুদ্র ফাঁসের জালের বিস্তার, অতিরিক্ত মাছ আহরণ, দূষণ ও ডুবোচর উৎপাদন কম হওয়ার কারণ বলে আপাতত ধারণা করছেন গবেষকেরা।

‘গাঙে মাছ নাই’

চাঁদপুর বড়স্টেশন মাছঘাটে চলছে ইলিশ কেনাবেচা। সম্প্রতি তোলা

ইলিশের রাজধানীখ্যাত চাঁদপুরের মাছের আড়ত জুলাই মাস থেকেই জমজমাট থাকত। চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি আবদুল বারী জমাদার বলেন, তিন বছর আগেও জুলাই মাসের পর থেকে গড়ে প্রতিদিন দুই হাজার মণ ইলিশ থাকত এ আড়তে। এবার গড়ে আড়াই শ মণের বেশি ইলিশ এক দিনে পাওয়া যায়নি। গতবারও গড়ে চার শ মণের মতো ইলিশ থাকত। ৩০ বছর ধরে এ পেশায় আছেন তিনি। এমন কম ইলিশ আর কখনো দেখেননি।

এই ইলিশ ব্যবসায়ী মনে করেন, ইলিশের বিচরণস্থলে দূষণ, ডুবোচর আর সাগরে অতি ছোট ফাঁসের জালের বিস্তারে ইলিশ কমছে। বেহুন্দি নামে এ ধরনের জাল নিষিদ্ধ।

দেশের ইলিশের বড় আড়ত পটুয়াখালীর কলাপাড়ার মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। এখানকার মাছ ব্যবসায়ী ফজলু গাজী দুই যুগের বেশি সময় ধরে মাছ ব্যবসা করছেন। চারটি ট্রলারের মালিক তিনি। এই বন্দর থেকে মূলত সাগরের ইলিশই বেশি ধরা হয়। খুব কম ট্রলারই ২০ থেকে ৩০ মণের বেশি মাছ আনতে পেরেছে সাগর থেকে। গত বছর বেশির ভাগ ট্রলার ২০–৩০ এবং ৪০ মণ মাছ আনতে পারত বলে জানান এই ব্যবসায়ী। এবার এর পাশাপাশি বড় সমস্যা ছিল, সাগরে একের পর এক আবহাওয়ার সতর্কসংকেত। তাঁর মতে, ইলিশ কম পাওয়ার বড় কারণ, ‘গাঙে মাছ নাই। মাছ না থাকলে পাওয়া যাইবে কোত্থেকে?’

‘দাম শুইন্যা মানুষ দূরে চইল্যা যায়’

উচ্চমূল্যের কারণে ইলিশ এবার বিক্রিও কম হচ্ছে। আর বড় মাছের তুলনায় ছোট আকারের ইলিশের চাহিদাও বেড়েছে। কারওয়ান বাজারে আরেক ব্যবসায়ী সরাফত আলী ইলিশ নিয়ে বসে ছিলেন ক্রেতার অপেক্ষায়। ১ কেজি, ১ কেজির বেশি, ৬০০ গ্রাম এবং ২৫০ গ্রামের ইলিশ তাঁর তিন ঝাঁকায়। তিনি বললেন, ‘এবার মাছ কম, কাস্টমারও কম। দাম শুইন্যা মানুষ দূরে চইল্যা যায়।’

সরাফত আলী জানান, ২৫০ থেকে ৩০০ গ্রামের ইলিশের এবার চাহিদা অনেক বেশি। আগে এত ছোট ইলিশ এত বিক্রি করেননি। তিনি মনে করেন, দাম বেশি হওয়ায় কম ওজনের ইলিশ কিনে মানুষ চাহিদা মেটাচ্ছেন।

গত এক দশকের সরকারি ও ভোক্তা অধিকার সংগঠনের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ইলিশের দাম ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। তবে ২০২২ সালের পর মূল্যবৃদ্ধির গতি অনেক বেশি। আর ২০২৫ ও চলতি বছর সেই বৃদ্ধি অস্বাভাবিক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে ৫০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের ইলিশের গড় দাম ছিল ৫০৫ টাকা। বাজারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে ১ কেজি ওজনের ইলিশ সাধারণত ৯৫০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হতো। ২০২৩ সালে এর দাম হয় ১ হাজার ২০০ টাকা।

সরাফত আলী জানান, ২৫০ থেকে ৩০০ গ্রামের ইলিশের এবার চাহিদা অনেক বেশি। আগে এত ছোট ইলিশ এত বিক্রি করেননি। তিনি মনে করেন, দাম বেশি হওয়ায় কম ওজনের ইলিশ কিনে মানুষ চাহিদা মেটাচ্ছেন।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাবে, ২০১৮ সালে সব আকার মিলিয়ে প্রতি কেজি ইলিশের বার্ষিক গড় খুচরা মূল্য ছিল ৭০৫ টাকা ৫০ পয়সা। ২০২২ সালে ইলিশের গড় মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৫০ টাকা। ২০২৩ সালে তা বেড়ে হয় ১ হাজার ৯৫ টাকা ৯০ পয়সা। ২০২৪ সালে গড় দাম আরও বেড়ে ১ হাজার ১৬৮ টাকা ৫৬ পয়সায় ওঠে।

এই হিসাবে ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল—চার বছরে ইলিশের বার্ষিক গড় দাম প্রায় ৬৭ শতাংশ বেড়েছে। তবে বার্ষিক গড়ের মধ্যে ছোট-বড় সব ধরনের ইলিশ থাকায় বাজারে ১ কেজি ওজনের ভালো ইলিশের দাম এর চেয়ে অনেক বেশি ছিল।

২০২৪ সালে ইলিশের দাম আরও এক দফা বাড়ে। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সমীক্ষা অনুযায়ী, ওই বছরের এক থেকে দেড় কেজি ওজনের মাছ বিক্রি হয়েছিল ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়। ৭৫০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের ইলিশের দাম ছিল ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ১৫০ টাকা এবং ৫০০ থেকে ৭৫০ গ্রামের দাম ছিল ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা।

২০২৫ সালের আগস্টে একই সমীক্ষায় বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি ধরা পড়ে। এক–দেড় কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হয় ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকায়। ৭৫০ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম হয় প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং ৫০০ থেকে ৭৫০ গ্রামের মাছের দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা।

বেহুন্দি জালের অতি ব্যবহার, অতি আহরণ, ডুবোচরের প্রাধান্য—সর্বোপরি দূষণের ভূমিকা থাকতে পারে। কিন্তু এ জন্য পর্যাপ্ত প্রমাণ এবং সে অনুযায়ী পরিকল্পনা করে উৎপাদন বৃদ্ধির চেষ্টা করতে হবে।

‘গোলাঘর নষ্ট হচ্ছে’

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০৭-০৮ অর্থবছরে দেশে ২ লাখ ৯৫ টন ইলিশ উৎপাদন হয়। তবে এর পর থেকে প্রতিবছরই এর পরিমাণ বেড়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে রেকর্ড উৎপাদন হয়—৫ লাখ ৭১ হাজার ৩৪২ টন। তবে এরপর টানা দুই বছর ইলিশ উৎপাদন কমেছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় ৭ শতাংশ কমে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উৎপাদন দাঁড়ায় ৫ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৭ টনে। আর ১২ শতাংশের মতো কমে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এসে তা দাঁড়ায় পাঁচ লাখ টনে।

এবার কত উৎপাদন হয়েছে তার হিসাব হবে আরও পরে। কিন্তু এর পরিমাণ গত বছরের থেকে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম হতে পারে বলে আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের।

বাংলাদেশের ইলিশ গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান আছে আনিছুর রহমানের। এবার এত কম ইলিশ আহরণ এবং অতিরিক্ত দাম তাঁর কাছে বিস্ময়কর। তাঁর ভাষায়, ‘এত দ্রুত যে ইলিশ উৎপাদনের হার কমতে শুরু করবে ভাবিনি। এখন এ নিয়ে জরুরি গবেষণা দরকার।’ তিনি বলেন, বেহুন্দি জালের অতি ব্যবহার, অতি আহরণ, ডুবোচরের প্রাধান্য—সর্বোপরি দূষণের ভূমিকা থাকতে পারে। কিন্তু এ জন্য পর্যাপ্ত প্রমাণ এবং সে অনুযায়ী পরিকল্পনা করে উৎপাদন বৃদ্ধির চেষ্টা করতে হবে।

ইলিশ উৎপাদন কমে যাওয়ার পেছনে অতিসূক্ষ্ম জাল ব্যবহার করে অতি আহরণকে একটি বড় কারণ বলে ধরা হচ্ছে। ইলিশের বর্তমান অবস্থা বুঝতে চাঁদপুরের মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের একাধিক দল দেশে ইলিশের বিচরণস্থানে কাজ শুরু করেছে। একটি দল সম্প্রতি হাতিয়ায় গিয়ে মোহনার মুখে বিশাল এলাকাজুড়ে বেহুন্দি জালের বিস্তার দেখেছে।

ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা তায়েফা আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, এমন জায়গায় জাল পাতা আছে, যেটা একটা মুখের মতো। সেই মুখে যদি এত বড় জালের বিস্তার থাকে, তাহলে ইলিশের বিচরণ কীভাবে হবে?

এবার ইলিশের উৎপাদন কমে যে গেছে তা অনুমানের ওপর নির্ভর করে অনেকেই বলছেন। কিন্তু তায়েফা আহমেদ বাস্তব উদাহরণ দিলেন। তাঁদের গবেষণা অনুযায়ী, এ বছর যেসব ইলিশ ধরা পড়ছে, তার মধ্যে মাত্র ২০ থেকে ৩০ শতাংশের পেটে ডিম আছে। দু–তিন বছর আগেও এর পরিমাণ ৫০ শতাংশের কাছাকাছি ছিল। এর অর্থ হলো, বড় ইলিশের সংখ্যা কমছে।

বড় ইলিশ কম ধরা পড়া সার্বিকভাবে ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ার ইঙ্গিত বহন করে বলে মনে করেন আনিছুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমাদের সমুদ্র ইলিশের গোলাঘর। সেই গোলাঘর নষ্ট হচ্ছে, এটা বলাই যায়।’

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
নিজেদের জ্বালানি স্থাপনায় আর হামলা চালাবে না রাশিয়া-ইউক্রেন: ট্রাম্প
নিজেদের জ্বালানি স্থাপনায় আর হামলা চালাবে না রাশিয়া-ইউক্রেন: ট্রাম্প

রাশিয়া ও ইউক্রেন চলমান যুদ্ধে নিজেদের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা স্থগিত করেছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে নিজের অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে ট্রাম্প এ তথ্য জানান। খবর দ্য টেলিগ্রাফের। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ যুদ্ধে রাশিয়া নিয়মিতই ইউক্রেনের শহরগুলোতে ও বিভিন্ন সেনাঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে আসছে। ইউক্রেনও রাশিয়ার বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে সফলভাবেই আঘাত করছে। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা না চালাতে ইউক্রেন সম্মত হয়েছে। রাশিয়াও একই সম্মতি দিয়েছে। বিশ্বের জ্বালানি তেলের দাম বেশি প্রভাবিত হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে, ইরানের কারণে নয়। এর আগে, রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) আয়ারল্যান্ড সফরের সময় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, জেলেনস্কিকে একটি কাজ করতে হবে। তাকে রাশিয়ায় জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে হবে। আরও পড়ুন রাশিয়ার জ্বালানিতে নয়, অন্য কিছুতে হামলা চালাও: ইউক্রেনকে ট্রাম্প এ বিষয়ে জেলেনস্কির সঙ্গে তার কথা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ায় হামলার জন্য আরও অনেক লক্ষ্যবস্তু রয়েছে। তবে, জ্বালানি স্থাপনায় হামলা করা উচিত নয়। তার মতে, এসব হামলার কারণে সারা বিশ্বের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এএমএ

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
রাজধানীতে নারীসহ ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীতে নারীসহ ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার

২৫২ কোটি টাকা দেনা, আদালতের রায়ে দেউলিয়া চালকল ব্যবসায়ী

২৫২ কোটি টাকা দেনা, আদালতের রায়ে দেউলিয়া চালকল ব্যবসায়ী

রায় ঘোষণা মঙ্গলবার, কাদের-সাদ্দাম-ইনানসহ ৭ আসামির কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ

রায় ঘোষণা মঙ্গলবার, কাদের-সাদ্দাম-ইনানসহ ৭ আসামির কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ

পল্লবীতে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আহত যুবকের মৃত্যু, গ্রেপ্তার ২
পল্লবীতে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আহত যুবকের মৃত্যু, গ্রেপ্তার ২

রাজধানীর পল্লবীতে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আহত সজীব হোসাইন (২২) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার ভোরে কাইল্লার বস্তি এলাকায় তিনি হামলার শিকার হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জুয়েল ও জয় নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।নিহত সজীব পেশায় গেঞ্জি বিক্রেতা ছিলেন। তিনি মিরপুরের ওয়াপদা বিল্ডিং বেনারসিপল্লি এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। তাঁর বাবার নাম মৃত সেলিম হোসাইন। দুই ভাইয়ের মধ্যে সজীব ছিলেন বড়। সজীবের এক ছেলে রয়েছে।পল্লবী থানার উপপরিদর্শক রাশেদ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে সজীব আহত হন। পরে স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে বাসায় নিয়ে আসা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে গত বৃহস্পতিবার তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।সজীবের মামাতো বোন শারমিন বলেন, ছিনতাইকারীরা সজীবের পিঠের ডান পাশে ও বুকে ছুরিকাঘাত করে তাঁর মুঠোফোন নিয়ে যায়।

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
জিন্নাহর ছবি টানানোয় প্রতিবাদ, ব্যবস্থা
নেবে প্রশাসন

জিন্নাহর ছবি টানানোয় প্রতিবাদ, ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন

ফ্ল্যাট প্রতারণার মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে হরিদাস তরণী

ফ্ল্যাট প্রতারণার মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে হরিদাস তরণী

সাদিক কায়েমকে পাটওয়ারী ‘আসুন প্রতিযোগিতা হোক’

সাদিক কায়েমকে পাটওয়ারী ‘আসুন প্রতিযোগিতা হোক’

জ্বালানির দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে সিরিয়াজুড়ে বিক্ষোভ
জ্বালানির দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে সিরিয়াজুড়ে বিক্ষোভ

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোয় সিরিয়ার বেশ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভের মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ধরে একটি প্রধান মহাসড়ক অবরুদ্ধ করে রাখেন বিক্ষোভকারীরা।সিরিয়া সরকার রোববার ডিজেলের দাম ৪০ শতাংশ এবং পেট্রলের দাম ২৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ায়। সরকারের দাবি, বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি সংগ্রহের খরচ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার কারণেই এই সাময়িক মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে।দাম বাড়ানোর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ বানিয়াস শোধনাগার সংস্কারের কথাও উল্লেখ করেছে সিরিয়া সরকার। তারা জানিয়েছে, এর ফলে শোধনাগারটির উৎপাদনক্ষমতা প্রতিদিন ৮০ হাজার ব্যারেল থেকে বেড়ে ১ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল হবে।জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সিরিয়ার হামা, খান শেইখুন ও মারাত আল-নুমান শহরে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। আল–জাজিরার প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তায় জড়ো হওয়া মানুষ টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন। দাম বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।শনিবার সিরিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-বশির বলেন, দেশটিতে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ২০০০ ব্যারেল তেল উৎপাদিত হচ্ছে; কিন্তু দেশের ভেতরে ব্যবহারের জন্য প্রতিদিন প্রয়োজন প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার ব্যারেল। এই ঘাটতি পূরণের জন্য তারা আমদানির ওপর নির্ভর করছেন।রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা সিরিয়ান আরব নিউজ এজেন্সির (সানা) তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিশ্ববাজারের পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তারা দাম সমন্বয়ের কাজ চালিয়ে যাবে। এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে তেল শোধন ও মজুত করার ক্ষমতা বাড়াতেও কাজ করবে তারা।দীর্ঘ ১৪ বছরের যুদ্ধের পর সিরিয়া এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। তাই দেশটির অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য জ্বালানির সরবরাহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
কিমের কি গোপন কোনো ছেলে আছে, খুঁজছেন দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দারা

কিমের কি গোপন কোনো ছেলে আছে, খুঁজছেন দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দারা

ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুনের পর চার মৃত্যু, পদদলিত হওয়ার তথ্য নাকচ প্রশাসনের

ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুনের পর চার মৃত্যু, পদদলিত হওয়ার তথ্য নাকচ প্রশাসনের

ভুয়া ওয়ারেন্টে গ্রেফতার ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ যাচাইয়ের নির্দেশ

ভুয়া ওয়ারেন্টে গ্রেফতার ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ যাচাইয়ের নির্দেশ

0 Comments