ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুন লাগার পর আতংকে হুড়োহুড়ি করে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বজনরা। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, আগুনের ঘটনায় পদদলিত হয়ে কারও মৃত্যুর তথ্য তাদের কাছে নেই।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় হাসপাতালের ১১ নম্বর লিফটে আগুন লাগার পর রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন তলা থেকে অনেকে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে পড়ে আহত হন।
মারা যাওয়া চারজন হলেন ফুলবাড়িয়ার শাহজাহান মনির (৪৫), রমজান আলী (৩৮), তারাকান্দার কুলসুম আক্তার (৩৫) এবং নেত্রকোনার পূর্বধলার হাজেরা বেগম (৫০)।
শাহজাহান মনিরের স্ত্রী হারিসা বেগমের দাবি, আগুনের খবর পেয়ে তারা সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় পড়ে যান। পরে ভিড়ের মধ্যে শাহজাহান মারা যান।
শাহজাহানের মা হাওয়া খাতুন বলেন, ‘বিকেলেও ছেলে ফোন করে দোয়া চেয়েছিল। পরে তার লাশ বাড়িতে আসে।’
কুলসুম আক্তারের মেয়ে মিম আক্তার জানান, আগুনের সময় মা ও ভাইকে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় তারা পড়ে যান। তিনি ভাইকে তুলতে পারলেও মানুষের চাপের কারণে মাকে তুলতে পারেননি। পরে কুলসুমকে জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
কুলসুমের ননদ নাজমা আক্তারের দাবি, আগুনের সময় কুলসুম হাসপাতালেই ছিলেন। তাই তাকে বাইরে থেকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল, এমন বক্তব্য সঠিক নয়।
রমজান আলীর স্ত্রী খাদিজা আক্তার বলেন, আগুনের পর সবাই সিঁড়ি দিয়ে নামতে শুরু করলে তিনিও পড়ে যান। তার স্বামীও ওই সময় সিঁড়িতে আটকা পড়ে মারা যান বলে দাবি করেন তিনি।
রমজানের ভাই সাইফুল ইসলাম জানান, তার ভাই হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন। তবে আগুনের পর সিঁড়িতে ধাক্কাধাক্কির মধ্যে পড়ে তিনি মারা যান। তার কাছে সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটের ‘ডেথ সার্টিফিকেট’ ও ‘গেট পাস’ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, ‘আগুন লাগার পর চারজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তারা পদদলিত হয়ে মারা গেছেন, এমন কোনো তথ্য হাসপাতালের কাছে নেই। মৃতদের শরীরেও পদদলিত হওয়ার কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।’
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১৪ সেপ্টে) সন্ধ্যা ৫টা ৫৫ মিনিটের দিকে ১১ নম্বর লিফটে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিস সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
হোসাইন সুলভ/এসআর/জেআইএম
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
জামালপুরের মাদারগঞ্জে সাত বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে যা নিয়ে এরই মধ্যে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এ ঘটনায় গভীর শোক ও ক্ষোভ জানিয়েছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)। একই সঙ্গে ঘটনাটি যেন কয়েক দিনের সংবাদ হয়ে জনমনোযোগ থেকে হারিয়ে না যায়, সে বিষয়ে সতর্ক করেছে সংগঠনটি। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে এমজেএফ-এর প্রেস বিবৃতিতে বলা হয়, পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটিকে যৌন নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়। পরে একটি বাড়ির মেঝের নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে এমজেএফ। সংগঠনটি বলছে, জামালপুরের ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন কোনো অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী ও শিশু ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন, হয়রানি ও হত্যার যেসব ঘটনা সামনে এসেছে তা উদ্বেগজনক ধারাবাহিকতার ইঙ্গিত দেয়। এমতাবস্থায় ঘর, স্কুল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটিতে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা এবং অপরাধীদের দ্রুত ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে জবাবদিহির আওতায় আনা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির তথ্যের বরাত দিয়ে এমজেএফ-এর বিবৃতিতে বলা হয়, শুধু ২০২৬ সালের আগস্টে অন্তত ২৪৯ নারী ও শিশু সহিংসতার শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৭৯ জন ধর্ষণের শিকার, যাদের ৪৬ জনই শিশু। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত অন্তত ৪০০ নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৩৭ জনকে। এসব তথ্য নথিভুক্ত ও প্রকাশিত ঘটনার ভিত্তিতে তৈরি হওয়ায় সহিংসতার প্রকৃত মাত্রা আরও বেশি হতে পারে বলেও জানিয়েছে এমজেএফ। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, নারী ও শিশুকে বারবার ধর্ষণ, নির্যাতন ও হত্যা করা গভীরভাবে উদ্বেগজনক এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একটি শিশু ঘরে, স্কুলে যাওয়ার পথে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এবং নিজের কমিউনিটিতে নিরাপদ থাকবে-এটাই স্বাভাবিক। তিনি বলেন, এসব ঘটনা যেন কয়েক দিনের জন্য সংবাদ শিরোনাম হয়ে পরে জনমনোযোগ থেকে হারিয়ে না যায়। প্রতিটি ঘটনার দ্রুত তদন্ত করতে হবে, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং সুরক্ষা ও প্রতিরোধব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে। শাহীন আনাম আরও বলেন, শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়ে মা-বাবা ও অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে হবে। শিশুদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে এবং ভয়, মানসিক অস্থিরতা বা ঝুঁকির কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা পরিবার, প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত দায়িত্ব। এমজেএফ বলছে, নারী ও শিশুর সুরক্ষা শুধু অপরাধ সংঘটনের পর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর নির্ভর করতে পারে না। চলতি বছরের শুরুতে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতাকে জাতীয় জরুরি পরিস্থিতির মতো গুরুত্ব দিয়ে মোকাবিলা এবং ধর্ষণ, যৌন সহিংসতা, নির্যাতন ও হত্যার বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছিল এমজেএফসহ বিভিন্ন অধিকারভিত্তিক সংগঠনগুলো। এর পাশাপাশি মাদ্রাসা ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠনসহ শক্তিশালী প্রতিরোধব্যবস্থার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সহিংসতার শিকার ব্যক্তি ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে চিকিৎসা, মনোসামাজিক ও আইনি সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়াও প্রতিটি ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, ন্যায়সংগত ও সময়োপযোগী বিচার এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে এমজেএফ। এমজেএফ বলেছে, শিশুদের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কার্যকর সুরক্ষাব্যবস্থা এবং নিরাপদে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা থাকতে হবে। সংগঠনটির আহ্বান, জামালপুরের ঘটনাটি যেন কয়েক দিনের মধ্যে জনমনোযোগ থেকে হারিয়ে যাওয়া আরেকটি মর্মান্তিক ঘটনা হয়ে না দাঁড়ায়। নারী ও শিশুর অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান ও সমাজকে ধারাবাহিক ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ইএইচটি/কেএম
বগুড়ায় ফল ব্যবসায়ী ওয়াহেদ হোসেন ওরফে নিঝুম (৩৭) হত্যাকাণ্ডে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আসামি নাজিম উদ্দিন। আজ মঙ্গলবার বগুড়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার পর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, পাওনা টাকা চাওয়ায় ব্যবসায়ী ওয়াহেদ হোসেনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তাঁর দুই বন্ধু নাজিম উদ্দিন ও মো. স্বপন। তাঁরা নিজেদের কর্মস্থলে ডেকে এনে ওয়াহেদকে কফির সঙ্গে বিষ মিশিয়ে পান করান। পরে লাশ বস্তায় ভরে বগুড়া শহরের মালগ্রাম এলাকার একটি ধানখেতে ফেলে দেন। যে ঘরে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়, সেখানেই রাত কাটিয়ে পরদিন সকালে আত্মগোপনে চলে যান ওই দুজন।নিহত ওয়াহেদ হোসেন বগুড়া নগরের সূত্রাপুর এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে। স্টেশন সড়কে তিনি বাবার সঙ্গে ফলের আড়ত পরিচালনা করতেন। পাঁচ দিন নিখোঁজ থাকার পর গত ১২ আগস্ট বগুড়া নগরের মালগ্রাম মধ্যপাড়া দীঘিপাড় এলাকার একটি ধানখেত থেকে ওয়াহেদের বস্তাবন্দী অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ১০ সেপ্টেম্বর তাঁর ভাই সোহেল হোসেন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে বগুড়া সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। এরপর কাহালু উপজেলার মদনাই গ্রাম থেকে নাজিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাঁর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে আজ মঙ্গলবার বগুড়ার আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন নাজিম।মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, আসামি নাজিম হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁর দেওয়া জবানবন্দিতে স্বপন নামে আরেক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার কথাও উঠে এসেছে। স্বপনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।পুলিশ ও ওয়াহেদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওয়াহেদ বগুড়া শহরের স্টেশন সড়কে তাঁর বাবার সঙ্গে ফলের আড়ত পরিচালনা করতেন। নাজিম ও স্বপন একটি বেসরকারি সংস্থায় বাবুর্চির কাজ করতেন। সেই সূত্রে তাঁদের সঙ্গে ওয়াহেদের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। কিছুদিন আগে ওয়াহেদ তাঁর মায়ের নামে ওই বেসরকারি সংস্থা থেকে সাত লাখ টাকা ঋণ নেন। সেই টাকার মধ্যে দুই লাখ টাকা স্বপনকে এবং এক লাখ টাকা নাজিমকে ধার দেন। ধার দেওয়া টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে কিছুদিন ধরে তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। একপর্যায়ে ওয়াহেদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন নাজিম ও স্বপন।জবানবন্দিতে নাজিম জানান, ৭ আগস্ট বেলা পৌনে তিনটার দিকে পরিকল্পনা অনুযায়ী ওয়াহেদকে মালগ্রাম এলাকায় তাঁদের কর্মস্থলের একটি বেসরকারি সংস্থার কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে সন্ধ্যার দিকে কফির সঙ্গে বিষ মিশিয়ে তাঁকে পান করানো হয়। ওয়াহেদের মৃত্যু হলে রাতে তাঁর লাশ বস্তায় ভরা হয়। পরে কার্যালয় থেকে কিছুটা দূরে মালগ্রাম মধ্যপাড়া দীঘিপাড় এলাকার একটি ধানখেতে লাশটি ফেলে রাখা হয়। এরপর নাজিম ও স্বপন সেই কার্যালয়েই রাত কাটান। পরদিন ৮ আগস্ট সকালে তাঁরা চাকরি ছেড়ে নিজ নিজ বাড়িতে আত্মগোপনে চলে যান।ওয়াহেদ নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর পরিবার বগুড়া সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। নিখোঁজের পাঁচ দিন পর ১২ আগস্ট সকালে মালগ্রাম মধ্যপাড়া দীঘিপাড় এলাকার একটি ধানখেত থেকে বস্তাবন্দী অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশটি অর্ধগলিত অবস্থায় থাকায় প্রথমে পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। পরে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়। এরপর ওয়াহেদের স্বজনেরা লাশটি শনাক্ত করেন।
বাংলাদেশের পোশাক ও জুতা উৎপাদনকারীদের বৈশ্বিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে সাভারের ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ডিইপিজেড) নতুন স্মার্ট ওয়্যারহাউজ চালু করেছে বৈশ্বিক ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স ও ডিজিটাল পরিচয় শনাক্তকরণ প্রতিষ্ঠান অ্যাভেরি ডেনিসন। অটোমেশন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি এ ওয়্যারহাউজ বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির ‘ম্যানুফ্যাকচারিং ৪.০’ উদ্যোগকে এগিয়ে নেবে। ৮৩০ বর্গমিটারের ওয়্যারহাউজে রয়েছে সাতটি স্বয়ংক্রিয় নির্দেশিত যান, আধুনিক প্যাকিং সফটওয়্যার ও ওয়্যারহাউজ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা। এখানে একসঙ্গে ২৫ হাজার কার্টন রাখা যাবে। প্রযুক্তি ব্যবহারে পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের গতি ৭২ শতাংশ বেড়েছে। আগের তুলনায় পাঁচগুণ বেশি পণ্য গ্রহণ, দ্বিগুণ দ্রুত পণ্য পাঠানো এবং ৫০ শতাংশ বেশি পণ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন, বাংলাদেশে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল এবং অ্যাভেরি ডেনিসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, এ বিনিয়োগ মার্কিন ব্যবসা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করবে। বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, ২০০৩ সাল থেকে অ্যাভেরি ডেনিসন বেপজার সঙ্গে কাজ করছে। বিনিয়োগের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, জ্ঞান ও উৎপাদন পদ্ধতি বাংলাদেশে আসায় শিল্পের সক্ষমতা ও স্থানীয় কর্মীদের দক্ষতা বাড়ছে। এ ধরনের বিনিয়োগ বাংলাদেশের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অ্যাভেরি ডেনিসনের কর্মকর্তারা বলেন, গ্রাহকদের দ্রুত সরবরাহ, প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার চাহিদা বাড়ছে। স্মার্ট ওয়্যারহাউজের মাধ্যমে মজুতের তথ্য সহজে পাওয়া, প্যাকিং, সংরক্ষণ ও পণ্য পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও সমন্বিত করা এবং দ্রুত ও প্রয়োজনভিত্তিক সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। ওয়্যারহাউজটি পোশাক ও জুতা কারখানাগুলোকে দ্রুত এবং নির্ভরযোগ্য সেবা দেওয়ার পাশাপাশি পণ্য সংগ্রহে বিলম্ব ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি কমাবে। অ্যাভেরি ডেনিসনের পোশাক সমাধানের মধ্যে অ্যাম্বেলেক্স, অপটিকা, আরএফআইডি ও অন্যান্য ডিজিটাল পরিচয় শনাক্তকরণ প্রযুক্তি রয়েছে, যা মজুত ব্যবস্থাপনা, পণ্যের অবস্থান শনাক্তকরণ এবং উৎপাদন থেকে বিতরণ ও খুচরা বিক্রয় পর্যন্ত পণ্যের গতিপ্রবাহ অনুসরণে সহায়তা করবে। এএসএ