মুহাম্মদ শফিকুর রহমান
পৃথিবীর সব দেশ ঘুরে দেখা—শুনতে যতটা রোমাঞ্চকর, বাস্তবে তা অর্জন করা ততটাই কঠিন। দীর্ঘ পরিকল্পনা, অর্থ, ভিসা, সময় এবং অজানা পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা—সবকিছুর সমন্বয় লাগে এমন একটি যাত্রায়। বাহরাইনের রাশা ইউসিফ সেই কঠিন পথই বেছে নিয়েছেন। ভ্রমণের সঙ্গে ফটোগ্রাফিকে সঙ্গী করে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছেন।
তার বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯৫টি দেশে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা হয়েছে তার। তবে রাশার ভ্রমণকাহিনির বিশেষত্ব শুধু দেশসংখ্যায় নয়। তার এই দীর্ঘযাত্রার আরেকটি দৃশ্যমান পরিচয়—হিজাব। রাশার কাছে হিজাব কেবল পোশাক নয়; এটি তার পরিচয়, মূল্যবোধ এবং পৃথিবীর সামনে নিজেকে উপস্থাপনের একটি অংশ। বিভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে যেতে যেতে হিজাবকে তিনি দেখেছেন নানা রূপে।
নিজের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিয়ে রাশা লিখেছেন, ‘আমার হিজাব নিয়ে কীভাবে আমি পৃথিবীর পথে চলি, নিজেকে কীভাবে উপস্থাপন করি এবং আমি কীসের পক্ষে দাঁড়াই—এসবকেই প্রভাবিত করে। ১৯৫টি দেশ ভ্রমণ করে আমি আরও দেখেছি, বিভিন্ন সংস্কৃতিতে নারীরা কত ভিন্নভাবে হিজাব পরেন। সংস্কৃতিভেদে এর ধরন বদলাতে পারে, কিন্তু যে বিষয়টি অপরিবর্তিত থাকে, তা হলো—হিজাব পরা নারীটি নিজেই।’
বিশ্বের নানা প্রান্তে ভ্রমণ করতে গিয়ে নারীদের শক্তির যে চিত্র তিনি দেখেছেন; সেটিও তার কাছে বিশেষ অর্থ বহন করে। তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমি এমন নারীদের দেখেছি, যারা প্রচণ্ড রোদের মধ্যে হিজাব পরে কাজ করছেন, সন্তান বহন করছেন এবং এমন শারীরিক পরিশ্রম করছেন, যা অধিকাংশ মানুষকেই ক্লান্ত করে ফেলবে। হিজাব থাকুক বা না থাকুক, নারীরা শক্তিশালী। আর আমি যতদূরই ভ্রমণ করেছি, কোথাও এর বিপরীত কোনো প্রমাণ পাইনি।’

রাশার বক্তব্যে তাই হিজাব কোনো সীমাবদ্ধতার প্রতীক নয়। বরং এটি তার যাত্রার সঙ্গে থাকা একটি পরিচয়। পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে যেতে যেতে তিনি দেখেছেন, পোশাকের ধরন বদলায়, সংস্কৃতি বদলায়, মানুষের জীবনযাপন বদলায়; কিন্তু নারীর শক্তি ও সক্ষমতা কোনো নির্দিষ্ট পোশাকের ওপর নির্ভর করে না।
রাশার ভ্রমণের গল্পের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে ফটোগ্রাফি। একটি আন্তর্জাতিক যুব বিনিময় কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, শিকাগো ও ওয়াশিংটন ডিসি ভ্রমণের সময় তার হাতে আসে প্রথম ক্যামেরা। সেই ক্যামেরাই পরে তার পৃথিবী দেখার অন্যতম মাধ্যম হয়ে ওঠে।
২০১৬ সালে বাহরাইনের আল ওয়াসাতকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাশা জানিয়েছিলেন, বিভিন্ন ফটোগ্রাফি কর্মশালা ও প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে ভ্রমণের প্রতি তার আগ্রহ বাড়তে থাকে। তখনই তিনি বুঝতে শুরু করেন, পৃথিবীকে শুধু পর্যটকের চোখে নয়; একজন ফটোগ্রাফারের চোখেও দেখা যায়। এরপর ধীরে ধীরে এক দেশের পর আরেক দেশ। নতুন মানুষ, নতুন সংস্কৃতি, নতুন গল্প—সবকিছুই জায়গা করে নেয় তার ক্যামেরায়।
২০২৪ সালের অক্টোবরে বাহরাইনের বিজ বাহরাইন তাকে বিশ্বের সব দেশ ভ্রমণকারী প্রথম বাহরাইনি হিসেবে উল্লেখ করে। প্রতিবেদনে তার ১২ বছরের ভ্রমণযাত্রার কথা বলা হয়। এই দীর্ঘযাত্রার শেষ পর্যায়টিও সহজ ছিল না। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হয়ে তাকে নিজের অনলাইন কমিউনিটির সহায়তা নিতে হয়েছিল। নিজের তোলা ছবির প্রিন্ট বিক্রি করেও তিনি ভ্রমণের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেছেন। অর্থাৎ রাশার বিশ্বভ্রমণ শুধু বিমানের টিকিট, হোটেল আর পাসপোর্টের গল্প নয়। এর সঙ্গে ছিল পরিকল্পনা, সংগ্রাম, অর্থসংকট এবং নিজের স্বপ্নের প্রতি অটুট বিশ্বাস।

রাশার কাছে ভ্রমণ মানে শুধু নতুন একটি দেশের বিখ্যাত স্থাপনা দেখা নয়। একজন ফটোগ্রাফার হিসেবে মানুষের জীবন, সংস্কৃতি ও দৈনন্দিন অভিজ্ঞতাকে দেখার চেষ্টা করেছেন তিনি। বিভিন্ন দেশে গিয়ে মানুষের সঙ্গে তার কথোপকথনও হয়েছে। বিশেষ করে হিজাব নিয়ে মানুষের কৌতূহল অনেক সময় তাকে নিজের সংস্কৃতি ও পরিচয় নিয়ে কথা বলার সুযোগ করে দিয়েছে। এই জায়গাটিই তার ভ্রমণকে অন্য মাত্রা দেয়। তিনি পৃথিবী ঘুরেছেন, কিন্তু একই সঙ্গে পৃথিবীর মানুষকেও দেখেছেন।
রাশা ইউসিফের ভ্রমণসংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন সংখ্যা দেখা যায়। তার নিজের ২০২৬ সালের একটি লেখায় ১৯৫টি দেশের কথা উল্লেখ আছে। আবার পরবর্তী একটি সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বেশি সংখ্যার কথা বলেছেন। তাই তার বর্তমান মোট দেশসংখ্যা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যাওয়ার আগে সরাসরি তার কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। তবে সংখ্যার এই পার্থক্য তার মূল কৃতিত্বকে ছোট করে না।
কারণ ১৯৫ হোক কিংবা পরে তার উল্লেখ করা আরও বড় সংখ্যা—এর পেছনে আছে বছরের পর বছর ভ্রমণ, অসংখ্য সীমান্ত অতিক্রম, ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে পরিচয় এবং নিজের পরিচয়কে সঙ্গে নিয়ে পৃথিবীকে দেখার সাহস। রাশার গল্প তাই শুধু একজন ভ্রমণকারীর গল্প নয়।
এটি একজন নারীর নিজের পরিচয়কে সঙ্গে নিয়ে পৃথিবীকে আবিষ্কার করার গল্প। এমন এক যাত্রা, যেখানে হিজাব তার কাছে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি; বরং তার পরিচয়ের অংশ হিসেবেই পথ চলেছে। পৃথিবী যত বড়ই হোক, স্বপ্ন যদি তার চেয়েও বড় হয়—তাহলে পথ খুঁজে নেওয়া সম্ভব।
এসইউ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
চট্টগ্রামের হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে খাবারের মান ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে ১০ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ সময়ের মধ্যে রান্নাঘর ও খাবার পরিবেশনের স্থান পরিচ্ছন্ন রাখা, কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি, স্যানিটেশন এবং খাবার প্রস্তুত ও সংরক্ষণের নির্ধারিত মান নিশ্চিত করতে হবে। ১০ দিন পর ম্যাজিস্ট্রেট ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত চারটি দল হোটেল-রেস্তোরাঁগুলো পরিদর্শন করবে। পরিদর্শনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর মান যাচাই ও গ্রেডিং করা হবে। নির্ধারিত মান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) হোটেল-রেস্তোরাঁয় স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। আরও পড়ুন নিরাপদ খাদ্যের অভিযান / পায়ে মাড়িয়ে চানাচুর তৈরি, তেলাপোকা-ছারপোকার বিচরণ জেলা প্রশাসক বলেন, প্রশাসনের উদ্দেশ্য জরিমানা করে ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত করা নয়; বরং যেসব ঘাটতি রয়েছে, সেগুলো সংশোধনের সুযোগ দিয়ে নিরাপদ ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও জরিমানা করা হলেও হোটেল-রেস্তোরাঁয় কাঙ্ক্ষিত মান পুরোপুরি নিশ্চিত হচ্ছে না। তাই শুধু অভিযান পরিচালনা নয়, ব্যবসায়ীদের সম্পৃক্ত করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে চায় প্রশাসন। ‘সরকার জরিমানার মাধ্যমে কোনো ব্যবসা করে না’ উল্লেখ করে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, যারা অসৎ পথে ব্যবসা করেন, তাদের সংশোধনের পথে নিয়ে আসার জন্যই জরিমানা করা হয়। তিনি বলেন, প্রশাসন চায় না কোনো প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি বা ব্যবসা অযথা ক্ষতিগ্রস্ত হোক। এ জন্য প্রয়োজনীয় ঘাটতি দূর করতে ১০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। তবে নির্ধারিত মান অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। মানুষের হোটেল-রেস্তোরাঁনির্ভরতা বাড়ছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, বাইরে থেকে খাবার সংগ্রহের প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। তাই খাবারের মানের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি। এমন আস্থা তৈরি করতে হবে, যাতে চট্টগ্রামের যে কোনো রেস্তোরাঁয় মানুষ নিশ্চিন্তে খাবার খেতে পারেন। আরও পড়ুন ‘বাংলাদেশের খাবার মানেই ভেজাল, এই ধারণাই বড় চ্যালেঞ্জ’ খাদ্যনিরাপত্তার পাশাপাশি অগ্নিনিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। সভায় ‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ স্লোগানে জেলা প্রশাসনের চলমান পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিকেরা। তারা প্রতি শনিবার নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার অঙ্গীকার করেন। চট্টগ্রামকে স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ খাবারের ক্ষেত্রে দেশের জন্য উদাহরণ হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের সুনাম রয়েছে। নিরাপদ ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও চট্টগ্রাম নেতৃত্ব দিতে পারে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক। এমআরএএইচ/ইএ
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, সহিংসতায় উসকানি, অর্থের জোগান এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন। আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছে দাবি করে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন। আরও পড়ুন ওবায়দুল কাদেরসহ পলাতক ৭ আসামির ভাগ্যে কী, ট্রাইব্যুনালে রায় আজ এর আগে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রায়ের দিন নির্ধারণের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম। মামলার সাত আসামি ওবায়দুল কাদের ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন—কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম বলেন, সাত আসামির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ২৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করেছে। এছাড়া বেশকিছু কল রেকর্ড, ডকুমেন্টারি এভিডেন্স, জাতিসংঘের প্রতিবেদন এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তিতর্ক শেষে গত ১৭ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। মঙ্গলবার এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন ট্রাইব্যুনাল-২। যেসব অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষের আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সরকার রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে এবং আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোট রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আন্দোলন দমন করেছিল। আন্দোলন দমনের জন্য সরকার বিভিন্ন নীতি গ্রহণ করেছিল, যা পরে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। আরও পড়ুন মানবতাবিরোধী অপরাধ / ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামি খালাস পাবেন, আশা আইনজীবীদের তিনি বলেন, বিভিন্ন সভা-সমাবেশে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় উৎসাহিত করা হয়েছিল। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ডেকে সশস্ত্র নেতাকর্মীদের আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও হত্যার নির্দেশনা, পরামর্শ ও উসকানি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া আন্দোলন দমনে ষড়যন্ত্রের অভিযোগও আনা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে গণমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া এবং আন্দোলনের সহিংসতার ছবি প্রকাশ করলে গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, বন্ধ করে দেওয়া কিংবা ‘এনিমি অব দ্য স্টেট’ ঘোষণা করার হুমকি দেওয়ার বিষয়ও অভিযোগে রয়েছে বলে জানান প্রসিকিউটর। কল রেকর্ডে কী আছে কল রেকর্ডের বিষয়ে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম বলেন, ছাত্রলীগের সভাপতিকে ওবায়দুল কাদের সরাসরি আন্দোলন দমনের নির্দেশনা দিয়ে ‘পিটাও না কেন, তাদের মারো না কেন’—এ ধরনের কথা বলেছেন। এছাড়া তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রীকে ওবায়দুল কাদের ফোন করে ‘ইন্টারনেটটা স্লো করে দাও’ বলেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরে ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনা ঘটে বলে প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেছে। প্রসিকিউটর আরও বলেন, ওবায়দুল কাদের, হাছান মাহমুদসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের পারস্পরিক কথোপকথনের কল রেকর্ডও ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়েছে। এসব কথোপকথনে আন্দোলন দমনে অর্থ সংগ্রহ এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনকে অর্থ দিয়ে রাস্তায় নামিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানোর বিষয় উঠে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি। সর্বোচ্চ শাস্তির আশা রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম বলেন, প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে প্রসিকিউশন। তিনি বলেন, সর্বোচ্চ শাস্তি তারা পাবেন—এটাই আমরা আশা করি। এফএইচ/ইএ
যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির অনলাইন প্ল্যাটফর্ম স্ট্যানফোর্ড অনলাইনে বিভিন্ন বিষয়ে বিনা মূল্যে অনলাইন কোর্স করার সুযোগ রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী, পেশাজীবী ও আগ্রহী ব্যক্তিরা এসব কোর্সে অংশ নিতে পারবেন। অনলাইনে হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে না গিয়েও এসব কোর্স করার সুযোগ রয়েছে। যেসব বিষয়ে কোর্স স্ট্যানফোর্ড অনলাইনে বিভিন্ন একাডেমিক ও পেশাগত বিষয়ে কোর্স দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে— —কলা ও মানবিক —শিক্ষা —প্রকৌশল —স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা —প্রযুক্তি ও সংশ্লিষ্ট পেশাগত বিষয় কোর্সভেদে পড়াশোনার সময়কাল, শর্ত, ক্লাসের ধরন ও সনদ পাওয়ার নিয়ম আলাদা হতে পারে।ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ৫৫ অনলাইন কোর্স বিনা মূল্যে শেখার সুযোগকারা করতে পারবেনস্ট্যানফোর্ডের এসব অনলাইন শিক্ষার সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত।যেসব সুবিধা থাকছেবিনা মূল্যের কোর্সগুলোতে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা নতুন বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি পেশাগত দক্ষতাও বাড়াতে পারেন। স্ট্যানফোর্ডের অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঘরে বসেই এসব কোর্স করার সুযোগ রয়েছে।কোর্সভেদে স্ট্যানফোর্ডের শিক্ষক বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে শেখার সুযোগ থাকতে পারে। কিছু কোর্স সফলভাবে শেষ করার পর ডিজিটাল সনদ পাওয়ার সুযোগও রয়েছে। তবে সনদ বিনা মূল্যে দেওয়া হবে কি না, তা কোর্সভেদে ভিন্ন হতে পারে।৩ মাস ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ বিনা মূল্যে, দিনে ভাতা ২০০, করুন আবেদন কিছু কোর্সে ফি প্রয়োজনস্ট্যানফোর্ড অনলাইনে থাকা সব কোর্স বিনা মূল্যে করা যায়—এমন নয়। প্ল্যাটফর্মটিতে বিনা মূল্যের পাশাপাশি অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন কোর্সও রয়েছে। আবার কোনো কোনো কোর্সের ক্ষেত্রে কোর্স করার সুযোগ বিনা মূল্যে থাকলেও সনদ বা নির্দিষ্ট কিছু সুবিধার জন্য অর্থ দিতে হতে পারে।এ কারণে আগ্রহীদের কোর্সে নিবন্ধনের আগে সংশ্লিষ্ট কোর্সের ফি, সনদ ও অন্যান্য শর্ত যাচাই করতে হবে।আবেদনের নিয়মস্ট্যানফোর্ডের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গিয়ে আগ্রহীরা পছন্দের কোর্স খুঁজে নিতে পারবেন। এরপর কোর্সটির বিস্তারিত বিবরণ, যোগ্যতা, সময়সূচি ও ফি দেখে নিতে হবে। প্রয়োজন হলে প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খুলে বা সাইন ইন করে কোর্সে নিবন্ধন করতে হবে।কোর্সভেদে ক্লাস শুরুর তারিখ ও নিবন্ধনের সময়সীমা আলাদা হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট কোর্সের তথ্য দেখে নিবন্ধন করা প্রয়োজন।২ লাখ টাকার আইটি স্কলারশিপ, ডিগ্রি যা-ই হোক আবেদনের আছে সুযোগআবেদনের শেষ সময়স্ট্যানফোর্ডের বিনা মূল্যের অনলাইন কোর্সের জন্য একটি নির্দিষ্ট আবেদন শেষ সময় নেই। কোর্সভেদে নিবন্ধনের সময়সীমা ও ক্লাস শুরুর তারিখ আলাদা।একনজরে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি ফ্রি অনলাইন কোর্স ২০২৬বিশ্ববিদ্যালয়: স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিপ্ল্যাটফর্ম: স্ট্যানফোর্ড অনলাইনপদ্ধতি: অনলাইনঅর্থায়ন: নির্বাচিত কোর্স বিনা মূল্যেযোগ্যতা: বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী ও আগ্রহী ব্যক্তিরাআবেদনের শেষ সময়: কোর্সভেদে ভিন্ন*বিস্তারিত সব তথ্যের জন্য এখানে ক্লিক করুন