প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় ট্যাংক ফায়ারিংয়ের গোলা বিস্ফোরণে শহীদ দুই সেনাসদস্যের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় তিনি তাঁদের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন। বিস্তারিত দেখুন ভিডিওতে…
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
নাটোরের সিংড়ায় প্রায় ২০ বছর ধরে সাতটি পরিবারের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত রাস্তা বন্ধ করে ইটের প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী আয়াত আলী ও তার ছেলেদের বিরুদ্ধে। এতে ওই সাতটি পরিবারের সদস্যরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিকল্প একটি পথ ব্যবহার করলেও রাত ৮টার পর সেটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন তারা। ঘটনাটি উপজেলার ছাতারদিঘী ইউনিয়নের কালীগঞ্জ বাজারের। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তারা যে পথ দিয়ে চলাচল করে আসছিলেন, সম্প্রতি ওই পথে ইটের প্রাচীর নির্মাণ করে চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে সাবেক সেনা সদস্য মাহবুবুর রহমান, কালীগঞ্জ বনমালী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মোফাজ্জল হোসেনসহ সাতটি পরিবারের সদস্যরা চরম সমস্যায় পড়েছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবেশী জিহাদ আলী শেখের সহায়তায় ভুক্তভোগীরা বর্তমানে একটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছেন। তবে জিহাদ আলী মালামালের ব্যবসা করায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার স্বার্থে রাত ৮টার দিকে দরজা বন্ধ করে দেন। ফলে এরপর ওই পরিবারগুলোর বাইরে যাওয়ার আর কোনো পথ থাকে না। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার শালিশ-বিচার হলেও তা কার্যকর হয়নি। বরং আয়াত আলী ও তার সন্তানরা প্রভাব খাটিয়ে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করা, প্রতিবেশীদের হুমকি-ধমকি দেওয়া এবং বসতভিটা নির্মাণে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটিয়ে আসছেন। আয়াত আলীর সন্তানদের কেউ কেউ যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় দলীয় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও করেছেন তারা। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। সাবেক সেনা সদস্য মাহবুবুর রহমান বলেন, ২০১৮ সালে আমি স্থায়ীভাবে মার্কেট নির্মাণ করি। ২০১৯ সালে মাপের পর রাস্তা বাদ দিয়ে পাঁচ ফুট জায়গা তার সীমানায় যায়। তখন স্থানীয়ভাবে তার সুবিধার কথা বিবেচনা করে মানবিক কারণে আমি শূন্য দশমিক ৫৫ শতক জায়গা বিক্রি করে দিই। এভাবে চলার একপর্যায়ে প্রায় দেড় বছর আগে সে আমার জায়গাসহ রাস্তা দখল করে বসতভিটা নির্মাণ করে। বারবার নিষেধ করলেও তা মানেনি। সম্প্রতি রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ করার জন্য প্রাচীর নির্মাণ এবং ইটের গাঁথুনি দিয়ে দরজা তৈরি করেছে। আরও পড়ুন মাদারীপুরে হত্যা মামলায় ৩ ভাইয়ের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড তিনি আরও বলেন, গত এক বছর ধরে আমি দোতলার কাজ করতে পারছি না। শ্রমিকদের হুমকি-ধমকি দেওয়া এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপের কারণে ভয়ে কেউ কাজ করতে আগ্রহী নয়। আমি সরকারের কাছে ন্যায়বিচার চাই। কালীগঞ্জ বনমালী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমার সন্তান নেই। কোনো গণ্ডগোল ভালো লাগে না। হজ্ব করে এসেছি, নিরিবিলি থাকতে চাই। কিন্তু প্রতিবেশী আয়াত আলী আমাদের ওপর জুলুম করছেন। আমরা সুষ্ঠু বিচার চাই। অভিযোগের বিষয়ে আয়াত আলী বলেন, তার বাড়ির সীমানায় তিন ফুট জায়গা রয়েছে। তবে সাত পরিবারের দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে প্রাচীর নির্মাণের বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট সদুত্তর দিতে পারেননি। ছাতারদিঘী ইউনিয়ন বিএনপির নেতা আ. মমিন সরকার ও আ. জলিল বলেন, বিষয়টি নিয়ে দ্রুত উভয়পক্ষকে বসিয়ে সমাধান করা প্রয়োজন। দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে তা আরও বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। এ বিষয়ে সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, বিষয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করে উভয়পক্ষকে আইনের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য বলা হয়েছে। রেজাউল করিম রেজা/এনএইচআর/জেআইএম
সেবা কার্যক্রমে গতিশীলতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কোনো প্রকার প্রটোকল ছাড়াই আঞ্চলিক কার্যালয়-৫ এ ঝটিকা পরিদর্শন করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম। পরিদর্শনকালে ২৫ শতাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত পাওয়ায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে পরিদর্শনের গোপনীয়তা রক্ষা ও সার্বিক পরিস্থিতি সচক্ষে দেখতে প্রশাসক তার ব্যক্তিগত গাড়িচালককে নিয়ে বের হন। তিনি সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে আঞ্চলিক কার্যালয়-৫ এ পৌঁছান এবং বাইরে অবস্থান করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আগমন পর্যবেক্ষণ করেন। এরপর সকাল ৯টা ২ মিনিটে কার্যালয়ে প্রবেশ করে মূল ফটক বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেন, যেন কোনো বিলম্বকারী প্রবেশ করতে না পারেন। প্রশাসক কার্যালয়ের প্রতিটি কক্ষ পর্যবেক্ষণ করেন এবং হাজিরা খাতা যাচাই করে দেখতে পান যে প্রায় ২৫ শতাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী অনুপস্থিত। এই অনিয়ম ও অবহেলার বিষয়ে তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং অনুপস্থিতদের বিরুদ্ধে চাকরি বিধি অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা আক্তার উননেছা শিউলীকে নির্দেশ দেন। আঞ্চলিক কার্যালয় পরিদর্শনের পর প্রশাসক ডিএসসিসির ১১ নম্বর ওয়ার্ডের শাহজাহানপুর এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের উপস্থিতি ও হাজিরা খাতা তদারকি করেন। সেখানেও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের অনুপস্থিতি দেখে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মো. মাহবুবুর রহমান তালুকদারকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেন। পরে প্রশাসক মতিঝিল পীর জঙ্গির মাজার থেকে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল, ফকিরাপুল, আরামবাগ ও দৈনিক বাংলা হয়ে বঙ্গভবন পর্যন্ত এলাকাকে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সরাসরি উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন। এসময় অবৈধ দোকানপাট ও সাময়িক স্থাপনা উচ্ছেদ করে পথচারীদের চলাচলের পথ সুগম করা হয়। অভিযান ও পরিদর্শনের বিষয়ে প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, নাগরিক সেবা প্রদানে যে কোনো ধরনের গাফিলতি বা অবহেলা বিন্দুমাত্র বরদাশত করা হবে না। সিটি করপোরেশনের নিজস্ব কর্মচারী কিংবা বাইরের কোনো পক্ষ—জনভোগান্তি সৃষ্টি করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ফুটপাত দখল মুক্ত রাখার পাশাপাশি সেবা প্রদানে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ ও পরিদর্শনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। এমএমএ/এমকেআর
ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় খালাস পাওয়া এক নারীসহ আটজন গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি ও মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিট থেকে পর্যায়ক্রমে তারা কারাগার থেকে মুক্তি পান। বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মো. জাকির হোসেন। তিনি বলেন, মুক্তির যাবতীয় কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছালে যাচাই-বাছাই করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের পর্যায়ক্রমে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। আরও পড়ুন নুসরাত হত্যা / খালাস পাওয়া ১০ আসামির নথি কারাগারে, মুক্তি পেলেন দুজন মুক্তিপ্রাপ্তরা হলেন মো. শামীম, হাফেজ আব্দুল কাদের, মহিউদ্দিন শাকিল, আফসার উদ্দিন, ইমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার উদ্দিন রানা, আব্দুর রহিম শরীফ এবং কামরুন্নাহার মনি। এসময় কামরুন্নাহার মনির সঙ্গে তার সাত বছরের মেয়ে মোবাশ্বেরা খানম রাথীও বের হয়। মুক্তির খবরে সকাল থেকেই তাদের আত্মীয়-স্বজন কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের মূল ফটকে অপেক্ষা করতে থাকেন। এসময় মুক্তিপ্রাপ্তরা তাদের আত্মীয়-স্বজনকে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে তারা পরিবারের সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে দেখা করে ফেনীর উদ্দেশে রওয়ানা হন বলে পরিবার সূত্রে জানা যায়। মুক্তিপ্রাপ্ত ইফতেখারের মা হাজেরা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল। আল্লাহর কাছে লাখো কোটি শুকরিয়া আমার ছেলেকে বুকে ফিরে পেয়েছি।’ শিহাব খান/এসআর/জেআইএম