জাতীয়

হাঁটা শেখার আগেই দৌড়ের পরীক্ষায় মক্কা চুক্তি!

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
হাঁটা শেখার আগেই দৌড়ের পরীক্ষায় মক্কা চুক্তি!
হাঁটা শেখার আগেই দৌড়ের পরীক্ষায় মক্কা চুক্তি!

ইয়েমেনে হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়েছে। এর মধ্যেই আলোচনায় এসেছে পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি। গত ৭ আগস্ট মক্কায় তারা এই চুক্তিতে সই করে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যে কোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপরই হামলা বলে বিবেচনা করা হবে।

তবে চুক্তি সইয়ের এক মাস না পেরোতেই সৌদি আরব ও হুথিদের সংঘাত সেটির বাস্তব কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

সৌদি-হুথি সংঘাতের নতুন উত্তাপ

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হুথিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা জোরদার করেছে। সৌদি আরবের সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোও হামলার লক্ষ্য হয়েছে। এর পাল্টা জবাবে সৌদি বাহিনী ইয়েমেনে বিমান হামলা বাড়িয়েছে। 

আরও পড়ুন

সৌদি-হুথি তীব্র সংঘাত, ইয়েমেনে ফের বড় যুদ্ধের শঙ্কা?

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক হুথি হামলায় সৌদি আরবে ৭৩ জন আহত হন। এরপর সৌদি বাহিনী ইয়েমেনে হামলা আরও জোরদার করে।

এই সংঘাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হলো লোহিত সাগর। হুথিরা ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে তাদের নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছে। মোখা বন্দর দখলের পর তারা কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালির আরও কাছে পৌঁছেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

লোহিত সাগরে হুথি যোদ্ধাদের নৌযান/ ফাইল ছবি: এএফপি

মক্কা চুক্তি কী বলছে

গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হয়। চুক্তির মূল কথা হলো সমষ্টিগত প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষা। কোনো একটি সদস্যরাষ্ট্রের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন

মক্কা জোটে নতুন দেশ যোগ দিতে পারবে, তবে থাকছে শর্ত

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়। এটি প্রতিরক্ষামূলক এবং এর লক্ষ্য সদস্যদেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড রক্ষা করা।

চুক্তির বাস্তব কাঠামোও ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে। গত ৩১ আগস্ট ইস্তাম্বুলে তিন দেশের কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির প্রথম বৈঠক হয়। সেখানে যৌথ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো এবং একটি সচিবালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

হুথিদের জন্য পাকিস্তানের হুঁশিয়ারি

সৌদি আরবে হুথিদের হামলা বাড়ার পর পাকিস্তান কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়েছে। ইসলামাবাদ ইরানকে হুথিদের হামলা নিয়ন্ত্রণ করার আহ্বান জানিয়েছে।

আরও পড়ুন

সৌদি আরবে হামলায় চটেছে পাকিস্তান, মক্কা চুক্তি সক্রিয়ের হুঁশিয়ারি

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সতর্ক করে বলেছেন, সৌদি আরবের ওপর হামলা চলতে থাকলে মক্কা চুক্তির বিষয়টি সামনে আসতে পারে।

তিনি বলেন, ইয়েমেনের সংঘাত যদি সৌদি আরবে ছড়িয়ে পড়ে কিংবা কোনো ধরনের উসকানিবিহীন হামলা হয়, তাহলে চুক্তির পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর হবে।

এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—পাকিস্তান কি এবার সরাসরি ইয়েমেনের যুদ্ধে জড়াবে?

মক্কা চুক্তি সইয়ের পর সদস্য দেশগুলোর প্রথম বৈঠক/ ছবি: পাকিস্তান সরকার

চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তান কি যুদ্ধে যাবে?

এখানেই রয়েছে মক্কা চুক্তির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

চুক্তিতে ‘একজনের ওপর হামলা মানে সবার ওপর হামলা’ বলা হলেও এর অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইয়েমেনে পাকিস্তানি সেনা পাঠানো—এমনটি স্পষ্ট নয়। বরং পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বক্তব্যে বিষয়টি আরও সতর্কভাবে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাচ্ছে মক্কা জোট, ৩ বছরের জন্য নেতৃত্বে পাকিস্তান

১০ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, হুথিদের হামলার পর মক্কা চুক্তির আওতায় কোনো সামরিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়নি।

তিনি বলেছেন, পাকিস্তান সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে চুক্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে তাৎক্ষণিক কোনো সামরিক পদক্ষেপ বিবেচনায় নেই।

অর্থাৎ রাজনৈতিক বার্তা কঠোর হলেও সামরিক পদক্ষেপের প্রশ্নে ইসলামাবাদ এখনো সংযত।

সংঘাতে না জড়ানোর ফাঁক কোথায়

মক্কা চুক্তির ভাষা এবং বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে এখানেই বড় একটি জায়গা তৈরি হয়েছে।

প্রথমত, চুক্তিটি প্রতিরক্ষামূলক।

আরও পড়ুন

যুদ্ধ শেষ হলেই বদলে যাবে মধ্যপ্রাচ্য, কী আছে ট্রাম্পের পরিকল্পনায়?

দ্বিতীয়ত, কোন পরিস্থিতিকে সরাসরি ‘সশস্ত্র হামলা’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে, তার বাস্তব প্রয়োগের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

তৃতীয়ত, সৌদি ভূখণ্ডে হামলার জবাব দিতে গিয়ে ইয়েমেনের ভেতরে পাকিস্তান বা তুরস্ক সরাসরি সামরিক অভিযান চালাবে কি না, সেটিও আলাদা প্রশ্ন।

চতুর্থত, পাকিস্তান একই সময়ে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষেও অবস্থান নিয়েছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, মক্কা চুক্তির কার্যকর কাঠামো এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। চুক্তির লক্ষ্য হিসেবে তারা শান্তি, স্থিতিশীলতা, প্রতিরোধ ও সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের কথাও বলছে।

তুরস্কের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ

মক্কা চুক্তির তৃতীয় অংশীদার তুরস্ক।

চুক্তি সইয়ের পর তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, এটি কোনো দেশকে সাধারণ শত্রু বা প্রতিপক্ষ হিসেবে চিহ্নিত করছে না। চুক্তির লক্ষ্য তিন দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং যৌথ সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো।

আরও পড়ুন

সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের জোটে এবার মিশরের এন্ট্রি! বড় ইঙ্গিত এরদোয়ানের

ফলে সৌদি আরব হুথিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালালে তুরস্ক কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, সেটিও ভবিষ্যতের বড় প্রশ্ন। বিশেষ করে ইয়েমেনের ভেতরে অভিযান এবং সৌদি ভূখণ্ডের প্রতিরক্ষার মধ্যে পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের মধ্যে সই হয় মক্কা চুক্তি/ ছবি: আনাদোলু এজেন্সি

ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের কঠিন চ্যালেঞ্জ

হুথিদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়ালে সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে। হুথিদের ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিসেবে দেখা হয়। ফলে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় মিত্র বাহিনীর সেনা বা বিমান ইয়েমেনে অভিযান চালালে সেটি শুধু হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ থাকবে না, তেহরানের আঞ্চলিক প্রভাবের বিরুদ্ধেও অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

আরও পড়ুন

সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের জোটে যোগ দেবে ইরানও?

পাকিস্তানের জন্য বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর, কারণ ইরান তার সরাসরি প্রতিবেশী। সৌদি আরবের সঙ্গে নিরাপত্তা সম্পর্ক গভীর করার পাশাপাশি ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে তেহরানের সঙ্গে সম্পর্কও ধরে রাখতে চায়। ফলে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে নামলে সীমান্তনিরাপত্তা, বাণিজ্য, জ্বালানি ও আঞ্চলিক কূটনীতিতে ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর চাপ বাড়তে পারে।

তবে পাকিস্তান যদি সৌদি ভূখণ্ডের প্রতিরক্ষায় সীমিত সহায়তা দেয় এবং ইয়েমেনে সরাসরি হামলা এড়িয়ে চলে, তাহলে ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাত এড়ানোর সুযোগ থাকবে। অর্থাৎ মক্কা চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সামনে একটি সূক্ষ্ম পথ রয়েছে—সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষা করা, কিন্তু সেই প্রক্রিয়াকে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে রূপ না দেওয়া। এ কারণেই হুথি সংকট শুধু মক্কা চুক্তির নয়, পাকিস্তান-ইরান সম্পর্কেরও বড় পরীক্ষা হয়ে উঠেছে।

হাঁটা শেখার আগেই দৌড়ের পরীক্ষা!

মক্কা চুক্তির বয়স মাত্র এক মাসের কিছু বেশি। এর মধ্যেই এমন একটি সংকট সামনে এসেছে, যা চুক্তির বাস্তব সক্ষমতার পরীক্ষা নিচ্ছে।

আরও পড়ুন

হুথির দখলে ইয়েমেনের মোখা বন্দর, বাব আল-মান্দেবও কব্জার পথে

চুক্তির কাঠামো পুরোপুরি প্রাতিষ্ঠানিক হওয়ার আগেই যদি সৌদি আরব বড় ধরনের আক্রমণের মুখে পড়ে, তখন তিন দেশকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—সমষ্টিগত প্রতিরক্ষা বলতে তারা ঠিক কী বোঝে।

শুধু গোয়েন্দা তথ্য, অস্ত্র ও প্রযুক্তি সহায়তা? নাকি সৌদি আকাশসীমা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় সরাসরি সামরিক উপস্থিতি? নাকি প্রয়োজনে ইয়েমেনের ভেতরেও অভিযান?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো পরিষ্কার নয়।

মক্কা চুক্তির ভবিষ্যৎ কী?

চুক্তির ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে সৌদি-হুথি সংঘাত কতটা বিস্তৃত হয় তার ওপর। সংঘাত যদি সৌদি ভূখণ্ডে সীমিত হামলার পর্যায়ে থাকে, তাহলে মক্কা চুক্তি সম্ভবত প্রতিরোধমূলক রাজনৈতিক ও সামরিক সমন্বয়ের কাঠামো হিসেবেই এগোবে।

আরও পড়ুন

মক্কা চুক্তি কী? বাংলাদেশ কেন এতে যোগ দেওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছে?

কিন্তু হামলা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বা বন্দরগুলো নিয়মিত আক্রান্ত হয়, তখন চুক্তির ওপর সামরিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চাপ বাড়বে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাব আল-মান্দাব। এই প্রণালির নিরাপত্তা নষ্ট হলে বিষয়টি আর শুধু সৌদি-হুথি সংঘাতের মধ্যে থাকবে না। আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

ফলে, মক্কা চুক্তি শেষ পর্যন্ত একটি কার্যকর যৌথ প্রতিরক্ষা কাঠামো হবে, নাকি মূলত রাজনৈতিক প্রতিরোধের জোট হিসেবে থাকবে—তার উত্তর হয়তো ইয়েমেনের যুদ্ধই প্রথম দেবে।

সূত্র: রয়টার্স ১সিএনএনপাকিস্তান সরকার
কেএএ/

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
কোথাও খানাখন্দ, কোথাও চলছে নির্মাণকাজ, সড়কে চলাই দায়
কোথাও খানাখন্দ, কোথাও চলছে নির্মাণকাজ, সড়কে চলাই দায়

ঢাকার সাভারের বাইপাইল থেকে আশুলিয়া বাজার পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ খানাখন্দ ও ভাঙাচোরার কারণে বেহাল হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ঢাকা–আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের চলমান নির্মাণকাজের কারণে কোথাও কোথাও সড়কটি সংকুচিত হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও চলছে কার্পেটিং ও ড্রেনের কাজ। এ কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন নিয়মিত চলাচল করা মানুষ। পণ্য পরিবহন থেকে রোগী বহন—সব ক্ষেত্রেই ভোগান্তির কথা বলছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভাঙাচোরা এ সড়কে হেলেদুলে চলায় প্রায়ই নষ্ট হচ্ছে যানবাহনের যন্ত্রাংশ, ঝাঁকুনিতে যানবাহন থেকে পড়ে যাচ্ছে কাঁচামাল, ভেঙে যাচ্ছে পণ্য। শিল্পকারখানার পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ দুটিই বেড়েছে। এ ছাড়া রোগীরাও সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়ে বিকল্প দীর্ঘ পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। বাইপাইল–আশুলিয়া সড়কটি মূলত সাভার–আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের স্থানীয় বাসিন্দা ও শ্রমজীবী মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি এটি ঢাকার সঙ্গে আশুলিয়া এবং উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক।এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বলছে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আশুলিয়া থেকে বাইপাইল ও ইপিজেড পর্যন্ত সড়কের এক পাশের দুই লেনের কাজ শেষ হলে ভোগান্তি থাকবে না।সড়ক বেহাল দশাগত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাইপাইল বাসস্ট্যান্ড থেকে আশুলিয়া বাজার এলাকা পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজের জন্য বাইপাইল মোড়ের কিছু অংশে খোঁড়াখুঁড়ি করা হয়েছে। পাশেই সড়কে জমেছে কাদা। স্থানটিতে সড়ক সংকীর্ণ হওয়ায় কিছুক্ষণ পরপরই যানজট তৈরি হচ্ছে। বাইপাইল মোড় থেকে বগাবাড়ী এলাকা পর্যন্ত রাস্তাটি ইটের সলিং করা। এই অংশের জায়গায় জায়গায় ইট উঠে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ইউনিক বাসস্ট্যান্ডের ফয়সাল মার্কেট থেকে শিমুলতলা এলাকা পর্যন্ত দুই পাশের নতুন সড়কের কাজ করা হয়েছে। সরকার মার্কেট থেকে নরসিংহপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কার্পেটিংয়ের কাজ চলছে। নরসিংহপুর এলাকায় নির্মাণকাজের কারণে সড়ক সংকুচিত হয়েছে।এ ছাড়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলার ঘেঁষে সড়কে উঁচু করে ফেলে রাখা বালুর স্তূপের ওপর দিয়ে চলছে যানবাহন। ড্রেনের কাজ চলমান থাকায় সড়কের নিশ্চিন্তপুর অংশটিও সংকুচিত হয়ে গেছে। নিশ্চিন্তপুরে আল মুসলিম অ্যাপারেলস লিমিটেড থেকে ঘোষবাগের বোরাক পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট পর্যন্ত আশুলিয়ামুখী লেনের কাজ করা হয়েছে। বোরাক পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে জিরাব বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে উঁচু–নিচু ও ছোট ছোট গর্ত তৈরি হয়েছে। আবার কিছু অংশে কার্পেটিংয়ের কাজ চলছে।নষ্ট হচ্ছে যানবাহন, পণ্য পরিবহনে ভোগান্তিবাইপাইল থেকে আশুলিয়া বাজার এলাকা পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে খানাখন্দের কারণে যানবাহনগুলো হেলেদুলে চলে। খানাখন্দের কারণে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ক্ষতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চালকেরা।সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী আলিফ পরিবহনের চালক মো. কামরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাস্তা ভাঙাচোরার কারণে মালিকেরা ড্যামারেজ দিয়া গাড়ি চালাইতেছে। রাস্তার কারণে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়। পাতি ভাঙার খরচটা একটু বেশি। ব্রেক নষ্ট হয় প্রায়ই। চাকার ভেতরে ইটের টুকরা ঢুইকা চাকা বাস্ট হয় (ফেটে যায়)।’এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলার ঘেঁষে সড়কে ফেলে রাখা বালুর স্তুপের ওপর দিয়ে চলছে যানবাহন। গত সোমবার দুপুরে নরসিংহপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায়কাভার্ড ভ্যানে করে গাজীপুর থেকে সিরামিকের পণ্য আশুলিয়ার বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যান চালক মো. মামুন মিয়া। ভাঙাচোরা সড়কে ঝাঁকির কারণে মাঝেমধ্যেই গাড়িতে থাকা সিরামিকের দামি দামি বাসনপত্র ভেঙে যায় বলে জানান তিনি। মামুন মিয়া বলেন, ‘এক দিন ভাঙা না পাইলেও অন্য দিন ভাঙেই। দুই-তিন বছর ধইরা চলতাছি, দেখতাছি রাস্তার কাজ চলতেছে।’বাইপাইল আড়ত থেকে খুচরা ব্যবসায়ীরা কাঁচাবাজারসহ অন্যান্য পণ্য নিয়ে আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করেন। ভাঙাচোরা সড়কে ঝাঁকুনিতে অনেক সময় পণ্য সড়কে পড়ে যায় বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এই সড়কে পণ্য পরিবহনে তাঁদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। জামগড়া চৌরাস্তায় কাজী মার্কেটের সবজি বিক্রেতা মো. আকাশ বলেন, ‘যে ঝাঁকি খায়, মানুষই পইড়া যায়। আর মাল তো পড়বোই। আগে যে জিনিস ১৫০ টাকা ভাড়া দিয়া আনতাম, এখন লাগে ২৫০ টাকা।’শিল্পকারখানাগুলোও পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছে। বাইপাইল–সংলগ্ন ফাউন্টেন গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ) আশিকুল ইসলাম বলেন, বাইপাইল থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত সড়কটি দিয়ে পণ্য পরিবহন করা যাচ্ছে না। বিকল্প পথ হিসেবে নবীনগর ও সাভারের সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে খরচ বেড়েছে।ভাঙাচোরা সড়কে সাবধানে চলছে যানবাহন। সোমবার দুপুরে সাভারের আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় শিল্পকারখানাসমৃদ্ধ এলাকা হওয়ায় বাইপাইল থেকে আশুলিয়া বাজার পর্যন্ত সড়কের আশপাশে কয়েক লাখ শ্রমিক বসবাস করেন। সাধারণত এসব মানুষ সড়কের পাশে গড়ে ওঠা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। সড়ক বেহালের কারণে বাধ্য হয়ে বিকল্প পথ দিয়ে অনেকটা ঘুরে সাভারের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।আশুলিয়ার দুর্গাপুর এলাকার বাসিন্দা মারুফ হোসেন বলেন, বাচ্চাদের অসুখ হলে আগে আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যেতেন। এখন ওই রাস্তা ভালো না। ধুলাবালু ও ভাঙাচোরা। তাই এখন অসুস্থ হলে সাভারে নিয়ে যান।স্বস্তি এসেছে কিছু অংশে২ সেপ্টেম্বর ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটারের পৃথক দুটি সার্ভিস সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এর ফলে ওই সেতুসংলগ্ন এলাকার শিল্পকারখানাগুলো পণ্য পরিবহনে সুবিধা পাচ্ছে। তবে ওই সেতুর দূরবর্তী স্থান থেকে সড়কের ভাঙাচোরা অংশ পেরিয়ে যথাসময়ে কারখানায় পৌঁছানোসহ নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে কারখানার কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকদের।আশুলিয়ার জিরাবোর ঘোষবাগ এলাকায় সড়কের কাজ চলছে। সোমবার দুপুরে সেতুসংলগ্ন পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ন্যাচারাল গ্রুপের উপমহাব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ ও কমপ্লায়েন্স) মো. রাকিবুল আহসান বলেন, ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত অংশটি খুলে দেওয়ায় কারখানা থেকে পণ্য পরিবহন এখন অনেক সহজ হয়েছে। তবে কারখানার কর্মচারী ও শ্রমিকেরা অন্য এলাকায় বসবাস করায় তাঁরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।বর্তমানে সড়কের যেসব স্থানে গর্ত বা খানাখন্দ রয়েছে, সেগুলো ঠিক করা হলেও বৃষ্টির কারণে আবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আশুলিয়া থেকে বাইপাইল এবং ইপিজেড পর্যন্ত এক পাশ অর্থাৎ দুই লেন পুরোটার কাজ শেষ হবে। এ ছাড়া যেসব জায়গায় ইতিমধ্যে সড়কের কাজ শেষ হয়েছে, সেগুলো যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

News সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ 0
মেটায় ফেলোশিপ, দুই বছর পূর্ণ অর্থায়নসহ বিস্তারিত জেনে নিন

মেটায় ফেলোশিপ, দুই বছর পূর্ণ অর্থায়নসহ বিস্তারিত জেনে নিন

চেলোপাড়ায় বাদ্যযন্ত্র তৈরির ব্যস্ততা

চেলোপাড়ায় বাদ্যযন্ত্র তৈরির ব্যস্ততা

ফাইনালে উঠতে পারলেন না মিরাজ, বৃথা গেল হেটমায়ারের সেঞ্চুরি

ফাইনালে উঠতে পারলেন না মিরাজ, বৃথা গেল হেটমায়ারের সেঞ্চুরি

আমি আকাশ হতে চাই
আমি আকাশ হতে চাই

আমি আকাশ হতে চাই,যেখানে মানুষেরা আসে মেঘ হয়ে—অতিথির মতো, থাকে ক্ষণিক,তবু আকাশ তো থাকে!একান্ত নীল,অচঞ্চল এক অস্তিত্বের রেখায় গাঁথা।আমি আকাশ হতে চাই,যেখানে প্রেম আসে ধূসর ধোঁয়ায়,তবু হারায় না হৃদয়ের স্বচ্ছতা।কারও আসা বা যাওয়ায়আকাশ কি কখনো নিজের রং বদলায়?না, সে থাকে স্থির, শান্ত, সর্বত্র বিস্তৃত।আমি আকাশ হতে চাই,কারণ রাতের নিস্তব্ধতায়একটা চাঁদ জ্বলে, নিঃশব্দে ভালোবাসে,অন্ধকারের বুকে আশার মতোআলোকছায়া ছড়িয়ে দেয় নিরবধি।আমি আকাশ হতে চাই,যখন আমি কাঁদি—সে কান্না হয় বৃষ্টির মতো,যার সুরে মানুষ খুঁজে পায় পরিত্রাণ,শোকের জলেও ভিজে ওঠে প্রাণের ঘ্রাণ।আমি আকাশ হতে চাই,কারণ আকাশের মতো বিস্তৃত মন চাই আমার,যেখানে ক্ষুদ্রতা নেই, নেই হিংসা বা দ্বিধা,যেখানে প্রতিটি হৃদয়ের ব্যথাএক আশ্রয় পায়—বিশ্বাসের ছায়ায়।আমি আকাশ হতে চাই,কারণ আমি পরিবর্তনের সাক্ষী হতে চাই,যেখানে সময় বদলায়, রং বদলায়,তবু আমি থেকে যাই—এক অদৃশ্য গভীরতায়স্থির, কিন্তু সীমাহীন।আমি আকাশ হতে চাই—কারণ আকাশ কখনো কারও হয় না,তবু সে সবার।তেমনি আমি—নির্বাক ভালোবাসা হয়েসব কষ্টের ছায়া হই,তবু নিজেই রয়ে যাই আকাশ হয়ে।

News সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ 0
দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারানো শাফি এখন  চাকরি করেন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে, তাঁকে দেখা যায় স্ট্যান্ড-আপ কমেডির মঞ্চেও

দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারানো শাফি এখন চাকরি করেন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে, তাঁকে দেখা যায় স্ট্যান্ড-আপ কমেডির মঞ্চেও

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব কে, তৃতীয় দফা ভোটেও কাটেনি ধোঁয়াশা

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব কে, তৃতীয় দফা ভোটেও কাটেনি ধোঁয়াশা

ভিড় দেখে অনেকের ভয় বা অস্বস্তি হয় কেন

ভিড় দেখে অনেকের ভয় বা অস্বস্তি হয় কেন

ফিনল্যান্ডে পাওয়া গেছে ভাইকিং যুগের গুপ্তধন
ফিনল্যান্ডে পাওয়া গেছে ভাইকিং যুগের গুপ্তধন

বনের ভেতর সুনসান নীরবতা। হঠাৎ বিপ বিপ করে বেজে উঠল মেটাল ডিটেক্টর। শব্দটা শুনে কান খাড়া করলেন কালে লাপ্পিনেন। জায়গাটা ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকি থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার উত্তরে, সিসমা শহরের কাছের এক জঙ্গল। কালে হয়তো ভেবেছিলেন, মাটির নিচে পুরোনো কোনো টিনের কৌটা বা লোহালক্কড় মিলবে। কিন্তু ৩ সেপ্টেম্বর মাটি খুঁড়তেই তাঁর চোখ ছানাবড়া! জঙ্গলের পাথুরে মাটির নিচে লুকিয়ে আছে হাজার বছর পুরোনো রুপার বিশাল এক গুপ্তধন!ফিনল্যান্ডের ইতিহাসে এর আগে ভাইকিং যুগের এত বড় রুপার গুপ্তধন আর কখনো পাওয়া যায়নি। চলো, জেনে নিই সেই জঙ্গলের গুপ্তধনে কী কী পাওয়া গেল।১০ পাউন্ডের রুপার খনিএই গুপ্তধনে কী আছে শুনলে তুমিও চমকে যাবে। প্রায় সাড়ে চার কেজি ওজনের রুপার কয়েন আর গয়না পাওয়া গেছে! লাহাটি হিস্টোরিক্যাল মিউজিয়ামের প্রত্নতত্ত্ববিদ এসকো তিক্কালা এই গুপ্তধন খনন করেছেন। তিনি জানান, ‘গুপ্তধনগুলো মূলত দুটি ভাগে ভাগ করে বার্চগাছের ছালের পাত্রে ভরে মাটির নিচে রাখা হয়েছিল। পাত্র দুটি একে অপরের থেকে প্রায় ৩৯ ফুট দূরে এবং মাটির ১৮ ইঞ্চি গভীরে দুটি পাথরের মাঝখানে লুকানো ছিল।’যদিও এগুলো এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার করে গোনা হয়নি, তবে এর মধ্যে কয়েক হাজার কয়েন ও টুকরা আছে। তিক্কালার ভাষায়, ‘কয়েন এত বেশি যে আমি এখনো সব কটি নেড়েচেড়ে দেখার সময় পাইনি!’আবার ফিরছে সিডি ও ক্যাসেট, কারণ কীকোথা থেকে এল এত সম্পদপ্রত্নতত্ত্ববিদদের ধারণা, এই গয়না ও কয়েনগুলো ১০০০ থেকে ১০৫০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যকার। এতে বর্তমান জার্মানি, সুইডেন আর গ্রেট ব্রিটেন এলাকার কয়েন রয়েছে। সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হলো, এখানে বেশ কিছু দিরহামও মিলেছে। এগুলো ৮০০ থেকে ১০৫০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে ফিনল্যান্ডে আসত।এর পাশাপাশি মিলেছে রুপার ব্রেসলেট এবং হ্যাক সিলভার। হ্যাক সিলভার হলো রুপার এমন টুকরা, যা সেকালে ওজনের ওপর ভিত্তি করে কেটে কেটে দাম মেটানোর কাজে ব্যবহৃত হতো। শুধু এই রুপার ওজন হিসাব করলেই আজকের বাজারে এর দাম দাঁড়াবে প্রায় ১০ হাজার ডলার!ভাইকিং যুগের, কিন্তু ভাইকিংদের নয়!তুমি হয়তো ভাবছ, গুপ্তধন যখন ভাইকিং যুগের, তখন নিশ্চয়ই এটা কোনো দুর্ধর্ষ ভাইকিং জলদস্যুর কাজ! কিন্তু এসকো তিক্কালা বলছেন অন্য কথা। সেকালে ফিনল্যান্ড রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিকভাবে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান ভাইকিংদের অংশ ছিল না। ফিনল্যান্ডের ইতিহাসবিদরা শুধু ওই সময়কাল বোঝাতে ‘ভাইকিং যুগ’ শব্দটা ব্যবহার করেন। তাই এই গুপ্তধন কোনো ভাইকিংয়ের না-ও হতে পারে।ভাইকিংদের গুপ্তধন খুঁজে পেয়েছে ১৩ বছরের কিশোরকেন লুকানো হয়েছিল এই সম্পদমানুষ কেন এভাবে মাটির নিচে সম্পদ লুকিয়ে রাখত, তার সঠিক উত্তর দেওয়া মুশকিল। আশপাশে কোনো কবরের চিহ্নও মেলেনি। তবে রোমান আমলের ১৫ হাজারেরও বেশি গুপ্তধন নিয়ে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, সেকালে মানুষ মূলত কর বা ট্যাক্স ফাঁকি দিতে, দেবতাদের উদ্দেশে উৎসর্গ করতে কিংবা যুদ্ধের মতো অনিশ্চিত সময়ে সম্পদ নিরাপদে রাখতে মাটির নিচে ধন লুকিয়ে রাখত।একের পর এক গুপ্তধনফিনল্যান্ডে এর আগে ভাইকিং যুগের সবচেয়ে বড় গুপ্তধনটি মিলেছিল ১৮৯৫ সালে নৌসিয়ানেন এলাকায়। তাতে ১ হাজার ৭০০ রুপার কয়েন থাকলেও তার ওজন ছিল এই নতুন গুপ্তধনের ঠিক অর্ধেক। শুধু ফিনল্যান্ড নয়, সম্প্রতি নরওয়েতেও ৪ হাজার ৭০০ কয়েনের এক বিশাল গুপ্তধন মিলেছে। আর ডেনমার্কে তো এক লোক নিজের বাড়ির পেছনের উঠান খুঁড়তে গিয়েই সাড়ে ১৮ কেজি ওজনের ৭০০ রুপার বস্তুর এক বিশাল ভান্ডার পেয়ে গেছেন!সূত্র: লাইভ সায়েন্সআর্লিং হলান্ড কেন নরওয়ের হয়ে খেলেন

News সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ 0
বুন্দেসলিগায় দ্রুততম ১০০ গোলের রেকর্ড কেইনের

বুন্দেসলিগায় দ্রুততম ১০০ গোলের রেকর্ড কেইনের

কেউ চায় চিকিৎসক হতে, কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে, সবার চিন্তা পড়ার খরচ

কেউ চায় চিকিৎসক হতে, কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে, সবার চিন্তা পড়ার খরচ

সবচেয়ে বেশি গোল্ডেন ডাক শিকার, এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সোনা জয় ও আরও ৮ প্রশ্ন

সবচেয়ে বেশি গোল্ডেন ডাক শিকার, এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সোনা জয় ও আরও ৮ প্রশ্ন

0 Comments