জাতীয়

গান বন্ধের এই সময়ে ‘বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন’ কেন জরুরি

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
গান বন্ধের এই সময়ে ‘বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন’ কেন জরুরি
গান বন্ধের এই সময়ে ‘বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন’ কেন জরুরি

সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা পুলিশ লাইনসে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হামলার কারণে অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে গেছে। একই সময়ে একদল লোকের দাবির মুখে কিশোরগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য কনসার্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হামলা বা হুমকির মাধ্যমে বন্ধ করে দেওয়ার বেশ কিছু ঘটনা গত কয়েক মাসে ঘটেছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই হামলাকারী বা হুমকিদাতারা তাদের এসব পদক্ষেপের পেছনে কারণ হিসেবে ‘ধর্ম’কে সামনে নিয়ে এসেছে। একবিংশ শতাব্দীর সিকি ভাগ পার হওয়ার পরও তারা দাবি করছে, গান ও সংস্কৃতিচর্চার সঙ্গে ইসলাম ধর্মের সম্পর্ক সাংঘর্ষিক। এ ভূখণ্ডে ধর্মের এমন স্বঘোষিত ব্যাখ্যাকারের আবির্ভাব নতুন নয়। গত শতাব্দীতেও এমন অযৌক্তিক ও উগ্র কথাবার্তা শোনা গেছে।

১৯২৬ সালে ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজের উদ্যোগে সংগঠিত বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন এ বছর শতবর্ষে পদার্পণ করেছে। এ আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ছিলেন কাজী মোতাহার হোসেন। ‘আনন্দ ও মুসলমান গৃহ’ প্রবন্ধে তিনি বলেছিলেন—

‘মুসলমানের যে গৃহ নেই, তার একটা কারণ, আনন্দের উপকরণের অভাব। মুসলমান গান গাইবে না, ছবি আঁকবে না, এক কথায় মনোরঞ্জনকর ললিতকলার কোনও সংশ্রবেই থাকবে না। মুসলমান পুরুষেরা কেবল কাজ করবে, আর ঘর শাসন করবে; মেয়েরা কেবল রাঁধবে বাড়বে, আর বসে বসে স্বামীর পা টিপে দেবে;—তা ছাড়া খেলাধুলা, হাসিতামাশা বা কোনও প্রকার আনন্দ তারা করবে না—সব সময় আদব-কায়দা নিয়ে দুরস্ত হয়ে থাকবে। মুসলমান বাপের সামনে হাসবে না, বড় ভাইয়ের সামনে খেলবে না, গুরুজনের অন্যায় কথারও প্রতিবাদ করবে না,—এমনকি কচি ছেলেমেয়েরা পর্যন্ত মার খেলেও চেঁচিয়ে কাঁদবে না! এই রকম হাজার হাজার আইনকানুনের বেড়াজালে পড়ে মুসলমান ত্রাহি ত্রাহি ডাক ছাড়ছে। আনন্দ? কোথায় আনন্দ? কী হবে আনন্দে? মুসলমান তো বেঁচে থাকতে আনন্দ করে না, সে মরে গিয়ে বেহেশতে প্রবেশ করে পেট ভরে খাবে, আর হুরপরীদের নিয়ে অনন্তকাল ধরে আনন্দ করবে। ব্যস্! এই তার সান্ত্বনা!’

এ উদ্ধৃতাংশটুকু অনায়াসে বর্তমান সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে পাঠ করা যায়। শুধু কাজী মোতাহার হোসেন নন, বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী অন্য লেখকেরাও তাঁদের প্রবন্ধে যুক্তি দিয়ে দেখিয়েছেন, শিল্পকলা ও সংস্কৃতিচর্চা মানে ধর্মবিরোধিতা নয়।

মুসলিম সাহিত্য সমাজের নেতৃত্বে সংগঠিত বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনকে নানা চড়াই-উতরাই পার হতে হয়েছে। উদার ও শিক্ষিত মুসলমানরা এ আন্দোলনকে স্বাগত জানালেও রক্ষণশীল নবাব পরিবার ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ধারকবাহকেরা এ আন্দোলনের বিরোধিতা করেছে। শুধু বিরোধিতা করেনি, আন্দোলনের নেতৃস্থানীয় সংগঠকদের মানসিক নির্যাতন করেছে, এমনকি জীবননাশের হুমকিও দিয়েছে। আন্দোলনের বিরুদ্ধ পক্ষ নিজেদের পত্রপত্রিকায় সংগঠকদের সম্পর্কে কুৎসা রটনা ও অপপ্রচার চালিয়েছে।

বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন কখনো ধর্মবিরোধিতা করেনি। অথচ এ আন্দোলনের উদ্যোক্তাদের ‘ধর্মবিরোধিতা’র দায়ে অভিযুক্ত হতে হয়েছে। উদার মানবতাবাদ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা ছিল এ আন্দোলনের বৈশিষ্ট্য। ধর্মান্ধতা, সংকীর্ণতা ও কূপমণ্ডূকতার অন্ধকারের বিপরীতে এ আন্দোলন জ্ঞানের আলো জ্বালিয়েছিল। এ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত চিন্তাবিদদের মধ্যে কেউ ‘নাস্তিক’ বলে নিজের পরিচয় দেননি। কেউ কেউ ‘ধার্মিক’ ছিলেন। কেউ কেউ ‘ধর্মমোহ’ দ্বারা আচ্ছন্ন হননি। বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের নেতারা অন্ধ শাস্ত্রানুগত্য বর্জনের আহ্বান জানিয়েছিলেন যুক্তিবাদ ও মানবকল্যাণের তাগিদ থেকে। তাঁরা যে জ্ঞানভিত্তিক, পরমতসহিষ্ণু, উদার ও মুক্ত সমাজের জন্য লড়াই করেছিলেন, সেই সমাজ কি আমরা পেয়েছি?

শতবর্ষ আগে মুসলিম সাহিত্য সমাজ যে সমস্যাগুলো মোকাবিলা করেছিল, এর মধ্যে ছিল অন্ধ শাস্ত্রানুগত্য, ধর্মীয় কূপমণ্ডূকতা, নারীর প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, অসহিষ্ণুতা, সাম্প্রদায়িকতা, শিল্পকলার প্রতি বিরূপতা, সর্বোপরি প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী জীবনদর্শনের প্রতি তীব্র বিদ্বেষ। এ থেকে কি আমরা মুক্ত হতে পেরেছি? সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতা, অশিক্ষা, নারীবিদ্বেষ, শিল্পকলার প্রতি বিরূপতা একবিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশেও বিদ্যমান। কোনো কোনো সমস্যা আগের চেয়েও প্রকট হয়েছে। গত কয়েক বছরে ধর্মান্ধতা ও অসহিষ্ণুতা এমনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে যে সম্পদহানির পাশাপাশি বিপুল প্রাণহানিও ঘটেছে। নারীর অবরোধদশা ক্ষেত্রবিশেষে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

চল্লিশের দশক থেকে এ ভূখণ্ডে পাকিস্তান আন্দোলনের জোয়ার তৈরি হয়। দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা রাষ্ট্র পাকিস্তান নিঃসন্দেহে বাঙালি মুসলমানের সমর্থন লাভ করেছিল। তবে দ্রুত তাদের পাকিস্তান মোহ কেটে যায়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন পাকিস্তানি শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রথম শক্তিশালী প্রতিবাদ। এ প্রতিবাদ সাংস্কৃতিক তথা ভাষাভিত্তিক। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য এবং বাঙালি সংস্কৃতির প্রশ্নে বাঙালির অনমনীয় অবস্থান বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনেরই ফলশ্রুতি। এ আন্দোলনের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ কেউ গোটা পাকিস্তান পর্বেই মুক্তবুদ্ধির আলোকশিখা প্রজ্বলিত রেখেছেন। ষাটের দশকে ভাষা ও সংস্কৃতিভিত্তিক অসাম্প্রদায়িক বাঙালি জাতীয়তাবাদের উত্থান বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনেরই ফলাফল। ষাটের দশকের সাংস্কৃতিক জাগরণ বাঙালি জাতিকে রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে এবং স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম দেয়। বাংলাদেশের অভ্যুদয় বাঙালির জাগরণের এক স্বর্ণোজ্জ্বল অধ্যায়।

কাজেই এটি দাবি করা অযৌক্তিক হবে না, বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের প্রভাব একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম লাভ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। স্বাধীনতা–পরবর্তীকালে নৈরাশ্য ও স্বপ্নভঙ্গ জাতির মর্মবেদনার কারণ হয়েছে। বুদ্ধিবৃত্তিক জগৎ প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। কখনো কখনো পশ্চাৎপদ চিন্তা আমাদের আচ্ছন্ন করেছে। তবে শত প্রতিকূলতার মধ্যেও মুক্তবুদ্ধির মশালটি নির্বাপিত হয়নি। বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের উত্তরসূরিরা কখনো বিচ্ছিন্নভাবে, কখনোবা ঐক্যবদ্ধভাবে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে ভূমিকা পালন করেছেন। স্বাধীনতা–পরবর্তীকালে বাংলাদেশের সংস্কৃতিচর্চায় উদার মানবতাবাদী ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার যে ধারা দৃশ্যমান, তা বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনেরই উত্তরাধিকার বহন করছে।

বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের চলার পথে যে চড়াই-উতরাই থাকে, তা এক কঠিন সত্য। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। ইউরোপের ইতিহাসে যাকে ‘মধ্যযুগ’ বলা হয়, সেই মধ্যযুগে অজ্ঞতার অন্ধকারকে টিকিয়ে রেখেছিল তখনকার ক্যাথলিক চার্চকেন্দ্রিক ধর্মতন্ত্রের ধারকেরাই। সেই অন্ধকার দূর করে রেনেসাঁস ঘটাতে চাইলেন যাঁরা, তাঁদের অনেককেই ক্ষমতাধর ধর্মতন্ত্রীদের আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে। যাঁর বিরুদ্ধেই ধর্মবিরোধিতার অভিযোগ উঠত, তাঁরই প্রাণ হনন করা হতো। সে সময়কার প্রখ্যাত মুক্তবুদ্ধিসাধক গিওর্দানো ব্রুনোকে ধর্মবিরোধিতার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে আট বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হয় এবং পরে চার্চের আদেশে তাঁকে অগ্নিদগ্ধ করে মেরে ফেলা হয়। এর বেশ কিছুদিন পর ‘সূর্য নয়, পৃথিবীই সূর্যের চারদিকে ঘোরে’—বিজ্ঞানী গ্যালিলিও যখন অকাট্য প্রমাণসহযোগে এই সত্য উপস্থিত করলেন, তখন চার্চের ক্ষমতা বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে। তাই ব্রুনোর মতো তাঁকে পুড়িয়ে মেরে ফেলতে পারেনি, কারাগারে আটক করে রেখেছিল। পরবর্তী সময়ে চার্লস ডারউইন যখন ‘প্রাণীর ক্রমবিবর্তনের’ যুগান্তকারী তত্ত্ব প্রকাশ করলেন, তখন সারা পৃথিবীর ধর্মান্ধ গোষ্ঠী ক্ষিপ্ত হলেও ডারউইন ও তাঁর সমর্থকদের কোনো ক্ষতি করতে পারেনি।

উনিশ শতকে কলকাতায় রেনেসাঁসের মতো যে ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছিল, সেই রেনেসাঁসের পথিকৃৎ রাজা রামমোহন রায় যদিও গভীরভাবে ঈশ্বর-বিশ্বাসী ও ধার্মিক ছিলেন, তবু একেশ্বরবাদের কথা বলে ও হিন্দু সমাজে প্রচলিত সতীদাহর মতো চূড়ান্ত অমানবিক প্রথাকে উচ্ছেদ করতে গিয়ে তিনি ধর্মবিরোধীরূপে চিহ্নিত হন এবং সীমাহীন লাঞ্ছনার শিকার হন। একই অভিজ্ঞতা হয়েছিল বিধবাবিবাহ প্রবর্তন ও বহুবিবাহ বন্ধে উদ্যোগী ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরসহ রেনেসাঁস-চৈতন্যের ধারকবাহক প্রায় সব মনীষীরই। বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের অগ্রযাত্রাকে রুদ্ধ করতে প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী এ আন্দোলনের সংগঠকদের ধর্মবিরোধিতার অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। এ অভিযোগ অসাধারণ যুক্তি দিয়ে খণ্ডন করেছেন যতীন সরকার। ‘মুক্তবুদ্ধির চড়াই-উতরাই’ বইয়ে তিনি লিখেছিলেন—

‘দুর্গতির পঙ্ক থেকে উদ্ধার করে সমাজকে এঁরা প্রগতির রথযাত্রী করতে চেয়েছিলেন। এঁরা ধর্মবিরোধী তো ছিলেন না, বরং প্রকৃত ধর্ম প্রতিষ্ঠাই ছিল এঁদের জীবনের ব্রত। মুসলমানরূপে এঁরা অবশ্যই ইসলামের মর্মবাণীকে অন্তরে ধারণ করতেন। তবে এঁদের ইসলাম-ভাবনা তথা ধর্মবোধ সংকীর্ণ সাম্প্রদায়িকতার ঘোলাজলের ডোবায় আবদ্ধ ছিল না, ছিল বিশ্ববোধের স্বচ্ছ স্রোতোধারায় স্নাত। তাই, অনায়াসেই এঁরা পূর্বসূরি নানক, কবীর, রামমোহন প্রমুখ মনীষীর উদার ধর্মচিন্তার উপাদান দিয়েও নিজেদের সমৃদ্ধ করে নিতে পেরেছিলেন। বিকৃত ভাষ্যের অন্ধকার থেকে ধর্মের মুক্তি ঘটিয়ে সমাজকে আলোকিত করে তোলাই ছিল এঁদের আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য।’

বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের অন্যতম বিশেষত্ব হচ্ছে সংঘবদ্ধভাবে মুক্তবুদ্ধির চর্চা করা। এ আন্দোলনের আগেও উপমহাদেশের মুসলমান মুক্তচিন্তা ও যুক্তিবাদিতার চর্চা করেছে; কিন্তু তা ছিল বিচ্ছিন্ন প্রয়াস। বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে তা ছিল লক্ষ্যহীন। সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখে সংঘবদ্ধভাবে কুসংস্কার, ধর্মান্ধতা ও পশ্চাৎপদতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের দৃষ্টান্ত প্রথম স্থাপন করে মুসলিম সাহিত্য সমাজ।

বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে এর সংগঠকেরা সচেতন ছিলেন। কেউ কেউ আত্মসমালোচনা করেছেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম মোতাহের হোসেন চৌধুরী। মুসলিম সাহিত্য সমাজ কেন তখন লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি, সে বিষয়ে ‘রিনেসাঁস: গোড়ার কথা ও আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি’ প্রবন্ধে তিনি লিখেছিলেন, ‘এর আরব্ধ কাজ শেষ হতে পারেনি রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের আবির্ভাবে।’ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব সাম্প্রদায়িক ধ্যানধারণাকে পুষ্ট করেছিল। বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের প্রেরণা ছিল সেক্যুলারিজম অর্থাৎ ইহজাগতিকতা, যা চরিত্রগতভাবে অসাম্প্রদায়িক, উদার ও যুক্তিবাদী। এ আন্দোলনের সঙ্গে তৎকালীন রাজনৈতিক ধারার সংঘাত অনিবার্য ছিল। বাঙালি মুসলমান রাজনীতিবিদদের ও মুসলিম সাহিত্য সমাজের লেখকদের দৃষ্টিভঙ্গিগত অবস্থান ছিল বিপরীত মেরুতে। রাজনীতি কখনোই সাহিত্য সমাজের আগ্রহের বিষয় ছিল না। তাঁদের অবলম্বিত পথ ছিল শিক্ষা ও সংস্কৃতি। এর মধ্য দিয়ে তাঁরা মানুষের মনোজগতের উৎকর্ষ সাধন করতে চেয়েছিলেন।

মুসলিম সাহিত্য সমাজ রাজনীতিতে না জড়াতে চাইলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাঁদের কার্যক্রমকে প্রভাবিত করেছে। এটাই স্বাভাবিক। সমাজ কখনো রাজনীতি–বিচ্ছিন্ন নয়। সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির অভাবে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন এক চলমান প্রক্রিয়া। ব্রিটিশ আমল, পাকিস্তান আমল পেরিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন নানা ঘাত–প্রতিঘাতের সম্মুখীন হচ্ছে। বর্তমান সমাজ যেসব সংকটের মুখোমুখি, সেই সংকট নিরসনে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন এক অসামান্য প্রেরণা। অজ্ঞানতা, কুসংস্কার, ধর্মান্ধতা ও পশ্চাৎপদ চিন্তাভাবনা যত দিন সমাজে থাকবে, তত দিন বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের প্রাসঙ্গিকতা থাকবে। এ ক্ষেত্রে সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভূমিকা অপরিসীম। এটি নিশ্চিত করতে হলে সংস্কৃতিচর্চা বেগবান করার কোনো বিকল্প নেই। হাঙ্গেরির দার্শনিক লুকাচ বলেছিলেন, সংস্কৃতিই লক্ষ্য, রাজনীতি সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর উপায় মাত্র। বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের পুনর্জাগরণের জন্য কথাটি মনে রাখা খুব জরুরি।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
নিজেদের জ্বালানি স্থাপনায় আর হামলা চালাবে না রাশিয়া-ইউক্রেন: ট্রাম্প
নিজেদের জ্বালানি স্থাপনায় আর হামলা চালাবে না রাশিয়া-ইউক্রেন: ট্রাম্প

রাশিয়া ও ইউক্রেন চলমান যুদ্ধে নিজেদের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা স্থগিত করেছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে নিজের অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে ট্রাম্প এ তথ্য জানান। খবর দ্য টেলিগ্রাফের। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ যুদ্ধে রাশিয়া নিয়মিতই ইউক্রেনের শহরগুলোতে ও বিভিন্ন সেনাঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে আসছে। ইউক্রেনও রাশিয়ার বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে সফলভাবেই আঘাত করছে। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা না চালাতে ইউক্রেন সম্মত হয়েছে। রাশিয়াও একই সম্মতি দিয়েছে। বিশ্বের জ্বালানি তেলের দাম বেশি প্রভাবিত হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে, ইরানের কারণে নয়। এর আগে, রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) আয়ারল্যান্ড সফরের সময় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, জেলেনস্কিকে একটি কাজ করতে হবে। তাকে রাশিয়ায় জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে হবে। আরও পড়ুন রাশিয়ার জ্বালানিতে নয়, অন্য কিছুতে হামলা চালাও: ইউক্রেনকে ট্রাম্প এ বিষয়ে জেলেনস্কির সঙ্গে তার কথা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ায় হামলার জন্য আরও অনেক লক্ষ্যবস্তু রয়েছে। তবে, জ্বালানি স্থাপনায় হামলা করা উচিত নয়। তার মতে, এসব হামলার কারণে সারা বিশ্বের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এএমএ

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
রাজধানীতে নারীসহ ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীতে নারীসহ ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার

২৫২ কোটি টাকা দেনা, আদালতের রায়ে দেউলিয়া চালকল ব্যবসায়ী

২৫২ কোটি টাকা দেনা, আদালতের রায়ে দেউলিয়া চালকল ব্যবসায়ী

রায় ঘোষণা মঙ্গলবার, কাদের-সাদ্দাম-ইনানসহ ৭ আসামির কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ

রায় ঘোষণা মঙ্গলবার, কাদের-সাদ্দাম-ইনানসহ ৭ আসামির কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ

পল্লবীতে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আহত যুবকের মৃত্যু, গ্রেপ্তার ২
পল্লবীতে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আহত যুবকের মৃত্যু, গ্রেপ্তার ২

রাজধানীর পল্লবীতে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আহত সজীব হোসাইন (২২) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার ভোরে কাইল্লার বস্তি এলাকায় তিনি হামলার শিকার হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জুয়েল ও জয় নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।নিহত সজীব পেশায় গেঞ্জি বিক্রেতা ছিলেন। তিনি মিরপুরের ওয়াপদা বিল্ডিং বেনারসিপল্লি এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। তাঁর বাবার নাম মৃত সেলিম হোসাইন। দুই ভাইয়ের মধ্যে সজীব ছিলেন বড়। সজীবের এক ছেলে রয়েছে।পল্লবী থানার উপপরিদর্শক রাশেদ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে সজীব আহত হন। পরে স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে বাসায় নিয়ে আসা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে গত বৃহস্পতিবার তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।সজীবের মামাতো বোন শারমিন বলেন, ছিনতাইকারীরা সজীবের পিঠের ডান পাশে ও বুকে ছুরিকাঘাত করে তাঁর মুঠোফোন নিয়ে যায়।

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
জিন্নাহর ছবি টানানোয় প্রতিবাদ, ব্যবস্থা
নেবে প্রশাসন

জিন্নাহর ছবি টানানোয় প্রতিবাদ, ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন

ফ্ল্যাট প্রতারণার মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে হরিদাস তরণী

ফ্ল্যাট প্রতারণার মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে হরিদাস তরণী

সাদিক কায়েমকে পাটওয়ারী ‘আসুন প্রতিযোগিতা হোক’

সাদিক কায়েমকে পাটওয়ারী ‘আসুন প্রতিযোগিতা হোক’

জ্বালানির দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে সিরিয়াজুড়ে বিক্ষোভ
জ্বালানির দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে সিরিয়াজুড়ে বিক্ষোভ

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোয় সিরিয়ার বেশ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভের মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ধরে একটি প্রধান মহাসড়ক অবরুদ্ধ করে রাখেন বিক্ষোভকারীরা।সিরিয়া সরকার রোববার ডিজেলের দাম ৪০ শতাংশ এবং পেট্রলের দাম ২৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ায়। সরকারের দাবি, বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি সংগ্রহের খরচ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার কারণেই এই সাময়িক মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে।দাম বাড়ানোর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ বানিয়াস শোধনাগার সংস্কারের কথাও উল্লেখ করেছে সিরিয়া সরকার। তারা জানিয়েছে, এর ফলে শোধনাগারটির উৎপাদনক্ষমতা প্রতিদিন ৮০ হাজার ব্যারেল থেকে বেড়ে ১ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল হবে।জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সিরিয়ার হামা, খান শেইখুন ও মারাত আল-নুমান শহরে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। আল–জাজিরার প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তায় জড়ো হওয়া মানুষ টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন। দাম বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।শনিবার সিরিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-বশির বলেন, দেশটিতে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ২০০০ ব্যারেল তেল উৎপাদিত হচ্ছে; কিন্তু দেশের ভেতরে ব্যবহারের জন্য প্রতিদিন প্রয়োজন প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার ব্যারেল। এই ঘাটতি পূরণের জন্য তারা আমদানির ওপর নির্ভর করছেন।রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা সিরিয়ান আরব নিউজ এজেন্সির (সানা) তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিশ্ববাজারের পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তারা দাম সমন্বয়ের কাজ চালিয়ে যাবে। এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে তেল শোধন ও মজুত করার ক্ষমতা বাড়াতেও কাজ করবে তারা।দীর্ঘ ১৪ বছরের যুদ্ধের পর সিরিয়া এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। তাই দেশটির অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য জ্বালানির সরবরাহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
কিমের কি গোপন কোনো ছেলে আছে, খুঁজছেন দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দারা

কিমের কি গোপন কোনো ছেলে আছে, খুঁজছেন দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দারা

ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুনের পর চার মৃত্যু, পদদলিত হওয়ার তথ্য নাকচ প্রশাসনের

ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুনের পর চার মৃত্যু, পদদলিত হওয়ার তথ্য নাকচ প্রশাসনের

ভুয়া ওয়ারেন্টে গ্রেফতার ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ যাচাইয়ের নির্দেশ

ভুয়া ওয়ারেন্টে গ্রেফতার ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ যাচাইয়ের নির্দেশ

0 Comments