ফেনী সদরের লালপোলে ট্রাকের হঠাৎ ব্রেক কষায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস উল্টে এক কাস্টমস কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে...
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
কক্সবাজারের মহেশখালীতে চোর সন্দেহে এক যুবককে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে বেদম প্রহার করা হয়েছে। পরে তার পিঠে ইটের ভার দিয়ে করা হয়েছে নির্মম নির্যাতন। একপর্যায় হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান ওই যুবক। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের পূর্ব ফকিরাঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মো. ফয়সাল (২৬) বড় মহেশখালী ইউনিয়নের পূর্ব ফকিরাঘোনা এলাকার বাসিন্দা বাদশা মিয়ার ছেলে। ওই যুবককে নির্যাতনের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রিফাত মুহাম্মদ ত্বকি নামের এক যুবককে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মহেশখালী থানার ওসি আবদুস সোবহান। আরও পড়ুন বোরকা পরে চুরির অভিযোগ, ধরে ফেলে যুবককে রাতভর নির্যাতন স্থানীয়রা জানান, ভোরের দিকে ফয়সালকে আটক করেন পূর্ব ফকিরাঘোনার কেফায়ত উল্লাহ। তার বাড়িতে ফয়সাল চুরি করতে ঢুকেছিলেন বলে এলাকার লোকজনকে জানান কেফায়েত। পরে সকালে রাস্তার পাশে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। তার পিঠের ওপর রাখা হয় কয়েকটি ইট। মুমূর্ষু হয়ে পড়লে সকাল ৯টার দিকে এলাকার অন্যরা ফয়সালকে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বড় মহেশখালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আলী আকবরের দাবি, ফয়সাল একজন পেশাদার চোর। তার নেতৃত্বে এলাকায় প্রায় চুরি হচ্ছিল। মঙ্গলবার ভোরের চুরি করতে গিয়ে তিনি ধরা পড়েন। পরে গণপিটুনিতে মারা যান। তবে চুরির দায়ে এভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা মোটেও উচিত হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি। ফয়সালের বাবা বাদশাহ মিয়ার দাবি, তার ছেলে দিনমজুর। কোনো কারণ ছাড়াই চোর বলে সন্দেহ করে ছেলেকে প্রকাশ্যে বেঁধে পিঠের ওপর ইট দিয়ে হত্যা করেছে। তিনি এ জঘন্য ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানান। খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যায় পুলিশ। মরদেহের সুরতহাল তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মহেশখালী থানার ওসি আবদুস সুলতান বলেন, ফয়সালকে নির্মম নির্যাতন চালানোর কিছু ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিও ফুটেজগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। ওসি আরও জানান, যে বাড়িতে চুরি করতে গেছেন বলে প্রচার করা হচ্ছে এবং যারা আটক করে নির্যাতন করেছেন, ওই বাড়িরই একজন রিফাত মুহাম্মদ ত্বকিকে আটক করা হয়েছে। ফয়সালের মরদেহ রাতে এলাকায় এলে দাফন করার কথা জেনেছি। পরিবারের লোকজন লিখিত দিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সায়ীদ আলমগীর/এসআর
কক্সবাজারের ইনানী জাতীয় উদ্যান। পাহাড় আর উপকূলের মাঝখানে ছড়িয়ে আছে এই সংরক্ষিত বন। এখানে হেঁটে বেড়ালে হয়তো তোমার চোখে পড়বে গাছ, লতাপাতা, ঝোপঝাড় কিংবা পাখি। কিন্তু বনের ভেতরেই যে মেঘলা চিতার মতো বিরল প্রাণী ঘুরে বেড়াচ্ছে, তা হুট করে বোঝা যাবে না। এবার গবেষণায় জানা গেছে, এই বনে আছে মেঘলা চিতা। শুধু তা-ই না, ইনানীর বনে খুঁজে পাওয়া গেছে মোট ২৩ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী। এর মধ্যে আছে এশিয়ান হাতি, উল্লুক, বেঙ্গল স্লো লরিসসহ বেশ কিছু বিপন্ন প্রাণী।মেঘলা চিতা খুঁজে পাওয়ার গল্পটা একটু আলাদা। গবেষকেরা বনের ভেতরে ঘুরে ঘুরে প্রাণীটির দেখা পাননি। বরং বনের বিভিন্ন জায়গায় ক্যামেরা বসিয়ে রেখেছিলেন। এই ক্যামেরার সামনে দিয়ে প্রাণী গেলেই ক্যামেরা ছবি তুলে রাখে। এভাবেই ইনানীর বনে মেঘলা চিতার ছবি তোলা হয়েছে। ক্যামেরা ট্র্যাপের পাশাপাশি গবেষণায় ব্যবহৃত হয়েছে প্রাণীর পায়ের ছাপ, বিষ্ঠা, গাছের আঁচড়, সরাসরি দেখা এবং প্রাণীর ডাক শোনার মতো নানা চিহ্ন।এই গবেষণার প্রধান গবেষক বিপুল কৃষ্ণ দাস। তিনি বাংলাদেশ বন বিভাগের বাংলাদেশ ওয়াইল্ডলাইফ সেন্টারের পরিচালক। পাশাপাশি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সঙ্গে যুক্ত আছেন। তাঁর সহগবেষক হিসেবে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ফিরোজ জামান এবং একই বিভাগের গবেষক অর্ণব সাহা। মোহাম্মদ জাসিমউদ্দিন ও বাবলা মহাজান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেসের সঙ্গে যুক্ত আছেন। গবেষক দলের আরেক সদস্য প্রদীপ কুমার সরকার জার্মানির গটিঙ্গেন ইউনিভার্সিটির বন ও প্রকৃতি সংরক্ষণ নীতি বিভাগের সঙ্গে যুক্ত আছেন।তাঁদের গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে জার্নাল ফর নেচার কনজারভেশনে। গবেষণাপত্রটির নাম বাংলাদেশের খণ্ডিত ক্রান্তীয় বনভূমিতে স্তন্যপায়ী প্রাণীদের টিকে থাকা ও সংরক্ষণের অগ্রাধিকার।তিমি কি মানুষকে গিলে ফেলতে পারেসুন্দা মেঘলা চিতাএক বছর ধরে খোঁজগবেষণাটি করা হয়েছে ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৩ সালের নভেম্বর পর্যন্ত। পুরো বনকে বিভিন্ন এলাকার ভিত্তিতে ভাগ করে গবেষকেরা প্রাণীদের খোঁজ করেছেন। শুরুতে ১১টি পথ বা ট্রানসেক্ট বিবেচনা করা হলেও পরে সাতটি নির্দিষ্ট পথ নিয়মিত জরিপের জন্য বেছে নেওয়া হয়। এসব পথে গবেষকেরা দিনে দুবার হেঁটেছেন। সকাল ৬টা থেকে ১০টা এবং বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। কোনো প্রাণী সরাসরি দেখা গেলে সেটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। আবার প্রাণী সামনে না থাকলেও এর পায়ের ছাপ, বিষ্ঠা, খাবার খাওয়ার চিহ্ন, গাছের আঁচড় কিংবা ডাক থেকেও প্রাণীর উপস্থিতি বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে।এর পাশাপাশি বনের বিভিন্ন জায়গায় বসানো হয়েছিল স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা। মোট ১৫টি ক্যামেরা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে ৩২টি জায়গায় ব্যবহার করা হয়। কোনো জায়গায় পশুর চলাচলের পথ বা পানির কাছাকাছি জায়গা থাকলে সেখানে ক্যামেরা বসানো হয়েছে। ক্যামেরায় কোনো টোপ বা খাবার ব্যবহার করা হয়নি। মানে প্রাণীদের স্বাভাবিক চলাফেরার সময় ছবি তোলা হয়েছে।দীর্ঘ অনুসন্ধানে মোট ২৩ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণীর সন্ধান পাওয়া যায়। ক্যামেরায় ধরা পড়ে ১৯ প্রজাতি। সরাসরি দেখা বা প্রাণীর ডাক শুনে শনাক্ত করা হয়েছে ১৮ প্রজাতি। আবার পায়ের ছাপ, বিষ্ঠা, খাবার খাওয়ার চিহ্নসহ নানা পরোক্ষ চিহ্ন থেকেও ১৮ প্রজাতির উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। সব পদ্ধতির তথ্য মিলিয়েই পাওয়া গেছে ২৩ প্রজাতির তালিকা।ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর দিন কি ঘনিয়ে আসছেমেঘলা চিতাযেভাবে মেঘলা চিতার দেখা মিললএই ২৩ প্রজাতির মধ্যে সবচেয়ে চমক জাগানো আবিষ্কার মনে হয় মেঘলা চিতা। ইংরেজিতে যাকে বলা হয় ক্লাউডেড লেপার্ড। বিড়াল গোত্রের এই প্রাণী অত্যন্ত বিরল। ইনানীর বনে এর উপস্থিতির কথা আগে শোনা গেলেও এবারই প্রথম গবেষণায় এর ছবি পাওয়া গেল।ক্যামেরা ট্র্যাপের ছবিতে মেঘলা চিতা ধরা পড়েছে পাঁচবার। শুধু ক্যামেরার ছবিই নয়, পায়ের ছাপ ও বিষ্ঠার মতো চিহ্ন মিলিয়ে আরও ১৩টি আলাদা ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেছে। অর্থাৎ গবেষকেরা বনের বিভিন্ন জায়গায় মেঘলা চিতার উপস্থিতির একাধিক প্রমাণ পেয়েছেন।তবে এতবার প্রমাণ পাওয়া গেলেও প্রাণীটিকে সহজে দেখা যায়নি। গবেষণার হিসাব বলছে, ইনানীর বনের কোনো নির্দিষ্ট জায়গা ব্যবহার করার সম্ভাবনা মেঘলা চিতার ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে কম। তার ওপর প্রাণীটির ক্যামেরায় ধরা পড়ার সম্ভাবনাও খুব কম। এর একটি কারণ এর স্বভাব। মেঘলা চিতা গোপনে চলাফেরা করে এবং মূলত রাতের বেলায় সক্রিয় হয়। বেশির ভাগ সময় গাছের ওপরে থাকে। তাই বনের ভেতর দিয়ে চলাফেরা করলেও মানুষের চোখে পড়া বা ক্যামেরায় ধরা পড়া সহজ নয়।টানা ৭৩ ঘণ্টা পড়ে বিশ্বকে কী বার্তা দিলেন এই লেখকশুধু মেঘলা চিতা নয়, আরও প্রাণী আছেইনানীর বনে মেঘলা চিতার পাশাপাশি আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রাণীর সন্ধান মিলেছে। রয়েছে এশিয়ান হাতি, পশ্চিমের উল্লুক, বেঙ্গল স্লো লরিস, নর্দার্ন পিগ-টেইলড ম্যাকাক, ক্যাপড ল্যাঙ্গুর ও গ্রেটার হগ ব্যাজার। এ ছাড়া বনবিড়াল, লেপার্ড ক্যাট, বন্য শূকর, বিভিন্ন গন্ধগোকুল, বেজি, শজারু, কাঠবিড়ালি ও ট্রিশ্রুর মতো প্রাণীও পাওয়া গেছে।গবেষণায় তিনটি প্রজাতিকে বৈশ্বিকভাবে বিপন্ন এবং চারটি প্রজাতিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মেঘলা চিতাও বৈশ্বিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ প্রাণীর তালিকায় রয়েছে। বাংলাদেশে এর অবস্থা আরও সংকটাপন্ন।গবেষণার বনের বিভিন্ন ধরনের জায়গা নিয়ে আরেকটি বিষয় জানা গেছে। ইনানীর সব জায়গায় সমানসংখ্যক প্রাণী পাওয়া যায়নি। ঝোপঝাড় ও ছড়িয়ে থাকা গাছের এলাকায় সবচেয়ে বেশি প্রজাতির প্রাণী পাওয়া গেছে। বর্ষাকালে এই বৈচিত্র্য আরও বেশি ছিল। অন্যদিকে বনে যেসব এলাকায় বাগান আছে, সেখানে প্রাণীর বৈচিত্র্য পাওয়া গেছে সবচেয়ে কম।এর পেছনে বনের পরিবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। যেখানে গাছপালা, ঝোপঝাড় ও বনের স্বাভাবিক গঠন বেশি রয়েছে, সেখানে প্রাণীদের খাবার ও আশ্রয়ের সুযোগও বেশি। বর্ষাকালে গাছপালায় ফল ও নতুন উদ্ভিদের বৃদ্ধি বাড়ায় প্রাণীদের জন্য খাবারের সুযোগও বাড়ে। ফলে ওই সময় বেশি প্রাণীর উপস্থিতি দেখা গেছে।আবার ফিরছে সিডি ও ক্যাসেট, কারণ কীকক্সবাজার থেকে ১৮ কিলোমিটার অদূরে ইনানী বিচে যাওয়ার পথে রেজুখাল থেকে মাত্র ৫ মিনিটেই চলে যেতে পারবেন পাহাড়ের এই সৌন্দর্য দেখতেবন আছে, কিন্তু ভালো নেইইনানী জাতীয় উদ্যানের আয়তন ৭ হাজার ৮৫ হেক্টর। ২০১৯ সালে এটিকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। কিন্তু বনটি মানুষের নানা কর্মকাণ্ডের চাপ থেকে মুক্ত নয়। বন উজাড়, পাহাড় কাটা, জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ, কৃষিকাজের বিস্তার এবং বনভূমি দখলের কারণে বনের স্বাভাবিক পরিবেশের অনেকটাই বদলে গেছে। কোথাও প্রাকৃতিক বন ভেঙে ঝোপঝাড়ের এলাকা তৈরি হয়েছে, কোথাও হয়েছে বনবাগান।মানুষের এই চাপ প্রাণীদের ওপরও প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে যেসব প্রাণী কমসংখ্যায় থাকে, গোপনে চলাফেরা করে বা নির্দিষ্ট ধরনের পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন। মেঘলা চিতার মতো প্রাণী তাই বন কতটা ভালোভাবে টিকে আছে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচকও হয়ে উঠতে পারে।ইনানীর এই বনকে আলাদা হিসেবে দেখলে ঠিক হবে না। কক্সবাজারের ইনানী, হিমছড়ি জাতীয় উদ্যান ও টেকনাফ বন্য প্রাণী অভয়ারণ্যের মধ্যে সংযোগ বজায় থাকাও প্রাণীদের চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।গবেষকেরা মনে করছেন, শুধু কোনো বনে প্রাণী আছে কি না, সেটি জানলেই কাজ শেষ হয় না। কোন ধরনের জায়গায় প্রাণীরা বেশি থাকে, কোথায় এদের চলাচল বেশি, কোন জায়গা মানুষের চাপে ক্ষতিগ্রস্ত, এসবও জানা প্রয়োজন হয়। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই বন রক্ষা ও পুনরুদ্ধারের কাজ করা যায়।ইউক্রেনে মাটির নিচের স্কুলে চলছে পড়াশোনা
ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ভবিষ্যৎ দুই ফাইনালের ভেন্যু চূড়ান্ত হয়েছে। ২০২৮ সালের ফাইনাল হবে জার্মানির মিউনিখের বিখ্যাত আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায়। পরের বছর, অর্থাৎ ২০২৯ সালের ফাইনাল বসবে স্পেনের বার্সেলোনায় পুনর্নির্মিত ক্যাম্প ন্যুতে। মঙ্গলবার উয়েফা আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দিয়েছে। মিউনিখের আলিয়াঞ্জ অ্যারেনা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল আয়োজনের অভিজ্ঞতা খুব বেশি পুরোনো নয়। সর্বশেষ ২০২৫ সালে এই স্টেডিয়ামেই ইউরোপসেরার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই হয়েছিল। সেই ফাইনালে ইতালিয়ান ক্লাব ইন্টার মিলানকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়ে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জিতেছিল প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। ফাইনালে ফরাসি ক্লাবটির জয় ছিল ৫-০ গোলে। তিন বছর পর আবারও ইউরোপের সবচেয়ে বড় ক্লাব প্রতিযোগিতার ফাইনাল ফিরছে মিউনিখে। আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় ২০২৮ সালের ফাইনালকে ঘিরে এরই মধ্যে বাড়ছে আগ্রহ। জার্মানির অন্যতম আধুনিক এই স্টেডিয়াম আবারও দেখবে ইউরোপীয় ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই। তবে ২০২৯ সালের ফাইনালের ঘোষণা আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। বার্সেলোনার ঐতিহাসিক ক্যাম্প ন্যুতে আবারও ফিরছে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল। এই মাঠে সর্বশেষ চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল হয়েছিল ১৯৯৯ সালে। ১৯৯৯ সালের সেই ঐতিহাসিক ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও বায়ার্ন মিউনিখ। ম্যাচের প্রায় পুরোটা সময় পিছিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তে নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়ায় ইংলিশ ক্লাবটি। ইনজুরি সময়ে মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল করে বায়ার্নকে ২-১ গোলে হারিয়ে ট্রেবল পূর্ণ করেছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। দীর্ঘ ৩০ বছর পর ২০২৯ সালে আবারও ক্যাম্প ন্যুতে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। অবশ্য সেই সময় মাঠটির চেহারা হবে সম্পূর্ণ নতুন। পুনর্নির্মাণের পর আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় সজ্জিত ক্যাম্প ন্যুতে বসবে ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে বড় রাত। ২০২৯ সালের ফাইনালের মাধ্যমে স্পেনও আবার চ্যাম্পিয়নস লিগের বড় মঞ্চে বিশেষ গুরুত্ব পেতে যাচ্ছে। কারণ তার মাত্র দুই বছর আগেই, ২০২৭ সালের ফাইনালও স্পেনেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেই ফাইনালের ভেন্যু হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে মাদ্রিদের মেট্রোপলিতানো স্টেডিয়াম। অর্থাৎ ২০২৭ থেকে ২০২৯- টানা তিন বছরে চ্যাম্পিয়নস লিগের তিনটি ফাইনালের দুটি হবে স্পেনে এবং একটি জার্মানিতে। শুধু চ্যাম্পিয়নস লিগ নয়, ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের অন্যান্য প্রতিযোগিতার ফাইনালের ভেন্যুও ঘোষণা করেছে উয়েফা। ইউরোপা লিগের ২০২৮ সালের ফাইনাল হবে রোমানিয়ার রাজধানী বুখারেস্টে। ২০২৯ সালের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে। ইউরোপা কনফারেন্স লিগের ২০২৮ সালের ফাইনাল আয়োজন করবে ইতালির তুরিন। এক বছর পর ২০২৯ সালের ফাইনাল হবে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে। এদিকে উয়েফা সুপার কাপের ২০২৭ ও ২০২৮ সালের আয়োজক শহরও নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৭ সালের সুপার কাপ অনুষ্ঠিত হবে নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে। পরের বছর ২০২৮ সালের সুপার কাপের ভেন্যু কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানা। নারীদের চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালের ভেন্যুও ঘোষণা করেছে উয়েফা। ২০২৮ সালের নারী চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল হবে ফ্রান্সের লিয়নে, আর ২০২৯ সালের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফে। সব মিলিয়ে আগামী কয়েক বছরের ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের বড় ফাইনালগুলোর ভেন্যুতে দেখা যাচ্ছে ইউরোপের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও আধুনিক শহরের উপস্থিতি। মিউনিখের আলিয়াঞ্জ অ্যারেনা থেকে পুনর্নির্মিত ক্যাম্প ন্যু—চ্যাম্পিয়নস লিগের পরবর্তী দুই ফাইনাল ঘিরে তাই এখন থেকেই তৈরি হচ্ছে বাড়তি উত্তেজনা। আইএইচএস/