






শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ঝুড়িভর্তি মাটি, হাতে কোদাল। রাত জেগে নদীর পাড়ে পাহারা। সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামের মানুষের গত তিন দিন কাটছে এভাবেই। কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধে নতুন করে ফাটল দেখা দেওয়ায় জোয়ারের পানির চাপে যেকোনো মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় আতংকে রয়েছেন বালিয়া, শুভংকরকাঠি, তেঘরিয়া ও শ্রীমন্তকাঠি গ্রামের হাজারও মানুষ। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে জোয়ারের পানির তীব্র চাপে বালিয়া গ্রামের বেড়িবাঁধের একটি অংশ ভেঙে যায়। বিলের মৎস্যঘেরের মালিকরা প্রথমে বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত গ্রামে এসে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেন। খবর পেয়ে ঘুম থেকে উঠে নারী-পুরুষসহ গ্রামের মানুষ ঝুড়ি ও কোদাল নিয়ে ছুটে যান নদের পাড়ে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তারা ভাঙা অংশটি সাময়িকভাবে মেরামত করে লোকালয়ে পানি প্রবেশ ঠেকান। সেদিন বড় ধরনের বিপদ এড়ানো গেলেও ঝুঁকি কাটেনি। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, বাঁধের আরও দুটি স্থানে নতুন করে ফাটল ধরেছে। ফাটল দিয়ে পানি চুইয়ে ভেতরে প্রবেশ করছে। গত তিনদিন ধরে গ্রামের মানুষ পালা করে বাঁধ পাহারা দিচ্ছেন এবং দুর্বল স্থানগুলো মাটি দিয়ে শক্ত করার চেষ্টা করছেন। তবে পর্যাপ্ত জনবল ও প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবে এভাবে কতক্ষণ বাঁধ রক্ষা করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন তারা। বালিয়া গ্রামের বাসিন্দা নাজমিন আক্তার জাগো নিউজকে বলেন, ‘শনিবার রাতে সময়মতো সবাই ছুটে না গেলে এতক্ষণে ঘরবাড়ি ও মাছের ঘের লোনা পানিতে তলিয়ে যেত।’ তিনি বলেন, নতুন করে ফাটল ধরার পর গত তিনদিন ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ড, রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফোন করা হলেও কেউ এসে পরিস্থিতি দেখেননি। নাজমিন আক্তারের আশঙ্কা, বাঁধটি ভেঙে গেলে বালিয়াসহ পাশের শুভংকরকাঠি, তেঘরিয়া ও শ্রীমন্তকাঠি গ্রামের শতাধিক বাড়িঘর প্লাবিত হবে। একই সঙ্গে তলিয়ে যাবে বিস্তীর্ণ মাছের ঘের ও কৃষিজমি। এতে ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। আরও পড়ুন জাগো নিউজে সংবাদ প্রকাশ / ফেরত এলো হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের লুট হওয়া সব ব্লক বালিয়া গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান গাজী ও জামাল উদ্দিন জানান, প্রায় ১২-১৩ বছর আগে কপোতাক্ষ নদ খনন শুরু হলে এলাকাবাসী সিএস ম্যাপ অনুযায়ী নদ খননের দাবি জানিয়েছিলেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রথম দুদিন সিএস ম্যাপ অনুযায়ী কাজ করলেও পরে সেই অনুযায়ী খনন বন্ধ হয়ে যায়। তাদের অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে ভিন্নভাবে খনন করায় কপোতাক্ষ নদ তার নিজস্ব গতিপথ থেকে সরে বালিয়া গ্রামের জনবসতির কাছাকাছি চলে আসে। এতে বালিয়া অংশে নদের গভীরতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, একই সময়ে এলাকায় টিআরএম প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ায় নদ আরও খরস্রোতা হয়ে ওঠে। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড এখানে কোনো স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করেনি। ফলে প্রায় প্রতিবছর জোয়ারের পানির চাপে টিআরএম সংযোগ খালের পাশে দুটি পয়েন্টে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে কৃষক ও ঘেরমালিকদের বড় অংকের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। তাদের অভিযোগ, স্থায়ী সমাধানের দাবিতে বারবার লিখিত আবেদন, সভা ও মানববন্ধন করা হলেও এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। খেশরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম লাল্টু বলেন, ‘বালিয়া গ্রামের বাঁধের একাধিক স্থান ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে এবং নতুন করে ফাটল দেখা দিয়েছে। বাঁধ ভেঙে গেলে পুরো এলাকা লোনা পানিতে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’ আরও পড়ুন নোয়াখালীর আলোচিত ‘রিকশাওয়ালার বাঁধ’ কেটে দিলো প্রশাসন তিনি জানান, বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। তবে এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করতে হবে। পাশাপাশি কপোতাক্ষ নদের বালিয়া অংশ সিএস ম্যাপ অনুযায়ী পুনরায় খনন করে স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া বলেন, বালিয়া এলাকার বাঁধের ঝুঁকির বিষয়টি তিনি জানেন। এর আগেও সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের অনুরোধে সেখানে গিয়ে প্রাথমিকভাবে কাজের অনুমতি পাওয়া গেলেও পরে তা বাতিল করা হয়। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বর্তমানে সারাদেশে জরুরি কাজ বন্ধ থাকায় আপাতত সেখানে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। মন্ত্রণালয় থেকে পুনরায় বরাদ্দ পাওয়া গেলে বাঁধের কাজ করা সম্ভব হবে। আহসানুর রহমান রাজীব/এসআর/জেআইএম
ক্যানসার চিকিৎসার অংশ হিসেবে কেমোথেরাপি নিচ্ছেন অভিনেত্রী, মডেল ও উপস্থাপক সামিয়া আফরিন। চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় চুল পড়ে যেতে পারে, এমন কথা আগেই জানিয়েছিলেন চিকিৎসকেরা। চিকিৎসার এ পর্যায়ে এসে মাথার চুল ফেলে দিয়েছেন সামিয়া। ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে নিজের উপলব্ধির কথা জানিয়েছেন তিনি।সামিয়া আফরিনসামিয়া লিখেছেন, ‘কখনো ভাবিনি, জীবনে আবার এমন একটা সময় আসবে, যখন আমার মাথাটা আবার পুরোপুরি ন্যাড়া হয়ে যাবে! ছোটবেলায় হয়তো এমন হয়েছিল, তখন সেটি নিয়ে ভাবারও বয়স ছিল না; কিন্তু বড় হয়ে কোনো বিশেষ কারণ ছাড়া এভাবে চুল হারানোর অভিজ্ঞতা হয়তো খুব কম মানুষেরই আসে।’সামিয়া আফরিনজীবনের সব পরিবর্তন নিজের পছন্দমতো হয় না—এ কথা সামিয়া উল্লেখ করেছেন তাঁর ফেসবুক পোস্টে। তিনি লিখেছেন, ‘জীবনে কিছু কিছু বিষয় আমাদের পছন্দের নয়; কিন্তু মেনে নিতে হয়। কিছু পরিবর্তন আমাদের জন্য সহজ নয়, কিন্তু সেগুলোও আপন করে নিতে হয়। আর আমি সেটিই করছি—নিজের এই রূপ গ্রহণ করছি, মেনে নিচ্ছি এবং নিজের মতো করে আপন করে নিচ্ছি।’চুল থাকুক বা না থাকুক, সৌন্দর্যের সংজ্ঞা যে শুধু আয়নায় নিজের প্রতিচ্ছবি দেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, সেটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন সামিয়া। তাঁর মতে, ‘চুল থাকুক বা না থাকুক, সৌন্দর্য শুধু আয়নায় দেখা যায় না। আসল সৌন্দর্য হলো নিজেকে নিজের মতো করে গ্রহণ করতে পারা।’সবকিছু সহজ করতে গিয়ে জীবনটাই জটিল হয়ে গেছেউপস্থাপক সামিয়া আফরিননিজের এই চেহারাকেও জীবনের একটি গল্প হিসেবে দেখছেন সামিয়া। তিনি লিখেছেন, ‘এই লুকটাও তাই আমার জীবনের একটা গল্প। একটি কঠিন সময়ের গল্প; কিন্তু একই সঙ্গে সাহস, গ্রহণ করে নেওয়া আর নিজের প্রতি ভালোবাসারও গল্প।’সবশেষে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজের নতুন রূপ স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করে সামিয়া লিখেছেন, ‘হ্যাঁ, এই আমিই—ন্যাড়া মাথায়, নিজের এই রূপ নিয়ে বিন্দুমাত্র সংকোচহীন।’ এরপর আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘আমার জীবনের প্রতিটি রূপের জন্য আলহামদুলিল্লাহ। আর ইনশা আল্লাহ, এই সময়টাও একদিন কেটে যাবে।’চতুর্থ পর্যায়ের ক্যানসার থেকে ফিরে আসার গল্প বললেন উপস্থাপক সামিয়াসামিয়া আফরিনপাঁচ বছর ধরে সামিয়া আফরিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছেন। ২০২২ সালের এপ্রিলের দিকে শারীরিক অস্বস্তি নিয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে পরীক্ষা করালে তাঁর কোলন ক্যানসার ধরা পড়ে। পরে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পর পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে স্বাভাবিক জীবনেও ফিরেছিলেন তিনি। তবে সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। চলতি বছরে তিন মাস আগে দ্বিতীয়বারের মতো তাঁর শরীরে ম্যালিগন্যান্ট টিউমার ধরা পড়ে। এবার তাঁর ওভারিয়ান বা ডিম্বাশয়ের ক্যানসার শনাক্ত হয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে কেমোথেরাপি নিচ্ছেন সামিয়া।
বয়স মাত্র ১৮। এখনো স্কুলের শেষ পরীক্ষাই দেওয়া হয়নি। অথচ প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেকেই এমন কীর্তি গড়েছেন জেজে বাসন, যা দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে। ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকার ৪ দিনের প্রথম শ্রেণির ম্যাচে লায়ন্সের হয়ে অভিষেক ম্যাচে ৯৯ রানে ১১ উইকেট নিয়ে লাল বলের ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে অভিষেক করা কোনো পেসারের সেরা ম্যাচ বোলিং ফিগার এখন তার দখলে। এমন অভিষেক জেজে বাসন নিজেও কল্পনা করেননি। চলতি সপ্তাহেই তার স্কুলের শেষ পরীক্ষা দেওয়ার কথা। তার আগেই ক্রিকেট মাঠে নিজের নাম লিখিয়েছেন ইতিহাসের পাতায়। দক্ষিণ আফ্রিকার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে এ বছরের শুরুর দিকে দলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ছিলেন বাসন। তবে বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে উঠে এসে অভিষেকেই যে এমন ঝড় তুলবেন, তা হয়তো খুব কম মানুষই ভেবেছিলেন। ‘আমার অভিষেক ম্যাচটা এমন হবে, কখনো কল্পনাই করিনি। যেভাবে অবদান রাখতে পেরেছি, সেটা দারুণ ব্যাপার। আমি যা অর্জন করেছি, তা নিয়ে সত্যিই গর্বিত। এই ম্যাচটা অনেক দিন মনে থাকবে।’ বাসনের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ লায়ন্সের বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ড। দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক তারকা পেসার নিজের ক্যারিয়ারে অসংখ্য প্রতিভাবান ফাস্ট বোলার দেখেছেন। তাই নতুন কারও সম্ভাবনা নিয়ে খুব দ্রুত মন্তব্য করতে সাধারণত সতর্ক থাকেন তিনি। কিন্তু বাসনের অভিষেক তাকে এতটাই মুগ্ধ করেছে যে প্রশংসা না করে পারেননি। ‘এই ছেলেটাকে কী দারুণ খুঁজে পাওয়া গেছে!’- বলেছেন ডোনাল্ড। এরপরই অবশ্য সতর্ক করে দিয়েছেন, এত দ্রুত কোনো তরুণকে বড় কোনো তকমা দেওয়া ঠিক নয়। কিন্তু বাসনের বোলিংয়ের পরিপক্বতা তাকে অবাক করেছে। ডোনাল্ডের ভাষায়, ২৮ বছর বয়সী অনেক পেসার জীবনে হয়তো মাত্র একবার এমন স্পেল করতে পারেন, যা বাসন অভিষেকেই করে দেখিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে তার বোলিংয়ের পরিণত ভাব। অভিজ্ঞ পেসারদের অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব বাসনের কাঁধে বাসনের কীর্তিকে আরও বিশেষ করে তুলেছে লায়ন্সের পরিস্থিতি। দলের নিয়মিত বেশ কয়েকজন পেসার তখন ছিলেন না। লুথো সিপামলা নামিবিয়ার বিপক্ষে চোটে পড়েছিলেন। কুয়েনা মাফাকা ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় দলের সঙ্গে। জেরাল্ড কোয়েৎজি ও কোডি ইউসুফ ছিলেন ‘এ’ দলের দায়িত্বে। আর ব্যক্তিগত কারণে ছিলেন না উইয়ান মুল্ডার। ফলে অভিষেকেই লায়ন্সের বোলিং আক্রমণের নেতৃত্ব দিতে হয় বাসনকে। তার সঙ্গে ছিলেন আরও দুই বোলারের, উইলকো ডি ব্রুইন ও রাফিক প্যাটেলের, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক। অর্থাৎ একেবারে নতুন একটি পেস আক্রমণের সামনে দায়িত্বটা ছিল বড়। কিন্তু প্রথম স্পেল থেকেই উইকেট নিয়ে বাসন বুঝিয়ে দেন, সেই দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি প্রস্তুত। প্রথম ইনিংসে নিজের তৃতীয় ওভারেই বোল্যান্ডের ওপেনার ব্লেড ক্যাপেলকে বোল্ড করেন বাসন। সেটিই ছিল শুরু। এরপর তার শিকার হন গ্যাভিন কাপলান। আগের মৌসুমে ৯০০-এর বেশি রান করে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়া কাপলানকে প্রথম বলেই ফিরিয়ে দেন বাসন। এরপর আউট করেন অপর ওপেনার রুয়ান টেরব্লাঞ্চেকে। তবে সবচেয়ে উপভোগ করেছেন দুইবারের টেস্ট অধিনায়ক নিল ব্র্যান্ডের উইকেটটি। ব্র্যান্ডকে সরাসরি বোল্ড করে দেন বাসন। ‘ওটাই আমার সবচেয়ে পছন্দের উইকেট। আমি তাকে পরিষ্কার বোল্ড করেছি। একজন বোলারের জন্য ব্যাটারের ব্যাট-প্যাডের ফাঁক দিয়ে বল গিয়ে স্টাম্প উড়িয়ে দেওয়া- এর চেয়ে বিশেষ কিছু হতে পারে না। এটাই আমার প্রিয় উইকেট।’ এক পর্যায়ে বোল্যান্ডের স্কোর দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ৯০ রান। সেই ছয়টি উইকেটই নিয়েছিলেন বাসন। এরপর আবার তাকে আক্রমণে ফিরিয়ে আনা হয় সেঞ্চুরিয়ান লেহান বোথাকে ফেরাতে। ১৭০ রান করা বোথাকেও শেষ পর্যন্ত নিজের শিকারে পরিণত করেন এই তরুণ পেসার। প্রথম ইনিংসে বাসনের বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ৬২ রান। লায়ন্স পরে বোল্যান্ডের সামনে ২৭৯ রানের লক্ষ্য দেয়। চতুর্থ দিনে সেই লক্ষ্য রক্ষা করতে গিয়ে লায়ন্সের ভরসার জায়গা ছিলেন বাসনই। দলের অন্য যে কোনো পেসারের চেয়ে বেশি ওভার করেন তিনি এবং যে চারটি উইকেট পড়ে, সব কটিই তুলে নেন বাসন। অর্থাৎ অভিষেক ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে ১১ উইকেট- ৯৯ রানে। জেজে বাসনের বোলিংয়ে ডোনাল্ড সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ তার ছন্দ, সুইং ও কবজির অবস্থান দেখে। ‘ও যখন দ্বিতীয় স্পেল শুরু করল, তখনই বুঝতে পারছিলাম তার ছন্দ ঠিক জায়গায় আছে। এটা নিয়ে সে অনেক কাজ করেছে। আগে তার কিছু নো-বলের সমস্যা ছিল, কিন্তু এখন সে সেটা ঠিক করে ফেলেছে।’ তরুণ এই পেসারের বল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সুইং করার ক্ষমতাকেও বড় সম্পদ হিসেবে দেখছেন ডোনাল্ড। লম্বা গড়নের বাসনের স্বাভাবিক কবজির অবস্থান এবং বাঁহাতি হওয়াও তাকে বাড়তি সুবিধা দেয় বলে মনে করেন তিনি। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ- শেখার আগ্রহ। ডোনাল্ড বলেন, ‘বাসন খুব ভালো শ্রোতা এবং ভালো প্রশ্ন করে। অর্থাৎ শুধু প্রতিভা নয়, নিজের বোলিং আরও উন্নত করার মানসিকতাও রয়েছে তার।’ বাসনের পারফরম্যান্স দেখে ডোনাল্ডের মনে পড়ে গেছে কাগিসো রাবাদার কথা। ‘অ্যাডিলেড ওভালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কাগিসোর রাবাদাকে প্রথমবার দেখার সময়ও এমন অনুভূতি হয়েছিল। তখনই বুঝেছিলাম, ছেলেটার মধ্যে কিছু একটা আছে। মাঝেমধ্যে এমন কিছু ছেলে আসে, যাদের খুঁজে পাওয়া সত্যিই সৌভাগ্যের- তাদের যত্ন করে গড়ে তুলতে হয়।’ অবশ্য বাসনের সঙ্গে রাবাদার তুলনা এখনই করার সময় আসেনি। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া ক্রিকেটে এমন একজন তরুণ পেসারের আবির্ভাব দলটির জন্য নিঃসন্দেহে বড় সুখবর। এই মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরের মাঠে রয়েছে আটটি টেস্ট, নয়টি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি। এর বাইরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অ্যাওয়ে সিরিজে দুটি টেস্টও খেলবে তারা। এমন ব্যস্ত সূচিতে পেসারদের ওয়ার্কলোড ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তাই নিয়মিত পেসারদের বিশ্রাম ও রোটেশনের প্রয়োজন হতে পারে। সেই সুযোগে বাসনের জন্য জাতীয় দলের দরজাও হয়তো খুলে যেতে পারে। তবে আপাতত তার সামনে আরও জরুরি একটি কাজ- স্কুলের পড়াশোনা শেষ করা। ডোনাল্ডও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ‘পড়াশোনাই আগে।’ অভিষেক ম্যাচের পর ড্রেসিংরুমে বই নিয়ে বাসনের বসে থাকার দৃশ্যটিও তার কাছে বেশ মজার। সতীর্থদের ক্রিকেটের ব্যস্ততার মাঝেই বাসনকে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। কারণ চলতি সপ্তাহেই তার শেষ পরীক্ষা। এই কারণে লায়ন্সের পরের ম্যাচেও খেলছেন না তিনি। ব্লুমফন্টেইনে নাইটসের বিপক্ষে দলের সঙ্গে ভ্রমণ করার সুযোগ না পেয়ে কিছুটা হতাশ বাসন। ‘সম্ভবত সফরকারী একাদশের অংশ হওয়ার সুযোগটা হাতছাড়া হওয়ায় খারাপ লাগছে। তবে এটা যাত্রারই অংশ।’ তবে স্কুল শেষ হওয়ার পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে বাসনের কোনো দ্বিধা নেই, ‘আমার শেষ পরীক্ষা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুরোপুরি ক্রিকেট।’ আইএইচএস/