জাতীয়

এক বহুমাত্রিক গুণী মানুষকে নিয়ে ব্যতিক্রমী আয়োজন

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
এক বহুমাত্রিক গুণী মানুষকে নিয়ে ব্যতিক্রমী আয়োজন
এক বহুমাত্রিক গুণী মানুষকে নিয়ে ব্যতিক্রমী আয়োজন

প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই কোনো না কোনো বিশেষ গুণ জন্মগতভাবেই থাকে। পরবর্তী সময়ে সচেতন পরিচর্যায় অনেকে সেই গুণের উৎকর্ষ সাধনে সফল হন। আবার অনেকের ক্ষেত্রে অনেক রকম গুণের সন্নিবেশ লক্ষ করা যায়। শেখ রবিউল হক তেমনই একজন মানুষ, যাঁর মধ্যে বহুবিধ গুণের সমাবেশ ঘটেছে এবং তিনি সেসবের পরিচর্যা করে কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিখরস্পর্শী সাফল্য অর্জন করেছেন। একাধারে তিনি কবি, কথাসাহিত্যিক, গীতিকার, সুরকার, গায়ক, চিত্রকর, উদ্যোক্তা ও সমাজসেবী। জীবন চলার পথে ৮০ বছর অতিক্রম করলেন এই বহুমাত্রিক গুণীজন। সে উপলক্ষেই তাঁর সৃজনসম্ভার নিয়ে এক ব্যতিক্রমী আয়োজন ছিল রোববার শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায়।

‘শেখ রবিউল হক: ৮০ বছরের সৃজনযাত্রা’ নামের এ অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল বিকেলে জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে। চিত্রশালা প্লাজায় মোমবাতি প্রজ্বালন ও ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে বিরাজ সত্যসুন্দর’ গানের সঙ্গে শিশুদের নৃত্য পরিবেশনা দিয়ে শুরু হয়েছিল অনুষ্ঠান। জাতীয় চিত্রশালার ৭ নম্বর গ্যালারিতে শেখ রবিউল হকের চিত্রকর্ম প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বরেণ্য শিল্পী ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুন নবী। উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক কবি মুহাম্মদ নূরুল হুদা, বিশিষ্ট আবৃত্তি শিল্পী জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, শিল্পী মনিরুজ্জামানসহ বিশিষ্টজন, লায়ন্স ক্লাবের কর্মকর্তা, শেখ রবিউল হকের পরিবারের সদস্য ও তাঁর নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ট্রপিক্যাল হোমস লিমিটেডের কর্মকর্তারা।

জন্মদিন উপলক্ষে শেখ রবিউল হকের বাছাই করা ৮৫টি চিত্রকর্ম নিয়ে শুরু হলো ১০ দিনব্যাপী প্রদর্শনী। বাস্তব ও বিমূর্ত উভয় ধারার কাজই আছে প্রদর্শনীতে। তিনি বাংলার নিসর্গ, ফুল, গ্রামের দৃশ্য, নদীর তীরে সূর্যাস্ত, কোভিডকালে মানুষের বেকারত্ব, শীতের খেজুর গাছের রস সংগ্রহ, গ্রামীণ কিশোরদের দুরন্তপনা—এমন অনেক দৃশ্য এঁকেছেন।

শেখ রবিউল হকের চিত্রকর্ম প্রদর্শনী দেখছেন বরেণ্য শিল্পী ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুন নবীসহ অতিথিরা। রোববার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায়

উদ্বোধন করে শিল্পী রফিকুন নবী বলেন, শেখ রবিউল হক চিত্রকলায় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ করেননি। স্বশিক্ষিত শিল্পী তিনি। তাঁর বিষয়বস্তু নির্বাচন ও রঙের বিন্যাস চমৎকার। একটি বৃহৎ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার পাশাপাশি তিনি এত সময় দিয়ে এত ছবি এঁকেছেন, লেখালেখি করেছেন—এটা সত্যি বিস্ময়কর। শেখ রবিউল হকের কাজের পরিমাণ দেখে তিনি একই সঙ্গে বিস্মিত ও আনন্দিত।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাচিক শিল্পী জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, লায়ন্স ক্লাবের জেলা গভর্নর নওজাত সারওয়ার ইসলাম, ট্রপিক্যাল হোমসের নির্বাহী পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ওয়াহিদুল ইসলাম তালুকদার প্রমুখ।

শিল্পী ও উদ্যোক্তা শেখ রবিউল হকের ৮০তম জন্মবার্ষিকী উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে নৃত্যু পরিবেশন করে শিশু শিল্পীরা। রোববার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায়

অনুষ্ঠানে শেখ রবিউল হকের উপন্যাস টেল অব টু স্লাম–এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

জন্মদিনের এই আয়োজন সম্পর্কে শেখ রবিউল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখনো কাজ করছি, ব্যস্ত আছি—এটাই সবচেয়ে আনন্দের। এমন আয়োজন করে জন্মদিন করা হয় না। এবার সবাই মিলে এই এত বড় আয়োজন করল। তাদের ধন্যবাদ।’

আয়োজনে সাংস্কৃতিক পর্বে শেখ রবিউল হকের জীবন ও কর্মের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। সবার অনুরোধে তিনি স্ত্রী মারুফা হককে নিয়ে মঞ্চে এসে ‘এই সুন্দর স্বর্ণালি সন্ধ্যায়’ গানটি গেয়ে শোনান। অনুষ্ঠানে বেহালায় রবীন্দ্রসংগীতের সুর বাদন করে তাঁর নাতি শেখ ফারজিন, রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন রেফুল করিম, শেখ রবিউল হকের গান পরিবেশন করেন বাউল গরিব মুক্তার।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে ‘গ্লোবাল মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ লাভার্স সোসাইটি’র ভাষা ও ঐতিহ্য উৎসব ২০২৬ অনুষ্ঠিত
কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে ‘গ্লোবাল মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ লাভার্স সোসাইটি’র ভাষা ও ঐতিহ্য উৎসব ২০২৬ অনুষ্ঠিত

ভাষা কেবল ভাব প্রকাশের মাধ্যম নয়; এটি একটি জাতির ইতিহাস, সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ও মৌলিক পরিচয়ের ধারক ও বাহক। মানুষের চিন্তা, চেতনা এবং স্বকীয়তা ভাষার মধ্য দিয়েই পূর্ণতা পায়। এই আদর্শে মাতৃভাষা ও ভাষার গুরুত্ব সংরক্ষণের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন কানাডার ভ্যাঙ্কুভারের ‘গ্লোবাল মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ লাভার্স সোসাইটি’ (GMLLS)। এই সংগঠনের উদ্যোগে ৬ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার নিউ ওয়েস্টমিনস্টারের কুইন্সবোরো কমিউনিটি সেন্টারের মুক্তমঞ্চে বার্ষিক ‘মাতৃভাষা উৎসব ২০২৬’ সফলভাবে উদ্‌যাপিত হয়েছে। গ্লোবাল মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ লাভার্স সোসাইটি ভ্যাঙ্কুভারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আব্দুল মতিন। ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্বরত মাইকেল দীপায়ন মিত্র ও হাসান মামুন এবং জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্বরত শফিউল আজম। প্রেসিডেন্ট আব্দুল মতিন এই সংগঠনের সঙ্গে বিভিন্ন পদে প্রায় ১৪ বছর ধরে নিবেদিতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।চলতি বছরে তাঁদের এই উৎসবের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যই আমাদের পরিচয়।’ বিশ্বজুড়ে মাতৃভাষার প্রচার, প্রসার ও সংরক্ষণের অঙ্গীকার নিয়ে আয়োজিত এই উৎসবে বিশিষ্ট সমাজসেবক, লেখক, কবি, সাংস্কৃতিক কর্মী, শিল্পী এবং কানাডার বিভিন্ন জাতি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।উদ্বোধনী পর্ব কানাডার জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে উৎসবের শুভ সূচনা হয়। এরপর ফার্স্ট নেশনসের (কানাডার আদিবাসী) শিল্পীরা ঐতিহ্যবাহী উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করে দেশীয় ভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের ভাষাশহীদ এবং বিশ্বের যেসব মানুষ মাতৃভাষা রক্ষায় জীবন উৎসর্গ করেছেন ও সংগ্রাম করেছেন, তাঁদের স্মরণে ৩০ সেকেন্ডের নীরবতা পালন করা হয়।দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: dp@prothomalo.comফেডারেল সংসদ সদস্য জেইক সাওয়াটস্কি (Jake Sawatzky) দাপ্তরিক ব্যস্ততার কারণে উপস্থিত থাকতে না পারলেও উৎসবের মূল অতিথি হিসেবে একটি বিশেষ বার্তা পাঠান। তিনি মাতৃভাষা সংরক্ষণের চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান ও সাধুবাদ জানান। তাঁর বার্তা পাঠ করে শোনান শফিউল আজম।কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় বসবাসরত বিশিষ্ট বাঙালি লেখক ও কবিরা এই আয়োজনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। সাহিত্যিক ও সংবাদকর্মী ফারজানা নাজ শম্পা তাঁর অনূদিত বই থেকে কানাডিয়ান কবি জর্জ এলিয়টের ইংরেজি কবিতার এবং বাংলা আবৃত্তি উপস্থাপন করেন। তিনি বিভিন্ন ভাষার সৌন্দর্যকে অলংকারের সঙ্গে তুলনা এবং কানাডার সাহিত্য অনুবাদের প্রয়োজনীতা ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ৭০টির বেশি ভাষা সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এই সংগঠনের দীর্ঘদিনের সহযোগী কবি শাহানা আক্তার মহুয়া তাঁর বক্তব্যে ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য কীভাবে আমাদের স্বতন্ত্র পরিচয় গঠন করে, তা তুলে ধরেন।জিএমএলএলএসের সভাপতি আবদুল মতিন তাঁর বক্তব্যে মনে করিয়ে দেন যে মাতৃভাষা রক্ষার লড়াই শুরু হওয়া উচিত নিজের ঘর থেকেই। অভিভাবকেরা যেন প্রতিদিনের পারিবারিক জীবনে সন্তানদের সঙ্গে মাতৃভাষায় কথা বলেন, সেই আহ্বান জানান তিনি। তিনি উল্লেখ করেন, ভাষা হলো শিকড় ও বংশানুক্রমিক ঐতিহ্যের মূল সেতু; এটি হারিয়ে গেলে নিজের সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি থাকে।এ ছাড়া ড. মতিন ইউনেসকোতে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতির প্রস্তাবক প্রয়াত রফিকুল ইসলাম ও আবদুস সালামের অনন্য অবদানের কথা পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন। তাঁদের ঐতিহাসিক প্রচেষ্টাতেই ১৯৯৯ সালে ইউনেসকো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।বহুমুখী সংস্কৃতি ও পারস্পরিক মেলবন্ধনের আবহে এই উৎসবটির সফল আয়োজনের পেছনে ছিল GMLLS নির্বাহী কমিটির নিরলস পরিশ্রম ও চমৎকার দলগত প্রচেষ্টা।এই বর্ণিল আয়োজনে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানানো হয় হাসান মামুন, মাইকেল মিত্র, শফিউল আজমসহ নির্বাহী কমিটির সব সদস্যকে, যাঁদের পরিকল্পনা ও সুসমন্বয়ে অনুষ্ঠানটি সাবলীলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় কানাডার Multiculturalism বা বহুমাত্রিক সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটে, যা এককথায় ছিল চিত্তাকর্ষক।বাংলাদেশ, চীন, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়ার শিল্পীদের তাঁদের স্বকীয় সংস্কৃতির আবহে বর্ণিল নৃত্য পরিবেশনা সার্বিক অনুষ্ঠানে উচ্চতর মাত্রা যোগ করে তা দর্শকদের মুগ্ধ করে। সেদিনের সংস্কৃতির বৈচিত্র্যময় এই অপূর্ব মেলবন্ধন প্রমাণ করে কীভাবে ভাষা মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে।সভাপতি ড. আব্দুল মতিন ফুলের শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সহ–আহ্বায়ক সর্বজন শ্রদ্ধেয় আব্দুস সালামের হাতে।অনুষ্ঠানের সমাপ্তি বক্তব্যে সভাপতি ড. আবদুল মতিন এবং ভ্যাঙ্কুভারে জিভিবিসিএর (GVBCA) সভাপতি এম এইচ লিটন, ল্যাডোনা উইকসের (Ladonna Wiks) নেতৃত্বে উপস্থিত ফার্স্ট নেশনস টিম, কারিগরি ও শব্দ নিয়ন্ত্রণ দল, স্বেচ্ছাসেবী এবং আগত দর্শক-শ্রোতাদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।২০২৬ সালের এই মাতৃভাষা উৎসব কেবল একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল না; এটি ছিল স্মরণ করিয়ে দেওয়ার একটি বিশেষ মুহূর্ত যে ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, তা বহন করে আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, মূল্যবোধ ও অস্তিত্ব।

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ

ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ

টিভিতে আজকের খেলা, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টিভিতে আজকের খেলা, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বনরুটির দাম বাড়ল ৫ টাকা, শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট বেড়েছে

বনরুটির দাম বাড়ল ৫ টাকা, শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট বেড়েছে

৫১তম বিসিএস সাধারণ না বিশেষ, কোনটি আগে আসছে
৫১তম বিসিএস সাধারণ না বিশেষ, কোনটি আগে আসছে

বছরে একটি করে বিসিএস পরীক্ষা সম্পন্ন করে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের রোডম্যাপ ধরে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। লক্ষ্য অনুযায়ী চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যেই ৫০তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ এবং একই মাসে ৫১তম সাধারণ বিসিএসের নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য কমিশন প্রস্তুত হচ্ছে। কিন্তু সম্প্রতি বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের সরকারি সিদ্ধান্ত এই প্রক্রিয়ায় নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। ফলে চাকরিপ্রার্থীদের মনে এখন একটি বড় প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, আসছে বিসিএসটি সাধারণ হবে, নাকি চিকিৎসকদের জন্য বিশেষ বিসিএস?বর্তমানে ৫০তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) চলছে। এটি দ্রুত শেষ করে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নভেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করতে চায় পিএসসি। সেই হিসাব ধরেই একই সময়ে সাধারণ ক্যাডারের নতুন বিসিএস হিসেবে ৫১তম বিসিএসের প্রজ্ঞাপন জারি করার প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের সরকারি হাসপাতালে শূন্য পদে জনবল বাড়াতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। ৪ হাজার ৭০০ জন সহকারী সার্জন ও ৩০০ জন ডেন্টাল সার্জনসহ ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের চাহিদাপত্র ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা সরকারের কাছ থেকে পেয়েছে পিএসসি। পিএসসি সূত্র নিশ্চিত করেছে, চিঠি পাওয়ার পর এই বিশেষ বিসিএসের প্রাথমিক দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ২ লাখ টাকার আইটি স্কলারশিপ, ডিগ্রি যা-ই হোক আবেদনের আছে সুযোগএকই সময়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ সামনে আসায় আগামী বিসিএস নিয়ে ক্যাডারপ্রত্যাশীদের মধ্যে একধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ বিসিএসের চাহিদাপত্র আগে প্রস্তুত হয়ে গেলে সেটি সাধারণ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি ঠেলে আগে চলে আসবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। যে পরীক্ষাটির বিজ্ঞপ্তি আগে প্রকাশিত হবে, নম্বর গণনার নিয়ম অনুযায়ী সেটিই ৫১তম বিসিএস হিসেবে বিবেচিত হওয়ার কথা।বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মতিউর রহমান প্রথম আলোকে জানান, দুই বিসিএসের কোনটির বিজ্ঞপ্তি আগে প্রকাশিত হবে—সাধারণ না বিশেষ, সে বিষয়ে এখনো কমিশনের থেকে সিদ্ধান্ত হয়নি। চাহিদাপত্র ও প্রাথমিক দাপ্তরিক সব কাজ শেষ করে কমিশনের বোর্ড মিটিংয়ে এটি বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে। সেই বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর যে বিসিএসের বিজ্ঞপ্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে আগে জারি হবে, সেটিকেই ৫১তম বিসিএস হিসেবে অভিহিত করা হবে।বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানায় চাকরি, পদ ১৪২ বিশেষ বিসিএসের সুবিধা হলো এতে লিখিত পরীক্ষার দীর্ঘ জটিলতা থাকে না। কেবল প্রিলিমিনারি ও ভাইভার মাধ্যমে তুলনামূলক কম সময়ে নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হয়। অন্যদিকে হাজার হাজার ক্যাডারপ্রত্যাশী সাধারণ বিসিএসের জন্য নভেম্বরের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। কমিশন এখন কোনটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে আগে সামনে আনবে, তার ওপরই নির্ভর করছে ৫১তম বিসিএসের পরিচয়।

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
স্ট্যানফোর্ডে পড়াশোনার সুযোগ অনলাইনে, নেই টিউশন ফি, যাঁরা আবেদনের যোগ্য

স্ট্যানফোর্ডে পড়াশোনার সুযোগ অনলাইনে, নেই টিউশন ফি, যাঁরা আবেদনের যোগ্য

গোপাল দাসের দুঃখের ঘুম

গোপাল দাসের দুঃখের ঘুম

গোলাম আজমকে জুতাপেটার ছবি টানানোর কারণ জানালেন অর্ক

গোলাম আজমকে জুতাপেটার ছবি টানানোর কারণ জানালেন অর্ক

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, জিএম স্ট্যান্ড রিলিজ
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, জিএম স্ট্যান্ড রিলিজ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করার লক্ষ্যে ভার্চুয়াল কনফারেন্সে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (এমপি)। এ উপলক্ষে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা মিলনায়তনে সরাসরি সম্প্রচার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কিন্তু বক্তব্য শুরু হওয়ার মাত্র এক মিনিটের মাথায় কনফারেন্স স্থলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং কিছুক্ষণ পর ফিরে আসে। পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও কেবল মিলনায়তনে এমন ঘটনা ঘটায় স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার পরদিন রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মানব সম্পদ পরিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মইনুল হাসান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পিরোজপুরের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. আলতাপ হোসেনকে পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড বরিশাল জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়ে সংযুক্ত করার আদেশ দেওয়া হয়। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অতিরিক্ত দায়িত্বরত জেনারেল ম্যানেজার মো. কামরুজ্জামান। অফিস আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, জিএম মো. আলতাপ হোসেনকে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সংযুক্তিকৃত দপ্তরে যোগদান করার জন্য বলা হলো। একইসঙ্গে পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জ্যেষ্ঠ ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারকে তার নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতাসহ জিএম এর অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অ.দা.) রাইসুল ইসলাম বলেন, আমি আগেই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে বিষয়টি অবগত করেছিলাম। তারপরও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য চলাকালে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। তবে উপজেলা পরিষদের অন্য জায়গায় বিদ্যুৎ ছিল। কমিউনিকেশন গ্যাপ হওয়ার কারণে এটা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। পরবর্তীতে শুনেছি জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাকে বরিশালে সংযুক্ত করা হয়েছে। পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (অ.দা.) মো. কামরুজ্জামান বলেন, ইউএনওর অফিসে নাকি বিদ্যুৎ ছিল না, ওখানকার সিএ অভিযোগ দিয়েছে যে তাদের অফিসের বিদ্যুৎ নেই। আমাদের লাইনম্যান যারা ছিল তারা গিয়েও দেখেছে অফিস বিদ্যুৎ নেই। আমাদের কর্মচারীদের ধারণা ছিল ইউএনও অফিসেই মনে হয় মিটিং হচ্ছে এজন্য লাইন বন্ধ করেছিল। লাইন বন্ধ করলে মিটিং স্থানেও বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যায়, তখনই সেখানকার বিদ্যুৎ অফিসের ইনচার্জকে কল দিয়ে বিষয়টি জানায় এবং এই কথোপকথনের মধ্যে দুই মিনিট বিদ্যুৎ বন্ধ ছিল। ধারণা করা হচ্ছে এজন্যই জিএমকে বরিশালে সংযুক্ত করা হয়েছে। মো. তরিকুল ইসলাম/এফএ

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, কর্মস্থল ঢাকা

বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, কর্মস্থল ঢাকা

সাতকানিয়ায় পিচ্চি জাহিদ হত্যা মামলায় ১০ আসামি গ্রেফতার

সাতকানিয়ায় পিচ্চি জাহিদ হত্যা মামলায় ১০ আসামি গ্রেফতার

গুদামে সর্বোচ্চ মজুতের পরও ‘চাপে পড়ে’ চাল কিনছে সরকার

গুদামে সর্বোচ্চ মজুতের পরও ‘চাপে পড়ে’ চাল কিনছে সরকার

0 Comments