সম্প্রতি তেজগাঁও কলেজে টিসিডিসি আয়োজিত প্রথম জাতীয় বিতর্ক উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার সুযোগ হয়েছিল। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ৩২টি কলেজ ও ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিক সেখানে সমবেত হয়েছিলেন। তেজগাঁও কলেজের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, একই প্রতিষ্ঠানে উচ্চমাধ্যমিক থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার সুযোগ রয়েছে। ফলে বাংলাদেশের শিক্ষা ও কর্মসংস্থান সংকটের একটি প্রায় উপেক্ষিত সংযোগ নিয়ে ভাবার জন্য এর চেয়ে উপযুক্ত স্থান সম্ভবত আর হতো না।
সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষিত বেকারত্বকে নিয়ে আমাদের নীতিগত আলোচনায় এটাকে প্রধানত বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাই সমাধানও খোঁজা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে নতুন কোর্স যোগ করে, শিক্ষার্থীদের আইসিটি বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রশিক্ষণ দিয়ে, ইন্টার্নশিপ চালু করে অথবা শিল্প–শিক্ষা সংযোগ বাড়িয়ে। এসব উদ্যোগ অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু প্রশ্ন হলো বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছানোর আগেই যেসব ঘাটতি তৈরি হয়েছে, কয়েকটি প্রযুক্তিবিষয়ক কোর্স দিয়ে কি সেগুলো পূরণ করা সম্ভব?
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে বেকার মানুষের সংখ্যা ছিল ২৬ লাখ ২৪ হাজার; তাঁদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়-শিক্ষিত বেকারই ছিলেন ৮ লাখ ৮৫ হাজার। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি তিনজন বেকার স্নাতকের একজন চাকরি খুঁজেও দুই বছর পর্যন্ত কাজ পাননি। দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব একজন তরুণের শুধু বর্তমান আয় নয়, ভবিষ্যৎ কর্মজীবনেও স্থায়ী ক্ষত তৈরি করতে পারে।
সম্প্রতি প্রথম আলোয় প্রকাশিত ‘সার্টিফিকেট নাকি সক্ষমতা? বিশ্ববাজার প্রযুক্তিনির্ভর, কারিগরি শিক্ষা কতটা প্রস্তুত’ শীর্ষক লেখাটিও যথার্থভাবেই প্রশ্ন তুলেছে—আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা কি সত্যিই শ্রমবাজারের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা তৈরি করছে? লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, উচ্চমাধ্যমিক পেরিয়ে আসা অনেক শিক্ষার্থীর বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান ও ইংরেজিতে কার্যকর যোগাযোগের সক্ষমতায় বড় ঘাটতি রয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ সংকটটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ প্রান্তে নয়; এর শুরু আরও আগে।
এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক উদ্যোগটি প্রশংসার দাবিদার। ২০২৬ সালের জুনে ১২ হাজার কলেজশিক্ষককে দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী শিক্ষা দেওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। ৯০০ মাস্টার ট্রেইনারের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা। নতুন পাঠ্যক্রমে ফ্রিল্যান্সিং, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ডিজিটাল মার্কেটিং, সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং ও ডেটা সায়েন্সের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী নিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র। অতএব এই উদ্যোগের সম্ভাব্য সামাজিক প্রভাবও বিরাট। কিন্তু এর সফলতা নির্ভর করবে আমরা ‘দক্ষতা’ বলতে শুধু নতুন কয়েকটি প্রযুক্তির ব্যবহার বুঝি, নাকি একজন শিক্ষার্থীর শেখা, চিন্তা করা, যোগাযোগ করা ও সমস্যা সমাধানের সামগ্রিক সক্ষমতা বুঝি।
কারণ, দুর্বল পাঠ অনুধাবন, সংখ্যাজ্ঞান ও ভাষাদক্ষতার ওপর এআই, ডেটা সায়েন্স বা ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের প্রশিক্ষণ বসালে সেটি অনেকটা ছিদ্রযুক্ত ভিতের ওপর নতুন তলা নির্মাণের মতো হবে। শিক্ষার্থীরা সফটওয়্যারের কয়েকটি নির্দেশ শিখতে পারেন, কিন্তু নতুন সমস্যায় সেই জ্ঞান প্রয়োগ, যন্ত্রের দেওয়া উত্তর যাচাই বা তথ্য থেকে যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে পিছিয়ে থাকবেন। এখানেই উচ্চমাধ্যমিক স্তরের গুরুত্ব।
বাংলাদেশে উচ্চমাধ্যমিকের একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিকে মূলত পরীক্ষার প্রস্তুতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির মধ্যবর্তী সময় হিসেবে দেখা হয়। অথচ এটি কৈশোর থেকে প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষা ও কর্মজীবনে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ সেতু। মাধ্যমিক পর্যায়ে কোনো শিক্ষার্থী পাঠ অনুধাবন, সংখ্যাজ্ঞান, ইংরেজি, বৈজ্ঞানিক যুক্তি বা সাধারণ জ্ঞানে ঘাটতি নিয়ে এলে, এই দুই বছর তাকে শনাক্ত ও সহায়তা করার শেষ বড় প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ।
ব্যানবেইসের ২০২২ সালের হিসাবে, স্কুল-সংযুক্ত কলেজ শাখা, স্বতন্ত্র উচ্চমাধ্যমিক কলেজ, ডিগ্রি, অনার্স ও মাস্টার্স কলেজ মিলিয়ে কলেজশিক্ষার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৭৪৭। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বহু কলেজেই আবার উচ্চমাধ্যমিক শাখা রয়েছে। ফলে একই প্রতিষ্ঠান একজন শিক্ষার্থীকে একাদশ শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যন্ত অনুসরণ করতে পারে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কারকে তাই শুধু ডিগ্রি পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না রেখে এই উচ্চমাধ্যমিক ভিত্তির সঙ্গে যুক্ত করা দরকার। যে কলেজে এইচএসসি ও স্নাতক—দুই স্তরই রয়েছে, সেখানে শিক্ষকের প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থীর দক্ষতা নিরূপণ এবং ভবিষ্যৎ প্রস্তুতির একটি সমন্বিত মডেল চালু করা সম্ভব।
সরকারের এআই প্রশিক্ষণ নিয়ে আগ্রহ যৌক্তিক। কিন্তু এআই ব্যবহার করতে শেখা এবং এআই-প্রস্তুত হওয়া এক বিষয় নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কয়েক সেকেন্ডে একটি প্রতিবেদন, প্রেজেন্টেশন, কম্পিউটার কোড বা বিতর্কের যুক্তি তৈরি করতে পারে। কিন্তু সেই উত্তরটি সত্য, যৌক্তিক, পক্ষপাতমুক্ত বা নৈতিক কি না—সিদ্ধান্তটি মানুষকেই নিতে হবে।
এআই তথ্যের সরবরাহ বাড়িয়ে দিচ্ছে, একই সঙ্গে মানুষের স্বাধীনভাবে চিন্তা করার প্রয়োজনও বাড়াচ্ছে। ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রে তথ্য মনে রাখার চেয়ে তথ্য যাচাই, অস্পষ্ট সমস্যার সমাধান, সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ, বিরোধপূর্ণ প্রমাণ বিচার এবং সিদ্ধান্তের নৈতিক পরিণতি বোঝার মূল্য বেশি হবে।
এই কারণে বিতর্কের মতো সহশিক্ষা কার্যক্রমকে আর নিছক বিনোদন বা প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখা চলে না। ২০২৫ সালে প্রকাশিত হিউম্যান ইনটেলিজেন্স: জাস্টিফাইং ডিবেট ইন দ্য এজ অব এআই প্রবন্ধের দুই লেখক–গবেষক ব্রিকার ও জাস্টিস সতর্ক করেছেন, এআইয়ের অতিনির্ভরতা শিক্ষার্থীদের নিজস্ব যুক্তি নির্মাণ, অন্য মানুষের অবস্থান উপলব্ধি এবং জটিল তথ্যপরিবেশ বোঝার সক্ষমতা দুর্বল করতে পারে। তাঁদের যুক্তি হলো নীতিবিষয়ক বিতর্ক ঠিক সেই মানবিক দক্ষতাগুলো অনুশীলনের সুযোগ দেয়, যেগুলো এআইয়ের যুগে ক্ষয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
একজন বিতার্কিককে একটি বক্তব্য তৈরি করতে হয়, তার পক্ষে প্রমাণ খুঁজতে হয়, উৎসের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করতে হয় এবং বিরোধী পক্ষ কী বলতে পারে, তা আগেই ভাবতে হয়। তাকে নিজের দলের সঙ্গে কাজ করতে হয়, নির্দিষ্ট সময়ে কথা বলতে হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা যুক্তির জবাব দিতে হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বিতার্কিককে প্রায়ই এমন একটি অবস্থানের পক্ষেও যুক্তি নির্মাণ করতে হয়, যার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সে একমত নয়। এর মধ্য দিয়ে সে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি বোঝা এবং মতের বিরোধকে ব্যক্তিগত শত্রুতায় পরিণত না করার শিক্ষা পায়।
এগুলোই বহুল আলোচিত একুশ শতকের চার সক্ষমতা—সমালোচনামূলক চিন্তা, সৃজনশীলতা, যোগাযোগ ও সহযোগিতা। তবে এআইয়ের যুগে আরেকটি সক্ষমতা যোগ করা দরকার: ‘চরিত্র’। অর্থাৎ তথ্য বানিয়ে না বলা, প্রতিপক্ষের বক্তব্য বিকৃত না করা এবং যন্ত্রের কাছে নিজের বিচারবুদ্ধি সমর্পণ না করার সততা।
সব কলেজে শুধু বিতর্ক ক্লাব করলেই শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সংকট দূর হবে—এমন সরল দাবি করা ঠিক হবে না। বিতর্ক বড় কাঠামোর একটি উদাহরণমাত্র। উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে আরও প্রয়োজন ছয়টি সম্পূরক পদক্ষেপ।
এক. একাদশ শ্রেণির শুরুতে পাঠ অনুধাবন, সংখ্যাজ্ঞান, ইংরেজি ও ডিজিটাল সক্ষমতার সংক্ষিপ্ত ‘ডায়াগনস্টিক’ মূল্যায়ন।
দুই. ঘাটতি থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য সেতুবন্ধ বা পুনরুদ্ধার কোর্স।
তিন. প্রতি শিক্ষাবর্ষে গবেষণাভিত্তিক লেখা, মৌখিক উপস্থাপনা ও দলগত সমস্যা সমাধান।
চার. বিতর্ক, বিজ্ঞান ক্লাব, মডেল সংসদ, উদ্যোক্তা প্রকল্প ও সামাজিক সমস্যাভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ।
পাঁচ. এআই দিয়ে উত্তর তৈরি নয়, বরং উৎস যাচাই, ভুল শনাক্তকরণ, পক্ষপাত বোঝা এবং দায়িত্বশীল ব্যবহারের শিক্ষা।
ছয়. লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীর প্রকল্প, উপস্থাপনা ও পোর্টফোলিও মূল্যায়ন।
এ জন্য নতুন একটি বিশাল আমলাতান্ত্রিক প্রকল্পের প্রয়োজন নেই। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ হাজার শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির একটি অংশ কলেজগুলোর উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষকদের জন্য উন্মুক্ত করা যেতে পারে। প্রথম পর্যায়ে এমন প্রতিষ্ঠান বেছে নেওয়া যেতে পারে, যেখানে একই সঙ্গে এইচএসসি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি পড়ানো হয়। একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর প্রাথমিক সক্ষমতা নিরূপণ করে পরবর্তী চার থেকে ছয় বছরে তার অগ্রগতি অনুসরণ করলে কোন উদ্যোগ কার্যকর, তারও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যাবে।
তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থী আয়োজিত ২১ আগস্ট ২০২৬ তারিখের বিতর্ক উৎসবে তরুণদের যুক্তি, আত্মবিশ্বাস ও উদ্দীপনা দেখে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে: আমাদের শিক্ষার্থীদের সম্ভাবনার অভাব নেই; অভাব হলো সেই সম্ভাবনাকে নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ দেওয়ার। কিন্তু বাংলাদেশের অধিকাংশ কলেজে সহশিক্ষা কার্যক্রম এখনো কয়েকজন উৎসাহী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত উদ্যোগের ওপর নির্ভরশীল। ফলে যে শিক্ষার্থীর পরিবার, শহর বা কলেজ তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক, সে এসব সুযোগ পায়; অন্যরা পায় না।
পাঠক্রমবহির্ভূত সহশিক্ষা কার্যক্রমকে ‘অতিরিক্ত’ বলে অবহেলা করার সময় শেষ। এগুলো মূল পাঠ্যক্রমের বিকল্প নয়; বরং অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব সক্ষমতায় রূপান্তরের ক্ষেত্র। বই থেকে শেখা তথ্যকে যখন একজন শিক্ষার্থী যুক্তি, লেখা, দলীয় কাজ, জনসমক্ষে বক্তব্য বা বাস্তব সমস্যার সমাধানে ব্যবহার করে, তখনই শিক্ষার রূপান্তর ঘটে।
বাংলাদেশের শিক্ষিত বেকারত্বের সব কারণ শিক্ষাব্যবস্থার ভেতরে নয়। বিনিয়োগের স্থবিরতা, শিল্পায়নের দুর্বলতা এবং পর্যাপ্ত মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়াও বড় কারণ। কেবল শিক্ষার্থীদের ‘দক্ষতার ঘাটতি’ বলে দায়ী করলে রাষ্ট্র ও অর্থনীতির ব্যর্থতা আড়াল হবে। তবে এটিও সত্য যে দুর্বল ভিত্তি ও নিষ্ক্রিয় শিক্ষানুভব নিয়ে কোনো তরুণকে এআই-পরিবর্তিত শ্রমবাজারে পাঠানো ন্যায়সংগত নয়।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কার তাই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়েই শেষ হতে পারে না। বাংলাদেশের কলেজ নেটওয়ার্ককে উচ্চমাধ্যমিক থেকেই ‘শেখার ঘাটতি’ (লার্নিং পভার্টি) শনাক্ত, মানবিক সক্ষমতা গঠন এবং প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার শেখানোর জাতীয় অবকাঠামো হিসেবে দেখতে হবে।
আমাদের নীতিগত প্রশ্নটি তাই শুধু ‘কতজনকে এআই প্রশিক্ষণ দেওয়া হলো’ নয়। প্রশ্ন হওয়া উচিত: প্রশিক্ষণ শেষে কতজন তরুণ নিজে চিন্তা করতে, প্রমাণ যাচাই করতে, অন্যের সঙ্গে কাজ করতে এবং নতুন পরিস্থিতিতে শেখা জ্ঞান প্রয়োগ করতে পারছে?
কারণ, এআইয়ের যুগে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তরুণদের প্রযুক্তি না জানা নয়। আরও বড় ঝুঁকি হলো—প্রযুক্তি ব্যবহার করতে জানা, কিন্তু তার উত্তর বিচার করার মতো মানবিক বুদ্ধিমত্তা তৈরি না হওয়া।
এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক।
*মতামত লেখকের নিজস্ব
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
রাশিয়া ও ইউক্রেন চলমান যুদ্ধে নিজেদের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা স্থগিত করেছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে নিজের অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে ট্রাম্প এ তথ্য জানান। খবর দ্য টেলিগ্রাফের। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ যুদ্ধে রাশিয়া নিয়মিতই ইউক্রেনের শহরগুলোতে ও বিভিন্ন সেনাঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে আসছে। ইউক্রেনও রাশিয়ার বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে সফলভাবেই আঘাত করছে। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা না চালাতে ইউক্রেন সম্মত হয়েছে। রাশিয়াও একই সম্মতি দিয়েছে। বিশ্বের জ্বালানি তেলের দাম বেশি প্রভাবিত হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে, ইরানের কারণে নয়। এর আগে, রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) আয়ারল্যান্ড সফরের সময় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, জেলেনস্কিকে একটি কাজ করতে হবে। তাকে রাশিয়ায় জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে হবে। আরও পড়ুন রাশিয়ার জ্বালানিতে নয়, অন্য কিছুতে হামলা চালাও: ইউক্রেনকে ট্রাম্প এ বিষয়ে জেলেনস্কির সঙ্গে তার কথা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ায় হামলার জন্য আরও অনেক লক্ষ্যবস্তু রয়েছে। তবে, জ্বালানি স্থাপনায় হামলা করা উচিত নয়। তার মতে, এসব হামলার কারণে সারা বিশ্বের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এএমএ
রাজধানীর পল্লবীতে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আহত সজীব হোসাইন (২২) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার ভোরে কাইল্লার বস্তি এলাকায় তিনি হামলার শিকার হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জুয়েল ও জয় নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।নিহত সজীব পেশায় গেঞ্জি বিক্রেতা ছিলেন। তিনি মিরপুরের ওয়াপদা বিল্ডিং বেনারসিপল্লি এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। তাঁর বাবার নাম মৃত সেলিম হোসাইন। দুই ভাইয়ের মধ্যে সজীব ছিলেন বড়। সজীবের এক ছেলে রয়েছে।পল্লবী থানার উপপরিদর্শক রাশেদ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে সজীব আহত হন। পরে স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে বাসায় নিয়ে আসা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে গত বৃহস্পতিবার তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।সজীবের মামাতো বোন শারমিন বলেন, ছিনতাইকারীরা সজীবের পিঠের ডান পাশে ও বুকে ছুরিকাঘাত করে তাঁর মুঠোফোন নিয়ে যায়।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোয় সিরিয়ার বেশ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভের মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ধরে একটি প্রধান মহাসড়ক অবরুদ্ধ করে রাখেন বিক্ষোভকারীরা।সিরিয়া সরকার রোববার ডিজেলের দাম ৪০ শতাংশ এবং পেট্রলের দাম ২৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ায়। সরকারের দাবি, বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি সংগ্রহের খরচ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার কারণেই এই সাময়িক মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে।দাম বাড়ানোর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ বানিয়াস শোধনাগার সংস্কারের কথাও উল্লেখ করেছে সিরিয়া সরকার। তারা জানিয়েছে, এর ফলে শোধনাগারটির উৎপাদনক্ষমতা প্রতিদিন ৮০ হাজার ব্যারেল থেকে বেড়ে ১ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল হবে।জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সিরিয়ার হামা, খান শেইখুন ও মারাত আল-নুমান শহরে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। আল–জাজিরার প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তায় জড়ো হওয়া মানুষ টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন। দাম বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।শনিবার সিরিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-বশির বলেন, দেশটিতে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ২০০০ ব্যারেল তেল উৎপাদিত হচ্ছে; কিন্তু দেশের ভেতরে ব্যবহারের জন্য প্রতিদিন প্রয়োজন প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার ব্যারেল। এই ঘাটতি পূরণের জন্য তারা আমদানির ওপর নির্ভর করছেন।রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা সিরিয়ান আরব নিউজ এজেন্সির (সানা) তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিশ্ববাজারের পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তারা দাম সমন্বয়ের কাজ চালিয়ে যাবে। এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে তেল শোধন ও মজুত করার ক্ষমতা বাড়াতেও কাজ করবে তারা।দীর্ঘ ১৪ বছরের যুদ্ধের পর সিরিয়া এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। তাই দেশটির অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য জ্বালানির সরবরাহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।