জাতীয়

এআই কি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে?

D HASAN সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
এআই কি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে?
এআই কি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি মানবজাতির ভবিষ্যতের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন এআই গবেষক জ্যাকব কক্সন। সম্প্রতি এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক থেকে পদত্যাগ করা এই গবেষক বলেছেন, প্রযুক্তিটির উন্নয়নের গতি নিয়ে এ খাতে কাজ করা অনেকেই ‘সত্যিই আতঙ্কিত’।

অ্যানথ্রপিক ছাড়ার পর কক্সনের পদত্যাগের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তিনি নিয়ন্ত্রণহীনভাবে এআইয়ের অগ্রগতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বিবিসির লরা কুয়েনসবার্গকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ২৭ বছর বয়সী কক্সন বলেন, এআই উন্নয়নের বর্তমান গতি কমানো না হলে অদূর ভবিষ্যতে মানবজাতির অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়তে পারে।

তিনি বলেন, বর্তমান গতিতে অগ্রগতি চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে আমাদের সবাইকে মৃত্যুর মুখে পড়তে হতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রবল।

কক্সন এর আগে ওপেনএআইয়ে কাজ করেন। পরে অ্যানথ্রপিকে যোগ দেন। তার পদত্যাগের ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন এআইয়ের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রযুক্তি খাতে উদ্বেগ বাড়ছে।

উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান

অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেইও সম্প্রতি এআই উন্নয়নের গতি কিছুটা কমানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। এক প্রবন্ধে তিনি বলেন, এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন থামানোর প্রশ্ন নেই। তবে এর সঙ্গে যুক্ত ঝুঁকিগুলো অত্যন্ত গুরুতর এবং সেগুলো মোকাবিলার জন্য প্রতিষ্ঠান ও সরকারগুলোর সময় প্রয়োজন।

আমোদেইয়ের প্রস্তাবকে সমর্থন করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যান এবং এক্সএআইয়ের ইলন মাস্কও। তারা এআই মডেল তৈরির ওপর স্বাধীন নজরদারি এবং শিল্পজুড়ে নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

কক্সনও এআই উন্নয়নের গতি কমানোর প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তার মতে, বিষয়টি শুধু একটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। চীনের সঙ্গেও সমন্বয় করতে হবে, যাতে এআই উন্নয়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিপজ্জনক প্রতিযোগিতা শুরু না হয়।

‘এআই বিপর্যয়’ কেমন হতে পারে?

এআইয়ের সম্ভাব্য বিপর্যয় ঠিক কীভাবে ঘটতে পারে—এটাই সবচেয়ে কঠিন প্রশ্ন বলে মনে করেন কক্সন।

আমোদেইয়ের সতর্কবার্তায় উঠে আসা একটি সম্ভাবনা হলো, বিপুলসংখ্যক এআই বট একসঙ্গে কাজ করে একটি সুপারকম্পিউটারের মতো ক্ষমতা অর্জন করতে পারে এবং ইন্টারনেটের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে।

কক্সনের মতে, এমন পরিস্থিতি কল্পকাহিনি নয়; আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যেই এটি বাস্তবসম্মত ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে।

তবে অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, এআইয়ের বিপুল সম্ভাবনার পাশাপাশি এর নজিরবিহীন ঝুঁকি সম্পর্কেও তারা সবসময় সতর্ক ছিল।

প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বলেন, ঝুঁকি মোকাবিলায় তারা শিল্পের সবচেয়ে শক্তিশালী নিরাপত্তাব্যবস্থাগুলোর কিছু ব্যবহার করে এআই মডেল তৈরি করছে। এআই মডেল কীভাবে কাজ করে এবং সেগুলোর সম্ভাব্য ঝুঁকি কমানোর উপায় নিয়েও প্রতিষ্ঠানটি গবেষণা করছে।

অ্যানথ্রপিকের দাবি, তাদের মডেলগুলো কঠোরভাবে পরীক্ষা করা হয় এবং পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়, যাতে বাইরের বিশেষজ্ঞরা সেগুলো যাচাই করতে পারেন এবং এআইয়ের আচরণ মানুষের উদ্দেশ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে ওঠার মতো ঘটনা ঠেকানো যায়।

কক্সনের বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক

তবে এআই নিয়ে কক্সনের সতর্কবার্তা সবাই সমর্থন করছেন না। প্রযুক্তি খাতের কিছু ব্যক্তি মনে করছেন, এ ধরনের ভয়াবহ সতর্কবার্তা এআই নিয়ে অতিরিক্ত প্রচার তৈরি করতে পারে।

এআই প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেসের প্রধান নির্বাহী ক্লেমঁ দেলাংও কক্সনের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, এআই থেকে মানবজাতির বিলুপ্তির ঝুঁকি নিয়ে কক্সনের মন্তব্যকে বৃহত্তর বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তবে আমোদেইয়ের প্রবন্ধ প্রকাশের পর দেলাংও সম্ভাব্য সমাধান খুঁজতে অ্যানথ্রপিকের উদ্যোগে সহযোগিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

এদিকে চিপ নির্মাতা এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াংও কক্সনের মন্তব্য নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। কয়েকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কক্সনের কিছু বক্তব্যকে সত্য নয় বলে প্রত্যাখ্যান করেন।

নিরাপত্তা নাকি ব্যবসায়িক স্বার্থ?

এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতার পাশাপাশি এর পেছনে ব্যবসায়িক স্বার্থ কাজ করছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের কেউ কেউ মনে করেন, অ্যানথ্রপিকসহ বড় এআই প্রতিষ্ঠানগুলো কঠোর নিয়ন্ত্রণের দাবি তুলে প্রতিযোগিতা কমানোর চেষ্টা করতে পারে।

অ্যানথ্রপিক শিগগির শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এটি সফল হলে এআই খাতে অন্যতম বড় প্রাথমিক শেয়ার বিক্রির ঘটনা হতে পারে।

অন্যদিকে ওপেনএআইয়ের প্রধান স্যাম অল্টম্যান বলেন, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এই সময়ে শেয়ারবাজারে প্রবেশ করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।

সব মিলিয়ে এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে প্রযুক্তি দুনিয়ায় এখন দুই ধরনের মত স্পষ্ট। এক পক্ষ মনে করছে, এআই মানবজাতির জন্য অভূতপূর্ব সুযোগ তৈরি করবে। অন্য পক্ষের আশঙ্কা, যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এই প্রযুক্তির অগ্রগতি ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। সেই বিতর্কের মধ্যেই এআই গবেষকদের ভেতর থেকেই উঠে আসছে আরও কঠোর নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের দাবি।

সূত্র: বিবিসি

এমএসএম

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

পোশাকের ট্যাবু ভেঙে ‘সংস্কৃতির সমতার’ বার্তায় যবিপ্রবিতে ‘লুঙ্গি প্যারেড’

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।

জাতীয়

View more
এআইয়ের ওপর নির্ভরতা মস্তিষ্ক পচিয়ে দিচ্ছে: বাঁচার উপায় কী?
এআইয়ের ওপর নির্ভরতা মস্তিষ্ক পচিয়ে দিচ্ছে: বাঁচার উপায় কী?

প্রযুক্তির এই হুড়োহুড়ির যুগে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা সম্প্রতি ‘মিউজ’ নামক নতুন একটি এআই পার্সোনাল এজেন্ট চালু করেছে। সাধারণ চ্যাটবটগুলোর মতো না, এই ছোট্ট এআই টুলটা নিজে থেকেই আপনার ফরম ফিলাপ করে দিতে পারবে, ক্যালেন্ডার গুছিয়ে রাখতে পারবে, বিল মিটিয়ে দিতে পারবে আর নানা জায়গায় বুকিংও করে দিতে পারবে।

D HASAN নভেম্বর ১, ২০২৬ 0
খুলনায় যুবককে কুপিয়ে হত্যা

খুলনায় যুবককে কুপিয়ে হত্যা

ঢাকার বায়ুর মান আজ কেমন?

ঢাকার বায়ুর মান আজ কেমন?

জামায়াতের লংমার্চের বাস উল্টে পথচারী নিহত, আহত ২৫

জামায়াতের লংমার্চের বাস উল্টে পথচারী নিহত, আহত ২৫

শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বিজিবি মোতায়েন
শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বিজিবি মোতায়েন

গাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের পর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের শিল্পাঞ্চলে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। রবিবার (১ নভেম্বর) সকালে জেলার কোনাবাড়ী, সফিপুর, কালিয়াকৈর ও আশপাশের এলাকায় পৌঁছেছেন বিজিবি সদস্যরা।

D HASAN নভেম্বর ১, ২০২৬ 0
দ্বিতীয় দিনেও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে শ্রমিকরা, যান চলাচল বন্ধ

দ্বিতীয় দিনেও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে শ্রমিকরা, যান চলাচল বন্ধ

শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, গভীর রাতে হাসপাতালে প্রতিমন্ত্রী

শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, গভীর রাতে হাসপাতালে প্রতিমন্ত্রী

জার্মানিতে জেন-জি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ

জার্মানিতে জেন-জি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ

0 Comments