স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে আমরা প্রায়ই জাতীয় রাজনীতির ছায়ায় দেখি। অথচ একজন সাধারণ নাগরিকের জীবনে জাতীয় সংসদের একজন সদস্যের চেয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদের প্রতিনিধি, পৌর মেয়র কিংবা সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরের সিদ্ধান্ত অনেক বেশি প্রত্যক্ষ প্রভাব ফেলে।
বাড়ির পাশের রাস্তা, ড্রেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি, জন্মনিবন্ধন, স্থানীয় বাজার, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি—নাগরিক জীবনের অসংখ্য প্রয়োজনের সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান সরাসরি যুক্ত। ফলে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন কেবল জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ের আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে গণতন্ত্রের সবচেয়ে কাছের সম্পর্ক।
দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন না হওয়ায় সেই সম্পর্কেই এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য ও সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, দেশের পাঁচ স্তরের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় বড় ধরনের নির্বাচনী জট তৈরি হয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, দেশে ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৫০০ উপজেলা পরিষদ, ৬১টি জেলা পরিষদ ও ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে এবং দীর্ঘ সময় স্থানীয় নির্বাচন না হওয়ায় বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের অপেক্ষায়।
নির্বাচনে অংশগ্রহণের দরজা সবার জন্য খোলা রাখতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দলকে নির্বাচন থেকে দূরে রেখে স্থানীয় গণতন্ত্র শক্তিশালী করা যায় না। একইভাবে কোনো প্রার্থীকে ভয়ভীতি, মামলা, প্রশাসনিক চাপ কিংবা রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে প্রতিযোগিতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হলে ভোটের আয়োজন থাকলেও সেটি প্রকৃত অর্থে নির্বাচন থাকে না। নির্বাচন মানে শুধু ব্যালট বাক্স নয়; নির্বাচন মানে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সমান সুযোগ।
এর অর্থ শুধু এই নয় যে কিছু পদে নির্বাচন হয়নি। এর অর্থ হলো স্থানীয় গণতন্ত্রের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়েছে। কোথাও নির্বাচিত পরিষদের মেয়াদ শেষ হয়েছে, কোথাও প্রশাসক দায়িত্ব পালন করছেন। প্রশাসক দিয়ে প্রতিষ্ঠান চালানো কখনো কখনো জরুরি পরিস্থিতির সাময়িক সমাধান হতে পারে; কিন্তু সেটি নির্বাচিত স্থানীয় সরকারের বিকল্প হতে পারে না। কারণ প্রশাসক জনগণের ভোটে আসেন না, ফলে তাঁর কাছে সরাসরি রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহির বাধ্যবাধকতাও একই মাত্রায় থাকে না।
এখন অবশ্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে কিছুটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সাত ধাপে করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপের সম্ভাব্য ভোট ১২ নভেম্বর; এরপর ১৩ ডিসেম্বর, ৩০ ডিসেম্বর, ১৭ জানুয়ারি, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২২ এপ্রিল ও ২৭ মে পর্যায়ক্রমে ভোট হওয়ার কথা।
প্রথম ধাপে ৮০ উপজেলায় নির্বাচন করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এই নির্বাচনী রোডম্যাপ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর অচলাবস্থা কাটানোর একটি সুযোগ তৈরি করেছে। তবে সময়সূচি ঘোষণা করাই শেষ কথা নয়; প্রতিটি ধাপ যেন সত্যিকার অর্থে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। বহুদিন নির্বাচন না হওয়ায় মানুষের মধ্যে যে অনীহা ও অনাস্থা তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে নির্বাচন কমিশনকে শুধু ভোটের দিনটি নয়, পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াকেই বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে হবে। কারণ একটি সুষ্ঠু নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করে না, দীর্ঘদিন স্থবির হয়ে থাকা স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থাও ফিরিয়ে আনে।
এই অবস্থায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন যত দ্রুত সম্ভব হওয়া প্রয়োজন। তবে শুধু নির্বাচন হলেই চলবে না; নির্বাচন হতে হবে এমন, যাতে পরাজিত প্রার্থীও ফল মেনে নিতে পারেন এবং বিজয়ী প্রার্থীও বুঝতে পারেন—তিনি প্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে ক্ষমতা পেয়েছেন, প্রতিদ্বন্দ্বীদের অধিকার কেড়ে নিয়ে নয়।
সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না রাখার বিষয়টি সামনে এসেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়া অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। নির্বাচন কমিশনও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালা সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে।
দলীয় প্রতীক না থাকা নিঃসন্দেহে স্থানীয় নির্বাচনকে জাতীয় নির্বাচনের অনুকরণ থেকে কিছুটা আলাদা করতে পারে। কারণ স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, এলাকার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, কাজের সক্ষমতা, সততা ও জনসম্পৃক্ততা বেশি গুরুত্ব পাওয়ার কথা। একটি ইউনিয়ন বা পৌরসভার নির্বাচন যদি কেবল জাতীয় রাজনীতির শক্তি-পরীক্ষায় পরিণত হয়, তাহলে স্থানীয় সমস্যাগুলো পেছনে পড়ে যায়। ভোটার তখন হয়তো রাস্তা, পানি বা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কথা না ভেবে জাতীয় রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে ভোট দেন।
তবে দলীয় প্রতীক বাদ দিলেই নির্বাচন নির্দলীয় হয়ে যাবে—এমন সরল সমীকরণও ঠিক নয়। বাংলাদেশের বাস্তবতায় একজন প্রার্থীর পেছনে কোন রাজনৈতিক শক্তি আছে, তা প্রতীক না থাকলেও মানুষ অনেক সময় জানে। ফলে প্রতীকহীন নির্বাচনকে সত্যিকার অর্থে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করতে হলে রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন না থাকার পাশাপাশি প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা, অর্থের ব্যবহার, প্রভাব বিস্তার এবং প্রচারের ক্ষেত্রেও কঠোর বিধি প্রয়োগ করতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, নির্বাচনে অংশগ্রহণের দরজা সবার জন্য খোলা রাখতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দলকে নির্বাচন থেকে দূরে রেখে স্থানীয় গণতন্ত্র শক্তিশালী করা যায় না। একইভাবে কোনো প্রার্থীকে ভয়ভীতি, মামলা, প্রশাসনিক চাপ কিংবা রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে প্রতিযোগিতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হলে ভোটের আয়োজন থাকলেও সেটি প্রকৃত অর্থে নির্বাচন থাকে না। নির্বাচন মানে শুধু ব্যালট বাক্স নয়; নির্বাচন মানে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সমান সুযোগ।
এখানে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। দলগুলো চাইলে স্থানীয় নির্বাচনকে নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চে পরিণত করতে পারে; আবার চাইলে স্থানীয় নেতৃত্ব বিকাশের একটি গণতান্ত্রিক ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। দ্বিতীয় পথটিই হওয়া উচিত। দলের কেন্দ্র থেকে প্রার্থী চাপিয়ে দেওয়ার সংস্কৃতি স্থানীয় সরকারের জন্য স্বাস্থ্যকর নয়। স্থানীয় মানুষ কাকে চায়, কে এলাকার সমস্যাগুলো বোঝেন, কার বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা দখলদারির অভিযোগ আছে—এসব বিবেচনার সুযোগ ভোটারদের দিতে হবে।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদেরও বুঝতে হবে, স্থানীয় নির্বাচন কোনো যুদ্ধ নয়। পোস্টার, মিছিল, মাইক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচার কিংবা ব্যক্তিগত আক্রমণের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে হেয় করার সংস্কৃতি শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রকেই দুর্বল করে। নির্বাচনী আচরণবিধিতে প্রচার, পোস্টার, অর্থের ব্যবহার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিষয়ে কঠোর বিধান থাকলে তার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
সমর্থকদের ভূমিকাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। প্রার্থী নিজে সংযত থাকলেও তাঁর কর্মী-সমর্থকেরা যদি কেন্দ্র দখল, ভয় দেখানো, ভোটারকে বাধা দেওয়া কিংবা ফল ঘোষণার পর প্রতিপক্ষের ওপর হামলায় জড়িয়ে পড়েন, তাহলে পুরো নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হয়। রাজনৈতিক নেতৃত্বকে তাই শুধু ভোটের আগে কর্মীদের সংগঠিত করলেই হবে না; তাঁদের আচরণের দায়ও নিতে হবে।
আর ভোটার? ভোটারদের কাছেও স্থানীয় নির্বাচন একটি বড় পরীক্ষা। ভোট যেন ব্যক্তিগত সম্পর্ক, ভয়, প্রলোভন কিংবা গোষ্ঠীগত আনুগত্যের কাছে পরাজিত না হয়। একজন প্রার্থী কতটা সৎ, তিনি এলাকার মানুষের পাশে ছিলেন কি না, তাঁর আয়-সম্পদের সঙ্গে জীবনযাপনের সামঞ্জস্য আছে কি না, দায়িত্ব পেলে জনস্বার্থে কাজ করার সক্ষমতা রাখেন কি না—এসব প্রশ্ন বিবেচনায় নেওয়া দরকার। স্থানীয় সরকারকে দুর্নীতিমুক্ত করতে চাইলে ভোটারকেও তাঁর ভোটের শক্তি সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।
তবে সব দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপিয়ে দিলে চলবে না। স্থানীয় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা হবে পুরো প্রক্রিয়ার মেরুদণ্ড। প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা যদি ক্ষমতাসীন বা প্রভাবশালী কোনো প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন, তাহলে ব্যালট বাক্সের নিরাপত্তা থাকলেও নির্বাচন নিরাপদ থাকে না। নির্বাচন কমিশনকে তাই মাঠ প্রশাসনের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। অভিযোগ পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে আগেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা শনাক্ত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া বেশি জরুরি।
নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব ব্যবস্থাপনাতেও স্বচ্ছতা দরকার। ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ, প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ, ব্যালট পরিবহন, ভোট গণনা ও ফল প্রকাশ—প্রতিটি ধাপে পর্যবেক্ষণযোগ্য ব্যবস্থা থাকা উচিত। কোনো কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে দ্রুত তদন্ত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ একটি কেন্দ্রের অনিয়মও পুরো নির্বাচনের ফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আরেকটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—নির্বাচনের পর নির্বাচিত পরিষদকে কার্যকরভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া। নির্বাচন করে জনপ্রতিনিধি বসিয়ে রেখে যদি সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও অর্থ ব্যবহারের ক্ষমতা আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে থাকে, তাহলে মানুষ আবারও হতাশ হবে। স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হলে দায়িত্বের সঙ্গে অর্থ, জনবল ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার সামঞ্জস্য থাকতে হবে। একই সঙ্গে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত হিসাব প্রকাশ, নাগরিক শুনানি, সামাজিক নিরীক্ষা ও তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।
স্থানীয় সরকার মূলত গণতন্ত্রের পাঠশালা। একজন নাগরিক জাতীয় সংসদে যাওয়ার বহু আগেই ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা কিংবা উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তৈরি করেন। এখানেই তিনি শেখেন ভোটের মূল্য, জবাবদিহি, অংশগ্রহণ এবং নাগরিক অধিকার। স্থানীয় নির্বাচন যদি সুষ্ঠু হয়, তার ইতিবাচক প্রভাব জাতীয় রাজনীতিতেও পড়ে। আর স্থানীয় নির্বাচন যদি পেশিশক্তি, অর্থ ও প্রশাসনিক প্রভাবের কাছে পরাজিত হয়, তাহলে গণতন্ত্রের ভিত্তিটিই দুর্বল হয়।
তাই এখন প্রয়োজন দ্রুত নির্বাচন, কিন্তু তাড়াহুড়ো করে যেকোনো নির্বাচন নয়। প্রয়োজন এমন নির্বাচন, যেখানে ভোটার নির্ভয়ে কেন্দ্রে যেতে পারবেন, প্রার্থী নির্বিঘ্নে প্রচার করতে পারবেন, প্রশাসন পক্ষপাতহীন থাকবে এবং ফলাফল নিয়ে মানুষের মনে অযথা সংশয় থাকবে না। দলীয় প্রতীক থাকবে কি থাকবে না—এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলেও এর চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো, ভোটটি সত্যিই মানুষের ভোট কি না।
দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে আবার নির্বাচিত নেতৃত্ব ফিরুক। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্ব নিক, স্থানীয় উন্নয়নের কাজ এগিয়ে যাক, জনগণের কাছে তাঁদের জবাবদিহি প্রতিষ্ঠিত হোক। কিন্তু এই প্রত্যাবর্তন যেন কেবল চেয়ার বদলের ঘটনা না হয়; এটি যেন স্থানীয় গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণ হয়ে ওঠে।
শেষ পর্যন্ত একটি ভোটের মূল্য তার সংখ্যায় নয়, তার বিশ্বাসযোগ্যতায়। একটি ব্যালট পেপার খুব ছোট কাগজ; কিন্তু তার ওপর মানুষের যে আস্থা লেখা থাকে, একটি রাষ্ট্রের গণতন্ত্র তার চেয়েও অনেক বড়। সেই আস্থা একবার ভেঙে গেলে আইন দিয়ে, প্রশাসন দিয়ে, প্রচার দিয়ে সহজে ফিরিয়ে আনা যায় না। তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে রাষ্ট্র, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, সমর্থক, প্রশাসন এবং ভোটার—সবার কাছে আজ একটিই পরীক্ষা: আমরা কি সত্যিই মানুষের ভোটকে মানুষের হাতে ফিরিয়ে দিতে প্রস্তুত? এই পরীক্ষায় সফল হতে পারলেই স্থানীয় সরকার শুধু প্রশাসনিক কাঠামো থাকবে না, হয়ে উঠবে মানুষের ক্ষমতায়নের সবচেয়ে জীবন্ত প্রতিষ্ঠান।
লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট। ডেপুটি এডিটর, জাগো নিউজ।
drharun.press@gmail.com
এইচআর/এমএফএ/এএসএম
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
আগামী ছয় মাসের মধ্যে নিজস্ব সোলার প্যানেল স্থাপনের শর্তে রাত আটটায় দোকান বন্ধ করার বাধ্যবাধকতা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছে দোকান মালিক সমিতি। এ সমিতির নেতারা জানিয়েছেন, চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকটে দেশের অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছেন। লোডশেডিং এবং রাত আটটায় বন্ধের সিদ্ধান্তের কারণে দোকান ও প্রতিষ্ঠানে বেচাকেনা অনেক কমে গেছে, ব্যবসায়ের ক্ষতি বাড়ছে। এ অবস্থায় দেশের সব মার্কেট ও বড় বিপণিবিতানগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ (সোলার প্যানেল) স্থাপনে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি।বিপণিবিতানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) বা বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ২ শতাংশ সুদে বিশেষ ঋণসহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে দোকান মালিক সমিতি। সংগঠনটি বলেছে, স্বল্প সুদে এই ঋণসহায়তা পেলে আগামী ছয় মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিপণিবিতানগুলো স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া সম্ভব।আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন।এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দোকান মালিক সমিতির মহাসচিব মো. জহিরুল হক ভূঁইয়া, সহসভাপতি আব্দুল কাইয়ুম তালুকদার ও হেজাজুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুজ্জামান, আব্দুল মোতালেব রুবেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জসীম উদ্দীন আহমেদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাফেজ হারুন, বাংলাদেশ কেমিক্যাল অ্যান্ড পারফিউমারি মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলামসহ রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ী নেতারা।সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। রাত আটটায় দোকান বন্ধের সিদ্ধান্ত এবং সন্ধ্যা ছয়টা থেকেই বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং শুরু হওয়ায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে দ্রুততম সময়ে সোলার প্যানেল স্থাপনই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।এমন পরিস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনসংক্রান্ত ১০ দফা দাবি জানায় দোকান মালিক সমিতি। সংগঠনটি বলেছে, বিপণিবিতানে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল স্থাপনের জন্য সর্বোচ্চ ৭ বছর মেয়াদে মাত্র ২ শতাংশ সুদে (কিস্তিভিত্তিক) ঋণ প্রদান করতে হবে। সোলার প্যানেল যেন মানসম্পন্ন হয়, সে জন্য বিএসটিআই ও ইডকলের ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক করা এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।সোলার প্যানেল স্থাপনের পর লাইসেন্স ফি ও সার্ভিস চার্জ প্রদান থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সমিতি। উৎপাদিত অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ সাড়ে ১০ শতাংশ হারে জাতীয় গ্রিডে বিক্রির সুযোগ আরও সহজ ও জোরালো করার দাবি সংগঠনটির।অন্যান্য প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগ ও বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির যৌথ চুক্তির মাধ্যমে দ্রুত সরঞ্জাম সরবরাহ ও স্থাপন নিশ্চিত করা; সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন কার্যক্রম তদারকি এবং যেকোনো সমস্যা ও দুর্বলতা নিরসনে তিন মাস মেয়াদি একটি শক্তিশালী রেগুলেটরি বোর্ড গঠন করা; ব্যক্তিমালিকানাধীন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা জেলা পরিষদের অধীনে থাকা যেসব মার্কেট কাঠামোগত অনুমোদনের জটিলতায় আছে, সেগুলোর সোলার প্যানেল স্থাপনের আবেদন সহজ করা; সোলার প্যানেল স্থাপনের খরচ বহন ও ঋণ পরিশোধের জন্য একটি টেকসই তহবিল ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা।আগামী ছয় মাসের মধ্যে নিজস্ব সোলার প্যানেল স্থাপনের শর্তে ব্যবসায়ীদের জন্য রাত আটটায় দোকান বন্ধ করার বাধ্যবাধকতা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছে দোকান মালিক সমিতি।দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা এই বিদ্যুৎ–সংকটের দীর্ঘ সময় আর ভুগতে রাজি না। বাংলাদেশে বিভিন্ন জেলা, উপজেলা পর্যন্ত আমাদের বিপণিবিতান আছে। বিপণিবিতানগুলোর ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা গেলে এবং ব্যবসায়ীরা সৌর প্যানেলের ঋণ পরিশোধ করে দিতে পারলে অনেক ক্ষেত্রে মার্কেটকে বিদ্যুৎ বিল দিতেই হবে না। উল্টো আমরা বন্ধের দিনগুলোতে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারব।’হেলাল উদ্দিন আরও বলেন, ‘যদি মাত্র ২ শতাংশ সুদে ৫ বছর অথবা ৭ বছর মেয়াদি ঋণ দেওয়া হয়, তাহলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সারা দেশে দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হব।’
ইয়েমেনের ইরান–সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সাম্প্রতিক দিনগুলোয় সৌদি আরবের দিকে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ছে। এসব মোকাবিলায় টালমাটাল অবস্থায় পড়েছে রিয়াদ। এর মধ্যেই শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোন ধ্বংসে ব্যবহৃত প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্রের সংকট দেখা দিয়েছে তাদের। পরিস্থিতি সামাল দিতে আঞ্চলিক ও পশ্চিমা মিত্রদের দ্বারস্থ হয়েছে সৌদি আরব সরকার। তাদের কাছে অতিপ্রয়োজনীয় সহায়তা চাওয়া হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন, এমন দুজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা গতকাল বুধবার এ কথা জানান। এই কর্মকর্তারা বলেন, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান আর মিসরের সঙ্গে সহায়তার বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আরও স্পষ্ট করে বললে, ইরান–সমর্থিত হুতি ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র–ড্রোন ঠেকাতে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে রিয়াদ।সৌদি আরবের প্রধান মিত্র ও অস্ত্র সরবরাহকারী যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধরত যুক্তরাষ্ট্র নিজেও এখন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের সংকটে। গত ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা টানা যুদ্ধের জেরে দেশটিতে এসব অস্ত্রের মজুত কমতির দিকে। এ কারণে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের মুখাপেক্ষী না থেকে অন্যান্য দেশের কাছে সহায়তা চাইছে, বলেন সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।জ্বালানি তেলের শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব। ধনী দেশটি এখন হুতিদের সবচেয়ে বড় নিশানা। সৌদি আরবের প্রধান আঞ্চলিক প্রতিপক্ষ ইরান হুতিদের সমর্থন দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে শুধু সামরিক সহায়তা নয়, নিরাপদ পথে জ্বালানি তেল রপ্তানির উপায় খোঁজাও সৌদি সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনোটিরই আপাত সহজ সমাধান দেখা যাচ্ছে না।ওই দুই কর্মকর্তা নিজেদের নাম–পরিচয় প্রকাশ করার অনুমতি দেননি। বলেছেন, এ বিষয় নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি তাঁদের নেই। তাই তাঁরা পরিচয় প্রকাশ করতে চান না।এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাৎক্ষণিক সাড়া পাওয়া যায়নি।সৌদির অভিযোগ, হুতিদের নাকচচলমান ইরান যুদ্ধের জেরে নতুন করে সংঘাতে জড়িয়েছে সৌদি আরব ও হুতিরা। এটা এখন ইরান যুদ্ধের নতুন একটি ফ্রন্ট। গতকাল সৌদি আরব অভিযোগ করে, পবিত্র নগরী মক্কার দিকে ড্রোন ছুড়েছে হুতিরা। এ ঘটনায় বিভিন্ন দেশ ও সংগঠন নিন্দা জানিয়েছে। তবে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার কোনো লক্ষণ এ পর্যন্ত দেখা যায়নি।মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর জন্মস্থান মক্কা। পবিত্র কাবা এ নগরে অবস্থিত। মুসলিমদের কাছে পবিত্র নগরী হিসেবে স্বীকৃত মক্কা। প্রতি বছর পবিত্র হজ পালনের সময় বিশ্বের লাখো মুসল্লি এখানে জড়ো হন। এ পবিত্র নগরীর দিকেই হুতিদের ছোড়া ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে সৌদি আরব।তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য। পাকিস্তান পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। তুরস্ক ও পাকিস্তান মিলে সম্প্রতি সৌদি আরবের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে। ‘মক্কা চুক্তি’ নামে পরিচিত এ চুক্তির সামনে প্রথম চ্যালেঞ্জ হিসেবে এসেছে হুতিরা। তবে পাকিস্তান ও তুরস্কের কর্মকর্তারা বলেন, হুতিকে প্রতিহত করতে সৌদি আরব তাদের সরাসরি কোনো অনুরোধ জানায়নি।সৌদি আরব হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, পবিত্র নগরীতে হুতিদের এ ধরনের হামলার চেষ্টা ‘চূড়ান্ত সীমা’ লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হবে। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করা হবে না।তবে ইয়েমেনের সীমান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার বা ৬৮০ মাইল দূরের পবিত্র নগরীটিতে ড্রোন পাঠানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুতিরা।এর মধ্যেই গতকাল ইয়েমেনের আকাশে সৌদি আরবের একটি এফ–১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে হুতিরা। ভূপাতিত যুদ্ধবিমানটির ধ্বংসাবশেষের ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে।সৌদি আরবের এফ–১৫ যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন হুতি যোদ্ধারা। ইয়েমেনের মারিব প্রদেশ, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬মিত্রদের পাশে পেতে মরিয়াজ্বালানি তেলের শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব। ধনী দেশটি এখন হুতিদের সবচেয়ে বড় নিশানা। দেশটির প্রধান আঞ্চলিক প্রতিপক্ষ ইরান হুতিদের পেছনে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শুধু সামরিক সহায়তা নয়, নিরাপদ পথে জ্বালানি তেল রপ্তানির উপায় খোঁজাও সৌদি সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনোটিরই আপাত সহজ সমাধান দেখা যাচ্ছে না।—জেডি ভ্যান্স, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্টসৌদি আরবের সঙ্গে ওয়াশিংটনের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। হুতিদের সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি আলোচনা করেছে।অতিসম্প্রতি সৌদি আরবে এক হামলায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি জ্বালানি তেলের পাইপলাইন (ইস্ট–ওয়েস্ট পাইপলাইন) বন্ধ হয়ে গেছে। এর পেছনে ইরাকের ইরানপন্থী মিলিশিয়াদের কথা বলা হচ্ছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, পাইপলাইনটি টানা কয়েক সপ্তাহ বন্ধ থাকতে পারে। এ ছাড়া হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা ও লোহিত সাগরে দেশটির জাহাজে হামলা করছে।এদিকে লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালির কয়েকটি দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে হুতিরা। প্রণালিটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল রপ্তানি কার্যত বন্ধ রয়েছে। সৌদি আরবের সামনে হরমুজের বিকল্প ছিল বাব আল–মানদেব। কিন্তু সেখানেও হুতিদের নিয়ন্ত্রণ নতুন সংকটের জন্ম দিয়েছে।হরমুজের পর বাব আল–মানদেব দিয়ে জ্বালানি তেল রপ্তানিতে সংকটের বিষয়টি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম চড়া করেছে। ইতিমধ্যে দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। জ্বালানি নিয়ে সংকটে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বহু দেশ।আঞ্চলিক এক কর্মকর্তা বলেন, সৌদি আরব এখন ‘খুব কঠিন অবস্থায়’ পড়েছে। কারণ, দেশটিকে শুধু সামরিক ঘাঁটি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা রক্ষা করলেই হচ্ছে না। দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তেল স্থাপনাগুলোও নিরাপদ রাখতে হচ্ছে।অন্য আরেক কর্মকর্তা বলেন, হুতিদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত পদক্ষেপ নিতে সৌদি আরব আন্তর্জাতিক মিত্রদের পাশে টানার চেষ্টা করছে। তিনি জানান, ইয়েমেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ওমান ও মিসর নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েছে।ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিউ আমেরিকার ফেলো অ্যাডাম ব্যারন বলেন, এটা শুধু হুতি বনাম সৌদি আরবের ইস্যু নয়। আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের বৃহত্তর পথগুলো কীভাবে নিরাপদ রাখা যায়, সেটিও এখন মুখ্য বিষয়।—অ্যাডাম ব্যারন, ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিউ আমেরিকার ফেলোএটা শুধু হুতি বনাম সৌদি আরবের ইস্যু নয়। আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের বৃহত্তর পথগুলো কীভাবে নিরাপদ রাখা যায়, সেটিও এখন মূল বিষয়।বিষয়টি সম্পর্কে জানাশোনা আছে এমন দুই কর্মকর্তা বলেন, ওমানের মাসকাটে গত সপ্তাহান্তে হুতি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। বৈঠকে একজন হুতি কর্মকর্তা নিজেও উপস্থিত ছিলেন। আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের কৌশল নিয়ে দুপক্ষ কথা বলেছে।এর বাইরে বৈঠকটি সম্পর্কে আর বিস্তারিত জানা যায়নি। সংবাদমাধ্যমের সামনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার অনুমতি না থাকায় সংশ্লিষ্ট সূত্রও নাম–পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ করেছে।কূটনৈতিক সহায়তায় আগ্রহআঞ্চলিক ও পশ্চিমা মিত্রদের কাছে মরিয়া হয়ে সামরিক সহায়তা চাইছে সৌদি আরব। জানা গেছে, মিত্র দেশগুলো সামরিক সহায়তা দিতে খুব একটা আগ্রহী নয়; বরং তারা কূটনৈতিক সহায়তা দিতে আগ্রহী।যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র টম ওয়েলস গত মঙ্গলবার বলেন, যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরবের খুবই ‘ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব’ রয়েছে। তবে সৌদি আরব সামরিক সহায়তা চেয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি। সৌদি আরবের ভূখণ্ডে ব্রিটিশ সেনারা আছেন কি না—সেটি জানাতেও অস্বীকৃতি জানান ওয়েলস।এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর কর্মকর্তারা ইউরোপে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থার তীব্র সংকটের কথা স্বীকার করেন। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবকে সহায়তা করার মতো সক্ষমতা ইউরোপের আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।এদিকে তুরস্কের একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেন, উত্তেজনা কমানোর চেষ্টার অংশ হিসেবে দেশটি ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে আলোচনা করছে। তবে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। সংবাদমাধ্যমের সামনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার অনুমতি না থাকায় তিনিও নাম–পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি।তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য। পাকিস্তান পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। তুরস্ক ও পাকিস্তান মিলে সম্প্রতি সৌদি আরবের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে। ‘মক্কা চুক্তি’ নামে পরিচিত এ চুক্তির সামনে প্রথম চ্যালেঞ্জ হিসেবে এসেছে হুতিরা। তবে পাকিস্তান ও তুরস্কের কর্মকর্তারা এপিকে বলেন, হুতিকে প্রতিহত করতে তাদের কাছে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো অনুরোধ আসেনি। \B\Bমক্কায় হামলাচেষ্টার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিন্দা জানাতে গিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন পাকিস্তান ও সৌদি আরব ‘অটলভাবে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে’ একসঙ্গে রয়েছে। অন্যদিকে, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান সৌদি আরবের প্রতি সংহতি জানিয়ে তুর্কি রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম আনাদোলুকে বলেন, এ ঘটনায় কোনো দেশই ‘নির্লিপ্ত থাকতে পারে না’।\B\Bঅস্ত্র হাতে ইয়েমেনের হুতি যোদ্ধারাসৌদি–হুতি বিবাদ থেকে দূরে যুক্তরাষ্ট্রসৌদি আরবের কাছে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই সঙ্গে অন্য ধরনের সহায়তার প্রতিশ্রুতিও বেশ আগে থেকেই পেয়ে আসছে সৌদি সরকার। তবে মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তাদের কথায় বোঝা যাচ্ছে, ওয়াশিংটন এখন সৌদি–হুতি সংঘাতে সরাসরি জড়াতে আগ্রহী নন।গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে ওয়াশিংটনের ‘নিয়মিত যোগাযোগ’ রয়েছে। অন্যদিকে হুতিদের সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্র ‘সরাসরি আলোচনা’ করেছে।সৌদি আরব সামরিক হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানিয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড সৌদি বাহিনীকে গোয়েন্দা তথ্য আদান–প্রদান ও সামরিক পরিকল্পনায় সহায়তা বৃদ্ধির জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই মার্কিন কর্মকর্তা আরও বলেন, গত সপ্তাহে আটটি দেশের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ে বসেছিল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। জার্মানিতে ওই বৈঠক হয়। মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি করার সুযোগ নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়েছে।তবে ওই বৈঠকে কোন কোন দেশ অংশ নেয়, তা জানাননি ওই মার্কিন কর্মকর্তা।চীন সফরে আব্বাস আরাগচিযুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধরত ইরান থেকে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি তেল কেনে চীন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি চীন সফরে গেছেন।চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইয়েমেন ও লোহিত সাগরে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ওয়াং ই।অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, তেহরান এ অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে চায়। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক চায়।\B\B\Bআরও পড়ুন\B:\B\Bউপসাগরীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প, হুতিদের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের গোপন বৈঠকে কী আলোচনা হলোমক্কার কাছে হুতিদের ড্রোন হামলা বলে প্রচারিত ভিডিওটি ২০২৫ সালের মদিনারক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে সৌদি আরবের এফ–১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি হুতিদেরপবিত্র মক্কা নগরীর দিকে হুতিরা ড্রোন ছুড়েছে বলে অভিযোগ সৌদি আরবের, নিরাপত্তা সতর্কতা জারিমারিব-তাইজে হুতিদের অগ্রযাত্রা, ইরান যুদ্ধে নতুন চাপের মুখে সৌদি-যুক্তরাষ্ট্রযুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ও অত্যাধুনিক অস্ত্রের মজুতে টান, তীব্র সংকটে মার্কিন বাহিনী\B\B
ফরিদপুর ও মাদারীপুরের বন্ধ চার পাটকল চুক্তিতে চালু করেছে দেশের এই শিল্পগ্রুপ। এসব পাটকলে কর্মসংস্থান হয়েছে ১৫ হাজার শ্রমিকের।ফরিদপুরের রাজ্জাক জুট ইন্ডাস্ট্রিজ নানা সমস্যায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে পাটকলটির অনেক শ্রমিক বেকার হন। বন্ধ সেই কারখানা চলতি বছর চালু করেছে আবুল খায়ের গ্রুপ। এখন পাটকলটির উৎপাদিত পণ্য রপ্তানিও হচ্ছে। রাজ্জাক জুট ইন্ডাস্ট্রিজের পাশাপাশি আরও তিনটি বন্ধ পাটকল সম্প্রতি চালু হয়েছে আবুল খায়ের গ্রুপের হাত ধরে। অন্য তিনটি পাটকল হচ্ছে ফরিদপুরের ফরিদপুর জুট ফাইবার্স ও দাহমাশী জুট ইন্ডাস্ট্রিজ এবং মাগুরার এআর জুট মিলস। বন্ধ এই চার পাটকল চালুর ফলে নতুন করে কারখানাগুলোতে কর্মসংস্থান হয়েছে ১৫ হাজার শ্রমিকের। বন্ধ ও রুগ্ণ এই চার পাটকল নতুন করে চালু করে পাটপণ্য উৎপাদন করছে আবুল খায়ের গ্রুপের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান শাহ অ্যাগ্রো লিমিটেড।আবুল খায়ের গ্রুপের কর্মকর্তারা জানান, গত বছর পাট কেনাবেচার ব্যবসা শুরু করে এই শিল্পগোষ্ঠী। একপর্যায়ে পাটপণ্যের ব্যবসায় নামার অংশ হিসেবে বেসরকারি খাতের চারটি বন্ধ পাটকলের সঙ্গে চুক্তি করা হয়। তারপর চলতি বছরের বিভিন্ন সময় এই পাটগুলো চালু করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নতুন করে চালু করা চার পাটকল থেকে বছরে ৮০ হাজার মেট্রিক টন পাটের সুতা ও পাটজাত পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে আবুল খায়ের গ্রুপ। এখন পর্যন্ত এসব পাটকলে উৎপাদিত ১২০ কোটি মার্কিন ডলারের পাটের সুতা রপ্তানি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তুরস্ক ও চীনে এসব পাটপণ্য রপ্তানি করা হয়।► নতুন করে চালু করা চার পাটকল থেকে বছরে ৮০ হাজার মেট্রিক টন পাটের সুতা ও পাটজাত পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে আবুল খায়ের গ্রুপ। জানতে চাইলে আবুল খায়ের গ্রুপের হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড লিগ্যাল শেখ শাবাব আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘পাটপণ্যের ব্যবসা অনেক বেশি মূলধননির্ভর। দেশের বেসরকারি খাতে অনেক পাটকল বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। তাই নতুন কারখানা না করে আমরা বন্ধ কারখানার মালিকদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে সেগুলো চালু করেছি। আমরা পাট কিনে কারখানায় দিচ্ছি। কারখানার কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের ব্যবস্থাপনা করে পণ্য উৎপাদন করে। সেই পণ্য আমরা বিদেশে রপ্তানি করি।’শেখ শাবাব আহমেদ জানান, বন্ধ চার পাটকল চালুর পর আরও ২-৩টি বন্ধ পাটকল চালুর বিষয়ে এসব পাটকলের মালিকপক্ষের সঙ্গে চুক্তির আলোচনা চলছে। সেগুলো চূড়ান্ত হলে সেখানেও পাটপণ্য উৎপাদন করা হবে। এ ছাড়া সরকারি বন্ধ ৩-৪টি পাটকল ইজারায় নেওয়ার আবেদনও করেছে আবুল খায়ের গ্রুপ।শেখ শাবাব আহমেদ, করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড লিগ্যাল বিভাগের প্রধান, আবুল খায়ের গ্রুপ বেসরকারি খাতে অনেক পাটকল বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। তাই নতুন কারখানা না করে আমরা বন্ধ কারখানার মালিকদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে সেগুলো চালু করেছি। শেখ শাবাব আহমেদ আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে বেশি মূল্যের (ভ্যালু অ্যাডেড পণ্য) পাটপণ্য উৎপাদনের জন্য আমরা চেষ্টা করছি। তখন আমরা বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করব। তখন নতুন কারখানাও করতে হবে। বাংলাদেশের পাটের মান উন্নত। পরিবেশবান্ধব এই পণ্যের বৈশ্বিক বাজারও রয়েছে। সে জন্য আমাদের প্রতিষ্ঠান পাটপণ্যে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে পরোক্ষভাবে হলেও পাটচাষিদের ভাগ্যের উন্নয়ন হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’পাটপণ্য রপ্তানিতে আবুল খায়ের গ্রুপের বিনিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান তাপস প্রামাণিক প্রথম আলোকে বলেন, গতানুগতিক ধারার বাইরে কিছুটা ভিন্নভাবেই পাটপণ্যের ব্যবসায় এসেছে আবুল খায়ের গ্রুপ। বন্ধ কারখানার মালিকদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে সেসব কারখানা চালুর নতুন ব্যবসায়িক মডেলটি মন্দ নয়। আবুল খায়ের মতো বড় শিল্পগ্রুপ যদি পাটপণ্যের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা ও বহুমুখী পাটপণ্যের বাজার ধরার জন্য মনোযোগী হয়, তাহলে দেশ খাতটি থেকে অনেক বেশি উপকৃত হবে।