পাকিস্তানের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আবারও বল ব্যবহারে পরিবর্তন আসছে। দুই মৌসুম ডিউকস বল ব্যবহারের পর ২০২৬-২৭ মৌসুম থেকে কোকাবুরা বল ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। ব্যাটারদের জন্য তুলনামূলক বেশি সময় তৈরি করা এবং বোলারদের মধ্যে ভারসাম্য ফেরানোর লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন।
নতুন মৌসুমে কায়েদ-ই আজম ট্রফি ও প্রেসিডেন্টস ট্রফিসহ পাকিস্তানের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে কোকাবুরা বল ব্যবহার করা হবে। শনিবার শুরু হচ্ছে এবারের প্রথম শ্রেণির মৌসুম। প্রথম রাউন্ডে মাঠে গড়াবে প্রেসিডেন্টস ট্রফি।
পিসিবির এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যাট-বলের ভারসাম্য। গত দুই মৌসুমে ডিউকস বল ব্যবহারের ফলে ঘাস ও আর্দ্রতা থাকা উইকেটে পেসাররা বাড়তি সুবিধা পেয়েছেন। এতে ম্যাচগুলো অনেক সময় অতিরিক্তভাবে বোলারদের দিকে ঝুঁকে গেছে।
ডিউকস বলের সিম তুলনামূলক শক্ত ও উঁচু হওয়ায় পেসাররা দীর্ঘ সময় ধরে বাতাসে এবং পিচ থেকে বল ম্যুভ করানোর সুযোগ পান। ফলে নতুন বলের পাশাপাশি ম্যাচের পরের দিকেও পেসাররা উইকেট আদায় করতে পারেন। কোকাবুরার ক্ষেত্রে এই মুভমেন্ট তুলনামূলক দ্রুত কমে যায়।
পিসিবির ধারণা, ডিউকস বলের অতিরিক্ত সহায়তার কারণে ঘরোয়া ক্রিকেটে পেসারদের প্রকৃত সক্ষমতা যাচাইয়ের সুযোগও কমে যাচ্ছিল। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বল যদি নিয়মিতভাবে বোলারদের বাড়তি সহায়তা করে, তাহলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গিয়ে একই ধরনের সুবিধা না পেলে পেসারদের সমস্যায় পড়তে হতে পারে।
টেস্ট ক্রিকেটের সঙ্গে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা
কোকাবুরা ফিরিয়ে আনার অন্যতম উদ্দেশ্য ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ও আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটের মধ্যে ব্যবধান কমানো। পাকিস্তানের টেস্ট ক্রিকেটে ব্যবহৃত কোকাবুরার সঙ্গে ঘরোয়া ক্রিকেটের বলের ধরন এক হলে খেলোয়াড়দের প্রস্তুতিও বাস্তবসম্মত হবে বলে মনে করছে পিসিবি।
এবারের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের বড় অংশ অনুষ্ঠিত হবে দেশের উত্তরাঞ্চলে- পেশোয়ার, ইসলামাবাদ, রাওয়ালপিন্ডি ও অ্যাবোটাবাদে। এসব অঞ্চলের আবহাওয়া ও উইকেটে সাধারণত পেসাররা সহায়তা পেয়ে থাকেন। তাই ডিউকসের বদলে কুকাবুরা ব্যবহার করে ব্যাটার ও বোলারদের মধ্যে কিছুটা ভারসাম্য তৈরি করতে চায় পিসিবি।
ব্যাটারদের ক্রিজে বেশি সময় কাটানোর সুযোগ দেওয়াও এই সিদ্ধান্তের অন্যতম লক্ষ্য। ব্যাটাররা যদি তুলনামূলক কঠিন কিন্তু অতিরিক্ত বোলার-সহায়ক পরিবেশের বাইরে বেশি সময় ব্যাট করতে পারেন, তাহলে তাদের টেকনিক আরও ভালোভাবে তৈরি হবে বলে মনে করছে বোর্ড।
আর ব্যাটাররা সময় পেলে স্পিনারদের ভূমিকাও বাড়তে পারে। পেসারদের জন্য ডিউকস বলের অতিরিক্ত সহায়তা কমে গেলে ম্যাচের মাঝের ও শেষ পর্যায়ে স্পিনারদের হাতে উইকেট নেওয়ার বড় সুযোগ তৈরি হতে পারে।
পাকিস্তান ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ২০১৯ সাল থেকে ২০২৩-২৪ মৌসুম পর্যন্ত কোকাবুরা বল ব্যবহার করেছে। এর আগে ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ মৌসুমে ডিউকস বল ব্যবহারের অভিজ্ঞতাও ছিল।
তবে ২০২৪-২৫ মৌসুমে আবার ডিউকস ফিরিয়ে আনা হয়। সে সময় পাকিস্তানের ক্রিকেটে পেস বোলিংয়ের পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছিল। একই সময় পাকিস্তান টেস্ট দলের লাল বলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন জেসন গিলেস্পি।
ডিউকস বল ব্যবহারের পাশাপাশি পাকিস্তান নিজেদের শক্তি হিসেবে পেস বোলিংকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনাও নেয়। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডিতে দুই টেস্টের সিরিজে ঘাসযুক্ত উইকেট তৈরি করা হয়েছিল।
কিন্তু সেই পরিকল্পনা প্রত্যাশিত ফল দেয়নি। বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজেই হেরে যায় পাকিস্তান। সেটি ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের প্রথম টেস্ট হার এবং প্রথম টেস্ট সিরিজ হার।
বাংলাদেশের বিপক্ষে ব্যর্থতার পরও পাকিস্তান প্রথমে পেস-সহায়ক উইকেটের পথ থেকে পুরোপুরি সরে আসেনি। কিন্তু পরের টেস্ট সিরিজে মুলতানে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে হারের পর বড় পরিবর্তন আসে।
পাকিস্তান তখন ঘুরে দাঁড়াতে উইকেটের ধরন বদলে স্পিন-সহায়ক স্কয়ার টার্নার তৈরির দিকে যায়। এরপর দেশের মাটিতে টেস্ট ও সীমিত ওভারের ক্রিকেটেও স্পিনারদের ব্যাপক সহায়তা করে এমন উইকেট তৈরির প্রবণতা দেখা যায়।
ফলে গত দুই বছরে পাকিস্তানের ক্রিকেটে পিচ ও বল নিয়ে একাধিকবার দর্শন বদলেছে। কখনো পেসারদের সহায়তা দিতে ঘাস ও আর্দ্রতার ওপর নির্ভর করা হয়েছে, আবার কখনো স্পিনারদের আধিপত্য নিশ্চিত করতে টার্নিং উইকেট তৈরি করা হয়েছে।
কুকাবুরা বল ফিরিয়ে এনে পিসিবি যেন সেই চরম অবস্থানগুলো থেকে বেরিয়ে এসে ব্যাট-বলের মধ্যে ভারসাম্য তৈরির চেষ্টা করছে। বিশেষ করে উত্তর পাকিস্তানের পেস-সহায়ক পরিবেশে ডিউকস বল ব্যবহার করলে ম্যাচ আরও বেশি বোলারনির্ভর হয়ে যেতে পারে- এমন আশঙ্কা থেকেই সিদ্ধান্তটি এসেছে।
ব্যাটারদের জন্য বেশি সময়, স্পিনারদের জন্য বাড়তি ভূমিকা এবং পেসারদের প্রকৃত দক্ষতা যাচাই- সবকিছুর সমন্বয় ঘটাতে চায় পিসিবি।
আইএইচএস/
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
লিখিত বক্তব্যে আব্দুর রহিম ভূঞা বলেন, এই সম্পদ কোনো ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পদ নয়। এটি পলিসিহোল্ডার, গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের ঘাম ঝরানো সঞ্চয়ের আমানত। এই আমানত সুরক্ষার দায়িত্ব পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের। কিন্তু বর্তমানে এই সম্পদ বেআইনি হস্তক্ষেপ ও পেশিশক্তির হুমকির মুখে।
ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাখাওয়াত হোসেন প্রথমবারের মতো আয়োজিত বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬-এ ‘বর্ষসেরা টেকসই পর্যটন উদ্যোগ’ পুরস্কার অর্জন করেছেন।
ঢাকাই সিনেমার দর্শকদের কাছে ‘নসীব’ নামটি বেশ পরিচিত। ১৯৮৪ সালে মোমতাজ আলী পরিচালিত এবং উজ্জ্বল-শাবানা অভিনীত ‘নসীব’ সিনেমা দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিল।