বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরার চারটি আসনেই বিএনপির প্রার্থীদের পরাজয়ের পেছনে দলের কিছু নেতা-কর্মীর ভূমিকা ছিল বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, দিনে বিএনপি, রাতে গুপ্ত ষড়যন্ত্র করে বিএনপির প্রার্থীদের হারানো হয়েছিল।
আজ রোববার বিকেল পাঁচটায় সাতক্ষীরা শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে জেলা বিএনপি আয়োজিত বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন।
বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরার চারটি আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা পরাজিত হন। চারটি আসনেই জয়ী হন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা।
এ প্রসঙ্গ টেনে সভায় আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমি আপনাদের সাতক্ষীরার জন্য যে দায়িত্ব পেয়েছি, (সে বিষয়ে) সারা দিন বিভিন্ন স্তরে মিটিং করেছি। আপনাদের এখানে মিটিং করতে আসার আগে কিছু হোমওয়ার্ক করে এসেছি। চারজন এমপিকে (সংসদ সদস্য) হারানোর পেছনে আপনারা মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন। চারজন এমপিকে হারানোর জন্য আপনারা ষড়যন্ত্র করেছেন।’
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘চারজন এমপিকে হারানোর জন্য দিনে বিএনপি, রাতে গুপ্ত ষড়যন্ত্র করেছেন। আমার কাছে সবার আমলনামা আছে। যদি জানতে চান, নিশ্চয়ই এই আমলনামা নিয়ে সবার সঙ্গে “ওয়ান টু ওয়ান” (একান্তে) আমি কথা বলতে পারি। দিনে এসে বিএনপি করে গেছেন, রাতের অন্ধকারে গুপ্তদের সঙ্গে মিটিং করেছেন।’
দলের মধ্যে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিএনপি ও তারেক রহমানের বিএনপি করতে হলে দলের সিদ্ধান্ত মেনে চলতে হবে। নির্বাচনের সময় দল একজনকে মনোনয়ন দিলে তাঁর পক্ষে সবাইকে কাজ করতে হবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের দল যখন একজনকে নমিনেশন (মনোনয়ন) দেয়, দল যদি আপনি করেন, তাহলে তাঁর পেছনেই আপনাকে থাকতে হবে। আর যদি সেটা না করেন, আপনার সারা জীবনের অর্জন ওইখানেই ধ্বংস হয়ে যাবে। রাজনীতি খুব নিষ্ঠুর জায়গা।’
দলের প্রার্থীদের হারাতে কিছু নেতা বিভিন্ন আসন থেকে লোকজন ডেকে রাতে বৈঠক করেছিলেন বলেও অভিযোগ করেন আসাদুজ্জামান। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দলীয় শৃঙ্খলা মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যাঁরা এটা করেছেন, আমি তাঁদের সঙ্গে ওয়ান টু ওয়ান রেকর্ডসহ বলব। দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা করলে দল কিন্তু আপনার সঙ্গে থাকবে না, আপনাকে বর্জন করবে।’
মতবিনিময় সভায় দলের নেতা-কর্মীদের বক্তব্য নিয়েও কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, সভায় বক্তব্য দেওয়া অধিকাংশ নেতা ‘আমি’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। ‘আমি সব করেছি, আমিই ত্যাগ করেছি, আমি নির্যাতিত হয়েছি’, এভাবে বক্তব্য দিয়েছেন।
আসাদুজ্জামান বলেন, ‘অথচ আমাদের দলের মৌলিক আদর্শের জায়গা হলো “আমরা”। আমাদের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বলে গেছেন, ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। আমরা যদি “আমরা” শব্দটা ব্যবহার করতে না পারি বক্তৃতায়, তাহলে সাতক্ষীরা বিএনপি, জেলা বিএনপি কখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।’
দলের নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের ‘আমিত্বকে আমরাতে রূপান্তরিত’ করার আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, এটি করতে পারলে দলের মধ্যে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা উত্তরণে সমস্যা হবে না।
চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের কথা জানান আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, কোনো নেতা-কর্মী যত ত্যাগী বা দলের প্রতি যতটা নিবেদিতই হোন না কেন, চাঁদাবাজি, দখলবাজি কিংবা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার মতো কাজে জড়ালে তাঁকে আইনের হাতে সোপর্দ করা হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিথীকা বিনতে হোসেন, সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমাতুল্লাহ পলাশ, সদস্যসচিব আবু জাহিদ ডাবলুসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। এছাড়া, মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেক মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গত বছরের ১৭ নভেম্বর এ রায় ঘোষণা করা হয়। আরও পড়ুন মানবতাবিরোধী অপরাধ / ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড ফলে দেখা যাচ্ছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ- এ তিন সংগঠনের প্রধান দুই নেতারই ফাঁসির রায় হলো। আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলার রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। রায় পড়ার শুরুতেই ওবায়দুল কাদেরের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়। এরপর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলেরও মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন আদালত। আরও পড়ুন মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড সবশেষ নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানেরও মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল। এ মামলার সব আসামিই পলাতক। এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেক মামলায় গত বছরের ১৭ নভেম্বর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তিনটি পৃথক অপরাধে তাকে এই দণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া আরও দুইটি অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ রায় ঘোষণা করেন। কেএসআর/
দেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের উদ্যোক্তাদের তৈরি বিভিন্ন পণ্য নিয়ে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে শুরু হচ্ছে পাঁচ দিনব্যাপী ‘বিসিক চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য মেলা-২০২৬’। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) উদ্যোগে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) শুরু হয়ে মেলা চলবে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। বিসিকের প্রধান কার্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ মেলায় দেশের বিভিন্ন উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠান তাদের তৈরি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করবেন। দর্শনার্থীরা মেলায় বিভিন্ন ধরনের আকর্ষণীয় চামড়াজাত পণ্য কেনার সুযোগ পাবেন। জানা গেছে, বুধবার বিকেল ৩টায় মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মো. রুহুল কবির রিজভী এ মেলার উদ্বোধন করবেন। বিসিক জানিয়েছে, মেলায় চামড়ার তৈরি বিভিন্ন পণ্যের পাশাপাশি চামড়াজাত ব্যাগ, জুতা, মানিব্যাগসহ বিভিন্ন ব্যবহার্য ও ফ্যাশনপণ্য প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে দেশীয় উদ্যোক্তাদের পণ্য বাজারজাতকরণ এবং ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে। এনএইচ/এমআইএইচএস
দেশের মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্য সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়; এ কাজে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম আরও ব্যাপকভাবে পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। কারণ, একটি দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থতা অনেকাংশে নির্ভর করে তারা কী ধরনের খাদ্য গ্রহণ করছে তার ওপর। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুস্থ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্যের বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের। বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের মান পরীক্ষা করে যেসব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তা থেকে আমাদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশুদের খাদ্যাভ্যাসের বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন করতে হবে। প্যাকেটজাত বিভিন্ন খাবার ও পানীয় সম্পর্কে মানুষকে সঠিক তথ্য জানাতে হবে এবং খাদ্যের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে হবে। মন্ত্রী বলেন, নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমকে আরও ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে দিতে হবে। বর্তমানে দেশের বিভাগীয় পর্যায়ে যে আটটি মোবাইল ল্যাব রয়েছে, তা পর্যাপ্ত নয়। পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪টি জেলায় মোবাইল ল্যাবের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে ঘটনাস্থলে দ্রুত খাদ্যপণ্যের প্রাথমিক পরীক্ষা করা সম্ভব হবে এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ল্যাবরেটরি ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ল্যাবরেটরি পরিচালনায় উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হচ্ছে। নিজস্ব অবকাঠামো তৈরি করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে সরকারের ব্যয় কমবে এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি মানসম্মত খাদ্য পরীক্ষাগার গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় জায়গা নির্ধারণ, প্রকল্প প্রণয়ন, অর্থায়নসহ সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়াগুলো দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ল্যাবরেটরিতে খাদ্যপণ্যের পরীক্ষার ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় লাগার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়ানো এবং আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য খাদ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবির বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উত্থাপিত দাবিগুলো যৌক্তিক। পর্যায়ক্রমে এসব বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, আমি আপনাদের মন্ত্রী হিসেবে নয়, সহকর্মী হিসেবে দেখতে চাই। আমরা সবাই মিলে কাজ করবো। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে খাদ্য মন্ত্রণালয়কে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা এবং দেশের মানুষের কাছে নিরাপদ খাদ্য পৌঁছে দেওয়া। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের মানুষের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে কাজ করছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। এর আগে খাদ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মিনি ল্যাব (মোবাইল ভ্যান) ও ল্যাবরেটরি পরিদর্শন করেন। এসময় সংশ্লিষ্ট ল্যাব অপারেটররা মন্ত্রীকে মিনি ল্যাব ও ল্যাবরেটরির কার্যক্রম এবং খাদ্যপণ্যের নমুনা পরীক্ষা সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন। এনএইচ/এমকেআর