ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এর অংশ হিসেবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে দলটি।
রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এনসিপির কার্যালয়ে এ মতবিনিময় সভা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
সভায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এনসিপি সমর্থিত দুই মেয়র প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক ও দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকারসহ উত্তর ও দক্ষিণ মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
মতবিনিময় সভায় আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় প্রস্তুতি, মহানগরীর রাজনীতি এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রস্তুতির পাশাপাশি নিজ নিজ এলাকায় দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম শক্তিশালী করার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ওয়ার্ডভিত্তিক রাজনৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা, জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের পরিবারের পাশে থাকা এবং নাগরিক বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়।
এনসিপির নেতারা বলেন, শুধু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নয়, নগরবাসীর বিভিন্ন সমস্যা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে ওয়ার্ড পর্যায় থেকেই সংগঠনকে সক্রিয় করতে হবে। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়িয়ে তাদের সমস্যা ও দাবিগুলোকে রাজনৈতিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মতবিনিময় সভায় নাহিদ ইসলাম সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের মাঠপর্যায়ে সক্রিয় হওয়ার পাশাপাশি দলীয় শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করার নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে ঢাকা মহানগরের প্রতিটি ওয়ার্ডে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এনএস/কেএসআর
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
প্রশ্ন: কুকুরের লালা কাপড়ে লাগলে কয়বার ধুয়ে পাক করতে হবে? উত্তর: কুকুরের লালা নাপাক। কুকুরের লালা যদি কাপড়ে লাগে, তাহলে অন্যান্য নাপাকির মতোই তিনবার ধুয়ে ওই কাপড় পাক করতে হবে। আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কুকুর যদি কোনো পাত্রে মুখ দেয়, তাহলে সেই পাত্রের জিনিস ফেলে দিয়ে তিনবার ধুয়ে নাও। (সুনানে দারাকুতনি: ১৯৬) মনসুর (রহ.) থেকে বর্ণিত ইবরাহিম নাখঈ (রহ.) বলেছেন, কোনো পাত্রে কুকুর মুখ দিলে পাত্রটি এ পরিমাণ ধুয়ে নেবে, যাতে তা পরিপূর্ণ পরিষ্কার হয়ে যায়। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা: ১৮৪৩) আরও পড়ুন হাদিস থেকে শিক্ষা / নামাজ আদায় করতে হবে পবিত্র অবস্থায় উল্লেখ্য যে, কোনো প্রয়োজন ছাড়া শখ করে কুকুর পোষা ইসলামে নিষিদ্ধ। তবে প্রয়োজন থাকলে যেমন বাড়িঘর, ক্ষেত-খামার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা, অপরাধের উৎস অনুসন্ধান বা অপরাধী চিহ্নিত করা, শিকার করা ইত্যাদির জন্য কুকুর পোষা বৈধ। রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি শিকার করা বা গবাদি পশু অথবা শস্যক্ষেত পাহারা দেওয়ার উদ্দেশ্য ছাড়া কুকুর পোষে ওই ব্যক্তির প্রতিদিন দুই কিরাত পরিমাণ নেকি হ্রাস পায়। (সহিহ মুসলিম: ১৫৭৫) এ হাদিস এবং আরও কিছু হাদিসে সওয়াবের পরিমাণ বোঝাতে ‘কিরাত’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। এ হাদিসের ব্যাখ্যায় ‘কিরাত’ শব্দের অর্থ সম্পর্কে ইমাম নববি (রহ.) লিখেছেন, ‘‘কিরাত’ একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ যা আল্লাহ তাআলা জানেন।’ অর্থাৎ বিনা প্রয়োজনে কুকুর পুষলে আমলনামা থেকে আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী কিছু পরিমাণ সওয়াব কমে যেতে পারে। তবে আল্লাহর সৃষ্টি হিসেবে সব জীবজন্তুর মতোই কুকুর প্রতি দয়া করা, কুকুরকে খাবার-পানি দেওয়া, কোনো বিপদে পড়লে উদ্ধার করা সওয়াবের কাজ। বিপদজনক বা ক্ষতিকর না হয়ে উঠলে কুকুরকে কোনোভাবে কষ্ট দেওয়া, হত্যা করা গুনাহের কাজ। আরও পড়ুন অপবিত্র ব্যক্তির স্পর্শে অন্য কেউ কি অপবিত্র হয়? হাদিসে এসেছে, বনি ইসরাইলের এক ব্যাভিচারী নারী কুকুরকে পানি পান করানোর কারণে আল্লাহর ক্ষমা লাভ করেছিলো। রাসুল (সা.) বলেন, একবার এক তৃষ্ণার্ত কুকুর কূপের পাশে ঘোরাঘুরি করছিল। তৃষ্ণায় তার প্রাণ বের হওয়ার উপক্রম হয়। বনি ইসরাইলের এক ব্যভিচারী নারী তা দেখতে পেয়ে নিজের পায়ের মোজা খুলে মোজায় পানি ভরে কুকুরটিকে পানি পান করায়। এ কারণে তার আগের সব পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। (সহিহ বুখারি: ৩৪৬৭) ওএফএফ
এমি অ্যাওয়ার্ডসের মঞ্চে এবার একসঙ্গে দেখা গেল জেনডায়া ও টম হলান্ডকে। অনেকের চোখ ছিল তাঁদের পোশাক ও রেড কার্পেটের উপস্থিতিতে। তবে রাতের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠল তাঁদের বিয়ে। কারণ, বিয়ের পর প্রথমবার এমিতে হাজির হয়েছেন—এমন আলোচনা যখন চলছে, তখনই জেনডায়ার স্টাইলিস্ট ল রোচ জানিয়ে দিলেন, আসলে তাঁদের বিয়েই হয়নি! যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের পিকক থিয়েটারের আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় ভোরে বসেছিল ৭৮তম এমি অ্যাওয়ার্ডসের আসর। অনুষ্ঠানে জেনডায়া ছিলেন অন্যতম আলোচিত তারকা। ‘ইউফোরিয়া’য় রু চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ও শেষ এমি মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। সেরা অভিনেত্রীর এই পুরস্কার অবশ্য তাঁর জন্য নতুন নয়; এর আগেও একই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য দুবার এমি জেতেন তিনি। তবে এবারের উপস্থিতিতে আলাদা মাত্রা যোগ করেন টম হল্যান্ড। ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ ও ‘দ্য অডিসি’–তে জেনডায়ার সহশিল্পী হল্যান্ড প্রথমবারের মতো এমির আসরে হাজির হন।কমেডি সিরিজের সেরা পরিচালকের পুরস্কার ঘোষণার আগে ‘স্যাটারডে নাইট লাইভ’ তারকা মারচেলো হার্নান্দেজ মজা করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত তারকাদের নিয়ে কথা বলছিলেন। একপর্যায়ে ক্যামেরা যায় জেনডায়ার দিকে। তাঁর পেছনেই দেখা যায় হল্যান্ডকে—প্রেমিকার দিকে তাকিয়ে হাসছিলেন তিনি।হার্নান্দেজ তখন বলেন, ‘আমি জেনডায়াকে “হাই” বলতে চাই।’ এরপর মজা করে বলেন, তিনি জেনডায়াকে দেখে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তা পারেননি। তাই জেনডায়া ও ‘স্পাইডার-ম্যান’–কে নিজের বাড়িতে ডিনারের আমন্ত্রণও জানান।সেদিন জেনডায়া ও হল্যান্ড দুজনেই ছিলেন নজরকাড়া পোশাকে। জেনডায়ার সাজে ছিল কুতুর গাউন ও মিকিমোটোর সাউথ সি কালচার্ড পার্লের দুল। তাঁর দীর্ঘদিনের স্টাইলিস্ট ল রোচ বলেন, তিনি চেয়েছিলেন মিকিমোটোর মতো চিরন্তন সৌন্দর্যের মুক্তোকে আরও আধুনিক ও তরুণভাবে উপস্থাপন করতে। অন্যদিকে হল্যান্ডের পোশাক ছিল ডিওরের।এমিতে জেনডায়া। এএফপি তবে রেড কার্পেটে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে ল রোচ এমন একটি তথ্য দেন, যা মুহূর্তেই পুরো আলোচনার মোড় ঘুরিয়ে দেয়।এর আগে ল রোচ দাবি করেছিলেন, জেনডায়া ও হল্যান্ড চলতি বছরের বসন্তে গোপনে বিয়ে করেছেন। সে বক্তব্য নিয়ে বেশ আলোচনা হয়েছিল। এবার তিনি নিজেই সেই দাবি প্রত্যাহার করে বলেন, ‘আমি আসলে মিথ্যা বলেছিলাম। সে বিবাহিত ছিল না।’ল রোচ আরও স্পষ্ট করে জানান, জেনডায়া ও হল্যান্ডের এখনো আনুষ্ঠানিক বিয়ে হয়নি। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের বিয়ের যেসব ছবি বা ভিডিও ছড়িয়েছে, সেগুলোও সত্যি নয়।তবে সম্পর্কের জায়গা থেকে তাঁদের বন্ধন যে অনেক গভীর, সেটিও বুঝিয়ে দিয়েছেন রোচ। তাঁর ভাষায়, ‘সে অনেক দিন ধরেই তাঁর সঙ্গী, কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো স্ত্রী নয়।’দীর্ঘদিনের প্রেম, বাগ্দান ও গোপন বিয়ের নানা গুঞ্জনের পরও জেনডায়া-হল্যান্ডের আনুষ্ঠানিক বিয়ের অপেক্ষা এখনো শেষ হয়নি।গোপনে বিয়ে করেছেন টম হল্যান্ড–জেনডায়া, দাবি স্টাইলিস্টেরএ বছর অবশ্য দুজনের জন্যই ছিল ব্যস্ততায় ভরা। পর্দায় তাঁরা একসঙ্গে অভিনয় করেছেন ক্রিস্টোফার নোলানের ‘দ্য অডিসি’ ও ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’–তে। দুটিই বছরের সবচেয়ে আলোচিত ও ব্যবসাসফল সিনেমার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।বিশেষ করে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসে ইতিমধ্যেই ৯২ কোটি ৩০ লাখ ডলার আয় করেছে। ফলে ২০১৫ সালের ‘স্টার ওয়ার্স: দ্য ফোর্স অ্যাওয়েকেন্স’-এর ৯৩ কোটি ৬০ লাখ ডলারের আয়কে ছাড়িয়ে উত্তর আমেরিকার সর্বকালের সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমা হওয়ার পথে রয়েছে ছবিটি।জেনডায়া ও টম হল্যান্ড। এএফপিএত ব্যস্ততার মধ্যেই মার্চে ফ্যানডাঙ্গোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেনডায়া জানিয়েছিলেন, কিছুদিনের জন্য তিনি লোকচক্ষুর আড়ালে যেতে চান। তাঁর কথায়, ‘আমি শুধু আশা করি, মানুষ যেন আমাকে দেখে ক্লান্ত হয়ে না যায়।’ ক্যারিয়ার ও সিনেমাগুলোকে সমর্থন করা দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছিলেন তিনি।এদিকে এমির মঞ্চে জেনডায়ার পাশে হাসিমুখে বসে থাকা হল্যান্ডকে দেখে আবারও স্পষ্ট—বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা না হলেও তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে ভক্তদের আগ্রহে এখনো কোনো কমতি নেই।ভ্যারাইটি অবলম্বনে
একদিনের সফরে সিলেটের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১০টা ৫০ মিনিটে তিনি সিলেটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়। রাষ্ট্রপতিকে বরণ ও সংবর্ধনার জন্য সিলেটজুড়ে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। কয়েকদিন ধরেই চলছে নগরের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। সব মিলিয়ে নগরজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। সফরসূচি অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানযোগে সিলেটের উদ্দেশে রওয়ানা হবেন রাষ্ট্রপতি। বেলা সোয়া ১১টায় তাকে বহনকারী বিমানটি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। সেখান থেকে মোটর শোভাযাত্রাসহ বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে সিলেট সার্কিট হাউজে পৌঁছাবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানে গার্ড অব অনার গ্রহণের পর দুপুর সাড়ে ১২টায় হযরত শাহজালাল (রহ.) ও দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন রাষ্ট্রপতি। এরপর বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নগর ভবনে সিলেট সিটি করপোরেশন আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠান শেষে সার্কিট হাউজেই অবস্থান করবেন তিনি। রাত ৮টায় বিমানযোগে ঢাকার উদ্দেশে সিলেট ত্যাগ করার কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতির। কেএইচ/জেএইচ