‘ক্যান্সার নিয়ে নীরব নয়, সচেতন হই। লজ্জা নয়, সময়মতো চিকিৎসাই হোক আমাদের শক্তি’ এই স্লোগান নিয়ে ইন্টারন্যাশাল গাইনোকোলজিক্যাল ক্যান্সার সচেতনতা মাস শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) শহীদ ডা. মিলন হলে গাইনোকোলজিক্যাল অনকোলজি বিভাগ ও ভারতের মেডিস্থান হেলথকেয়ার-অলকিউর উদ্যোগে এবং এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সাইন্সেসের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সহায়তায় ‘ওভারিয়ান ক্যান্সার: বিয়ন্ড সার্জারি’ শীর্ষক একটি বৈজ্ঞানিক অধিবেশন ও সিএমই এবং স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। বিশ্ববিদ্যালয়ের বি ব্লকের সামনে থেকে বেলুন ও কবুতর উড়িয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা উদ্বোধন করেন তিনি।
এসময় অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, আন্তর্জাতিক গাইনোকোলজিক্যাল ক্যান্সার সচেতনতা মাস এবং ‘ওভারিয়ান ক্যান্সার: বিয়ন্ড সার্জারি’ শীর্ষক বৈজ্ঞানিক অধিবেশন ও সিএমই প্রোগ্রাম এই কারণে গুরুত্বপূর্ণ যে, এর মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। গাইনোকোলজিক্যাল ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নাই। গাইনোকোলজিক্যাল ক্যান্সার হতে পারে এরকম ছোট ছোট উপসর্গকেও অবহেলা নয়। যদি একটু আগেই গাইনোকোলজিক্যাল ক্যান্সারের উপসর্গগুলো চিহ্নিত করা যায় তবে এই ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব। নারীদের জীবন রক্ষা করা সম্ভব।
বিএমইউ উপাচার্য বলেন, প্রতি বছর বিশ্বে গাইনোকোলজিক্যাল ক্যান্সারে ১৪ লাখ নারী আক্রান্ত হয় এবং বাংলাদেশে আক্রান্ত হয় ৮০ হাজার। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে লজ্জা ভয়কে জয় করে গাইনোকোলজিক্যাল ক্যান্সারের উপসর্গগুলোকে অবহেলা না করে সময় মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে অবশ্যই চিকিৎসাসেবা নিতে হবে।

শোভাযাত্রায় বিএমইউর উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামাল, সার্জারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মো. ইব্রাহীম সিদ্দিক, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. শেখ ফরহাদ, গাইনোকোলজিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস, অধ্যাপক ডা. ফওজিয়া হোসেন, অধ্যাপক ডা. আশরাফুন্নেসা, অধ্যাপক ডা. শিরিন আক্তার বেগম, উপাচার্যের একান্ত সচিব-১ অধ্যাপকা ডা. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, উপ-রেজিস্ট্রার মো. আলমগীর হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
পরে শহীদ ডা. মিল্টন হলে গাইনোকোলজিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌসের সভাপতিত্বে ‘ওভারিয়ান ক্যান্সার: বিয়ন্ড সার্জারি’ শীর্ষক একটি বৈজ্ঞানিক অধিবেশন ও সিএমই প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পরিচয় করিয়ে দেন অধ্যাপক ডা. লতিফা আক্তার।
বৈজ্ঞানিক অধিবেশনে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএমইউর সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারজানা শারমিন বিথি, ভারতের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সাইন্সেসের ডিরেক্টর ও হেড (গাইনোকোলজি) ডা. প্রীতিলতা চৌধুরী, এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সাইন্সেসের সিনিয়র কনসালটেন্ট ও চেয়ারম্যান (অনকোলজি সার্ভিসেস) ডা. পুনীত গুপ্ত।
অধিবেশনে ধন্যবাদ জানান গাইনোকোলজিক্যাল অনকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মনোয়ারা বেগম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারহানা খাতুন ও ডা. মেহের নিগার মুনমুন। অনুষ্ঠানে মেডিস্থান হেলথকেয়ার-অলকিউরের পরিচালক ডা. মাসকুর আহমেদ উসমানী উন্নত ক্যানসার চিকিৎসা ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করার লক্ষ্যে তাদের চলমান উদ্যোগ তুলে ধরেন।
বিএমইউর গাইনোকোলজিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, সেপ্টেম্বর মাস বিশ্বব্যাপী গাইনোকোলজিক্যাল ক্যান্সার সচেতনতা মাস হিসেবে পালিত হয়। এই মাসের মূল উদ্দেশ্য হলো নারীদের বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতন করা এবং রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে উৎসাহিত করা। জরায়ুমুখ, জরায়ু, ডিম্বাশয়, যোনি ও ভালভার ক্যান্সার নারীদের গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম। অনেক সময় নারীরা শরীরে পরিবর্তন লক্ষ্য করলেও লজ্জা, ভয় বা অবহেলার কারণে চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করেন। ফলে রোগটি পরে ধরা পড়ে এবং চিকিৎসা আরও কঠিন হয়ে যায়।
ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, অস্বাভাবিক রক্তপাত, মাসিকের ধরনে পরিবর্তন, মেনোপজের পর রক্তপাত, অস্বাভাবিক স্রাব, দীর্ঘদিনের তলপেট ব্যথা, পেট ফুলে থাকা বা অল্প খাবারেই পেট ভরে যাওয়ার মতো লক্ষণ থাকলে অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে মেনোপজের পর যেকোনো রক্তপাত হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
অন্য বক্তারা বলেন, জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব। জরায়ুমুখের ক্যান্সারের প্রধান কারণ হলো এইচপিভি ভাইরাস। এইচপিভি টিকা এবং নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে এই ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়। তাই নারীদের নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং বয়স ও ঝুঁকি অনুযায়ী নিয়মিত স্ক্রিনিং করা গুরুত্বপূর্ণ। লজ্জা নয়, সচেতনতা প্রয়োজন। নারীর শরীর নিয়ে কথা বলতে আমাদের সমাজে এখনও অনেক সংকোচ রয়েছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, শরীরের কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন নিয়ে কথা বলা লজ্জার বিষয় নয়।
বক্তারা বলেন, সময়মতো চিকিৎসা নিলে অনেক ক্যান্সার সফলভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব। তাই নিজের বা কাছের কোনো নারীর শরীরে অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এই সচেতনতা মাসে আমাদের সবার কাছে আহ্বান, নিজের শরীরকে জানুন। লক্ষণকে অবহেলা করবেন না। নিয়মিত স্ক্রিনিং করুন। এইচপিভি টিকা সম্পর্কে জানুন। প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসা নিন। একটি সচেতন পরিবার একজন নারীর জীবন বাঁচাতে পারে।
এসইউজে/এমএমএআর
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক পিএলসি (এসবিএসি) ‘ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর’ পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে আবেদন শুরু হয়েছে, চলবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। তবে প্রার্থীকে অবশ্যই স্নাতকোত্তর অথবা সমমান ডিগ্রিধারী হতে হবে। এক নজরে সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক পিএলসির (এসবিএসি) নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ তথ্যের ধরন বিবরণ প্রতিষ্ঠানের নাম সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক পিএলসি (এসবিএসি) পদের নাম ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদসংখ্যা নির্ধারিত নয় চাকরির ধরন বেসরকারি, ফুল টাইম প্রার্থীর ধরন নারী- পুরুষ শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর অথবা সমমান অভিজ্ঞতা ২০ বছর বেতন ও অন্যান্য সুবিধা আলোচনা সাপেক্ষে বয়সসীমা ৫৫ বছর সূত্র বিডিজবস ডটকম আবেদন করার নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আবেদন শুরু: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদনের শেষ তারিখ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে কর্মস্থল: যে কোনো জেলায় কাজ করার মানসিকতা থাকা আবশ্যক। আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক পিএলসি (এসবিএসি)। আরও পড়ুন৫৩৮ জনকে নিয়োগ দেবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, আবেদন ফি ৫৬ টাকাএইচএসসি পাসে বিজিবির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন ফি ৫৬ টাকাসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ৪০ বছর বয়সেও আবেদনের সুযোগনৌবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই অফিসার ক্যাডেট হওয়ার সুযোগসেনাবাহিনীর চাকরি পেতে যেসব যোগ্যতা আপনাকে এগিয়ে রাখবে১১২ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেবে বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনসেনাবাহিনী নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এসএসসি পাসেই আবেদন১৪২ জনকে নিয়োগ দেবে সমরাস্ত্র কারখানা, এসএসসি পাসেও আবেদনসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই আবেদনের সুযোগ এমআইএইচ
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘাড়ে বন্ধুক রেখে গুলি করা চলবে না বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, আমিও ট্রিগার টানতে জানি। সব সমস্যার সমাধান করবোই। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে গাফিলতি করা শিক্ষকদের শাস্তির আওতায় আনা হবে বলেও জানিয়েছেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাবৃত্তি ও ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আরও পড়ুন এসএসসির খাতা দেখায় গাফিলতি করা শিক্ষকদের শাস্তি হবে: শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এসএসসির খাতা চ্যালেঞ্জ করে ৩০৭৯ শিক্ষার্থী নতুন করে জিপিএ-৫ পেল। তাহলে তো প্রশ্ন ওঠে- এত কীভাবে বাড়লো? এখন কি এ পরীক্ষকদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে না? যে শিক্ষক পরীক্ষকরা খাতা ঠিকমতো দেখেননি, তাদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তাদের শাস্তির মুখে পড়তেই হবে। ল কলেজের বাড়তি ফি আদায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পত্রিকায় দেখলাম জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রচুর আয় করছে। ল কোর্সের ফরম ফিলাপের ফি দ্বিগুণ-তিনগুণ করা হয়েছে। কেন? জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কী টাকা আয় করা এবং বাড়ানোর জন্য? টাকার এত প্রয়োজন কেন? শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘাড়ে বন্ধুক রেখে গুলি করা চলবে না। আমিও ট্রিগার টানতে জানি। সব সমস্যার সমাধান করবোই। আরও পড়ুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনে আসছে নতুন নিয়ম অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এদিকে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথমবারের মতো এবারই ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড চালু করেছে। ৫৭ জন শিক্ষার্থীকে এ অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানের অতিথিরা শিক্ষার্থীদের হাতে এ অ্যাওয়ার্ড তুলে দেন। এএএইচ/ইএ
‘কইলজ্যাডা ফাইট্টা যাইতাছে পুতের লাইগ্যা। মাইনষে পাড়াইয়্যা আমার পুতটারে মাইরা হালাইছে।’ গতকাল সোমবার রাতে ছেলের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর থেকে এ কথা বলে আহাজারি করছেন বৃদ্ধ মা হাওয়া খাতুন। তাঁর ছেলে শাহাজাহান মনির (৪৫) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।স্বজনদের দাবি, গতকাল সন্ধ্যায় হাসপাতালের লিফটে আগুন লাগার পর সিঁড়ি দিয়ে স্ত্রী ও স্ত্রীর বড় বোনের সঙ্গে নামতে গিয়ে পদদলিত হয়ে শাহাজাহান মনিরের মৃত্যু হয়। ওই দুর্ঘটনার পর চারজনের মৃত্যুর তথ্য সামনে এলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন তা নাকচ করেছে। তবে তিনটি পরিবারের সঙ্গে প্রথম আলো যোগাযোগ করলে তারা পদদলিত হয়ে স্বজনদের মৃত্যুর দাবি করেছে।ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ডের সময় ৫টি সিঁড়ির ৪টিতেই তালা ছিলশাহাজাহান মনির ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের বিষ্ণুরামপুর গ্রামের নাজিমুল্লাহর ছেলে। পেশায় পল্লিচিকিৎসক শাহাজাহান ১০ থেকে ১২ দিন ধরে হাসপাতালের নতুন ভবনে যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বাড়ির আঙিনায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে শাহাজাহানের মরদেহের দাফন হয়েছে। ছেলেকে হারিয়ে হাওয়া খাতুনের বিলাপ থামছেই না। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘কালকা বিকালেও পুতে মোবাইল কইরা খবর নিছে। কইলো, মা, আমার লাইগ্যা দোয়া কোরো, ভালা আছি—চিন্তা কইরো না। আমি বাড়িত আইয়্যা তোমগরে সবাইরো লইয়া রান্না কইরা খাওয়ামু। আমার কইলজ্যার টুকরা পুত বাড়িত ঠিকই আইলো, কিন্তু লাশ ওইয়াই আইলো।’হারিসা বেগম, শাহাজাহান মনিরের সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী রোগীরে নিয়া এক সিঁড়ির দুই-তিন ধাপ নামার পরেই পইড়া গেছি। পরে আমি অজ্ঞান হইয়া যাই। যহন হুঁশ হইছে, তহন দেহি মাইনষে কান্দাকাটি করতাছে। আমি জিগাইছি, “আল্লাহ! আমি যে রোগী নিয়া নিচে নামবার লইছিলাম, আমার সেই মানুষ কই? মানুষের পাড়ায় পিষ্ট হইয়া মারা গেছে।ঘটনার সময় শাহাজাহান মনিরের সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী হারিসা বেগম। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওষুধ কিনবার লাইগা আমরা দুই বইন বাইর হইছিলাম। তখন বইন কইল, আগুন লাগছে। রোগীরে নিয়া এক সিঁড়ির দুই-তিন ধাপ নামার পরেই পইড়া গেছি। পরে আমি অজ্ঞান হইয়া যাই। যহন হুঁশ হইছে, তহন দেহি মাইনষে কান্দাকাটি করতাছে। আমি জিগাইছি, “আল্লাহ! আমি যে রোগী নিয়া নিচে নামবার লইছিলাম, আমার সেই মানুষ কই? মানুষের পাড়ায় পিষ্ট হইয়া মারা গেছে।”’হারিসা বেগমের দাবি, ওই সময় তাঁর বোনও বুকে ব্যথা পেয়ে আহত হয়েছেন। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে।ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ড থেকে ধোঁয়া, রোগী–স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক‘ও মিম, আমারে ধরলি না?’শাহাজাহানের মতোই ওই আগুনের পর পদদলিত হয়ে মারা যাওয়ার দাবি করেছে কুলসুম আক্তারের (৩৫) পরিবার। তারাকান্দা উপজেলার বালিখা গ্রামের কুলসুম ১২ দিন ধরে হাসপাতালটিতে ছেলের সঙ্গে ছিলেন। ১২ বছর বয়সী ছেলে স্বাধীন জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালটির ৩১ নম্বর শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল। সঙ্গে ছিলেন ১৮ বছর বয়সী মেয়ে মিম আক্তার।আগুন লাগার কথা শুনে মা ও ভাইকে নিয়ে একসঙ্গে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছিলেন মিম। এ সময় ভিড়ের মধ্যে তাঁরা পড়ে যান। মিম উঠে ভাইকে টেনে তোলেন। পরে মাকে তুলতে গেলে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়।মিম বলেন, ‘আমার আম্মু তখন মানুষের ভিড়ের মধ্যে পড়ে গেছিল। আম্মু আমাকে একবার ডাক দিয়ে কইছে, “ও মিম, আমারে ধরলি না?” আমি তখন মানুষের চিপার মধ্যে পইড়া গেছি। পরে আবার মাকে তুলতে গেলে আমাকে দুইবার ধাক্কা দেওয়া হয়। পরে অনেক কষ্টে মাকে নিচে নামিয়ে আনি।’ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার বালিখা গ্রামের কুলসুম আক্তারের হাসপাতালের সিঁড়ি দিয়ে নামার সময়ের পরিস্থিতি বর্ণনা দিচ্ছিলেন তাঁর মেয়ে মিম আক্তার। আজ সকালে তোলামিমের অভিযোগ, ‘আমার আম্মুরে যদি সাথে সাথে নেওয়ার পর ভালোভাবে চেকআপ করত, তাহলে হয়তো মারে আমি ফিরা পাইতাম। ডাক্তার আসছে, হাতের মধ্যে কী একটা দেইখা একটা লেখা লিখছে। এর মধ্যে আমার কাছে টাকা চাইছে। আমি কইছি, আগে টাকা না আগে রোগী? আমার রোগীকে তো আগে বাঁচাইবো।’গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে কুলসুমকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আজ সকাল ১০টার দিকে বাড়ির পাশে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর মরদেহ দাফন করা হয়। কুলসুম শ্রমিক শহিদুল ইসলামের স্ত্রী। তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ের মা ছিলেন।কুলসুমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর গতকাল রাত থেকেই বাড়িতে স্বজনেরা ভিড় করেন। আজ সকালেও তাঁকে শেষবারের মতো দেখতে অনেক স্বজন ও স্থানীয় লোকজন বাড়িতে আসেন।ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন: রোগী–স্বজনদের আতঙ্ক কাটেনি, তদন্ত কমিটি গঠনদুর্ঘটনায় পদদলিত হয়ে কেউ মারা যায়নি—প্রশাসনের এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে কুলসুমের ননদ নাজমা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের রোগী ১১ থেকে ১২ দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি ছিল। আমাদের বাচ্চাও সেখানে চিকিৎসাধীন ছিল। তাহলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কীভাবে বলছে, আমরা রোগীকে বাইরে থেকে মৃত অবস্থায় নিয়ে গেছি? এটা সত্য নয়।’নাজমার অভিযোগ, কুলসুম মানুষের ভিড়ের মধ্যে পড়েই মারা যান। পরে গতকাল রাত ১১টার দিকে তাঁরা হাসপাতাল থেকে লাশ বাড়িতে নিয়ে যান। এ সময় স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্যসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন এবং সইও করেছেন।নাজমা বলেন, ‘আমরা যদি বাইরে থেকে মৃত অবস্থায় রোগীকে নিয়ে গিয়ে থাকি, তাহলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কেন মেম্বারের (ইউপি সদস্য) কাছ থেকে সই নিল? আসলে বিষয়টি দামাচাপা (ধামাচাপা) দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’‘মাঝখানে আটকা পড়ে গেছিলাম’ফুলবাড়িয়া উপজেলার কালাদহ ইউনিয়নের বিদ্যানন্দ গ্রামের রমজান আলী (৩৮) সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে মারা যান বলে হাসপাতালের নথিতে উল্লেখ আছে। রমজান আলী পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ছিলেন। বুকের ব্যথা নিয়ে গতকাল সকালে প্রথমে ফুলবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে সেখান থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।আগুনের সময় আতঙ্ক শুরু হলে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে রমজানের মৃত্যু হয় বলে দাবি করেছেন স্বজনেরা। তিনি দুই স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জনক ছিলেন। তাঁর দুই স্ত্রীই সন্তানসম্ভবা। আজ বেলা আড়াইটায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর মরদেহ দাফনের কথা আছে।ঘটনার সময় রমজানের সঙ্গে থাকা স্ত্রী খাদিজা আক্তার বলেন, ‘আমিও সিঁড়ির মাঝখানে পড়ে গেছিলাম। পরে বলা হইতেছিল, নিচে না গিয়ে যার যার সিটে যান, আগুন নিভাই দিছি। তখন নিচেও যেতে পারতেছিলাম না, ওপরেও যেতে পারতেছিলাম না। মাঝখানে আটকা পড়ে গেছিলাম। ওই অবস্থাতেই মারা যায় আমার স্বামী।’ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার কালাদহ ইউনিয়নের বিদ্যানন্দ গ্রামের রমজান আলীর মরদেহ নিয়ে জানাজার অপেক্ষায় ছিলেন স্বজনেরারমজান আলীর ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম বলেন, তাঁর ভাই এমনিতেই হার্টের রোগী ছিলেন। চারতলা থেকে নামার সময় ধাক্কাধাক্কির মধ্যে পড়ে গিয়ে সেখানেই মারা গেছেন তিনি। পরে ভাইকে জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখান থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ডেথ গেট পাস দেয়। রাত আটটা থেকে সাড়ে আটটার দিকে মরদেহ নিয়ে আসেন।সাইফুল ইসলামের দাবি, ‘হাসপাতালের পাঁচটা সিঁড়ির মধ্যে চারটাই বন্ধ ছিল। লিফটও কার্যকর ছিল না। সিঁড়িগুলো চালু থাকলে এমন অবস্থা হতো না। এ জন্য আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেই দায়ী মনে করি।’‘রমজান আলী হাসপাতালে আগুন বা পদদলিত হওয়ার ঘটনায় মারা যাননি; তাঁকে বাইরে থেকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল’—হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এমন বক্তব্যের বিষয়ে সাইফুল বলেন, ‘হাসপাতালের রেজিস্টার চেক করলেই তো দেখা যাবে। আমাদের হাতে ৭টা ২৫ মিনিটে দেওয়া ডেথ সার্টিফিকেট ও গেট পাস আছে। তাহলে কীভাবে বলে, তিনি হাসপাতালে মারা যাননি?’ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুনের পর চার মৃত্যু, পদদলিত হওয়ার তথ্য নাকচ প্রশাসনেরকী আছে হাসপাতালে রেজিস্টারেগতকাল বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটের দিকে হাসপাতালটির ১১ নম্বর লিফটে আগুন লাগে। এতে লিফটের বাইরের আবরণ পুড়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুন লাগার পর হাসপাতালের বিভিন্ন তলা থেকে রোগী ও স্বজনদের অনেকে হুড়োহুড়ি করে নিচে নামতে গিয়ে আহত হন। এ ঘটনায় চারজনের মৃত্যুর দাবি ওঠে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন তা নাকচ করেছে।হাসপাতালে গতকালের অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের তথ্যসংবলিত একটি রেজিস্টারের পাতার ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার পর পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া হতাহত ব্যক্তিদের তথ্যের সঙ্গে ওই রেজিস্টারের তথ্যের মিল আছে। এটি হাসপাতালের বলে নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান।মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) একজন নার্স তাৎক্ষণিক এই তালিকাভুক্তি করেছিলেন। কিন্তু তাঁরা পদদলিত হয়ে মারা গেছেন—এমন কোনো তথ্য নেই। তাঁদের শরীরে এমন কোনো চিহ্নও ছিল না।হাসপাতালের জরুরি বিভাগের রেজিস্টারের তথ্য অনুযায়ী, আগুনের ঘটনার পর চারজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে দুজন ফুলবাড়িয়ার, একজন তারাকান্দার।ওই দুর্ঘটনার পর মৃত পূর্বধলা উপজেলার ১০ নম্বর নারান্দিয়া ইউনিয়নের ভূগী গ্রামের আইয়ুব আলীর স্ত্রী হাজেরা বেগমের (৫০) বিষয়টি এখনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি।নথিতে থাকা চারজনের মৃত্যুর বিষয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, একজন নার্স তাৎক্ষণিক এই তালিকাভুক্তি করেছিলেন। কিন্তু তাঁরা পদদলিত হয়ে মারা গেছেন—এমন কোনো তথ্য নেই। তাঁদের শরীরে এমন কোনো চিহ্নও ছিল না।