জাতীয়

ছিনতাইয়ের ৯০ ঘণ্টা পরেও মুঠোফোনটি সচল, অবস্থান চিহ্নিত, খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
ছিনতাইয়ের ৯০ ঘণ্টা পরেও মুঠোফোনটি সচল, অবস্থান চিহ্নিত, খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ
ছিনতাইয়ের ৯০ ঘণ্টা পরেও মুঠোফোনটি সচল, অবস্থান চিহ্নিত, খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ

ছিনতাইয়ের পর অন্তত ৯০ ঘণ্টা আমার স্ত্রী নিশাত জাহানের মুঠোফোন নম্বরটি সচল ছিল। কল দিলেই রিং হতো। পুলিশ বলেছে, ফোনটি শ্রীমঙ্গলেই আছে। কিন্তু কোথায়, তা শনাক্ত করতে পারেনি। কখনো শুনেছি ফোনটি ব্যবহৃত হচ্ছে না, কখনো প্রযুক্তি নেই।

ঘটনাটি ৯ সেপ্টেম্বর রাত আড়াইটার দিকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশনে। ঢাকাগামী উপবন এক্সপ্রেসের জানালা দিয়ে হাত ঢুকিয়ে আমার স্ত্রীর মুঠোফোনটি ছোঁ মেরে নিয়ে যায় এক ব্যক্তি।

ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশকে মুঠোফোনের নম্বর, মডেল, আইএমইআই নম্বর ও ছিনতাইয়ের সময় জানাই। সেদিনই অনলাইনে সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করি। এরপর তদন্ত কর্মকর্তা থেকে শুরু করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও জেলার পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেছি। আশ্বাস পেয়েছি বারবার, কিন্তু ফোনটি ফেরত পাইনি।

চিৎকার শুনে ঘুম ভাঙল

সিলেটে তিন দিনের ভ্রমণ শেষে ৮ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১১টার উপবন এক্সপ্রেসে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হই আমরা। অনলাইনে টিকিট কাটার কারণে পাশাপাশি আসন পাইনি। নিশাত জানালার পাশের একটি আসনে বসেছিল। আমার আসন ছিল বগির শেষ দিকে।

রাত বাড়লে আমি ঘুমিয়ে পড়ি। রাত আড়াইটার দিকে ট্রেনটি শ্রীমঙ্গল স্টেশনে থামে। পানি কেনার জন্য আমাকে ফোন করতে মুঠোফোনটি বাঁ হাতে নিয়েছিল নিশাত। ঠিক তখনই প্ল্যাটফর্ম থেকে জানালা দিয়ে হাত বাড়িয়ে ফোনটি টেনে নেয় এক ব্যক্তি। সেটি পকেটে ঢুকিয়ে দ্রুত দৌড়ে চলে যায় সে।

নিশাতের চিৎকারে আমার ঘুম ভাঙে। ছুটে গিয়ে দেখি, ফোনটি নিয়ে ছিনতাইকারী ততক্ষণে পালিয়েছে। বগির অন্য যাত্রীরাও জেগে ওঠেন। কেউ নিশাতকে সান্ত্বনা দেন। কেউ আবার জানালার পাশে থেকে কেন ফোন হাতে নিয়েছিল, সে জন্য তাকেই নানা কথা শোনাতে থাকেন।

সহযোগিতা চাই, শুনি ভর্ৎসনা

ট্রেনে দায়িত্বে থাকা টিকিট পরীক্ষক ও পুলিশ সদস্যদের কাছে আমরা সহযোগিতা চাই। কিন্তু কীভাবে ছিনতাইকারীকে ধরা যায় কিংবা স্টেশনে তখনই কাউকে জানানো যায়, সে উদ্যোগ না নিয়ে তাঁরাও বারবার নিশাতের অসতর্কতা নিয়ে কথা বলতে থাকেন। পরে আমাদের শ্রীমঙ্গল থানায় জিডি করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

সকাল সাড়ে আটটার দিকে ট্রেনটি ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে পৌঁছায়। নেমেই অনলাইন থেকে নম্বর সংগ্রহ করে শ্রীমঙ্গল থানার ওসি সরকার আবদুল্লাহ আল মামুনকে ফোন করে বিষয়টি জানাই। আমি প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক, সেই পরিচয়ও দিই।

তখন ওসি মুঠোফোনের মডেল, আইএমইআই নম্বর, সিম নম্বর, ফোনের রং ও কভারের বর্ণনা এবং ছিনতাইয়ের সময় জানতে চান। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন বলেও আশ্বাস দেন।

বেলা পৌনে ১১টার দিকে ওসির হোয়াটসঅ্যাপে সব তথ্য পাঠাই। কিন্তু সারা দিনে আর কোনো অগ্রগতির খবর পাইনি।

রাতেই জিডি, পরদিন তদন্ত কর্মকর্তা

পরিচিত একজন সাংবাদিক ও একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানালে তাঁরা দ্রুত অনলাইনে জিডি করার পরামর্শ দেন। রাত নয়টার পর রাজধানীর কদমতলী থানার সামনের একটি দোকান থেকে অনলাইনে জিডি করি।

জিডিটি অনুমোদন করে শ্রীমঙ্গল থানা। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাহিদুর রহমানকে। পরদিন বৃহস্পতিবার তিনি আমাকে ফোন করেন। ঘটনা শুনে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার আশ্বাস দেন। পরে তাঁকেও জিডির অনুলিপিসহ প্রয়োজনীয় সব তথ্য পাঠাই।

বিষয়টি মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলামকেও জানানো হয়। এর মধ্যে ওসি ও তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে আরও কয়েকবার যোগাযোগ করি।

‘ফোনটি শ্রীমঙ্গলেই আছে’

ওসি সরকার আবদুল্লাহ আল মামুন আমাকে জানান, ফোনটির অবস্থান শ্রীমঙ্গল এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে। সেটি উদ্ধারে পুলিশের লোকজন কাজ করছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

তদন্ত কর্মকর্তা নাহিদুর রহমানও বলেন, ফোনটি শ্রীমঙ্গলেই আছে। কিন্তু ঠিক কোথায় আছে, তা তাঁরা শনাক্ত করতে পারছেন না।

নাহিদুরের ভাষ্য, ফোনের সিমটি সক্রিয় থাকলেও সেটি দিয়ে কাউকে কল করা হচ্ছে না কিংবা আসা কলে সাড়া দেওয়া হচ্ছে না। এ কারণে নির্দিষ্ট অবস্থান জানা যাচ্ছে না। তিনি আমাকে একই নম্বরের ই-সিম নেওয়ার পরামর্শও দেন।

অথচ তখনো নম্বরটিতে কল দিলে রিং হচ্ছিল। ছিনতাইয়ের পর অন্তত ৯০ ঘণ্টা পর্যন্ত নম্বরটি সচল পেয়েছি আমরা। সর্বশেষ শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে আটটাতেও ফোনটিতে সচল থাকা নম্বরে কল ঢুকছিল।

পুলিশের অপেক্ষা নতুন সিমের

ফোনটিতে ছিনতাইকারী অন্য কোনো সিম ব্যবহার করলে সেটি খুঁজে পাওয়া সহজ হবে বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা।

নাহিদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘কেউ যদি ফোনটিতে অন্য কোনো সিম ব্যবহার করে, তখন আমরা সেই সিমের তথ্য ও অবস্থান পাই। ব্যবহার না করলে তো পাই না।’

আগের সিমটি সচল এবং তাতে কল যাওয়ার পরও কেন অবস্থান শনাক্ত করা যাচ্ছে না—এ প্রশ্নের স্পষ্ট ব্যাখ্যা নাহিদুর রহমানের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি।

সংকেত অনুসরণ করে ফোনের কাছাকাছি পৌঁছাতে সক্ষম, এমন বহনযোগ্য শনাক্তকরণ যন্ত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে নাহিদুর রহমান বলেন, ‘পোর্টেবল মেশিনের বিষয়ে আমার জানা নেই। আমরা এভাবে কাজ করিনি।’

‘সদর দপ্তরের ওপর নির্ভর করি’

মুঠোফোন খুঁজে বের করতে জেলা পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা সম্পর্কে শুক্রবার রাতে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলি।

পুলিশ সুপার জানান, কোনো ঘটনার তদন্তে প্রযুক্তির ব্যবহার পরিস্থিতিভেদে আলাদা হয়। একেবারেই সূত্র না থাকলে ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট এলাকার টাওয়ারের আওতায় সক্রিয় থাকা মুঠোফোন নম্বরগুলো বিশ্লেষণ করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়মিত নম্বরগুলো বাদ দিয়ে অপরিচিত বা অস্বাভাবিক নম্বর চিহ্নিত করার চেষ্টা চলে। এরপর ওই নম্বর ব্যবহারকারীদের সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হয়।

তবে এ ধরনের প্রযুক্তি জেলা পুলিশের হাতে সরাসরি নেই বলে জানান পুলিশ সুপার। মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের হাতে তো সরাসরি নেই। আমরা পুলিশ সদর দপ্তরের ওপর নির্ভর করি।’

মৌলভীবাজারে পুলিশের নিজস্ব সিসিটিভি ক্যামেরাও পর্যাপ্ত নয় বলে জানান তিনি। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ক্যামেরা থাকলে সেখান থেকে ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকার পুরোনো অপরাধী ও স্থানীয় সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালায় পুলিশ।

‘আমরা সেই সেকেলে যুগে’

ফোনের সংকেত অনুসরণ করে নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছাতে সক্ষম, এমন বহনযোগ্য যন্ত্র মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ ব্যবহার করে কি না, সেটিও পুলিশ সুপারের কাছে জানতে চাই।

জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, ‘না, আমাদের নেই। আমরা আসলে সেই সেকেলে যুগে পড়ে আছি। এসব জিনিস ব্যবহারের সুযোগ আমাদের নেই।’

একই ধরনের সীমাবদ্ধতার কথা বলেছেন শ্রীমঙ্গল থানার ওসি সরকার আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে ওই ডিভাইস কিংবা প্রযুক্তি নেই। আমরা নম্বরের লোকেশন নিই। এরপর যে এলাকায় লোকেশন পাওয়া যায়, সেখানে ম্যানুয়ালি খোঁজ করি।’

ওসির ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট এলাকায় আগে এ ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের স্থানীয় সূত্রের সহায়তায় খুঁজে বের করা হয়। তাদের ধরে যাচাই-বাছাই করে ছিনতাই হওয়া মুঠোফোন উদ্ধারের চেষ্টা চলে।

যেভাবে ফোন খোঁজে পুলিশ

পুলিশ কীভাবে হারানো ও ছিনতাই হওয়া মুঠোফোন খোঁজে, সেই বিষয়ে জানতে বাহিনীটির বিভিন্ন পর্যায়ের সাত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মুঠোফোন হারানো বা ছিনতাই হলে প্রথমে থানায় সরাসরি অথবা অনলাইনে জিডি করতে হয়। তদন্ত কর্মকর্তাকে ফোনের আইএমইআই নম্বর, ব্যবহৃত সিম, মডেল এবং ঘটনার সময় ও স্থান জানাতে হয়।

ফোনটিতে অন্য কোনো সিম ব্যবহার করা হলে নেটওয়ার্কের তথ্য থেকে সেই সিমের সঙ্গে মুঠোফোনের আইএমইআই নম্বরের সংযোগ শনাক্ত করা সম্ভব। টাওয়ারের তথ্য ব্যবহার করে সম্ভাব্য এলাকা চিহ্নিত করার পর সিসিটিভি ফুটেজ, স্থানীয় সূত্র এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ধরে মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান চালায় পুলিশ।

সম্প্রতি জিডির পরিপ্রেক্ষিতে হারিয়ে যাওয়া মুঠোফোন মালিকদের বুঝিয়ে দিয়ে আলোচিত হয় ঢাকা মহানগর পুলিশের পল্টন মডেল থানা। এ বছরের ২১ জানুয়ারি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার হওয়া এমন ১০৫টি মালিকদের বুঝিয়ে দেয় পল্টন থানার পুলিশ। এই ফোনগুলো উদ্ধারে মতিঝিল জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার হুসাইন মুহাম্মাদ ফারাবী ও পল্টন মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ইকবাল হোসেন সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

ইকবাল হোসেনের সঙ্গে গতকাল শুক্রবার রাতে কথা বলি। তিনি ফোন উদ্ধারের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রথম আলোকে বলেন, গ্রাহকের জিডির সূত্র ধরে তাঁরা প্রথমে বিষয়টি পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতনদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। এরপর ঊর্ধ্বতনদের কাছে থাকা পোর্টেবল সিম ব্যবহার করে হারিয়ে যাওয়া বা ছিনতাই হওয়া মুঠোফোনের আইএমইআই নম্বর দিয়ে কল লিস্ট, লোকেশন, এনআইডিসহ যাবতীয় তথ্য বের করেন। এভাবে ফোনের কাছাকাছি যান এবং ফোন উদ্ধার করেন।

কথা হলো এএসআই ইকবাল পারলে শ্রীমঙ্গল থানার কর্মকর্তারা কেন ফোনটি উদ্ধার করতে পারছেন না? এ ক্ষেত্রে শ্রীমঙ্গল থানার কর্মকর্তাদের বক্তব্য হলো, সম্ভাব্য এলাকা জানা গেলেও ফোনটির নির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করার প্রযুক্তি তাঁদের হাতে নেই। এ কারণে তদন্ত এখন অনেকটাই নির্ভর করছে ছিনতাইকারী নতুন সিম ব্যবহার করবে কি না অথবা স্থানীয় কোনো সূত্র তথ্য দেবে কি না, তার ওপর।

হাজার হাজার ফোন বেহাত

পুলিশ সদর দপ্তর হারানো, ছিনতাই বা চুরি হওয়া মুঠোফোনের সংখ্যার হিসাব প্রকাশ করে না। তবে প্রতি মাসে সারা দেশে গড়ে ১০ হাজারে বেশি মুঠোফোন বেহাত হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। তবে ফোন ফিরে পাওয়ার অনিশ্চয়তা ও নানা রকম হয়রানির কারণে বেশির ভাগ ঘটনায় মানুষ মুঠোফোন হারানো বা ছিনতাইয়ের অভিযোগ নিয়ে থানা-আদালতে যায় না।

ছিনতাই বা চুরির ঘটনাতেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ‘হারানো’ উল্লেখ করে জিডি করা হয়। ফলে দেশে বছরে আসলে কত ফোন হারায়, চুরি বা ছিনতাই হয়, তার নির্ভুল হিসাব নেই।

ফোন উদ্ধারে পুলিশের সক্ষমতাও সব জায়গায় সমান নয়। ঢাকা মহানগর পুলিশ ২০২৬ সালের জুলাইয়েই ২ হাজার ৭টি ফোন উদ্ধারের কথা জানিয়েছে। অথচ শ্রীমঙ্গল থানার কর্মকর্তারা বলছেন, নির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করার প্রযুক্তি তাঁদের হাতে নেই। তবে পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সদিচ্ছা থাকলে মুঠোফোনে সিম সচল অবস্থায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সেটি উদ্ধার করা সম্ভব।

মুঠোফোন উদ্ধারে তৎপরতার পার্থক্যের উদাহরণও আছে। যেমন ২০২৪ সালের ১৮ অক্টোবর একটি জেলার পুলিশ সুপারের ফোন ছিনতাই হওয়ার পরদিনই সেটি উদ্ধার হয়। ২০২২ সালে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের ফোন আট দিনের মধ্যে উদ্ধার এবং পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। ২০২১ সালে রাজধানীর বিজয় সরণি থেকে তৎকালীন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের ছিনতাই হওয়া মুঠোফোনটিও কিছুদিনের মধ্যেই উদ্ধার করে পুলিশ।

সাধারণ মানুষের দীর্ঘ অপেক্ষার বিপরীতে উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের ফোন উদ্ধারে দ্রুত তৎপরতার সাম্প্রতিক নজিরও আছে। ২০২৬ সালের ৭ মার্চ রাতে মোহাম্মদপুরে ছিনতাইয়ের শিকার হন দুর্নীতি দমন কমিশনের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন। তাঁর দুটি আইফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। প্রায় ২৫ ঘণ্টার মধ্যে ফোন দুটি উদ্ধার এবং দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

২০২৬ সালের জুনে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজমের স্ত্রীর চুরি হওয়া আইফোন উদ্ধারে নেমে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানা একটি চক্রের সন্ধান পাওয়ার কথা জানায়। অভিযানে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার এবং ২৪টি আইফোনসহ ১৫৭টি ফোন ও আইএমইআই পরিবর্তনের যন্ত্র উদ্ধার করা হয়।

এ অবস্থায় প্রশ্ন ওঠে, কারও ফোন এক দিনে উদ্ধার হয়, আবার হাজারো মানুষকে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয় কেন? পুলিশের তৎপরতা কি তাহলে ঘটনার গুরুত্ব দেখে নির্ধারিত হয়, নাকি ভুক্তভোগীর পরিচয় ও যোগাযোগ দেখে মুঠোফোন উদ্ধারে সক্রিয় হয় তারা?

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
সিএসই-৫০ সূচকের কোম্পানিগুলো সমন্বয়
সিএসই-৫০ সূচকের কোম্পানিগুলো সমন্বয়

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) এর সিএসই-৫০ সূচকের কোম্পানিগুলো সমন্বয় করা হয়েছে। এতে নতুন ৭টি কোম্পানি যোগ হয়েছে। আগের ৭টি কোম্পানি এই সূচক থেকে বাদ পড়েছে। নতুন সমন্বয় হওয়ার বিষয়টি আগামী ১১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর পারফরমেন্স পর্যালোচনার ভিত্তিতে সিএসই-৫০ সূচক চূড়ান্ত করা হয়েছে।

News সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ 0
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ ভিন্ন মাত্রায় পৌঁছে গিয়েছে: মাহদী আমিন

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ ভিন্ন মাত্রায় পৌঁছে গিয়েছে: মাহদী আমিন

‘এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে স্কেলে অন্তর্ভুক্তিতে পৃথক প্রজ্ঞাপন লাগবে না’

‘এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে স্কেলে অন্তর্ভুক্তিতে পৃথক প্রজ্ঞাপন লাগবে না’

আশুলিয়ায় নবজাতকসহ তিন হত্যা: আসামির বিরুদ্ধে আগেও দুই হত্যা মামলা

আশুলিয়ায় নবজাতকসহ তিন হত্যা: আসামির বিরুদ্ধে আগেও দুই হত্যা মামলা

জনতার মুখোমুখি ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক
জনতার মুখোমুখি ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক

জবাবে প্রশাসক রুকুনোজ্জামান বলেন, যানজট কমানো এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় তারা নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। তবে অসচেতনভাবে বহুতল ভবন থেকে নিচে বর্জ্য ফেলার মতো মানসিকতার কারণে শতভাগ সফলতা পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর নগরবাসীর মনে শহরের প্রতি মমত্ববোধ তৈরি করতে না পারাকে তিনি নিজের বড় ব্যর্থতা বলে উল্লেখ করেন।

News সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ 0
শিবির থেকে বহিষ্কার হন আম্মার, ১ বছর পর চিঠি ফাঁস

শিবির থেকে বহিষ্কার হন আম্মার, ১ বছর পর চিঠি ফাঁস

বিলাসবহুল কারাগার

বিলাসবহুল কারাগার

ডিজিটাল আর্থিক সেবার পরিধি বাড়াতে নগদ ও ইউসিবির চুক্তি

ডিজিটাল আর্থিক সেবার পরিধি বাড়াতে নগদ ও ইউসিবির চুক্তি

একই দিনে টম ক্রুজের ‘ডিগার’, সঙ্গে ফিরছে ‘রেসিডেন্ট ইভিল’
একই দিনে টম ক্রুজের ‘ডিগার’, সঙ্গে ফিরছে ‘রেসিডেন্ট ইভিল’

টম ক্রুজকে এবার চেনাই কঠিন! ধূসর-সাদা চুল, বড় ভুঁড়ি, বলিরেখায় ভরা মুখ আর সম্পূর্ণ বদলে যাওয়া শরীরী ভাষায় পর্দায় আসছেন হলিউডের এই তারকা।

News সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ 0
গোপালগঞ্জে ১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

গোপালগঞ্জে ১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

মানবিকতার সঙ্গে পুলিশি সেবা দিতে হবে: আইজিপি

মানবিকতার সঙ্গে পুলিশি সেবা দিতে হবে: আইজিপি

স্কুল অবরোধ করায় ফ্রান্সে আটক ৪ শতাধিক

স্কুল অবরোধ করায় ফ্রান্সে আটক ৪ শতাধিক

0 Comments