বিশ্বরাজনীতির দাবা অথবা তাস খেলায় অনেক ঘুঁটি আছে। হরমুজ প্রণালি তেমনই এক ভূরাজনৈতিক ঘুঁটি। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করা মাত্র কয়েক দশমিক কিলোমিটার প্রশস্ত এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবাহিত হয়। ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ আবারও হরমুজকে কেন্দ্র করে নতুন মাত্রা পেয়েছে। এখানে কে কাকে সামরিকভাবে চাপে ফেলছে, তার কোনো ইয়ত্তা নেই। এখন ভাবনা হচ্ছে, বিশ্ববাণিজ্যের এই শ্বাসনালী কত দিন সংকুচিত থাকবে এবং তার মূল্য কে দেবে?
২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে সামরিক অভিযান শুরুর পর সংঘাত দ্রুত পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও উপসাগরীয় মিত্রদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এরই মধ্যে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। গত ১৪ আগস্ট রয়টার্স জানিয়েছে, হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। কারণ মার্কিনিরা হরমুজ এলাকায় নিজেদের টেরিটরি বা ভূখণ্ড ঘোষণা দিয়েছে। সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ তারিখে এসে জানা গেল, হরমুজের জলসীমায় ইরানি মাইনের আঘাতে দুটি জাহাজ বিধ্বস্ত হয়েছে এবং তার একটি সৌদি আরবের। এ ছাড়া ইরানের মূল তেল সংরক্ষণাগারে মার্কিন হামলা জোরদার হয়েছে।
এ যেন তাসের খেলায় হরতন ও টেক্কার লড়াই। এখানে হরতন হলো তেল, গ্যাস ও বাণিজ্যের অদৃশ্য কিন্তু অপরিহার্য শক্তি; আর টেক্কা হলো হরমুজের নিয়ন্ত্রণ। যে পক্ষ এই টেক্কা নিজের হাতে রাখতে পারে, সে সামরিক শক্তির পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের বিরাট ক্ষমতাও অর্জন করে।
হরমুজের গুরুত্ব বুঝতে একটি পরিসংখ্যানই যথেষ্ট। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা আইইএ-এর হিসাবে, ২০২৫ সালে প্রতিদিন প্রায় ১৫ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল হরমুজ দিয়ে গেছে, যা বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল বাণিজ্যের প্রায় ৩৪ শতাংশ। একই বছরে ১১০ বিলিয়ন ঘনমিটারের বেশি এলএনজিও এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়েছে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই জ্বালানির সিংহভাগই এশিয়ামুখী। ২০২৫ সালে হরমুজ দিয়ে যাওয়া তেল ও তেলজাত পণ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ এশিয়ার বাজারে গেছে। চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া এ প্রবাহের সবচেয়ে বড় গ্রাহকদের মধ্যে রয়েছে। অর্থাৎ হরমুজে সংকট মানে শুধু মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নয়। এর অভিঘাত এশিয়ার শিল্প, পরিবহন, বিদ্যুৎ, উৎপাদন ও ভোক্তা বাজারে পৌঁছানো অবশ্যম্ভাবী।
গ্যাসের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর। কাতারের প্রায় ৯৩ শতাংশ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রায় ৯৬ শতাংশ এলএনজি রপ্তানি হরমুজের ওপর নির্ভরশীল। আইইএ বলছে, এ প্রবাহের বিকল্প পথ সীমিত বা অনেক ক্ষেত্রে কার্যত নেই।
পাশাপাশি এই ভয়ংকর যুদ্ধের আসল টেক্কা কোথায়, তা এই মুহূর্তে বলা মুশকিল। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি নিঃসন্দেহে ইরানের তুলনায় বহুগুণ বেশি। সমুদ্র, আকাশ, গোয়েন্দা সক্ষমতা, প্রযুক্তি—সব ক্ষেত্রেই ওয়াশিংটনের সুবিধা রয়েছে। কিন্তু ইরানের হাতে রয়েছে ভূগোল। আর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ভূগোল অনেক সময় বিমানবাহী রণতরীর চেয়েও শক্তিশালী অস্ত্র হয়ে ওঠে।
শেষ পর্যন্ত এই উপাখ্যানে হরতন কার হাতে আর টেক্কা কার হাতে, সেটি হয়তো সামরিক ইতিহাসের বিষয় হয়ে থাকবে। কিন্তু হরমুজ দীর্ঘদিন অচল থাকলে সেই টেক্কা জয়ের বিল দেবে বিশ্বের সাধারণ মানুষ—জ্বালানির বাড়তি দাম, খাদ্যের বাড়তি মূল্য, পরিবহনের বাড়তি ব্যয় এবং কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তার মাধ্যমে।
ইরান হরমুজের উত্তর উপকূলে অবস্থান করছে। জলপথের সংকীর্ণতা, উপসাগরের ভৌগোলিক বিন্যাস এবং উপকূলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবস্থার কারণে ইরানের পক্ষে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলা সম্ভব। ফলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব দেখাতে পারলেও প্রতিটি তেলবাহী ট্যাংকারকে নিরাপদে পার করানোর নিশ্চয়তা দেওয়া সহজ নয়। এখানেই ইরানের হাতে টেক্কা বিরাজমান।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্কা হলো নিষেধাজ্ঞা, নৌ-অবরোধ, সামরিক শক্তি এবং বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রভাব। আগস্টের মাঝামাঝি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার সম্ভাবনার কথাও বলেছেন এবং দাবি করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র জলপথটির ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ রাখছে। ইরান এ বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে হরমুজের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ ও সার্বভৌম অধিকারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
কিন্তু সামরিক ভাষায় নিয়ন্ত্রণ আর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য নিরাপদ চলাচল এক কথা নয়। কোনো জলপথে যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি থাকলেই সেখানে বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। বীমা কোম্পানি ঝুঁকি দেখলে প্রিমিয়াম বাড়ায়, জাহাজমালিক ঝুঁকি দেখলে যাত্রা স্থগিত করেন, আর ব্যাংক ঝুঁকি দেখলে অর্থায়ন ব্যয়বহুল করে। ফলে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া না হলেও বাজারে তার অভিঘাত শুরু হয়ে যায়। হরমুজ দিয়ে সরবরাহ কমলে বাজারে ভবিষ্যৎ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়। সেই আশঙ্কাই তেলের দাম বাড়াতে পারে। আগস্টের মাঝামাঝি হরমুজে উত্তেজনা বাড়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
এখানে অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা দরকার। বাজার শুধু বর্তমান সরবরাহ দেখে না, ভবিষ্যৎ সরবরাহের আশঙ্কাও মূল্যায়ন করে। আজ ১০ লাখ ব্যারেল তেল কম সরবরাহ হলে যতটা দাম বাড়তে পারে, আগামী এক মাস ১০ মিলিয়ন ব্যারেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে তার চেয়েও বেশি প্রতিক্রিয়া হতে পারে।
এর সঙ্গে যোগ হয় জাহাজভাড়া ও যুদ্ধঝুঁকি বীমা। একটি ট্যাংকার যদি হরমুজে প্রবেশ করতে না চায়, তাকে দীর্ঘ পথ ঘুরতে হতে পারে। এতে সময়, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বাড়ে। সেই ব্যয় শেষ পর্যন্ত আমদানিকারক, শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং ভোক্তার ওপর গিয়ে পড়ে। অর্থাৎ যুদ্ধক্ষেত্রে একটি গোলা ছোড়া হলে তার আর্থিক বিস্ফোরণ ঘটে বহু হাজার কিলোমিটার দূরে।
আছে, কিন্তু তা হরমুজের পূর্ণ বিকল্প নয়। সৌদি আরবের পশ্চিম উপকূল, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ এবং ইরাক-তুরস্কের পাইপলাইনসহ কয়েকটি বিকল্প ব্যবস্থায় তেল সরানোর চেষ্টা করা হয়েছে। আইইএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিলের শুরুতে হরমুজ দিয়ে তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস তরল ও পরিশোধিত পণ্যের প্রবাহ নেমে এসেছিল প্রায় ৩.৮ মিলিয়ন ব্যারেল সমতুল্য দৈনিক হারে, যেখানে যুদ্ধের আগে তা ছিল ২০ মিলিয়নের বেশি; একই সময়ে বিকল্প রুট দিয়ে সরবরাহ বাড়ানো হয়েছিল।
কিন্তু পাইপলাইন বা বিকল্প বন্দর দিয়ে সীমিত পরিমাণ তেল সরানো গেলেও কাতার ও আমিরাতের বিপুল এলএনজি রপ্তানির পূর্ণ বিকল্প নেই। এ কারণেই হরমুজের সংকট তেলবাজারের পাশাপাশি গ্যাসবাজারকেও নাড়া দেয়। এখানে আরেকটি শিক্ষা রয়েছে। একটি সরু জলপথে সংঘাত শুরু হলে তার অভিঘাত বিদ্যুৎকেন্দ্র, পোশাক কারখানা, সার কারখানা, পরিবহনব্যবস্থা এমনকি আমাদের দেশের রান্নাঘর পর্যন্ত পৌঁছে গেছে!
হরমুজ সংকটের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ভুক্তভোগী হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে এশিয়া। কারণ হরমুজ দিয়ে যাওয়া তেল ও গ্যাসের সিংহভাগ এশিয়ায় যায়। আইইএ-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে হরমুজ দিয়ে যাওয়া অপরিশোধিত তেল ও কনডেনসেটের ৮৪ শতাংশ এবং এলএনজির ৮৩ শতাংশ এশিয়ার বাজারে গিয়েছিল। এ কারণেই হরমুজের প্রশ্নে এশিয়ার বড় অর্থনীতিগুলোর কূটনৈতিক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, তত বেশি দেশ সামরিক পক্ষ নেওয়ার বদলে সরবরাহপথ খোলা রাখার কূটনীতিতে জোর দেবে, এটাই স্বাভাবিক।
বাংলাদেশ সরাসরি যুদ্ধের পক্ষ নয়, কিন্তু বিশ্ববাজার থেকে বিচ্ছিন্নও নয়। বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি, পরিবহন ব্যয়, শিল্পের কাঁচামাল, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের সঙ্গে সম্পর্কিত।
হরমুজ সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ায় আমাদের প্রধান ধাক্কা এসেছে জ্বালানি আমদানির ব্যয়ে। পোশাকশিল্পসহ রপ্তানিমুখী খাতের উৎপাদন ব্যয়ও আরও বাড়তে পারে। সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের বীমা ও ফ্রেইট ব্যয় বাড়ায় তা বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন চাপ তৈরি করেছে।
তাই বাংলাদেশের জন্য এখন সবচেয়ে প্রয়োজন আগাম প্রস্তুতি নেওয়া। জ্বালানি আমদানির উৎস ও রুট বৈচিত্র্যপূর্ণ করা, কৌশলগত মজুত শক্তিশালী করা, বিদ্যুৎ ও পরিবহনে জ্বালানি দক্ষতা বাড়ানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ কমানো জরুরি।
হরমুজকে কেন্দ্র করে বর্তমানে যে টানাপোড়েন চলছে, সেখানে আলোচনার পথ খোলা রাখাই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সমাধান। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু শর্তের অমিল ও পারস্পরিক অবিশ্বাসে অগ্রগতি আটকে আছে। ১৬ আগস্ট পর্যন্ত ইরান ও ওমান হরমুজের নৌ চলাচল নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, যদিও বৃহত্তর মার্কিন-ইরান সমঝোতার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
এখানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্বও কম নয়। জাতিসংঘ, উপসাগরীয় দেশগুলো, চীন, ভারত, ইউরোপ—সবার স্বার্থেই হরমুজকে যুদ্ধের স্থায়ী মঞ্চে পরিণত হতে না দেওয়া দরকার। কারণ হরমুজের ওপর কোনো একক শক্তির স্থায়ী মালিকানা প্রতিষ্ঠার ধারণা আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নকে আরও জটিল করবে। হরমুজ কোনো দেশের রাজনৈতিক তাস হতে পারে না। এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ জীবনরেখা।
শেষ পর্যন্ত এই উপাখ্যানে হরতন কার হাতে আর টেক্কা কার হাতে, সেটি হয়তো সামরিক ইতিহাসের বিষয় হয়ে থাকবে। কিন্তু হরমুজ দীর্ঘদিন অচল থাকলে সেই টেক্কা জয়ের বিল দেবে বিশ্বের সাধারণ মানুষ—জ্বালানির বাড়তি দাম, খাদ্যের বাড়তি মূল্য, পরিবহনের বাড়তি ব্যয় এবং কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তার মাধ্যমে।
তাই হরমুজের হরতন-টেক্কার খেলায় সবচেয়ে বড় বিজয়ী হওয়া উচিত বৈশ্বিক প্রয়োজনে নিরাপদ নৌচলাচল, আন্তর্জাতিক আইন এবং বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতার দাবিদারদের। কারণ বিশ্ববাণিজ্যের শ্বাসনালীকে যুদ্ধের অস্ত্র বানানো যত সহজ, তাকে আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরিয়ে আনা তত কঠিন।
লেখক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের প্রফেসর ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন।
এইচআর/জেআইএম
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মতিঝিল, শাহবাগ ও কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে এক নারীসহ ৫ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার ব্যক্তিদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের প্রাথমিক পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। তাদের বেশিরভাগকেই ভবঘুরে প্রকৃতির বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। যাত্রাবাড়ী থানার শনির আখড়া ইউটার্ন এলাকা থেকে আনুমানিক ৪৫ বছর বয়সী এক পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। যাত্রাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আসাদুজ্জামান জুয়েল জানান, স্থানীয়দের ভাষ্যমতে ওই ব্যক্তি এলাকায় ভবঘুরে হিসেবে ঘোরাঘুরি করতেন। ধারণা করা হচ্ছে, অসুস্থতার কারণেই রাস্তায় তার মৃত্যু হয়েছে। বেলা সোয়া ১১টার দিকে মরদেহ ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। এদিকে, মতিঝিলে নটরডেম কলেজের বিপরীত পাশের রাস্তা থেকে প্রায় ৫০ বছর বয়সী এক পুরুষকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন নাসির নামে এক ব্যক্তি। উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা ১১টার দিকে তিনি মারা যান। উদ্ধারকারীর ধারণা, ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিনের অসুস্থতা ও অনাহারে মারা গিয়ে থাকতে পারেন। শাহবাগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশ থেকে আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী এক নারীকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করান স্টাফরা। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা সোয়া ১১টার দিকে তিনি মারা যান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগের ওয়ার্ড মাস্টার আইয়ুব আলী। অন্যদিকে, শাহবাগ থানাধীন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের মোড়ের ফুটপাত থেকে আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী আরেক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেন শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিজয় মন্ডল। তাকেও ভবঘুরে প্রকৃতির বলে ধারণা করছে পুলিশ। কামরাঙ্গীরচরের ঝাউলাহাটি এলাকা থেকে ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। কামরাঙ্গীরচর থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) প্রাণেশ্বর দাস জানান, স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ওই ব্যক্তি এলাকায় ঘোরাঘুরি করতেন এবং ভবঘুরে প্রকৃতির ছিলেন। পুলিশ জানায়, নিহতদের পরিচয় শনাক্তে আইনি প্রক্রিয়া চলছে এবং ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। কেএজেডআইএ/এএমএ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি টানানো নিয়ে বিতর্কের তৈরি হয়েছে। গতকাল সোমবার সংগ্রহশালায় থাকা জিন্নাহর তিনটি ছবি ছিঁড়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী। প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নও।জিন্নাহর ছবি ডাকসু সংগ্রহশালায় রাখা হয়েছে—এই খবর জানাজানি হলে রোববার রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন।জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার একটি ছবি গতকাল বিকেলে ডাকসু সংগ্রহশালায় টানিয়ে দিয়েছে ছাত্র ফেডারেশন।দিনভর প্রতিবাদ ও সমালোচনার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে আহ্বায়ক করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।উপমহাদেশ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার বিরল আলোকচিত্র, পেপার কাটিং এবং গুরুত্বপূর্ণ দলিল ডাকসু সংগ্রহশালায় রক্ষিত আছে। সংগ্রহশালাটি সংস্কারের পর গত রোববার আবার চালু করা হয়। এতে নতুন করে রাখা হয় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি। এর মধ্যে একটি ছবি ১৯৪৮ সালে ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক অনুষ্ঠানের, যেখানে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’। আরও স্থান পায় ১৯৪০ সালের মার্চ মাসে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনের একটি দলগত ছবি ও ডন পত্রিকার প্রতিবেদনের পেপার কাটিং। আরও রাখা হয় ছাত্রসংঘের সাবেক নেতা আবদুল মালেকের ছবি। বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একক বা গৌরবোজ্জ্বল কোনো ছবি রাখা হয়নি, যা আগে ছিল।ছিঁড়ে ফেলা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবিজিন্নাহর ছবি ভাঙচুরের ঘটনার পর ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ সাংবাদিকদের বলেন, জিন্নাহর ছবি রাখার পাশাপাশি ছবির নিচে তাঁর বাংলা ভাষাবিরোধী অবস্থানের বক্তব্যও উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, জিন্নাহর ছবি না দিলে বলা হতো, তাঁর (জিন্নাহ) বাংলা ভাষাবিরোধী অবস্থান লুকানো হয়েছে।জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা নিয়ে ফরহাদ বলেন, ‘যিনি ছবিটি ছিঁড়েছেন, তিনি উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী। এ কারণে তিনি জিন্নাহর প্রতি আলাদা দরদ থেকে এমনটি করে থাকতে পারেন।’এর আগে গতকাল সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে ডাকসু সংগ্রহশালায় গিয়ে জিন্নাহর তিনটি ছবি ছিঁড়ে ফেলে প্রতিবাদ জানান আবু তৈয়ব হাবিলদার নামের এক শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী। সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচনে তিনি সহসভাপতি (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।আবু তৈয়ব সাংবাদিকদের বলেন, ‘যে জিন্নাহ আমাদের মাতৃভাষার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত দিয়েছিল, যে জিন্নাহ ১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে ছাত্রছাত্রীদের গ্রেপ্তার করেছিল, সেই জিন্নাহ ডাকসুতে স্থান পেতে পারে না।’ছাত্রসংগঠনের প্রতিবাদএক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জিন্নাহর বিতর্কিত ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। ক্ষমতাসীন দল বিএনপির অঙ্গসংগঠনটি অভিযোগ করেছে, ভাষা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিকভাবে ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন করা হয়েছে। ছবিটি অপসারণ এবং ডাকসুকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আদর্শ প্রচারের স্থান হিসেবে ব্যবহার বন্ধের দাবি জানিয়েছে ছাত্রদল।মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি স্থাপন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি অপসারণের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। সংগঠনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বাধীনতাসংগ্রামের নেতা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সংগ্রহশালা থেকে সরিয়ে দেওয়া ইতিহাস বিকৃতির শামিল। দ্রুত জিন্নাহর ছবি অপসারণ ও শেখ মুজিবের ছবি পুনর্বহাল না হলে শিক্ষার্থীরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি, আর কী যুক্ত হলো, কী বাদ গেলগতকাল বেলা তিনটার দিকে ছাত্র ফেডারেশনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক অর্ক বড়ুয়ার নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার ছবিটি টানান। জিন্নাহর ছবি যেখানে লাগানো হয়েছিল, তার ওপরে ১৯৮১ সালে বায়তুল মোকাররমে গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার ছবিটি টানানো হয়।ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন করার প্রতিবাদে জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার ছবি সাঁটিয়ে দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফেডারেশনের নেতা–কর্মীরাঅর্ক বড়ুয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘জুমা (ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বিষয়ক আন্দোলন) বলেছিল, তার ইচ্ছা করেছে তাই জিন্নাহর ছবি লাগিয়েছে। ঠিক তেমনই আমাদের ইচ্ছা করেছে গোলাম আযমের ছবি লাগাতে, তাই লাগিয়েছি।’গতকাল বিকেলে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-বিসিএল—এই তিন বাম ছাত্রসংগঠন বিক্ষোভ সমাবেশ এবং সংবাদ সম্মেলন করে। রাত আটটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে অবস্থিত ‘জুলাই নির্ভীক’ স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতারা ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহ ও আবদুল মালেকের ছবি টানানো নিয়ে প্রতিবাদ জানান।স্বাধীনতা আন্দোলনের চরিত্রগুলোকে সরিয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টির চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়: অধ্যাপক তানজীমউদ্দিনব্যবস্থা নেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনঅধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে আহ্বায়ক করে করা কমিটি ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহ ও তৎকালীন ছাত্রসংঘের সাবেক নেতা আবদুল মালেকের ছবি রাখার ঘটনা তদন্ত করবে। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি না নিয়ে শিক্ষক মূল্যায়নের ওয়েবসাইট চালু এবং অনুমতি ছাড়া ‘নির্ভীক জুলাই’ ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করার বিষয়েও তদন্ত করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এ কথা জানিয়েছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ছবি লাগানো বা ডাকসুর নেওয়া এই কার্যক্রমগুলোর বিষয়ে তিনি আগে থেকে অবগত ছিলেন না। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি লিখিত বক্তব্যও দিয়েছে। এ এতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ যেকোনো সিদ্ধান্ত উপাচার্যের নির্দেশনা সাপেক্ষে গ্রহণ করবে। কিন্তু ডাকসু ‘নির্ভীক জুলাই’ নামে কলাভবন-সংলগ্ন ডাকসু ভবনের পশ্চিম পাশে ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে যে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করেছে, তা সিন্ডিকেট কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কোনোরূপ অনুমতি বা আলোচনা করে স্থাপন করেনি, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইন অনুযায়ী এখতিয়ারবহির্ভূত।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহ এবং ছাত্রসংঘের নেতা আবদুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের বিষয়টিও ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় এমন ছবি প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।ডাকসুর পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য অনুমোদন ছাড়া ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং–উনের গোপন কোনো ছেলে আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখছেন দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দারা। গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (এনআইএস) এ তথ্য জানিয়েছে।২০১১ সালে বাবার মৃত্যুর পর উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতায় আসেন কিম। এনআইএসের সর্বশেষ মূল্যায়ন অনুযায়ী, কিমের পর সম্ভবত দেশটির দায়িত্ব নেবেন তাঁর মেয়ে। ধারণা করা হয়, ওই মেয়ের বয়স বর্তমানে প্রায় ১৩ বছর। তাঁর নাম কিম জু এ।বিবৃতিতে এনআইএস বলেছে, কিম জুর কোনো বড় ভাই আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছে তারা। তবে কিমের কোনো ছেলেসন্তান থাকলেও, সে হয়তো তাঁর উত্তরসূরি হওয়ার অবস্থায় নেই। এ ছাড়া কিমের আরেকটি ছোট সন্তান রয়েছে। তবে সে ছেলে নাকি মেয়ে, তা নিশ্চিত নয়।কিমের পর তাঁর মেয়ে দেশের দায়িত্ব নেবেন বলে ধারণা করা হয়এর আগে ২০২৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার এক আইনপ্রণেতা বলেছিলেন, সংসদীয় কমিটিকে দেওয়া এক ব্রিফিংয়ে এনআইএস জানিয়েছিল, কিম জু এর একজন বড় ভাই আছে। তবে সেবারও পরে গোয়েন্দা সংস্থাটি জানিয়ে দেয়, উত্তর কোরিয়ার নেতার ছেলে আছে—এমন প্রতিবেদন তারা এখনো যাচাই করে দেখছে।কিমের কোনো ছেলে আছে কি না, তা উত্তর কোরিয়ার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পুরুষতান্ত্রিকতা। ১৯৪৮ সালে উত্তর কোরিয়া প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশটির তিনজন নেতাই কিম পরিবারের পুরুষ সদস্য।সে হিসেবে কিমের উত্তরসূরি তাঁর মেয়ে হতে যাচ্ছেন কি না, তা নিয়ে কিছু বিশেষজ্ঞের সন্দেহ রয়েছে। তাঁদের মতে, উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তারা একজন নারীর নেতৃত্ব মেনে না–ও নিতে পারেন। এ ছাড়া কিম জু এ যদি শেষ পর্যন্ত ক্ষমতাও পান, তাহলে দেশটির শাসনভার তাঁর পরিবারের হাত থেকে চলে যেতে পারে। কারণ, কিম জু এ যদি বিয়ে করেন এবং তাঁদের সন্তান যদি পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হন, তাহলে কিম পরিবারের বাইরে ক্ষমতা চলে যাবে।তিন কিমের ৭৮ বছর: যেভাবে টিকে আছে উত্তর কোরিয়া