যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বেড়েছে ৪৩ শতাংশ। ভারতের সঙ্গে আমদানি ও রপ্তানি দুটিই কমেছে। বড় ব্যবধানে শীর্ষে চীন।
ভৌগোলিক নৈকট্য, স্থলপথে পণ্য পরিবহনের সুবিধা এবং তুলনামূলক কম খরচ—এসব কারণে দীর্ঘদিন বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার ছিল ভারত। ১৬ বছর পর সেই অবস্থান বদলে গেছে। ভারতকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র; আর বড় ব্যবধানে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে চীন।
এই পরিবর্তন কেবল আমদানি-রপ্তানির অঙ্কে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নানা ধরনের ভূরাজনৈতিক বিষয়। যেমন যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক নিয়ে দর-কষাকষি, দ্বিপক্ষীয় পারস্পরিক চুক্তি কার্যকর না হলেএ যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য কেনা বাড়ানো এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের পরিবর্তিত পরিস্থিতি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এতে ভালো মানের পণ্য পাওয়া গেলেও ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।
দেখা গেছে, গত ২০২৪–২৫ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের আমদানি বেড়েছে ৪৩ শতাংশ। তবে দেশটিতে রপ্তানি বেড়েছে মাত্র প্রায় ৪ শতাংশ। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মোট বাণিজ্য বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে আমদানি।
অন্যদিকে ভারত থেকে আমদানি কমেছে প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ। দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানিও কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ। রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ এই পতনে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদেরা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হিসাবে, গত অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২৬৭ কোটি ডলার। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য হয়েছে ১ হাজার ৭২ কোটি ডলারের। অর্থাৎ আমদানি ও রপ্তানি মিলিয়ে ভারতের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য হয়েছে ১৯৫ কোটি ডলার বেশি।
বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ার কারণেই দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের মোট বাণিজ্য বেড়েছে। বিশেষ করে সরকারি কেনাকাটায় এই বৃদ্ধি বেশি। তবে পোশাক রপ্তানিতে প্রতিশ্রুত বিশেষ শুল্কসুবিধা এখনো কার্যকর হয়নি।
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য কমার বিষয়ে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দুই দেশের আরোপ করা অশুল্ক বাধায় আমদানি ও রপ্তানি কমেছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে ভোক্তা ও উৎপাদক উভয়ের ওপর। ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শূন্য শুল্কসুবিধা না থাকলে রপ্তানি আরও কমত।
একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি থেকে বাংলাদেশ যত পণ্য আমদানি করে, তার চেয়ে অনেক বেশি পণ্য সেখানে রপ্তানি করে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল ৬২৬ কোটি ডলার। পরের অর্থবছরে দেশটি থেকে আমদানি বাড়ায় উদ্বৃত্ত কমে ৫৫৫ কোটি ডলারে নেমেছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে ৯১১ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। বিপরীতে দেশটি থেকে আমদানি করেছে ৩৫৬ কোটি ডলারের পণ্য।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে পাল্টা শুল্ক নিয়ে দুই দেশের আলোচনা। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যঘাটতি কমানোর নীতির অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন। কয়েক দফা আলোচনার পর শুল্কহার ২০ শতাংশ নির্ধারিত হয় এবং ৭ আগস্ট তা কার্যকর হয়।
বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তির ১১ দিন পর, ২০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের আওতায় আরোপ করা ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কগুলো অবৈধ ঘোষণা করেন। আদালতের রায়ে শুল্ক আরোপের আইনি ভিত্তি বদলে গেলেও বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যচুক্তি বাতিল বা সংশোধনের কোনো উদ্যোগ এখনো নেওয়া হয়নি।
কয়েক মাসের দর-কষাকষির পর চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি সই করে। চুক্তিতে পাল্টা শুল্ক ১৯ শতাংশে নামানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৩৫০ কোটি ডলারের কৃষিপণ্য, ১৫ বছরে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের জ্বালানি পণ্য, ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ ও সামরিক সরঞ্জাম কেনার অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশ। এর ধারাবাহিকতায় গত ৩০ এপ্রিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সই করে। পরে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে দুই দেশের সরকারি পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামাল ব্যবহার করে বাংলাদেশে তৈরি নির্দিষ্ট পরিমাণ বস্ত্র ও পোশাকে পাল্টা শুল্ক শূন্য করার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে চুক্তিতে। তবে সেই সুবিধার কাঠামো এখনো কার্যকর হয়নি।
বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তির ১১ দিন পর, ২০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের আওতায় আরোপ করা ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কগুলো অবৈধ ঘোষণা করেন। আদালতের রায়ে শুল্ক আরোপের আইনি ভিত্তি বদলে গেলেও বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যচুক্তি বাতিল বা সংশোধনের কোনো উদ্যোগ এখনো নেওয়া হয়নি।
বাণিজ্যচুক্তির বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য কেনা বাড়ায় বাংলাদেশ। সরকারি পর্যায়ে গম ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং বেসরকারি পর্যায়ে সয়াবিনবীজ ও তুলা আমদানি বেড়েছে।
এনবিআরের হিসাবে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানি হয়নি। গত অর্থবছরে দেশটি থেকে ২২ কোটি ৭৭ লাখ ডলারের গম এসেছে, যার বড় অংশ আমদানি করেছে সরকার। একই সময়ে সয়াবিনবীজ আমদানি ৩৫ কোটি থেকে বেড়ে ৬২ কোটি এবং তুলা ২৩ কোটি থেকে বেড়ে ৩৮ কোটি ডলারে উঠেছে। সরকারি খাতে এলএনজি আমদানি হয়েছে প্রায় ৪৮ কোটি ডলারের।
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি ৪৩ শতাংশ বেড়ে ২৪৯ কোটি থেকে ৩৫৬ কোটি ডলারে উঠেছে। বিপরীতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি আগের অর্থবছরের ১৪ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৪ শতাংশ। ফলে মোট বাণিজ্য প্রায় ১৩ শতাংশ বাড়লেও এই প্রবৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে আমদানি থেকে।
যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের দ্বিতীয় শীর্ষ আমদানিকারক সীকম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি আমিরুল হকও একই ধরনের কারণের কথা বলেন।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ার কারণ জানতে দেশটি থেকে পণ্য আনে—এমন দুটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো।
বেসরকারি খাতে গত অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের শীর্ষ আমদানিকারক ছিল মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ। শিল্পগোষ্ঠীটির চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল প্রথম আলোকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিতে বাণিজ্যসুবিধা বেড়েছে। পণ্যের
মান বিবেচনায় দামও প্রতিযোগিতামূলক ছিল। এসব কারণে তাঁরা দেশটি থেকে আমদানি বাড়িয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের দ্বিতীয় শীর্ষ আমদানিকারক সীকম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি আমিরুল হকও একই ধরনের কারণের কথা বলেন।
আমিরুল হক প্রথম আলোকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের মান তুলনামূলক ভালো এবং সরবরাহের নিশ্চয়তাও বেশি। অন্যদিকে সংঘাতের কারণে ইউক্রেনসহ কয়েকটি দেশ থেকে পণ্য আনার ক্ষেত্রে বন্দর ব্যবহারের ঝুঁকি ও সরবরাহের অনিশ্চয়তা বেড়েছে। সব দিক বিবেচনা করেই তাঁরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশি পণ্য কিনছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য যখন বাড়ছে, একই সময়ে ভারতের ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র।
দীর্ঘদিন ধরে ভারত থেকে তুলা, সুতা, খাদ্যপণ্য, শিল্পের কাঁচামাল ও বিভিন্ন মধ্যবর্তী পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশ। প্রতিবেশী দেশ হওয়ায় সেখান থেকে পণ্য আনতে সময় ও পরিবহন খরচও তুলনামূলক কম। এরপরও গত অর্থবছরে দুই দেশের আমদানি ও রপ্তানি দুটিই কমেছে।
২০২৫ সালের মার্চে বাংলাদেশ সরকার ভারত থেকে স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি বন্ধের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর ৮ এপ্রিল কলকাতা বিমানবন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশের পণ্য তৃতীয় দেশে রপ্তানির সুবিধা প্রত্যাহার করে ভারত।
ভারতও তিন দফায় বাংলাদেশি পণ্য আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে। ১৭ মে ও ২৭ জুন পোশাক, খাদ্যপণ্য, পাটপণ্য, তুলা ও সুতার বর্জ্য, প্লাস্টিক পণ্য এবং কাঠের আসবাব রপ্তানিতে বিভিন্ন শর্ত দেওয়া হয়। পরে ১১ আগস্ট আরও কিছু পাটপণ্য আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে দেশটি। বাংলাদেশের পাটপণ্যের ওপর প্রতিকারমূলক শুল্ক আরোপের বিষয়েও তদন্ত শুরু করে ভারত।
পাল্টাপাল্টি এসব পদক্ষেপে দুই দেশের বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হয়। ভারতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমে। একই সঙ্গে ভারত থেকে তুলা ও সুতা আমদানিও হ্রাস পায়।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ছিল প্রায় ৬৫ কোটি ডলার। স্থলবন্দর দিয়ে রপ্তানিতে বিধিনিষেধের মধ্যে গত অর্থবছরে তা ১২ শতাংশ কমে ৫৭ কোটি ডলারে নেমেছে। একই সময়ে ভারত থেকে তুলা আমদানি ৫২ কোটি থেকে ২৩ শতাংশ কমে ৪০ কোটি এবং তুলার সুতা ১৭৫ কোটি থেকে কমে ১৪৭ কোটি ডলার হয়েছে। এ দুই কাঁচামালেই আমদানি কমেছে ৪০ কোটি ডলার।
এনবিআরের হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতে রপ্তানি প্রায় ৩ শতাংশ এবং ভারত থেকে আমদানি সাড়ে ৭ শতাংশ কমেছে। দেশটি থেকে আমদানি হয়েছে ৮৯৬ কোটি ডলারের পণ্য। মোট বাণিজ্য ৭৭ কোটি ডলার বা প্রায় ৭ শতাংশ কমে ১ হাজার ৭২ কোটি ডলারে নেমেছে।
গম, সয়াবিনবীজ ও তুলার মতো পণ্য বাংলাদেশ সাধারণত আন্তর্জাতিক বাজারের দাম, মান, পরিবহন খরচ ও সরবরাহসুবিধা বিবেচনা করে কেনে। এখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্য কেনার ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক বিবেচনার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ও বাণিজ্যচুক্তির শর্তও যুক্ত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ানোর বিনিময়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে যে বিশেষ শুল্কসুবিধা পাওয়ার কথা, তা এখনো কার্যকর হয়নি। গত অর্থবছরে দেশটিতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২ দশমিক ৭২ শতাংশ।
বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশ আমদানি বাড়ানোয় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যঘাটতি কমছে। এতে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপের আশঙ্কাও কমবে।
মাহমুদ হাসান খান জানান, যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে প্রতিশ্রুত শুল্কছাড় কার্যকরের চেষ্টা করছেন তাঁরা। চলতি সেপ্টেম্বরে সুবিধাটির কাঠামো নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। এটি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বাড়বে বলে তিনি আশা করছেন।
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য কমার বিষয়ে মাহমুদ হাসান খান বলেন, পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপে দুই দেশের ব্যবসায়ীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ব্যবসায় পরিবহন খরচ ও সময় কম লাগে। তাই ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়লে দুই দেশই লাভবান হবে।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে পরিবর্তন হলেও বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার চীন। গত অর্থবছরে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের পণ্য বাণিজ্য হয়েছে ২ হাজার ২৯৬ কোটি ডলারের। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের তুলনায় প্রায় ৮১ শতাংশ বেশি।
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য মূলত আমদানিনির্ভর। গত অর্থবছরে দেশটি থেকে ২ হাজার ২১৪ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় আমদানি বেড়েছে প্রায় ৭ শতাংশ।
বিপরীতে চীনে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ৮২ কোটি ডলারের পণ্য। আগের বছরের তুলনায় রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ১১ শতাংশ। চীন থেকে শিল্পের কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি ও উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ আনে বাংলাদেশ।
এনবিআরের হিসাবে গত অর্থবছরে বাংলাদেশের পণ্য আমদানি ছিল ৭ হাজার ৩১২ কোটি ডলারের। রপ্তানি ছিল ৪ হাজার ৬২৬ কোটি ডলার। আমদানি ও রপ্তানি মিলিয়ে মোট পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়ায় ১১ হাজার ৯৩৮ কোটি ডলার।
এর মধ্যে চীনের সঙ্গে মোট বাণিজ্য হয়েছে ১৯ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১১ এবং ভারতের সঙ্গে ৯ শতাংশ। অর্থাৎ এই তিন দেশের সঙ্গেই হয়েছে বাংলাদেশের মোট পণ্য বাণিজ্যের প্রায় ৩৯ শতাংশ।
সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু বাণিজ্যঘাটতির অঙ্ক দিয়ে আমদানির ভালো–মন্দ বিচার করলে হবে না। চীন ও ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যের বড় অংশ রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী পণ্য। এসব কাঁচামাল
দিয়ে তৈরি পণ্য আবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়।
তা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ার সুফল নির্ভর করবে প্রতিশ্রুত শুল্কসুবিধা কত দ্রুত কার্যকর হয় এবং দেশটি থেকে আমদানি বাড়াতে গিয়ে বাংলাদেশের ব্যয় ও সরবরাহব্যবস্থায় কী প্রভাব পড়ে তার ওপর। একইভাবে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পাশাপাশি পরিবহন খরচ, সরবরাহের সময়
এবং শিল্পের কাঁচামালের প্রাপ্যতাও বিবেচনায় নিতে হবে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
রাশিয়া ও ইউক্রেন চলমান যুদ্ধে নিজেদের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা স্থগিত করেছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে নিজের অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে ট্রাম্প এ তথ্য জানান। খবর দ্য টেলিগ্রাফের। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ যুদ্ধে রাশিয়া নিয়মিতই ইউক্রেনের শহরগুলোতে ও বিভিন্ন সেনাঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে আসছে। ইউক্রেনও রাশিয়ার বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে সফলভাবেই আঘাত করছে। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা না চালাতে ইউক্রেন সম্মত হয়েছে। রাশিয়াও একই সম্মতি দিয়েছে। বিশ্বের জ্বালানি তেলের দাম বেশি প্রভাবিত হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে, ইরানের কারণে নয়। এর আগে, রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) আয়ারল্যান্ড সফরের সময় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, জেলেনস্কিকে একটি কাজ করতে হবে। তাকে রাশিয়ায় জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে হবে। আরও পড়ুন রাশিয়ার জ্বালানিতে নয়, অন্য কিছুতে হামলা চালাও: ইউক্রেনকে ট্রাম্প এ বিষয়ে জেলেনস্কির সঙ্গে তার কথা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ায় হামলার জন্য আরও অনেক লক্ষ্যবস্তু রয়েছে। তবে, জ্বালানি স্থাপনায় হামলা করা উচিত নয়। তার মতে, এসব হামলার কারণে সারা বিশ্বের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এএমএ
রাজধানীর পল্লবীতে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আহত সজীব হোসাইন (২২) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার ভোরে কাইল্লার বস্তি এলাকায় তিনি হামলার শিকার হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জুয়েল ও জয় নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।নিহত সজীব পেশায় গেঞ্জি বিক্রেতা ছিলেন। তিনি মিরপুরের ওয়াপদা বিল্ডিং বেনারসিপল্লি এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। তাঁর বাবার নাম মৃত সেলিম হোসাইন। দুই ভাইয়ের মধ্যে সজীব ছিলেন বড়। সজীবের এক ছেলে রয়েছে।পল্লবী থানার উপপরিদর্শক রাশেদ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে সজীব আহত হন। পরে স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে বাসায় নিয়ে আসা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে গত বৃহস্পতিবার তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।সজীবের মামাতো বোন শারমিন বলেন, ছিনতাইকারীরা সজীবের পিঠের ডান পাশে ও বুকে ছুরিকাঘাত করে তাঁর মুঠোফোন নিয়ে যায়।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোয় সিরিয়ার বেশ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভের মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ধরে একটি প্রধান মহাসড়ক অবরুদ্ধ করে রাখেন বিক্ষোভকারীরা।সিরিয়া সরকার রোববার ডিজেলের দাম ৪০ শতাংশ এবং পেট্রলের দাম ২৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ায়। সরকারের দাবি, বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি সংগ্রহের খরচ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার কারণেই এই সাময়িক মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে।দাম বাড়ানোর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ বানিয়াস শোধনাগার সংস্কারের কথাও উল্লেখ করেছে সিরিয়া সরকার। তারা জানিয়েছে, এর ফলে শোধনাগারটির উৎপাদনক্ষমতা প্রতিদিন ৮০ হাজার ব্যারেল থেকে বেড়ে ১ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল হবে।জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সিরিয়ার হামা, খান শেইখুন ও মারাত আল-নুমান শহরে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। আল–জাজিরার প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তায় জড়ো হওয়া মানুষ টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন। দাম বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।শনিবার সিরিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-বশির বলেন, দেশটিতে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ২০০০ ব্যারেল তেল উৎপাদিত হচ্ছে; কিন্তু দেশের ভেতরে ব্যবহারের জন্য প্রতিদিন প্রয়োজন প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার ব্যারেল। এই ঘাটতি পূরণের জন্য তারা আমদানির ওপর নির্ভর করছেন।রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা সিরিয়ান আরব নিউজ এজেন্সির (সানা) তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিশ্ববাজারের পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তারা দাম সমন্বয়ের কাজ চালিয়ে যাবে। এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে তেল শোধন ও মজুত করার ক্ষমতা বাড়াতেও কাজ করবে তারা।দীর্ঘ ১৪ বছরের যুদ্ধের পর সিরিয়া এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। তাই দেশটির অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য জ্বালানির সরবরাহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।