বিএনপি সরকারের উদ্দেশে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার পালাবার জায়গা পেয়েছে। তাদের পাশে একটা দেশ আছে। কিন্তু আপনারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করলে বা স্বৈরাচারের পথে হাঁটলে আপনাদের পাশে দাঁড়ানোর কেউ থাকবে না।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় বগুড়ার টিএমএসএস মহিলা মার্কেট (উত্তর) মিলনায়তনে ১৯ সেপ্টেম্বর ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যের শুরুতে এটিএম আজহারুল ইসলাম বগুড়ার সন্তান সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের রুহের মাগফিরাত ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তিনি বলেন, যাদের ত্যাগ ও কোরবানির মাধ্যমে আমি নিজে একটি মিথ্যা ফাঁসির মঞ্চ থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়েছি এবং দেশের ১৮ কোটি মানুষ নতুন করে স্বাধীনতা অর্জন করেছে, তাদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।
তিনি বলেন, গত ১৬-১৭ বছর ধরে জুলুম, নির্যাতন, গুম, খুন এবং আয়নাঘরের যে নির্মম অধ্যায় চলেছে, বিএনপি-জামায়াতসহ বিরোধী দলগুলো তার প্রতিবাদ করলেও ফ্যাসিবাদের পতন ঘটানো সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী এক দফা আন্দোলনের মাধ্যমে গত ৫ই আগস্ট স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটে। দেশে দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জিত হয়।
আজহারুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও বিজয়ী দল বিএনপি পরবর্তী সময়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে টালবাহানা শুরু করে। জনগণের দেওয়া রায়ের সঙ্গে এই ধরনের প্রতারণা অত্যন্ত দুঃখজনক। সংসদ সদস্য পদে শপথ নিয়ে সংবিধান সংস্কার এড়িয়ে যাওয়া স্পষ্টত জনগণের সঙ্গে প্রতারণা।
সংসদের সাম্প্রতিক বিষয়াবলি উল্লেখ করে তিনি বলেন, গুম প্রতিরোধে সরকার যে বিল এনেছে তা আগের চেয়েও খারাপ এবং গুমকে আরও উৎসাহিত করবে। তাই তারা সংসদে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ওয়াকআউট করেছেন।
অর্পিত সম্পত্তি আইন সংশোধন ও উত্তরাঞ্চলের ১১টি অর্থনৈতিক জোন বাতিল প্রসঙ্গে জামায়াতের এই নেতা বলেন, অর্পিত সম্পত্তি আইনের মাধ্যমে সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাইদের অধিকার হরণের পাঁয়তারা চলছে। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলসহ পিছিয়ে পড়া এলাকাগুলোর ১১টি অর্থনৈতিক জোন বাতিল করে চরম আঞ্চলিক বৈষম্য তৈরি করা হয়েছে, যা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, নিত্যপণ্যের দাম কমানো ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবিতে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টায় জাতীয় সংসদ ভবনের মানিক মিঞা এভিনিউ থেকে লংমার্চ শুরু হয়ে সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও টাঙ্গাইল হয়ে রংপুরে গিয়ে শেষ হবে। দাবি না মানলে আগামীতে ১১ দলীয় জোট আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
এসআর/এএসএম
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
সাভারে ছুরিকাঘাতে বাবাকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় কারাগারে থাকা মেয়েকে আদালতে হাজির না করায় অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানি পিছিয়েছে। আগামী ২৫ অক্টোবর এ বিষয়ে শুনানির নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকার জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ সরওয়ার আলমের আদালতে মামলাটির অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ছিল। তবে আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়নি। এ কারণে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি না করে নতুন তারিখ ঠিক করেন আদালত। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. হাসান আলী জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৮ মে সাভারে ছুরিকাঘাতে এক ব্যক্তি নিহত হন। এ ঘটনায় তার মেয়ের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার দিনই নিহত ব্যক্তির প্রথম পক্ষের ছেলে সাভার মডেল থানায় তার এক সৎ বোনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে ওই মেয়েকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৯ নভেম্বর সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইমরান হোসেন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরবর্তীতে আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। এরপর মামলাটি ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালত হয়ে বিচারের জন্য ঢাকার জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। এমডিএএ/এমকেআর
কুষ্টিয়ায় বিজিবির উদ্যোগে পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দি সাড়ে ৫শ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর উদ্যোগে পদ্মা নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দি ৫৫০টি অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা সোয়া ১১ টার সময় কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার পদ্মা নদীর তীরবর্তী চরচিলমারী গ্রামের ডিগ্রীরচর নামক স্থানে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দি ২৫০টি এবং চিলমারী, চল্লিশপাড়া ও রামকৃষ্ণপুর গ্রামের আরও ৩০০টি পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। পিবিজিএম, বিপিএম (সেবা), বিজিওএম, পিএসসি যশোরের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বন্যা দুর্গত এসব পরিবারের সদস্যদের হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন। এ সময় কুষ্টিয়া সেক্টর কমান্ডার, কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধিনায়ক, ভারপ্রাপ্ত উপ-অধিনায়ক, জুনিয়র কর্মকর্তা ও অন্যান্য সদস্যবৃন্দ ছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুলসংখ্যক স্থানীয় জনগণ উপস্থিত ছিলেন। বিজিবির এ মানবিক উদ্যোগে স্থানীয় জনগণ ও উপস্থিত অতিথিরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা দুর্যোগকবলিত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে বিজিবির এ উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্যোগ ও সংকটকালীন সময়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো বিজিবির মানবিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, শীতবস্ত্র বিতরণ, বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে বিজিবি সীমান্তবর্তী জনগণের কল্যাণে কাজ করে আসছে। কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জনগণের কল্যাণ ও মানবিক সহায়তায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। আল-মামুন সাগর/কেজে/এএসএম
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে দুই হাত-পায়ে মোট ২৮টি আঙুল নিয়ে জন্ম নিয়েছে এক শিশু। শিশুটির ঠোঁট কাটা রয়েছে। ১৩ সেপ্টেম্বর উপজেলার মালিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম ও লিজা বেগম দম্পতির প্রথম সন্তান হিসেবে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে সিজারের মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হয়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিশুটি বর্তমানে তার বাবা-মায়ের বাড়িতে রয়েছে। জন্মের খবর ছড়িয়ে পড়লে শিশুটিকে দেখতে স্থানীয় লোকজন ভিড় করছেন। এ ধরনের শিশুর জন্ম এর আগে এলাকায় দেখেননি বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দা আল আমিন বলেন, ‘সাধারণত একটি শিশুর হাত-পায়ে মোট ২০টি আঙুল থাকে। কিন্তু এই শিশুটির মোট ২৮টি আঙুল। শিশুটি বর্তমানে সুস্থ আছে। তবে তার ঠোঁটে সামান্য কাটা রয়েছে। এটি আল্লাহ তাআলার নিদর্শন ও সৃষ্টি। এ সৃষ্টিতে কারও হাত নেই। শিশুটির পরিবারও এ নিয়ে সন্তুষ্ট রয়েছে।’ শিশুটির মা লিজা বেগম বলেন, আল্লাহ যেভাবে দিয়েছেন তাতেই আমি খুশি, সন্তান সুস্থ আছে এটাই আমার কাছে বড় পাওয়া। শিশুটির বাবা আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমার একটি মেয়েসন্তান হয়েছে। সাধারণত বাচ্চাদের ২০টি আঙুল থাকে, কিন্তু আমার মেয়ের ২৮টি আঙুল হয়েছে। তারপরও আমরা সন্তুষ্ট। এ নিয়ে আমাদের কোনো মন খারাপ নেই।’ ফুলবাড়ী উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান বলেন, আমরা শিশুটির সম্পর্কে জেনেছি, মা ও শিশু সুস্থ আছে। ২৮টি আঙুল নিয়ে জন্ম নেওয়া চিন্তার কোনো বিষয় নয়, চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে, তারা এখনো আমাদের কাছে আসেনি। আমাদের কাছে এলে আমরা সঠিক পরামর্শ প্রদান করব। এমদাদুল হক মিলন/এফএ