একসময় বলা হয়েছিল, মডেল হওয়ার জন্য তিনি মোটেও উপযুক্ত নন। কারণ, তাঁর গায়ের রং খুব কালো, উচ্চতা খুব বেশি, শরীরও খুব রোগা। সেই সময় ভারতে প্রচলিত সৌন্দর্যের ধারণায় এগুলো ছিল বড় ‘ত্রুটি’। কিন্তু যেসব বৈশিষ্ট্যের জন্য নিজের দেশেই বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন, কয়েক হাজার মাইল দূরের প্যারিসে গিয়ে সেগুলোই তাঁকে আলাদা করে দিল। কিংবদন্তি ফরাসি ডিজাইনার পিয়ের কারদাঁ তাঁকে দেখেই মুগ্ধ হয়েছিলেন। পরদিন থেকেই অঞ্জলি মেন্ডিস হয়ে গেলেন তাঁর হাউস মডেল।
৬৫ রুপি বেতনের কিন্ডারগার্টেন শিক্ষক থেকে প্যারিসের আন্তর্জাতিক ফ্যাশন অঙ্গনের পরিচিত মুখ হয়ে ওঠার এই যাত্রা যেন রূপকথার মতো। তবে সেই রূপকথায় ছিল প্রত্যাখ্যান, আর্থিক সংকট, পরিবারের শোক, নিঃসঙ্গতা এবং এক গভীর প্রেম হারানোর বেদনা।
দুরন্ত শৈশব, স্বপ্নটা ছিল অন্য রকম
অঞ্জলি মেন্ডিসের জন্মনাম ছিল ফিলিস মেন্ডিস। ১৯৪৬ সালের ২৯ জানুয়ারি ভারতের স্বাধীনতার ঠিক এক বছর আগে তাঁর জন্ম। গোয়ান ক্যাথলিক পরিবারে সাত ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ। বাবা কেজেটান মেন্ডিস সুইস ঘড়ির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। মা সামলাতেন বড় সংসার। অর্থের দিক থেকে পরিবারটি সচ্ছল ছিল না, কিন্তু অঞ্জলির শৈশব ছিল প্রাণবন্ত।
ছোটবেলায় অঞ্জলি ছিলেন ভীষণ দুরন্ত। গাছে উঠতেন, ক্রিকেট খেলতেন, ছেলেদের সঙ্গে দৌড়ঝাঁপ করতেন। নিজের ভাষায়, ছেলেদের সামনে নিজেকে জাহির করার জন্য নানা কাণ্ড করতেন। তখন কে জানত, সেই দুরন্ত মেয়েটিই একদিন ইউরোপের অভিজাত ফ্যাশন অঙ্গনে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন!
তবে ছোটবেলা থেকেই অঞ্জলির শরীরের গড়ন অন্যদের চেয়ে আলাদা ছিল। তিনি ছিলেন অস্বাভাবিক লম্বা। স্কুলে উচ্চতা নিয়ে নানা মন্তব্য শুনতে হতো। ক্লাসে সামনে বসলে পেছনের শিক্ষার্থীদের দেখতে সমস্যা হতো, তাই তাঁকে প্রায়ই পেছনের বেঞ্চে বসতে হতো।
পড়াশোনাতে খুব ভালো ছিলেন না। বই পড়তেই বেশি ভালোবাসতেন। এনিড ব্লাইটন ও বারবারা কার্টল্যান্ডের বই ছিল অঞ্জলির পছন্দের। একবার পরীক্ষার ফল খারাপ হওয়ায় বন্ধুর কাছে আক্ষেপ করে বলেছিলেন, একদিন তিনি খুব বিখ্যাত হবেন। তখন হয়তো কথাটি কিশোরীর অভিমান বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু কয়েক বছর পর সেটিই সত্যি হয়।
৬৫ রুপি বেতনের চাকরি
কলেজে পড়ার সময় পরিবারের আর্থিক সংকট বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে পড়াশোনার খরচের জন্য মায়ের কাছে অতিরিক্ত টাকা চাইলে মা তাঁকে কাজ করার পরামর্শ দেন। তখন মডেলিংয়ের কথা তাঁর মাথাতেই ছিল না। একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি নেন। মাসে বেতন পেতেন মাত্র ৬৫ রুপি।
পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়, যখন অঞ্জলির বাবার চাকরিও চলে যায়। পরিবারের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ায় তাঁর কলেজের পড়াশোনা ছেড়ে দেন। পরে সচিব হওয়ার প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে বিজ্ঞাপন জগতের পরিচিত ব্যক্তি ববি সিস্তারের সচিব হিসেবে কাজ শুরু করেন।
তখন অঞ্জলির চেহারা ছিল প্রচলিত মডেলদের থেকে একেবারেই আলাদা। চোখে মোটা চশমা, লম্বা হাত-পা, লম্বা চুল ও রোগা শরীর। অথচ পরে এই চেহারাই আন্তর্জাতিক ফ্যাশন–দুনিয়ায় তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়ে দাঁড়ায়।
মডেলিংয়ে আসা, সেটাও কাকতালীয়
মডেলিংয়ে অঞ্জলির প্রবেশ ছিল একেবারেই পরিকল্পনাহীন। একদিন বাসে যাওয়ার সময় এক তরুণীর সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। ওই তরুণী তাঁকে একটি ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ফ্যাশন শোর কথা বলেন এবং সেখানে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দেন। কৌতূহল থেকে অঞ্জলি যোগাযোগ করেন ফ্যাশন শো সমন্বয়কারী জিনি নওরোজির সঙ্গে।
জিনি প্রথমেই অঞ্জলির চোখের চশমার দিকে নজর দেন। মডেলিং করতে হলে চশমা খুলতে হবে। অঞ্জলি কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার শুরু করেন। এরপর একটি ফ্যাশন শোতে প্রথমবারের মতো র্যাম্পে হাঁটেন।
সেই সময় ভারতীয় ফ্যাশন–দুনিয়ায় জিনাত আমান, শোভা রাজাধ্যক্ষসহ কয়েকজন পরিচিত মুখ ছিলেন। শোভা রাজাধ্যক্ষই পরে লেখক ও কলামিস্ট শোভা দে নামে পরিচিত হন। অঞ্জলির সঙ্গে তাঁদের বন্ধুত্বও তৈরি হয়।
কিন্তু র্যাম্পে অঞ্জলির উপস্থিতি নিয়ে সবাই খুশি ছিলেন না। তাঁর গায়ের রং নিয়ে মন্তব্য করা হতো। এমনকি ফ্যাশন–জগতের মানুষদের মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছিল, এত সুন্দর মেয়েদের মধ্যে কেন এমন কালো মেয়েকে বেছে নেওয়া হচ্ছে।
অঞ্জলি অবশ্য নিজের চেহারা বদলে ফেলার চেষ্টা করেননি। তাঁর লম্বা পা, দীর্ঘ শরীর, গাঢ় ত্বক—সবকিছুকেই নিজের পরিচয়ের অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। কিছুদিনের মধ্যেই ভারতীয় ফ্যাশন–জগতে পরিচিতি বাড়তে থাকে। একটি ফটোশুট থেকে প্রায় পাঁচ হাজার রুপি আয় করেন তিনি। সেই অর্থই তাঁকে আরও বড় স্বপ্ন দেখার সাহস দেয়।
স্বপ্নটা ছিল প্যারিস।
হাতে মাত্র ১৫০ ফ্রাঁ, গন্তব্য প্যারিস
১৯৭১ সাল। তখন প্যারিস বিশ্বের ফ্যাশন সাম্রাজ্যের অন্যতম কেন্দ্র। পিয়ের কারদাঁ, ইভ সাঁ লোরাঁ, গিভঁশি, উঙ্গারোর মতো ডিজাইনারদের নাম বিশ্বজুড়ে আলোচিত। সেই জগতে ভারতের এক তরুণীর প্রবেশ প্রায় অসম্ভব ব্যাপার।
অঞ্জলির হাতে ছিল রিটার্ন টিকিট আর মাত্র ১৫০ ফ্রাঁ। তবু তিনি প্যারিসে পৌঁছে গেলেন।
১৯৭১ সালের ৬ জুন প্যারিসে নামার পরদিনই সিদ্ধান্ত নিলেন পিয়ের কারদাঁর সঙ্গে দেখা করবেন। ভারতীয় পোশাক পরলেন—শাড়ি, খোঁপা, কপালে টিপ। এই সাজেই চলে গেলেন কারদাঁর বুটিকে।
সমস্যা হলো ভাষা। ফরাসি জানতেন না অঞ্জলি। ইংরেজিতে জানালেন, তিনি মডেল হতে চান। সেখানে থাকা কর্মীরা প্রথমে তাঁর কথা বুঝতেই পারেননি। ভারতীয় পোশাকে তাঁকে দেখে কেউ কেউ ভেবেছিলেন, তিনি হয়তো কোনো ভারতীয় রাজপরিবারের সদস্য।
শেষ পর্যন্ত একজন ইংরেজিভাষী কর্মীর মাধ্যমে তাঁর কথা বোঝা গেল। জানানো হলো, পিয়ের কারদাঁ বিকেল পাঁচটায় তাঁর সঙ্গে দেখা করবেন।
অঞ্জলি অপেক্ষা করতে থাকলেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা। সেদিন তাঁর হাতে টাকা ছিল খুব সামান্য। সকাল থেকে প্রায় কিছুই খাননি। অপেক্ষার সময় বই পড়েই কাটিয়েছিলেন।
কারদাঁর সেই ‘ফান্তাস্তিক’
বিকেল পাঁচটায় দরজা খুলে ঢুকলেন পিয়ের কারদাঁ। ফ্যাশন–জগতের কিংবদন্তি ডিজাইনারের সামনে দাঁড়িয়ে ভারতীয় তরুণী অঞ্জলি। কারদাঁ তাঁকে হাঁটতে বললেন।
অঞ্জলি শাড়ি পরেই হাঁটলেন। কারদাঁ তাঁর পায়ের দিকে তাকালেন। খেয়াল করলেন তাঁর দীর্ঘ শরীর ও লম্বা পা। শাড়িটি একটু ওপরে তুলে পা দেখাতেও বলেছিলেন তিনি। তারপরই কারদাঁর মুখে এল সেই শব্দ-‘ফান্তাস্তিক’।
আর অঞ্জলির জীবনের মোড় ঘুরে গেল। কারদাঁ তাঁকে পরদিন থেকেই নিজের হাউস মডেল হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব দিলেন।
ভারতে যে গায়ের রং অঞ্জলির বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছিল, প্যারিসে সেটিই হয়ে গেল তাঁর আলাদা সৌন্দর্যের পরিচয়। ভারতে যে উচ্চতাকে সমস্যা বলা হয়েছিল, কারদাঁর পোশাক পরিয়ে সেটিই র্যাম্পে হয়ে উঠল তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। রোগা শরীরটিও হয়ে উঠল আন্তর্জাতিক ফ্যাশনের উপযোগী।
অঞ্জলি তখন বুঝতে পারেন, সমস্যা আসলে তাঁর শরীরে ছিল না। সমস্যা ছিল মানুষের চোখে।
মডেল থেকে কারদাঁর মিউজ
প্যারিসে নতুন জীবন শুরু হলেও সবকিছু সহজ ছিল না। ভাষা জানতেন না, সংস্কৃতি ছিল সম্পূর্ণ আলাদা, আর ফ্যাশন–দুনিয়ার প্রতিযোগিতাও ছিল তীব্র। তবু দ্রুত নিজেকে মানিয়ে নেন অঞ্জলি।
এ সময় অঞ্জলির নামও বদলে যায়। জন্মের নাম ফিলিস মেন্ডিস। আন্তর্জাতিক ফ্যাশন–দুনিয়ায় সহজে উচ্চারণ করা যায়, এমন একটি নাম দরকার ছিল। শেষ পর্যন্ত ‘অঞ্জলি’ নামটি বেছে নেওয়া হয়। সেই নামেই তিনি পরিচিত হয়ে ওঠেন।
পিয়ের কারদাঁর সঙ্গে অঞ্জলির সম্পর্ক শুধু পেশাগত ছিল না। কারদাঁ তাঁকে নিজের ফ্যাশন হাউসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। প্রায় এক যুগ ধরে অঞ্জলি তাঁর হয়ে কাজ করেন। তাঁর জন্য বিশেষভাবে পোশাক তৈরি করা হতো।
একসময় অঞ্জলি শুধু কারদাঁর মডেল ছিলেন না, হয়ে ওঠেন তাঁর মিউজ।
কারদাঁর পাশাপাশি গিভঁশি, উঙ্গারো ও শাপারেলির মতো আন্তর্জাতিক ফ্যাশন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও কাজ করেছেন অঞ্জলি। সেই সময় আন্তর্জাতিক ফ্যাশন মঞ্চে ভারতীয় নারীদের উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত সীমিত। আর গাঢ় ত্বকের একজন ভারতীয় নারী হিসেবে অঞ্জলির সাফল্য ছিল আরও ব্যতিক্রমী। পরে তাঁকে ভারতের প্রথম আন্তর্জাতিক সুপারমডেলদের একজন হিসেবে স্মরণ করা হয়।
সাফল্যের মধ্যেও ব্যক্তিজীবনে শোক
পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি অঞ্জলির ব্যক্তিজীবনেও তখন নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছিল। প্যারিসেই তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় এক ইংরেজ পুরুষের। সম্পর্কটি ধীরে ধীরে গভীর হয়। একসময় তাঁরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। অঞ্জলি তখন ক্যারিয়ারের শীর্ষে। সামনে আন্তর্জাতিক ফ্যাশনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, আর ব্যক্তিজীবনে ভালোবাসার মানুষটি পাশে।
কিন্তু সুখ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বিয়ের আগেই অঞ্জলির প্রেমিক ক্যানসারে আক্রান্ত হন। অসুস্থতা দ্রুত বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত মারা যান তিনি।
অঞ্জলির জীবনে এটি ছিল ভয়াবহ ধাক্কা। যে মানুষটির সঙ্গে তিনি ভবিষ্যৎ কল্পনা করেছিলেন, সেই মানুষটিই হঠাৎ চলে গেলেন। অঞ্জলি পরে জানিয়েছিলেন, সেই সময় তাঁর জীবনের অর্থই যেন হারিয়ে গিয়েছিল। এরপরও তিনি জীবন থামিয়ে রাখেননি। কিন্তু সেই সম্পর্কের পর আর বিয়ে করেননি।
ব্যক্তিগত জীবনের এই শোকের পাশাপাশি একের পর এক পরিবারের সদস্যকেও হারাতে হয় অঞ্জলিকে। ১৯৭৯ সালে তাঁর মা স্ট্রোকে মারা যান। কিছুদিন পর বাবাকেও হারান তিনি।
র্যাম্প ছেড়ে অন্য জীবনে
প্যারিস তখন অঞ্জলির ঘর হয়ে উঠেছে। ফ্যাশন–জগতে তিনি প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু অঞ্জলির জীবন শুধু র্যাম্পের মধ্যে আটকে থাকেনি। একসময় মডেলিং থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শীর্ষে থেকে একজন মডেলের স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানো সহজ সিদ্ধান্ত নয়। কিন্তু অঞ্জলি বুঝেছিলেন, জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ে তাঁকে অন্য কিছু করতে হবে।
পিয়ের কারদাঁ তখন অঞ্জলিকে ভারতে নিজের ব্যবসায়িক কার্যক্রম দেখাশোনার দায়িত্ব দেন। এভাবেই অঞ্জলি মডেল থেকে ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্বে চলে যান। প্রায় ১৮ বছর কারদাঁর ভারতীয় ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।
অর্থাৎ অঞ্জলির সামনে একসময় মডেল হওয়ার দরজাই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, তিনিই পরে একটি আন্তর্জাতিক ফ্যাশন সাম্রাজ্যের ভারতীয় কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
র্যাম্পের জীবন থেকে সরে যাওয়ার পর রান্নার প্রতিও অঞ্জলির আগ্রহ বাড়ে। ভারতীয় খাবারের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল গভীর। প্যারিসের জীবনে ভারতীয় রান্নাকে নিজের পরিচয়ের একটি অংশ হিসেবে ধরে রাখেন। পরে মা থেকে মেয়ের কাছে ভারতীয় রান্নার ঐতিহ্য তুলে ধরার ভাবনা নিয়ে বইও প্রকাশ করেন।
শেষ অধ্যায়
২০০০ সালে পিয়ের কারদাঁর ফ্যাশন হাউসের ৫০ বছর পূর্তি হয়। এরপর প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অফিসের কার্যক্রম পুনর্বিন্যাস করে। অঞ্জলিও কারদাঁর ভারতীয় ব্যবসার দায়িত্ব থেকে সরে আসেন। ২০১০ সালের ১৭ জুন ফ্রান্সের প্রোভঁসে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান অঞ্জলি মেন্ডিস। বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
এর আগে, এদিন দুপুর দেড়টার দিকে সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী আন্তনগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস (৭২০) লাউয়াছড়া এলাকায় চলার সময় হুক ছিঁড়ে ট্রেনটির পেছনের ছয়টি বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে ইঞ্জিনসহ সামনের অংশ নিয়ে ট্রেনটি শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনে চলে যায়।
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্তব্যরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করা, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর নেতা অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকায় চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের হুক ছিঁড়ে ছয়টি বগি বিচ্ছিন্ন হয়েছে। বগিগুলো লাউয়াছড়া বনের ভেতরে রেখে ট্রেনের অপর অংশ শ্রীমঙ্গল রেল স্টেশনে চলে গেছে। এতে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়েছে।