নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে বছরব্যাপী ফসল উৎপাদন করতে রাজশাহী বিভাগের ১০২ জন চাষিকে ‘পলিনেট হাউস’ নির্মাণ করে দিয়েছিল কৃষি বিভাগ। একটি প্রকল্পের আওতায় তিন বছর আগে ওই হাউস নির্মাণ করার সময় চাষিদের বলা হয়েছিল, অসময়ে বিভিন্ন ধরনের ফসল ফলিয়ে তাঁরা লাভবান হবেন। কিন্তু তিন বছর পরে এসে দেখা যাচ্ছে, বেশির ভাগ পলিনেট হাউসে ফসল উৎপাদনই হচ্ছে না।
এরপরও কৃষি বিভাগের অনুষ্ঠানে সাফল্যের গল্প বানিয়ে বলতে হয়েছিল চাষিদের। ‘আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটি নিয়েছিল বিগত আওয়ামী লীগ (এখন কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকার।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ প্রকল্পের আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১০২টি পলিনেট হাউস নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা। আর প্রতিটি হাউস তৈরিতে গড়ে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৪ লাখ টাকা।
পলিনেট হাউস হলো বিশেষ পলিথিন, নেট ও লোহার কাঠামো দিয়ে তৈরি একধরনের ঘর। প্রতিকূল আবহাওয়া, পোকামাকড় ও রোগবালাই থেকে ফসল এবং চারা অনেকটাই সুরক্ষিত রেখে সারা বছর চাষাবাদের প্রযুক্তি রয়েছে এই ঘরে। এমনকি প্রয়োজন অনুযায়ী তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও সেচের ব্যবস্থাও এতে যুক্ত থাকে বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, যেসব চাষিকে পলিনেট হাউস তৈরি করে দিয়েছে সরকার, তাঁদের সবার সঙ্গে ২৫ বছরের চুক্তি করেছে কৃষি বিভাগ। এ চুক্তির প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে পলিনেট হাউসের কোনো পরিবর্তন ও ধ্বংস করা যাবে না; কৃষক নিজ তাগিদে উচ্চমূল্যের ফসল চাষ করবেন, কোনো মৌসুমে এই হাউস ফেলে রাখা যাবে না।
চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে পলিনেট হাউস ক্ষতিগ্রস্ত হলে এক মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট চাষিকেই তা মেরামত করতে হবে। এই হাউসের পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করা হলে কিংবা হাউসটি ব্যবহৃত না হলে ব্যবস্থা নিতে পারবে কৃষি বিভাগ। সে ক্ষেত্রে পলিনেট হাউস নির্মাণের ব্যয় সাত দিনের মধ্যে সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হবে। টাকা দিতে ব্যর্থ হলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে কৃষি বিভাগ।
নিজের জমি আছে এবং পলিনেট হাউস নিতে আগ্রহী এমন চাষিদের পলিনেট হাউস প্রকল্পের আওতায় আনা হয়। এতে চাষির কোনো টাকা লাগেনি। পলিনেট করতে জমি লাগে এক বিঘা। তার মধ্যে ২৫ শতাংশের ওপরে নেট হাউস নির্মাণ করে দেওয়া হয়। বাকিটা চারপাশে ফাঁকা থাকে। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ওপরে পলিথিন ও তার নিচে নেট থাকে। এতে ৬০ শতাংশ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত হয়। আর ‘মিক্সড ইরিগেশন’ যন্ত্রের মাধ্যমে তাপমাত্রা কমানোর জন্য মিস্ট পদ্ধতিতে কুয়াশার মতো করে পানি ছিটানো যায়। হাউসের তাপমাত্রা বাড়লে ১০ মিনিট পরপর মিস্ট পদ্ধতি চালু করতে হয়। তখন তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।
এই পলিনেট হাউসে চাষযোগ্য ফসল হিসেবে ক্যাপসিকাম, টমেটো, ব্রকলি, স্কোয়াশ, স্ট্রবেরি, মেলন, শসা, কপি, বাঁধাকপি, ব্রাসেলস স্প্রাউট, লেটুস ও চিনাশাক এবং গোলাপ, জারবেরা, রজনীগন্ধা ও গাঁদা ফুলের কথা বলা হয়েছে।
চাষিরা বলছেন, যাঁরা আগে থেকে নার্সারিতে পেশাদার চারা উৎপাদনকারী ও ফুলচাষি ছিলেন, তাঁরা পলিনেট হাউসের থেকে সুবিধা পাচ্ছেন; কিন্তু কোনো চাষি অসময়ের সবজি চাষ করতে পারেননি। অনেকেই পরিত্যক্ত এই হাউসে আঙুরগাছ লাগিয়ে রেখেছেন। তাঁদের কেউ অন্য হাউসে ফলন হচ্ছে দেখে আঙুরগাছ লাগিয়েছেন, কেউ আবার কিছু একটা লাগাতে হবে বলে আঙুর লাগিয়ে রেখেছেন।
চাষিরা অভিযোগ করেছেন, পলিনেট হাউস নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে তা টেকসই হয়নি। একই কারণে হাউসের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।
অন্যদিকে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, কৃষকেরা পরামর্শ না মানায় সফলতা পাননি।
১০২টি পলিনেট হাউসের মধ্যে রাজশাহী জেলায় ২২টি, নাটোরে ২৯টি, নওগাঁয় ৭টি, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৬টি, পাবনায় ১৭টি, জয়পুরহাটে ৬টি, বগুড়ায় ১১ ও সিরাজগঞ্জে ৪টি রয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলায় হর্টিকালচার সেন্টারে আরও ৯টি পলিনেট হাউস করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কৃষি বিভাগের কাছ থেকে পলিনেট হাউস পেয়েছেন, এমন ১৬ জনের সঙ্গে গত আগস্ট মাসে কথা বলেছে প্রথম আলো। এর মধ্যে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার তিনজন, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার দুজন, চারঘাট উপজেলার একজন, পবা উপজেলার তিনজন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার দুজন, নওগাঁর মান্দার একজন, রানীনগরের একজন ও সদর উপজেলার একজন। এ ছাড়া বগুড়া সদরের একজন ও জয়পুরহাট সদরের একজন রয়েছেন। এর মধ্যে ১০ জনই বলেছেন, এই হাউস চাষ করে তাঁরা বড় ধরনের লোকসানের মধ্যে আছেন। তবে ছয়জন বলেছেন, তাঁদের লোকসান হয়নি। এই ছয়জনের মধ্যে চারজন চারা উৎপাদনে, একজন আঙুর চাষে ও একজন ফুল চাষে সফলতা পাওয়ার কথা বলেছেন।
এই প্রতিবেদক সরেজমিন সাতটি পলিনেট হাউস ঘুরে দেখেন। এর মধ্যে রয়েছে পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার তিনটি, রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলার দুটি, পবা উপজেলার দুটি হাউস। এর মধ্যে চারটি হাউসের পলিথিন ছেঁড়া অবস্থায় পাওয়া গেছে। একটির পলিথিন সম্পূর্ণ খুলে ফেলা হয়েছে।
পলিনেট হাউসে ‘মিক্সড ইরিগেশন সিস্টেম’ রয়েছে। এই যন্ত্রের মাধ্যমে তাপমাত্রা কমানোর জন্য মিস্ট পদ্ধতিতে কুয়াশার মতো করে পানি ছিটানো যায়। আবার ‘ড্রিপ পদ্ধতি’তে গাছের গোড়ায় ফোঁটায় ফোঁটায় পানি দেওয়া যায়।
পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার বখতারপুর গ্রামের চাষি নজরুল ইসলাম বলেন, পলিনেট হাউসে চাষ না করে ওই জমি ইজারা দিলে বছরে এক লাখ টাকা পেতেন।
গত ৩০ আগস্ট বখতারপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পলিনেট হাউসে কোনো পলিথিন নেই। শুধু কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে। এর ভেতরে এখন পটোল চাষ করেছেন নজরুল ইসলাম।
নজরুল ইসলাম বলেন, হাউসের ভেতরে যা কিছু চাষের চেষ্টা করেছেন, তার কোনোটাই হয়নি। উল্টো বছর বছর জমির ইজারামূল্য দিতে হচ্ছে। ভেতরে তাপমাত্রা এত বেশি যে কোনো কর্মচারী কাজ করতে চান না। বাধ্য হয়ে হাউসের পলিথিন খুলেছেন।
ঈশ্বরদী উপজেলার মহাদেবপুর গ্রামে শাহিনুজ্জামানের পলিনেট হাউসে গিয়ে দেখা যায়, তিনি গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ করেছেন। আগস্টের শুরুর দিকে চারা লাগিয়েছেন। দু–একটি গাছের মাথা দেখা যাচ্ছে। এর আগে গত জুলাই মাসের মাঝামাঝি করলা লাগিয়েছেন। গাছ ভালো হয়নি। দু–একটি লতায় করলা দেখা যায়। কিছুই হচ্ছে না দেখে হাউসের এক পাশে আঙুরের গাছ লাগিয়েছেন।
মহাদেবপুরের পাশের গ্রাম জগন্নাথপুরে বেলি বেগমের হাউসে গিয়ে দেখা গেল, সেখানে পালংশাক ও টমেটো চাষ করা হয়েছে; কিন্তু চেহারা একেবারেই খারাপ। এক পাশের পলিথিন খুলে দেওয়া হয়েছে। সেদিকের শাকের চেহারা একটু ভালো হয়েছে।
রাজশাহীর পবা উপজেলার বড়গাছি গ্রামের মর্তুজা আহমেদের হাউসে গিয়ে দেখা যায়, পলিথিন ছিঁড়ে গেছে। বাতাসের কারণে ভেতরে পতপত শব্দ হচ্ছে। কোনো ফসল করতে না পেরে তিনি হাউসের এক পাশে আঙুরের গাছ লাগিয়েছেন। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত এই হাউসে কোনো ফসল চাষ করে এক টাকাও লাভ করতে পারেননি; বরং ১০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে।
কৃষকেরা বলছেন, পলিনেট হাউস পরিচালনার জন্য তাঁদের কোনো প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি। তবে হাউস স্থাপনের এক বছর পর একবার (পাবনার হর্টিকালচার সেন্টার) এবং দুই বছর পর আরেকবার (নিটোর হর্টিকালচার সেন্টার) অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য ডাকা হয়েছিল। সেখানে কী কী ভুল হয়েছে, তা নিয়ে আলোচনার হয়। কয়েকজন কৃষিবিশেষজ্ঞ কিছু পরামর্শ দিয়েছিলেন। এর বাইরে তাঁদের আর কোনো প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি।
নওগাঁর রানীনগর উপজেলার বেতগাড়ি এলাকার চাষি মাসুদ রানা পলিনেট হাউস করে ১০ লাখ টাকা লোকসান গুনেছেন বলে দাবি করেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এক বছর পরের অভিজ্ঞতা নিয়ে পাবনায় হর্টিকালচার সেন্টারে একটা সভা হয়। সেখানে এক বিশেষজ্ঞ এসেছিলেন। ব্যর্থতার কথা শুনে বিদেশি একটি কোম্পানির বীজ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি।
মাসুদ রানা বলেন, দামের কথা শুনে উপস্থিত চাষিরা সেই বীজ নিতে সাহস করেননি। শুধু তিনি এক লাখ টাকায় ক্যাপসিকাম ও টমেটোর বীজ নিয়েছিলেন। সেটি চাষ করতে আরও তিন লাখ টাকা খরচ হয়। উৎপাদন শেষে দেখা গেল বাইরে চাষ করলে যে ফলন হতো, তার অর্ধেকও হয়নি।
মাসুদ রানা অভিযোগ করেন, যে মেকানিকেরা (কারিগর) পলিনেট হাউস নির্মাণ করতে এসেছিলেন, তাঁরা বলেছিলেন অন্তত ২০০ মাইক্রোনের (ঘনত্ব) পলিথিন দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে দেওয়া হয় ১০০ মাইক্রোনের কম। এটিসহ অন্যান্য ত্রুটির কারণে সফলতা আসেনি বলে মনে করেন তিনি।
নওগাঁ সদরের আরেক চাষি আব্দুল লতিফ বলেন, ‘দুই নম্বর জিনিস দিয়ে এটা বানাইয়ে দিয়েছে। ছিঁড়ে যাচ্ছে। এখন শুধু দেখানোর জন্য আঙুর লাগিয়ে রেখেছেন। যাতে বলা যাবে কিছু একটা হচ্ছে।’
পলিনেট হাউসের মধ্যে ‘স্প্রিঙ্কলার’ নামে একটি সেচযন্ত্র রয়েছে। এর মাধ্যমে পানি সেচ দেওয়া যায়; আবার তরল সার ও কীটনাশকও ছিটানো যায়। আরেকটি আছে ‘মিক্সড ইরিগেশন সিস্টেম’। এই যন্ত্রের মাধ্যমে তাপমাত্রা কমানোর জন্য মিস্ট পদ্ধতিতে কুয়াশার মতো করে পানি ছিটানো যায়। আবার ‘ড্রিপ পদ্ধতি’তে গাছের গোড়ায় ফোঁটায় ফোঁটায় পানি দেওয়া যায়।
জানা গেছে, বেশির ভাগ পলিনেট হাউসের মিক্সড ইরিগেশন মেশিন সচল নেই। প্রকল্প–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, চাষিরা এই মিক্সড ইরিগেশন মেশিন ব্যবহার না করে ফেলে রেখেছেন। বরেন্দ্র অঞ্চলের পানিতে মাত্রা অতিরিক্ত আয়রন থাকার কারণে এবং খর পানি হওয়ার কারণেও এ যন্ত্রগুলো নষ্ট হয়েছে।
তবে কৃষকেরা বলছেন, মিক্সড ইরিগেশন পদ্ধতি সারাক্ষণ চালু না রাখলে ঘর ঠান্ডা হয় না। আর বেশি চালালে ভেতরে আদ্র৴তা বেড়ে যায়। তখন ছত্রাকের সংক্রমণ দেখা দেয়। এক বছর যেতে না যেতেই সব মেশিন নষ্ট হয়ে গেছে। প্রকল্প থেকে মেরামত করার করে দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয়নি।
কৃষকেরা বলছেন, যাঁরা পেশাদার চারা উৎপাদন করেন, পলিনেট হাউসে তাঁদের সুবিধা হয়েছে। তাঁরা আগে থেকেই পলিথিনের শেড তৈরি করে তার মধ্যে চারা তৈরি করতেন। এটা পেয়ে তাঁদের ওই শেড তৈরি করতে হচ্ছে না; আর যাঁরা পেশাদার ফুল চাষি, তাঁদেরও সুবিধা হচ্ছে।
নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার ইলিয়াস শেখ একজন চারা উৎপাদনকারী। তিনি এই পলিনেটে মুনাফা করতে পেরেছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাষি সাদিকুল ইসলামও বলেছেন, ফুল চাষ করে তিনি সফলতা পেয়েছেন। হাউসে তিনি জারবেরা ফুলের চাষ করেছেন।
চারঘাটের ইউসুফপুর গ্রামের চাষি মনোয়ার হোসেন নেট হাউসে বিভিন্ন চারা উৎপাদন করছেন। কৃষি বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সফল হয়েছেন। অবশ্য মনোয়ার হোসেন বলছেন, তিনি করলা ও রক মেলন চাষ করে দেখেছেন। ভালো হয়নি। আঙুরের গাছ লাগিয়েছেন। তাতে ভালো ফলন পেয়েছেন। তাঁর মনে হয়েছে এখানে ফসল হিসেবে চাষ করলে একমাত্র আঙুর হতে পারে।
জয়পুরহাট সদর এলাকার চাষি আমিনুল ইসলাম পলিনেট হাউসে ক্যাকটাসসহ বিভিন্ন ধরনের ফুল-ফলের চারা করে লাভবান হয়েছেন। নিজেকে শৌখিন চাষি দাবি করে তিনি বলেন, তাঁর মতো অভিজ্ঞতা কারও নেই। পলিনেট হাউসে চাষের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য নিজ খরচে ভারতে গেছেন।
আমিনুল ইসলাম বলেন, জয়পুরহাটের পলিনেট হাউসে চাষ করে তিনি ছাড়া আর কেউ ভালো করতে পারেননি। এই হাউসে চাষ করা তাঁর একটা ক্যাকটাসের দামই ২০ হাজার টাকা।
দুই বছরের বেশি সময় পলিনেট হাউসগুলো পর্যবেক্ষণ করে প্রকল্প–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, হাউসের ৮০ শতাংশ এলাকায় চারা উৎপাদন হবে। বাকি এলাকায় আঙুর, ক্যাপসিকাম, গ্রীষ্মকালীন টমেটো ও জারবেরা ফুল চাষ করা সম্ভব। পলিনেট হাউসে চারা উৎপাদন ও চাষাবাদের বিষয়ে চাষিদের নির্দেশিকা দেওয়া রয়েছে।
নওগাঁরর এক চাষি পলিনেট হাউসে গত তিন বছরে ২৮ রকমের ফসল উৎপাদনের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু একটিতেও সফল হতে পারেননি।
এই চাষি (নাম প্রকাশ করতে চাননি) প্রথম আলোকে বলেন, প্রকল্প শুরু হওয়ার এক বছর পর কৃষি বিভাগের উদ্যোগে পাবনার হর্টিকালচার সেন্টারে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সবাইকে বানিয়ে সফলতার গল্প বলতে বাধ্য করা হয়। চাষিরা যাতে সফলতার কথা বলেন, তা নজরদারি করার জন্য সেখানে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কড়া পাহারায় ছিলেন। কিন্তু কথায়–কথায় একজন চাষি মুখ ফসকে সত্য কথা বলে ফেলেন, তারপর সবাই তাঁদের ব্যর্থতার গল্প ফাঁস করে দেন। তখন একটা বিশৃঙ্খল অবস্থা তৈরি হয়েছিল।
দুই বছর আগে চাষিদের নিয়ে নাটোরে একাধিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা হয়। সেখানে রাজশাহী, বগুড়া, নওগাঁ, নাটোরে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাট ও পাবনার চাষিরা ছিলেন। তখন কয়েকজন চাষির সই করা এটি আবেদন প্রকল্প পরিচালককে দেওয়া হয়। তাতে বলা হয়েছে, পলিনেট হাউস ব্যবহারের অনুপযোগী। এটা ঠিক করে এতে উপযুক্ত বীজ সরবরাহ করতে হবে।
ওই প্রশিক্ষণে বগুড়া সদরের একজন চাষিকে কৃষি বিভাগ সফল বলে প্রচার করন। তাঁর (নাম প্রকাশ করতে চাননি) সঙ্গে ২ সেপ্টেম্বর মুঠোফোনে কথা বলেছে প্রথম আলো। তিনি বলেন, এটা এখন লোকদেখানো প্রকল্প হয়ে গেছে। এটি কর্তৃপক্ষও জানে।
আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পটি মোট ১৮৭ কোটি টাকার। এর আওতায় পলিনেট হাউসের পাশাপাশি ১০ হাজার ৭৩৩টি কৃষি যন্ত্রপাতি ৭০ শতাংশ ভর্তুকি মূল্যে কৃষকদের দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভুট্টামাড়াই মেশিন, স্প্রে মেশিন, গার্ডেন টিলার ইত্যাদি। প্রকল্পের আওতায় কৃষক প্রশিক্ষণ, কৃষি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে কৃষিপ্রযুক্তি প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া এ প্রকল্পের আওতায় বগুড়া ও রাজশাহীতে কৃষি বিভাগের জন্য সাড়ে ১১ হাজার বর্গফুট আয়তনের দুটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি ভবন চারতলার। তবে হয়েছে তিনতলা পর্যন্ত। দুটি ভবনের নির্মাণ ব্যয় সাড়ে ১১ কোটি টাকা।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রকল্প–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেছিলেন, পাঁচ বছরে পলিনেট হাউসের কোনো সমস্যা হলে সরকার থেকে ঠিক করে দেওয়া হবে। তারপর বলা হলো তিন বছর। শেষে দেখা গেল এক বছরের মাথায় কৃষকের পাশে আর কেউ নেই।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক এস এম হাসানুজ্জামান প্রকল্পটির (আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প) পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কৃষকদের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, কৃষকেরা পরিশ্রম করতে চান না। তাঁদের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করেন না। এ জন্য সফল হয় না।
চাষিদের করা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে হাসানুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের চাষিরা সবাই অস্থির। কাউকে জোর করে পলিনেট হাউস দেওয়া হয়নি। আঙুরের জন্য এটা টেকসই একটা প্রযুক্তি। এখন চাষিদের আঙুর চাষ করতে পরামর্শ দিচ্ছেন।’
আঙুর তো খালি পরিবেশেও হচ্ছে, এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে হাসানুজ্জামান বলেন, বাইরের চেয়ে ভেতরে (হাউস) ভালো হচ্ছে। ভেতরে দুবার ফলন হবে। চাষিদের প্রশিক্ষণের ব্যাপারে তিনি বলেন, বাংলাদেশে যাঁরা বিশেষজ্ঞ আছেন, তাঁদের দিয়ে প্রশিক্ষণ করানো হয়েছে। জারবেরা ফুল দারুণ হচ্ছে। যাঁরা করছেন, লাভবান হচ্ছেন।
রক্ষণাবেক্ষণের মেয়াদ কত বছর ছিল—জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক হাসানুজ্জামান বলেন, পাঁচ বছরের প্রকল্প। ঠিকাদার এক বছর বিনা মূল্যে সার্ভিস দেবেন। পলিথিন ছিঁড়ে গেলে তিন বছর ঠিক করে দেওয়া হবে। সেই সময় পার হওয়ায় এখন চাষিরা নিজেরাই চালাবেন।
রাজশাহীর পবা উপজেলার দারুশা গ্রামের চাষি সারোয়ার হোসাইনের পলিনেট হাউস ঝড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। মেরামত করতে তাঁর ৭০-৮০ হাজার টাকা লাগবে। একাধিকবার উচ্চমূল্যের ফসল চাষ করতে গিয়ে প্রায় ৫ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, নিম্নমানের পলিনেট হাউসের কারণেই তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। ফসলও হয় না। এ অবস্থায় অতিরিক্ত ব্যয় করে তাঁর পক্ষে এই পলিনেট হাউস মেরামত করা সম্ভব নয়।
সরকারি খরচে হাউসটি মেরামত করে দেওয়ার জন্য প্রকল্প পরিচালক বরাবর গত ২৯ জুন আবেদন জানিয়েছেন। এখনো সাড়া পাননি জানিয়ে সারোয়ার হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, তিনি আবার আবেদন করবেন।
প্রকল্পটির বিষয়ে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক মো. আহসানুল হক প্রথম আলোকে বলেন, শীতপ্রধান দেশে ঠান্ডার প্রকোপ থেকে ফসল রক্ষায় পলিনেট বা গ্রিনহাউসে চাষাবাদ স্বাভাবিক। তবে গ্রীষ্মপ্রধান বাংলাদেশে এ ধরনের হাউস করতে হলে ভেতরের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও বায়ু চলাচল ফসলের উপযোগী রাখতে হয়। একেকটি ফসলের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকা দরকার। কিন্তু দেশের পলিনেট হাউসগুলোতে সব ফসলের জন্য প্রায় একই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যে কারণে প্রকল্পটি সফল হচ্ছে না।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
পশ্চিমবঙ্গের প্রযোজনা সংস্থা সুরিন্দর ফিল্মসের একটি পোস্টার গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ফেসবুকে শেয়ার করেছেন নির্মাতা কৌশিক গাঙ্গুলী। তাঁর পরিচালিত সর্বশেষ সিনেমা ‘আজও আর্ধাঙ্গিণী’র পোস্টার। গত ১০ জুলাই মুক্তির পর টানা ৭৫ দিন প্রদর্শনীর মাইলফলক পূর্ণ করেছে সিনেমাটি। প্রযোজনা সংস্থাটি যাকে বলেছে ‘ব্লকবাস্টার হিট’। কৌশিকের পোস্টের নিচে অনেক দর্শক সিনেমাটির প্রশংসা করেছেন। অরিন্দম চ্যাটার্জি নামের এক দর্শক লিখেছেন, ‘কোনো সিনেমার পার্ট টু যে এত ভালো হতে পারে, আমার জীবনে সেটা প্রথমবার অভিজ্ঞতা হলো। অসাধারণ সিনেমা, প্রত্যেকেরই দেখা উচিত।’ কেবল তিনিই নন, মুক্তির পর থেকেই সিনেমাটির প্রশংসা করেছেন দর্শক-সমালোচকেরা। ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া কৌশিক গাঙ্গুলীর ‘অর্ধাঙ্গিণী’ বাণিজ্যিক সাফল্য পেয়েছিল, এটি তারই সিক্যুয়েল। আগের কিস্তির মতো সিনেমাটিতে প্রধান চরিত্রগুলোয় অভিনয় করেছেন চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়, জয়া আহসান, কৌশিক সেন, অম্বরীশ ভট্টাচার্য। সিনেমাটিতে মেঘনা চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়া। নিজের অভিনীত চরিত্রটি নিয়ে প্রথম আলোকে তিনি বলেছিলেন, ‘মেঘনা চরিত্রটা তো আগে থেকেই তৈরি ছিল। তারপর সময় কিছুটা কেটে গেছে। শহরটা মেঘনার অনেকখানি হয়ে গেছে। ও পরিবারের একটি অংশ হয়ে গেছে। পরিবারে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। বাচ্চাটা বড় হয়েছে। মেঘনার জীবনে নতুন নতুন আরও চরিত্র এসেছে। যেমন করে সিনেমাতে নতুন চরিত্রগুলো আসে। ও আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে। কিন্তু সংসারে এবারও নানা রকমের টানাপোড়েন তৈরি হয়, অদ্ভুত পরিস্থিতিতে পড়তে হয় মেঘনাকে। নতুন সিনেমায় সেটাই উঠে এসেছে।’কী বললেন জয়া‘অর্ধাঙ্গিণী’র পর ‘আজও অর্ধাঙ্গিণী’র সাফল্যে উচ্ছ্বসিত জয়া আহসান। গতকাল তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমার মনে হয় সিক্যুয়েল ভাগ্যটাই আমার বোধ হয় ভালো। কারণ “বিজয়া”, “বিসর্জন”-এর পর “অর্ধাঙ্গিণী”থেকে “আজও অর্ধাঙ্গিণী”...মজা করে বললাম আর কী। সত্যি বলতে ভালো গল্প হলে, ভালো কনটেন্ট হলে দর্শক দেখতে আসেন। আমরা যে বলি দর্শক হলে যায় না, সেটা কি ঠিক? প্রমাণ হচ্ছে “আজও অর্ধাঙ্গিণী”। যে প্রত্যেকটা লাইনে, প্রত্যেকটা সংলাপে মানুষ হাততালি দিচ্ছে, নিজেকে রিলেট করতে পারছে, আবেগপ্রবণ হচ্ছে...এটা দেখে আমি সত্যিই খুশি।’সিনেমাটির সাফল্য নিয়ে অভিনেত্রী আরও বলেন, ‘আমি খুবই খুশি। কারণ, এমন একটি কাজ করতে পেরেছি, যেটা আসলে সমাজের মানুষের দৈনন্দিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে। মানুষ এখনো সিনেমাটি দেখছে, কথা বলছে; এটাই তো সবচেয়ে বড় পাওয়া, তাই না?’‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’র পোস্টার। প্রযোজনা সংস্থার ফেসবুক থেকে যা বলেছিলেন সমালোচকেরামুক্তির পর পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন গণমাধ্যম বাংলাদেশি অভিনেত্রীর প্রশংসাও করেছিল। সংবাদ প্রতিদিন তাদের রিভিউয়ে জয়ার অভিনয় সম্পর্কে লিখেছিল, ‘মেঘনার চরিত্রে জয়া একেবারে পারফেক্ট। জয়ার মধ্যে এমন তোলপাড়, কূলছাপানো লিকুইডিটি, তারল্য আছে, যা চোখে দেখার, অনুভবের এবং আমার মতো কিছু পুরুষের রোমান্টিক টানের। কৌশিকের কল্পনা, তাঁর রোমান্টিক স্বপ্ন এই তারল্যে সাঁতারু হতে পেরেছে। সমস্ত ছবিটাকে আচ্ছন্ন করে আছে জয়া আহসানের তারল্য, মেঘনা নদীর এপার-ওপার ছলাৎ ও বহতা।’অনলাইন গণমাধ্যম দ্য ওয়াল লিখেছিল, ‘মেঘনা চরিত্রে জয়া আহসান অনেক সংযত। সংলাপ কম, কিন্তু উপস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী। অপরাধবোধ, দ্বিধা, ভালোবাসা আর অনিশ্চয়তার মাঝখানে আটকে থাকা এক নারীর ভাঙন। বিশেষ করে চূর্ণীর সঙ্গে তাঁর মুখোমুখি দৃশ্যগুলো ছবির আবেগকে আরও গভীর করেছে। দুজনের রসায়নই ছবির অন্যতম বড় সম্পদ।’এবার একটু ‘হালকা’ হতে চান জয়াদ্য টেলিগ্রাফ লিখেছিল, ‘মেঘনা চরিত্রে জয়া আহসানও দারুণভাবে সঙ্গ দিয়েছেন। যদিও প্রথম ছবির তুলনায় এই পর্বে চরিত্রটি আবেগ প্রকাশের তেমন বেশি সুযোগ পায় না, তবু অপরাধবোধ, ভালোবাসা ও অনিশ্চয়তার টানাপোড়েনে আটকে থাকা এক নারীর ভঙ্গুর মানসিক অবস্থাকে জয়া তাঁর সংযত ও বিশ্বাসযোগ্য অভিনয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন।’এবার ওটিটিতেপ্রেক্ষাগৃহে দারুণ সাফল্যের পর আজ শুক্রবার থেকে ঘরে বসেই দেখা যাবে ‘আজও অর্ধাঙ্গিণী’। সিনেমা মুক্তি পেয়েছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচইয়ে। বাংলাদেশের দর্শকেরাও দেখতে পারবেন জয়া আহসান অভিনীত সিনেমাটি।
পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন ও অন্যান্য অপরাধের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৪ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। শাস্তি হিসেবে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি পরবর্তী এক থেকে তিনটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। গত ৩১ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষার্থীদের শাস্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।৭ সেপ্টেম্বর ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হিমাদ্রি শেখর চক্রবর্তী স্বাক্ষরিত এক আদেশে বলা হয়, ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত শৃঙ্খলা পরিষদের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিভিন্ন পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন ও অন্যান্য অপরাধের দায়ে ৬৪ শিক্ষার্থীকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।শাস্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে আরবি বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ সাতজন শাস্তি পাওয়া ৬৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আরবি বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ সাতজন শিক্ষার্থী শাস্তি পেয়েছেন।এ ছাড়া পোস্ট বেসিক বিএসসি ইন নার্সিং, এমবিবিএস, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন বিভাগ থেকে পাঁচজন করে এবং উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ ও হেলথ টেকনোলজি (ল্যাবরেটরি) থেকে চারজন করে শিক্ষার্থী শাস্তির আওতায় এসেছেন।এ ছাড়া ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজ ইনস্টিটিউট, অর্গানাইজেশন স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড লিডারশিপ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা এবং আইন বিভাগ থেকে তিনজন করে শিক্ষার্থী শাস্তি পেয়েছেন। ভূগোল ও পরিবেশ, ইংরেজি ও দর্শন বিভাগ থেকে দুজন করে শিক্ষার্থী শাস্তির আওতায় এসেছেন।অন্যদিকে রোবোটিকস অ্যান্ড মেকাট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি, অ্যাপ্লায়েড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্মেসি, সংস্কৃত, ইসলামিক স্টাডিজ, সমাজকর্ম, পরিসংখ্যান, ইতিহাস, বেসিক বিএসসি ইন নার্সিং এবং মাস্টার অব সায়েন্স ইন নার্সিং প্রতিটি বিভাগ বা প্রোগ্রাম থেকে একজন করে শিক্ষার্থী শাস্তির আওতায় এসেছেন।অপরাধের জন্য অনুতপ্ত হয়ে প্রক্টর অফিসের মাধ্যমে উপাচার্যের কাছে ক্ষমা চেয়ে শাস্তি কমানোর আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। ১৯৮৯ সালের সিন্ডিকেটের দেওয়া ক্ষমতার বলে উপাচার্য সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত শাস্তি কমাতে পারেন। ১৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৪ জন শিক্ষার্থীর এক বছরের শাস্তি মওকুফ করেছেন উপাচার্য।পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের সেকশন অফিসার মির্জা ইশতিয়াক আলম এ বিষয়ে বলেন, এখন পর্যন্ত ১৪ জন শিক্ষার্থীর শাস্তি এক বছর করে মওকুফ করা হয়েছে। শাস্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
মেট্রোরেল প্রকল্পে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার অভাবে ব্যয় বেড়েছে বলে মনে করছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। সংস্থাটি বলেছে, মেট্রোরেলের পাশাপাশি বাস, বিআরটি, কমিউটার রেল, পথচারীবান্ধব ব্যবস্থা ও অন্যান্য গণপরিবহনে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। প্রকল্প অনুমোদনের আগে উপযোগিতা, লাভ-ক্ষতি ও বিকল্প পরিবহনব্যবস্থার সম্ভাবনা যথাযথভাবে বিশ্লেষণেরও দাবি জানিয়েছে তারা। শুক্রবার ‘মেট্রোরেলের ব্যয় বৃদ্ধি ও পরিকল্পনায় ন্যায্যতা’ শীর্ষক এক অনলাইন আলোচনা সভায় এ কথা বলা হয়। আইপিডির আয়োজনে অনুষ্ঠানে পরিবহন পরিকল্পনাবিদ, নগর–পরিকল্পনাবিদ ও প্রকৌশলীরা অংশ নেন।অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান। তিনি বলেন, মেট্রোরেলের প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহের কারণে যোগাযোগব্যবস্থার অন্যান্য সম্ভাবনা পিছিয়ে পড়েছে। ২০০৫ সালের কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় (এসটিপি) বাস, বিআরটি ও পথচারীবান্ধব ব্যবস্থায় গুরুত্ব দেওয়ার কথা থাকলেও সেসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হয়নি। বরং প্রাথমিক পরিকল্পনায় তিনটি মেট্রোরেলের প্রায় ৬০ কিলোমিটার নেটওয়ার্কের কথা থাকলেও সংশোধিত পরিকল্পনায় ছয়টি মেট্রোরেলের ১৪০ কিলোমিটারের বেশি নেটওয়ার্কের প্রস্তাব করা হয়েছে।আইপিডির তথ্য অনুযায়ী, এমআরটি লাইন-৫ (দক্ষিণ) নির্মাণে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকা। বিপরীতে এমআরটি লাইন-১-এ ৩ হাজার ৬৬১ কোটি এবং এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর)-এ ৪ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, প্রকল্পগুলোর ব্যয়ের এই পার্থক্য প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।পরিবহন পরিকল্পনাবিশেষজ্ঞ মুনতাসীর মামুন বলেন, মেট্রোর পাশাপাশি কার্যকর বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা জরুরি। বর্তমানে প্রায় ১ শতাংশ ট্রিপ মেট্রোর মাধ্যমে হচ্ছে। ভবিষ্যতে সব পরিকল্পিত মেট্রোরেল বাস্তবায়িত হলেও সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ট্রিপ বহন করা সম্ভব হতে পারে। ফলে বাকি যাত্রীদের জন্য কার্যকর পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বড় প্রকল্পে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। প্রকল্পের অনুমোদিত ব্যয় যৌক্তিক ও ন্যায্য কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাইয়ের কথাও বলেন তিনি।এ ছাড়া আলোচকেরা কমলাপুর-এয়ারপোর্ট-জয়দেবপুর রেলপথকে কমিউটার ট্রেনের জন্য ব্যবহার, বিআরটি ও বাস রুট রেশনালাইজেশন, মেট্রোর সঙ্গে পথচারী ও অন্যান্য গণপরিবহনের সমন্বয় এবং প্রকল্পের জীবনচক্র ব্যয় প্রকাশের ওপর গুরুত্ব দেন।আইপিডি মেট্রোরেল প্রকল্পে উন্মুক্ত দরপত্র, স্বাধীনভাবে ব্যয় যাচাই, ২০-৩০ বছরের পরিচালন ব্যয় ও ঋণের কিস্তির হিসাব প্রকাশ এবং প্রকল্পের প্রতিটি প্যাকেজের দরপত্র ও ব্যয়ের তথ্য উন্মুক্ত করার সুপারিশ করেছে।