গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘নাজা’ পেয়েছে বিশেষ জুরি পুরস্কার। পুরস্কার নেওয়ার সময় নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম বললেন, ‘বাস্তবতার দিকে না তাকানোর জন্য অনেক কিছুই করা হচ্ছে।’
ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে এবার সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দেওয়া ছবিগুলোর একটি ‘নাজা’। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান, বেসামরিক মানুষ হত্যার অভিযোগ এবং সেই প্রক্রিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের নানা দিক নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্রটি শেষ পর্যন্ত পেয়েছে উৎসবের বিশেষ জুরি পুরস্কার। ইসরায়েলি নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও র্যাচেল সোরের ছবিটি পুরস্কার পাওয়ার পাশাপাশি ভেনিসে গড়েছে অভ্যর্থনার নতুন রেকর্ড।
১০ সেপ্টেম্বর ভেনিসে ‘নাজা’র প্রিমিয়ারের পর দর্শকেরা প্রায় ২৫ মিনিট দাঁড়িয়ে করতালি দেন। এটিই ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের ইতিহাসে দীর্ঘতম রেকর্ড করা স্ট্যান্ডিং ওভেশন। এর আগে এই রেকর্ড ছিল গত বছর ভেনিসে প্রদর্শিত ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রজব’-এর দখলে। গাজায় পাঁচ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রাজাবের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নির্মিত ছবিটি পেয়েছিল প্রায় ২৩ মিনিটের স্ট্যান্ডিং ওভেশন।
‘নাজা’র প্রিমিয়ারে নির্মাতা আব্রাহাম ও র্যাচেল সোরকে ঘিরে দর্শকদের উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি অনেকের হাতে ছিল ফিলিস্তিনি পতাকা। ছবিটির নির্বাহী প্রযোজক, অস্কারজয়ী নির্মাতা জোনাথন গ্লেজারও প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি দুই নির্মাতাকে আলিঙ্গন করেন।
পুরস্কার পাওয়ার পর যা বললেন নির্মাতা
ভেনিসের সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ জুরি পুরস্কার হাতে নিয়ে আব্রাহামের কণ্ঠে ছিল আবেগ ও ক্ষোভ। তিনি বলেন, ছবিটি নিয়ে ইসরায়েলের রাজনীতিক ও সাংবাদিকদের আক্রমণ এবং ছবিটি না দেখেই সেটিকে অস্বীকার করার বিষয়টি তাঁর জন্য সহজ নয়।
‘বাস্তবতার দিকে না তাকানোর জন্য অনেক কিছুই করা হচ্ছে’-পুরস্কার গ্রহণের সময় এমন মন্তব্য করেন আব্রাহাম।
আব্রাহাম ও র্যাচেল সোরের দাবি, ছবিটিতে যে অভিযোগ ও সাক্ষ্য তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলো এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ‘নাজা’ মুক্তির পরদিন ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ছবিতে উত্থাপিত অভিযোগগুলো ‘সম্পূর্ণভাবে’ অস্বীকার করেছে।
পুরস্কার নিতে মঞ্চে উঠে ইউভাল আব্রাহাম বলেন, ‘এখানে দাঁড়িয়ে এই পুরস্কার নেওয়া সত্যিই সহজ নয়। কারণ, আমি ভাবছি, ইসরায়েলের রাজনীতিক ও দেশের সাংবাদিকদের কথা, যাঁরা ছবিটি না দেখেই এখন এর বিরুদ্ধে আক্রমণ করছেন, ছবিটির বক্তব্য অস্বীকার করছেন।’
এরপর আরও তীব্র হয়ে ওঠে তাঁর বক্তব্য। আব্রাহাম বলেন, ‘বাস্তবতার দিকে না তাকানোর জন্য অনেক কিছুই করা হচ্ছে। এই উৎসব শুরুর পর মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই গাজায় ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ছয় ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে। বোমা হামলার শিকার একটি স্কুলে মারা গেছে তিন বছরের এক শিশু, বাবার সঙ্গে গাড়িতে থাকা অবস্থায় নিহত হয়েছে সাত বছরের আরেক শিশু, আর দুই বোন মারা গেছে নিজেদের ঘরে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায়।’

ছবিটির জন্য যেসব ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে, তাঁদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে আব্রাহাম বলেন, গাজায় ব্যাপক হত্যাকাণ্ড কোনো দুর্ঘটনা নয়; বরং এটি একটি পরিকল্পিত ও পদ্ধতিগত প্রক্রিয়ার অংশ। তাঁর ভাষায়, ফিলিস্তিনিদের ‘সম্পূর্ণ অমানবিক’ হিসেবে দেখার মানসিকতা থেকেই এসব কর্মকাণ্ড ও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে বলে ওই কর্মকর্তারা তাঁদের জানিয়েছেন।
আব্রাহাম আরও বলেন, ‘একটি বিষয় আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, এই সত্যের প্রমাণ শুরু থেকেই নথিবদ্ধ হয়েছে। ফিলিস্তিনি সাংবাদিকেরা তা বিশ্বকে জানিয়েছেন। গাজায় ইসরায়েলি হামলায় দুই শর বেশি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন; তাঁদের কণ্ঠ স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে, তাঁদের বক্তব্য অস্বীকার করা হয়েছে।’
আব্রাহামের মতে, কোনো অপরাধ অস্বীকার করাই সেই অপরাধকে টিকে থাকার সুযোগ করে দেয়। সে কারণেই তিনি চান ইসরায়েলিরা ‘নাজা’ দেখুন। একই সঙ্গে ইতালির দর্শকদেরও ছবিটি দেখার আহ্বান জানান তিনি। আব্রাহামের অভিযোগ, ইতালি ও জার্মানির সরকার ইসরায়েলের ওপর এমন চাপ তৈরির পথে বাধা দিচ্ছে, যা এই পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের দর্শকদেরও ছবিটি দেখার আহ্বান জানান তিনি। কারণ তাঁর দাবি, গাজায় চলমান হত্যাকাণ্ডের বড় একটি অংশের অর্থায়ন করছে যুক্তরাষ্ট্র। বক্তব্যের শেষে ছবিটির প্রযোজকদের ধন্যবাদ জানান আব্রাহাম।

২৪ ইসরায়েলি সেনা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তার সাক্ষ্য
প্রায় তিন বছর ধরে অনুসন্ধান করে তৈরি হয়েছে ৮০ মিনিটের ‘নাজা’। ছবিতে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা বিভাগের ২৪ জন সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা, সেনা এবং অভ্যন্তরীণ সূত্রের। নিরাপত্তার কারণে তাঁদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। তেল আবিবের বিভিন্ন ছাদে রাতের আঁধারে তাঁদের সাক্ষাৎকার ধারণ করা হয়। পরে তাঁদের মুখ ও কণ্ঠ ডিজিটালি পরিবর্তন করা হয়েছে।
ছবির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এআই-সহায়িত লক্ষ্য নির্ধারণ ব্যবস্থা। ‘নাজা’–তে ল্যাভেন্ডার নামে একটি এআইনির্ভর ব্যবস্থার কথা উঠে এসেছে, যা গাজার টেলিযোগাযোগ ও নজরদারি থেকে সংগৃহীত তথ্য ব্যবহার করে সম্ভাব্য লক্ষ্য শনাক্ত করতে পারে বলে সাক্ষাৎকারদাতারা দাবি করেছেন।
নির্মাতারা দেখাতে চেয়েছেন, প্রযুক্তির মাধ্যমে কীভাবে বিপুলসংখ্যক লক্ষ্য দ্রুত শনাক্ত ও হামলার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। ছবিতে এক সাক্ষাৎকারদাতা এই প্রক্রিয়াকে ‘কারখানার মতো’ বলে বর্ণনা করেছেন। আরেকজন বলেছেন, দূর থেকে লক্ষ্য নির্ধারণের পুরো বিষয়টি অনেকটা ‘ভিডিও গেমের মতো’ মনে হতো।
‘নাজা’ নামের অর্থ কী?
ছবির নামটিও এসেছে ইসরায়েলি সামরিক ও গোয়েন্দা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত একটি শব্দ থেকে। ‘নাজা’ এমন একটি সংক্ষিপ্ত রূপ, যার মাধ্যমে কোনো বিমান হামলায় সম্ভাব্য বেসামরিক প্রাণহানির সংখ্যা বোঝানো হয় বলে ছবিতে দাবি করা হয়েছে।
অর্থাৎ যেসব মানুষ হামলার সরাসরি লক্ষ্য নন, কিন্তু হামলায় মারা যেতে পারেন; তাঁদের সম্ভাব্য সংখ্যা আগেই হিসাবের মধ্যে রাখার একটি ধারণার সঙ্গে শব্দটি যুক্ত।
এই ধারণাকেই ছবির নির্মাতারা তাঁদের অনুসন্ধানের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, গাজায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানিকে কেবল অনিচ্ছাকৃত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখলে পুরো ব্যবস্থাটিকে বোঝা যাবে না; বরং কীভাবে লক্ষ্য নির্ধারণ ও হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেটিই খতিয়ে দেখা জরুরি।
‘নো আদার ল্যান্ড’-এর পর আবার গাজা
ইউভাল আব্রাহাম ও র্যাচেল সোরের নাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে আগে থেকেই পরিচিত। তাঁরা ২০২৫ সালে অস্কারজয়ী তথ্যচিত্র ‘নো আদার ল্যান্ড’-এর সহনির্মাতা। বাসেল আদরা ও হামদান বাল্লালের সঙ্গে তৈরি সেই ছবিতে পশ্চিম তীরের মাসাফের ইয়াত্তায় ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর উচ্ছেদ ও ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা তুলে ধরা হয়েছিল।
‘নাজা’ সেই কাজেরই যেন আরও বিস্তৃত ও অনুসন্ধানী পর্ব। তবে এবার ক্যামেরা শুধু ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দিকে তাকায়নি; বরং যুদ্ধ পরিচালনার ব্যবস্থার ভেতরের মানুষদেরও কথা বলিয়েছে।
ছবিটি প্রযোজনা করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। প্রযোজক জেমস উইলসন এবং নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে আছেন ‘জোনাথন গ্লেজার-দ্য জোন অব ইন্টারেস্ট’-এর অস্কারজয়ী নির্মাতা।

পুরস্কারের আগে থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে
ভেনিসে ‘নাজা’র গুরুত্ব অবশ্য শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। প্রদর্শনীর পর সমালোচকদের প্রতিক্রিয়াও ছিল তীব্র। প্রায় ২৫ মিনিটের রেকর্ড অভ্যর্থনা ছবিটিকে উৎসবের অন্যতম আলোচিত চলচ্চিত্রে পরিণত করে। একপর্যায়ে এমন আলোচনাও শুরু হয়েছিল, ছবিটি ভেনিসের সর্বোচ্চ পুরস্কার গোল্ডেন লায়ন জিততে পারে কি না। শেষ পর্যন্ত সেই পুরস্কার যায় মে এল-তুখির ‘ওম্যান আননোন’-এর হাতে। ‘পসিবল লাভ’ পায় গ্র্যান্ড জুরি পুরস্কার, আর ‘নাজা’র হাতে ওঠে বিশেষ জুরি পুরস্কার।
‘নাজা’র পরবর্তী প্রদর্শনী হবে স্পেনের সান সেবাস্তিয়ান চলচ্চিত্র উৎসবে, ২৩ সেপ্টেম্বর এবং নিউইয়র্ক চলচ্চিত্র উৎসবে, ২৬ সেপ্টেম্বর। ছবিটির আন্তর্জাতিক বিক্রয়স্বত্ব দেখছে ফরাসি প্রতিষ্ঠান এমকে২ ফিল্মস।
এএফপি, দ্য টেলিগ্রাফ ও দ্য গার্ডিয়ান অবলম্বনে
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় খালাস পাওয়া এক নারীসহ আটজন গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি ও মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিট থেকে পর্যায়ক্রমে তারা কারাগার থেকে মুক্তি পান। বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মোঃ জাকির হোসেন। তিনি বলেন, মুক্তির যাবতীয় কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছালে তা যাচাই-বাছাই করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে তাদেরকে পর্যায়ক্রমে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। আরও পড়ুন নুসরাত হত্যা / খালাস পাওয়া ১০ আসামির নথি কারাগারে, মুক্তি পেলেন দুজন মুক্তিপ্রাপ্তরা হলেন মো. শামীম, হাফেজ আব্দুল কাদের, মহিউদ্দিন শাকিল, আফসার উদ্দিন, ইমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার উদ্দিন রানা, আব্দুর রহিম শরীফ এবং কামরুন্নাহার মনি। এসময় কামরুন্নাহার মনির সঙ্গে তার সাত বছরের মেয়ে মোবাশ্বেরা খানম রাথীও বের হয়। মুক্তির খবরে সকাল থেকেই তাদের আত্মীয়-স্বজন কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের মূল ফটকে অপেক্ষা করতে থাকেন। এসময় মুক্তিপ্রাপ্তরা তাদের আত্মীয়-স্বজনকে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে তারা পরিবারের সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে দেখা করে ফেনীর উদ্দেশে রওয়াা হন বলে পরিবার সূত্রে জানা যায়। মুক্তিপ্রাপ্ত ইফতেখারের মা হাজেরা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেকে মিথ্যা মামলায় ফাসানো হয়েছিল। আল্লাহর কাছে লাখো কোটি শুকরিয়া আমার ছেলেকে বুকে ফিরে পেয়েছি।’ শিহাব খান/এসআর/জেআইএম
গত সপ্তাহে ‘অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১২’ ও ‘অ্যাপল ওয়াচ আলট্রা ৪’ মডেলের নতুন দুটি স্মার্ট ঘড়ি উন্মোচন করেছে অ্যাপল। দুটি মডেলের স্মার্ট ঘড়িতেই স্বাস্থ্য ও ফিটনেস–সংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধার পাশাপাশি যুক্ত করা হয়েছে ‘অডিও ইন্টেলিজেন্স’ নামের নতুন প্রযুক্তি। এ প্রযুক্তির আওতায় ‘সিরি রিক্যাপস’ নামের একটি সুবিধা অ্যাপল ওয়াচ ব্যবহারকারীদের কথোপকথন শুনে মনে রাখতে পারে। তাই সুবিধাটি সার্বক্ষণিক ব্যবহারকারীদের কথা শুনবে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই।অ্যাপল জানিয়েছে, অডিও ইন্টেলিজেন্স সুবিধাটি ব্যবহারকারীদের পাশাপাশি আশপাশের মানুষের গোপনীয়তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে। এর অডিও ইন্টেলিজেন্স কোনো অডিও সংরক্ষণ করে না। অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১২–এর এস১১ চিপে থাকা ‘সিকিউর এক্সক্লেভ’ নামের আলাদা হার্ডওয়্যার অংশে অডিও প্রক্রিয়াজাত করা হয়। প্রক্রিয়া শেষ হলে ধারণ করা অডিও তৎক্ষণাৎ মুছে ফেলা হয়। ফলে অ্যাপল, অপারেটিং সিস্টেম, কোনো অ্যাপ বা ব্যবহারকারীও ধারণ করা অডিও শুনতে পারবেন না। সিরি রিক্যাপসও সব সময় চালু থাকে না। ব্যবহারকারীরা চালু করলেই কেবল সুবিধাটি কাজ করবে। ফলে নির্দিষ্ট সময় বা অবস্থানের ভিত্তিতে সুবিধাটি চালু রাখা যাবে। আবার প্রয়োজন শেষে যেকোনো সময় বন্ধ করা যাবে।অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১২অ্যাপলের তথ্যমতে, সিরি রিক্যাপস চালু করলে অ্যাপল ওয়াচের মাইক্রোফোনের মাধ্যমে কথোপকথনের অডিও প্রক্রিয়াজাত করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তার সংক্ষিপ্ত সারাংশ তৈরি করা হবে। কথোপকথন শেষ হওয়ার পর সিরি অ্যাপে সেই আলোচনার একটি শিরোনাম ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো দেখানো হবে। ফলে ব্যবহারকারী পরে গুরুত্বপূর্ণ কোনো কথা বা আলোচনার বিষয় সহজে মনে করতে পারবেন। নিয়মিত সভায় অংশ নিতে হয় এমন ব্যক্তিদের জন্য সুবিধাটি বেশ কার্যকর হতে পারে। সভার সময় আলাদা করে নোট নেওয়ার পরিবর্তে পরে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো দেখে নেওয়া যাবে।সিরি রিক্যাপস মূলত কথোপকথনের বিস্তারিত তথ্যের বদলে আলোচনার মূল বিষয়গুলো সংক্ষেপে তুলে ধরবে। অ্যাপলের দাবি, আর্থিক তথ্য, সরকারি পরিচয়পত্রের তথ্য, ভেরিফিকেশন–সংক্রান্ত তথ্যসহ কিছু সংবেদনশীল তথ্য সারাংশ থেকে বাদ দেওয়ার জন্য প্রযুক্তিটি তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া কার কথা কে বলেছেন, তা আলাদাভাবে শনাক্ত বা উল্লেখ করা হয় না।অডিও ইন্টেলিজেন্সের আরেকটি সুবিধা হচ্ছে ‘লাইভ রিওয়াইন্ড’। অ্যাপল ওয়াচের ডিজিটাল ক্রাউনে দুবার চাপ দিলে আগের ১৫ সেকেন্ডের কথোপকথনের একটি ছোট লিখিত অংশ দেখা যাবে। ফলে কথোপকথনের কোনো অংশ ঠিকমতো শোনা না হলে সেটি আবার শোনার সুযোগ মিলবে। লাইভ রিওয়াইন্ড চালু হলে আশপাশের মানুষকে শব্দের মাধ্যমে সতর্ক করা হবে। একই সঙ্গে অ্যাপল ওয়াচের পর্দায় অ্যানিমেশন ও মাইক্রোফোনের নির্দেশক দেখা যাবে।সূত্র: টেকরাডার
পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে ‘কোডিং পদ্ধতি’ চালু করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। এ পদ্ধতিতে পরীক্ষকের কাছে উত্তরপত্র যাওয়ার সময় পরীক্ষার্থীর নাম, রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর থাকবে না। খাতা দেখার সময় পরীক্ষার্থী সম্পর্কে কোনো পরিচয় জানতে পারবেন না পরীক্ষক।প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি বিভাগে এ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগে এটি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সম্মেলনকক্ষে ছয়টি বিভাগের প্রতিনিধিদের কাছে কোডিং পদ্ধতি বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় উপকরণ হস্তান্তর করা হয়। সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) মো. আব্দুল আলিম ও সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) মামুনুর রশীদ এসব উপকরণ হস্তান্তর করেন।মামুনুর রশীদ বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন, ফলাফলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং পক্ষপাতের সুযোগ বন্ধ করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের প্রথম সেমিস্টার থেকে এ পদ্ধতি কার্যকর হবে।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কোডিং পদ্ধতিতে পরীক্ষার উত্তরপত্রের মলাটে দুটি পৃথক অংশ থাকবে। এক অংশে পরীক্ষার্থীর নাম, রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরসহ ব্যক্তিগত তথ্য থাকবে। অন্য অংশে থাকবে একটি নির্দিষ্ট কোড নম্বর। পরীক্ষকের কাছে উত্তরপত্র দেওয়ার আগে ব্যক্তিগত তথ্যের অংশটি আলাদা করে রাখা হবে। পরীক্ষক শুধু কোড নম্বরযুক্ত উত্তরপত্র পাবেন। উত্তরপত্র মূল্যায়ন শেষে কোডের সঙ্গে সংরক্ষিত ব্যক্তিগত তথ্যের অংশ মিলিয়ে শিক্ষার্থীর প্রাপ্ত নম্বর নির্ধারণ করা হবে। এরপর নম্বরপত্র তৈরি করে ফলাফল প্রকাশ করা হবে।প্রথম পর্যায়ে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজকর্ম, পরিসংখ্যান ও উপাত্ত বিজ্ঞান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে এ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগকে এর আওতায় আনা হবে।