গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘নাজা’ পেয়েছে বিশেষ জুরি পুরস্কার। পুরস্কার নেওয়ার সময় নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম বললেন, ‘বাস্তবতার দিকে না তাকানোর জন্য অনেক কিছুই করা হচ্ছে।’
ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে এবার সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দেওয়া ছবিগুলোর একটি ‘নাজা’। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান, বেসামরিক মানুষ হত্যার অভিযোগ এবং সেই প্রক্রিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের নানা দিক নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্রটি শেষ পর্যন্ত পেয়েছে উৎসবের বিশেষ জুরি পুরস্কার। ইসরায়েলি নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও র্যাচেল সোরের ছবিটি পুরস্কার পাওয়ার পাশাপাশি ভেনিসে গড়েছে অভ্যর্থনার নতুন রেকর্ড।
১০ সেপ্টেম্বর ভেনিসে ‘নাজা’র প্রিমিয়ারের পর দর্শকেরা প্রায় ২৫ মিনিট দাঁড়িয়ে করতালি দেন। এটিই ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের ইতিহাসে দীর্ঘতম রেকর্ড করা স্ট্যান্ডিং ওভেশন। এর আগে এই রেকর্ড ছিল গত বছর ভেনিসে প্রদর্শিত ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রজব’-এর দখলে। গাজায় পাঁচ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রাজাবের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নির্মিত ছবিটি পেয়েছিল প্রায় ২৩ মিনিটের স্ট্যান্ডিং ওভেশন।
‘নাজা’র প্রিমিয়ারে নির্মাতা আব্রাহাম ও র্যাচেল সোরকে ঘিরে দর্শকদের উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি অনেকের হাতে ছিল ফিলিস্তিনি পতাকা। ছবিটির নির্বাহী প্রযোজক, অস্কারজয়ী নির্মাতা জোনাথন গ্লেজারও প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি দুই নির্মাতাকে আলিঙ্গন করেন।
পুরস্কার পাওয়ার পর যা বললেন নির্মাতা
ভেনিসের সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ জুরি পুরস্কার হাতে নিয়ে আব্রাহামের কণ্ঠে ছিল আবেগ ও ক্ষোভ। তিনি বলেন, ছবিটি নিয়ে ইসরায়েলের রাজনীতিক ও সাংবাদিকদের আক্রমণ এবং ছবিটি না দেখেই সেটিকে অস্বীকার করার বিষয়টি তাঁর জন্য সহজ নয়।
‘বাস্তবতার দিকে না তাকানোর জন্য অনেক কিছুই করা হচ্ছে’-পুরস্কার গ্রহণের সময় এমন মন্তব্য করেন আব্রাহাম।
আব্রাহাম ও র্যাচেল সোরের দাবি, ছবিটিতে যে অভিযোগ ও সাক্ষ্য তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলো এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ‘নাজা’ মুক্তির পরদিন ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ছবিতে উত্থাপিত অভিযোগগুলো ‘সম্পূর্ণভাবে’ অস্বীকার করেছে।
পুরস্কার নিতে মঞ্চে উঠে ইউভাল আব্রাহাম বলেন, ‘এখানে দাঁড়িয়ে এই পুরস্কার নেওয়া সত্যিই সহজ নয়। কারণ, আমি ভাবছি, ইসরায়েলের রাজনীতিক ও দেশের সাংবাদিকদের কথা, যাঁরা ছবিটি না দেখেই এখন এর বিরুদ্ধে আক্রমণ করছেন, ছবিটির বক্তব্য অস্বীকার করছেন।’
এরপর আরও তীব্র হয়ে ওঠে তাঁর বক্তব্য। আব্রাহাম বলেন, ‘বাস্তবতার দিকে না তাকানোর জন্য অনেক কিছুই করা হচ্ছে। এই উৎসব শুরুর পর মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই গাজায় ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ছয় ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে। বোমা হামলার শিকার একটি স্কুলে মারা গেছে তিন বছরের এক শিশু, বাবার সঙ্গে গাড়িতে থাকা অবস্থায় নিহত হয়েছে সাত বছরের আরেক শিশু, আর দুই বোন মারা গেছে নিজেদের ঘরে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায়।’

ছবিটির জন্য যেসব ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে, তাঁদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে আব্রাহাম বলেন, গাজায় ব্যাপক হত্যাকাণ্ড কোনো দুর্ঘটনা নয়; বরং এটি একটি পরিকল্পিত ও পদ্ধতিগত প্রক্রিয়ার অংশ। তাঁর ভাষায়, ফিলিস্তিনিদের ‘সম্পূর্ণ অমানবিক’ হিসেবে দেখার মানসিকতা থেকেই এসব কর্মকাণ্ড ও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে বলে ওই কর্মকর্তারা তাঁদের জানিয়েছেন।
আব্রাহাম আরও বলেন, ‘একটি বিষয় আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, এই সত্যের প্রমাণ শুরু থেকেই নথিবদ্ধ হয়েছে। ফিলিস্তিনি সাংবাদিকেরা তা বিশ্বকে জানিয়েছেন। গাজায় ইসরায়েলি হামলায় দুই শর বেশি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন; তাঁদের কণ্ঠ স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে, তাঁদের বক্তব্য অস্বীকার করা হয়েছে।’
আব্রাহামের মতে, কোনো অপরাধ অস্বীকার করাই সেই অপরাধকে টিকে থাকার সুযোগ করে দেয়। সে কারণেই তিনি চান ইসরায়েলিরা ‘নাজা’ দেখুন। একই সঙ্গে ইতালির দর্শকদেরও ছবিটি দেখার আহ্বান জানান তিনি। আব্রাহামের অভিযোগ, ইতালি ও জার্মানির সরকার ইসরায়েলের ওপর এমন চাপ তৈরির পথে বাধা দিচ্ছে, যা এই পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের দর্শকদেরও ছবিটি দেখার আহ্বান জানান তিনি। কারণ তাঁর দাবি, গাজায় চলমান হত্যাকাণ্ডের বড় একটি অংশের অর্থায়ন করছে যুক্তরাষ্ট্র। বক্তব্যের শেষে ছবিটির প্রযোজকদের ধন্যবাদ জানান আব্রাহাম।

২৪ ইসরায়েলি সেনা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তার সাক্ষ্য
প্রায় তিন বছর ধরে অনুসন্ধান করে তৈরি হয়েছে ৮০ মিনিটের ‘নাজা’। ছবিতে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা বিভাগের ২৪ জন সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা, সেনা এবং অভ্যন্তরীণ সূত্রের। নিরাপত্তার কারণে তাঁদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। তেল আবিবের বিভিন্ন ছাদে রাতের আঁধারে তাঁদের সাক্ষাৎকার ধারণ করা হয়। পরে তাঁদের মুখ ও কণ্ঠ ডিজিটালি পরিবর্তন করা হয়েছে।
ছবির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এআই-সহায়িত লক্ষ্য নির্ধারণ ব্যবস্থা। ‘নাজা’–তে ল্যাভেন্ডার নামে একটি এআইনির্ভর ব্যবস্থার কথা উঠে এসেছে, যা গাজার টেলিযোগাযোগ ও নজরদারি থেকে সংগৃহীত তথ্য ব্যবহার করে সম্ভাব্য লক্ষ্য শনাক্ত করতে পারে বলে সাক্ষাৎকারদাতারা দাবি করেছেন।
নির্মাতারা দেখাতে চেয়েছেন, প্রযুক্তির মাধ্যমে কীভাবে বিপুলসংখ্যক লক্ষ্য দ্রুত শনাক্ত ও হামলার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। ছবিতে এক সাক্ষাৎকারদাতা এই প্রক্রিয়াকে ‘কারখানার মতো’ বলে বর্ণনা করেছেন। আরেকজন বলেছেন, দূর থেকে লক্ষ্য নির্ধারণের পুরো বিষয়টি অনেকটা ‘ভিডিও গেমের মতো’ মনে হতো।
‘নাজা’ নামের অর্থ কী?
ছবির নামটিও এসেছে ইসরায়েলি সামরিক ও গোয়েন্দা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত একটি শব্দ থেকে। ‘নাজা’ এমন একটি সংক্ষিপ্ত রূপ, যার মাধ্যমে কোনো বিমান হামলায় সম্ভাব্য বেসামরিক প্রাণহানির সংখ্যা বোঝানো হয় বলে ছবিতে দাবি করা হয়েছে।
অর্থাৎ যেসব মানুষ হামলার সরাসরি লক্ষ্য নন, কিন্তু হামলায় মারা যেতে পারেন; তাঁদের সম্ভাব্য সংখ্যা আগেই হিসাবের মধ্যে রাখার একটি ধারণার সঙ্গে শব্দটি যুক্ত।
এই ধারণাকেই ছবির নির্মাতারা তাঁদের অনুসন্ধানের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, গাজায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানিকে কেবল অনিচ্ছাকৃত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখলে পুরো ব্যবস্থাটিকে বোঝা যাবে না; বরং কীভাবে লক্ষ্য নির্ধারণ ও হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেটিই খতিয়ে দেখা জরুরি।
‘নো আদার ল্যান্ড’-এর পর আবার গাজা
ইউভাল আব্রাহাম ও র্যাচেল সোরের নাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে আগে থেকেই পরিচিত। তাঁরা ২০২৫ সালে অস্কারজয়ী তথ্যচিত্র ‘নো আদার ল্যান্ড’-এর সহনির্মাতা। বাসেল আদরা ও হামদান বাল্লালের সঙ্গে তৈরি সেই ছবিতে পশ্চিম তীরের মাসাফের ইয়াত্তায় ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর উচ্ছেদ ও ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা তুলে ধরা হয়েছিল।
‘নাজা’ সেই কাজেরই যেন আরও বিস্তৃত ও অনুসন্ধানী পর্ব। তবে এবার ক্যামেরা শুধু ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দিকে তাকায়নি; বরং যুদ্ধ পরিচালনার ব্যবস্থার ভেতরের মানুষদেরও কথা বলিয়েছে।
ছবিটি প্রযোজনা করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। প্রযোজক জেমস উইলসন এবং নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে আছেন ‘জোনাথন গ্লেজার-দ্য জোন অব ইন্টারেস্ট’-এর অস্কারজয়ী নির্মাতা।

পুরস্কারের আগে থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে
ভেনিসে ‘নাজা’র গুরুত্ব অবশ্য শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। প্রদর্শনীর পর সমালোচকদের প্রতিক্রিয়াও ছিল তীব্র। প্রায় ২৫ মিনিটের রেকর্ড অভ্যর্থনা ছবিটিকে উৎসবের অন্যতম আলোচিত চলচ্চিত্রে পরিণত করে। একপর্যায়ে এমন আলোচনাও শুরু হয়েছিল, ছবিটি ভেনিসের সর্বোচ্চ পুরস্কার গোল্ডেন লায়ন জিততে পারে কি না। শেষ পর্যন্ত সেই পুরস্কার যায় মে এল-তুখির ‘ওম্যান আননোন’-এর হাতে। ‘পসিবল লাভ’ পায় গ্র্যান্ড জুরি পুরস্কার, আর ‘নাজা’র হাতে ওঠে বিশেষ জুরি পুরস্কার।
‘নাজা’র পরবর্তী প্রদর্শনী হবে স্পেনের সান সেবাস্তিয়ান চলচ্চিত্র উৎসবে, ২৩ সেপ্টেম্বর এবং নিউইয়র্ক চলচ্চিত্র উৎসবে, ২৬ সেপ্টেম্বর। ছবিটির আন্তর্জাতিক বিক্রয়স্বত্ব দেখছে ফরাসি প্রতিষ্ঠান এমকে২ ফিল্মস।
এএফপি, দ্য টেলিগ্রাফ ও দ্য গার্ডিয়ান অবলম্বনে
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।
এইচএসসি পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের জন্য আগামী ২ ডিসেম্বর থেকে সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা নেওয়ার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি। এ পরীক্ষার ফল ৩১ ডিসেম্বর প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
সারা দেশের মতো ময়মনসিংহেও নির্ধারিত সময়ে প্রকাশ করা হয়েছে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফল। তবে, ফল প্রকাশের দিনেও নগরীর কলেজ ক্যাম্পাসগুলোতে দেখা যায়নি চিরচেনা উৎসব। শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস, বন্ধুদের সঙ্গে ফল জানার অপেক্ষা কিংবা আনন্দ-হতাশা ভাগাভাগির সেই দৃশ্য যেন হারিয়ে যাচ্ছে সময়ের ব্যবধানে। প্রযুক্তির কল্যাণে ঘরে বসেই ফল জানার সুযোগ তৈরি হওয়ায় বদলে গেছে ফল প্রকাশের দিনের চেনা চিত্র।
ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা।