গত ১৪ বছরে মামলা ১৩৪৫টি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নেই
প্রকৃত অপরাধীদের ধরতে মানি লন্ডারিং আইনে মামলার প্রস্তাব বিশেষজ্ঞদের
সোনা চোরাচালানের নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে চলেছে বাংলাদেশে। এ কারবারের নেপথ্যের নায়ক বা ‘গডফাদাররা’ সবার নাকের ডগায় একে প্রায় শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন।
কিন্তু সোনা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত মূল ‘কারিগররা’ পর্দার অন্তরালে ঠিকই বহাল তবিয়তে। ধরা পড়ছেন ‘চুনোপুঁটি’র মতো সাধারণ বাহকরা। আটক হয়, মামলা হয় কিন্তু বড় কোনো শাস্তি নেই। ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে কোনো একটি চালান ধরা পড়লেও নেপথ্যের নায়করা পেছন থেকে আরো ১০টি চালান ঠিকই ঢুকিয়ে দিচ্ছেন বিনা বাধায়।
জানা যায়, গত ১৪ বছরে স্বর্ণ চোরাচালানের ঘটনায় এক হাজার ৩৪৫টি মামলা হয়েছে। কিন্তু দুর্বল আইনের কারণে একটিরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়নি। এমনকি ‘গডফাদাররা’ও সামনে আসেননি। ফলে থামছে না সোনা চোরাচালানের বেপরোয়া সিন্ডিকেট।
মামলার এজাহার, চার্জশিট (অভিযোগপত্র), সাক্ষীদের জবানবন্দি ও রায় পর্যালোচনায় দেখা যায়, স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িত ‘ক্যারিয়ার’ বা বাহককে গ্রেপ্তার করা হলেও মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে। এর প্রধান কারণ হলো—উপযুক্ত আইনে মামলা না করা। স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় যেখানে ‘মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে’ মামলা হওয়ার কথা, সেখানে মামলা হচ্ছে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে। আর বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা এসব মামলায় চোরাচালানকৃত স্বর্ণের উৎস খুঁজে বের করা তথা দেশ-বিদেশে থাকা সম্পৃক্ত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা প্রায় অসম্ভব। গত ১৪ বছরে স্বর্ণ চোরাচালানের ঘটনায় যেসব মামলা হয়েছে, এর প্রতিটি মামলাই মানি লন্ডারিং আইনে না করে ১৯৪৭ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা হয়েছে।
মানি লন্ডারিং আইনের মামলা হলে ‘টাকার উৎস’ খুঁজে গডফাদারদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
শুধু দুর্বল মামলাই নয়, এসব মামলার তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমও চলছে ধীরগতিতে। ত্রুটিপূর্ণ এজাহার, জব্দ তালিকায় গরমিল, উল্টো সাক্ষী দেওয়া ও উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশসহ নানা কারণে মামলার তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আর বিচারের এই দীর্ঘসূত্রতার সুযোগে বেশির ভাগ আসামিই জামিনে মুক্তি পাচ্ছেন। ফলে জড়িতদের কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, স্বর্ণ চোরাচালান বিষয়টি একটি বিশেষায়িত খাত। চোরাচালান প্রতিরোধে প্রাধান্য দিতে হবে। অর্থের মোহে না পড়ে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। প্রতিটি কাজেই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি সৃষ্টি হলেই স্বর্ণ চোরাচালান রোধ করা সম্ভব হবে। মামলার সঠিক তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচারের মাধ্যমে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা নিশ্চিত করতে হবে।
সাবেক জেলা জজ মো. মঈদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, স্বর্ণ চোরাচালান মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তারা শুধু ‘ক্যারিয়ার’ বা বাহকের কাছ থেকে যে পরিমাণ স্বর্ণ উদ্ধার করেন তা খুবই সামান্য। আর এটি দৃশ্যমান যে বাহকরা কোথা থেকে স্বর্ণ এনেছেন—সেই উৎসর দিকে তদন্ত কর্মকর্তারা অজ্ঞাত কারণে যান না। মামলার তদন্ত কার্যক্রম বিলম্বের দায় তদন্তকারী ও তদারককারী কর্মকর্তার। মামলায় ভালো ফলাফল পেতে হলে তদারককারী কর্মকর্তাদের শক্ত ভূমিকা পালন করতে হবে। তদারককারী কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুসারে তদন্তকারী কর্মকর্তারা স্বর্ণ চোরাচালানের উৎসর দিকে যেতে পারবেন। সাধারণত দীর্ঘদিন পর এসব মামলার চার্জশিট হয়ে থাকে। তখন আরো অনেক দেরি হয়ে যায়। প্রায় সব ক্ষেত্রেই শুধু বহনকারীকে আসামি করে এবং চোরাচালানের উৎসর সন্ধান না করেই চার্জশিট দেওয়া হয়। সে ক্ষেত্রে বিচারক চার্জশিট গ্রহণ না করে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিলেও খুব বেশি ফল হবে না। যদিও এমন নির্দেশনাও খুব একটা দেখা যায় না।
সাবেক এই জেলা জজ আরো বলেন, ‘আমাদের দেশের তদন্তকারী কর্মকর্তারা মামলার তদন্তের ক্ষেত্রে শুধু বাংলাদেশে জড়িতদের নিয়েই তদন্তে ব্যস্ত থাকেন। বিদেশি যারা জড়িত, তাদের তদন্তে যুক্ত করা হয় না। চোরাচালান মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সম্পৃক্ত একটি অপরাধ। তদন্তকারী কর্মকর্তারা চাইলে স্বর্ণ চোরাচালানের মামলাগুলো মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় এনে তদন্ত করা সম্ভব। এতে করে অর্থপাচারের বিষয়গুলো আরো গুরুত্ব পাবে। আন্তর্জাতিক এই ক্রাইমে জড়িত ক্যারিয়ার থেকে স্বর্ণ ইনপুটকারী প্রতিটি চক্রকে আইনের আওতায় আনতে হবে। স্বর্ণের সাপ্লাইয়ারকে ধরতে হবে। সাপ্লাইয়ারকে ধরতে না পারলে এই চোরাচালান বন্ধ করা সম্ভব নয়।
স্বর্ণ চোরাচালানের পরিসংখ্যান : ঢাকা কাস্টম হাউসের তথ্যানুযায়ী, গত ১৪ বছরে স্বর্ণ চোরাচালানের ঘটনায় এক হাজার ৩৪৫টি মামলা হয়েছে। প্রতিটি মামলাই মানি লন্ডারিং আইনে না করে ১৯৪৭ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা হয়েছে।
ঢাকা কাস্টম হাউসের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ৬৯৮ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫৫৫ কেজি, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪১৭ কেজি এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৬৯ কেজি স্বর্ণ জব্দ করা হয়েছে। আর চলতি বছরের এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৬৩ কেজি স্বর্ণ জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ২০২১ সাল থেকে চলতি বছরের এ পর্যন্ত ৫৪০টি মামলা করা হয়েছে। অন্য একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৩ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সময়ে ঢাকা কাস্টম হাউস থেকে ৮০৫টি ফৌজদারি মামলা করা হয়। এর মধ্যে ২০১৩ সালে ২৭টি, ২০১৪ সালে ১২০টি, ২০১৫ সালে ৯৩টি, ২০১৬ সালে ৫০টি, ২০১৭ সালে ৬২টি, ২০১৮ সালে ১১০টি, ২০১৯ সালে ৭৭টি, ২০২০ সালে ৩২টি, ২০২১ সালে ১০৫টি ও ২০২২ সালে ১২৯টি মামলা রয়েছে। প্রতিটি মামলাই ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা হয়েছে। একটি মামলাও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে করা হয়নি।
মামলার তদন্ত ও বিচারে ধীরগতি : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত ১০ বছরে যেমন চোরাচালানের প্রচুর স্বর্ণ আটক করেছে ঢাকা কাস্টম হাউস, তেমনি এসব ঘটনায় থানায় হওয়া মামলাগুলোর প্রায় আসামিই জামিন পেয়েছেন। গত ১০ বছরে করা ঢাকা কাস্টম হাউস চোরাকারবারিদের হাতেনাতে আটক করে থানায় সোপর্দ করে। এই সময় বড় চালানের দিক থেকে অন্তত ৪৬টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ মামলায় আসামিরা কারাগারে আছেন। বাকি ৩৫টি মামলায় আসামিরা জামিনে আছেন। রায় হয়েছে একটি মামলায়। এ ছাড়া বাকি ৪৫টি মামলার মধ্যে ১১টি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। বাকি মামলাগুলো ঢাকা মহানগরের স্পেশাল ট্রাইব্যুনালগুলোতে বিচারাধীন রয়েছে।
মামলার নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২০২১ ও ২০২২ সালে ঢাকা কাস্টম হাউস উল্লেখযোগ্য স্বর্ণের ১২টি চোরাচালান আটক করে। এর মধ্যে ২০২২ সালের ২৪ মার্চ মো. তাজুল ইসলাম ছয় কেজি ৪৯২ গ্রাম, ১২ এপ্রিল মোহাম্মদ আরিফ ছয় কেজি ৮২৭ গ্রাম, ১৫ এপ্রিল মোহাম্মদ রাসেল এক কেজি ৩৩০ গ্রাম, ১৯ এপ্রিল শাহনাজ চৌধুরী ছয় কেজি ৮৪৪ গ্রাম, ১ মে পরিত্যক্ত অবস্থায় আট কেজি ১২০ গ্রাম ও ২৬ মে মোহাম্মদ আবদুল আজিজ আখন্দ আট কেজি ১২০ গ্রাম স্বর্ণসহ আটক হন। এর মধ্যে একটি মামলায় কোনো আসামি আটক নেই। বাকি পাঁচ মামলায় আসামিরা কারাগারে আছেন।
২০২১ সালের ২৪ জানুয়ারি সরোয়ার উদ্দিন সাত কেজি ২৯০ গ্রাম, ৪ মার্চ মো. আবুল খায়ের পাঁচ কেজি ২২০ গ্রাম, ১ মে মোমেনুর রহমান ও মো. নজরুল ফরাজী তিন কেজি ৪০০ গ্রাম, ১ মে জয়নাল আবেদীন দুই কেজি ৮১৭ গ্রাম, ১৮ জুলাই রাকিবুল হাসান ছয় কেজি দশমিক ৩২ গ্রাম ও ২৭ জুলাই মহিন উদ্দিন চার কেজি ২৯২ গ্রাম স্বর্ণসহ আটক হন। এই ছয় মামলার মধ্যে সরোয়ার উদ্দিনের মামলায় আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। বাকি মামলাগুলো তদন্তাধীন। এ ছাড়া মামলাগুলোর মধ্যে শুধু মহিন উদ্দিন জামিনে আছেন। বাকি আসামিরা কারাগারে।
২০২০ সালের ১১ জানুয়ারি পরিত্যক্ত এক কেজি ১৬০ গ্রাম, ৩ মার্চ আবু সালেহ মুসা এক কেজি ৮৫০ গ্রাম, ১৮ জুলাই মোহাম্মদ জসিম এক কেজি ৮৫০ গ্রাম, ২৩ অক্টোবর পরিত্যক্ত সাত কেজি ৮৮৮ গ্রাম, ২২ নভেম্বর মোহাম্মদ জাভেদ এক কেজি ৪২৩ গ্রাম ও ২৮ ডিসেম্বর পরিত্যক্ত দুই কেজি ৫৫২ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার হয়। এসব ঘটনায় করা ছয়টি মামলার মধ্যে একটি মামলা তদন্তাধীন ও বাকি পাঁচটি মামলা ঢাকা মহানগরের বিশেষ ট্রাইব্যুনালগুলোতে বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলায় আসামিরা জামিনে আছেন।
২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি মাসুদ খান দুই কেজি ৮৯ গ্রাম, ২ মার্চ আব্দুল আউয়াল দুই কেজি ৩৯০ গ্রাম, ১৩ মার্চ চীনা নাগরিক চেন জিফা পাঁচ কেজি ৫৬৮ গ্রাম, ৩০ এপ্রিল ভারতীয় নাগরিক মোহাম্মদ আমির খান তিন কেজি ২০০ গ্রাম, ৮ আগস্ট জাপানি নাগরিক সুচি সাৎও পাঁচ কেজি ৯৯৮ গ্রাম ও ৩ ডিসেম্বর হিমেল খান আট কেজি ৯৯৪ গ্রাম স্বর্ণসহ আটক হন। এসব ঘটনায় করা ছয়টি মামলায়ই আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। বিচারাধীন এসব মামলায় আসামিরা জামিনে আছেন।
২০১৮ সালের ৯ জানুয়ারি লাকি আক্তার দুই কেজি ৭৮৫ গ্রাম, ১৩ জানুয়ারি জাপানি নাগরিক কেঙ্গু শিবাতা ১০ কেজি ৯৫৬ গ্রাম, ২৫ জানুয়ারি মোস্তফা কামাল চার কেজি ৬৪০ গ্রাম, ২৭ জানুয়ারি মোহাম্মদ আবু তাহের এক কেজি ১৬০ গ্রাম, ৩০ জানুয়ারি মোহাম্মদ বাসেদ দুই কেজি ৪৪০ গ্রাম স্বর্ণসহ আটক হন। এসব ঘটনায় করা পাঁচটি মামলায় এরই মধ্যে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। মামলাগুলো বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলায় আসামিরা জামিনে আছেন।
২০১৭ সালের ৬ মার্চ নবাব সলিমুল্লাহ ৮৮৪ গ্রাম, ২৬ অক্টোবর ইউসুফ চৌধুরী ৩৩০ গ্রাম, ১০ ডিসেম্বর মো. মাহাবুবুল ইসলাম ও ভূঁইয়া মাহফুজ ৫৫৩ গ্রাম, ৩ নভেম্বর পঙ্কজ দে ৩৪৪ গ্রাম ও ৮ নভেম্বর মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান ৪৬৪ গ্রাম স্বর্ণসহ আটক হন। এসব ঘটনায় করা প্রতিটি মামলায় আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। বিচারাধীন মামলাগুলোয় আাাসামিরা জামিনে আছেন।
২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি মজিব সরকার এক কেজি ৩৭০ গ্রাম, ২৩ এপ্রিল মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন ৫৭৬ গ্রাম, ২৫ এপ্রিল মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান তিন কেজি ৫০০ গ্রাম, ১৪ মে মোহাম্মদ আবু বক্কর ৯৩২ গ্রাম ও ১৭ অক্টোবর মো. মোর্শেদ হোসেন এক কেজি ৩৭ গ্রাম স্বর্ণসহ আটক হন। মামলাগুলোর মধ্যে জামিনে গিয়ে পলাতক মজিব সরকারের মামলায় রায় ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি মামলাগুলো তদন্তাধীন। এসব মামলায় আসামিরা জামিনে আছেন।
২০১৫ সালের ৯ এপ্রিল মো. শাকায়েত উল্লাহ, ৭ সেপ্টেম্বর নান্না লাল মজুমদার, ১৬ নভেম্বর মো. হুমায়ুন কবির, ২৭ নভেম্বর আব্দুল আউয়াল ৫৯৪ গ্রাম, ২৪ নভেম্বর মো. সায়েম খান ও ৬ ডিসেম্বর পরিত্যক্ত স্থান থেকে স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় করা ছয়টি মামলার সবটির চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। মামলাগুলো বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলায় আসামিরা জামিনে আছেন।
২০১৪ সালের ৫ জুলাই মো. রফিকুল ইসলাম, ৬ জুলাই মোতাহার হোসেন, ৮ জুলাই আলাউদ্দিন ৫৪ পিস স্বর্ণের বার, ৬ নভেম্বর মোহাম্মদ মামুন ৪৯৪ গ্রাম, ১১ নভেম্বর মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ ৫০০ গ্রাম ও একই দিন মো. আব্দুল আজিজ তিন কেজি ১০৫ গ্রাম স্বর্ণসহ আটক হন। চার্জশিট হওয়া এসব মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। আসামিরা জামিনে আছেন।
২০১৩ সালের ১২ এপ্রিল খাদিজা আক্তার ১৫০ ভরি, ৪ মে মো. আব্দুর রউফ ১৯৬ গ্রাম ১৪ মে অন্য একটি, ৯ জুন গোলাম রব্বানী ও শহিদুল হক এবং ১৫ ডিসেম্বর মো. শহিদুল্লাহ দুই কেজি ৪৪৭ গ্রাম স্বর্ণসহ আটক হন। মামলাগুলো বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলায় আসামিরা জামিনে আছেন।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
সরকারি সেবা ও প্রশাসনে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে দুর্নীতি বিরোধী কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) অনুষ্ঠিত বর্তমান সরকারের প্রথম সচিব সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টায় সচিবালয়ে শুরু হয় সচিব সভা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠক শেষ হয় সন্ধ্যা ৬টার দিকে। এতে অন্তত ৬১ জন সচিব অংশ নেন। বৈঠকে অংশ নেওয়া এক সচিব জানিয়েছেন, বৈঠকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব তা গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে দুদককে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, শিগগির মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠাবে দুদক। এরপর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হবে। কমিটিগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও দুদকের পক্ষ থেকে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। আরও পড়ুন ১৭ বছর যে যেই পদে ছিলেন সবাই পালিয়েছেন: স্পিকার গত ১৩ সেপ্টেম্বর ভোলায় নির্বাচনী এলাকায় এক বক্তব্যে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমাদের...অদ্ভুত দেশ! অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর। এগুলো নানা ধরনের ঘুসখোরি, লুটপাট এসব করে; যার ফলে মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে।’ এরপরে প্রশাসনে কর্মকর্তাকে দুর্নীতির বিষয়টি বেশ আলোচনার জন্ম দেয়। এই বিষয়টি সচিব সভায়ও উঠে আসে। কোনো কোনো সচিব মত দেন- বর্তমান বাস্তবতায় প্রশাসনে দুর্নীতির এ ধারণা অনেকের মধ্যেই আছে। এই বিষয়টিকে বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। সচিব সভায় সরকারি চাকরির শূন্যপদ দ্রুত পূরণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার জন্য সচিবদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যেন কোনো বিতর্ক তৈরি না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সরকারি অফিসগুলোতে সোলার প্যানেল স্থাপনের ক্ষেত্রে সচিবদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও সভা সূত্রে জানা গেছে। সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জাগো নিউজকে বলেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিবদের এ বৈঠকটি মূলত অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয়ে তাগিদ দেওয়ার জন্য করা হয়েছে। কীভাবে কাজের দক্ষতা আরও বাড়ানো যায়, কোন কাজ কীভাবে করতে হবে- সেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আরও পড়ুন উৎপাদন আংশিক বন্ধ ৭৮ শতাংশ কারখানায়, ক্রয়াদেশ কমেছে ৫৫ শতাংশের তিনি বলেন, সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলো নিয়ে দপ্তরে সাধারণত কাঠামোবদ্ধভাবে আলোচনা হয়। তবে এ বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিদ্যুতের চলমান সমস্যা এবং পরদিন কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, কীভাবে সমস্যাগুলো মোকাবিলা করা যায়, সেসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সরাসরি নির্দেশনা দেওয়া। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রত্যেকের নিজ নিজ জেলার জন্য যে দায়িত্ব রয়েছে, সেসব বিষয়ে তাদের মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিতে বলা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে কী সমস্যা হচ্ছে, জনগণের সঙ্গে কথা বলে সেসব সমস্যা চিহ্নিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং সংস্কারের উপাদানগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাজ করতে বলা হয়েছে। এসব বিষয়ে কাজ করে পরবর্তী সময়ে জানাতে বলা হয়েছে, যাতে সবাই মিলে কাজের মান আরও উন্নত করতে পারে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় সাত মাসের মাথায় প্রথমবারের মতো সচিবদের নিয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হলো। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়। আরএমএম/কেএসআর
১১ সেপ্টেম্বর ইথিওপিয়ার মানুষ নতুন বছর উদ্যাপন করেছে। তবে সারা পৃথিবীতে যখন ২০২৬ সালে চলছে, তখন ইথিওপিয়ার ক্যালেন্ডার অনুযায়ী শুরু হয়েছে মাত্র ২০১৯ সাল।এমনটা শুনে প্রশ্ন উঠতেই পারে, আফ্রিকার দ্বিতীয় জনবহুল এই দেশটি কেন সারা বিশ্বের চেয়ে প্রায় ৭ বছর ৮ মাস পিছিয়ে আছে? আর আজকের এই আধুনিক ও ইন্টারনেটের দুনিয়ায় পুরো বিশ্ব একটি নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার মেনে চলে। সেখানে ইথিওপিয়ার মানুষ কীভাবে এ ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে?যুক্তরাষ্ট্রের কিশোর-কিশোরীদের কি বুদ্ধি কমে যাচ্ছেইথিওপিয়ার অদ্ভুত ক্যালেন্ডারইথিওপিয়ায় যিশুখ্রিস্টের জন্মের বছরটি ভিন্নভাবে হিসাব করা হয়। বিশ্বের প্রচলিত গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের চেয়ে তারা ৭ বছর পিছিয়ে হিসাব ধরে। ৫০০ সালে রোমান চার্চ তাদের বর্ষপঞ্জির হিসাব বদলে ফেলে। কিন্তু ইথিওপিয়ার চার্চ সেই পরিবর্তন মানেনি। তারা তাদের সনাতন নিয়মেই স্থির থাকে। সারা বিশ্ব নতুন ক্যালেন্ডার মেনে চলছে। কিন্তু ইথিওপিয়া এখনো তাদের হাজার বছরের প্রাচীন প্রথাকেই আঁকড়ে ধরে রেখেছে।অনেক ইথিওপিয়ানের মতে, তাদের এই ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিটি পাশ্চাত্য ক্যালেন্ডারের চেয়ে অনেক বেশি যৌক্তিকইথিওপিয়ায় পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত এশেতু গেতাচেউ বলেন, ‘আমরা একদম অনন্য। আফ্রিকা মহাদেশের অধিকাংশ দেশ ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে থাকলেও আমরা কখনো পরাধীন হইনি। তাই আমাদের নিজস্ব বর্ষপঞ্জি, নিজস্ব বর্ণমালা ও আলাদা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে।’প্রায় ১ হাজার ৫০০ বছরের পুরোনো এই ইথিওপিয়ান ক্যালেন্ডারটি সৌর ও চন্দ্রব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এটি মূলত ১৩ মাসের ক্যালেন্ডার। এর মধ্যে প্রথম ১২টি মাস ৩০ দিনের হয়, আর বছরের একেবারে শেষের ১৩ নম্বর মাসটি মাত্র পাঁচ দিনের ( অধিবর্ষে ৬ দিনের) হয়ে থাকে।তবে বৈশ্বিক যোগাযোগের খাতিরে সে দেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা স্কুলগুলোয় পাশ্চাত্য ক্যালেন্ডার মানা হয়। ফলে ইথিওপিয়ার মানুষকে একই সঙ্গে দুটি ক্যালেন্ডার ব্যবহার করতে হয়। প্রত্নতাত্ত্বিক গইটম ডব্লিউ টেকলে জানান, দুটি আলাদা বর্ষপঞ্জির বছর, মাস ও দিন মনে রেখে হিসাব মেলানো সত্যিই বেশ জটিল একটি বিষয়। জন্মসনদ থেকে শুরু করে প্রাত্যহিক নানা দাপ্তরিক কাজে এই ভিন্ন ক্যালেন্ডার প্রতিনিয়ত এক চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।মহাবিপর্যয় এলে পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ দেশ হবে কোনটিসারা বিশ্ব নতুন ক্যালেন্ডার মেনে চলছে। কিন্তু ইথিওপিয়া এখনো তাদের হাজার বছরের প্রাচীন প্রথাকেই আঁকড়ে ধরে রেখেছেতারিখ নিয়ে বিভ্রান্তি১১ সেপ্টেম্বর (লিপ ইয়ার বা অধিবর্ষে ১২ সেপ্টেম্বর) থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ইথিওপিয়ান ক্যালেন্ডার বিশ্বের মূল ক্যালেন্ডার থেকে ৭ বছর পিছিয়ে থাকে। আবার ১ জানুয়ারি থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই ব্যবধান বেড়ে ৮ বছর হয়ে যায়। তারিখের হিসাবে ইথিওপিয়ার দিনগুলো আন্তর্জাতিক সময়ের চেয়ে প্রায় ৯২ থেকে ৯৩ দিন পেছনে চলে। পুরো বিশ্ব যখন ১ জানুয়ারি নতুন বছর উদ্যাপন করে, ইথিওপিয়ায় তখনো তাদের ‘তাহসাস’ মাস চলতে থাকে।ইথিওপিয়ায় তারিখ মেলানো যে কতটা ঝামেলার, তার একটি সহজ উদাহরণ দেন ইতিহাসবিদ ভেরেনা ক্রেবস। ধরো, একটি তিন বছরের শিশুর জন্মসনদের জন্য স্থানীয় কার্যালয়ে ইথিওপিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আবেদন করলেন। এখন সেখানকার কর্মকর্তা যদি ভুল হিসাব করে পাশ্চাত্য ক্যালেন্ডারে হিসাব করেন, তবে সেই শিশুর একই জন্মদিনের তারিখ দুই বা তিনবারও বদলে যেতে পারে।তবে সে দেশের মানুষ বিষয়টিকে কোনো জটিল সমস্যা মনে করেন না। দিনের পর দিন দুটি ক্যালেন্ডার ব্যবহার করতে করতে সেখানকার অধিবাসীরা এর সঙ্গে একদম মানিয়ে নিয়েছেন। ফলে বিষয়টি বাইরের মানুষের কাছে বিস্ময়কর মনে হলেও তাদের কাছে খুব স্বাভাবিক।অবশ্য বিশ্বজুড়ে শুধু ইথিওপিয়াই যে আলাদা ক্যালেন্ডার মেনে চলে, তা কিন্তু নয়। প্রাচীন মিসরীয় ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বর্তমান সালটি পেরিয়েছে ৬ হাজার বছরেরও বেশি বছর। আবার সৌদি আরব ঐতিহ্যগতভাবে হিজরি ক্যালেন্ডার ব্যবহার করে আসছে। আমাদেরও বাংলা সনের ক্যালেন্ডার রয়েছে।তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে ইথিওপিয়ান ক্যালেন্ডারের প্রতি মানুষের কৌতূহল বেশ বাড়ছে। কারণ, পাশ্চাত্য ক্যালেন্ডারের খুব কাছাকাছি থাকা সত্ত্বেও এটি তার সম্পূর্ণ নিজস্ব ও স্বতন্ত্র একটি বৈশিষ্ট্য ধরে রাখতে পেরেছে।ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর দিন কি ঘনিয়ে আসছেতবে বৈশ্বিক যোগাযোগের খাতিরে সে দেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা স্কুলগুলোয় পাশ্চাত্য ক্যালেন্ডার মানা হয়ইথিওপিয়ানদের চোখে সময় গণনার যৌক্তিকতাঅনেক ইথিওপিয়ানের মতে, তাদের এই ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিটি পাশ্চাত্য ক্যালেন্ডারের চেয়ে অনেক বেশি যৌক্তিক। আমহারিক ভাষায় তাদের নতুন বছরকে বলা হয় ‘এনকুটাটাশ’। বর্ষার শেষে যখন ‘আদেয় আবেবা’ নামের স্থানীয় হলুদ ফুলে চারদিক ভরে যায়, ঠিক তখনই ইথিওপিয়ায় নতুন বছর আসে।আলোকচিত্রী আবেল গাশাও জানান, সেপ্টেম্বরে বৃষ্টি কমে চারপাশ যখন সবুজে ভরে ওঠে, তখন নতুন বছর পালন করাটাই সবচেয়ে অর্থপূর্ণ। জানুয়ারি মাসে যখন তীব্র খরা থাকে, তখন নতুন বছর শুরু হওয়া তাদের কাছে মোটেও যৌক্তিক মনে হয় না। অন্যদিকে ইতিহাসবিদদের মতে, পাশ্চাত্য ক্যালেন্ডারে ডিসেম্বরের শেষে নতুন বছর পালনের পেছনে মূলত প্রাচীন রোমান উৎসবগুলোর প্রভাব ছিল। কোনো প্রাকৃতিক কারণ ছিল না।পড়ি কিন্তু মনে থাকে না কেনঘড়িঘড়ির কাঁটাও সেখানে আলাদাশুধু দিন বা বছরই নয়, ইথিওপিয়ার সময় গণনার নিয়মটিও একদম ভিন্ন। বেশির ভাগ দেশ মধ্যরাত ১২টি থেকে নতুন দিন ধরলেও ইথিওপিয়ায় দিন শুরু হয় সূর্যোদয়ের সময় অর্থাৎ সকাল ৬টা বা ৭টা থেকে। তাদের কাছে সকাল ৭টা মানে দিনের প্রথম ঘণ্টা বা ভোর ১টা। ইথিওপিয়ায় মানুষেরা মনে করেন, ইউরোপীয় নিয়মে কেন মধ্যরাতে নতুন দিন শুরু হবে, কেননা তখন তো সবাই ঘুমিয়ে থাকে।তবে এর ফলে পর্যটকদের সঙ্গে দেখা করা কিংবা বিমানের টিকিট কাটার সময় বেশ বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তবে বিদেশি পর্যটকদের ফ্লাইটের তারিখ বা সময় নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই। কারণ, ইথিওপিয়ার বিমান সংস্থাগুলো বৈশ্বিক হিসাব মেলাতে ইউরোপীয় ক্যালেন্ডারই মেনে চলে।ইথিওপিয়া একটি ঐতিহ্যবাহী দেশ। এখানকার বহু মানুষ, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের অধিবাসীরা বাইরের দুনিয়ার ক্যালেন্ডার নিয়ে একেবারেই মাথা ঘামান না। তারা শত শত বছর ধরে নিজেদের এই নিয়মেই অভ্যস্ত।তবে সময়ের সঙ্গে প্রযুক্তির ছোঁয়া গ্রামেও পৌঁছে গেছে। আজকাল অনেক কৃষকের হাতে স্মার্টফোন। তাই এখন অনেকে ভাবছেন ভবিষ্যতে ইন্টারনেটের কারণে ইথিওপিয়ার তরুণ প্রজন্ম কি তবে তাদের প্রাচীন পঞ্জিকা ছেড়ে দেবে?অধিকাংশের মতে, সেই সম্ভাবনা কম। তাঁরা মনে করেন, বিশ্বায়নের দোহাই দিয়ে স্রেফ সুবিধার খাতিরে ১ হাজার ৫০০ বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বদলে ফেলার কোনো যৌক্তিকতা নেই।সূত্র: সিএনএন ও কালচার ট্রিপবিশ্বের প্রথম রোবট আন্দোলন হয়ে গেল পোল্যান্ডে, দাবি কী
সুনামগঞ্জে প্রায় ১৭ লাখ টাকা মূল্যের আমদানি নিষিদ্ধ ভারতীয় নাসির বিড়িসহ আব্দুল করিম (২৫) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে শহরের আব্দুজ জহুর সেতুর ওপর থেকে তাকে আটক করা হয়। আব্দুল করিম ছাতক উপজেলার সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের দিঘলী চাকলপাড়া গ্রামের জফির আলীর ছেলে। পুলিশ জানায়, মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, চোরাচালানের মাধ্যমে আনা ভারতীয় নাসির বিড়ি একটি গাড়িতে করে সুনামগঞ্জ শহরের দিকে নেওয়া হচ্ছে। পরে আব্দুজ জহুর সেতু এলাকায় গাড়িটিতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় পিকআপ গাড়িতে থাকা আটটি বস্তা থেকে ৩ লাখ ৩৬ হাজার শলাকা শেখ নাসিরুদ্দিন বিড়ি জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে গাড়িটিও জব্দ করেছে পুলিশ। সুনামগঞ্জ শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই অভিজিৎ ভেমিক বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় বিড়ি ও একটি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। গাড়ির চালক পালিয়ে গেলেও তাঁর সহযোগীকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লিপসন আহমেদ/কেএইচকে