পাঁচ দিনের সরকারি সফরে আজ রবিবার (২৮ জুন) চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়া গেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
আজ রবিবার (২৮ জুন) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানা যায়।
এতে বলা হয়, সফরকালে, দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে সেনাবাহিনী প্রধান এর চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়ার প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে সাক্ষাতের পরিকল্পনা রয়েছে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
গ্রীষ্মের দলবদলে যাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, সেই অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও কোডি গাকপোর গোলে টটেনহ্যাম হটস্পারকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে কারাবাও কাপের চতুর্থ রাউন্ডে উঠেছে লিভারপুল। অ্যানফিল্ডে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় লিভারপুল। প্রথমার্ধে ২১ মিনিটে দারুণ এক গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ম্যাক অ্যালিস্টার। গাকপোর পাস থেকে বল পেয়ে ডেস্টিনি উডোগির ট্যাকলের পর ছুটে আসা বল বক্সের বাইরে থেকে বাঁকানো শটে জালে পাঠান আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার। প্রথমার্ধে অবশ্য সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল টটেনহ্যাম। মোহাম্মেদ কুদুস মাত্র চার গজ দূর থেকে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। লিভারপুলের গোলরক্ষক জর্জিও মামারদাশভিলিও কয়েকটি দুর্দান্ত সেভ করে দলকে এগিয়ে রাখেন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই (৫৪ মিনিটে) ব্যবধান দ্বিগুণ করে লিভারপুল। ম্যাক অ্যালিস্টারের পাস থেকে বল পেয়ে গাকপো ডান পায়ে শট নিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন। গত মৌসুমে সমালোচনার মুখে পড়া দুই খেলোয়াড়ই এদিন দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তবে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালিয়ে যায় টটেনহ্যাম। ৬৯ মিনিটে কর্নার থেকে কনর গ্যালাগার হেড করে একটি গোল শোধ দেন। এই গোলে মামারদাশভিলির কিছুটা ভুল ছিল, কর্নার থেকে বল মুঠোবন্দি করতে ব্যর্থ হন তিনি। এরপর টটেনহ্যাম সমতা ফেরানোর জন্য চাপ বাড়ালেও লিভারপুলের রক্ষণ সামলে যায়। মামারদাশভিলি আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলের লিড ধরে রাখেন। শেষদিকে টটেনহ্যামের ঘুরে দাঁড়ানোর আশা পুরোপুরি শেষ করে দেন বদলি হিসেবে নামা দোমিনিক সোবোসলাই। যোগ করা সময়ে গাকপোর পাস থেকে বল তুলে নিয়ে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত ভলিতে গোল করেন হাঙ্গেরিয়ান মিডফিল্ডার। তার গোলেই ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে লিভারপুল। এই ম্যাচে লিভারপুল ১০টি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে। তরুণ লুইস কুমাস ও জেমস ম্যাককনেলের প্রাণবন্ত পারফরম্যান্সও দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে টটেনহ্যামের শীর্ষ পর্যায়ের দলের বিপক্ষে জয়হীনতার ধারা অব্যাহত থাকল। অ্যানফিল্ডে তাদের দুঃস্বপ্নও আরও দীর্ঘ হলো। লিভারপুলের মাঠে শেষ ৩১ সফরে মাত্র একবার জিতেছে তারা, আর অ্যানফিল্ডে শেষবার জয়ের পর পেরিয়ে গেছে ১৫ বছর। এদিকে ম্যাচটি ছিল অ্যান্ডি রবার্টসনের অ্যানফিল্ডে ফেরার প্রথম ম্যাচও। তবে সাবেক লিভারপুল অধিনায়কের প্রত্যাবর্তন শেষ পর্যন্ত জয়ে রাঙাতে পারেনি টটেনহ্যাম। এমএমআর
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস ‘ইছামতী’ নিয়ে পাঠচক্রের আসর করে সিলেট বন্ধুসভা। ১১ সেপ্টেম্বর বিকেলে প্রথম আলো সিলেট অফিসের বন্ধুসভা কক্ষে এটি অনুষ্ঠিত হয়।‘ইছামতী’ উপন্যাসের মূল চরিত্র ভবানী বাঁড়ুজ্যে একজন পরম ধার্মিক, সৎ ও প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ, যিনি সন্ন্যাসজীবন ছেড়ে আবার সাধারণ সংসারে ফিরে আসেন। তৎকালীন কুলীন প্রথার কারণে তিনি নীলকুঠির দেওয়ান রাজারামের তিন বোন তিলু, বিলু ও নীলুকে একসঙ্গে বিয়ে করে সংসারী হন। কাহিনির একদিকে চলে ইংরেজ নীলকুঠির সাহেব শিপ্টন ও দেওয়ান রাজারামের অমানবিক অত্যাচার এবং নীলচাষিদের কান্না। অন্যদিকে ভবানী এই হিংসা ও বৈরিতার মধ্যেও ইছামতী নদীর তীরে নিজের আধ্যাত্মিক চেতনা ও মানবতার আদর্শে অটল থাকেন। মূলত চারপাশের সামাজিক অস্থিরতার বিপরীতে ভবানীর শান্ত, স্নিগ্ধ ও প্রকৃতিপ্রেমী জীবনবোধই এই কাহিনির মূল সুর।বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের জন্মস্থান ও পৈতৃক ভিটা ইছামতী নদীর তীরে হওয়ায় এ অঞ্চলের প্রকৃতি ও ইতিহাসের সঙ্গে তাঁর গভীর আত্মিক টান ছিল। তিনি ছোটবেলা থেকে পিতা ও ঠাকুরদাদার মুখে ১৯ শতকের নীলকুঠির অত্যাচার ও লোকশ্রুতির বাস্তব গল্প শুনে বড় হন। বাংলার ইতিহাসের সেই রক্তক্ষয়ী নীল বিদ্রোহের কাহিনি ও গ্রামীণ সমাজব্যবস্থাকে সাহিত্যের পাতায় অমর করে রাখাই ছিল তাঁর অন্যতম উদ্দেশ্য। এ ছাড়া মানুষের তৈরি হিংসা-বিদ্বেষের মধ্যেও প্রকৃতির চিরন্তন শান্ত রূপ ও জীবনদর্শনকে ফুটিয়ে তোলার এক তীব্র তাগিদ তিনি অনুভব করেছিলেন।সিলেট বন্ধুসভার পাঠচক্রের আসর।বন্ধু আজিজুল হাকিম উপন্যাসের নামের সার্থকতা সম্পর্কে বলেন, পুরো উপন্যাসে ইছামতী নদী ছিল সব ঘটনার সাক্ষী। ভবানী বাঁড়ুজ্যের জীবন কিংবা নীলচাষিদের ওপর অত্যাচার—সব জায়গায় ছিল এই নদী। ভবানী বাঁড়ুজ্যের মানসিক চিন্তাচেতনার রসদ দিত এই নদী। তাই এই নদীর নামকরণ সার্থক হয়েছে।লেখক পরিচিতি সম্পর্কে আজিজুল হাকিম বলেন, ‘বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের এক মহান লেখক। তিনি যেভাবে শব্দের জালে মানুষের প্রকৃতি প্রেম অনুভব করিয়েছেন, তা খুব কম লেখক করতে পেরেছেন। ওনার লেখায় একটা আলাদা রকম শক্তি আছে, যেটা ওনাকে না পড়লে বা না বুঝলে কেউ জানতেই পারবে না।’বন্ধু বৃষ্টি দে পাঠ পরিচিতি নিয়ে বলেন, উপন্যাসে ইছামতী নদীর সৌন্দর্য যেমন বর্ণনা করা হয়েছে, তেমনি উঠে এসেছে নীলচাষিদের ওপর বর্বর অত্যাচার।পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন বন্ধু দেব রায় সৌমেন, সমরজিত হালদার, গায়ত্রী বর্মণ, প্রাণেশ দাশ, অলক সরকার, পারমিতা রায়, লৈরিং, সাজন বিশ্বাসসহ অনেকে।
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাকশিমুল গ্রামের ঘুংঘুর নদে সরকারি অর্থে নির্মিত একটি সেতু ২৮ বছর ধরে মানুষের কাজে আসছে না। কারণ, সেতুটির দুই পাশে সংযোগ সড়ক নেই।১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মাধ্যমে নির্মিত প্রায় ৬০ ফুট দীর্ঘ সেতুটি দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। জনগণের অর্থ ব্যয় করে নির্মিত একটি অবকাঠামো প্রায় তিন দশক ধরে পড়ে আছে—এটি নিছক প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দীর্ঘস্থায়ী দায়িত্বহীনতার গুরুতর দৃষ্টান্ত।সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো, সেতুটি সচল করতে খুব বড় কোনো প্রকল্পের প্রয়োজন নেই। পূর্ব পাশে সেতুর গোড়াতেই পাকা সড়ক রয়েছে। পশ্চিম পাশে মাত্র প্রায় ২০ ফুট দূরে আরেকটি পাকা সড়ক। অথচ এই সামান্য সংযোগটুকুও ২৮ বছরে তৈরি করা হয়নি।স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজেদের উদ্যোগে সেতুর এক পাশে নয়টি সিঁড়ি বানাতে হয়েছে। অন্য পাশে মাটি ও বালুর বস্তা দিয়ে ওঠানামার ব্যবস্থা। শিশু ও বয়স্ক মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হতে হয়। অর্থাৎ সরকারি অবকাঠামো যেখানে মানুষের দুর্ভোগ কমানোর কথা, সেখানে সেটিই দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।এলজিইডির সাবেক প্রকৌশলীর বক্তব্য, সংযোগ সড়কের জন্য নির্ধারিত জায়গা নিয়ে স্থানীয় দুটি পক্ষের মধ্যে মামলা হওয়ায় কাজটি করা সম্ভব হয়নি। মামলা একটি বাস্তব সমস্যা হতে পারে, কিন্তু ২৮ বছর ধরে সেটি নিষ্পত্তির উদ্যোগ না নেওয়া কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা হতে পারে না।সংশ্লিষ্ট এলজিইডি কর্মকর্তা, উপজেলা প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের প্রত্যেকের কাছেই প্রশ্ন থাকা উচিত—এত দীর্ঘ সময়ে তাঁরা কী উদ্যোগ নিয়েছেন? মামলার কারণে কাজ বন্ধ থাকলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলো না কেন? জমির বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য প্রশাসনিক বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলো না কেন?সরকারি প্রকল্পের ক্ষেত্রে শুধু নির্মাণ শেষ করাই সাফল্য নয়; প্রকল্পটি মানুষের কাজে লাগছে কি না, সেটিই আসল। সেই বিচারে বাকশিমুলের সেতুটি একটি ব্যর্থ প্রকল্পের স্পষ্ট উদাহরণ। অথচ এই ব্যর্থতার জন্য এখন পর্যন্ত কারও জবাবদিহি নিশ্চিত হয়েছে—এমন কোনো তথ্য নেই।এখন প্রথমেই প্রয়োজন ২৮ বছর ধরে সেতুটি অকার্যকর থাকার কারণ অনুসন্ধানে প্রশাসনিক তদন্ত। জমিসংক্রান্ত মামলার বর্তমান অবস্থা, সংযোগ সড়কের জন্য নির্ধারিত জমি এবং এত বছরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নেওয়া পদক্ষেপ—সবকিছু পর্যালোচনা করে দায়িত্বে অবহেলার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দুই পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ ও সেতুর প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে।জনগণের অর্থে নির্মিত অবকাঠামো বছরের পর বছর অকেজো পড়ে থাকবে আর এর জন্য কেউ দায়ী থাকবেন না—এই সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া জরুরি।