বিশ্ব

মোদির বিশেষ নৈশভোজে অনুপস্থিত সি চিন পিং! কিন্তু কেন?
মোদির বিশেষ নৈশভোজে অনুপস্থিত সি চিন পিং! কিন্তু কেন?

ব্রিকসের প্রথম দিনের নৈশভোজে ছিল ভারতের বৈচিত্র্যময় নিরামিষ খাবারের আয়োজন। তবে এত আয়োজনের মধ্যেও কেন ছিলেন না চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং? বিস্তারিত ভিডিওতে…

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
হুতিদের অগ্রযাত্রায় কারও লাভ, কারও ক্ষতি
হুতিদের অগ্রযাত্রায় কারও লাভ, কারও ক্ষতি

ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের পুরোটা এখন দেশটির হুতি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে। গত সপ্তাহান্তে তারা বন্দরনগর মোখা দখল করে। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মায়ুন (পেরিম) দ্বীপের নিয়ন্ত্রণও নেয়।এখন আফ্রিকার উপকূল থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে হুতি বাহিনী। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালির ওপরও তাদের কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের জন্য এই প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।ইয়েমেনের বাইরে হুতিরা কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে—এমন কোনো ইঙ্গিত এখনো নেই। তবে এই যুদ্ধের প্রভাব ইতিমধ্যে আফ্রিকা মহাদেশেও পড়তে শুরু করেছে।ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী কারা, কীভাবে উত্থানআন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) গতকাল রোববার জানিয়েছে, বিগত ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেন থেকে ২ হাজারের বেশি মানুষ আফ্রিকার দেশ জিবুতিতে পালিয়ে গেছেন।ইয়েমেনের উপকূল থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে জিবুতির শহর ওবকে ইয়েমেনিরা পৌঁছাচ্ছেন। সেখানে তাঁদের খাবার ও পানি দেওয়া হচ্ছে। তবে আইওএম সতর্ক করে বলেছে, আরও সহায়তা প্রয়োজন।সমুদ্রপথের গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ পথবিশ্বের মোট বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ বাব আল-মানদেব দিয়ে পরিচালিত হয়। সমুদ্রপথে পরিবহন করা তেলের প্রায় ১১ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ৮ শতাংশও এই পথ দিয়ে যায়।কৃত্রিম উপগ্রহের (স্যাটেলাইট) ছবিতে বাব আল–মানদেব প্রণালি। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বারঅন্যদিকে হুতিদের মিত্র ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর একধরনের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করে। এ যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে যেত।হুতিদের রাজনৈতিক শাখার সদস্য হাজেম আল-আসাদ বলেন, লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেবে নৌ চলাচলসহ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল রয়েছে।ইরান বলে আসছে, ইয়েমেনে তাদের মিত্র হুতিরা একটি স্বাধীন গোষ্ঠী।তবে ইয়েমেনের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে বিশ্বের বড় জাহাজ চলাচলকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।সমুদ্রপথের নিরাপত্তাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও সাবেক নৌ কর্মকর্তা আলেক্সান্দ্রু ক্রিস্তিয়ান হুদিস্তেয়ানু আল-জাজিরাকে বলেন, বাব আল-মানদেব প্রণালি হরমুজ প্রণালির চেয়ে সরু।এক দেশ, বহু শক্তির লড়াই: ইয়েমেন কীভাবে বারবার যুদ্ধের আগুনে পুড়ছেহেলিকপ্টার নিয়ে লোহিত সাগরে একটি জাহাজের পিছু নিয়েছে হুতিরাহুদিস্তেয়ানু বলেন, হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি তাদের সামগ্রিক সক্ষমতায় মৌলিক কোনো পরিবর্তন আনেনি। তবে এর ফলে আগের তুলনায় জাহাজ নিশানা করা তাদের জন্য সহজ হয়েছে।এর একটি উদাহরণ হলো, সম্প্রতি একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এতে উপকূলে থাকা এক হুতি কমান্ডারকে বলতে শোনা যায়, ওই এলাকায় কামান বসিয়ে ইয়েমেনের উপকূলের কাছের জলসীমায় থাকা লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো সম্ভব।আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পোর্টওয়াচের তথ্য বলছে, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে লোহিত সাগর দিয়ে জাহাজ চলাচলের পরিমাণ ও পরিবহন করা পণ্যের পরিমাণ ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ কমেছে। এই সময়ে জাহাজে হুতিদের হামলার পর লোহিত সাগরে উত্তেজনা আবার বেড়ে গিয়েছিল।বড় জাহাজ চলাচলকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো কেপ অব গুড হোপ ঘুরে জাহাজ চালাচ্ছে। এতে একটি যাত্রায় ২০ দিনের বেশি সময় বাড়ছে। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে পণ্য পরিবহনের খরচও বেড়ে যাচ্ছে।লোহিত সাগরে সমুদ্রপথের নিরাপত্তায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতৃত্বাধীন ‘অপারেশন আটালান্টা’ টাস্কফোর্স কাজ করছে। তবে লোহিত সাগরে আবার জাহাজে হামলা শুরু হলে নির্ধারিত দায়িত্বের সীমাবদ্ধতার কারণে এই বাহিনীর পক্ষেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হতে পারে।মুখোমুখি লড়াইয়ে হুতি ও সরকারি বাহিনী, সৌদিতেও হামলাইরান যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ অবাধে চলাচল করতে পারত। ৩১ আগস্ট ২০২৬ হুদিস্তেয়ানু বলেন, এই অঞ্চলে নৌবহরের রসদসহ অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে অনেক দেশের নৌবাহিনী জিবুতিকে বন্দর হিসেবে ব্যবহার করে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, চীনসহ আরও কয়েকটি দেশ রয়েছে। তবে অপারেশন আটালান্টার মতো চলমান অভিযানের আওতায় থাকা জাহাজগুলোর নির্দিষ্ট দায়িত্ব রয়েছে। প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সেই দায়িত্বের বাইরে গিয়ে কাজ করা কঠিন।হুদিস্তেয়ানু আরও বলেন, ‘তবে আমি বলব না যে এসব জাহাজ শুধু নিজেদের নিরাপত্তার জন্য সেখানে রয়েছে।...হুমকির জবাব দিতে দেরি করলে বা নিষ্ক্রিয় থাকলে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের কাছে ভুল বার্তা যেতে পারে।’ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলাকালে নৌবাহিনীর জাহাজগুলোকে বাব আল-মানদেব ও হরমুজ প্রণালির দিকে বেশি পাঠানো হয়েছিল। এর ফলে হর্ন অব আফ্রিকার উপকূলের কাছে নিরাপত্তার কিছু ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়েছে সংগঠিত সামুদ্রিক অপরাধী চক্রগুলো।হুদিস্তেয়ানু সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা বিশেষ করে সোমালিয়ার উপকূলজুড়ে জলদস্যুতার পুনরুত্থান দেখতে পাচ্ছি। বহুস্তরীয় এই সংকটের সময় আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীর নজর হরমুজ ও বাব আল-মানদেব প্রণালির দিকে সরে যাওয়ার সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে।’হুতিদের শক্তি কোথায়, বিলিয়ন ডলারের যুদ্ধে জড়িয়েও কেন পিছু হটল যুক্তরাষ্ট্রমিসরের দুশ্চিন্তালোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হবে না বলে হুতিরা আশ্বস্ত করেছে। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলো নিশানা করে হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি।২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত হুতিরা লোহিত সাগরে ১০০টির বেশি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায়। হুতিদের দাবি ছিল, এসব জাহাজ ইসরায়েল বা দেশটির মিত্রদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।লোহিত সাগর দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় মিসরের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস সুয়েজ খালের টোল।সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মিসর প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার হারিয়েছে। এই অর্থ সুয়েজ খালের মোট আয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ।হুদিস্তেয়ানু বলেন, হুতিদের এই অভিযান ও এর পরবর্তী পরিস্থিতির কারণে যে ক্ষতি হয়েছে, তা সহজেই বোঝা যায়। লোহিত সাগর দিয়ে যেসব জাহাজ চলাচল করত, সেগুলোর বড় একটি অংশ একপর্যায়ে পুরোপুরি চলাচল বন্ধ করে দেয়। পরে হুতিরা জাহাজে হামলা বন্ধ করার কথা জানায়। কিন্তু অনেক কোম্পানি কেপ অব গুড হোপ ঘুরে জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখে। তারা আর আগের পথে ফিরে আসেনি।ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সামরিক কুচকাওয়াজহরমুজ প্রণালিতে জাহাজে নতুন করে হামলা, তেল সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা বাড়ছেআফ্রিকা অধ্যয়নের অধ্যাপক ও সংঘাত নিরসনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ বদর হাসান আল-শাফেই বলেন, এই সময়ে ক্ষতি সত্ত্বেও মিসর কৌশলগতভাবে সংযত অবস্থান নিয়েছিল।আল-শাফেই আল-জাজিরাকে বলেন, ‘ইয়েমেনে যা ঘটছে, তাতে সামরিক হস্তক্ষেপ থেকে দূরে থাকার নীতি অনুসরণ করে মিসর। ২০১৫ সালে উপসাগরীয় দেশগুলোর ইয়েমেনে হস্তক্ষেপের সময় থেকেই এটি মিসরের একটি স্থায়ী অবস্থান।’আল-শাফেই আরও বলেন, বাব আল-মানদেব দিয়ে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল হুমকির মুখে পড়েছে। জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলের দিকে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। এসব সত্ত্বেও মিসর হস্তক্ষেপ করেনি। যদিও এতে দেশটি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।সৌদি আরবের সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি হুতিদের, বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষতিইরিত্রিয়ার গুরুত্ব বেড়েছেইয়েমেনিরা এখন লোহিত সাগরে প্রবেশের পথে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় রয়েছে। এর ফলে ইয়েমেনের অপর পাশে বাব আল-মানদেবের কাছে অবস্থিত আফ্রিকার দেশ ইরিত্রিয়ার কৌশলগত গুরুত্ব বেড়েছে।ইরিত্রিয়ার প্রেসিডেন্ট ইসাইয়াস আফওয়ার্কির শাসনামলে দেশটি স্বনির্ভরতার ওপর জোর দিয়েছে। এ কারণে বাইরের বিশ্বের সঙ্গে দেশটির যোগাযোগও সীমিত ছিল।তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফওয়ার্কি লোহিত সাগরে ইরিত্রিয়ার কৌশলগত অবস্থান কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা কাটানোর চেষ্টা করছেন। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কও উন্নত করেছেন তিনি।আল-শাফেই বলেন, ‘ইয়েমেনে যা ঘটছে, তা থেকে নিজেকে দূরে রাখার ভান করছেন আফওয়ার্কি। কিন্তু বাস্তবে লোহিত সাগরে যা ঘটছে, তা থেকে তিনি অনেক সুবিধা পাচ্ছেন।’লোহিত সাগর উপকূলে হুতিদের ওপর ইয়েমেন সরকারের হামলা

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
সৌদি যুবরাজের কাছে শাহবাজের ফোন, জানালেন পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত
সৌদি যুবরাজের কাছে শাহবাজের ফোন, জানালেন পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত

সৌদি আরবে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার মধ্যে দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ। রোববারের (১৩ সেপ্টেম্বর) এই ফোনালাপে সৌদি আরবের সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার তীব্র নিন্দা জানান পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি সৌদি নেতৃত্ব ও জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। শাহবাজ বলেন, হুথিদের কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি। এ ধরনের হামলা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। আরও পড়ুন হুথিদের সঙ্গে সংঘাত / সামরিক শক্তিতে এগিয়ে থেকেও কেন বিপাকে সৌদি আরব? পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার উত্তেজনা কমাতে এবং অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন। যুদ্ধে জড়াবে পাকিস্তান? সৌদি আরবের প্রতি পাকিস্তানের সমর্থনের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রেক্ষাপটে। পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক নতুন গঠিত ‘মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’-এর সদস্য। গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত এই প্রতিরক্ষা চুক্তির লক্ষ্য হলো সম্মিলিত প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানো। চুক্তিতে কোনো সদস্য দেশের ওপর হামলাকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। আরও পড়ুন সৌদি আরবে একের পর এক হামলা, মক্কা চুক্তি কি এবার কার্যকর হবে? তবে শাহবাজ শরীফের সাম্প্রতিক বক্তব্যে পাকিস্তান সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়ানোর কোনো ঘোষণা দেয়নি। বরং তিনি উত্তেজনা প্রশমন ও আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন। সৌদি যুবরাজও পাকিস্তানের অটল সমর্থনের প্রশংসা করেছেন। দুই নেতা ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন। সৌদি সীমান্তে হুথিদের হামলা এদিকে ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধারা দাবি করেছে, তারা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের শারুরাহ সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে। হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, হামলায় অস্ত্রের গুদাম এবং কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র লক্ষ্য করা হয়েছে। আরও পড়ুন সৌদির তেল পাইপলাইনে হামলা, যা বলল পাকিস্তান এর আগে শনিবার রাতে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, সীমান্তের কাছে একটি এলাকায় হুথিদের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রজেক্টাইল পড়েছে। সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এতে দুজন আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি মসজিদ, কয়েকটি ভবন ও যানবাহন। ইয়েমেনে বাড়ছে লড়াই হুথিদের সঙ্গে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর লড়াইও নতুন করে তীব্র হয়েছে। ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, তারা লোহিত সাগরের বন্দরনগরী মোখায় হুথি যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এরপর দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তাইজ এলাকায় হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়। ইয়েমেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাইজ অঞ্চলে হুথিদের অবস্থান ও ব্যারাকে তিনটি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে হুথিদের দাবি, গত ৪৮ ঘণ্টায় তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সৌদি যুদ্ধবিমান ১২৯টি হামলা চালিয়েছে। সূত্র: ডনকেএএ/

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
সুইডেনে সংসদ নির্বাচন, এগিয়ে বিরোধী জোট
সুইডেনে সংসদ নির্বাচন, এগিয়ে বিরোধী জোট

নুরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, সুইডেন সুইডেনের জাতীয় নির্বাচনে এক আসনের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বর্তমান পার্লামেন্টের বিরোধীদল তথা মধ্য-বাম জোট। দেশটির ৩৪৯ আসনের পার্লামেন্টে জোটটি ১৭৫টি আসন পেতে পারে বলে প্রাথমিক ভোট গণনায় দেখা গেছে। বিপরীতে ক্ষমতাসীন ডানপন্থি জোট পেতে পারে ১৭৪টি আসন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ভোট গণনায় দেশটির ৬ হাজার ৩১২টি নির্বাচনি এলাকার মধ্যে ৪ হাজার ৮৫৩টির ফল গণনার পর এ হিসাব পাওয়া গেছে। এর আগে সুইডিশ পাবলিক ব্রডকাস্টা টেলিভিশন এসভিটি’র এক্সিট পোলেও মধ্য-বাম জোটকে এগিয়ে রাখা হয়। এতে চারটি দল মিলিয়ে জোটটির ভোট ৫১ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ক্ষমতাসীন জোটের ভোট ৪৬ দশমিক ৮ শতাংশ দেখানো হয়। এই জরিপে ভোটকেন্দ্রের বাইরে ১৩ হাজার ৭০৯ জন ভোটারের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। অন্যদিকে, টিভি৪-এর এক্সিট পোলে মধ্য-বাম জোট ৫১ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ক্ষমতাসীন জোট ৪৭ শতাংশ ভোট পেতে পারে বলে ধারণা করা হয়। আরও পড়ুন এটিএমে পড়ে থাকা ১৯০০ ক্রোনা নিয়ে ৫২ হাজার ক্রোনা জরিমানা তবে ভোট গণনার সময় দুই জোটের ব্যবধান ছিল খুবই কম। প্রায় অর্ধেক ভোট গণনার সময় এসভিটি’র হিসাবে বিরোধী জোটের ভোট ছিল ৪৯ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ক্ষমতাসীন জোটের ৪৯ দশমিক ২ শতাংশ। দুই পক্ষের ভোটের ব্যবধান ছিল প্রায় ২০ হাজার। দলভিত্তিক এক্সিট পোলের হিসাবে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি পেয়েছে ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট। দলটির নেতা ম্যাগদেলিনা অ্যান্ডারসন ২০২১ সালে সুইডেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন জোটের মডারেট পার্টি পেয়েছে ১৮ দশমিক ১ শতাংশ এবং সুইডেন ডেমোক্র্যাটস পেয়েছে ১৭ দশমিক ২ শতাংশ ভোট। ২০২২ সালের নির্বাচনে সুইডেন ডেমোক্র্যাটসের ভোট ছিল ২০ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০১০ সালে পার্লামেন্টে প্রবেশের পর এবারই প্রথম দলটির ভোটের হার কমার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। গত চার বছর ধরে উলফ ক্রিস্টেরসনের সরকারের বাইরে থেকে সমর্থন দিয়ে আসছিল সুইডেন ডেমোক্র্যাটস। নির্বাচনের আগে দলটির নেতা জিমি অকেসন সরকারে মন্ত্রী হওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন। এক্সিট পোল অনুযায়ী, লিবারেল পার্টি পেয়েছে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট। সুইডেনের পার্লামেন্টে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ৪ শতাংশ ভোটের সীমা এবার পার করতে পারে দলটি। এছাড়া সেন্টার পার্টি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ, লেফট পার্টি ৮ শতাংশ, গ্রিন পার্টি ৭ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ক্রিস্টিয়ান ডেমোক্র্যাটস ৬ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পেতে পারে বলে এক্সিট পোলে উঠে এসেছে। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর গ্রিন পার্টির ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য অ্যালিস বাহ কুনকে বলেন, সুইডিশ জনগণ তাদের বার্তা দিয়েছে এবং তারা ‘টিডো’ নিয়ে ক্লান্ত। ‘টিডো’ হলো বর্তমান সরকারের সঙ্গে সুইডেন ডেমোক্র্যাটসসহ সংশ্লিষ্ট দলগুলোর সহযোগিতার রাজনৈতিক চুক্তি। স্টকহোম ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক টমি মোলার সুইডিশ সংবাদ সংস্থা টিটি’র কাছে বলেন, দুই সম্ভাব্য সরকার গঠনের পথের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। এক্সিট পোলের ফল আগের জরিপগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে পরিস্থিতি বেশ স্পষ্ট বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে ম্যাগদেলিনা অ্যান্ডারসনকে লেফট পার্টি ও সেন্টার পার্টিসহ সম্ভাব্য সমর্থনকারী দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতায় যেতে হতে পারে। নির্বাচনি প্রচারে জাতীয় নিরাপত্তা, গ্যাং অপরাধ, অভিবাসন ও কল্যাণব্যবস্থায় ব্যয় ছিল গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। সব ভোট গণনা এবং আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর সুইডেনের নির্বাচন কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করবে। এমআরএম

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
মিসরের পিরামিডের গায়ে লুকিয়ে থাকা প্রাচীন সংকেতের নতুন রহস্য
মিসরের পিরামিডের গায়ে লুকিয়ে থাকা প্রাচীন সংকেতের নতুন রহস্য

বালুচাপা পড়া হাজার বছরের প্রাচীন পাথরের স্তূপে ঘেরা গিজার গ্রেট পিরামিড। এই বিশালাকার স্মৃতিস্তম্ভের বহিরাগত মাপে লুকিয়ে রয়েছে এক বিশেষ সংখ্যাপদ্ধতি। প্রাচীন স্থপতিদের তৈরি এই নকশা প্রজন্মের পর প্রজন্ম টিকে থাকার জন্য নকশা করা হয়েছিল। আধুনিক গবেষকদের দাবি অনুযায়ী পিরামিডের উচ্চতা ও ভিত্তির মাপে মহাজাগতিক এক সংকেত লুকিয়ে আছে। মিসরের গিজার গ্রেট পিরামিড যুগ যুগ ধরে তার গোপনীয়তা রক্ষা করে চলেছে। কোটি টন পাথরের আড়ালে ঢাকা রয়েছে এর মূল রহস্য। স্বাধীন গবেষক সেফি লেভি সম্প্রতি নতুন একটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, পিরামিডের মূল বার্তায় লুকিয়ে রয়েছে এক অভিনব রহস্য। দেয়ালে কোনো লিপি খোদাই করা হয়নি। পিরামিডের উচ্চতা ও ঢালু দেয়ালের মাপে তৈরি হয়েছে এই সংকেত। লেভির মতে, পিরামিডের মাত্রাগত অনুপাত চাঁদের আবর্তনের সঙ্গে মিলে যায়। ক্যালেন্ডার ও খালি চোখে দেখা যায়, এমন গ্রহের নিয়মের সঙ্গেও এর মিল পাওয়া যায়। প্রাচীন মিসরীয়রা তাঁদের জ্যোতির্বিজ্ঞান ও গণিতের জ্ঞান অমর করে রাখতে চেয়েছিলেন। গবেষক উল্লেখ করেন, পিরামিড কোনো সাধারণ ভান্ডার নয়। এটি নিজেই একটি মূল্যবান জ্ঞান, যা পাথরের মূর্ত রূপ।মেইনস্ট্রিম ইজিপ্টোলজি পিরামিডকে ফারাও খুফুর সমাধি বলে মনে করে। সাড়ে চার হাজার বছর আগে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। পিরামিডের ভেতরে রয়েছে গ্রানাইট পাথরের খালি কফিন। রাজকীয় সমাধিসৌধ ও মমি রাখার কমপ্লেক্স এর প্রমাণ দেয়। তবে খুফু সেখানে সত্যি সমাহিত ছিলেন কি না, তার নিশ্চিত প্রমাণ নেই। পিরামিডের মাপে জ্যোতির্বিজ্ঞান লুকানো আছে, এমন কোনো প্রাচীন লিপি পাওয়া যায়নি। লেভি প্রাচীন মিসরীয় লিপিকারদের ভগ্নাংশ দিয়ে পিরামিডের মাপ পরীক্ষা করেছেন। হিসাবের ফলাফল আধুনিক গণিত ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সংখ্যার খুব কাছাকাছি আসে। একটি সরল হিসাবে মান পাওয়া যায় ২৭ দশমিক ৫। চাঁদের নিকটতম বিন্দুতে পৌঁছানোর চক্রের সঙ্গে এর মিল রয়েছে। আরেকটি হিসাবে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা মেলে ৭০। সিরিয়াস তারার লুকিয়ে থাকা ও উদিত হওয়ার মধ্যবর্তী সময়ের সঙ্গে এটি মিলে যায়। প্রাচীন মিসরের মমি তৈরির প্রক্রিয়ার সঙ্গেও ৭০ দিনের হিসাব যুক্ত রয়েছে। শনি ও বৃহস্পতির আবর্তন চক্রের সঙ্গেও পিরামিডের অনুপাতের মিল পাওয়া যায়। পিরামিডের এই মাপে পাই ও গোল্ডেন রেশিওর উপস্থিতি রয়েছে। প্রাচীন নির্মাতারা সময় ও মহাকাশ সম্পর্কে তাঁদের বোঝাপড়ার স্থায়ী দলিল তৈরি করেছিলেন। লেভি শত হাজারটি কাল্পনিক পিরামিডের মডেল তৈরি করে পরীক্ষা চালান। এর মধ্যে মাত্র আড়াই শতাংশ মডেলের সঙ্গে এই অদ্ভুত মিল পাওয়া যায়। কাকতালীয়ভাবে এই মিল ঘটার সম্ভাবনা বেশ কম।লেভির তত্ত্বে আরও একটি যুগান্তকারী দাবি রয়েছে। প্রাচীন মিসরীয় সৃষ্টিতত্ত্বের উপাখ্যানে জলরাশি থেকে প্রথম ডাঙা ভেসে ওঠার কথা বলা হয়। আদি পৃথিবীর অন্ধকার জলরাশি থেকে বেনবেন নামক পাহাড়ের জন্ম হয়েছিল। এই পৌরাণিক বিশ্বাসের মূলে বাস্তব কোনো ঐতিহাসিক স্থান থাকতে পারে। সাহারা মরুভূমির মৌরিতানিয়ায় আই অব দ্য সাহারা নামক এক বিশাল বৃত্তাকার গঠন রয়েছে। হাজার বছর আগে সাহারা অঞ্চল সবুজ ও উর্বর ছিল। সেই যুগে সেখানে মানুষের বসবাস ছিল। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অঞ্চলটি শুকিয়ে যায়। সেখানকার আদি বাসিন্দারা ধীরে ধীরে পূর্ব দিকে নীল নদের উপত্যকার দিকে অভিবাসন করেন। মিসরের প্রাচীন মানুষেরা সেই আদি স্মৃতির পুনর্নির্মাণ করেছিলেন গিজার ভূমিতে। পিরামিড সেই আদি পাহাড়ের প্রতীক হিসেবে তৈরি হয়। নীল নদের হারানো শাখা ও বন্দর কমপ্লেক্সের পাশে জলরাশির উপস্থিতি তা নির্দেশ করে। পশ্চিমমুখী পথগুলো অস্তগামী সূর্য ও মৃতদের আদি ঠিকানার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে। যদিও আই অব দ্য সাহারার সঙ্গে গিজার সরাসরি কোনো সংযোগের প্রমাণ নেই। এই দীর্ঘ যাত্রার কোনো ঐতিহাসিক দলিল পাওয়া যায়নি। গবেষণা প্রবন্ধটি এখন পর্যন্ত স্বাধীন কোনো পিয়ার রিভিউয়ের মুখোমুখি হয়নি। বৈজ্ঞানিক মহলে এই তত্ত্ব নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। প্রাচীন মিসরের ইতিহাস নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে এই গবেষণা।সূত্র: ডেইলি মেইল

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব কে হচ্ছেন, এগিয়ে যিনি
জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব কে হচ্ছেন, এগিয়ে যিনি

১৯৫৩ সালের এপ্রিল। নিউইয়র্কের আইডলওয়াইল্ড বিমানবন্দরে নিজের উত্তরসূরিকে স্বাগত জানাতে অপেক্ষা করছিলেন জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব ত্রিগভে লি। সুইডিশ কূটনীতিক দাগ হামারশোল্ডকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘পৃথিবীর সবচেয়ে অসম্ভব চাকরিতে স্বাগতম।’ সাত দশক পরও জাতিসংঘের মহাসচিবের পদটি বিশ্বের অন্যতম কঠিন দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উত্তরসূরি বাছাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে। সাধারণত মহাসচিবের মেয়াদ হয় পাঁচ বছর। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, পরপর দ্বিতীয় মেয়াদেও দায়িত্ব পালনের সুযোগ থাকে। লাতিন আমেরিকা থেকে আসতে পারেন নতুন মহাসচিব এবারের প্রতিযোগিতায় মোট আটজন প্রার্থী রয়েছেন। ভৌগোলিক ভারসাম্যের অনানুষ্ঠানিক রীতি অনুযায়ী, পরবর্তী মহাসচিব লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে আসতে পারেন। আরও পড়ুন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন খলিলুর রহমান এই অঞ্চল থেকে সর্বশেষ মহাসচিব ছিলেন পেরুর হাভিয়ের পেরেজ দে কুয়েলার। তিনি ১৯৯২ সালে দায়িত্ব ছাড়েন। এর পাশাপাশি জাতিসংঘের ৮০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন নারীকে মহাসচিব করার দাবিও জোরালো হয়ে উঠেছে। বর্তমান প্রতিযোগিতায় লাতিন আমেরিকার একাধিক নারী প্রার্থী থাকায় এই সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। সামনে বড় চ্যালেঞ্জ নতুন মহাসচিব এমন এক সময়ে দায়িত্ব নেবেন, যখন জাতিসংঘ নানা দিক থেকে চাপে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় অর্থদাতা। কিন্তু ওয়াশিংটন স্বেচ্ছা তহবিলে অর্থ দেওয়া কমিয়েছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কও টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে, সদস্যদেশগুলোর বকেয়া চাঁদার কারণে সংস্থাটির অর্থসংকট আরও গভীর হয়েছে। গাজা, সুদান ও ইউক্রেনের যুদ্ধ থামাতে নিরাপত্তা পরিষদের অক্ষমতাও জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ফলে নতুন মহাসচিবের সামনে শুধু কূটনৈতিক সংকট নয়, প্রতিষ্ঠানটিকে আরও কার্যকর ও দক্ষ করার চ্যালেঞ্জও থাকবে। আরও পড়ুন ওসমান হাদি হত্যার দ্রুত-স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের নির্বাচন হয় যেভাবে মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০২৫ সালের নভেম্বরের শেষ দিকে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ও নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতিরা সদস্যদেশগুলোকে প্রার্থী মনোনয়নের আহ্বান জানান। জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী, ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদ একজন প্রার্থীকে সুপারিশ করে। এরপর ১৯৩ সদস্যের সাধারণ পরিষদ সেই প্রার্থীকে অনুমোদন করে। তবে বাস্তবে মূল লড়াই হয় নিরাপত্তা পরিষদেই। একজন প্রার্থীকে অন্তত নয়টি দেশের সমর্থন পেতে হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের কেউ যেন তাকে ভেটো না দেয়। এই পাঁচ দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীন। আরও পড়ুন দারিদ্র্য ব্যক্তিগত নয়, এটি ব্যবস্থাগত ব্যর্থতা: জাতিসংঘ মহাসচিব গোপন ভোটে কে এগিয়ে প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা যাচাই করতে নিরাপত্তা পরিষদ অনানুষ্ঠানিক ও গোপন ভোট নেয়। এগুলোকে ‘স্ট্র পোল’ বলা হয়। প্রতি প্রার্থীর ক্ষেত্রে সদস্যরা তিন ধরনের মত দেন। ‘এনকারেজ’ অর্থ ইতিবাচক সমর্থন। ‘নো ওপিনিয়ন’ অর্থ নিরপেক্ষ বা সিদ্ধান্তহীন অবস্থান। আর ‘ডিসকারেজ’ অর্থ নেতিবাচক অবস্থান। এখন পর্যন্ত দুটি স্ট্র পোল হয়েছে। দ্বিতীয় দফার ভোটে গায়ানার ক্যারোলিন রদ্রিগেস-বির্কেট এগিয়ে রয়েছেন। তার পরেই রয়েছেন কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান এবং আর্জেন্টিনার রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসি। আরও পড়ুন জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে সেনাপ্রধানের সাক্ষাৎ ক্যারোলিন রদ্রিগেস-বির্কেট: এই মুহূর্তের এগিয়ে থাকা প্রার্থী ক্যারোলিন রদ্রিগেস-বির্কেট জাতিসংঘে গায়ানার দূত। এর আগে তিনি দেশটির পররাষ্ট্র ও আদিবাসীবিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে তিনি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গায়ানার প্রতিনিধিত্ব করেন। ক্যারিবীয় দেশগুলোর জোট ক্যারিকম আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রার্থিতাকে সমর্থন করেছে। রদ্রিগেস-বির্কেট নিজেকে ছোট রাষ্ট্রগুলোর জন্য একজন নীতিনিষ্ঠ ও বাস্তববাদী প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি জাতিসংঘ সনদের ৯৯ অনুচ্ছেদ আরও সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করতে চান। এর মাধ্যমে সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার হুমকি নিরাপত্তা পরিষদের নজরে আনার ক্ষমতা মহাসচিবের রয়েছে। আগস্টের দ্বিতীয় স্ট্র পোলেও তিনি সবচেয়ে ভালো ফল করেছেন। আটটি ‘এনকারেজ’, তিনটি ‘ডিসকারেজ’ এবং চারটি ‘নো ওপিনিয়ন’ ভোট পেয়েছেন তিনি। রেবেকা গ্রিনস্প্যান: প্রথম দফায় এগিয়ে ছিলেন কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান প্রথম স্ট্র পোলে সবচেয়ে ভালো করেছিলেন। জুলাইয়ের ভোটে তিনি ১০টি ‘এনকারেজ’ ভোট পান। ‘ডিসকারেজ’ ভোট ছিল মাত্র একটি। তবে পরের ভোটে তার সমর্থন কমে যায়। আগস্টে তিনি সাতটি ‘এনকারেজ’ এবং চারটি ‘ডিসকারেজ’ ভোট পান। গ্রিনস্প্যান মহাসচিবের কার্যালয় পুনর্গঠন করতে চান। জাতিসংঘের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি তিনি সংস্থার বিভিন্ন বিভাগের কাজের পুনরাবৃত্তি কমাতে চান। দরিদ্র দেশগুলোর ঋণের বোঝা কমানোও তার অন্যতম অগ্রাধিকার। আরও পড়ুন জাতিসংঘে আস্থা ফেরানো, শান্তি ও রোহিঙ্গা সংকটে গুরুত্ব নতুন সভাপতির রাফায়েল গ্রোসি: পারমাণবিক কূটনীতির অভিজ্ঞ মুখ আর্জেন্টিনার রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসি সাত বছর ধরে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক। চার দশকের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। গ্রোসি নিজেকে কোনো নির্দিষ্ট শক্তিশালী দেশের ওপর নির্ভরশীল নন—এমন একজন স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরছেন। তিনি জাতিসংঘে বক্তৃতার চেয়ে বাস্তব ফলাফলকে বেশি গুরুত্ব দিতে চান। শান্তি ও নিরাপত্তা, উন্নয়ন, মানবাধিকার, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং বাস্তববাদী বহুপক্ষীয় কূটনীতিকে তিনি অগ্রাধিকার দিয়েছেন। আগস্টের ভোটে সাতটি ‘এনকারেজ’ ভোট পেয়েছেন গ্রোসি। বিপরীতে ছয়টি ‘ডিসকারেজ’ ভোট পান তিনি। ফলে তার প্রার্থিতার বিরুদ্ধে শক্তিশালী আপত্তিও রয়েছে। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনার নতুন করে সার্বভৌমত্ব আলোচনার দাবিও তার প্রার্থিতাকে জটিল করে তুলেছে। মারিয়া ফার্নান্দা এসপিনোসা: নারী প্রার্থীদের একজন ইকুয়েডরের কূটনীতিক মারিয়া ফার্নান্দা এসপিনোসা ২০১৮-১৯ মেয়াদে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ছিলেন। তিনি ছিলেন ওই পদে বসা মাত্র চতুর্থ নারী। আর লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে প্রথম ব্যক্তি। ইকুয়েডরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি দুই দফা দায়িত্ব পালন করেছেন। তার অন্যতম প্রস্তাব হলো ‘প্রিভেনশন অ্যান্ড আর্লি অ্যাকশন হাব’ তৈরি করা। এর মাধ্যমে সম্ভাব্য সংকট আগেই শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। মারিয়ার আরেকটি অগ্রাধিকার হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নতুন প্রযুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক নিয়ম তৈরি করা। তবে আগস্টের ভোটে তিনি মাত্র চারটি ‘এনকারেজ’ ভোট পেয়েছেন। ফলে তার সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আরও পড়ুন জাতিসংঘের নতুন মানচিত্রে অরুণাচল-আকসাই চিন ‘পৃথক অঞ্চল’, ক্ষুব্ধ ভারত মিশেল ব্যাশেলে: অভিজ্ঞ হলেও পিছিয়ে চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল ব্যাশেলেও এবারের প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম আলোচিত নাম। তিনি দুই মেয়াদে চিলির প্রেসিডেন্ট ছিলেন। পরে ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন। ব্যাশেলে জাতিসংঘের আমলাতন্ত্র কমিয়ে সংস্থাটিকে আরও কার্যকর করতে চান। জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য ও দূষণকে তিনি ‘ত্রিমুখী বৈশ্বিক সংকট’ হিসেবে দেখেন। তবে স্ট্র পোলে তার অবস্থান নেমে গেছে। আগস্টের ভোটে তিনি মাত্র দুটি ‘এনকারেজ’ ভোট পেয়েছেন। বিপরীতে, ‘ডিসকারেজ’ ভোট পেয়েছেন ছয়টি। আফ্রিকার প্রার্থীরাও রয়েছেন সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সালও প্রতিযোগিতায় রয়েছেন। তিনি ২০১২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সেনেগালের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তার প্রচারের মূল বক্তব্য ‘নতুন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা’। আফ্রিকার স্বার্থকে জাতিসংঘের আলোচনায় আরও গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন তিনি। উগান্ডার ওলার ওতুনুও একজন অভিজ্ঞ কূটনীতিক। জাতিসংঘে উগান্ডার রাষ্ট্রদূত এবং দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন তিনি। ১৯৯৭ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত শিশু ও সশস্ত্র সংঘাত বিষয়ে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। আগস্টের স্ট্র পোলে ওতুনু সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি দেখানো প্রার্থীদের একজন। তবে লাতিন আমেরিকার প্রার্থীকে বেছে নেওয়া এবং প্রথম নারী মহাসচিব নিয়োগের অনানুষ্ঠানিক প্রত্যাশা তার সম্ভাবনাকে কঠিন করে তুলছে। আরও একজন প্রার্থী, তবে সম্ভাবনা কম ইকুয়েডরের ইভন এ-বাকিও প্রতিযোগিতায় রয়েছেন। তাকে মনোনয়ন দিয়েছে টোঙ্গা। সংঘাত নিরসনকে তিনি তার প্রচারের কেন্দ্রে রেখেছেন। তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার এবং আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের জন্য স্থায়ী প্রতিনিধিত্বের দাবি জানিয়েছেন। আগস্টের স্ট্র পোলে তার ফল সবচেয়ে দুর্বল। তিনি কোনো ‘এনকারেজ’ ভোট পাননি। আটটি ‘ডিসকারেজ’ এবং সাতটি ‘নো ওপিনিয়ন’ ভোট পেয়েছেন। ফলে তার পক্ষে প্রতিযোগিতায় শক্ত অবস্থানে ফেরা কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত কে? এখন পর্যন্ত গায়ানার ক্যারোলিন রদ্রিগেস-বির্কেটই সবচেয়ে এগিয়ে। তবে জাতিসংঘ মহাসচিব নির্বাচনে শেষ মুহূর্তের কূটনীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো প্রার্থীকে শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন পেলেই হবে না। নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের ভেটোও এড়াতে হবে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হলে দর-কষাকষি ও কূটনৈতিক তৎপরতা আরও বাড়বে। নতুন মহাসচিব আগামী ১ জানুয়ারি দায়িত্ব নেবেন। ততদিনে প্রশ্নটির উত্তরও মিলবে—জাতিসংঘের ‘পৃথিবীর সবচেয়ে অসম্ভব চাকরি’ এবার কার হাতে যাচ্ছে? সূত্র: মিডল ইস্ট আইকেএএ/

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
সৌদি আরবের দুই এলাকায় জরুরি সতর্কতা
সৌদি আরবের দুই এলাকায় জরুরি সতর্কতা

সৌদি আরবের খামিস মুশাইত ও আবহা এলাকায় জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ এ সতর্কতা জারি করেছে। এদিকে ইয়েমেন সরকারের বিমানবাহিনী দেশটির ধুবাব ও মোচা এলাকায় হুথিদের সরঞ্জাম, সমাবেশ ও সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে। ইয়েমেন সরকারের বাহিনীর মুখপাত্র মাজিদ আবদুল্লাহ আল-নুজাইলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ দাবি করেন। তিনি জানান, তাইজ প্রদেশের ধুবাব ও মোচা এলাকার ‘কিল বক্স’ হিসেবে চিহ্নিত স্থানে এসব হামলা চালানো হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী তাইজ শহর থেকে মোচা যাওয়ার সড়কটির আশপাশে সামরিক এলাকা ঘোষণা করে। একই সঙ্গে বেসামরিক নাগরিকদের ওই সড়ক এড়িয়ে চলার সতর্কতা দেওয়া হয়। এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে আকস্মিক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে মোচা দখল করে নেয় হুথিরা। এর ফলে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বড় একটি অংশে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী হয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা এমএসএম

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
জার্মানির কট্টর ডানপন্থি এএফডির বিরুদ্ধে লাখো মানুষের বিক্ষোভ
জার্মানির কট্টর ডানপন্থি এএফডির বিরুদ্ধে লাখো মানুষের বিক্ষোভ

জার্মানিতে কট্টর ডানপন্থি অলটারনেটিভ ফর জার্মানির (এএফডি) উত্থান নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই এবার রাজপথে নেমেছেন লাখো মানুষ। সম্প্রতি দলটির নির্বাচনি সাফল্যের পর এএফডিকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দেশটির রাজধানী বার্লিন, হামবুর্গ ও মিউনিখসহ জার্মানির প্রায় ২০টি শহরে বিক্ষোভ করেন মানুষ। আয়োজকদের হিসাবে, এসব কর্মসূচিতে প্রায় দেড় লাখ মানুষ অংশ নেন। এএফডিকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে এসব বিক্ষোভের আয়োজন করে অভিযান পরিচালনাকারী সংগঠন প্রুফ। বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল নানা ধরনের প্ল্যাকার্ড। কোনোটিতে লেখা ছিল, ‘এএফডিকে এখনই নিষিদ্ধ করুন’। আবার কোনোটিতে ছিল, ‘গণতন্ত্রের কোনো বিকল্প নেই’। আরও পড়ুন জার্মান চ্যান্সেলরের বিরুদ্ধে মামলা নাগরিক অধিকার ও বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে জনমত তৈরিতে কাজ করা সংগঠন ক্যাম্প্যাক্টও বিক্ষোভে অংশ নেয়। সংগঠনটির প্রধান ক্রিস্টফ বাউৎস বলেন, সংবিধানের শত্রুদের সরকার পরিচালনার ক্ষমতায় যাওয়া ঠেকাতে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ রাজপথে নেমেছেন। ক্যাম্প্যাক্টের হিসাবে, হামবুর্গে প্রায় ২৫ হাজার এবং মিউনিখে ১২ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। বার্লিনেও কয়েক হাজার মানুষ আলাদা কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে, বার্লিনে এএফডিও পাল্টা সমাবেশ করেছে। এতে এএফডির বার্লিন রাজ্য শাখার নেত্রী ও আসন্ন আঞ্চলিক নির্বাচনে দলটির প্রধান প্রার্থী ক্রিস্টিন ব্রিঙ্কার অংশ নেন। আরও পড়ুন জার্মানিতে কট্টর ডানপন্থিদের উত্থান, অভিবাসন নিয়ে বড় বার্তা গত ৬ সেপ্টেম্বর পূর্ব জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনে এএফডি প্রায় ৪৪ শতাংশ ভোট পায়। দলটি চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের নেতৃত্বাধীন ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন বা সিডিইউকে বড় ব্যবধানে পেছনে ফেলে। সিডিইউ পেয়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ ভোট। এ নির্বাচনে এএফডির এই সাফল্যের পরই দলটির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ আরও জোরালো হয়েছে। নির্বাচনটির আগে এএফডির ‘রিমিগ্রেশন’ নীতি নিয়েও জার্মানিতে বিতর্ক তৈরি হয়। গত বুধবার জার্মান পার্লামেন্ট বুন্ডেস্টাগে অভিবাসন নিয়ে বিতর্কের সময় চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ এ নীতির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বংশপরিচয় বা গায়ের রঙের ভিত্তিতে মানুষকে জার্মানি থেকে বের করে দেওয়ার কথা এএফডির নীতিতে বলা হচ্ছে। তার মতে, এ ধরনের নীতি ‘জাতিগত নিধনের’ সমান। এর জেরে মের্জের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ করে এএফডি। আরও পড়ুন জার্মানিতে কট্টরপন্থিদের উত্থানে ‘হৃদয় রক্তাক্ত’ মেরকেলের এদিকে, অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের পাশাপাশি এএফডির রাশিয়ার প্রতিও তুলনামূলক বন্ধুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে। স্যাক্সনি-আনহাল্টের নির্বাচনে দলটি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। ৮৩ আসনের রাজ্য পার্লামেন্টে এএফডি ৩৯টি আসন পেতে পারে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য দলটির আরও তিনটি আসন প্রয়োজন। এএফডির এ ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় জার্মানির অনেক মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে, দেশটির নাৎসি অতীতের কারণে দলটির উত্থান নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে। এর মধ্যেই এএফডিকে নিষিদ্ধ করার দাবিও জোরালো হচ্ছে। তবে, জার্মানিতে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়া আইনগতভাবে খুবই জটিল। সূত্র: আল-জাজিরা এমডিআরএইচ/

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
সৌদি আরবে একের পর এক হামলা, মক্কা চুক্তি কি এবার কার্যকর হবে?
সৌদি আরবে একের পর এক হামলা, মক্কা চুক্তি কি এবার কার্যকর হবে?

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ক্রমেই আরও জটিল হয়ে উঠছে। সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও এলাকায় একের পর এক হামলা চালানো হচ্ছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের অভ্যন্তরে হামলার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেবকে হুমকির মুখে ফেলেছে। একই সময়ে ইরাক থেকেও সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার জেরে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ একটি তেল পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হয়েছে। ফলে হরমুজ প্রণালির পর বাব আল-মান্দেবও যদি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ও আঞ্চলিক বাণিজ্য বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতেই সামনে এসেছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে করা ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’। চুক্তির আওতায় কোনো সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দুই দেশ কীভাবে পাশে দাঁড়াবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। জাজানে ফের হুথি হামলা সর্বশেষ সৌদি আরবের জাজান প্রদেশে হামলা চালিয়েছে হুথিরা। সৌদি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, রোববার একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন জাজানের আল-তুয়াল এলাকায় আঘাত হানে। এতে একটি মসজিদসহ বেশ কয়েকটি বাড়ি ও গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাজান ইয়েমেন সীমান্তবর্তী একটি প্রদেশ। সৌদি কর্তৃপক্ষ হুথিদের এই হামলাকে বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। এর আগে হুথিরা সৌদির নাজরান প্রদেশের শারুরাহ সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালানোর দাবি করে। গত ৮ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় বড় ধরনের হামলা চালানো হয়। আবহা, খামিস মুশাইত, জিজান ও নাজরানকে লক্ষ্য করে চালানো ওই হামলায় নারী ও শিশুসহ ৭৩ জন আহত হন বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ইরাক থেকেও তেল স্থাপনায় হামলা শুধু ইয়েমেন নয়, ইরাক থেকেও সৌদি আরবের ওপর হামলা হয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর ইরাক থেকে ছোড়া ড্রোন হামলার পর সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। ইরাক সরকার স্বীকার করেছে, হামলাটি ইরানের সীমান্তবর্তী মাইসান প্রদেশ থেকে চালানো হয়েছিল। ঘটনার পর ওই প্রদেশের একজন সামরিক কমান্ডারকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে তদন্ত শুরু করেছে বাগদাদ। প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন সৌদি আরবের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি তেল বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে পাঠানো সম্ভব হয়। পাইপলাইনটি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশ পরিবহন করা হয়। ফলে এটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে আন্তর্জাতিক তেলবাজারেও প্রভাব পড়তে পারে। আপাতত পাল্টা হামলা নয় ইরাক থেকে হামলার পরও সৌদি আরব তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেয়নি। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার পর রিয়াদ আপাতত সংযত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আরও পড়ুন>সৌদিতে হুথিদের হামলা, মসজিদসহ বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্তসৌদির তেল পাইপলাইনে হামলা, যা বলল পাকিস্তানইয়েমেন যুদ্ধে কারা জড়িত, কার কী ভূমিকা? সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করে হামলা বন্ধে বাগদাদ যে উদ্যোগ নেবে, সৌদি আরব তা সমর্থন করবে। তবে নিজেদের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকারও তারা সংরক্ষণ করছে। মক্কা চুক্তির সামনে বড় পরীক্ষা সৌদি আরবের ওপর ধারাবাহিক হামলা এমন সময়ে হচ্ছে, যখন দেশটি পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে নতুন প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তুলছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরব ও পাকিস্তান পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি করে। চলতি বছরের আগস্টে তুরস্কও এতে যুক্ত হলে এটি ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে পরিচিতি পায়। তিন দেশ রিয়াদে একটি যৌথ সচিবালয়ও গঠন করেছে। চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো তিন দেশের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করা। তবে কোনো সদস্য আক্রান্ত হলে অন্য দেশগুলো ঠিক কী ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেবে, তার বিস্তারিত কাঠামো এখনো পুরোপুরি প্রকাশ্যে আসেনি। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ অবশ্য সম্প্রতি বলেছেন, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে বিনা উসকানিতে হামলা হলে কিংবা ইয়েমেনের সংঘাত সৌদি ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়লে মক্কা চুক্তি কার্যকর হবে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এর আগে চুক্তিটির কাঠামোকে ন্যাটোর সঙ্গে তুলনা করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আক্রান্ত দেশকেই প্রথমে জানাতে হবে কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন। সেই সহায়তা সরাসরি সামরিক অভিযান থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, গোয়েন্দা তথ্য বা সামরিক সরঞ্জাম—যেকোনো কিছু হতে পারে। পাকিস্তান কি ইয়েমেনে সেনা পাঠাবে? এখন পর্যন্ত সৌদি আরব আনুষ্ঠানিকভাবে মক্কা চুক্তি সক্রিয় করেনি। ফলে পাকিস্তান বা তুরস্কের সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের প্রশ্নও ওঠেনি। তবে পরিস্থিতির অবনতি হলে পাকিস্তান সৌদি আরবকে বিমান প্রতিরক্ষা, সামরিক সরঞ্জাম ও গোয়েন্দা সহায়তা বাড়াতে পারে। সৌদি আরবে এরইমধ্যে পাকিস্তানের প্রায় ১৬টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান, বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং কয়েক হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে। তবে ইয়েমেনের ভেতরে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে পাকিস্তানি সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা আপাতত কম। আফগানিস্তান যুদ্ধে জড়ানোর তিক্ত অভিজ্ঞতা পাকিস্তানকে এ ধরনের সংঘাতে সতর্ক করে তুলেছে। ইরান ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়ালে পাকিস্তানের পশ্চিম সীমান্তে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে অর্থনীতি, সাম্প্রদায়িক ভারসাম্য ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বড় চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে সরাসরি যুদ্ধে যাওয়ার পক্ষে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি করাও কঠিন হতে পারে। কূটনীতিতেই জোর ইসলামাবাদের এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সামরিক পদক্ষেপের চেয়ে কূটনৈতিক উদ্যোগকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে আলোচনা করেছেন। ইসলামাবাদ ইরানকে হুথিদের সৌদি আরবে হামলা এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালিকে হুমকির মুখে ফেলা থেকে বিরত রাখার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় পাকিস্তানের অঙ্গীকারের কথাও তেহরানকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরও পড়ুন>সৌদিতে হুথিদের হামলা, মসজিদসহ বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্তসৌদির তেল পাইপলাইনে হামলা, যা বলল পাকিস্তানইয়েমেন যুদ্ধে কারা জড়িত, কার কী ভূমিকা? তুরস্কও কূটনৈতিকভাবে ইরান ও হুথিদের সংযত করার চেষ্টা করতে পারে। সামনে কী হতে পারে? হুথিদের হামলা অব্যাহত থাকলে পাকিস্তান ও তুরস্ক প্রথম পর্যায়ে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে পারে। বিমান প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি বাব আল-মান্দেবের নিরাপত্তায় বহুজাতিক নৌজোট গঠনের উদ্যোগেও পাকিস্তান ভূমিকা রাখতে পারে। অর্থাৎ মক্কা চুক্তি কার্যকর হওয়ার অর্থ অবিলম্বে ইয়েমেনে পাকিস্তানি বা তুর্কি সেনা পাঠানো নয়। বরং সৌদি আরব কী ধরনের সহায়তা চাইছে, তার ওপরই প্রতিক্রিয়ার মাত্রা নির্ভর করবে। মক্কা চুক্তি এখনো একটি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো। এর যৌথ সামরিক প্রতিক্রিয়া, পরামর্শ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের নিয়ম পুরোপুরি গড়ে উঠতে সময় লাগবে। কিন্তু সৌদি আরবের ওপর ধারাবাহিক হামলা এই চুক্তির জন্য প্রথম বড় বাস্তব পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে। পাকিস্তানের জন্য সবচেয়ে সম্ভাব্য পথ হতে পারে সৌদির প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করা, ইরানের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়ানো এবং বাব আল-মান্দেবের নিরাপত্তায় আন্তর্জাতিক উদ্যোগকে সমর্থন করা। এতে একদিকে রিয়াদের নিরাপত্তার প্রতি ইসলামাবাদের প্রতিশ্রুতি বজায় থাকবে, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও কম থাকবে। শেষ পর্যন্ত মক্কা চুক্তি কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে সৌদি আরব আক্রান্ত হলে তিন দেশ কীভাবে সমন্বিত সিদ্ধান্ত নেয় এবং সামরিক সহযোগিতার সীমা কোথায় নির্ধারণ করে তার ওপর। সূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স, বিবিসি এমএসএম

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
উচ্চ করের চাপে যুক্তরাজ্য ছাড়ছেন ধনীরা, সুযোগ নিচ্ছে গ্রিস, ইতালি
উচ্চ করের চাপে যুক্তরাজ্য ছাড়ছেন ধনীরা, সুযোগ নিচ্ছে গ্রিস, ইতালি

উচ্চ কর আর ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে যুক্তরাজ্য ছাড়ছেন ধনী ব্যক্তি ও বিনিয়োগকারীরা। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে গ্রিস, ইতালিসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ করসুবিধা দিয়ে ধনীদের আকৃষ্ট করছে।সর্বশেষ যুক্তরাজ্য ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেশটির ধনকুবের ক্রিস রোকোস। হেজ ফান্ড রোকোস ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা তিনি, যুক্তরাজ্যের অন্যতম শীর্ষ করদাতা। দাতব্যকাজে দানধ্যান করার জন্যও পরিচিতি আছে রোকোসের। কিন্তু সেই তিনি গ্রিসে চলে যাচ্ছেন।রোকোসের এ সিদ্ধান্ত ব্রিটিশ সরকারের জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। দেশটিতে ধনী ব্যক্তি ও বিনিয়োগকারীদের ওপর করের চাপ কয়েক বছর ধরে বাড়ছে। একই সময়ে ধনী ব্যক্তি ও তাঁদের পরামর্শকেরা বলছেন, ব্যবসা ও রাজনৈতিক নীতিতে ঘন ঘন পরিবর্তনের কারণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।গত এক দশকে যুক্তরাজ্যে ধনী ব্যক্তিদের করব্যবস্থায় বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিদেশে স্থায়ী আবাস আছে—এমন ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ করসুবিধা বা ‘নন-ডম’ ব্যবস্থা ২০২৪ সালের মার্চে বাতিল করা হয়। এখানেই শেষ নয়; যাঁরা এ ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তাঁদের ওপর করের চাপ বাড়ানো হয়েছে।এ ছাড়া গত দুই বছরে উত্তরাধিকার, পেনশন তহবিল, প্রাইভেট ইকুইটি বিনিয়োগের মুনাফা, নিয়োগকর্তার জাতীয় বিমা চাঁদা ও মূলধনি মুনাফার ওপর কর বাড়ানো হয়েছে। ব্যাংকগুলোর ওপর উইন্ডফল ট্যাক্স আরোপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী জন হিলি। ফলে ব্যবসায়ী ও ধনী ব্যক্তিদের আশঙ্কা, তাঁদের করভার আরও বাড়তে পারে।বিডিওর ব্যক্তিগত করবিষয়ক অংশীদার এলসা লিটলউড বলেন, তাঁদের অনেক গ্রাহক মনে করছেন, যুক্তরাজ্যে করব্যবস্থায় এত বেশি পরিবর্তন এসেছে যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা কঠিন। তাঁরা এখন করব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা ও নিশ্চয়তা চান।যুক্তরাজ্য থেকে কতজন ধনী ব্যক্তি চলে যাচ্ছেন, তার নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া কঠিন। ব্রিটিশ সরকারের রাজস্ব বিভাগ এইচএম রেভিনিউ অ্যান্ড কাস্টমসের (এইচএমআরসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ করবর্ষে নন-ডম করদাতার সংখ্যা ছিল ৭৩ হাজার ৪০০। আগের বছরের তুলনায় তা মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বা প্রায় ৪০০ জন কমেছে।তবে বেসরকারি ব্যাংক, সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ও কর পরামর্শকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাস্তবে দেশ ছাড়া ব্যক্তির সংখ্যা সরকারি পরিসংখ্যানের চেয়ে বেশি হতে পারে।অতিধনী ব্যক্তিদের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ হলো, যুক্তরাজ্যের উত্তরাধিকার কর। নির্দিষ্ট সীমার বেশি সম্পদের ওপর এই করের হার ৪০ শতাংশ। নতুন নিয়মে বিদেশে থাকা সম্পদও যুক্তরাজ্যের উত্তরাধিকার করের আওতায় এসেছে।এক আন্তর্জাতিক প্রাইভেট ইকুইটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী বলেন, তাঁর পরিচিত অনেক ব্যক্তি যুক্তরাজ্য ছেড়ে গেছেন। তাঁদের বেশির ভাগের বক্তব্য, বিদেশি সম্পদের ওপর উত্তরাধিকার কর তুলে দেওয়া হলে যুক্তরাজ্যে ফিরে আসবেন।ব্যবসায়িক সম্পদের ক্ষেত্রেও উত্তরাধিকার করের ছাড় কমানো হয়েছে। নতুন নিয়মে ১০ লাখ পাউন্ডের বেশি মূল্যের ব্যবসায়িক সম্পদের ওপর ২০ শতাংশ হারে উত্তরাধিকার কর দিতে হবে। এতে পারিবারিক ব্যবসাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।আইনি প্রতিষ্ঠান উইদার্সের অংশীদার ক্রিস গ্রোভস বলেন, কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে যদি হঠাৎ তার মোট মূল্যের ২০ শতাংশ নগদ অর্থে পরিশোধ করতে হয়, তাহলে বিষয়টি প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্বের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি হতে পারে। করব্যবস্থায় পরিবর্তনের কারণে অনেক ব্যবসায়ীর আশঙ্কা, ভবিষ্যতে তাঁদের উত্তরসূরিদের কর পরিশোধের অর্থ জোগাড় করতে ব্যবসার অংশবিশেষ, এমনকি পুরো ব্যবসাই বিক্রি করে দিতে হতে পারে।ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী জন হিলি বলেছেন, যুক্তরাজ্য হবে ‘সম্পদ সৃষ্টির দেশ’। পুরোনো নন-ডম ব্যবস্থা বাতিলের পর নতুন করব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এতে যোগ্য নতুন করদাতারা প্রথম চার বছর বিদেশি আয় ও মুনাফার ওপর পুরো করছাড় পাবেন।তবে কর পরামর্শকেরা এ সুবিধা চার বছরের পরিবর্তে ১০ বছর করার পরামর্শ দিয়েছেন। ইতালি ও গ্রিসের মতো নির্দিষ্ট হারে করব্যবস্থা চালুর প্রস্তাবও এসেছে। তাঁদের মতে, এতে উচ্চ আয়ের ব্যক্তি ও বিনিয়োগকারীদের যুক্তরাজ্যে আকৃষ্ট করা সহজ হবে।এর মধ্যে যুক্তরাজ্যভিত্তিক এক হেজ ফান্ড ব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, দেশটির করব্যবস্থা আরও কঠোর হলে ব্যবসা জুরিখে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি আছে, দ্রুতই তা করবেন তিনি।যুক্তরাষ্ট্রের এক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী বলেন, যেসব দেশের সঙ্গে তাঁদের ব্যবসা, সেই দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যেই কর সবচেয়ে বেশি। ব্যাংকের ওপর নতুন করারোপ করা হলে যুক্তরাজ্যে আর্থিক খাতে কর্মসংস্থান কমতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।অন্যদিকে গ্রিস, ইতালিসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ যুক্তরাজ্যের এ পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে ধনী ব্যক্তি ও বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে। করসুবিধার পাশাপাশি এসব দেশের বড় শহরগুলো এখন আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী ও ধনী ব্যক্তিদের বসবাসের জন্য আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
জিনপিংকে দেখে বক্তব্য থামিয়ে দিলেন মোদী, ভিডিও ভাইরাল
জিনপিংকে দেখে বক্তব্য থামিয়ে দিলেন মোদী, ভিডিও ভাইরাল

নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় হঠাৎ কয়েক মুহূর্তের জন্য থেমে গেলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দিকে তাকিয়ে বক্তব্য থামান তিনি। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ব্রিকস নেতাদের উদ্দেশে উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। ক্যামেরায় ধরা পড়া ওই মুহূর্তের ভিডিও এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বক্তব্যের মাঝামাঝি সময়ে মোদী চীনা প্রেসিডেন্টের দিকে তাকিয়ে তার দোভাষীর কাছে কী হয়েছে জানতে চান। আরও পড়ুন ব্রিকসের মঞ্চে বন্ধুত্বের ছবি, আড়ালে ভিন্ন হিসাব মোদী বলেন, ‘সব ঠিক আছে তো?’ উত্তর না পেয়ে তিনি আবারও একই প্রশ্ন করেন। কয়েক মুহূর্ত অপেক্ষা করার পর জিনপিং মাথা নেড়ে সব ঠিক আছে বলে ইঙ্গিত দেন। এরপর আবার বক্তব্য শুরু করেন মোদী। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী কেন ওই মুহূর্তে বক্তব্য থামিয়েছিলেন, তাৎক্ষণিকভাবে এর কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। সাত বছর পর ভারতে জিনপিং দীর্ঘ সাত বছর পর ভারত সফরে গেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। শনিবার নয়াদিল্লিতে পৌঁছে তিনি ব্রিকস সম্মেলনের বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নেন। আরও পড়ুন দিল্লিতে থাকলেও মোদীর ভোজে অংশ নেননি শি জিনপিং দিনভর সম্মেলনের কার্যক্রমের পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও করেন জিনপিং। ব্রিকস সম্মেলনের ভেন্যু ভারত মণ্ডপমে দুইদিনের বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নেন চীনা প্রেসিডেন্ট। অন্য নেতাদের সঙ্গে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন তিনি। মোদীর দেওয়া নৈশভোজে ছিলেন না জিনপিং তবে শনিবার রাতে নরেন্দ্র মোদীর দেওয়া নৈশভোজেও অংশ নেননি চীনা প্রেসিডেন্ট। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ ভ্রমণ ও ব্যস্ত কর্মসূচির কারণে ক্লান্ত থাকায় নৈশভোজে যাননি তিনি। সময় পরিবর্তনের প্রভাবও তার ওপর পড়েছিল বলে জানা গেছে। আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালিদ বিন মোহাম্মদও ওই নৈশভোজে অংশ নেননি। নৈশভোজে না গেলেও সফরের পুরো সময়ই ব্যস্ত কর্মসূচিতে ছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট। সূত্র: এনডিটিভিকেএএ/

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ঢুকে পড়েছে ২৫০ ইসরায়েলি
আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ঢুকে পড়েছে ২৫০ ইসরায়েলি

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রায় ২৫০ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী প্রবেশ করেছেন। এ সময় ইসরায়েলি সেনাদের সুরক্ষায় তারা সেখানে প্রার্থনা ও বিভিন্ন ধর্মীয় আচার পালন করেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা। আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে অমুসলিমদের প্রবেশের অনুমতি রয়েছে। তবে সেখানে প্রার্থনা বা ধর্মীয় আচার পালন করার অনুমতি নেই। ১৯৬৭ সালে ইসরায়েল ও বিভিন্ন পুক্ষের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত ‘স্ট্যাটাস কো’ ব্যবস্থার অধীনে এই নিয়ম চালু রয়েছে। ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান হিসেবে বিবেচিত আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণটি দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের অন্যতম স্পর্শকাতর এলাকা। ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সেখানে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ২০২২ সালে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি একাধিকবার আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেছেন। এসব ঘটনাকে ফিলিস্তিনিরা পবিত্র স্থানের মর্যাদা ও দীর্ঘদিনের প্রচলিত ব্যবস্থার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন। আল-আকসা প্রাঙ্গণে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের প্রবেশ ও সেখানে ধর্মীয় আচার পালনের ঘটনা নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা এমএসএম

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে, বন্ধ রামপালের আরেক ইউনিট
আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে, বন্ধ রামপালের আরেক ইউনিট

কয়লা সংকটের কারণে এক মাস ধরে সীমিত বিদ্যুৎ উৎপাদন করে আসছিল ভারতে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র। এই পরিস্থিতির মধ্যে গত বুধবার রাত ১২টার দিকে কারিগরি ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। এতে উৎপাদন আরও কমায় দেশে লোডশেডিং বেড়ে যায়। আজ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) থেকে বন্ধ ইউনিট চালুর পর দুপুর থেকে উৎপাদন বাড়াচ্ছে তারা। আরও পড়ুন কারিগরি ত্রুটিতে আদানির এক ইউনিট বন্ধ, বাড়ছে লোডশেডিং রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি পিএলসির তথ্যে দেখা গেছে, দুপুর ১টা থেকে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ বেড়েছে। এসময় ৮৪৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে দেখা গেছে। এর আগে গত বুধবার থেকে ৭৫০ (কমবেশি) মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছিল। তবে আদানি বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর আগেই বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কারিগরি কারণে বন্ধ হয়ে গেছে বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট। এতে কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা কমে অর্ধেকে নেমেছে। ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত কয়লাচালিত রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি মাঝে কয়লা সংকটে উৎপাদন কমিয়েছিল। এখন কয়লার মজুত আছে। উৎপাদন হচ্ছিল ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি। হঠাৎ একটি ইউনিট বন্ধ হওয়ায় এটির উৎপাদন ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে গেছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, আদানি থেকে বিদ্যুৎ আসা শুরু হয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রামপালের ইউনিট-২ বন্ধ করা হয়েছে। কতদিন পর রামপালের ইউনিটটি চালু করা যাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইউনিট বন্ধের পর কুল ডাউন করতে হয়। এরপর সম্ভাবত ইন্ডিয়া থেকে দুজন প্রকৌশলী আসবে। আপাতত আইডিয়া করা যাচ্ছে না, দুদিন পর বলা যাবে৷ এখন প্রলিমিনারি পর্যায়ে। এনএস/এসএনআর

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
সিডনিতে বসছে অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশি চিকিৎসকদের সম্মেলন
সিডনিতে বসছে অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশি চিকিৎসকদের সম্মেলন

অস্ট্রেলিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চিকিৎসকদের সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ মেডিক্যাল সোসাইটিজ অব অস্ট্রেলিয়ার (এফবিএমএসএ) দুই দিনব্যাপী বার্ষিক সম্মেলন ও বৈজ্ঞানিক অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬। সিডনির পেনরিথ এলাকার ওয়েস্টার্ন সিডনি কনভেনশন সেন্টারে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর মেলবোর্নে সফল আয়োজনের পর এ বছর নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের সিডনিতে এই আয়োজন বসছে। সম্মেলনটিতে ইতোমধ্যে তিন শতাধিক চিকিৎসক নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। চিকিৎসকদের পরিবারসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক অতিথির উপস্থিতি প্রত্যাশা করছেন আয়োজকেরা। সম্মেলনটির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ‘বাংলাদেশ মেডিক্যাল সোসাইটি অব নিউ সাউথ ওয়েলস’। সম্মেলনের প্রথম দিন ২৬ সেপ্টেম্বর (শনিবার) বিকেল সাড়ে পাঁচটায় শুরু হবে উদ্বোধনী পর্ব, পারিবারিক সমাবেশ ও নৈশভোজ। এ পর্বে চিকিৎসক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি গান পরিবেশন করবেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত সুরকার ও সংগীতশিল্পী নকীব খান। দ্বিতীয় দিন ২৭ সেপ্টেম্বর (রোববার) সকাল আটটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত চলবে চিকিৎসকদের দিনব্যাপী পেশাগত ও বৈজ্ঞানিক অধিবেশন। এতে অভিজ্ঞ প্রবাসী চিকিৎসকেরা মূল বক্তা, আলোচক ও প্যানেল সদস্য হিসেবে বক্তব্য দেবেন। দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক অধিবেশনটি ‘রয়েল অস্ট্রেলিয়ান কলেজ অব জেনারেল প্র্যাকটিশনার্স’-এর পেশাগত অবিচ্ছিন্ন মানোন্নয়ন কার্যক্রম হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। গত বছর মেলবোর্ন সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন এফবিএমএসএর বর্তমান সভাপতি মোশারফ হোসেন খান এবারের সম্মেলনে বাংলাদেশ সরকারের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা অংশ নিচ্ছেন। অস্ট্রেলিয়ায় অর্জিত চিকিৎসকদের আধুনিক অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে যৌথ প্রকল্প গ্রহণ এবং একটি প্রাতিষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে। সম্মেলন নিয়ে এফবিএমএসএর বর্তমান সভাপতি মোশারফ হোসেন খান বলেন, অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের চিকিৎসকদের একই ছাতার নিচে আনা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়নে ভূমিকা রাখাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। চিকিৎসকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, নতুনদের মূলধারার কর্মসংস্থানে সহায়তা এবং প্রবাসে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে দেশীয় সংস্কৃতির যোগসূত্র তৈরিতে এই সংগঠনটি ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: dp@prothomalo.com

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নেবেন বাংলাদেশের স্পিকার
খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নেবেন বাংলাদেশের স্পিকার

  ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের আমন্ত্রণে খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে তেহরান যাচ্ছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে অংশ নিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছেন দেশটির স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। বাংলাদেশের স্পিকার তেহরান যাবেন, তিনি খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অংশ নেবেন। খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে কয়েকদিনের আয়োজন করছে ইরান। তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শুরু হবে আগামী ৪ জুলাই। ওইদিন হবে তার প্রথম জানাজা। এরপর রাজধানীর উপকণ্ঠের কোম শহরে ৭ জুলাই হবে দ্বিতীয় জানাজা। সবশেষ ৯ জুলাই আরেকবার জানাজা শেষে তাকে দক্ষিণপূর্বাঞ্চলের মাশহাদে দাফন করা হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা চালায়। ওই হামলার শুরুতেই পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ প্রাণ হারান ৮৬ বছর বয়সী আলি খামেনি। নিহত হওয়ার আগে তিনি দীর্ঘ ৩৬ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করেছেন

News জুন ৩০, ২০২৬ 0
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

Top week

লোহিত সাগরে হুথির আধিপত্যে ইরানের লাভ কোথায়?
জাতীয়

লোহিত সাগরে হুথির আধিপত্যে ইরানের লাভ কোথায়?

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0