জননিরাপত্তা রক্ষায় একটি এলিট ফোর্স লাগবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, একটা এডহক ভিত্তিতে র্যাব পরিচালিত হচ্ছে। এটা ঠিক নয়। তাই এখন র্যাবের জন্য আইন করা হচ্ছে।
আজ সোমবার (১৮ মে) দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলায় র্যাব সদর দফতরে র্যাবের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে এ কথা জানান তিনি।
তিনি বলেন, আগামী দিনে সম্পূর্ণভাবে মানবাধিকারকে সমুন্নত রেখে একটি নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছি। যে আইনের অধীনে একটি এলিট ফোর্স হিসেবে একটা বাহিনী থাকবে। নতুন প্রত্যাশা অনুযায়ী জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আগামী দিনে সম্পূর্ণভাবে মানবাধিকারকে সমুন্নত রেখে আমরা একটি নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছি। যে আইনের অধীনে এলিট ফোর্স হিসেবে একটি বাহিনী থাকবে। আমরা র্যাবের নাম আবার রিনেম করবো কিনা বা অন্য নতুন এলিট ফোর্স আমরা রেইজ করবো কিনা সেটা এখনো চিন্তাভাবনার বিষয়, সরকার বিবেচনা করছে। তবে সব ক্ষেত্রেই ফোর্সের ক্ষেত্রেই আমরা জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা, ট্রান্সপারেন্সি এবং অ্যাকাউন্ট্যাবিলিটি আমরা এনশিওর করবো।
তিনি বলেন, অথরিটি থাকবে রেসপন্সিবিলিটি থাকবে। সঙ্গে সঙ্গে সেই বাহিনীর ট্রান্সপারেন্সি এবং অ্যাকাউন্ট্যাবিলিটি নিশ্চিত করা হবে, সেই একই আইনে। সেভাবে আমরা আগামীতে আইনের শাসন চেষ্টা করবো এবং জননিরাপত্তা জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী সেটা হবে ইনশাল্লাহ।
র্যাবের মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে র্যাবের বিরুদ্ধে আমেরিকার আমেরিকা একটি স্যাংশন দিয়েছে। তো সেই স্যাংশন উইথড্র করতে আপনাদের কোনো উদ্যোগ রয়েছে কিনা? জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা জানি যে র্যাবের কিছু কর্মকর্তার কারণে প্রতিষ্ঠান হিসেবে র্যাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এমন কোনো প্রতিষ্ঠান ছিল না বিগত পতিত শাসন আমলে যে প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। সেটা পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রতিষ্ঠান হিসেবে।
‘কিন্তু আমাদের স্মরণ রাখতে হবে কয়েকজন কর্মকর্তার কর্মকাণ্ড পুরো প্রতিষ্ঠান দায় দায়িত্ব নিতে পারে না। আমরা এখন যার যার নিজস্ব আইনে সেই প্রতিষ্ঠানের আইনে সেই সব অফিসারদেরকে অ্যাকাউন্টেবল করার জন্য এবং বিচারের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য আমরা অলরেডি অনুশাসন দিয়েছি। কারণ প্রতিষ্ঠান দায়ী না। আইন আছে। প্রতিষ্ঠান কীভাবে চলবে কর্মকর্তারা কীভাবে সে আইন মেনে চলবে, পরিচালনা হবে। যদি কিছু সংখ্যক কর্মকর্তা কর্মচারী বিপথগ্রস্ত হয় বা বিপথে যায় তারা পার্সোনালি দায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠান দায়ী না। আমরা সেই দৃষ্টিতেই দেখি। ঠিক আমেরিকা যে সময় র্যাবের উপরে স্যাংশন দিয়েছিল সেই সময় র্যাব এমন কিছু কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। সেই সময় ফ্যাসিবাদী সরকারের যারা দণ্ডমণ্ড ছিলেন শেখ হাসিনা তার রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে তাদের উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য একদলীয় শাসন ব্যবস্থা এবং একদলীয় রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েমের জন্য যে উগ্রবাসনা তাদের ছিল সেটা কায়েমের জন্য। এভাবে অনেক প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করেছে। সেই কারণে র্যাবের উপরে যে স্যাংশনটা আমেরিকা ইমপোজ করেছে। সেটা এখনো বহাল। কিন্তু আমরা যদি এলিট ফোর্স হিসেবে একটা নতুন কোর্স রিনেম করি বা রেইজ করি সেখানে হয়তো তারা বিষয়টা পুনর্বিবেচনা করবেন বলে আশ করা যায় যে এখন অনেক কিছু বাকি আছে। দেখা যাক।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা একটা আইন ফ্রেম করার জন্য কমিটি করে দিয়েছি এবং সেই আইনটা আমি নিজে করবো এবং সেই আইনটা আমার সামনে এখনো আসেনি। আমি কিছু সময় দিয়েছি। সেখানে বিশ্লেষণ করার কাজ করছি। বর্তমানে র্যাব যে আইনি পরিচয় হচ্ছে সেটা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের একটা সার্ভিস প্রফেশনের উপরে দাঁড়িয়ে পরিচালিত হয়। এটা এডহক ভিত্তিতে চলেছে। একটা প্রতিষ্ঠান এভাবে এডহক ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়ার সুযোগ ছিল না। এখন আমরা সেটা আইন করবো আলাদা এনফোর্সের জন্য। সেখানে অথরিটি দেওয়া থাকবে। তাদের রেসপন্সিবিলিটি ফিক্সড করা থাকবে এবং সেই ক্ষেত্রে তাদের জবাবদিহিতা অ্যাকাউন্ট্যাবিলিটি এবং ট্রান্সপারেন্সি দেওয়া নিশ্চিত হবে। সেই হিসাবে আইনটা আসবে। এখনো ডিটেইলস বলার সময় আসেনি।
তিনি বলেন, এখন যেভাবে চলছে একটা ধারার অধীনে, সেটা তো আজকে না, সেটা আরো ১০/১২ বছর আগে থেকে হয়েছে এবং সেটা আমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আসার পরে দেখলাম যে, সেটা ঠিক না। একটা বাহিনী প্রতিষ্ঠা হয়েছে তার জন্য সুনির্দিষ্ট আইন থাকতে হবে এবং তাদের দায়িত্ব বণ্টন করা থাকবে, সেখানে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা থাকবে। সেই হিসাবেই অন্যান্য বাহিনী থাকবে। কিন্তু এই একটা নয়। তাই আমরা এখন সংশোধন করবো, নতুন প্রত্যাশা এবং প্রত্যাশা অনুযায়ী জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সেজন্য একটা এলিট ফোর্স দরকার হবে। তাদের যে ইকুইপমেন্টস লজিস্টিক ট্রেনিং ফ্যাসিলিটিস, অ্যাসেটস সবকিছু সেখানে যাবে।
রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে র্যাবকে ব্যবহার করা হয়েছে। র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তারাও বলেছেন যে তারা এভাবে কারো হাতিয়ার হতে চান না। আপনার সরকার সামনে নতুন যে এলিট ফোর্স নাম পরিবর্তন করে যে বাহিনীটা আসবে তাদেরকে যে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হবে না? এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মর্নিং সোজ দ্য ডে। তিন মাস হয়েছে। র্যাব কি ব্যবহৃত হয়েছে? পুলিশ ব্যবহৃত হয়েছে? অন্য কোনো বাহিনী ব্যবহৃত হয়েছে? পলিটিক্যাল উদ্দেশ্যে হয়েছে? সুতরাং মর্নিং শোজ দ্য ডে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় গুম সংক্রান্ত কমিশন গঠন ও ইনকোয়ারি করা হয়েছিল। সেখানের যে ফাইনাল রিপোর্টে উঠে এসেছিল র্যাব এবং বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর বিরুদ্ধে যে একটা মিলিটারি ইন্টার্নাল ইনকোয়ারি বোর্ড হয়েছিল সে বোর্ডটা বাতিল করে দেওয়া হয়েছে উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশের প্রেক্ষিতে। যে বোর্ডটা বন্ধ হয়ে গেল তদন্তের জায়গা থেকে যারা আসলো, এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত ছিল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কীভাবে হবে? জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আপনার কোয়েশ্চনটা সঠিক নয়। ইলিয়াস আলীর ওয়াইফ আইসিটি কোর্টে মামলা করেছেন। আমিও মামলা করেছি। আইসিটি কোর্টের একটা আইন আছে। সেই আইনটা সবচাইতে শক্ত আইন। গুম কমিশন যে করা হয়েছিল সেখানে কোনো সুনির্দিষ্টকরণ ছিল না। আইসিটি আইনের মধ্যে যদি আমরা সেই এমেন্ডমেন্টগুলো নিয়ে আসতে পারতাম, এখনো যেটা আমরা চেষ্টা করছি। তাহলে সব ধরনের গুমের বিচার ওখানে হবে। কেউ গুম হয়েছে, ফেরত আসে নাই। কেউ গুম হয়েছে, ফেরত এসেছে। কেউ গুমের হুমকি পেয়েছে। কেউ গুমের শিকার হয়েছে। বিভিন্ন রকমের ডেফিনেশন ওখানে আসতে পারবে। বিভিন্ন রকমের মেজারস নিয়ে যেতে পারবে। একটা কমিশন হলো সেখানে শুনানি হবে, মেজারস হবে না। অন্য একটা অথরিটি সেটা তদন্ত করবে। সেই অথরিটি আবার মামলা করবে। আমি ব্যক্তি হিসেবে ভিকটিম হলে আমি মামলা করতে পারবো না। এসব ডিবেটগুলো তো ছিল। আইনকানুনের ব্যাপার। এর চাইতে বেশি আইন বলা হতে পারবে না।
র্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির ও র্যাব মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমসহ দলটির সাতজন নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ধর্মের নামে রাজনীতি করে একটি দল মানুষের কাছে জান্নাতের টিকিট বিক্রির চেষ্টা করছে। অথচ তারাই এলাকায় দোজখের আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মাসকরা গ্রামে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বিএনপি নেতা মিলনের পরিবারের জন্য নবনির্মিত ঘরের চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘ইসলামের মূল শিক্ষা হচ্ছে মানবতার সেবা ও মানুষের কল্যাণে কাজ করা। কিন্তু ধর্মকে ব্যবহার করে একটি পক্ষ রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে। তারা মানুষের কল্যাণের পরিবর্তে রাজনৈতিক লাভের পেছনে ছুটছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী বারবার মানুষের সঙ্গে মোনাফেকি করেছে। এখন তারা ত্রাসের রাজনীতি ও সন্ত্রাসের রাজনীতি করছে।’ আরও পড়ুন রুহুল কবির রিজভী / দেশে আর যেন অন্ধকার-দুর্দিন ফিরে না আসে, সেদিকে সজাগ থাকতে হবে রিজভী বলেন, ‘আমরা বিএনপি পরিবারের পক্ষ থেকে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির জন্য এই ঘরটি উপহার দিয়েছি। বিএনপি সবসময় অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে।’ অনুষ্ঠানে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত মিলন পরিবারের পাঁচ সদস্যের হাতে নবনির্মিত ঘরের চাবি তুলে দেওয়া হয়। এসময় পরিবারটিকে একটি ছাগলও উপহার দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, সংগঠনটির সদস্যসচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হিরা, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কামরুল হুদাসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। জাহিদ পাটোয়ারী/এসআর/এএসএম
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলন। এছাড়া স্থানীয় নির্বাচনে সাধারণ মানুষ—বিশেষ করে ভূমিহীন, কৃষক, শ্রমিক, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ছয় দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সামনে মানববন্ধন থেকে এমন দাবি জানান সংগঠনটির নেতারা। পরে তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে স্মারকলিপিও দেন। ভূমিহীন আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শেখ নাসির উদ্দিনের সই করা স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে আগের যৌক্তিক পর্যায়ে ফিরিয়ে নিতে হবে। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়র প্রার্থীর জামানত ১০ হাজার টাকা, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের জামানত ৫ হাজার টাকা, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের জামানত ৩ হাজার টাকা এবং ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের জামানত ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে। জামানত যেন প্রার্থী হওয়ার পথে বাধা না হয় সংগঠনটির দাবি, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সামর্থ্য যেন কোনোভাবেই সাধারণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের পথে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়। তাদের মতে, জামানতের পরিমাণ বাড়ানো হলে অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল ব্যক্তিদের তুলনায় ভূমিহীন, কৃষক, শ্রমিক, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ আরও সংকুচিত হবে। আরও পড়ুন আগে স্থানীয় নির্বাচন চায় ভূমিহীন আন্দোলন এ কারণে অর্থনৈতিক সক্ষমতার ভিত্তিতে নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতে যেন সাধারণ মানুষের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়, সে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা। ভূমিহীন ও প্রান্তিকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দাবি ছয় দফার তৃতীয় দাবিতে ভূমিহীন, কৃষক, শ্রমিক, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর যোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ সহজ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। সংগঠনটির ভাষ্য, স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিত্বে এসব জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ সহজ না করলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা কঠিন হবে। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিতের দাবি স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও জবাবদিহিমূলক করতে নির্বাচন কমিশনকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলন। আরও পড়ুন প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম / স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন নেই যে কোনো দলের বৈধ প্রার্থী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন সংগঠনটি মনে করে, নির্বাচনে সব শ্রেণি ও পেশার মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। এজন্য কমিশনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্বাচনি ব্যবস্থায় সিদ্ধান্ত না নেওয়ার আহ্বান পঞ্চম দাবিতে এমন কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে, যার ফলে সাধারণ জনগণের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ সংকুচিত হয়। সংগঠনটির মতে, নির্বাচনি ব্যবস্থার যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। পুনর্বাসন, খাসজমির অধিকার ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ষষ্ঠ দাবিতে ভূমিহীন ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক ও সামাজিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আগে পুনর্বাসন, খাস জমির অধিকার এবং ভূমিহীন জনগণের পদে উন্নয়নের দাবি জানানো হয়েছে। এর আগে মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ভূমিহীন ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সমাজ ও রাষ্ট্রের মূলধারায় কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করতে তাদের পুনর্বাসন, খাসজমির অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করতে হবে। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে জনগণের ভোটাধিকার ও নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করতে সচেষ্ট থাকতে হবে। এমওএস/এমএমকে