ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর ডেঙ্গুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সময় হওয়ায় এসময়ে মশক নিধন ও জনসচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) চসিক জেনারেল হাসপাতালে ‘ডেঙ্গু ম্যানেজমেন্ট সেল’ উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। মেয়র বলেন, একটি মৃত্যুও আমাদের জন্য কাম্য নয়। ডেঙ্গু মোকাবিলায় চসিক প্রতিরোধমূলক ও চিকিৎসামূলক দুই ধরনের কার্যক্রম একসঙ্গে পরিচালনা করছে। তিনি জানান, ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগর, জেলার উপজেলা ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৮৮২ জন। এর মধ্যে মহানগরে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন। এ পর্যন্ত মহানগরে চারজন, উপজেলা পর্যায়ে সাতজন এবং অন্যান্য জেলায় একজনসহ মোট ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় চসিকের মশক নিধন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ক্রাশ প্রোগ্রাম ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে জানিয়ে মেয়র বলেন, লার্ভা ধ্বংসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্বীকৃত বিটিআই ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি এডাল্ট মশা নিয়ন্ত্রণেও নিয়মিত কার্যক্রম চলছে। চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর অতীত চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২২ সালে মহানগর ও জেলা মিলিয়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হন ৫ হাজার ৫৪৫ জন। ২০২৩ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৮৭ জনে। ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা কমে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ এবং ২০২৫ সালে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ জনে দাঁড়ায়। চলতি বছর এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৮৮২ জন। মেয়র জানান, ২০২২ সালে ডেঙ্গুতে ৪১ জন, ২০২৩ সালে ১০৭ জন, ২০২৪ সালে ৪৫ জন এবং ২০২৫ সালে ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছর এ পর্যন্ত মারা গেছেন ১২ জন। সেপ্টেম্বর মাসে মহানগরে ডেঙ্গুজনিত মৃত্যুর ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানান তিনি। নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ শুধু সিটি করপোরেশনের একার পক্ষে সম্ভব নয়। ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র, কনটেইনার, নির্মাণসামগ্রীসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো পরিষ্কার রাখতে হবে। বাড়ির ছাদ, বারান্দা ও ফুলের টব নিয়মিত পরিষ্কারের পাশাপাশি এসির পানি জমার স্থানও পরিষ্কার করতে হবে। কোথাও যেন তিনদিনের বেশি পানি জমে না থাকে, সেদিকে সবাইকে নজর দিতে বলেন মেয়র। ডেঙ্গু আক্রান্তদের জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি পর্যাপ্ত পানি, ডাবের পানি, ওরস্যালাইনসহ তরল খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেন। শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিলে রোগীর অবস্থা দ্রুত জটিল হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। মেয়র বলেন, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সময়। অতীতের পরিসংখ্যানও সেটিই বলছে। তাই এই সময়ে সবাইকে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে। সিটি করপোরেশন তার দায়িত্ব পালন করছে, এখন নগরবাসীকেও নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। অনুষ্ঠান শেষে মেয়র ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন। এমআরএএইচ/এমকেআর
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশেকে ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণ করার জন্য তেমন উৎসাহ ভারত থেকে দেখা যায়নি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সঠিক মর্যাদা দিয়ে ভারত আমন্ত্রণ করেনি। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ভোলা সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, ভারত পতিত সরকারের প্রধানমন্ত্রীকে তাদের দেশে আশ্রয় দিয়েছে। সেখানে বসে তাকে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছে। যেটা কাম্য নয়। ভারতের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক রাখা দরকার। কিন্তু ভারত যে সুসম্পর্ক চায়, সেটা দেখা যাচ্ছে না। কেবল মাত্র দুই দেশের কূটনৈতিক কথা বার্তা হচ্ছে। আমরা আশা করবো ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ভালো প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক থাকবে। তিনি আরও বলেন, একটি অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচার সরকার বিদায় নিয়েছে। প্রায় দুই বছর অন্তবর্তীকালীন সরকার ছিল। এ বছর ফেব্রুয়ারিতে ইতিহাসের সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ বিএনপিকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিয়েছে। সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস। তিনি বলেন, ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের দুশাসনের ফলে দেশের প্রতিটি স্তরে ও সকল ক্ষেত্র ধস নেমেছে। তারা হত্যা, খুন, গুম, টাকা পাচার, দুর্নীতিতে রেকর্ড করেছে। দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। এই পরিস্থিতি থেকে দেশের উন্নয়ন করতে সময় লাগবে। স্পিকার আরও বলেন, বর্তমানে দেশের জনগণ বাকস্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে। আওয়ামী লীগ আমলে সত্যি কথা বলা সম্ভব ছিল না। সত্যি কথা বলার কারণে অনেককে ক্রসফায়ারে জীবন দিতে হয়েছে। বহু মানুষ গুম হয়েছে। বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী ও পারভেজও সত্যি কথা বলার কারণে তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে নির্মমভাবে। এসময় ভোলা জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার শহীদুল্লাহ কাওছার, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর, সদস্য সচিব রাইসুল আলমসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। জুয়েল সাহা বিকাশ/এফএ
পটুয়াখালীর দুমকিতে সরকারি জনতা কলেজের মাঠে ফুটবল খেলতে গিয়ে মেশিনগানের একটি কার্তুজ পেয়েছে এক শিক্ষার্থী। ওই শিক্ষার্থী এটিকে খেলনা মনে করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে কার্তুজটি উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কলেজ মাঠে ফুটবল খেলছিল নবম শ্রেণির ছাত্র জিহাদুল ইসলাম জিসান। একপর্যায়ে মাঠে যাওয়া বল আনতে গিয়ে গাছের নিচে ইটের ফাঁকে তামার মতো দেখতে একটি বস্তু দেখতে পায় সে। পরে খেলনা ভেবে এটি বাড়িতে নিয়ে যায় জিসান। রোববার টিফিনের সময় বন্ধুদের বস্তুটি দেখানোর পর বিষয়টি স্থানীয় জিহাদ হোসাইনের নজরে আসে। তিনি বস্তুটি দেখে সন্দেহ প্রকাশ করে সঙ্গে সঙ্গে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দেন। পরে দুমকি থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কার্তুজটি উদ্ধার করেন। শিক্ষার্থী জিহাদুল ইসলাম জিসান বলে, ফুটবল খেলার সময় বল আনতে গিয়ে গাছের নিচে ইটের ফাঁকে তামার মতো দেখতে বস্তুটি দেখতে পাই। খেলনা মনে করে বাড়িতে নিয়ে আসি। পরদিন বড় ভাই জিহাদ হোসাইনকে দেখালে তিনি পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে এটি কার্তুজ বলে জানায়। দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি মেশিনগানের কার্তুজ বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এটি কীভাবে কলেজ চত্বরে এলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মাহমুদ হাসান রায়হান/এসআর/এএসএম
ডেঙ্গুর মৌসুমে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে অভিযান চালাচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। রাজধানীর ছয়টি এলাকায় অভিযান চালিয়ে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ২৮টি মামলা করেছেন সংস্থাটির ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসব মামলায় মোট ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। আজ রোববার মিরপুর-১০, রূপনগর, উত্তর পল্লবী, আগারগাঁও, উত্তরা-নিকুঞ্জ ও বারিধারা এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। ডিএনসিসির নিয়োজিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অতিস দশি চাকমা, এস এম রাসেল ইসলাম নূর, শরিফুল আলম তানভীর, প্রমথ রঞ্জন ঘটক ও দেদারুল ইসলামের নেতৃত্বে পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।ডিএনসিসি সূত্রে জানা যায়, আগামী তিন মাসের মশকনিধন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আজ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি খুঁজে দেখা হয়। যেখানে লার্ভা পাওয়া গেছে, সেখানেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।সবচেয়ে বেশি মামলা ও জরিমানা করা হয়েছে অঞ্চল-৬-এ। ওই অঞ্চলে মোট ১২টি মামলায় ৭৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। উত্তরা মডেল টাউনের ১১ নম্বর সেক্টর থেকে ১৪ নম্বর সেক্টর এবং তুরাগ থানাধীন ঢাকা উত্তর সিটির ৫১, ৫২, ৫৩ ও ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে এই এলাকা গঠিত।খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। ১৩ সেপ্টেম্বরএ ছাড়া অঞ্চল-৫ ও অঞ্চল-৪ দুটি অঞ্চলেই ৫টি করে ১০টি মামলা করা হয়। এর মধ্যে ৫ নম্বর অঞ্চলে ৪৫ হাজার এবং অঞ্চল-৪-এ ২৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আর অঞ্চল-২-এ দুটি মামলায় ২৫ হাজার টাকা, অঞ্চল-৩-এ একটি মামলায় ৫ হাজার টাকা এবং অঞ্চল-১-এ তিনটি মামলায় ৩ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।ঢাকা উত্তর সিটির অঞ্চল-৬-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, উত্তরা উত্তর মেট্রোস্টেশন থেকে দিয়াবাড়ি গোলচত্বর পর্যন্ত সারি সারি গাড়ি মেরামতের ওয়ার্কশপ রয়েছে। এসব ওয়ার্কশপে পরিত্যক্ত অনেক টায়ারে বৃষ্টির পানি জমে এডিসের লার্ভা জন্মেছে। ওই এলাকাতেই বেশির ভাগ জরিমানা করা হয়েছে। একটি ওয়ার্কশপকে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।ডিএনসিসি জানিয়েছে, আগামী তিন মাসের কর্মসূচিতে শুধু জরিমানা বা অভিযান নয়, মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে সোর্স রিডাকশন, লার্ভিসাইডিং, ছাদবাগান পরিদর্শন, মশকনিধনবিষয়ক মাইকিং, নোবেলিউরন ট্যাবলেট প্রয়োগ এবং জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ। এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরি করতে দিকনির্দেশনামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে আনন্দ-উচ্ছ্বাস নিয়ে বাড়ি ফিরছিল একটি পরিবার। কিন্তু চট্টগ্রামের কর্ণফুলী সেতু পার হয়ে কলেজ বাজার এলাকায় পৌঁছাতেই সেই আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয় বিষাদে। ইউটার্নে একটি কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে কনের ভাই-বোন, মামা ও মাইক্রোবাসচালকসহ চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কনের বাবা-মাসহ আরও ছয়জন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ১টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কলেজ বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—কনের ছোট ভাই নিয়াজ মোরশেদ (২৩), ছোট বোন মিনতাহ (২১), মামা ফেরদৌস আলম ফিরোজ (৬০) এবং মাইক্রোবাসচালক হাসান মাহমুদ মুন্না (৩৮)। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মারা যান কনের বড় মামা ফেরদৌস আলম ফিরোজ। হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান নিয়াজ মোরশেদ, মিনতাহ ও মাইক্রোবাসচালক হাসান মাহমুদ মুন্না। নিয়াজ মোরশেদ ও মিনতাহ ঈদগাঁও উপজেলা সদরের মাইজপাড়ার মনজুর আলমের সন্তান। ফেরদৌস আলম ফিরোজ ঈদগাঁওয়ের পোকখালীর পশ্চিম গোমাতলীর চরপাড়ার মৃত আবদুল করিম দফাদারের ছেলে। তিনি ঈদগাঁও বাসস্টেশনে আরাফাত শপিং কমপ্লেক্স নামে একটি মার্কেট গড়ে সেখানেই অবস্থান করতেন। অন্যদিকে মাইক্রোবাসচালক হাসান মাহমুদ মুন্না ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের নতুন অফিস এলাকার মোস্তাক আহমেদের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাইক্রোবাস চালাতেন বলে জানিয়েছেন মাইক্রো-কার সমিতির লাইন পরিচালক রোকন। এ ঘটনায় আহতরা হলেন, কনের বাবা মনজুর আলম (৫৮), মা নিলুফা ইয়াসমিন(৪৮), নিহত ফিরোজের বউ আরেফা বেগম (৫০), কনের চাচাত ভাই হেলাল উদ্দিন(৪৫), মনজুরের ছোট ভাই মীর কাশেম (৫৫) ও বন্ধু আবুল কালাম (৫৮)। জানা গেছে, পরিবারের মেঝ মেয়ের বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে। শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উপস্থিতিতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলে। অনুষ্ঠান শেষে কনের বাবা-মা, ভাই-বোন, মামা-মামী ও চাচা-চাচিসহ স্বজনরা মাইক্রোবাসে করে কক্সবাজারের ঈদগাঁও সদরের মাইজপাড়ার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। কনের চাচা ও ঈদগাঁও সেন্ট্রাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মামুনুর রশীদ জানান, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে সুন্দরভাবেই বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হয়। সবকিছু গুছিয়ে পরিবারের সদস্যরা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিন্তু কর্ণফুলী সেতু পার হয়ে টোল প্লাজা অতিক্রমের পর কলেজ বাজার এলাকায় পৌঁছালে একটি কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির সংঘর্ষ হয়। তিনি বলেন, ‘চাচাতো ভাই মনজুর আলম দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। তার তিন মেয়ে ও এক ছেলে। বড় মেয়েকে ঈদগাঁওতে এবং মেঝ মেয়েকে বাঁশখালীতে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। বরের স্বজনদের চাহিদা অনুযায়ী চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। সুন্দরভাবেই বিয়ে সম্পন্ন হয়। কিন্তু বাড়ি ফেরার পথে এমন দুর্ঘটনা ঘটবে, কেউ ভাবেনি।’ মনজুর আলমের প্রতিবেশী ও ঈদগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাজী ছৈয়দ আলম বলেন, মনজুর পরিবারটা গোছাতে প্রবাস থেকে একেবারে চলে এসেছিল। বাবার ভিটায় দু-রুমের একটি বাড়ি করেও সন্তানদের পড়ালেখার স্বার্থে চট্টগ্রামে অবস্থান করতেন। বড় দুই মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন করে বাকি দুজনকে গুছিয়ে দেওয়ার আগেই আল্লাহ শেষ দুই বাচ্চাকে একসঙ্গে নিয়ে গিয়ে নিঃস্ব করে দিয়েছে। মনজুরের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জেনেছি। এ দুর্ঘটনা এলাকাবাসীকে নিস্তব্ধ করে দিয়েছে। নিহতদের স্বজন স্থানীয় মেম্বার বজল আহমদ বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে মরদেহগুলো এলাকায় আনা হচ্ছে। এশার নামাজের পর ঈদগাঁও হাই স্কুল মাঠে তাদের জানাজা শেষে নিয়াজ মোরশেদ, মিনতাহা ও তাদের মামা ফেরদৌস আলম ফিরোজকে মেহেরঘোনা কবরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ঈদগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মংচিংনু মারমা বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। এটা খুবই মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। বিয়ের আনন্দটা বিষাদে রূপ নিয়েছে একটি দুর্ঘটনায়। পরিবারের অন্য স্বজনদের বিধাতা ধৈর্য ধারণের তাওফিক দিন।’ সায়ীদ আলমগীর/কেএইচকে/এএসএম
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৯২ রাউন্ড রিমফায়ার লং রাইফেলের গুলি উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৩)। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে পার্বতীপুর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের বাসুপাড়া মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব গুলি উদ্ধার করা হয়। র্যাব-১৩ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩-এর রংপুর সদর কোম্পানির একটি দল বাসুপাড়া মোড়ে বদরগঞ্জ-পার্বতীপুরগামী পাকা সড়কে তল্লাশি চালায়। এ সময় মালিকবিহীন পরিত্যক্ত দুটি ব্যাগ থেকে মোট ৯২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একটি ব্যাগে ৫০ রাউন্ড এবং অন্যটিতে ৪২ রাউন্ড গুলি ছিল। র্যাব-১৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, রোববার দুপুরে উদ্ধার করা গুলি সাধারণ ডায়েরির (জিডি) মাধ্যমে পার্বতীপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে র্যাবের অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। এমদাদুল হক মিলন/কেএইচকে
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে গোসলরত নারীদের গোপনে মোবাইলে ছবি ধারণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও শিশুসহ অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছেন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার পুকড়া ইউনিয়নের কাটখাল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করেন। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, কয়েক দিন আগে কাটখাল গ্রামের একটি রাস্তার পাশের পুকুরে পুকড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কাজী লুৎফুর রহমানের পক্ষের কয়েকজন নারী গোসল করছিলেন। এ সময় স্থানীয় এরাজত মিয়ার পক্ষের দুই ছেলের বিরুদ্ধে তাদের গোপনে মোবাইল ফোনে ছবি ধারণের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এর জেরে রোববার দুপুরে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে উভয়পক্ষের নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অর্ধশতাধিক লোক আহত হন। গুরুতর আহতদের হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজমুল হক বলেন, গোসলরত নারীদের গোপন ছবি মোবাইল ফোনে ধারণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/কেএইচকে/এএসএম
নতুন আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২৯ অনুযায়ী আমদানিকারকদের জন্য ওপেন অ্যাকাউন্ট পদ্ধতিতে মূল্য পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে ঋণপত্র (এলসি) ছাড়াই বিক্রয় চুক্তিপত্রের মাধ্যমে পণ্য আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে নিয়োজিত সব অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও প্রিন্সিপাল অফিসে পাঠানো এক সার্কুলারে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট। সার্কুলারে বলা হয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ২৪ আগস্ট আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২৯ জারি করেছে। নতুন আমদানি নীতি আদেশটি ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। পরবর্তী নতুন আমদানি নীতি আদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত এর বিধান কার্যকর থাকবে। আরও পড়ুন বিজিবিএর বিবৃতি / নিট ফেব্রিক আমদানি বন্ধ হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাত নতুন নীতির বিভিন্ন বিধান তুলে ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, আমদানি নীতি আদেশের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদে ওপেন অ্যাকাউন্ট পদ্ধতিতে মূল্য পরিশোধের সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে আমদানিযোগ্য পণ্যের ক্ষেত্রে নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এলসি না খুলে বিক্রয় চুক্তিপত্রের মাধ্যমে আমদানি করা যাবে। সার্কুলারে আরও বলা হয়, রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদনে ব্যবহৃত উপকরণ আমদানি ও সংরক্ষণের বিষয়ে নতুন আমদানি নীতিতে বিধান রাখা হয়েছে। ব্যাংক-টু-ব্যাংক ঋণপত্রের মাধ্যমে স্থানীয় উৎস থেকে স্থানীয় মুদ্রায় মূল্য পরিশোধের বিষয়েও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গত ১৩ আগস্ট জারি করা বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী, বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্সধারী রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণপত্র খোলার অনুমতি রয়েছে। নতুন আমদানি নীতি আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ওই সার্কুলারের সংশ্লিষ্ট বিধান প্রয়োজনে সংশোধিত বলে গণ্য হবে। আরও পড়ুন আমদানি নীতিতে বড় পরিবর্তন / ব্যবসা সহজ করতে নতুন কাঠামো, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গুরুত্ব বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশ দিয়েছে, পণ্য আমদানি বা স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ-সংক্রান্ত লেনদেন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নতুন আমদানি নীতি আদেশের বিধান এবং বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন-সংক্রান্ত অন্যান্য বিধিবিধান যথাযথভাবে পরিপালন করতে হবে। ইএআর/এমকেআর
শেরপুর-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী মারা গেছেন rakibul.haque@… Wed, 02/04/2026 - 08:43 পড়তে পারেন কোকেনের পার্সেল থেকে যেভাবে মহসিন ও গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশির তথ্য পেল পুলিশ ৫১ মিনিট আগে অপরাধ ও বিচার নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে শেভরনকে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ১ ঘণ্টা আগে বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তুলতে দ্বিপক্ষীয় সফরে অগ্রাধিকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ৯ মিনিট আগে বাংলাদেশ ইংল্যান্ডের কাছে ধবলধোলাই হয়ে আরও তলানিতে পাকিস্তান ক্রিকেট ৩৫ মিনিট আগে ক্রিকেট ইন্দোনেশিয়ায় ফেরি উল্টে নিহত ৬, নিখোঁজ ১৩০ ৩১ মিনিট আগে আন্তর্জাতিক শেরপুর-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী মারা গেছেন শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াতে ইসলামের সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. নুরুজ্জামান বাদল (৫১) কিডনি জটিলতায় মারা গেছেন। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ময়মনসিংহের স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সময় মারা যান তিনি।মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান ও মৃতের ভাই মাসুদ রানা। এ ছাড়া জামায়াতের ফেসবুক পেজেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।মাসুদ জানান, শেরপুর-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. নুরুজ্জামান বাদল দীর্ঘদিন কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে তার তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হলে প্রথমে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে নেওয়া হলে রাত ৩টার দিকে স্বদেশ হাসপাতালে প্রবেশ করানোর সময় তার মৃত্যু ঘটে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে,আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দেশের ৯ জেলায় চলমান স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বিভাগের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। এদিকে উত্তরাঞ্চলীয় নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব অথবা কিছুটা অবনতি হতে পারে। এদিকে আগামী ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরী নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলসমূহে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত থাকতে পারে। ৪ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর: সুরমা নদীর ছাতক (সুনামগঞ্জ); কুশিয়ারা নদীর মারকুলি (সুনামগঞ্জ) ও ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট); সোমেশ্বরী নদী কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যা তথ্যকেন্দ্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলীয় রংপুর বিভাগের তিস্তা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে ধরলা ও দুধকুমার নদীসমূহের পানি সমতল স্থিতিশীল আছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার ভিস্তা ও দুধকুমার নদীসমূহের পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়ে কিছু কিছু স্থানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। গাইবান্ধা জেলায় তিস্তা নদী ও কুড়িগ্রাম জেলায় ধরলা নদী সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের টাঙ্গন, পুনর্ভবা, ঘাঘট, আত্রাই, আপার আত্রাই, মহানন্দা, যমুনেশ্বরী ও করতোয়া নদীসমূহের পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে, অন্যদিকে আপার করতোয়া নদীর পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে, যা আগামী ৩ দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস: আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগে এবং উজানে ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে ভারি থেকে অভিভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল: বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। আজ সোমবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ ঘোষণা দেন।
রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি:মোঃ কামরুল ইসলাম, সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট পাহাড় ধ্বস এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রাঙ্গামাটি সদর জোন। আজ ১১ জুলাই সকালে রাঙ্গামাটি সদর ও কাউখালী উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া ৮০টি পরিবারের মাঝে প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার সকালে রাঙ্গামাটি সদর জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ একরামুল রাহাত, পিএসসি রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্র ও সাপছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ আশ্রয় কেন্দ্র এবং কাউখালী উপজেলার আর টি এম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (ঘাগড়া আশ্রয় কেন্দ্র) পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে অবস্থানরত ভুক্তভোগী মানুষের সাথে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।পরিদর্শন শেষে জোন কমান্ডার উক্ত আশ্রয় কেন্দ্রগুলোর ৮০টি পরিবারের সর্বমোট ২০৪ জন সদস্যের হাতে প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেন।ত্রাণ বিতরণকালে মানিকছড়ি আর্মি ক্যাম্প ও ঘাগড়া আর্মি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডারগণ, সাপছড়ি ও ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।রাঙ্গামাটি সদর জোন সূত্রে জানানো হয়েছে, চলমান দুর্যোগ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণকে উদ্ধার, নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর এবং ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের পাশে সেনা সদস্যরা সর্বদা নিয়োজিত রয়েছেন।
আঃজলিল,স্টাফ রিপোর্টার:---- বেনাপোল স্থলবন্দর চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে যাওয়ার সময় শাহরিয়ার করিম নামে এক পাসপোর্টধারী যাত্রীকে আটক করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বেনাপোল স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে এ ঘটনা ঘটে।আটক শাহরিয়ার করিম ঝিনাইদহ জেলা সদরের উকিলপাড়া এলাকার রবিউল করিমের ছেলে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, তিনি ঝিনাইদহ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ছিলেন।বেনাপোল স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে শাহরিয়ার করিম ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে এলে নিয়মিত যাচাই-বাছাইয়ের সময় তার নাম ইমিগ্রেশন স্টপলিস্টে রয়েছে বলে শনাক্ত হয়। পরে তাকে ইমিগ্রেশন পুলিশ হেফাজতে নেয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধনী-২০২৬) এর অধীনে ঝিনাইদহ থানার মামলা নং-২০, তারিখ ৮ জুন ২০২৪, ধারা ৮/৯/১০/১১/১২/১৩ অনুযায়ী একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ কারণেই তার নাম ইমিগ্রেশন স্টপলিস্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুর রহমান জানিয়েছেন আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়। বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফ হোসেন জানিয়েছেন আটক শাহরিয়ার করিমের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য ঝিনাইদহ থানা পুলিশে খবর দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে পুলিশ এলে তাদের কাছে সোপর্দ করা হবে। আঃজলিল স্টাফ রিপোর্টার
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত দাবি করে জমা পড়া আবেদন যাচাইয়ে মিলেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তে প্রায় ২০০টি আবেদন সরাসরি ভুয়া হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া আরও প্রায় ৬০০ আবেদনে পাওয়া গেছে নানা ধরনের অসংগতি। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে জমা পড়া ২ হাজার ৩৮৮টি আবেদন পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন—পিবিআই যাচাই করেছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৯০ জনের তথ্যের সত্যতা মিলেছে। তাদের জুলাইযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তে দেখা গেছে, অনেক আবেদনকারী আহত হওয়ার কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ দিতে পারেননি। কারও চিকিৎসার নথি পাওয়া যায়নি, কারও দেওয়া ছবি ও তথ্য যাচাইয়ে অসত্য প্রমাণিত হয়েছে। এমনকি একজন শহীদের নাম ব্যবহার করে আহত হিসেবে আবেদন করার ঘটনাও ধরা পড়েছে। এছাড়া একই ব্যক্তির একাধিক আবেদন এবং বিভিন্ন তথ্যগত অসংগতিও পাওয়া গেছে। মন্ত্রণালয়ের ধারণা, অসংগতি থাকা আবেদনগুলোর মধ্যে আরও কিছু আবেদন অতিরিক্ত যাচাই শেষে বৈধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বর্তমানে তিনটি ক্যাটেগরিতে গেজেটভুক্ত জুলাইযোদ্ধার সংখ্যা ১৪ হাজার ৩৭০। নতুন করে ১ হাজার ৫৯০ জন যুক্ত হলে এই সংখ্যা বেড়ে হবে ১৫ হাজার ৯৬০। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন আবেদন এখনো গ্রহণ করা হচ্ছে। যাচাইয়ে সত্যতা পাওয়া গেলে আবেদনকারীদের গেজেটভুক্ত করা হবে। অন্যদিকে, কেউ ভুয়া তথ্য দিয়ে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকলে তার নামও বাতিল করা হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিশাখার যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ ফারুক হোসেন বলেন, প্রকৃত আহত ব্যক্তিদেরই স্বীকৃতি দিতে প্রতিটি আবেদন কঠোরভাবে যাচাই করা হচ্ছে, যাতে কোনো ভুয়া আবেদনকারী গেজেটভুক্ত হতে না পারেন। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ৮৪৩ জন শহীদ এবং আহত তিন শ্রেণিতে মোট ১৪ হাজার ৩৭০ জনের গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর এ তালিকা আরও হালনাগাদ করা হবে।
আগামী আগস্ট মাসে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য দুই দফায় টানা চার দিনের ছুটি উপভোগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, মাসটিতে দুটি সাধারণ সরকারি ছুটি রয়েছে। এর মধ্যে প্রতিটি ছুটির পরের কর্মদিবসে একদিনের ঐচ্ছিক ছুটি নিলে সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে টানা চার দিনের অবকাশ কাটানো সম্ভব হবে। প্রথম দফায়, ৫ আগস্ট (বুধবার) জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে সারা দেশে সাধারণ সরকারি ছুটি থাকবে। এর পরদিন ৬ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) সরকারি অফিস খোলা থাকবে। তবে ওই দিন একদিনের ছুটি নিলে ৫ আগস্ট (বুধবার)-এর সরকারি ছুটির সঙ্গে ৭ আগস্ট (শুক্রবার) ও ৮ আগস্ট (শনিবার)-এর সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা চার দিনের অবকাশ পাওয়া যাবে। দ্বিতীয় দফায়, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২৬ আগস্ট (বুধবার) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সাধারণ সরকারি ছুটি থাকবে। এর পরদিন ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) অফিস খোলা থাকলেও, ওই দিন একদিনের ছুটি নিলে ২৬ আগস্ট (বুধবার)-এর সরকারি ছুটির সঙ্গে ২৮ আগস্ট (শুক্রবার) ও ২৯ আগস্ট (শনিবার)-এর সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে আবারও টানা চার দিনের ছুটি উপভোগ করা সম্ভব হবে। আগস্ট মাসের সরকারি ছুটির তালিকা *৫ আগস্ট (বুধবার): জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস। *২৬ আগস্ট (বুধবার): পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) (চাঁদ দেখা সাপেক্ষে)।
চট্টগ্রামে টানা বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে রেললাইনে পানি উঠে যাওয়ায় কক্সবাজারগামী ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ ট্রেনটির যাত্রা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রামের ষোলশহর স্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে ট্রেনটি ষোলশহর স্টেশন এলাকা অতিক্রম করছিল। এ সময় ভারী বৃষ্টির ফলে রেললাইনের ওপর পানি জমে যায়। ইঞ্জিনে পানি প্রবেশ করে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে চালক ট্রেনটি থামিয়ে দেন। এরপর থেকেই ট্রেনটি ওই এলাকায় আটকা পড়ে আছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে রেলওয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই ট্রেনটি বর্তমানে থামিয়ে রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রেলওয়ে কন্ট্রোল রুম থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ট্রেন চলাচল আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আরেকটি ইঞ্জিন এনে ট্রেনটিকে আবার পেছনে টেনে চট্টগ্রামে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। হঠাৎ ট্রেন থামিয়ে দেওয়ার ফলে কক্সবাজারগামী যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিয়ে অনেকে আতঙ্কে রয়েছেন। তবে রেলওয়ে জানিয়েছে, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার জামবাড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) মফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা প্রদান, নামজারি (খারিজ), খাজনা আদায় ও অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রমে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অবৈধভাবে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে, যা ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ইউনিয়ন ভূমি অফিসের একটি কক্ষে টেবিলের সামনে বসা এক সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে মফিজুল ইসলাম টাকা গ্রহণ করেন। পরে তিনি সেই টাকা গুনে নিজের পকেটে রেখে দেন। ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভূমি অফিসে কাজ করেন বলে পরিচয় দেওয়া (দালাল) এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমরা কাজ করে দিই। কাগজপত্র ঠিক থাকলে খারিজ করতে ৬ হাজার টাকা নিই। আবার কেউ কেউ আছে উম্মুক ধুম্মুক টাকা লাই, সেগুলো আমরা করি না। আর চেক কাটলে ২০০ টাকা, কখনো ২ হাজার, আবার কখনো ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।’ জামবাড়িয়া ইউনিয়নের সেবাগ্রহীতা মো. আলিমুদ্দীন অভিযোগ করে বলেন, ‘তারা যার কাছ থেকে যেমন পারছে, তেমনভাবে টাকা নিচ্ছে। আমার একটি দলিলের জন্য ৬ হাজার টাকা চেয়েছিল। পরে দুটি দলিলের কথা বললে ৯ হাজার টাকা দাবি করে। কোনো উপায় না পেয়ে আমি দুটি দলিল খারিজের জন্য ৯ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হয়েছি।’ এ ছাড়া ওই ইউনিয়নের কয়েকজন সেবাগ্রহীতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, ‘ইউনিয়ন ভূমি অফিসে প্রকাশ্যেই ঘুষের লেনদেন হয়। টাকা ছাড়া কোনো কাজ করা হয় না। নির্ধারিত টাকার চেয়ে কম দিতে চাইলে কাজ হয় না।’ এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) মফিজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ভোলাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে কথা বলুন। ভোলাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি আমরা প্রাথমিকভাবে তদন্ত করছি। যেহেতু একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নিয়ে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
আঃজলিল,স্টাফ রিপোর্টার:---- ভারতে পাচারের শিকার ৫০ জন বাংলাদেশি নারী,পুরুষকে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে বাংলাদেশে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশ।রোববার রাত সাড়ে ৮ টার সময় তাদেরকে হস্তান্তর করা হয়। এসময় নোম্যান্সল্যান্ডে বিএসএফ বিজিবির ও দুই দেশের ইমিগ্রেশন পুলিশ উপস্থিত । রাইটস যশোর ও জাস্টিস এন্ড কেয়ার নামে দুটি মানবাধিকার সংস্থ্যা তাদের গ্রহন করেছে। ফেরত আসা বাংলাদেশিদের মধ্যে ৪৪ পুরুষ, ৬ নারী রয়েছে। বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, ফেরত আসা ৫০ বাংলাদেশিকে আইনী প্রক্রিয়া শেষে পোর্টথানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন জানান, থানা পুলিশের আইনি প্রক্রিয়া শেষে ফেরত আসা নারী ও পুরুষদের মানবাধিকার সংস্থা ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’ ও রাইটস যশোরের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে। জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার এর কর্মকতা শফিকুল ইসলাম জানান,ফেরত আসা ৫০ জন কে থানা থেকে এনজিও জিম্মাই নেওয়া হয়েছে।সেখান থেকে যার যার অভিভাবকদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। প্রেরক আঃজলিল স্টাফ রিপোর্টার
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজধানী গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসভবনকে বিশেষ শ্রেণির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই) হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। ফলে বাসভবনটি নিরাপত্তাব্যবস্থার আওতায় এসেছে। গত ১৫ জুন এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর পর শুক্রবার (৩ জুন) সরকারের পক্ষ থেকে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুন কেপিআই-সংক্রান্ত কমিটির (কেপিআইডিসি) মাসিক সভায় গুলশানের এই বাড়িটিকে বিশেষ শ্রেণির কেপিআই হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়। রাজধানীর গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসভবন থেকেই সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা সরকারি কাজে প্রস্তুত থাকলেও তিনি সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন না। জানা গেছে, গত বছরের ৫ জুন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার হাতে গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাড়ির নামজারির কাগজ হস্তান্তর করে অন্তর্বর্তী সরকার। ১৯৮১ সালের ৩১ মে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর তার স্ত্রী খালেদা জিয়াকে গুলশানের এলাকায় প্রায় দেড় বিঘা জমির ওপর নির্মিত বাড়িটি বরাদ্দ দেওয়া হয়। নামজারির পর বাড়িটি সংস্কার ও আধুনিকায়ন করে বসবাসের উপযোগী করা হয়। গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে প্রত্যাবর্তনের পর ওই বাসভবনে ওঠেন তারেক রহমান। এরপর থেকে সপরিবারে সেখানেই বসবাস করছেন তিনি। পরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরও এই বাসভবন থেকেই সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তিনি। বিশেষ শ্রেণির কেপিআই ঘোষণার ফলে বাসভবনটির বহিঃনিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য পৃথক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাষ্ট্রীয় নথিপত্র ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের নিরাপত্তা নিশ্চিতেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিরাপত্তা কার্যক্রম তদারকির জন্য স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সমন্বয়ে প্রতিটি বিশেষ শ্রেণির কেপিআইয়ের জন্য পৃথক নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা হবে।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় স্বামী জাহাঙ্গীর আলমকে গলাকেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার মুন্নির বিরুদ্ধে। পারিবারিক কলহ ও পরকীয়ার সন্দেহকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাপাতি ও একটি ছুরি উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নের দেলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার মুন্নির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। স্বামীর পরকীয়ার অভিযোগ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার আগের রাতে কৌশলে স্বামীকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর তিনি অচেতন হয়ে পড়লে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা ও হাতের রগ কেটে হত্যা করা হয়। পরদিন সকালে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরিবারের অভিযোগ নিহতের বোনের দাবি, এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার প্রকৃত চিত্র আড়াল করতে অভিযুক্ত পক্ষ বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে, তাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। নিহতের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলেকে এই নারী আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে। বিয়ের পর থেকেই সে আমার ছেলেকে মানসিকভাবে নির্যাতন করত এবং প্রায়ই হত্যার হুমকি দিত। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেও বাধা দিত। আমার ছেলে একটি স্বনামধন্য হোটেলে চাকরি করত। যে বাড়িতে তাকে হত্যা করা হয়েছে, সেটিও মূলত আমার ছেলের উপার্জনের টাকায় নির্মিত। আমার নিরীহ ছেলেটাকে শেষ পর্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।” পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, ঘটনার কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে যাদের সন্দেহ করা হচ্ছে, তাদের সবাইকে এখনো গ্রেফতার করা হয়নি। এতে তারা হতাশা প্রকাশ করে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। হাসপাতাল সূত্র হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃতি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে। পুলিশের বক্তব্য ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর আলম জানান, প্রাথমিকভাবে এটি পারিবারিক কলহজনিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি ও ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার বিষয়ে মৌখিক স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। ওসি বলেন, “তদন্তের অগ্রগতি এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।” পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাদেরও দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়েছে। পুলিশ বলছে, তদন্তে নতুন কোনো তথ্য বা অন্য কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্গো হোল থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে শুল্ক গোয়েন্দারা। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিমানবন্দরে একটি কার্গো বিমানের হোল অংশে অভিযান চালিয়ে প্রাথমিকভাবে ১৬০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। শুল্ক গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের মোট ওজন প্রায় ১৯ কেজি। এর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা। এ ঘটনায় কার্গো হোলটি ঘিরে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। পরে স্বর্ণের বারগুলো জব্দ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ঢাকা কাস্টমস হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার কামরুল হাসান জানান, দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১৪৮ ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর বৃহস্পতিবার সকালে কার্গো হোল্ডে অভিযান চালিয়ে স্বর্ণের বারগুলো উদ্ধার করা হয়।Geographic Reference তিনি জানান, সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ দল উড়োজাহাজটির কার্গো হোল্ড থেকে টেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় মোট ১৬০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের মোট ওজন ১৮ কেজি ৭০০ গ্রাম। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। স্বর্ণের চালানের উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে শুল্ক গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, স্বর্ণ চোরাচালানের উৎস ও এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
“রাশিয়ার কারণেই রাতে ঘুমাতে পারি না।” এমন মন্তব্য করে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে। তার মতে, বর্তমান সময়ে ন্যাটোর জন্য সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা হুমকি রাশিয়াই। আগামী ৭ ও ৮ জুলাই তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনকে সামনে রেখে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন মার্ক রুটে। তিনি বলেন, “সাধারণত আমি রাতে ঘুমানোর চেষ্টা করি। কিন্তু যদি কোনো বিষয় আমাকে জাগিয়ে রাখে, তবে তা হলো রাশিয়া।” রুটের ভাষায়, চীন দ্রুত সামরিক শক্তি বাড়ালেও বর্তমান এবং দীর্ঘমেয়াদে ন্যাটোর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ রাশিয়া। তিনি আরও বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে চীনের পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা প্রায় এক হাজারে পৌঁছাতে পারে। তাই বেইজিংয়ের সামরিক সক্ষমতাকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। তবে তার মতে, তাৎক্ষণিক হুমকির দিক থেকে রাশিয়াই ন্যাটোর প্রধান উদ্বেগ। ন্যাটোপ্রধান জানান, ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখা জোটের অন্যতম অগ্রাধিকার। পাশাপাশি সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো এবং সামরিক শিল্পকে আরও শক্তিশালী করাও এবারের শীর্ষ সম্মেলনের মূল আলোচ্য বিষয় হবে। তার আশা, আঙ্কারা সম্মেলন শেষে সদস্য দেশগুলো গত বছরের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি তুলে ধরতে পারবে। ক্লোজিং: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ন্যাটোপ্রধানের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন